পিএমইন্ডিয়া
নয়াদিল্লি, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
অসমের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, আমার মন্ত্রিসভার সহকর্মী শ্রী অনুরাগ ঠাকুর, অসম সরকারের মাননীয় মন্ত্রীগণ, মান্যবর অতিথিগণ এবং সারা দেশ থেকে আসা প্রতিভাবান যুব ক্রীড়াবিদগণ—
আমি খেলো ইন্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় উপস্থিত সবাইকে দেখে আনন্দিত। প্রতিযোগিতার এ সংস্করণটি উত্তর-পূর্বের সাতটি রাজ্যের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এই প্রতিযোগিতার মাসকট ‘অষ্টলক্ষ্মী’ একটি প্রজাপতির আকারে প্রদর্শিত হয়েছে। এটি উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির প্রাণবন্ত মানসিকতার প্রতীক।
আমি প্রায়ই উত্তর-পূর্বকে ‘অষ্টলক্ষ্মী’ বলি। প্রজাপতি মাসকট অঞ্চলটির উচ্চাশাকে ফুটিয়ে তোলে।
আমি সকল প্রতিযোগীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।
ক্রীড়াবিদরা দেশের নানান জায়গা থেকে এখানে এসেছেন। আপনারা সবাই এক মহান ভারতের সুন্দর ছবি তুলে ধরেছেন। মন দিয়ে যোগদান করুন। জয়ের জন্য লড়ুন। পরাজয়ও মূল্যবান শিক্ষা দেয় সেটা মনে রাখুন।
বন্ধুরা,
সারা দেশে ক্রীড়া সংক্রান্ত অনুষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ছে।
উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম, সারা দেশে খেলাধুলা বাড়ছে। একটু আগেই লাদাখে খেলো ইন্ডিয়া উইন্টার গেমস হয়েছিল। তারও আগে তামিলনাড়ুতে খেলো ইন্ডিয়া ইয়ুথ গেমস হয়েছিল, দিউতে বীচ গেমস আয়োজিত হয়েছিল। এই সমস্ত ক্রীড়ানুষ্ঠান তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে।
সুতরাং, আমি অসম সরকার এবং অন্যান্য রাজ্যের সরকারের প্রতি অভিনন্দন জানাই।
বন্ধুরা,
সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও ক্রীড়া নিয়ে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
আগে অনেক বাবা মা রা সন্তানের ক্রীড়া ক্ষেত্রের কৃতিত্বের কথা তুলে ধরতে সংকুচিত হতেন। তাঁরা ভয় পেতেন এতে পড়াশোনায় মনোযোগ কমতে পারে। কিন্তু এখন মনোভাব বদলেছে। আজকাল বাবা মা-রা গর্বের সঙ্গে বলেন- আমার সন্তান রাজ্য বা জাতীয় স্তরে খেলে বা আন্তর্জাতিক পদক জিতেছে।
বন্ধুরা,
আমাদের শুধু ক্রীড়া প্রচার নয়, ক্রীড়াকে উদযাপন-ও করতে হবে।
এটি কেবল ক্রীড়াবিদের দায়িত্ব নয়। সমাজকেও এটি আনন্দের সঙ্গে যাপন করতে হবে।
ঠিক যেমন মেধাবি শিক্ষাবিদদের সম্মান দেওয়া হয়, তেমনি ক্রীড়াজগতের কৃতি খেলোয়াড়দের সম্মান করা প্রয়োজন।
এই বিষয় আমাদের উত্তর-পূর্ব থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া উচিত।
উত্তর-পূর্বে ক্রীড়ার প্রতি শ্রদ্ধা এবং ক্রীড়া কৃতিত্বের উদযাপন সত্যিই প্রশংসনীয়। ফুটবল হোক, অ্যাথলেটিক্স হোক, ব্যাডমিন্টন, বক্সিং, ওয়েটলিফটিং বা দাবা, এই অঞ্চলের খেলোয়াড়রা প্রতিনিয়ত নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে। উত্তর-পূর্বে ক্রীড়া কে স্বীকৃতি দেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।
