Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

জম্মু ও কাশ্মীরের রামবন অঞ্চলের চন্দরকোটে একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

জম্মু ও কাশ্মীরের রামবন অঞ্চলের চন্দরকোটে একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

জম্মু ও কাশ্মীরের রামবন অঞ্চলের চন্দরকোটে একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

জম্মু ও কাশ্মীরের রামবন অঞ্চলের চন্দরকোটে একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

জম্মু ও কাশ্মীরের রামবন অঞ্চলের চন্দরকোটে একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

জম্মু ও কাশ্মীরের রামবন অঞ্চলের চন্দরকোটে একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

জম্মু ও কাশ্মীরের রামবন অঞ্চলের চন্দরকোটে একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

জম্মু ও কাশ্মীরের রামবন অঞ্চলের চন্দরকোটে একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

জম্মু ও কাশ্মীরের রামবন অঞ্চলের চন্দরকোটে একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

জম্মু ও কাশ্মীরের রামবন অঞ্চলের চন্দরকোটে একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

জম্মু ও কাশ্মীরের রামবন অঞ্চলের চন্দরকোটে একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

জম্মু ও কাশ্মীরের রামবন অঞ্চলের চন্দরকোটে একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

জম্মু ও কাশ্মীরের রামবন অঞ্চলের চন্দরকোটে একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

জম্মু ও কাশ্মীরের রামবন অঞ্চলের চন্দরকোটে একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা,

আজ আমি শ্রীনগরে একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম, তারপরই আপনাদের মাঝে আসার সৌভাগ্য হয়েছে। আমরা অনেক বছর ধরে শুনে আসছি, উন্নয়নের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হয় – বিদ্যুৎ, জল আর সড়ক। এই তিনটি বুনিয়াদী ব্যবস্থা বিকশিত করতে পারলে সেই সমাজ নিজস্ব শক্তি জুটিয়ে উন্নয়নের নতুন উচ্চতা অতিক্রম করে নেয়। আজ গোটা পৃথিবী ‘বিশ্ব উষ্ণায়ন’ এবং আবহাওয়া পরিবর্তন নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। এই বিশ্ব উষ্ণায়ন কিভাবে রদ করা যায়, আমাদের হিমবাহগুলিকে কিভাবে উষ্ণায়নের কবল থেকে রক্ষা করা যায়, এই হিমবাহগুলি আমাদের দেশের বড় নদীগুলির জলের উৎস, সেই নদীগুলিকে কিভাবে বাঁচানো যায়, প্রকৃতিকে কিভাবে রক্ষা করা যায়, এসব কথা মাথায় রেখে আমরা উন্নয়নের নক্‌শা তৈরি করছি। সেক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পদ্ধতিও পাল্টাতে হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে সবচাইতে সরল ও পরিবেশ-বান্ধব উপায় হল জলবিদ্যুৎ, সৌরবিদ্যুৎ এবং বায়ুশক্তি উৎপাদন। আর সেজন্যই হাওয়া কল সৌর প্যানেল এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানবজাতির কল্যাণসাধন করা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা আমাদের সামাজিক দায়িত্ব।

আজ এই যে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটির উদ্বোধন হচ্ছে, এ থেকে আমরা বিদ্যুৎ তো পাবোই, এই বিদ্যুৎ আমাদের উন্নয়নের অভিযানকে শক্তি জোগাবে, পাশাপাশি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণে পরিবেশকে বাঁচানোর পুণ্যকর্মও আমরা করবো। ভারত পরিবেশ-বান্ধব বিকল্প শক্তি উৎপাদনে একটি অনেক বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করছে – ১৭৫ গিগাওয়াট পুনর্নবীকৃত শক্তি উৎপাদন। আমাদের দেশে এর আগে আমাদের চিন্তার দৌড় মেগাওয়াট পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। এক হাজার মেগাওয়াট, ১০ হাজার মেগাওয়াট, কিন্তু গিগাওয়াট? এই শব্দটি আমাদের দেশে শোনা যায়নি। আজ আমাদের সরকার ১৭৫ গিগাওয়াট সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি উৎপাদনের লক্ষ্য রেখেছি।

