Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

চম্পারণ সত্যাগ্রহে শতবর্ষ উপলক্ষে ইন্টার‍্যাক্টিভডিজিটাল প্রদর্শনীর উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

চম্পারণ সত্যাগ্রহে শতবর্ষ উপলক্ষে ইন্টার‍্যাক্টিভডিজিটাল প্রদর্শনীর উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

চম্পারণ সত্যাগ্রহে শতবর্ষ উপলক্ষে ইন্টার‍্যাক্টিভডিজিটাল প্রদর্শনীর উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


আজ আমরা বিংশ শতাব্দীর একটি মহান আন্দোলনের শতবর্ষ সমারোহের শুভসূচনা উপলক্ষ্যে একত্রিতহয়েছি। ১০০ বছর আগে আজকের দিনেই গান্ধীজী পাটনা পৌঁছে তাঁর চম্পারণ সফর শুরু করেছিলেন।যে চম্পারণের ভূমি ভগবান বুদ্ধের প্রবচনে আশীর্বাদধন্য, যে মাটি সীতা মায়ের পিতাজনকের রাজ্যের অংশ ছিল; সেই মাটির কৃষকেরা কঠোরতম পরিস্থিতির মধ্যে অসহায় হয়েপড়েছিলেন। শুধু চম্পারণের কৃষকরা নয়, শোষিত-পীড়িত মানুষদেরও গান্ধীজী পথ দেখিয়েছিলেন,শান্তিপূর্ণসত্যাগ্রহের কত শক্তি- তা গোটা দেশকে অনুভব করিয়েছিলেন।

বন্ধুগণ, আমাদের দেশের ইতিহাসকেবলমাত্র কয়েকজন ব্যক্তি কিম্বা কয়েকটি পরিবারের ইতিহাসে সীমাবদ্ধ নয়।আমাদেরদেশের ইতিহাস বৃহৎ, ব্যাপক; এক এমন ইতিহাস, যা বারবার নতুন রূপ ও সন্দর্ভে ফিরেফিরে আসে আর আমাদের চোখ খুলে দেয়, দেশের গৌরবময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে চিনিয়ে দেয়।ইতিহাসের কিছু পাতা এমন থাকে, সেগুলি যখনই আপনাকে ছুঁয়ে যাবে বা আপনি সেগুলিকেস্পর্শ করলে আপনার জীবন নতুন মাত্রা পাবে। একে বলে পরশ–স্পর্শ, ইতিহাসেরপরশ-স্পর্শ। চম্পারণের সত্যাগ্রহ ইতিহাসের এমনই এক পরশ পাথর। আমাদের উচিৎ, এহেনপরশপাথর সম্পর্কে জানা, এর সঙ্গে যুক্ত হওয়া, সম্ভব হলে এই আদর্শ অনুসরণ করে বেঁচেথাকার চেষ্টা করে।

আজ এখানে একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করাহ’ল, অনলাইন ইন্টার‍্যাক্টিভ ক্যুইজ-এর সূত্রপাত করা হ’ল। আমরা একটা খুব সুন্দরনৃত্যনাটিকা দেখলাম। চম্পারণ সত্যাগ্রহের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এইঅনুষ্ঠানগুলিকে আমি নিছকই আনুষ্ঠানিকতা হিসাবে দেখছি না। এটা আমাদের জন্য একটিপবিত্র উপলক্ষ্য। বাপুজির আদর্শ থেকে প্রেরণা নিয়ে দেশের মঙ্গলের জন্য সংকল্পগ্রহণ করা এবং নিজেকে সমর্পণ করার উপলক্ষ্য।

বন্ধুগণ, আমাদের আজ মহাত্মা গান্ধীকেশ্রদ্ধাঞ্জলি জানানোর পাশাপাশি কার্যাঞ্জলির মাধ্যমেও সম্মান জানাতে হবে। নিজেদেরকাজকে তাঁর উদ্দেশে সমর্পণ করতে হবে। আর সেই সমর্পণের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হয়ে উঠবে ‘স্বেচ্ছাগ্রহ’-সত্যের প্রতি আগ্রহ থেকে সত্যাগ্রহ তেমনই পরিচ্ছন্নতার প্রতি আগ্রহ থেকেস্বচ্ছাগ্রহ।

