Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

চণ্ডীগড়ের নতুন আবাসন প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

চণ্ডীগড়ের নতুন আবাসন প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

চণ্ডীগড়ের নতুন আবাসন প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

চণ্ডীগড়ের নতুন আবাসন প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

চণ্ডীগড়ের নতুন আবাসন প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

চণ্ডীগড়ের নতুন আবাসন প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

চণ্ডীগড়ের নতুন আবাসন প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

চণ্ডীগড়ের নতুন আবাসন প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

চণ্ডীগড়ের নতুন আবাসন প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

চণ্ডীগড়ের নতুন আবাসন প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা,

একটা সময় ছিল যখন আমিও চণ্ডীগড়ে ওখানে আপনাদের পাশে বসে বড় বড় নেতাদের ভাষণ শুনতাম, এ ধরণের কর্মসূচিতে সবার সঙ্গে সহজভাবে মেশার সুযোগ পেতাম। আজ পরিস্থিতি পাল্টেছে। সময়ের সঙ্গে কিছু সমস্যাও আসে। এখন সুরক্ষা কর্মীরাই সিদ্ধান্ত নেন আমরা বাঁয়ে যাব না ডাইনে। আমার সামনে বসে থাকা মানুষদের মধ্যে অনেক পরিচিত চেহারা দেখতে পাচ্ছি। তাদের সঙ্গেই আমি থাকতাম। আজ আমি তাদের কাছেও যেতে পারছি না। এ জিনিসগুলি কখনও খুবই কষ্ট দেয়। কিন্তু কী করব, সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে এই নিয়ন্ত্রণ মেনে নিতে হয়। প্রিয়জনদের দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু দূর থেকে। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করার পর সার্বজনিক রূপে আপনাদের সঙ্গে দেখা করার প্রথম সুযোগ পাচ্ছি। বাদল সাহেব খুব ভালো কথা বলেছেন, ওপরের স্তরের মানুষদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ হয়, কিন্তু জনতা জনার্দনের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ খুব কম পাই। আজ এখানে সেই সুযোগ এসেছে, সেজন্য আজকের অনুষ্ঠানে সবচাইতে বড় সাফল্য হল আজ হরিয়ানা, পাঞ্জাব ও চণ্ডীগড় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা একসঙ্গে বসে উন্নয়ন নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছেন, উন্নয়নের পরিকল্পনা করছে্ন।

আজ সকালে এখানে পৌঁছেছি এবং সবার আগে বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল উদ্বোধনের সৌভাগ্য হয়েছে। আমি দীর্ঘদিন চণ্ডীগড়ে ছিলাম, অনেকবার এসেছি, কিন্তু কখনও ভাবতে পারিনি যে চণ্ডীগড়ে এত সুন্দর বিমানবন্দর তৈরি হতে পারে ! নতুন টার্মিনালের সমস্ত ব্যবস্থা আমি ঘুরে ঘুরে দেখেছি, দেখে ভালো লেগেছে। আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগের মন্ত্রী এবং সকল আধিকারিকদের শুভেচ্ছা জানাই। এই বিমানবন্দর চণ্ডীগড়ের শোভা বর্ধন করবে। এই নবনির্মিত টার্মিনাল থেকে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ এবং জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন স্থানে বিমান পরিষেবার মাধ্যমে অসামরিক বিমান পরিষেবা বিভাগ এই সমস্ত অঞ্চলের আর্থিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমি বিভাগের আধিকারিকদের অনুরোধ করেছি, যাতে যাত্রী পরিষেবা ছাড়াও এই বিমানবন্দর কিভাবে সাধারণ কৃষকদের কাজে লাগতে পারে ! তাদের উৎপাদিত বস্তু সুলভে বা যথেষ্ট ভর্তুকি দিয়ে বিমানপথে দেশের অন্যত্র পৌঁছে দেওয়া যায় কিনা যাতে তারা সঠিক মূল্য পান। আধিকারিকরা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তাঁরা এ বিষয়ে অধ্যয়ন করে কিভাবে এই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করা যায় তা দেখবেন।