আমার স্বপ্ন হল, আগামী ২০২২ সালে ভারত যখন স্বাধীনতা ৭৫ বছর পূর্তি পালন করবে তখন ভারতের প্রতিটি গ্রামে ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকবে। এই কাজটি দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিতে আমি নিজে নিয়মিত এর তদারকি করছি। কিছুদিন আগে একটি বৈঠকে আমি জানতে চেয়েছিলাম, আমাদের দেশে কতগুলি গ্রামে একটি বিদ্যুৎ-এর খুঁটিও পোঁতা হয়নি? উত্তর পেলাম, প্রায় ১৮ হাজার! আমি অবাক হয়ে গেলাম। স্বাধীনতার পর প্রায় ৭০ বছর হতে চলেছে অথচ এই অবস্থা! এর থেকে বড় দুর্ভাগ্য কী হতে পারে! আমরা কাজ শুরু করে দিলাম। গত ১৫ আগস্টে লালকেল্লার প্রাকার থেকে ঘোষণা করে দিলাম, যে কাজ ৭০ বছরে হয়নি আগামী ১০০০ দিনে আমরা সেই কাজ সম্পূর্ণ করবো। ১০০০ দিনে ১৮ হাজার গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছবোই। সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিসগুলিকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছি, নিয়মিত তদারকি চলছে, আজ কতগুলি খুঁটি বসানো হয়ে গেছে, বিদ্যুৎ-এর তার কত দূর টানা হয়েছে ইত্যাদি।

দ্বিতীয় স্বপ্ন হল, ৩৬৫ দিন ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ। আজ বিদ্যুৎ ছাড়া জীবনযাপন সম্ভব নয়। কারণ, এটি প্রযুক্তিচালিত যুগ। অনেক গ্রামের মানুষের হাতে মোবাইল ফোন আছে, কিন্তু ফোন চার্জ করতে নিয়মিত অন্য গ্রামে ছুটতে হয়। এই পরিস্থিতি বদলাতে হবে। ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ পরিষেবা দিতে হলে সেই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনও করতে হবে। এখন অধিকাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি হিসেবে কয়লা এবং গ্যাস ব্যবহার করা হয়। আমরা পরিবেশ-বান্ধব বিকল্প শক্তি উৎপাদনের দিকে এগিয়ে চলেছি।

আজ আমি শ্রীনগরে জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখের সর্বাঙ্গীন উন্নয়নের জন্য ৮০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। লেহ-লাদাখ অঞ্চলে সৌরশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই বিদ্যুৎ-ই যাতে লেহ্‌-লাদাখ এবং কারগিল এলাকার সকল গ্রামে বিদ্যুৎ-এর চাহিদা পূরণ করতে পারে সেই ব্যবস্থা এই প্যাকেজে রাখা হয়েছে।

আমরা গোটা দেশে একটি অভিযান
শুরু করেছি, ‘বিদ্যুৎ বাঁচাও’। বিদ্যুৎ উৎপাদনের যত গুরুত্ব, বিদ্যুৎ পৌঁছনোর যত গুরুত্ব, তার থেকে বেশি গুরুত্ব বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের। আজ প্রযুক্তি এত উন্নত হয়েছে যে আমরা চাইলে প্রভূত পরিমাণে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারি। সরকারের পক্ষ থেকে সস্তায় এল ই ডি বাল্ব বিতরণ করা হচ্ছে। পৌর সংস্থাগুলিকে অনুরোধ করা হয়েছে তারা যেন রাস্তার লাইট পোস্টগুলিতে এল ই ডি বাল্ব লাগান। যারা এল ই ডি বাল্ব ব্যবহার করবেন তাদের বিদ্যুতের খরচ কমবে। টাকাও বাঁচবে, বিদ্যুৎ-ও সাশ্রয় হবে। প্রতি পরিবারে প্রতি মাসে ৫০ থেকে ২০০ টাকা সাশ্রয় হবে। বিদ্যুতের সাশ্রয় হলে আমরা দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর মানুষের ঘরেও বিদ্যুৎ দিতে পারবো।

আমরা ‘স্বচ্ছ ভারত’ কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে চলেছি। বর্জ্য থেকে সম্পদ – শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। আর সেজন্যই উন্নয়নের নতুন ক্ষেত্র-সমূহে প্রবেশের প্রয়োজনে, শিল্পের জন্য, প্রযুক্তির জন্য বিদ্যুত-এর গুরুত্ব অনিবার্য হয়ে উঠেছে।

