Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

গোরক্ষপুর এ আই আই এম এস-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং গোরক্ষপুর সার কারখানা পুনর্নবীকরণ উপলক্ষে আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

গোরক্ষপুর এ আই আই এম এস-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং গোরক্ষপুর সার কারখানা পুনর্নবীকরণ উপলক্ষে আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


ভারতমাতারজয় । ভারতমাতার জয় ।

মঞ্চেউপস্থিত সকল সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যায় সমাগত আমার প্রিয় গোরক্ষপুরেরভাই ও বোনেরা,

গোরক্ষপুরেসার কারখানা আর এ আই আই এম এস-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত নবীন প্রজন্মের বন্ধুদের নমস্কার, সবার আগে আপনাদের অভিনন্দন জানাতে চাই, কেউ যদি বলেন২৬ বছর ধরে বন্ধ থাকা সার কারখানা মোদীর চেষ্টায় খুলেছে – তা হলেএটা ভুল । এর কৃতিত্ব যদি কাউকে দিতে হয়, তা হলে বলবআপনাদের চেষ্টায়, জনগণের চেষ্টায় এটা আবার খুলেছে । আপনারাযদি আমাকে উত্তর প্রদেশ থেকে লোকসভায় নির্বাচিত করে না পাঠাতেন, আপনারা যদি উত্তরপ্রদেশে একতরফা ভারতীয় জনতা পার্টি এবং সঙ্গীদলগুলির জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করেনা পাঠাতেন তা হলে ২৬ বছর ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা কারখানাটি আজও বন্ধই পড়ে থাকত । আপনারাদিল্লিতে আপনাদের কাজ করার জন্য যোগ্য জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচন করেছেন বলেই এটাসম্ভব হয়েছে । আপনারা নিজেদের কল্যাণের কথা মাথায় রেখে সরকারনির্বাচন করলে সরকারও আপনাদের হিতে কাজ করার জন্য দৌড়ায় ।

সেজন্যআপনাদের অভিনন্দন, উত্তর প্রদেশের প্রত্যেক প্রান্ত থেকে আমার সহযোগীদের নির্বাচিতনা করলে দীর্ঘ ৩০ বছর পর কেন্দ্রে যে মজবুত এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনপ্রাপ্তসরকার গঠিত হয়েছে – তা কখনও সম্ভব হতো না । সেজন্যআমি উত্তর প্রদেশের জনগণকে অন্তর থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই ।

আপনাদেরতৃতীয় অভিনন্দন জানাতে চাই, বিশেষ করে, পূর্ব উত্তর প্রদেশের জনগণকে আপনারা এমনসুযোগ্য জনপ্রতিনিধিদের সাংসদ নির্বাচন করেছেন যে তাঁরা দিনরাত দিল্লিতে আপনাদেরদাবিদাওয়া আপনাদের উন্নয়ন নিয়ে সোচ্চার থাকব, এমনকি প্রয়োজনে আমার সঙ্গেও বিতর্কজুড়ে দেন । যাঁরা আমাকে জিজ্ঞেস করেন, মোদীজী আপনি কখনঘুমান? আরে আপনারা এমন সব সক্রিয় সাংসদ নির্বাচিত করে পাঠিয়ছেন যে তাঁরা আমাকেভালোভাবে ঘুমাতেও দেন না । আজকের এই সাফল্যের কৃতিত্ব যোগীআদিত্যনাথজী থেকে শুরু করে উপস্থিত সাংসদরা অনুগ্রহ করে একটু উঠে দাঁড়ান । এইসাংসদরাই দিনরাত পরিশ্রম করে একের পর এক কাজে সাফল্যের মুখ দেখছেন । আমিতাঁদের অভিনন্দন জানাই, তাঁদের সম্মান জানাই ।