ভাই ও বোনেরা, আজ চণ্ডীগড়ে এসে পি জি আই-এর সমাবর্তন অনুষ্টানে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। আজ এখানে ডিজিটাল পরিষেবা, অনলাইন পরিষেবা এবং প্রয়োজনীয় অনেক ক’টি ‘অ্যাপস’-এর উদ্বোধন করেছি। ডিজিটাল ভারত আমাদের স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে প্রতিটি শহরকে এগিয়ে আসতে হবে, প্রত্যেক সরকারি বিভাগকে এগিয়ে আসতে হবে। আপনারা দেখেছেন যে তথ্যপ্রযুক্তি শাসন ব্যবস্থাকে যেমন সরল ও বহুগামী করেছে, তেমনই বেশ কিছু প্রতিস্পর্ধার জন্ম দিয়েছে। এই প্রযুক্তির অনুকূলে শাসন ব্যবস্থার যথাযথ সংস্কারসাধন করা শাসন ব্যবস্থারই দায়িত্ব। প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি পরিষেবা কিভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, প্রযুক্তির মাধ্যমে তার অভাব-অভিযোগের খবর কিভাবে সঠিক স্থানে সরাসরি পৌঁছবে, কেমন করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তার সমাধান করা হবে তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও শাসন ব্যবস্থারই।

একটি ‘অ্যাপস’ যে নিছকই একটি প্রযুক্তি নয় তা আমি জানি। এটি এক প্রকার সাধারন নাগরিকের ক্ষমতায়ন। তাঁর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তিনি সরকারের কাজের হিসাব চাইতে পারেন। ডিজিটাল অ্যাপস-এর মাধ্যমে আজ এখানকার মানুষের হাতেও এতবড় ক্ষমতা তুলে দেওয়া হল। এই শুভ সূচনার কৃতিত্ব এখানকার স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তাদের। তাদেরকে এজন্য অভিনন্দন জানাই। আজ এখানে আবাসন প্রকল্পের উদ্বোধন হল। কয়েক হাজার পরিবার মাথার ওপর ছাদ পেলেন, নিজস্ব নিশ্চিন্ত বাসস্থান। প্রত্যেক মানুষের স্বপ্ন থাকে যে তার একটি নিজস্ব বাড়ি হবে। দরিদ্র থেকে দরিদ্রতম, ফুটপাথে বসে যিনি জুতো সেলাই করেন তিনিও নিজস্ব বাড়ির স্বপ্ন দেখেন। স্বাধীনতার পর এত বছর পেরিয়ে গেছে, আমাদের দেশের দরিদ্র মানুষদের এই নিজস্ব বাড়ির স্বপ্ন সাকার হওয়া উচিত কিনা ?

ভাই ও বোনেরা, গত সাধারণ নির্বাচনে আপনারা ধনীভোটে যে সরকারকে দিল্লিতে বসিয়েছেন, সেই সরকার আপনাদের সকল স্বপ্নকে সাকার করতে চায়। জানি এটা কঠিন কাজ। ৬০ বছরে যত কাজ হয়েছে, তার চাইতেও বেশি কাজ সাত বছরে করে ফেলতে হবে। একথা ভেবেই আমরা কাজে লেগে পড়েছি।

