Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

জাতির উদ্দেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘ মন কি বাত ’ ( ৪১ – তম পর্ব ) অনুষ্ঠানের বাংলা অনুবাদ


আমার প্রিয় দেশবাসী, নমস্কার !  আজ ‘মন কি বাত’-এর শুরুতেইএক ফোন কলের উল্লেখ করব —  

(ফোন)  

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়, আমি কোমল ত্রিপাঠীমীরাট থেকে বলছি। ২৮ তারিখ ‘ন্যাশনাল সায়েন্স ডে’। ভারতের প্রগতি আর তার উন্নয়নপুরোপুরি বিজ্ঞানের সঙ্গে জড়িত। আমরা এক্ষেত্রে যত গবেষণা আর উদ্ভাবনকরব ততই আমরা এগিয়ে যাব আর উন্নতি করব। আপনি কি আমাদের তরুণদের উৎসাহিত করতে এমনকিছু কথা বলতে পারেন, যাতে তারা বৈজ্ঞানিক উপায়ে নিজেদের ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে যায়,আর আমাদের দেশকেও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে? ধন্যবাদ!  

আপনার ফোন কলের জন্য অনেকঅনেক ধন্যবাদ। বিজ্ঞান নিয়ে অনেক প্রশ্ন আমার তরুণ সাথীরা আমাকে জিজ্ঞাসা করেছে,কিছু কিছু লিখেও পাঠাচ্ছে। আমরা দেখেছি যে সমুদ্রের রঙ নীল দেখায়, কিন্তু আমরানিজেদের রোজকার অভিজ্ঞতা থেকে জানি যে জলের কোনও রঙ হয় না। আমরা কি কখনও ভেবেছি যেনদী হোক, সমুদ্র হোক, জল রঙিন হয়ে যায় কেন? এই প্রশ্নই 
১৯২০-র দশকে এক যুবকের মনে এসেছিল। এই প্রশ্নই আধুনিক ভারতে এক মহান বৈজ্ঞানিকেরজন্ম দিয়েছিল। যখন আমরা বিজ্ঞানের কথা বলি, তখন সবার আগে ভারতরত্ন স্যার সি. ভি.রমনের নাম সামনে আসে। ‘লাইট স্ক্যাটারিং’ বা বিকিরণের বিক্ষেপের উপর উৎকৃষ্ট কাজকরার জন্য তাঁকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। ওঁর এই আবিষ্কার ‘রমন এফেক্ট’ নামেবিখ্যাত। আমরা প্রতি বছর ২৮শে ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় বিজ্ঞান দিবস’ হিসাবে পালন করি,কারণ বলা হয়, এই দিনে উনি ‘লাইট স্ক্যাটারিং’-এর আবিষ্কার করেছিলেন। যার জন্যতাঁকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। এই দেশ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অনেক মহানবৈজ্ঞানিকের জন্ম দিয়েছে। যেখানে এক দিকে মহান গণিতজ্ঞ বৌধায়ন, ভাস্কর,ব্রহ্মগুপ্ত আর আর্যভট্টের পরম্পরা রয়েছে সেখানে অন্যদিকে চিকিৎসার ক্ষেত্রে চরকআর সুশ্রুত আমাদের গৌরব। স্যার জগদীশ চন্দ্র বোস আর হরগোবিন্দ খুরানা থেকে শুরুকরে সত্যেন্দ্র নাথ বোসের মত বিজ্ঞানীরা ভারতের গৌরব। সত্যেন্দ্র নাথ বোসের নামেতো বিখ্যাত কণা, বোসনের নামকরণও করা হয়েছে। সম্প্রতি মুম্বাইয়ের এক অনুষ্ঠানেঅংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলাম আমি — ‘ওয়াধওয়ানি ইনস্টিটিউট ফর আর্টিফিশিয়্যালইন্টেলিজেন্স’ উদ্বোধনের অনুষ্ঠান। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে যে অত্যাশ্চর্য কাজ হচ্ছেতা জানা বেশ আকর্ষণীয়। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সাহায্যে রোবোট, বট আরনির্ধারিত কাজ করার উপযোগী মেশিন বানানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা পাওয়া যায়। আজকাল সেল্‌ফলার্নিং-এর মাধ্যমে বিভিন্ন মেশিন নিজের ইন্টেলিজেন্সকে আরও স্মার্ট করে তুলছে। এইটেকনোলজি গরীব, বঞ্চিত এবং অসহায় মানুষদের জীবনকে উন্নততর করার কাজে আসতে পারে।আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের এই অনুষ্ঠানে আমি বিজ্ঞানীদের কাছে জানতে চাইলাম যেদিব্যাঙ্গ ভাই আর বোনেদের জীবন সুগম করতে কোন্‌ ধরনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সেরসাহায্য পাওয়া যেতে পারে? আমরা কি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে প্রাকৃতিকবিপর্যয় সম্পর্কে আরও ভালো পূর্বাভাস পেতে পারি? কৃষকের ফসল ফলানোর ব্যাপারে কোনোসাহায্য করতে পারি? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি স্বাস্থ্য পরিষেবার নাগালপাওয়াকে সহজ করতে পারে? অসুখবিসুখের আধুনিক চিকিৎসায় সাহায্য করতে পারে?  

