পিএমইন্ডিয়া
ইরান ইসলামিক সাধারণতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট মাননীয় ডঃ হাসান রৌহানি,
আফগানিস্তান ইসলামিক সাধারণতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট মাননীয় ডঃ আশরফ ঘনি,
মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়গণ,
ভদ্রমহোদয় ও ভদ্রমহিলাগণ,
পারস্যের প্রখ্যাত কবি হাফেজ একদা বলেছিলেন :
रोज़े- हिज्रो-शबे-फ़ुर्क़ते-यार आख़र शुद
ज़दम इन फ़ालो-गुज़श्त अख़्तरो कार आख़र शुद्
[এর অর্থ হল : বিরহের দিন বিগত, প্রতীক্ষার যামিনীর হল অবসান; আমাদের মৈত্রী সম্পর্ক হবে অক্ষয়, অব্যয়।]
আজ আমরা সকলেই এক ইতিহাস সৃষ্টির ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। এর তাৎপর্য শুধুমাত্র আমাদের তিনটি দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর ব্যাপ্তি সমগ্র অঞ্চলেই।মানুষের মূল বা প্রাথমিক প্রয়োজনের আর্জি থেকেই গড়ে ওঠে যোগাযোগের সেতুবন্ধন। আজ আমরা সেটাই সফল করতে পেরেছি। এই ধরনের একটি অসাধারণ মুহূর্তের আয়োজন করার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ মাননীয় রৌহানির কাছে। মাননীয় প্রেসিডেন্ট আশরফ ঘনি, ধন্যবাদ জানাই আপনাকেওআপনার উজ্জ্বল উপস্থিতির জন্য। আজকের এই ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যময়। তাই, এখানে উপস্থিত থাকার এই বিরল সুযোগকে আমরা সকলেই উপভোগ করছি। কিছুক্ষণ আগেই মাননীয় রৌহানি এবং প্রেসিডেন্ট ঘনির সঙ্গে আমি বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টি স্পষ্টতই আমাদের কাছে এক বিশেষ অগ্রাধিকারদাবি করে। আমাদের পরস্পরের উদ্দেশ্য এক, তাই আমরা ঐক্যবদ্ধ। শান্তি ও সমৃদ্ধির নতুন নতুন পথ অন্বেষণ আমাদের একটি সাধারণ লক্ষ্য। সমগ্র বিশ্বের সঙ্গে আমরা যোগসূত্র স্থাপন করতে আগ্রহী। কিন্তু সেইসঙ্গে, আমাদের নিজেদের মধ্যেও উন্নততর যোগাযোগ গড়ে তোলার বিষয়টি আমাদের অগ্রাধিকারের সূচিতেই পড়ে। তাই, সমগ্র অঞ্চলেরই এ এক নতুন ঊষার অভ্যুদয়।
মাননীয় রাষ্ট্রপ্রধানদ্বয়,
আমাদের পারস্পরিক সুপ্রাচীন সম্পর্কের গভীরতা ও বাস্তবতা সম্পর্কে ইরান, আফগানিস্তান ও ভারত বিশেষভাবে ওয়াকিবহাল। বহু শতক ধরে শিল্পকলা ও সংস্কৃতি, জ্ঞান ও মননশীলতা এবং ভাষা ও ঐতিহ্য আমাদের মধ্যে এক সাধারণ যোগসূত্র গড়ে তুলেছে। এমনকি, ঐতিহাসিক দুর্দিনের মুহূর্তেও আমরা কখনই একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হইনি। আজ আমরা এখানে সমবেত হয়েছি আমাদের এই অটুট বন্ধনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা উপলক্ষে।
মাননীয় রাষ্ট্রপ্রধানদ্বয়, আজ কিছুক্ষণ আগে ত্রিপাক্ষিক পরিবহণ ও ট্র্যানজিট করিডর গড়ে তোলার লক্ষ্যে যে চুক্তিটি সম্পাদিত হল, তা আমাদের এই অঞ্চলে ইতিহাসের গতিপথে পরিবর্তন আনতে সক্ষম। এই করিডরের মধ্য দিয়ে সমগ্র অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্যিক আদানপ্রদানে আর কোনরকম বাধা থাকবে না। মূলধনের যোগান এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে চাবাহারে গড়ে উঠবে এক নতুন শিল্প পরিকাঠামো যার মাধ্যমে সুযোগ সম্প্রসারিত হবে গ্যাস-ভিত্তিক সার প্রকল্প, পেট্রো-রসায়ন, ওষুধ উৎপাদন ও তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে। করিডরের মূল পথটি সম্প্রসারিত হবে ইরানের চাবাহার বন্দরের মধ্য দিয়ে। ওমান উপসাগর অঞ্চলের এই বিশেষ অবস্থানকেন্দ্রটি কৌশলগত দিক থেকে খুবই তাৎপর্যময়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে এই পথটিকে নিশ্চিত ও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারবে আফগানিস্তান। শুধু তাই নয়, সম্পাদিত এই চুক্তির অর্থনৈতিক সুফল আমাদের এই তিনটি দেশ ছাড়িয়েও প্রসারিত হবে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহণ করিডরের সঙ্গে যখন এই পথকে যুক্ত করা হবে, তখন এই করিডরের এক প্রান্ত থাকবে দক্ষিণ এশিয়ায় এবং অন্য প্রান্ত ইউরোপে। সমীক্ষায় প্রকাশ যে প্রচলিত সামুদ্রিক পথগুলির তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কম খরচে ও সময়ে বাণিজ্যিক সম্ভার পৌঁছে দেওয়া যাবে সুদূর ইউরোপে।