বন্ধুগণ, ১৯১৭ সালে মহাত্মা গান্ধীযখন চম্পারণ গিয়েছিলেন, তখন তিনি ভাবেননি যে দীর্ঘদিন থাকতে হবে। তিনি চম্পারণেরপরিস্থিতি সম্পর্কে ভালো করে জানতেনও না। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর পর তাঁকে দীর্ঘকয়েক মাস থাকতে হয়েছিল। এই চম্পারণই তাঁকে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী থেকে মহাত্মাগান্ধী করে তুলেছিল। চম্পারণ পৌঁছনোর আগে সত্যাগ্রহের শক্তি সম্পর্কে তিনি নিজেঅবশ্যই জানতেন। কিন্তু তিনি জানতেন না যে, তিনি সত্যাগ্রহ আন্দোলনে নামলে সাফল্যপাবেন কি না! তিনি দেশের মানুষকে সত্যাগ্রহের শক্তি সম্পর্কে অবগত করাতেচেয়েছিলেন।

যেদিন ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে চম্পারণথেকে চলে যাওয়ার আদেশ দিলেন, তিনি জবাবে বলেছিলেন, আদালতের অবমাননা করার উদ্দেশ্যেতিনি এই আদেশ অগ্রাহ্য করছেন না, নিজের অন্তরাত্মার আদেশ এবং নিজের অস্তিত্বকেসম্মান জানানোর জন্য এই আদেশকে অমান্য করছেন। এই উত্তর শুনে ব্রিটিশ শাসন‘ব্যাকফুটে’ চলে গিয়েছিল। গান্ধীজি যখন বললেন, আমি জেলে যেতে রাজি, ইংরেজরা তাঁকেগ্রেপ্তার করতে সাহস পেল না। দেশের মানুষ দেখলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা একব্যারিস্টার চম্পারণে এসে কিভাবে জেলে যেতে রাজি হয়ে গেছেন। গ্রীষ্মের দাবদাহেগোটা চম্পারণ তখন ধূলোময়, কিন্তু ঐ মানুষটি কখনও পায়ে হেঁটে, কখনও এক্কাগাড়িতেআবার কখনও গরুর গাড়িতে করে স্থির লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছিলেন।

আপনার লক্ষ্য করুন, গান্ধীজি তখনকিভাবে মানুষের চিন্তা প্রক্রিয়াকে সজাগ করে তুলছিলেন। তখন নীল চাষিদের বয়ান নেওয়াহচ্ছিল, তদন্ত প্রক্রিয়া চলছিল। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ার বিপরীতে গান্ধীজি নিজেকেমানুষের সঙ্গে যুক্ত করে, আত্মোৎসর্গের মাধ্যমে নিজেকে উদাহরণ-স্বরূপ প্রস্তুত করেসাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্খার প্রতিমূর্তি করে তুলছিলেন।

গান্ধীজি বলতেন, ‘আমার জীবনই আমারদর্শন’। চম্পারণ সত্যাগ্রহের মাধ্যমেই ভারতবাসী প্রথম সেই দর্শনকে গড়ে উঠতে দেখল।গান্ধীজি তাঁর আত্মকথায় লিখেছেন, কিভাবে মানুষ নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্যকে অনুভবকরতে শুরু করলেন, ভাবতে শুরু করলেন যে পরিবর্তনের সময় এসে গেছে, পরিবর্তন আসতেপারে। ১০০ বছর ধরে প্রচলিত ‘তিন কাঠিয়া’ আইনবাতিল হতেই নীলকর সাহেবদের প্রভুত্বঅস্তমিত হ’ল। বিপুল সংখ্যক শোষিত মানুষ অবদমন মুক্ত হয়ে নিজেদের সামর্থ্য সম্পর্কেঅবগত হলেন। আগে লোকে ভাবতেন, একবার নীলের দাগ লাগলে তা আর ধোয়া সম্ভব নয়। অর্থাৎ,ঐ গড্ডলিকা প্রবাহকে কোনও মতেই পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তিনি সেই ভ্রমকে ভেঙেদিলেন। মানুষকে নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্য সম্পর্কে অবগত করালেন।