কিছুদিন আগে ইজরায়েলেরপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গুজরাতের আমেদাবাদে ‘আই ক্রিয়েট’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে যাওয়ারসুযোগ হয়েছিল আমার। সেখানে এক নব্য যুবক বলল যে সে এমন এক ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেণ্টবানিয়েছে যেখানে, যে কেউ যদি কথা বলতে না পারে তবে সেই ইনস্ট্রুমেণ্টের মাধ্যমেনিজের কথা লিখে দিলে সেটা ভয়েসে পরিবর্তিত হয়ে যায় আর আপনি এমনভাবে কথাবার্তাচালাতে পারেন, যেমনটা আপনি একজন কথা বলতে সক্ষম ব্যক্তির সঙ্গে করেন। আমার মনে হয়আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের প্রয়োগ আমরা এমনই নানা বিষয়ে করতে পারি।  

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভ্যালুনিউট্রাল। এর মধ্যে আপনা-আপনি মূল্য যুক্ত হয়ে নেই। যে কোনও মেশিন সেই কাজই করবেযা আমরা চাইব। কিন্তু এটা আমাদের উপর নির্ভর করে যে আমরা মেশিন থেকে কেমন কাজ চাই।এখানে মানবিক লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। শুধুমাত্র মানুষের কল্যাণের জন্যবিজ্ঞানের ব্যবহার, মানব জীবনের সর্বোচ্চ শিখর ছোঁয়ার জন্য এর প্রয়োগ করতে হবে।  

লাইট বালবের আবিষ্কর্তা টমাসআলভা এডিসন নিজের কাজে অনেকবার অসফল হন। এক বার এ ব্যাপারে তাঁকে প্রশ্ন করা হলেউত্তরে তিনি বলেন – “আমি লাইট বালব না তৈরির দশ হাজার উপায় অনুসন্ধান করেছি”,অর্থাৎ এডিসন নিজের অসফলতাকেও নিজের শক্তি বানিয়ে নেন। ঘটনাক্রমে এ এক সৌভাগ্যেরব্যাপার যে আজ আমি মহর্ষি অরবিন্দের কর্মভূমি ‘অরোভিল’-এ রয়েছি। এক বিপ্লবী হিসাবেতিনি ব্রিটিশ প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করেন, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেন, তাদের শাসনকেপ্রশ্নের মুখে দাঁড় করান। এইভাবে তিনি এক মহান ঋষির মত জীবনের প্রতিটি ব্যাপারেপ্রশ্ন তোলেন, উত্তর খুঁজে বের করেন আর মানবতাকে পথ দেখান। সত্যকে জানতে বার বারপ্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার আগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ। বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের পেছনে আসল প্রেরণাতো এটাই। ততক্ষণ শান্তিতে বসা যাবে না যতক্ষণ — কেন, কী আর কীভাবে-জাতীয় প্রশ্নেরউত্তর না পাওয়া যায়। ‘ন্যাশনাল সায়েন্স ডে’ উপলক্ষে আমাদের বৈজ্ঞানিকরা এবং বিজ্ঞানেরসঙ্গে জুড়ে থাকা সব মানুষকে অভিনন্দন জানাচ্ছি আমি।   আমাদের তরুণ প্রজন্ম, সত্যআর জ্ঞানের অনুসন্ধানের জন্য অনুপ্রাণিত হোক, বিজ্ঞানের সাহায্যে সমাজের সেবা করারজন্য অনুপ্রাণিত হোক, এর জন্য আমার অনেক অনেক শুভেচ্ছা!  