ভারত মহাসাগর অঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে ভারত যে জল ও স্থলপথ গড়ে তুলেছে তার সঙ্গেও এটিকে হয়তো যুক্ত করা হবে কোন এক সুদূর ভবিষ্যতে।
মাননীয় রাষ্ট্রপ্রধানদ্বয়,
একুশ শতকের বিশ্ব আমাদের সামনে অভাবনীয় সুযোগ ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছে। কিন্তু সেইসঙ্গে, বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও সে উপস্থিত করেছে আমাদের সামনে। বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়টি প্রকৃতিগতভাবে একান্তই এই শতকের। বিগত শতকগুলির মানসিকতা বা চিন্তাভাবনা সেখানে অচল ও অপ্রাসঙ্গিক। আজকের দিনের সতর্কবার্তা হল সংশয় নয়, আস্থা। কর্তৃত্ব নয়, সহযোগিতা। বহিষ্কার নয়, অন্তর্ভুক্তি। চাবাহার চুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হল একটি দার্শনিক অভিব্যক্তি তথা নিয়ন্ত্রক শক্তি। এই করিডরই হয়ে উঠবে আমাদের জনসাধারণের কাছে শান্তি ও সমৃদ্ধির এক নতুন পথ। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে গড়ে উঠবে শান্তি ও সমৃদ্ধির এক বাতাবরণ। অন্যের কোনরকম ক্ষতিসাধন না করেও এই ব্যবস্থা আমাদের নিরাপত্তাকে করে তুলবে অটুট। বিভিন্ন জাতির মধ্যে যে বিভেদের প্রাচীর গড়ে উঠেছে তা ভেঙে দিয়ে বিভিন্ন জাতির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সংযোগের পরিবেশ সৃষ্টি করবে। আর এইভাবেই আমরা মৈত্রী সম্পর্কের মধ্য দিয়ে এক সুস্থ প্রতিবেশীসুলভ মানসিকতা গড়ে তুলতে পারব একে অপরের সঙ্গে। এটাই আমাদের লক্ষ্য এবং তা সম্ভব করে তুলতে আমরা যথেষ্ট উপযুক্ত বলেই আমি মনে করি।
মাননীয় রাষ্ট্রপ্রধানদ্বয়,
বিভিন্ন মৌলিক ক্ষেত্রে আমাদের চারপাশের বিশ্ব জগৎ ক্রমশ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে। আমাদের জাতীয় সমৃদ্ধির সীমাবদ্ধতার জন্য উপযুক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবই একমাত্র কারণ নয়। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতার অভাব সমগ্র এশিয়ায় ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে চলেছে। বিশ্ব অর্থনীতি এখনও সম্পূর্ণভাবে অনিশ্চয়তা ও দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। চরমপন্থী মতাদর্শ এবং সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ যেভাবে থাবা বিস্তার করছে, তাতে আমাদের বর্তমান অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতের সমৃদ্ধি এক বিশেষ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এই পরিস্থিতিতে আমাদের তিনটি দেশেরই রয়েছে আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ – তরুণ ও যুবসমাজ। এই তিনটি দেশের জনসংখ্যার ৬০ শতাংশেরও বেশি অনূর্ধ ৩০ বছরের তরুণ নাগরিক। জাতীয় এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের লক্ষ্যে তাঁরা আমাদের বিশেষ সম্পদ। যদি তাঁরা হিংসা ও অস্ত্রধারণের বিপথে চালিত না হয়, তাহলে চাবাহার চুক্তির অর্থনৈতিক সুফল যে ক্রমশ বাণিজ্যিক প্রসার, বিনিয়োগ আকর্ষণ, পরিকাঠামো নির্মাণ, শিল্পসংস্থা স্থাপন এবং কর্মসংস্থানের কাজে যুবক ও তরুণদের যুক্ত করতে পারবে এই স্থির বিশ্বাস আমার রয়েছে।নিরীহ ও নিরপরাধদের নির্বিচার হত্যাই যাদের একমাত্র মতাদর্শ, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে এই চুক্তি আমাদের মধ্যে শক্তি সঞ্চার করবে। এর মূল সাফল্যই প্রতিফলিত হবে সমগ্র অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার এক ইতিবাচক বাতাবরণ সৃষ্টির মাধ্যমে।