ভাই ও বোনেরা, গান্ধীজি আসলে ছিলেন‘স্বচ্ছাগ্রহী’। তিনি বলতেন, “পরিচ্ছন্নতা স্বাধীনতার থেকেই অনেক বেশিগুরুত্বপূর্ণ”। গ্রামে গ্রামে গিয়ে যখন তিনি দেখতেন, মানুষ অজ্ঞানতা এবংকুসংস্কারের অন্ধকারে পথ হারিয়ে ঘুরে মরছেন, নোংরা থাকছেন – তখন তাঁর খুব কষ্টহতো। ১৯১৭ সালে একটি অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধেয় বাপুজি বলেছিলেন, “যতদিন পর্যন্ত আমরানিজেদের গ্রাম ও শহরে উন্নতমানের শৌচালয় গড়ে তুলতে পারি, নিজেদের কুঅভ্যাসগুলিথেকে মুক্ত করতে পারি, ততদিন আমাদের জন্য স্বায়ত্ত্ব শাসনের কোনও গুরুত্ব নেই”।

সেদিক থেকে দেখতে গেলে আমাদের দেশেপরিচ্ছন্নতা আন্দোলনের সূত্রপাতও এই চম্পারণ থেকেই শুরু হয়েছিল বলা যায়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাএবং সাফাই গান্ধীবাদী জীবনশৈলির অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। তাঁর স্বপ্ন ছিল, সবার জন্যসম্পূর্ণ পরিচ্ছন্নতা। বন্ধুগণ, চম্পারণে তাঁর নেতৃত্বে যে আলাপ-আলোচনা হয়েছিল,সেই মন্থন থেকে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তা থেকে আমরা পঞ্চামৃত পেয়েছি। সাধারণমানুষকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে, মন্থনের মাধ্যমে, কর্মের মাধ্যমে এবং সংঘর্ষেরমাধ্যমে এই পঞ্চামৃত থেকে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়েছিল।

আমরা যদি গান্ধীজির চম্পারণ পর্বকেঅনুপুঙ্খভাবে দেখি, তা হলে সেই পঞ্চামৃতকে অনুভব করতে পারব। সেগুলি হ’ল : –

প্রথম অমৃত – সত্যাগ্রহেরশক্তি সম্পর্কে মানুষ জানল,

দ্বিতীয় অমৃত – জনশক্তিরসামর্থ্য সম্পর্কে মানুষ জানল,

তৃতীয় অমৃত – পরিচ্ছন্নতা এবংশিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে ভারতীয় জনমানসে নতুন জাগৃতি এল,

চতুর্থ অমৃত – সমাজে নারীরঅবস্থান উন্নত করার প্রয়াস শুরু হ’ল, এবং

পঞ্চম অমৃত – চরকা কাটাসুতোয় তৈরি নিজেদের হাতে বোনা কাপড় পরার ভাবনা মাথায় এল।

এই পঞ্চামৃত চম্পারণ আন্দোলনের মূলকথা।

বন্ধুগণ, আমি যখন চম্পারণের কথা ভাবি,আমার বালমোহন অর্থাৎ শিশু কৃষ্ণের কথা মনে পড়ে। এক মোহন থেকে আরেক মোহন; একজনসুদর্শন চক্রধারী মোহন আরেকজন চরকাধারী মোহন। আমরা সবাই জানি, কৃষ্ণ যখন মাটিখেয়েছিলেন, মা যশোদা কেমন ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। তিনি যখন জোর করে বালমোহনকে মুখখুলতে বলেন, তিনি তখন হাঁ করে মা যশোদাকে ব্রহ্মান্ড দর্শন করিয়েছিলেন। এভাবেবালমোহন নিজের মাকে সমস্ত দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন।