বন্ধুরা, সঙ্কটের সময়‘সেফটি’, ‘ Disaster ’ এই সব ব্যাপারে অনেকবারঅনেক বার্তা পাই আমি। মানুষজন আমাকে কিছু-না-কিছু লিখে পাঠান। পুনে থেকে শ্রীমানরবীন্দ্র সিংহ 
‘নরেন্দ্রমোদী মোবাইল অ্যাপ’-এ অকুপেশন্যাল সেফটি নিয়ে নিজের মন্তব্য পাঠিয়েছেন।উনি লিখেছেন যে আমাদের দেশে কলকারখানা আর নির্মাণ কাজের জায়গায় সেফটিস্ট্যান্ডার্ড তেমন ভালো নয়। আগামী চৌঠা মার্চ ভারতের ‘ন্যাশনাল সেফটি ডে’, তাইপ্রধানমন্ত্রী নিজের ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে সেফটি নিয়ে কথা বলুন, যাতে মানুষেরমধ্যে ‘সেফটি’ নিয়ে চেতনা বাড়ে।  

যখন   আমরা   PublicSafety – র   বিষয়ে   কথা   বলি ,  তখন   দুটি   বিষয়   অত্যন্ত   গুরুত্বপূর্ণ   হয়  —  প্রথমটি   pro-activeness  এবং   দ্বিতীয়টি   preparedness ।   সুরক্ষা   দুই   প্রকারের   হয়।   এক  — 
 যা   কোনও   আকস্মিক   দুর্যোগের   সময়   প্রয়োজন   হয় ,  SafetyDuring Disaster   এবং   দুই  — 
 যা   আমাদের   দৈনন্দিন   জীবনে   আবশ্যক —  Safety in EverydayLife ।   যদি   আমরা   দৈনিক   জীবনে   সুরক্ষা   বিষয়ে   সচেতন   না   হই ,  যদি   সুরক্ষাকে   আয়ত্ত   করতে   না   পারি ,  তবে   কোনও   বড়   বিপদ   বা   দুর্বিপাকের   সময়   সুরক্ষাব্যবস্থা   সুনিশ্চিত   করা   আরও   মুশকিল।   রাস্তাঘাটে   যাতায়াতের   সময়   বহু   নোটিশ   বোর্ড   আমাদের   চোখে   পড়ে ,  যাতে   লেখা   থাকে —  

·   সতর্কতা   সরলো  —  দুর্ঘটনা   ঘটলো। ।  

·   এক   ভুলেই   হয়   লোকসান  

হারায়   খুশি ,  হারায়   প্রাণ। ।  

·   দুনিয়া   ছাড়ার   তাড়া   ছাড়ো  

সুরক্ষার   সাথে   সম্পর্ক   গড়ো। ।  

·   সুরক্ষা   নিয়ে   ছেলেখেলা   ঠিক   নয়  

জীবনের   মূল্য   বোঝা   হবে   দায়। ।  

এই   সতর্কবার্তাগুলিকে   আমরা   অধিকাংশ   ক্ষেত্রেই   গুরুত্ব   দিই   না।   প্রাকৃতিক   দুর্যোগকে   বাদ   দিলে   দেখা   যাবে   অধিকাংশ   দুর্ঘটনাই   কিন্তু   আমাদের   ভুল – ত্রুটির   পরিণাম।   যদি   আমরা   সতর্ক   থাকি ,  আবশ্যক   নিয়মাবলী   মেনে   চলি ,  তাহলে   আমরা   নিজেদের   জীবন   তো   বাঁচাতে   পারবই ,  পাশাপাশি   বড়   কোনও   দুর্ঘটনার   থেকে   সমাজকেও   রক্ষা   করতে   পারব।   কখনও   কখনও   লক্ষ্য   করেছি ,  কর্মক্ষেত্রে   সুরক্ষা   নিয়ে   নানান   নির্দেশিকা   দেওয়া   রয়েছে ,  কিন্তু   সেই   নিয়ম   একেবারেই   পালন   করা   হয়   না।   আমার   অনুরোধ ,  যে   সমস্ত   মহানগরপালিকা ,  নগরপালিকাগুলির   কাছে   ফায়ার   ব্রিগেড   আছে ,  তারা   সপ্তাহে   একবার   না   হলেও   মাসে   অন্তত   একবার   বিভিন্ন   স্কুলে   গিয়ে   ছাত্র – ছাত্রীদের   সামনে   মক   ড্রিল   করুক।   এতে   দুটি   উপকার   হবে  —  দমকলের   সতর্ক   থাকার   অভ্যাস   হবে   এবং   নতুন   প্রজন্মের   ছেলেমেয়েরাও   অনেক   কিছু   শিখতে   পারবে।   এই   পুরো   প্রক্রিয়াতে   বাড়তি   কোনও   খরচের   ব্যাপার   নেই ,  বরং   একপ্রকার   শিক্ষাপদ্ধতির   প্রচলন   হতে   পারে   এবং   এই   প্রথা   প্রবর্তনের   বিষয়ে   আমি   সব   সময়ে   সচেষ্ট ।  