আজ থেকে সাত বছর পর ২০২২ সালে ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্ণ হবে। যে মহাপুরুষরা দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মাহুতি দিয়েছেন – ভগৎ সিং, সুখদেব, রাজগুরু। আন্দামানে গেলে সেখানে কালাপানির নির্বাসন দণ্ডপ্রাপ্ত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সূচিতে আমার পাঞ্জাব মায়ের অসংখ্য সন্তানের নাম দেখা যায়। সারা দেশের মানুষ কত আত্মবলিদান দিয়েছেন, কত মানুষ গোটা জীবন কারান্তরালে কাটিয়েছেন, কত মানুষ পুলিশের নির্মম অত্যাচার সহ্য করেছেন, কত মানুষ ব্রিটিশের অত্যাচার সয়েছেন – তবেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি ! এই বীর শহীদরা কেমন ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন ? স্বাধীনতার পর এত বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের স্বপ্ন কি সাকার হয়েছে ? স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপনের আগে কি আমরা তাদের স্বপ্নের মতো ভারত গড়তে পারব ? তাহলে, আজ থেকেই প্রত্যেক ভারতবাসীর একটি সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাওয়া উচিত, প্রত্যেকেই নিজের জীবনে কিছু অভ্যাস পালন করব যাতে সমাজের ভালো হবে, গ্রামের গরিবদের ভালো হবে। আমরা কি স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তিতে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে একটি উন্নত ভারত শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে পারি ? এটাই সময়ের আহ্বান। আজ থেকেই আমাদের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু করা উচিত। উন্নয়নের মাধ্যমে, জ্বলন্ত সমস্যাগুলি সমাধানের মাধ্যমে। আমার স্বপ্ন, ২০২২-এ যখন ভারত স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন করবে তখন দেশের প্রত্যেক দরিদ্র থেকে দরিদ্রতম ব্যক্তির মাথার ওপর নিজস্ব নিশ্চিন্ত ছাদ থাকবে। আমি এই সংকল্প নিয়েছি। আপনাদের সহযোগিতা চাই। আপনাদের সাহায্যেই আজ কয়েক হাজার চণ্ডীগড়বাসীকে এই আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে নিজস্ব বাড়ির মালিকানা হস্তান্তর করার সৌভাগ্য হয়েছে। আগামীদিনগুলিতে কোটি কোটি বাড়ি বানানোর প্রয়োজন পড়বে। ইউরোপের নতুন দেশগুলি মোট জনসংখ্যার চাইতে অধিক গৃহহীন ভারতবাসীর জন্য বাড়ি বানাতে হবে। সংসদের সেন্ট্রাল হল-এ যেদিন এন ডি এ-র সমস্ত দলগুলির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করলেন সেদিন আমি জাতির উদ্দেশ্যে বলেছিলাম আমার সরকার দরিদ্র মানুষদের প্রতি সমর্পিত। দেশের গরিব মানুষদের হিতার্থে কাজ করবে এই সরকার। আমাদের সকল পরিকল্পনা দরিদ্র মানুষদের মঙ্গলের জন্য হবে। তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হল দরিদ্র, গৃহহীন মানুষদের জন্য গৃহনির্মাণ, তাদের হাতে নিজস্ব বাড়ির মালিকানা তুলে দেওয়া। আমরা সে কাজে এগিয়ে চলেছি।

ভাই ও বোনেরা, এই অঞ্চলের প্রতিটি পরিবার ভারতমাতার রক্ষাকবচ। হিমাচল প্রদেশ বলুন, হরিয়ানা বলুন, পাঞ্জাব বলুন – এই রাজ্যগুলির প্রায় প্রতিটি পরিবারের কোন না কোন সন্তান সেনাবাহিনীগুলিতে রয়েছে। কেউ বর্তমান প্রজন্মের, কেউ বা পূর্ববর্তী প্রজন্মের। এই মাটির সন্তানরাই ভারতমাতার রক্ষক হিসেবে সবচাইতে বেশি সুনাম অর্জন করেছেন। এই চণ্ডীগড়ে দাঁড়িয়েই আমি বলেছিলাম, অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের ‘এক পদ এক পেনশন’-এর জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

ভাই ও বোনেরা, আমরা ক্ষমতায় এসেই কাজ শুরু করে দিয়েছি। সৈনিক ভাইদের কথাবার্তা, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের সমস্যাগুলি বুঝতে চেষ্টা করেছি। আমি দুঃখের সঙ্গে বলছি পূর্বতন কোন সরকার এই ‘এক পদ এক পেনশন’ কি জিনিস, এটি চালু করলে সরকারের ওপর কি ধরণের দায়িত্ব বর্তাবে এগুলি সম্পর্কে কেউ ভাবেননি। যদি ভাবতেন তাহলে পূর্বতন সরকার মাত্র ৫০০ কোটি টাকার ‘এক পদ এক পেনশন’ প্রস্তাব রাখত না। তাদেরকে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করতে দেখে আমরা ভেবেছিলাম এর থেকে হয়তো কিছুটা বেশি লাগবে। কিন্তু যখন বাস্তবায়িত করতে গেলাম, তখন দেখলাম প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করতে হয়েছে। ১০ হাজার কোটি টাকা !

ভারতের মতো দরিদ্র দেশের পক্ষে এই টাকার অঙ্ক ছোট নয়। কিন্তু দেশকে রক্ষা করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেন তাদের জীবন এর থেকে বেশি মূল্যবান। সেজন্যই ভারতের দরিদ্র থেকে দরিদ্রতম ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে দেশের সৈনিকদের জন্য আমরা এতবড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এজন্য সরকারকে কৃতিত্ব দেবেন না। এই ‘এক পদ এক পেনশন’ কার্যকর হওয়ার কৃতিত্ব নরেন্দ্র মোদীকে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমি দেশের সৈনিকদের বলব এই ১০ হাজার কোটি টাকা খরচের পবিত্র পদক্ষেপের জন্য কাউকে যদি ধন্যবাদ দিতেই হয় তাহলে আপনারা দেশের দরিদ্র জনসাধারণকে ধন্যবাদ জানান, যাদের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা অন্যান্য উন্নয়ন কর্ম স্থগিত রেখে আপনাদের সম্মানিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর থেকে বড় গর্বের বিষয় আর কিছু হতে পারে না। আর সেজন্যই আমরা প্রতিশ্রুতি পালন করেছি।