আমি যখন চম্পারণের কথা ভাবি, তখন আমারকিশোর মোহনের কথা মনে পড়ে, সেই চক্রধারী মোহন যখন কিশোর ছিলেন, রাসলীলা করতেন,বাঁশি বাজাতেন, তখন থেকেই তাঁকে আমরা কৃষ্ণ রূপে জানি। কিশোর মোহন যখন ঘনঘোরবর্ষায় গ্রামবাসীদের রক্ষা করার জন্য গোবর্ধন পাহাড়কে উঠিয়েছিলেন, তার আগে সবাইকেলাঠি হাতে দাঁড়াতে বলেছিলেন। গোবর্ধন পর্বতকে শূন্যে ওঠানোর পর সকলেই ভেবেছিলেনযে, তাঁদের শক্তিতেই বুঝি পাহাড়টিকে তোলা গেছে। এভাবেই কিশোর মোহন প্রত্যেককেতাঁদের আত্মিক শক্তি এবং সম্মিলিত শক্তির মাহাত্ম্য বোঝাতে চেয়েছিলেন।

ঠিক সেভাবেই আমাদের মোহনদাস, মহাত্মাগান্ধী মানুষকে দাসত্বের চিন্তা থেকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন। তাঁদেরকে সেই পথদেখান, যাতে তাঁরা সকলের মিলিত ইচ্ছায় স্বাধীনতা অর্জনের পথে এগিয়ে যেতে পারেন।আমাদের মোহন মানুষের জনশক্তিকে জাগিয়ে তোলেন। আর তাঁদের সত্যাগ্রহ থেকে শুরু করেস্বচ্ছাগ্রহের শক্তির সঙ্গে পরিচিত করান।

জনশক্তিকে জাগিয়ে তোলার এই অভিযানেবাপুজি মহিলাদের সমান অংশীদার করে তুলেছিলেন। চম্পারণের মহিলাদের দুর্দশা দেখেতিনি অনেক ভেবেতাঁদেরকে নিজের হাতে চরকা কেটে সুতো তৈরি করা, আর সেই সুতো দিয়েকাপড় বোনার প্রেরণা যোগান। এভাবে তিনি খাদি উন্নয়নকে নারী ক্ষমতায়নের অস্ত্রহিসাবে ব্যবহার করেন। খাদির বিকাশে মহাত্মা গান্ধীর চম্পারণ বাসের গুরুত্বপূর্ণভূমিকা রয়েছে।

বন্ধুগণ, এই সত্যাগ্রহ-ই একদিনগান্ধীজির নেতৃত্বে আমাদের দেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পরগান্ধীজির পরিচ্ছন্ন ভারতের স্বপ্ন অসম্পূর্ণ রয়ে যায়। স্বাধীনতার সাত দশক পরওআমরা সেই অপরিচ্ছন্নতা থেকে মুক্ত হতে পারিনি। সেজন্য ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীহওয়ার পর আমি যখন প্রথমবার লালকেল্লার প্রাকার থেকে উন্নত শৌচালয়ের কথা বলি,পরিচ্ছন্নতার কথা বলি, তখন সবাই অবাক হয়ে ভাবলেন, আমি কেন এসব কথা বলছি।

বন্ধুগণ, স্বচ্ছ ভারত অভিযান বাপুজিরঅসম্পূর্ণ স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার অভিযান। এই স্বপ্ন প্রায় ১০০ বছর ধরে প্রায়অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। আমাদের সবাইকে মিলেমিশে এই স্বপ্ন সফল করতে হবে। আমি অত্যন্তআনন্দিত যে, আজ ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’ এর মাধ্যমে দেশের মানুষ গান্ধীজীর স্বপ্নবাস্তবায়নের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। ‘ স্বচ্ছ ভারত’অভিযান সত্যি সত্যি আজ একটি গণ- আন্দোলনের রূপ নিচ্ছে। সমাজের প্রতিটি বর্গেরমানুষ ক্রমশঃ এই পরিচ্ছন্নতার আন্দোলনে্র সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। ‘ স্বচ্ছ ভারত অভিযান’ যখন শুরু হয়েছিল তখন দেশের জনসংখ্যারমোট ৪২% মানুষই শুধু শৌচালয় ব্যবহার করতেন। আজ সেই স্ংখ্যা বেড়ে ৬৩% হয়েছে।

