পিএমইন্ডিয়া
মাননীয়প্রধানমন্ত্রী থঙ্গলুন সিসোলিথ, এবং
অন্যান্যমাননীয় নেতৃবৃন্দ,
এই নিয়েতৃতীয়বার আমি অংশগ্রহণ করছি ভারত-আসিয়ান শীর্ষ বৈঠকে। আসিয়ান রাষ্ট্রগুলির সঙ্গেবিগত বছরগুলিতে আমরা যে ঘনিষ্ঠ মৈত্রী সম্পর্ক গড়ে তুলেছি, তার সূত্রে এই বন্ধনকেআরও নিবিড় করে তোলার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। এই বৈঠকের সুন্দর উদ্যোগ আয়োজন এবংউষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য আপনাদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই।
ভিয়েনটানহল একটি সুন্দর ঐতিহ্যবাহী শহর যেখানে সফরকালে ভারতের সঙ্গে এই দেশের গভীরঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের স্মৃতি রোমন্থন করি আমি। একটি আয়োজক দেশ হিসেবেআসিয়ান-ভারত সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে যোগ্য নেতৃত্ব দানের জন্য আমি বিশেষপ্রশংসা করি ভিয়েতনামের।
মাননীয়নেতৃবৃন্দ,
আসিয়ান-এআমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের লক্ষ্য শুধুমাত্র সভ্যতার ঐতিহ্য বহন করার মধ্যেইসীমাবদ্ধ নয়, পারস্পরিক সমাজ ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখা এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতারবাতাবরণ গড়ে তোলাও আমাদের বিশেষ লক্ষ্য। এর মূল চালিকাশক্তি হল আমাদের সাধারণকৌশলগত অগ্রাধিকারের বিষয়গুলি। ‘পূবে তাকাও’ নীতির কেন্দ্রবিন্দু হল আসিয়ান এবংআমাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে এই অঞ্চলে ভারসাম্য ও সম্প্রীতি রক্ষার এক বিশেষউৎসমুখ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
মাননীয়নেতৃবৃন্দ,
আমাদেরকৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্পর্ক আসিয়ানের তিনটি প্রধান কর্মপ্রচেষ্টাকে ঘিরে আবর্তিতহচ্ছে। নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং আর্থ-সামাজিকতার কর্মতৎপরতার সঙ্গে যুক্ত আসিয়ান দেশগুলি।আনন্দের কথা, ২০১৬-২০২০ এই সময়কালের জন্য যে আসিয়ান-ভারত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করাহয়েছে, তা আমাদের লক্ষ্য পূরণে সম্পূর্ণভাবে সফল হবে বলে আমরা আশাবাদী। আমাদেরকর্মসূচিতে যে ১৩০টি বিষয় আমরা চিহ্নিত করেছি, তার মধ্যে ৫৪টি ইতিমধ্যেই বাস্তবয়িতহয়েছে।
মাননীয়নেতৃবৃন্দ,
আসিয়ানের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্বেরকেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ব্যবহারিক, অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক, সাংস্কৃতিক ও ডিজিটাল– এই সবকটি ক্ষেত্রে সংযোগ ও যোগাযোগের প্রসার ও উন্নয়নের বিষয়গুলি । একইসঙ্গে অর্থনৈতিক সাফল্য এবং উন্নয়নমূলক কাজের অভিজ্ঞতা আসিয়ান রাষ্ট্রগুলির সঙ্গেবিনিময় করাও হল আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের আরেকটি দিক। বিশেষ করে, সিএলএমভিদেশগুলির সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা বিনিময়ে আমরা বিশেষভাবে আগ্রহী। এজন্য সর্বদাইপ্রস্তুত রয়েছি আমরা।
মাননীয় নেতৃবৃন্দ,
পুরনো ও নতুন বহু চ্যালেঞ্জ রয়েছ আমাদের সামনে। তাই,আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের একটি স্তম্ভ হয়ে উঠতে পারে রাজনৈতিক তথা নিরাপত্তাসংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়গুলি। ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থার মূল রয়েছে ঘৃণারমতাদর্শ। অন্যদিকে, হিংসারও প্রসার ঘটছে নানাভাবে। এই সমস্ত ঘটনা আমাদের সমাজব্যবস্থার নিরাপত্তাকে ক্রমশ বিপন্ন করে তুলেছে। অস্থিরতার এই হুমকি একই সঙ্গে ঘটেচলেছে স্থানীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে। এই পরিস্থিতিতে আসিয়ানের সঙ্গেআমাদের অংশীদারিত্বের সম্পর্ক এমন এক সমাধানের পথ খুঁজে পেতে আগ্রহী, যা বিভিন্নপর্যায়ে সহযোগিতা, সমন্বয় ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আদর্শকে মূর্ত করে তুলবে।
মাননীয় নেতৃবৃন্দ,
আগামী বছরটি হল আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একঐতিহাসিক দিকচিহ্ন । কারণ,ঐ বছরটিতে আমরা উদযাপন করব আমাদের আলাপ-আলোচনা ও মতবিনিময়ের ২৫তম বছর, শীর্ষ বৈঠকপর্যায়ের আলাপ-আলোচনার ১৫তম বছর এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের পঞ্চম বছর।
উদযাপনের মুহূর্তটি শুরু হবে ২০১৭ সালে আসিয়ান-ভারতবিদেশ মন্ত্রীদের এক বৈঠক আয়োজনের মধ্য দিয়ে। ‘এক মিলিত মূল্যবোধ, এক সাধারণভাগ্যলিপি’ – এই বিষয়টির ওপর আমরা আয়োজন করব এক স্মারক শীর্ষ বৈঠকের। এছাড়াও, একটিবাণিজ্য শীর্ষ বৈঠক, সি ই ও-দের মঞ্চ, একটি কার র্যালি এবং সমুদ্রপথে অভিযানেরকর্মসূচিও রয়েছে আমাদের। পরিকল্পনা করা হয়েছে সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনেরও। আমাদের এইস্মারক উৎসবকে সফল করে তোলার লক্ষ্যে আপনাদের সকলের সঙ্গে একযোগে কাজ করে যেতে আমিবিশেষভাবে আগ্রহী।
ধন্যবাদ।
আপনাদের সকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
PG/SKD/SB…