  দুর্যোগ   বা   Disaster – এর   প্রসঙ্গে   বলা   প্রয়োজন   যে ,  ভারতবর্ষ   ভৌগোলিক   এবং   পরিবেশগত   দিক   থেকে   বৈচিত্র্যপূর্ণ।   এই   দেশ   বহু   আপদ – বিপদের   সম্মুখীন   হয়েছে  —  তা   প্রাকৃতিক   দুর্যোগই   হোক   বা   মনুষ্য – সৃষ্ট।   যেমন ,  রাসায়নিক   ও   কল – কারখানার   দুর্ঘটনা।   আজ   NationalDisaster Management Authority   অর্থাৎ   NDMA   সারা   দেশে   দুর্যোগ   মোকাবিলার   বিষয়ে   নেতৃত্ব   দেয়।   ভূমিকম্প   হোক ,  বন্যা   হোক ,  সাইক্লোন   কিংবা   ধ্বস  —  যে   কোনও   রকমের   দুর্যোগের   সময়   RescueOperation – এর   জন্য   NDMA   তৎক্ষণাৎ   অকুস্থলে   হাজির   হয়।   তারা   guidelines   জারি   করে ,  পাশাপাশি   CapacityBuilding – এর   জন্য   নিয়মিত   training – এর   ব্যবস্থাও   করে।   সাইক্লোন   কিংবা   বণ্যা – প্রবণ   জেলাগুলিতে   স্বেচ্ছাসেবকদের   প্রশিক্ষণ   দেওয়ার   জন্য  ‘ আপদা – মিত্র ’  নামক   একটি   প্রকল্প   চালু   করা   হয়েছে।   প্রশিক্ষণ   ও   সচেতনতা   অত্যন্ত   জরুরি।   দু – তিন   বছর   আগে   পর্যন্ত   লু   অথবা  
 হিট   ওয়েভ – এ   প্রতি   বছর   হাজারো   মানুষ   প্রাণ   হারাতো।   এরপর   থেকে   NDMA,Heat Wave   মোকাবিলা   সম্পর্কিত   workshop – এর   আয়োজন   করে ,  জনসচেতনতা   বাড়াতে   অভিযান   চালায়।   আবহাওয়া   দপ্তর   সঠিক   পূর্বাভাস   দেয়।   সবার   সম্মিলিত   উদ্যোগে   ভাল   পরিণাম   আমরা   পাই।  
 ২০১৭ – তে   তাপ   প্রবাহের   কারণে   মৃত্যুর   সংখ্যা   অপ্রত্যাশিত   ভাবে   কমে   দাঁড়ায়   প্রায়   ২২০ – তে।   এর   থেকে   বোঝা   যায় ,  যদি   আমরা   সুরক্ষাকে   গুরুত্ব   দিই ,  তবেই   আমরা   সুরক্ষিত   থাকতে   পারব ।  