ভাই ওবোনেরা, গোড়া থেকে আমার অভিমত্য হল, ভারতের উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুই চাকার মাধ্যমেআমাদের উন্নয়নের রথকে পরিচালিত করতে হবে । একচাকা পশ্চিম ভারতের আর অন্য চাকা পূর্ব ভারতের । পূর্বভারতের চাকাটি মজবুত না হলে একা পশ্চিম ভারতের চাকা অর্থাৎ গুজরাট, মহারাষ্ট্র,কর্ণাটক, রাজস্থান, হরিয়ানার উন্নয়নে দেশের উন্নয়নের রথে ভারসাম্য থাকবে না । ভারতেরপূর্ব ভাগের রাজ্যগুলি, পূর্ব উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, আসাম ওউত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নের রথের চাকা মজবুত না হলে পশ্চিমের সবল চাকা একেভালোভাবে টেনে নিয়ে যেতে পারবে না । সেজন্যভাই ও বোনেরা পূর্ব ভারত ’ কে এগিয়ে নিয়ে যেতে বৈপ্লবিকভাবে এগিয়েযেতে হবে ।

ভারতেরদ্বিতীয় কৃষি বিপ্লব যদি কোথাও হয়, তা হলে পূর্ব ভারতে হবে, পূর্ব উত্তর প্রদেশেহবে । দ্বিতীয় কৃষি বিপ্লবের জন্য কৃষকদের সার চাই,এদিকে সার কারখানা বন্ধ হয়ে পড়েছিল, নবীন প্রজন্মের যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থাননেই, এলাকার উন্নয়ন স্তব্ধ । কেন্দ্রীয় সরকার বিদেশ থেকে বেশি দাম দিয়ে সার আমদানি করে । এরকমভুল কি সাধারণ মানুষও কখনও করবেন? আরে আপনার বাড়িতে খাদ্যদ্রব্য থাকলে আপনি কিবেশি দাম দিয়ে বাইরে থেকে কিনবেন? কিন্তু এদেশের কেন্দ্রীয় সরকার এরকমই করতো । দেশেরবন্ধ কারখানাগুলি খোলার চেষ্টা না করে প্রতি বছর বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকার সারআমদানি করতো । আমরা ক্ষমতায় এসে ঠিক করলাম আগে দেশে যেকারখানাগুলি বন্ধ হয়ে পড়ে আছে – সেগুলি খোলার চেষ্টা করব – সিন্ধ্রী, বারাউনি, গোরক্ষপুর – এসব অঞ্চলের কৃষকদের ওপর জুলুম হচ্ছে – সেজন্যই ভাই ও বোনেরা, শুধু গোরক্ষপুর নয়, সিন্ধ্রী এবং বারাউনির কারখানাও আমরাচালু করবো – আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি ।

ভাই ওবোনেরা, আমি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, তখন প্রতি বছরই কেন্দ্রীয় সরকারেরকাছে ইউরিয়া চেয়ে চিঠি লিখতে হতো । আমাররাজ্যের কৃষকরা যথেষ্ট ইউরিয়া পাচ্ছেন না জানিয়ে অভিযোগ করতাম । আমিপ্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম বছর আমার কাছে মুখ্যমন্ত্রীদের বেশ কিছু চিঠি আসে,অভিযোগপত্র আসে । খবরের কাগজে পড়ি যে কালোবাজারে ইউরিয়া বিক্রিহচ্ছে । কৃষকরা ইউরিয়ার জন্য দোকানের সামনে ১২-১৫ঘন্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন । ইউরিয়া আনতে গিয়ে হট্টগোলে বিক্ষুব্ধ কৃষকদেরওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করছে । সেসবদিনের কথা আপনারাও নিশ্চয়ই তোলেননি! ভাই ও বোনেরা, তারপর থেকে বিগত দেড় বছরে আমারকাছে একজন মুখ্যমন্ত্রীর চিঠিও আসেনি । দেশেরকোথাও আর ইউরিয়া না পেয়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করেনি, কোথাওকালোবাজারে ইউরিয়া বিক্রি হয়নি ।