আজ দ্বিতীয় একটি প্রকল্প উদ্বোধন হচ্ছে – জাতীয় মহাসড়ক প্রকল্প। আমরা জানি, একটা সময় ছিল যখন মানুষ নদীর তীরে শহর পত্তন করতো, এক একটা নদীর কিনারে মানবসভ্যতা বিকশিত হতো। তারপর, সময় আসে যেখান দিয়ে সড়ক, মহাসড়ক যায়, তার দু’পাশে জনবসতি গড়ে ওঠে। কারণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা আজকের যুগে অনিবার্য। আগে কালো পিচের রাস্তাতেই সবাই সন্তুষ্ট থাকতেন, কিন্তু এখন সবাই ‘পেভার রোড’ চান। আমাদের কাছে যত আবেদনপত্র আসে সকলের চাহিদা ‘পেভার রোড’। সাধারণ মানুষের চিন্তাভাবনা এবং চাহিদা বদলাচ্ছে। আর সেজন্যই আধুনিকতম প্রযুক্তির প্রয়োগে সর্বোত্তম উপকরণ দিয়ে টেকসই মহাসড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।

একটু আগেই নীতিনজী বলছিলেন যে, এতে আপনাদের অনেক সময় বাঁচবে। আমাদের ওখানে বলা হয় ‘টাইম ইজ মানি’। সময় বাঁচলে পয়সাও সাশ্রয় হবে। জম্মু থেকে শ্রীনগর যেতে এখন ১০-১২ ঘন্টা সময় লাগে। এই যাত্রাকাল কমে দু-চার ঘন্টা লাগলে গোটা দিনটাই বাঁচলো। সেজন্যই অনেক সুপরিকল্পিতভাবে, অনেক বেশি টাকা খরচ করে, উন্নত মানের উপকরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই মহাসড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। আগামী দিনে যে পর্যটকরা কাশ্মীর ঘুরতে আসবেন তাদের জন্য এই মহাসড়ক এবং টানেলগুলিও দর্শনীয় হয়ে উঠবে। তখন পর্যটকরা বেশি টাকা খরচ করে বিমানপথে সফর করতে চাইবেন না। নয় কিলোমিটার লম্বা টানেলের মধ্য দিয়ে যেতে চাইবেন। ভারতে এত লম্বা টানেল দেখতেও পর্যটকরা আসবেন। আপনারা আমার কথা মিলিয়ে নেবেন।

আর সেজন্যই উন্নয়নকে আমরা ত্বরান্বিত করতে চাই। আগামীদিনে মানুষ যাতে আধুনিক রেল, সড়ক নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ইত্যাদির সুবিধা পান তার ব্যবস্থা আমরা করছি। আজ ৮০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। গত বছর ভয়াবহ বন্যার পর এসে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা পৌঁছে দিয়েছিলাম। কিন্তু এত মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন, গ্রামের পর গ্রাম ধ্বসে গেছে। সেই গ্রামগুলির পুনর্গঠনের জন্য এই টাকা যথেষ্ট ছিল না। সেজন্য এবার যে ৮০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছি, তা থেকে ঐ বন্যা দুর্গত মানুষ ও গ্রামগুলির পুনর্গঠনেও খরচ করা হবে। যে ব্যবসায়ীদের চরম ক্ষতি হয়েছে তাদের আবার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুবিধা করে দেওয়া, যে সব হাসপাতাল, বিদ্যালয়, সড়ক ও সেতু ভেঙে পড়েছে সেগুলিকে আবার দ্রুত গড়ে তোলার কাজ করা হবে।

পাশাপাশি, নবীন প্রজন্মের কর্মসংস্থানের নানা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে ইন্ডিয়া রিজার্ভ ব্যাটেলিয়ন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখানে ৫টি রিজার্ভ ব্যাটেলিয়নে জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৪ হাজার নবযুবককে নেওয়া হবে। এতে ৪ হাজার পরিবারের আর্থিক টানাপোড়েন মেটানো যাবে। বিভিন্ন কারিগরি বিদ্যায় ও হস্তশিল্পে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের ফলেও তেমনি অনেক আপেক্ষাকৃত কম লেখাপড়া জানা নিম্নবিত্ত পরিবারের নবযুবক-যুবতী কর্মসংস্থান পাবেন। তাছাড়া, এই রাজ্যে আধুনিক উচ্চ শিক্ষার জন্য আই আই টি, আই আই এম এবং উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য এইম্‌স হাসপাতাল স্থাপন করা হবে। ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি নতুন নতুন কাজের সুযোগ গড়ে উঠলে আরও নির্মাণের সময় নির্মাণ কর্মীদের এবং চালু হলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