বিগত আড়াই বছরে ১ লক্ষ ৮০ হাজারেরওবেশি গ্রাম আর ১৩০টি জেলা সম্পূর্ণভাবে নিজেদের উন্মুক্ত স্থানে শৌচ করা থেকেমুক্ত ঘোষণা করেছে। রাজ্যগুলির মধ্যেও প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে কারা প্রথমসম্পূর্ণভাবে নিজেদের উন্মুক্ত স্থানে শৌচ করা থেকে মুক্ত ঘোষণা করবে। ইতিমধ্যেইসিকিম, হিমাচল প্রদেশ এবং কেরল নিজেদের সম্পূর্ণভাবে নিজেদের উন্মুক্ত স্থানে শৌচকরা থেকে মুক্ত ঘোষণা করেছে। গুজরাট, হরিয়ানা, উত্তরাখন্ড ও আরও কয়েকটি রাজ্যদ্রুত এগিয়ে চলেছে। যে কোনও দিন তারা আমাদের শুভ সংবাদ দেবে।

গঙ্গা তীরবর্তী গ্রামগুলিকেসম্পূর্ণভাবে নিজেদের উন্মুক্ত স্থানে শৌচ করা থেকে মুক্ত ঘোষণা করার ক্ষেত্রেঅগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আমি আপনাদের অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে -উত্তরাখন্ড, উত্তর প্রদেশ, বিহার, ঝাড়খন্ড এবং পশ্চিমবঙ্গ, যে পাঁচটি রাজ্য দিয়ে মাগঙ্গা প্রবাহিত হন, সেই রাজ্যগুলি ইতিমধ্যেই ৭৫ শতাংশ থেকেও বেশি গ্রামকেসম্পূর্ণভাবে নিজেদের উন্মুক্ত স্থানে শৌচ করা থেকে মুক্ত ঘোষণা করে দিয়েছে। গঙ্গাতীরবর্তী গ্রামগুলির বর্জ্য পুনর্ব্যবহার প্রকল্প অনেক স্থানেই ইতিমধ্যে চালুহয়েছে। আশা করি, অত্যন্ত দ্রুত কাজ এগিয়ে যাবে এবং অদূর ভবিষ্যতেই গ্রামগুলিনিজেদের সম্পূর্ণভাবে নিজেদের আবর্জনামুক্ত ঘোষণা করবে।

ভাই ও বোনেরা, ইতিমধ্যেই দেশের সকলবিদ্যালয়ে ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য আলাদা-আলাদা শৌচালয় নির্মাণ করা হয়েছে।ছাত্রছাত্রীদের পাঠ্যক্রমে পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কিত অধ্যায় যুক্ত করা হচ্ছে, যাতেতারা ছোটবেলা থেকেই পরিচ্ছন্নতার সুফল ও অপরিচ্ছন্নতার কুফল সম্পর্কে অবহিত হয়।পরিচ্ছন্নতাকে নিজেদের জীবনের অভ্যাসে পরিণত করে।

বন্ধুগণ, স্বচ্ছ ভারত মিশনই আমাদেরকার্যাঞ্জলিকে একটি নতুন মন্ত্রে দীক্ষিত করেছে। এই মন্ত্রটি হ’ল বর্জ্য থেকেসম্পদ। প্রতিটি বাড়ি থেকে যে বর্জ্য নিষ্কাশিত হয়, নির্মীয়মান দালানকোঠা থেকে যেআবর্জনা সৃষ্টি হয়, সেগুলি কিভাবে রোজগারের পথ খুলে দিতে পারে, সেগুলি থেকে কিভাবেবিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে, সার উৎপন্ন করা যেতে পারে, পুনর্নবীকরণের মাধ্যমেনির্মাণ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত আবর্জনাকে কিভাবে পুনর্ব্যবহার করা যেতে পারে!