কিন্তুভাই ও বোনেরা, কৃষকদের চাহিদা রয়েছে বলেই, আজ আমাদের দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি হলেকৃষকদের যথেচ্ছ ব্যবহারকে দায়ী করা হয়, ইউরিয়া ঘাটতি হলেও কৃষকদের দায়ী করা হয় । কিন্তু, বাস্তবে কৃষকদের চাহিদা অনুসারে ইউরিয়া তাঁরা পেতেনই না । ইউরিয়াকারখানা থেকে বেরিয়ে চোরাপথে চলে যেত রাসায়নিক কারখানাগুলিতে । কৃষকবেচারা অপেক্ষায় দিন গুনতেন । সমস্তভর্তুকির লাভ পেতেন রাসায়নিক কারখানার মালিকরা, কৃষকদের ভাগ্যে জুটতো না । আমরাউপায় খুঁজে বের করেছি । আমরা ইউরিয়াকে নিমের আবরণ দেওয়ারসিদ্ধান্ত নিয়েছি । নিম কোটিং করে দেওয়ায় এখন আর এক গ্রাম ইউরিয়াওরাসায়নিক কারখানার মালিকরা কোনওভাবেই কাজে লাগাতে পারবেন না । অথচ,ফসলকে বাড়তি নিরাপত্তা দেবে এই নিমের আবরণ । ফলে,কালোবাজারি বন্ধ হল, দুর্নীতিও বন্ধ হল । একঢিলে দুই পাখিও মরলো । আর কৃষকরা চাহিদা মতো ইউরিয়াও পেল । ভাই ওবোনেরা, আগামী বছরগুলিতে এ ধরনের কৌশলের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে চেষ্টা করব যাতেবিদেশ থেকে আর ইউরিয়া আমদানি না করতে হয় । এমনওহতে পারে বাইরের যেসব দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রাচুর্য রয়েছে আমরা সেসব দেশেইউরিয়া উৎপাদন করে আমরাই আমদানি করব ।

ভাই ওবোনেরা, আমাদের টোমাটোর দাম বেড়ে গেলে চব্বিশ ঘন্টা ধরে সরকারের সমালোচনা করারলোকের অভাব নেই । শাক-সব্জির মূল্য বৃদ্ধি হলেও ২৪ ঘন্টা ধরেসমালোচনা করার লোক রয়েছে । তাঁরা কখনও কৃষকদের কথা ভাবেন না । যেকৃষকের পরিশ্রমের ফসল; এই শাক-সব্জি, আনাজপাতি তাঁদের অধিকারের কথা কে ভাবে? এতপরিশ্রমের ফসল বিক্রি করে উপযুক্ত মূল্য পাওয়ার অধিকার কি তাঁদের নেই? মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক । কিন্তুকোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ফলে যখন মূল্য বৃদ্ধিতে রাশ টানা হয়, তার প্রশংসাকাউকে করতে দেখি না । এখানে যতজন কৃষক বসে আছেন, আপনাদেরমধ্যে কেউ কি কখনও শুনেছেন যে, গত ৩০ বছরে আমাদের দেশে কখনও সারের দাম কমেছে? আমিবাজি রেখে বলতে পারি, কেউ শোনেননি । এইপ্রথমবার আপনারা কেন্দ্রে এমন সরকার নির্বাচন করে পাঠিয়েছেন, ভাই ও বোনেরা, আজ আমিঅত্যন্ত খুশি মনে বলছি, আমাদের সরকারের লাগাতার দুর্নীতি দূরীকরণের চেষ্টার ফলে,সাধারণ কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর প্রবল ইচ্ছার ফলে, আমরা টি এল পি সারে টন প্রতি আড়াইহাজার টাকা মূল্য হ্রাস করতে পেরেছি । সেজন্যকৃষক ৫০ কিলোগ্রামের বস্তা কিনলে এখন আগের তুলনায় এক বস্তায় ২৫ টাকা কম দিতে হবে । এটাআমরা করতে পেরেছি । এম ও পি সারের ক্ষেত্রে প্রতি টনে ৫ হাজারটাকা কম করে দেখিয়ে দিয়েছি । এক্ষেত্রে ৫০ কেজির বস্তা কিনলে ২৫০ টাকা সাশ্রয় হবে । মিশ্রসার এন পি কে ’ র ক্ষেত্রে গড়ে টন প্রতি এক হাজার টাকা হ্রাসকরতে পেরেছি । ফলে, কৃষকের প্রতি বস্তায় ৫০ টাকা সাশ্রয় হবে । এইসবহিসাব করলে বোঝা যায় যে, আগে কোনও সরকার সারের ক্ষেত্রে মূল্য হ্রাস করার কথাভারতেই পারেনি । এই প্রথম কোনও সরকার এমনই লক্ষ্যপথে গিয়েচলেছে ।