আগামী দিনগুলিতে … কিন্তু আজও দেখছি অনেকে আন্দোলন করছেন। আজও অনেকে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তারা ভেবেছিলেন এটি অত্যন্ত জটিল বিষয়, তারা এটিকে সম্বল করে পাঁচ-সাত বছর করে-কম্মে খাবেন। তারা স্বপ্নেও ভাবেননি যে মোদী এটা করে ফেলবে। এখন ঘোষণা করে দেওয়ার পর তারা চিন্তায় পড়ে গেছেন যে তাদের গাড়ি কেমন করে চলবে। ভাই ও বোনেরা, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি রাষ্ট্রহিতে যেকোন সিদ্ধান্তকে আমরা প্রাথমিকতা দেব। আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারকে পরিচালিত করছি। উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছনোর জন্য সরকার পরিচালনা করছি।

আপনারা আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে ক্ষমতায় এনেছেন। ত্রিশ বছর পর দিল্লিতে একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু ভাই ও বোনেরা, বিগত কয়েক মাসে লোকসভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যে ভূমিকা আপনারা দেখেছেন, তাদের এই ঘৃণ্য আচরণ দেশের সাধারণ মানুষ কখনও ক্ষমা করবে না। তাদেরকেও আপনারাই নির্বাচন করে পাঠিয়েছেন। লোকসভায় যান, বসুন, ঘন্টার পর ঘন্টা আলোচনা করুন, নিজের অঞ্চলের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনে দিনের পর দিন বক্তব্য রাখুন। কিন্তু গণতন্ত্রের মর্যাদাকে স্বীকার না করা গণতন্ত্রের নিয়মগুলিকে অস্বীকার করা, বাকি ৪০০ সাংসদকে পরোয়া না করে কেবলমাত্র ৪০ জন জনপ্রতিনিধি দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নকে স্তিমিত করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করলে এটা ভারতীয় গণতন্ত্রের অপমান করা হয়। আমার ভাই ও বোনেরা, গণতন্ত্রের স্বার্থে আজ আপনাদের জেগে উঠতে হবে, এই অসভ্যতার বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে হবে, জনপ্রতিনিধিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে যাতে তারা সংসদকে চালু রাখার ক্ষেত্রে অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখেন। আপনারা নিজের অঞ্চলের উন্নয়নের স্বার্থে সরকারকে নিন্দা করতে পারেন, সরকারের কাজকর্মকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারেন, মোদীর কাছ থেকে হিসাব চাইতে পারেন। কিন্তু তার জন্য আপনাদের সংসদে এসে তার মর্যাদা পালন করে কাজ করতে হবে। এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেন একমাত্র জনসাধারণ। কিছু মানুষ অহংঙ্কারবশত সংসদকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করেছেন, সংসদকে অচল করে দিয়েছেন, গণতান্ত্রিক দেশের জন্য এর থেকে বড় দুর্ভাগ্য আর কিছু হতে পারে না। সেজন্য আমি ভেবেছি, লোকসভায় আমাদের বক্তব্য রাখতে না দেওয়ায়, আমার কাছে লোকসভা থেকেও বড় সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে এ ধরণের জনসভায় আমার কষ্টের কথা আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।