সরকারের ভিন্ন ভিন্ন বিভাগওপরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধির জন্য সাধারণ মানুষের সুস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে নতুন নতুনউদ্যোগ গ্রহণ করছে। এক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে। আপনারাহয়তো লক্ষ্য করেছেন যে, রেলে অপরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে একটি মাত্র ‘ট্যুইট’-এ কতদ্রুত সাড়া দেওয়া হয়। আপনারা ভেবে দেখুন, আগে রেলের কামরা কেমন ছিল,প্ল্যাটফর্মগুলি কত অপরিচ্ছন্ন থাকতো!

অতি সম্প্রতি পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক swachhta@petrol pump নামে একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে।যে কোনও পেট্রোল পাম্পের শৌচালয় যদি নোংরা থাকে, এই অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানানোযায়। দেশের প্রায় ৫৫ হাজার পেট্রোল পাম্পে এই পরিষেবা চালু করা হয়েছে।

দিল্লিতে একটি জাতীয় পরিচ্ছন্নতাকেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এই কেন্দ্র পরিচ্ছন্নতা অভিযান সংক্রান্ত সকল খবর এবংআধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সাহায্য করছে।

বন্ধুগণ, বর্তমানে দেশের সর্বত্র নানাস্তরে, সরকার থেকে গ্রাম পর্যন্ত স্বচ্ছাগ্রহের অভিযান যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে তাঅভূতপূর্ব। এখন মানুষের চিন্তা প্রক্রিয়ায় ঢুকে গেছে যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতেহবে। ছোট ছোট বাচ্চারা বড়দের সতর্ক করছে, অভিযোগ জানাচ্ছে। আর সেজন্যপরিচ্ছন্নতা,স্বচ্ছাগ্রহের এই অভিযানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রতিটি অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণহয়ে উঠছে। পরিচ্ছন্নতার প্রতি এই মনোভাবই স্বচ্ছাগ্রহ। পরিচ্ছন্নতার জন্য এইঅভিযানই বাপুজির প্রতি প্রকৃত কার্যাঞ্জলি।

বন্ধুগণ, গান্ধীজি শুধু ব্যবস্থাপরিবর্তন চাননি, তিনি মানবিক মূল্যবোধের পরিবর্তন চেয়েছিলেন। তিনি নিজের আত্মকথায়লিখেছিলেন, “আমি চাই যে সবাই এটা চিনে নিক যে ভারত কোন দেহ নয়, একটি অমর আত্মা, যাপ্রত্যেক শারীরিক দুর্বলতা থেকে ওপরে উঠে গোটা বিশ্বের সম্মিলিত শারীরিক ক্ষমতারপ্রতিস্পর্ধী হয়ে উঠতে পারে।”

আমাদের দেশের আত্মাকে চিনতে হবে।পরিবর্তন আসতে পারে এই ভাবনা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। এই ভাবনা যত জোরদার হবে, নতুনভারতের ভিত ততই মজবুত হবে। পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে নিজের লক্ষ্যকে যুক্ত করে তবেই সেইনতুন ভারতে পৌঁছে যাওয়ার ঐ অভিযানে সামিল হতে হবে। নতুন ভারতের পরিচয় যেন একটিঅপরিচ্ছন্ন দেশ হিসেবে থেকে না যায়। আমাদের পরিচ্ছন্ন না থাকার কোন কারণ নেই।মহাত্মা গান্ধী একটি পরিচ্ছন্ন, সুস্থ এবং সমৃদ্ধ ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন। এইস্বপ্নই প্রত্যেক ভারতবাসীর স্বপ্ন হওয়া উচিৎ। এই অভিযানের সাফল্যই বাপুজির প্রতিসত্যিকারের শ্রদ্ধাঞ্জলি, সত্যিকারের কার্যাঞ্জলি বলে পরিণত হবে।