  সমাজে   এই   ধরনের   কাজে   নিযুক্ত   বহু   মানুষ   আছেন ,  সংগঠন   আছে ,  সচেতন   নাগরিক   আছেন।   আমি   তাঁদের   সকলকে   সম্মান   জানাতে   চাই ,  যাঁরা   কোনও   দুর্ঘটনা   ঘটলে   মুহূর্তের   মধ্যে   ঘটনাস্থলে   উপস্থিত   হন   উদ্ধারকাজে   হাত   লাগাতে   ও   পীড়িতদের   সাহায্য   করতে।   এই   রকম   নাম – না – জানা  ‘ হিরো ’ দের   সংখ্যা   নেহাৎ   কম   নয়।   এছাড়াও   বিপদে – আপদে   সব   সময়   হাজির   থাকেন   Fireand Rescue Services ,  NationalDisaster Response Forces, Para-Military Force   ও   সশস্ত্র   বাহিনীর   বীর   জওয়ানরা ,  যাঁরা   নিজেদের   প্রাণের   ঝুঁকি   নিয়ে   অন্যদের   সঙ্কট   থেকে   উদ্ধার   করেন।   NCC ,  Scout – এর   মত   সংগঠনগুলিও   আজকাল   এই   ধরনের   কাজের   প্রশিক্ষণ   নিচ্ছে ,  সরাসরি   অংশ   গ্রহণও   করছে।   পৃথিবীর   বিভিন্ন   দেশ   মিলে   যেমন   JointMilitary Exercise   করে ,  তেমনই   DisasterManagement – এর   জন্যও   JointExercise   করা   হবে   না   কেন !  আমরা   এই   বিষয়ে   উদ্যোগী   হয়ে   এমনই   এক   JointDisaster Management Exercise – এর   প্রবর্তন   করি।   কিছুদিন   আগে   ভারতের   নেতৃত্বে   ঘটে   যাওয়া   এই   exercise – এ   অংশগ্রহণ   করে   ভারত   তথা   অন্যান্য   BIMSTEC   দেশগুলি ,  অর্থাৎ ,  বাংলাদেশ ,  মায়ানমার ,  শ্রীলঙ্কা ,  থাইল্যাণ্ড ,  ভুটান   ও   নেপাল।   এই   উদ্যোগ   প্রথম   এবং   বড়   মাপের   মানবিক   প্রচেষ্টা।   আমাদের   এক   RiskConscious Society   হয়ে   উঠতে   হবে।   আমাদের   সংস্কৃতিতে   Safetyof Values,   অর্থাৎ ,  মূল্যবোধের   সুরক্ষা   নিয়ে   অনেক   আলোচনা   হয় ,  কিন্তু   আমাদের   Valuesof Safety   অর্থাৎ   সুরক্ষার   মূল্য   বোঝাও   ততখানি   গুরুত্বপূর্ণ।   আমাদের   এই   বিষয়টিকে   দৈনন্দিন   জীবনের   অন্তর্ভুক্ত   করা   প্রয়োজন ।  

  আমরা   দেখেছি ,  আমরা   যতবার   বিমানযাত্রা   করি ,  বিমানের   ভেতর   এয়ার   হোস্টেস   প্রথমেই   সুরক্ষা   সম্পর্কিত   কতগুলি   নির্দেশ   দেন।   আমরা   সবাই   সেগুলি   বহুবার   শুনেছি।   কিন্তু   আজ   যদি   কেউ   আমাদের   বিমানে   নিয়ে   গিয়ে   প্রশ্ন   করে ,  কোন   জিনিসটা   কোথায় ,  লাইভ   জ্যাকেট   কোথায়   রাখা   আছে ,  কীভাবে   তা   ব্যবহার   করতে   হয়   ইত্যাদি   আমি   নিশ্চিত ,  কেউ   এর   উত্তর   দিতে   পারবে   না।   তাহলে   মানে   দাঁড়াল   এই   যে  —  যথাযথভাবে   জানানোর   ব্যবস্থা   কি   ছিল ?  ছিল।   সরাসরি   সেই   দিকে   মন   দিয়ে   দেখার   সম্ভাবনা   ছিল ?  ছিল।   কিন্তু   আমরা   তা   করি   না।   কেন ?  কেননা ,  আমাদের   স্বভাবে   সচেতনতা   নেই।   আর   সেই   জন্যই   এরোপ্লেনে   বসে   আমরা   সমস্ত   ঘোষণা   শুনি   বটে ,  কিন্তু   এই   ঘোষণা   যে   আমার   জন্যও   প্রযোজ্য ,  সেটা   আমাদের   মনেই   হয়   না।   ঠিক   একই   রকম   অভিজ্ঞতা   আমাদের   জীবনের   সর্বক্ষেত্রেই   হয়ে   থাকে।   আমাদের   এটা   মনে   করা   উচিত   নয়  ‘ Safety ’  বা  ‘ নিরাপত্তা ’ র   বিষয়টা   অন্যদের   জন্য।   আমরা   প্রত্যেকে   যদি   নিজেদের   নিরাপত্তা   নিয়ে   সচেতন   হয়ে   যাই ,  তবে   সমাজের   নিরাপত্তাও   তার   মধ্যে   অন্তর্ভুক্ত   হয়ে   যায় ।  