মাননীয় রাষ্ট্রপ্রধানদ্বয়,
এক বৃহত্তর সংযোগ তথা যোগাযোগের সেতুবন্ধনগড়ে তোলার লক্ষ্যে এই বাণিজ্যিক ট্র্যানজিট করিডরটি যে একটি সূচনামাত্র একথা আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আমার চিন্তাভাবনায় ইরান, আফগানিস্তান ও ভারতের মধ্যে বৃহত্তর সংযোগের সেতুবন্ধনটি বিস্তৃত হবে :
· সংস্কৃতি থেকে বাণিজ্য
· ঐতিহ্য থেকে প্রযুক্তি
· বিনিয়োগ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি
· পরিষেবা থেকে প্রকৌশল,
এবং
· জনসাধারণ থেকে রাজনীতি পর্যন্ত।
অন্যভাবে বলতে গেলে, এটি হল একটি সঙ্কল্প যার মধ্য দিয়ে :
· বাস্তবায়িত হবে উন্নততর যোগাযোগ
· স্থাপিত হবে শান্তি ও স্থিতিশীলতার এক বাতাবরণ
· গড়ে উঠবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও নতুন বাণিজ্যিক তৎপরতা
· দূরীভূত হবে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসের কালো ছায়া,
এবং
· যাবতীয় বাধাবিপত্তি দূর করে বিভিন্ন জাতির মধ্যে গড়ে উঠবে ঘনিষ্ঠ এক প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক।
আমাদের এই প্রচেষ্টার সাক্ষী থাকবে ইতিহাস যানীরবে সমর্থন যোগাবে আমাদের এই উন্নয়নের সঙ্কল্পকে।
এই প্রচেষ্টায় নেতৃত্বদানের জন্যআমি বিশেষভাবে প্রশংসা করিমাননীয় রৌহানি এবং মাননীয়ঘনির।
আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ। অনেক অনেক ধন্যবাদ।
PG/SKD/DM/S… 24th May, 2016…
Today we are witnessing creation of history: PM @narendramodi at the Trilateral Summit of Iran, India, Afghanistan https://t.co/vbG9VG4Eqq
— PMO India (@PMOIndia) May 23, 2016
The agenda for economic engagement is a clear priority for us. We stand together in unity of our purpose: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) May 23, 2016
To carve out new routes of peace and prosperity is our common goal. We want to link with the world: PM @narendramodi at Trilateral Summit
— PMO India (@PMOIndia) May 23, 2016
Agreement on establishment of a Trilateral Transport & Transit Corridor signed a while ago can alter the course of history of the region: PM
— PMO India (@PMOIndia) May 23, 2016
The corridor would spur unhindered flow of commerce throughout the region: PM @narendramodi at the Trilateral Summit https://t.co/vbG9VG4Eqq
— PMO India (@PMOIndia) May 23, 2016
Afghanistan will get an assured, effective and a more friendly route to trade with the rest of the world: PM @narendramodi in Tehran
— PMO India (@PMOIndia) May 23, 2016
Studies show that as compared to traditional sea routes, it could bring down cost & time of the cargo trade to Europe by about 50%: PM
— PMO India (@PMOIndia) May 23, 2016
The watch-words of international ties are trust not suspicion; cooperation not dominance; inclusivity not exclusion: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) May 23, 2016
Economic fruits of Chahbahar Agreement will expand trade, attract investment, build infrastructure, develop industry and create jobs: PM
— PMO India (@PMOIndia) May 23, 2016
The Agreement will strengthen our ability to stand in mutual support against those whose only motto is to maim and kill the innocents: PM
— PMO India (@PMOIndia) May 23, 2016