ভাই ওবোনেরা, আমরা প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা চালু করেছি । একবারযদি কৃষক ভাই এই বিমা প্রকল্প গ্রহণ করেন, তা হলে বিপদের সময় এই প্রকল্প তাঁদেরকাজে লাগবে, তাঁর পরিবার বছরখানেক আরামে থাকতে পারবেন । ন্যূনতম কিস্তি জমা দিয়ে এই বিমা প্রকল্পে বেশি লাভ পাওয়া যায় । দেশস্বাধীন হওয়ার পর থেকে এই প্রথম দেশের কৃষকদের জন্য এ ধরনের কোনও প্রকল্প এসেছে ।

আমারআখচাষি বন্ধুরা, আমি যখন প্রধানমন্ত্রী হই, হাজার হাজার কোটি টাকা বকেয়া ছিল, দু ’ বছরঅনাবৃষ্টির ফলে আমাদের কষ্ট পেতে হচ্ছে, এর প্রভাব সরকারেরও পড়ে । তাসত্ত্বেও আমরা একের পর এক এমন পদক্ষপ নিই যে আখচাষীদের কয়েক হাজার কোটি পুরনোবকেয়া শোধ হয়ে এখন মাত্র ১৭০-১৮০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে । শুধুতাই নয়, আজকের হিসাবে এর মধ্যেও ৯৩ শতাংশ টাকা ইতিমধ্যেই পরিশোধ করা হয়ে গেছে । আর আমিউত্তর প্রদেশ সরকারকে অনুরোধ করবো, কেন্দ্রীয় সরকার এতটা সাহায্য করেছে, আপনারাশুধু ৭ শতাংশের জন্য কেন আটকে বসে আছেন, এটা পরিশোধ করে দিন, তা হলে ১০০ শতাংশপরিশোধ হয়ে যায় ।

ভাই ওবোনেরা, বিশ্ব বাজারে চিনির দাম হ্রাস পেলে তাঁর সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদেরআখচাষীদের ওপর । আমরা সেজন্য চিনির পাশাপাশি আখ থেকে ইথানলউৎপাদনের কাজও শুরু করে দিয়েছি । আখথেকে চিনি উৎপাদনের আগে ইথানল উৎপাদন করুন । সরকার সেই ইথানল কিনে নেবে । এতেচিনির দামও তেমন বাড়বে না, কিন্তু কৃষকের হাতে কিছু টাকা আসবে । পাশাপাশি, পেট্রোল পাম্পের মাধ্যমে সরকার ইথানল সরবরাহ করে প্রকৃতিকে পরিবেশ দূষণথেকে রক্ষা করবে । গাড়ি ও ট্র্যাক্টরে ইথানল ব্যবহারে বিধিবদ্ধনির্দেশ ও অনুমতি সরকার থেকে দেওয়া হয়েছে ।

ভাই ও বোনেরা,আমরা সবসময় ভাবছি, কৃষকদের জীবন কেমন করে পরিবর্তন আনা যায়! এই সার কারখানাকেআপনারা কেবল একটি কারখানা হিসেবে দেখবেন, একে দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন হিসাবে দেখুন,পরিবর্তনের প্রতীকরূপে দেখুন । এখানকার অর্থনীতি এখন গ্যাস ভিত্তিক অর্থনীতি হয়ে উঠবে । জগদীশপুর – হলদিয়া যে গ্যাস পাইপলাইন যায় সেই পাইপ লাইন দিয়েই এখন গোরক্ষপুর এবং পূর্ব উত্তরপ্রদেশের এই অঞ্চলগুলতেও গ্যাস আনা শুরু হবে । এই কারখানাগুলি সেই গ্যাস ভিত্তিক ইউরিয়া উৎপাদন করবে । এর খরচ কম পড়বে । কিন্তু এই গ্যাস শুধুই কারখানাগুলির জন্য আনা হবে না ।

গোরক্ষপুরের প্রত্যেক বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া হবে । এই গোটা অঞ্চলের মা ও বোনেরা আমাকে আর্শীবাদ করুন , আমি আপনাদের প্রত্যেকের উনুনে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছি । তার কারণ যখন বিদ্যুৎ পাওয়া যায় , গ্যাস পাওয়া যায় আর কাজ করার জন্য নতুন যুবক – যুবতীদের পাওয়া যায় তখন শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য বিনিয়োগকারী ও শিল্পপতিদের লাইন লেগে যায় ।