ভাই ও বোনেরা, উন্নতির নতুন উচ্চতা অতিক্রম করার জন্য সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই, বিদেশ থেকে কালো টাকা ফিরিয়ে আনা, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধ করা, উন্নয়নের ক্ষেত্রে দরিদ্র থেকে দরিদ্রতম ব্যক্তিদের সামনে এগিয়ে দেওয়া, জন ধন অ্যাকাউন্টের পরিকল্পনা, বিমা প্রকল্প, অটল পেনশন যোজনা – এসব কিছুই দরিদ্র মানুষের ভালোর জন্য আমরা করেছি। আমাদের দেশের কৃষককে নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হয়। আগে ৫০ শতাংশ লোকসান হলে তবেই ভর্তুকি দেওয়ার প্রশ্ন উঠত। আমরা সেই ন্যূনতম মাপকাঠিকে ৩৫ শতাংশ করে দিয়েছি। আমরা ভর্তুকির পরিমাণও বাড়িয়েছি। শিলাবৃষ্টির পর সবার আগে কৃষকরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি পেয়েছেন। আমরা বিমার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গতকাল কয়েকজন বৈজ্ঞানিকের সঙ্গে বসেছিলাম। ভুট্টা থেকে ইথানল নিষ্কাশনের পর প্রক্রিয়াকরণকে কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, কত কম খরচে এটা করা যায় যাতে আমাদের পাঞ্জাবে যে কৃষক ভাইয়েরা ভুট্টা চাষ করেন তারা লাভবান হন। পাশাপাশি দেশের পরিবেশও সুরক্ষিত থাকে। আমি বৈজ্ঞানিকদের অনুরোধ করেছি যাতে কোন সহজ প্রযুক্তি আবিষ্কার করেন যাতে ক্ষুদ্র কৃষকরাও এ থেকে লাভবান হন।

এভাবে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। কেননা যতক্ষণ পর্যন্ত না ভারতের গ্রামগুলি সক্ষম হয়ে উঠবে, সামর্থ্য না বাড়বে, ততক্ষণ দেশের সামর্থ্য বাড়বে না। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে গ্রামের শক্তি বৃদ্ধি করতে হবে। শহরের উন্নতিকল্পে আমরা স্মার্ট সিটি পরিকল্পনা রূপায়ণে এগিয়ে চলেছি। আমি চণ্ডীগড়বাসীদের অনুরোধ জানাই, আপনাদের শহরে স্মার্ট সিটিকে একটি গণ-আন্দোলনে পরিণত করুন। এই আন্দোলনে প্রত্যেক পরিবার অংশগ্রহণ করুন। স্মার্ট সিটি নিয়ে যুবকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত। অনলাইন প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত। আমরা কেমন স্মার্ট সিটি চাই। আর সেই স্মার্ট সিটি নির্মাণে আমাদের অংশগ্রহণ কতটা থাকবে। একজন নাগরিক হিসেবে আমরা কোন কোন কর্তব্য পালন করব। এই প্রথম দেশে স্মার্ট সিটি একটি প্রতিস্পর্ধা হয়ে উঠেছে। যে শহর এগিয়ে যাবে, যে শহর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবে, যে শহর স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখাবে, সেই শহরই এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাবে, তবেই ভারত সরকার সেই শহরকে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করবে। আর এই অর্থই আপনাদের শহরকে একবিংশ শতাব্দীর অধুনাতম পরিষেবাসম্পন্ন বিশ্বমানের শহর করে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। এজন্যই আমি চণ্ডীগড়কে এই প্রতিস্পর্ধায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানাই, আমাদের প্রথম সূচিতে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রতিযোগিতায় চণ্ডীগড় সফল হয়েছে, কিন্তু পরবর্তী প্রতিযোগিতা আরও কঠিন। সেই প্রতিস্পর্ধা গ্রহণের জন্য আপনাদের নিজেদের তৈরি করতে হবে। লাল ফিতের ফাঁসে আটকে থাকলে চলবে না। সেজন্যই চণ্ডীগড়ের নাগরিকবৃন্দ এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা যারা এই অনুষ্ঠানে রয়েছেন তাদেরকে অনুরোধ করব আপনারা স্মার্ট সিটি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য সাধারণ মানুষকে প্রশিক্ষিত করুন, একটি জন-আন্দোলন গড়ে তুলুন যাতে সাধারণ মানুষরাই এগিয়ে এসে এই শহরকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে দেয়। আগামী দিনগুলিতে উন্নয়নের ব্রত নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব। আমার দৃঢ় বিশ্বাস পাঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, হিমাচল প্রদেশ এবং জম্মু ও কাশ্মীর – এই সম্পূর্ণ অঞ্চলের উন্নয়ন নতুন উচ্চতা অতিক্রম করবে। নবীন প্রজন্মের কর্মসংস্থান হবে। যত বেশি পরিমাণ নবীন প্রজন্মের মানুষ কর্মসংস্থান পাবেন, দেশের আর্থিক স্থিতিও তত মজবুত হবে। আসুন, এই ভাবনাগুলি নিয়ে আমরা সংকল্প গ্রহণ করি। আমি আরেকবার এই অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, মাননীয় রাজ্যপাল, এই অঞ্চলের সকল সংসদ সদস্যদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

PG/SB/DM