  আমার   প্রিয়   দেশবাসী ,  এই   বারের   বাজেটে  ‘ স্বচ্ছ   ভারত ’  তৈরির   লক্ষ্যে   গ্রামে   গ্রামে   বায়োগ্যাসের   মাধ্যমে   WasteTo Wealth   এবং   Wasteto Energy   উৎপাদনের   ওপর   জোর   দেওয়া   হয়েছে।   এর   জন্য   প্রচেষ্টা   শুরু   হয়ে   গেছে   ও   এর   নাম   দেওয়া   হয়েছে  ‘ GOBAR   Dhan ’  অর্থাৎ ,   Galvanising OrganicBio-Agro Resources । এই   GOBAR   Dhan  যোজনার   উদ্দেশ্য   হল  — গ্রামগুলোকে   পরিষ্কার – পরিচ্ছন্ন   করে   তোলা   এবং   পশু – প্রাণিদের   গোবর   এবং   চাষবাসের   পর   ক্ষেতে   পড়ে   থাকা   অবশিষ্ট   বর্জ্যকে   compost   এবং   Bio-gas – এ   পরিবর্তিত   করে   তার   থেকে   আয়   ও   শক্তি   উৎপাদন   করা।   গবাদি   পশুর   সংখ্যা   সারা   বিশ্বের   নিরিখে   ভারতে   সবচেয়ে   বেশি।   ভারতে   গবাদি পশুর   সংখ্যা   হল   প্রায়   ৩০   কোটি   আর   গোবর   গ্যাসের   উৎপাদনমাত্রা   দিনপ্রতি   প্রায়   ৩০   লক্ষ   টন।   কোনও   কোনও   ইউরোপীয়   দেশে   এবং   চিনে   পশুপ্রাণীর   গোবর   এবং   অন্যান্য   জৈবিক   অবশেষের   ব্যবহার   শক্তি   উৎপাদনের   জন্য   করা   হয়।   কিন্তু   ভারতে   এখনও   এর   পুরোপুরি   সদ্ব্যবহার   করা   হচ্ছিল   না।  
 স্বচ্ছ   ভারতের  ‘ মিশন   গ্রামীণ ’  প্রকল্পে   একে   অন্তর্ভুক্ত   করে   আমরা   এই   দিকে   ক্রমশঃ   অগ্রসর   হচ্ছি ।  

  গবাদি   পশুর   গোবর ,  কৃষিকাজের   পর   অবশিষ্ট   বর্জ্য ,  রান্নাঘরের   বর্জ্য  —  এই   সমস্তগুলিকেই   বায়ো – গ্যাস   নির্ভর   শক্তি   উৎপাদনের   কাজে   লাগাবার   লক্ষ্য   নির্ধারণ   করা   হয়েছে।  ‘ গোবর – ধন ’  যোজনার   মাধ্যমে   গ্রামীণ   ভারতের   কৃষকদের ,  গ্রামীণ   ভাই – বোনদের   উৎসাহ   দেওয়া   হবে ,  যাতে   তারা   গোবর   এবং   বর্জ্যপদার্থকে   কেবলমাত্র   waste   হিসেবে   না   দেখে   আয়ের   উৎস   হিসাবে   দেখে।  ‘ গোবর   ধন ’  যোজনার   মাধ্যমে   গ্রামীণ   এলাকাগুলি   অনেকভাবে   উপকৃত   হবে।   গ্রামগুলিকে   পরিচ্ছন্ন   রাখা   সহজ   হবে।   এতে   পশুগুলি   রোগমুক্ত   থাকবে   ও   উৎপাদনশীলতা   বৃদ্ধি   পাবে।   বায়োগ্যাসকে   রান্নার   কাজে   এবং   বিদ্যুৎ   শক্তি   উৎপাদনের   কাজে   ব্যবহার   করলে   স্বনির্ভরতাও   বাড়বে।   এই   ব্যবস্থা   কৃষকদের   এবং   পশুপালনকারীদের   আয়   বৃদ্ধির   সহায়ক   হবে।   Wastecollection ,  transportation ,  বায়ো – গ্যাস   বিক্রি   ইত্যাদি   ক্ষেত্রগুলিতে   নতুন   নতুন   কর্মসংস্থানের   সুযোগ   বাড়বে।  ‘ গোবর   ধন ’  প্রকল্পটি   যথাযথ   ভাবে   কার্যকরী   করার   জন্য   একটি  ‘ Online trading platform ’  তৈরি   করা   হবে ,  যা   কৃষকদের   ক্রেতার   সঙ্গে   যোগাযোগ   করিয়ে   দেবে ,  যাতে   কৃষকরা   গোবর   এবং   agriculturewaste   অর্থাৎ   কৃষিজ   বর্জ্যের   সঠিক   মূল্য   পান।   আমি   এই   বিষয়ে   উৎসাহীদের ,  বিশেষ   করে   গ্রামে   বসবাসকারী   বোনেদের   অনুরোধ   করব ,  যেন   তাঁরা   এগিয়ে   আসেন   এবং   SelfHelp Group   তৈরি   করে ,  সহকারী   সমিতি   সংগঠিত   করে   এই   সুযোগের   পূর্ণ   ব্যবহার   করেন।   আমি   আপনাদের   আমন্ত্রণ   জানাচ্ছি ,  আসুন ,  আপনারাও   CleanEnergy and Green Jobs – এর   আন্দোলনের   সঙ্গে   যুক্ত   হোন।   নিজেদের   গ্রামের   waste – কে   wealth – এ   পরিবর্তিত   করার   এবং   গোবর   থেকে   গোবর   ধন   তৈরির   এই   প্রচেষ্টায়   উদ্যোগী   হোন ।  