অর্থাৎ গোটা উত্তরপ্রদেশে শিল্প বিপ্লবেরও নান্দীমুখ করে দিচ্ছি আমরা । তাই ভাই ও বোনেরা , এটি কেবলই একটি কারখান নয় । এর পুনর্নবীকরণের মাধ্যমে আমরা এমন এক বিজয়যাত্রার নান্দীমুখ করলাম , যে বিজয়যাত্রা দারিদ্রকে পরাস্ত করবে , রোজগারহীনতাকে পরাস্ত করবে । এই বিজয়যাত্রা বিনাশকে থামিয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে । এই বিজয়যাত্রা প্রত্যেক পরিবারের সন্তোষ এবং সুখদানের অঙ্গ ।

ভাই ও বোনেরা , এখন গ্যাস এলে কেমন করে আর্থিক পরিস্হিতির পরিবর্তন হবে , যাঁরা এ সম্পর্কে জানেন , তাঁরা আগামীদিনে লিখবেন ।

আজ আমরা যে দ্বিতীয় কাজটি করেছি সেটি হলো AIIMS এর ভিত্তিপ্রস্তর স্হাপন । ভাই ও বোনেরা , হাসপাতাল তো অনেক রয়েছে কিন্তু ভারতে AIIMS একটি স্ট্যান্ডার্ড মানা হয় । আপনারা আমাকে বলুন , AIIMS কি শুধু দিল্লিবাসীদের সম্পত্তি ? আমার উত্তরপ্রদেশের অসুস্হ ভাই ও বোনেদের AIIMS এর সুবিধা পাওয়া উচিত কি না ? এই হাসপাতাল গড়ে তুলতে এক হাজার কোটি টাকা খরচ হবে, কিন্তু সাতশো বেডের অত্যাধুনিক হাসপাতাল গড়ে উঠবে । এখন আমাদের নড্ডাজী আর অনুপ্রিয়ার নেতৃত্বে ভারতে আরোগ্য যোজনাসমূহকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে । এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এই গোরক্ষপুর AIIMS চালু করা ।

ভাই ও বোনেরা আমি নির্বাচনের আগে এসে এখানে মস্তিষ্কের জ্বরের প্রকোপের কথা জেনেছিলাম । ভারতে একে জাপানি জ্বর বলে । কত ছোট ছোট শিশু এর ফলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে , কত শিশু দিব্যাংগ হয়ে পড়েছে । ভাই ও বোনেরা , আমরা আর শৈশবেই কাউকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেবো না । আমি তখনই বলেছিলাম , বিহারের যে অঞ্চলগুলিতে কালাজ্বরের সমস্যা রয়েছে আমরা এর পেছনে পড়ে গিয়েছি । আজ AIIMS স্হাপনের মাধ্যমে এখানকার জনসাধারণের সুজীবন নিশ্চিত করা , কালাজ্বর কিংবা মস্তিষ্কের জ্বরের মতো কঠিন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার চেষ্টা করছি । এই হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এই কঠিন রোগগুলি নিয়ে গবেষণা করে দ্রুত নিরাময়ের চেষ্টায় আজ AIIMS যে প্রকল্প গড়ে তুলছে কিছুক্ষণ আগে তা প্রোজেকশান দেখেছি ।

এই অনুষ্ঠানে আসার আগে আজ আমি আরও দুটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছি । প্রথমটি মহন্ত অবৈদ্যনাথজীর মর্মর মূর্তির আবরণ উন্মোচন আর দ্বিতীয়টি ভিত্তিপ্রস্তর স্হাপনের অনুষ্ঠান । এটি তৃতীয় অনুষ্ঠান । এখানে দেশের গরীব জনসাধারণের সুস্বাস্হ্যের কথা চিন্তা করে প্রায় ১০০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্হাপন করা হচ্ছে । এই প্রকল্পটির কর্ণধার আমাদের স্বাস্হ্য মন্ত্রী নড্ডাজী , স্বাস্হ্য প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়াজি এবং তাদের সঙ্গীদের , ভারপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিকদের একটি বিশেষ কারণে অভিনন্দন জানাতে চাই । তাঁরা যে ইন্দ্রধনুষ যোজনা রামধনু প্রকল্প শুরু করেছেন এতে বিবিধ টীকাকরণ অভিযানের মাধ্যমে যে সকল মা ও শিশুদের কোনও না কোনও টিকা বাদ পড়েছে তাদের টীকাকরণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন । গরীব বস্তিগুলিতে গিয়ে খুঁজে খুঁজে তারা ৫০ লক্ষাধিক মা ও শিশুকে টিকা দিয়েছেন । সাধারণ মানুষের জীবনরক্ষার ক্ষেত্রে তাদের এই ভগীরথ অভিযান একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ ।