আমি নিশ্চিত যে এই প্রতিযোগিতার সব ক্রীড়াবিদ গোষ্ঠির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠবেন।
বন্ধুরা,
খেলো ইন্ডিয়া হোক, টপ্স হোক বা অন্য যেকোনো উদ্যোগ, ক্রীড়া ক্ষেত্রে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ থেকে বৃত্তি, সবকিছুর জন্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এই বছর রেকর্ড বাজেট ₹৩৫০০ কোটি ধার্য করা হয়েছে।
আমরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি গ্রহণ করে ক্রীড়াবিদের সক্ষম করেছি। ফলাফল লক্ষ্যনীয়। ভারত এখন প্রতিটি প্রতিযোগিতায় আগের থেকে বেশি পদক পাচ্ছে।
বিশ্ব আমাদের অভূতপূর্ব কৃতিত্ব লক্ষ্য করছে। এশিয়ান গেমসে এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত সাফল্য অর্জন করছে।
বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় আমাদের সাফল্য উল্লেখযোগ্য। ২০১৯ সালে আমরা চারটি পদক পেয়েছিলাম। ২০২৩ সালে আমাদের তরুণ রা গর্বের সঙ্গে ২৬টি পদক জিতেছে।
এটি কেবল সংখ্যার কথা নয়। এটা আমাদের যুবক রা সহায়তা পেলে কীভাবে সফল হতে পারে, তার প্রমাণ।
বন্ধুরা,
কয়েক দিনের মধ্যেই আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের জগতে পদার্পণ করতে হবে। শিক্ষা আপনাদের প্রস্তুত করে। একই সঙ্গে ক্রীড়া আপনাদের কাঠিন্যের মুখোমুখি হওয়ার সাহসও দেয়। সফল মানুষের কেবল প্রতিভা নয়, সঠিক মনোভাবও থাকে। তারা নেতৃত্ব দিতে জানে। তারা সকলের সঙ্গে কাজ করতে জানে। তারা সমস্যার মুখমুখি হয় দাঁড়াতে জানে।
তারা চাপের মধ্যে কাজ করতে পারে এবং প্রয়োজনের সময় নিজের সেরাটা দিতে পারে।
ক্রীড়া এই গুণগুলি গড়ে তোলার একটি উৎকৃষ্ট মাধ্যম।
অতএব, আমি বলি— “যে খেলে, সে সফল হয়।”
বন্ধুরা,
আজ আমি আমার যুব বন্ধুদের একটি কাজ দিতে চাই। এই কাজটি ক্রীড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
উত্তর-পূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। প্রতিযোগিতার পর আপনারা সময় করে আশেপাশে ঘুরে দেখুন।
আপনার অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি- গুলি সমাজমাধ্যমে বিনিময় করুন।
হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করুন: #NorthEastMemories
এছাড়া, খেলাধুলা চলাকালীন যে রাজ্যে আছেন, তার স্থানীয় ভাষার কয়েকটি শব্দ শিখে নিন। ভাষিনী অ্যাপ ব্যবহার করে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলুন।
এতে আপনার অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হবে।
বন্ধুরা,
আমি নিশ্চিত এই অনুষ্ঠানে আপনাদের অভিজ্ঞতা স্মরণীয় হবে। এই প্রত্যাশা নিয়ে আবারও আপনাদের সাফল্য কামনা করছি।
অনেক ধন্যবাদ।
ঘোষণা: এটি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আনুমানিক অনুবাদ। মূল ভাষণটি হিন্দিতে।
***
SSS/RS
My message at the start of Khelo India University Games being held in Guwahati.https://t.co/JStxZtiDRE
— Narendra Modi (@narendramodi) February 19, 2024