  আমার   প্রিয়   দেশবাসী ,  আজ   পর্যন্ত   আমরা   MusicFestival ,  FoodFestival ,  FilmFestival   ইত্যাদি   কতরকম   Festival – এর   কথাই   না   শুনে   এসেছি !  কিন্তু ,  ছত্তিশগড়ের   রায়পুরে   এক   অনুপম   প্রচেষ্টার   কথা   জানা   গেল ,  আর   তা   হল ,  এই   রাজ্যে   আয়োজিত   প্রথম  ‘ বর্জ্য   মহোৎসব ’ ।   রায়পুর   নগরনিগম   দ্বারা   আয়োজিত   এই   মহোৎসবের   উদ্দেশ্য   ছিল   স্বচ্ছতা   নিয়ে   সচেতনতা   বৃদ্ধি   করা ,  শহরের   বর্জ্য   পদার্থের  ‘ creativeuse ’  করা   ও   garbage – এর   re-use  করার   বিভিন্ন   পদ্ধতিগুলির   সম্পর্কে   সচেতনতা   তৈরি   করা।   এই   মহোৎসবে   নানা   ধরনের   activity   রাখা   হয়েছিল ,  যাতে   ছাত্র – ছাত্রী   থেকে   শুরু   করে   বয়স্ক  —  প্রত্যেকেই   যোগদান   করেছিলেন।   এখানে   বর্জ্যপদার্থের   ব্যবহার   করে   নানা   ধরনের   কলাকৃতির   রূপ   দেওয়া   হয়েছে ,  wastemanagement – এর   প্রত্যেকটি   দিক   সম্পর্কে   লোকেদের   প্রশিক্ষণ   দিতে   workshop – এর   ব্যবস্থা   করা   হয়েছে ,  স্বচ্ছতার   theme – এর   musicperformance   রাখা   হয়েছে   এবং  artwork   তৈরি   করা   হয়েছে।   রায়পুরের   থেকে   প্রেরণা   নিয়ে   অন্যান্য   জেলাগুলিতেও   আলাদা   আলদা   ভাবে   বর্জ্য   উৎসবের   আয়োজন   করা   হয়।   প্রত্যেকেই   নিজের   নিজের   মত   করে   চেষ্টা   করেছে।   স্বচ্ছতা   নিয়ে   innovativeideas share   করা   হয়েছে।   আলোচনা   সভার   আয়োজন   করা   হয়েছে ,  কবিতা   পাঠ   হয়েছে।   স্বচ্ছতা   নিয়ে   এক   উৎসবের   বাতাবরণ   তৈরি   হয়েছে।   বিশেষ   করে   স্কুলের   ছাত্র – ছাত্রীরা   যেরকম   অত্যুৎসাহের   সঙ্গে   এতে   অংশ   নিয়েছেন ,  তা   সত্যিই   প্রশংসনীয়।   বর্জ্য   ব্যবস্থাপনা   এবং   স্বচ্ছতার   গুরুত্ব   অভিনব   পদ্ধতিতে   এই   মহোৎসবে   প্রদর্শিত   করার   জন্য ,  রায়পুর   নগরনিগম ,  সমগ্র   ছত্তিশগড়ের   জনসাধারণ   এবং   ওখানকার   সরকার   ও   প্রশাসনকে   আমি   অনেক   শুভেচ্ছা   জানাই !  