ভাই ও বোনেরা , আমাদের নতুন নতুন উন্নয়নের উচ্চতায় পৌঁছুতে হবে । স্বাস্হ্য ক্ষেত্রে ভারত সরকার উত্তর প্রদেশের জন্য সাত হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে । স্বাস্হ্য ক্ষেত্রে সাত হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা কম কথা নয় । কিন্তু আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে , এখনও সেই সাত হাজার কোটি টাকা খরচ করে কাজ শুরু হয়নি । বরাদ্দকৃত টাকা বন্টনের একটি বিশেষ নিয়ম হলো , রাজ্য সরকার এক এক ধাপে কাজের হিসেব দিলে তবেই পরবর্তী ধাপের টাকা দেওয়া যাবে । কিন্তু উত্তপ্রদেশ রাজ্য সরকার প্রাথমিক ধাপের বরাদ্দকৃত ২৮৫০ কোটি টাকা এখন পর্যন্ত নিতে পেরেছে । হিসেব না জমা দেওয়ায় সাত হাজার কোটি টাকা এখনও নিতে পারেনি । কারণ তাদের কাজ করার শক্তি নেই । তারা কাজ সম্পূর্ণ করে হিসেব না নদিলে বাকি টাকাও দেওয়া যাচ্ছে না । এভাবেই আপনাদের স্বাস্হ্য , দ্রুত আরোগ্যা লাভের সম্ভাবনা ইত্যাদি অবহেলিত ও অহেতুক বিলম্বিত হচ্ছে । দিল্লীর কেন্দ্রীয় সরকার আপনাদের স্বার্থে দৌড়াচ্ছে । আপনাদের উচিত লক্ষৌতেও এমন সরকার নির্বাচন করা যাঁরা আপনাদের স্বার্থে দৌড়ঝাঁপ করতে প্রস্তুত থাকবেন ।

ভাই ও বোনেরা , আমি আরেকটা কাজ করতে চাই । আমি জানি পূর্ব উত্তরপ্রদেশে পর্যটনের ক্ষেত্রে অপার সম্ভাবনা রয়েছে । কৃষি বিপ্লবের সম্ভাবনা রয়েছে । শিল্প বিপ্লবের সম্ভাবনা রয়েছে । গোটা বিশ্বে ভগবান বুদ্ধের কোটি কোটি ভক্ত রয়েছে । তাঁরা এখানে আসতে চান । সেজন্যে পরিকাঠামো উন্নয়ণ চাই ; ভাল সড়কপথ , ভাল রেল সুবিধা , ভাল বিমান যোগযোগ ব্যবস্হা চাই । আমরা বিমান পরিবহনের ক্ষেত্রে নতুন নীতি প্রণয়ন করেছি । তার ফলে গোরক্ষপুরের মতো ছোট ছোট শহরগুলিতেও এখনও বিমান পরিষেবার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে । ফলে পর্যটক আসার সম্ভাবনা বাড়বে । সড়ক নির্মাণের অভিযান আমরা ইতিমধ্যেই চালু করে দিতে পেরেছি । এই বাবদ আমরা কয়েক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি । এই সড়কপথে পর্যটকরা দলে দলে এই এলাকায় দরিদ্র থেকে দরিদ্রতম ব্যক্তিরও কর্মসংস্হান হবে । অটোচালক , ট্যাক্সিচালক , হোটেল মালিক ও কর্মচারী , চা – বিস্কুট বিক্রেতা , ফল – ফুল বিক্রেতা , প্রসাদ বিক্রেতা , খেলনা বিক্রেতাদেরও রোজগার বাড়বে । সেইজন্যেই মোহালী থেকে গোরক্ষপুর ন্যাশনাল হাইওয়ে নির্মাণে ৫৭০ কোটি টাকা , ভারত নেপাল সীমান্ত পথ রাজৌরি পর্যন্ত ৫৫০ কোটি টাকা , গোরক্ষপুর বারাণসী ফোর লেন পথ নির্মাণের জন্য ৬৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে । গ্রামীন সড়কের জন্য আলাদা বরাদ্দ , রেলপথ ও রেলপরিষেবা উন্নয়ণে আলাদা বরাদ্দ , আপনাদের চোখের সামনে কত দ্রুত গতিতে কাজ চলছে তা আপনারা দেখছেন ।