স্বাধীন ভারতে জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষ যত বিপত্তির মোকাবিলা করছেন আর কোনও রাজ্যের মানুষকেই ততটা বিপদের সম্মুখীন হতে হয়নি। ১৯৪৭ সালে কয়েক লক্ষ শরণার্থী এই রাজ্যে এসেছেন। তাদের বংশধররাই এখন রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ১৫-২০ শতাংশ। এটা সময়ের দাবি, ওই শরণার্থী মানুষজন এবং কাশ্মীর থেকে বিস্থাপিত কাশ্মীরী পণ্ডিতদের সম্মানজনক পুনর্বাসন। এই ৮০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজে ঐ ১৯৪৭ থেকে শুরু করে পরবর্তী সকল বিস্থাপিত মানুষজনের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রয়েছে।

অর্থাৎ, জম্মু ও কাশ্মীর যে সকল সমস্যায় ভুগছে – সেই সব সমস্যার মোকাবিলার প্রয়াস আমরা এই ৮০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজে রেখেছি। পাশাপাশি, ভারতের অন্যান্য রাজ্যের সমকক্ষ উন্নয়ন এবং পর্যটন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়ে ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এই ৮০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে রাখা হয়েছে। এটি অদ্যাবধি কাশ্মীরের জন্য সবচাইতে বড় প্যাকেজ। আর আজ আমি শ্রীনগরে বলেছি, আপনারা যত দ্রুত এই সংহত কর্মসূচিগুলি সফল করে তুলবেন, আমার কাশ্মীর উন্নয়নের স্বপ্ন যত দ্রুত বাস্তবায়িত করবেন, এই ৮০ হাজার কোটি টাকাই শেষ নয়, এটি সূত্রপাত মাত্র। আপনারা কিভাবে এই অর্থকে কাজে লাগান, কত দ্রুততার সঙ্গে সংহত ও সুপরিকল্পিত উন্নয়নসাধন করেন, এতে সাধারণ মানুষের অংশীদারিত্ব কতটা বৃদ্ধি পায় তার উপর নির্ভর করছে দল্লির রাজকোষ থেকে পরবর্তী প্যাকেজ কেমন হবে!

আমি বিশেষ করে নবীন প্রজন্মের যুবক-যুবতীদের কিছু বলতে চাই। কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যান্য কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করে আপনারা লাভবান হবেন। কয়েকটি কর্মসূচি আপনাদের জন্য অত্যন্ত লাভদায়ক প্রমাণিত হতে পারে। যেমন – ‘প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা’-এর মাধ্যমে আমাদের দেশের ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেন। সংবাদপত্র বিক্রেতা, দুধ বিক্রেতা, ফল বিক্রেতা, কেউ মা বৈষ্ণোদেবীর প্রসাদ বিক্রি করেন, কেউ ছোটখাটো ধাবার মালিক, কেউ ছোলা-মটর ভাজা বিক্রি করেন, চানাচুর বিক্রি করেন, কেউ গ্রামে গ্রামে ঘুরে কার্পেট, কাপড়-পশমের চাদর সওদা করেন – আপনাদের সকলের কথা ভেবে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। আপনাদের পুঁজি হিসেবে ১ হাজার টাকাও যদি প্রয়োজন পড়ে আপনাদের মহাজনদের কাছে যেতে হয় আর চড়া সুদে ধার নিতে হয়। তারপর, সারা দিনের পরিশ্রমে যা রোজগার করেন তার অর্ধেক থেকে বেশি টাকা সুদ দিতে হয়। দেশের কোনও ব্যাঙ্ক এই কম পুঁজির ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কিছু ভাবেনি। তারা শুধু পয়সাওয়ালাদের ঋণ দেয়, সম্পত্তি বন্ধক রেখে গ্যারান্টি রেখে ঋণ দিলে তাদের সুবিধা। এবার আমরা ‘প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা’র মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যাঙ্ক থেকে ঋণদানের ব্যবস্থা চালু করেছি। সেজন্য আপনাদের কিছু গ্যারান্টি দিতে হবে না বা বন্ধক রাখতে হবে না। এর মাধ্যমে আপ্নারা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এখন পর্যন্ত সারা ভারতে মোট ৬০ লক্ষ মানুষ এই ঋণ হাতে পেয়ে তাদের ব্যবসায় লেগে পড়েছেন। জম্মু ও কাশ্মীরের নবযুবকদেরও আমি ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেবো। আপনারা কর্মসূচিটি সম্পর্কে বুঝে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিন, তারপর সেই টাকা সদ্ব্যবহার করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করুন।