বন্ধুগণ, আমি সত্যি সত্যি চাই ২০১৯সালে গান্ধীজির জন্মের সার্ধ শতবর্ষ উদযাপন বর্ষে দেশ এই সাফল্য পাক। ১৯১৫ সালেগান্ধীজি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দেশে ফিরেছিলেন। দু’বছরের মধ্যেই ১৯১৭-য় চম্পারনেমোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী থেকে তিনি মহাত্মা গান্ধী হয়ে ওঠেন। যেমন, বারদোলিসত্যাগ্রহে বল্লভভাই প্যাটেল সর্দার প্যাটেলে পরিণত হয়েছিলেন। গোটা দেশ তাঁকেঅনুসরণ করতে শুরু করেছিল। আমাদের জন্য চম্পারন সত্যাগ্রহ স্বাধীনতা আন্দোলনের একটিনতুন ধারাকে মজবুত করে তোলার সূচনা বিন্দু ছিল। আজ যখন আমরা সেই আন্দোলনের শতবর্ষপালন করছি, তখন গান্ধীজির সত্যাগ্রহ থেকে স্বচ্ছাগ্রহ অভিযানের সঙ্কল্পই আমাদেরসঙ্কল্প হয়ে উঠুক। সেই সময় সত্যাগ্রহ স্বাধীনতা প্রাপ্তির জন্য প্রয়োনীয় ছিল।বর্তমানে স্বচ্ছাগ্রহ দেশকে আবর্জনা মুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয়। আবর্জনা মুক্তিপূর্তির অপর অর্থ হল দরিদ্র জনসাধারণের কল্যাণ। সত্যি সত্যি দরিদ্র জনগণের সেবাকরতে হলে, তাঁদেরকে নানা অসুখ-বিসুখ থেকে বাঁচাতে হলে আমাদের এই মন্ত্র নিয়েইএগিয়ে যেতে হবে।

আমি আর একবার চম্পারন সত্যাগ্রহেরশতবর্ষ উদযাপনের সূচনা লগ্নেই এই উদযাপনের সাফল্য কামনা করি। এ বছর সবরমতী আশ্রমেরওশতবর্ষ পূর্ণ হচ্ছে। আমার মতে, এই সবরমতী আশ্রম থেকেই গান্ধীজি তাঁর তপস্যা শুরুকরেছিলেন। আর আগামী ২০১৯ সালে আমরা মহাত্মা গান্ধীর জন্মের সার্ধ শতবর্ষ পালন করব।এই সুযোগে আমরা বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুরুষ মহাত্মা গান্ধীর আদর্শকেএকবিংশ শতাব্দীতে আধুনিক সজ্জায় সজ্জিত করে, নতুন চিন্তাভাবনার সঙ্গে যুক্ত করে,নতুন সঙ্কল্প গ্রহণ করে, নতুন আশা নিয়ে বেঁচে থাকার একটি নতুন উপলক্ষ্য হিসেবেপালন করি। এটাই হবে তাঁর প্রতি সত্যিকারের কার্যাঞ্জলি। শ্রদ্ধা আমরা অনেকজানিয়েছি। ভবিষ্যতেও জানাব। কিন্তু এখন কার্যাঞ্জলিরই বেশি প্রয়োজন। আমাদেরসঙ্কল্প, আমাদের পরিশ্রম সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করবে। আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করেগেলে এই কার্যাঞ্জলির মাধ্যমেই বাপুজির স্বপ্নের ভারতকে চোখের সামনে দেখতে পাব। এইভাবনা নিয়ে, এই মহান উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে বাঁচার মতো বেঁচে থাকতে দেখার জন্যঝাঁপিয়ে পড়তে আহ্বান জানাই। আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

বন্দে মাতরম! ভারতমাতার জয়।

PG/SB/ SB