ভাই ও বোনেরা , আমরা পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দিচ্ছি । দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পর্কে একটু আগেই পীযূষজী বলছিলেন । স্বাধীনতার পর ৭০ বছর পেরিয়ে গেছে । এই ১৫ আগস্টে আমরা স্বাধীনতার ৭০ বছর পূর্তি পালন করবো । কিন্তু স্বাধীনতার পর ৭০ বছরে দেশের ১৮৫০০ গ্রামে একটি বিদ্যুতের খুঁটিও পৌঁছয় নি । আমরা ক্ষমতায় এসে হিসেব চাইলে আধিকারিকরা বলেন এই গ্রামগুলিতে বিদ্যুত পৌঁছে দিতে কমপক্ষে ৭ বছর লাগবে । আমি বললাম , আমার নাম মোদী , সিঁড়ি চড়ার সময়ও আমি দৌড়ে চড়ি । সাত বছর লাগালে চলবে না । আমি ১৫ আগস্টে লালকেল্লার প্রাকার থেকে জাতির উদ্দেশ্যে ঘোষণা করি দিই যে আগামী ১০০০ দিনের মধ্যেই আমরা ১৮৫০০ গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেব । তারপর থেকে ৩৪০ দিন পেরিয়েছে , আমি আজ অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে বলতে পারি যে ওই ১৮৫০০ – র মধ্যে ৯ , ০৩৩টি গ্রামে ইতিমধ্যেই আমরা বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে পেরেছি ।

ভাই ও বোনেরা , উত্তরপ্রদেশেই এমন ১৫২৯টি গ্রাম ছিল সেখানকার জনগন বিদ্যুৎ না থাকায় অষ্টাদশ শতাব্দীর মতো জীবনযাপন করতেন । অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে বলতে পারি গত ৩৪০ দিনে আমরা সেই গ্রামগুলি খুঁজে বের করে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি । বাকি রয়েছে কেবল পৌনে দুশো গ্রাম । এই কাজ আমরা নির্ধারিত সময়কালের আগেই শেষ করবো ।

ভাই ও বোনেরা , উত্তরপ্রদেশ আমাকে এত দিয়েছে , তার ঋণ পরিশোধের জন্য আমি দিনরাত পরিশ্রম করছি ।

ভাই ও বোনেরা , পরিবারতন্ত্র ভিত্তিক রাজনীতি অনেক হয়েছে , জাত-পাত ভিত্তিক রাজনীতি অনেক হয়েছে , আপন-পর খেলা অনেক হয়েছে । সকলের ঝোলা ভরে দেখে নিয়েছেন আপনারা । কিন্তু আপনাদের ঝোলা কি ভরেছে ? নবীন প্রজন্মের কোনও লাভ হয়েছে ? কৃষকদের কোনও লাভ হয়েছে ? এখন সময় এসেছে ঘুরে দাঁড়ানোর । জাতপাতের বিষ , পরিবারতন্ত্র উত্তরপ্রদেশের ভাল করবেনা । শুধু উন্নয়নই আপনাদের ভাল করতে পারে । সেজন্য আপনারা উন্নয়নের রাজনীতিকে সমর্থন করুন । আপনারা আমাকে যেমন আশীর্বাদ দিয়েছেন তেমনি আগামী দিনেও আর্শীবাদ দিতে থাকুন । আমরা আপনাদের স্বপ্ন সফল করে ছাড়বো । একথা বলেই আপনাদের সকলকে অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই । অনেক অনেক ধন্যবাদ ।

PG / SB/SB/NS