এই রকমই আমাদের আরেকটি কর্মসূচি হল ‘স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া, স্ট্যান্ড আপ ইন্ডিয়া’! যাঁরা বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশুনা করেছেন, প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, যাঁরা নতুন নতুন বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন, আবিষ্কার করছেন এবং সেই আবিষ্কারকে আপ্নারা বাজারজাত করার জন্য উৎপাদন করতে চান তাঁদেরকে নতুন কারখানা বা উৎপাদন ক্ষেত্র নির্মাণের জন্য এই কর্মসূচির মাধ্যমে ঋণ পাবেন। আমি ব্যাঙ্কগুলিকে বলেছি, প্রত্যেক শাখা থেকে একজন দলিত পরিবার কিংবা আদিবাসী পরিবার থেকে উঠে আসা প্রতিভা এবং একজন মহিলাকে স্টার্ট আপ-এর জন্য ঋণ দিতে। এই ঋণ ‘মুদ্রা যোজনা’ থেকে আলাদা। এই ঋণ ১০ লক্ষ থেকে ২০ লক্ষ টাকার। নবীন প্রতিভারা এই কর্মসূচির মাধ্যমে ঋণ নিয়ে নিজের কারখানা বা উৎপাদন ক্ষেত্র গড়ে তুলুন, দেশের উন্নয়নযজ্ঞে সামিল হোন। আজ দিল্লিতে এমন সরকার রয়েছে যা কেবল আপনাদের জন্য বাঁচে, আপনাদের জন্য কিছু করতে চায়। আপ্নারা এগিয়ে আসুন, এই কর্মসূচিগুলির সুযোগ নিন।

ভাই ও বোনেরা, আজ জম্মু ও কাশ্মীরে আপনারা আমাকে এত ভালোবাসা দিয়েছেন, স্বাগত জানিয়েছেন সেজন্য আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমাদের নীতিনজী দেশকে দ্রুতগতিতে ছোটাতে শুরু করেছেন। চারিদিকে সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণের কর্মযজ্ঞ চলছে। আগে সারা দেশে দিনে গড়ে দুই কিলোমিটার সড়ক নির্মিত হতো। আমাদের নীতিনজী বিগত ১৭ মাসে কঠিন পরিশ্রম করে এই কাজের গতিকে গড়ে প্রতিদিন ১৮ কিলোমিটার-এ পৌঁছে দিয়েছেন।

কিভাবে কাজ হয়? কেউ কেউ তো এটাই বুঝতে পারেন না যে এটাকে আদৌ কাজ বলা উচিত কি না! আপনারাই বলুন, গত বছরের ১৫ আগস্ট থেকে এ বছরের ২৬ জানুয়ারির মধ্যে ১০ কোটি মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। যে দরিদ্র মানুষটির কোনওদিন ব্যাঙ্কের দরজায় দাঁড়ানোর সৌভাগ্য হয়নি তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়াকে কি আপনারা কাজ বলবেন না? ভারতে এক বছরের মধ্যে সবকটি মেয়েদের স্কুলে, চার লক্ষেরও বেশি স্কুলে শৌচাগার নির্মাণ করাকে কি কাজ বলবেন না আপনারা? কিন্তু আপনারা যা বুঝতে পারছেন তা অনেক বুদ্ধিমান-ও বুঝতে পারছেন না। আমি কিন্তু এমন হাজারটা কাজের তালিকা আপনাদের হাতে তুলে দিতে পারি …… আপনাদের সকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

PG/SB/SB/S