প্রতি   বছর   ৮ – ই   মার্চ  ‘ আন্তর্জাতিক   নারী   দিবস ‘  পালিত   হয়।   দেশ   ও   বিশ্বে   নানা   রকমের   অনুষ্ঠান   হয় ।   ঐ   দিনে   দেশে  ‘ নারীশক্তি   পুরষ্কার ’  প্রদানের   মাধ্যমে   সেই   সকল   মহিলাদের   সম্মানিত   করা   হয় ,  যাঁরা   বিগত   কিছু   দিনের   মধ্যে   বিভিন্ন   ক্ষেত্রে   অনুকরণীয়   কাজ   করেছেন ।   আজ   দেশ   নারী   উন্নয়নকে   ছাড়িয়ে   নারী   নেতৃত্বাধীন   উন্নয়নের   দিকে   এগোচ্ছে ।   আজ   আমরা   নারী   উন্নয়নকে   অতিক্রম   করে   নারী   নেতৃত্বাধীন   উন্নয়নের   কথা   বলছি ।   আজ   এই   মুহূর্তে   আমার   স্বামী   বিবেকানন্দর   এক   বাণী   মনে   আসছে ।   উনি   বলেছিলেন , ” The Idea of perfect Womanhood is perfectIndependence ” ।   একশো   পঁচিশ   বছর   আগে   স্বামীজীর   এই   চিন্তাধারা   ভারতীয়   সংস্কৃতিতে   নারীশক্তির   ভাবনাকেই   ব্যক্ত   করে ।   আজ   সামাজিক ,  অর্থনৈতিক   জীবনের   প্রতিটি   ক্ষেত্রে   নারীর   সমান   অংশীদারীত্ব   নিশ্চিত   করা   আমাদের   সকলের   কর্তব্য ,  আমাদের   সকলের   দায়িত্ব ।   আমরা   সেই   ঐতিহ্যের   অংশীদার ,  যেখানে   নারীদের   মাধ্যেমে   পুরুষেরা   পরিচিত   হয় ।   যশোদা – নন্দন ,  কৌশল্যা – নন্দন ,  গান্ধারী – পুত্র  —  পুত্রের   পরিচয়   হত   এই   প্রকারে ।   আজ   আমাদের   নারীশক্তি   তাঁদের   কর্মের   মাধ্যমে   আত্মবল   এবং   আত্মবিশ্বাসের   পরিচয়   দিয়েছেন ।   স্বনির্ভর   হয়েছেন ।   ওঁরা   তো   নিজেদের   এগিয়েছেনই ,  সাথে   দেশ   ও   সমাজকেও   এগিয়ে   নিয়ে   গেছেন   ও   এক   নতুন   উচ্চতায়   নিয়ে   যাওয়ার   কাজ   করেছেন ।   অবশেষে   আমাদের   নতুন   ভারতের   স্বপ্নতো   এইটাই ,  যেখানে   নারীরা   ক্ষমতাবান ,  সবল   ও   দেশের   সার্বিক   উন্নয়নে   সমানরূপে   অংশীদার ।   কিছুদিন   আগে ,  এক   ব্যক্তি   আমায়   দারুণ   একটি   পরামর্শ   দিয়েছিলেন ।   উনি   পরামর্শ   দিয়েছিলেন   যে   ৮ – ই   মার্চ , ‘ নারী   দিবস ‘  পালনের   উদ্দেশে   বিভিন্ন   ধরনের   অনুষ্ঠান   হয় ।   কিন্তু   প্রতিটি   গ্রামে – শহরে   যে   সকল   মা – বোনেরা   ১০০   বছর   পূর্ণ   করেছেন   তাঁদের   সম্মান   জানানোর   উদ্দেশ্যে   কি   অনুষ্ঠান   আয়োজন   করা   যেতে   পারে ?  আর   সেখানে   একটি   দীর্ঘ   জীবনের   অভিজ্ঞতার   কথা   কি   বলা   যেতে   পারে ?  আমার   ধারণাটি   ভালো   লেগেছে ।   আপনাদের   কাছে   পৌঁছে   দিলাম ।   নারীশক্তি   কি   করতে   পারে ,  আপনারা   তার   অনেক   উদাহরণ   পাবেন।   আপনি   যদি   আশেপাশে   খোঁজেন ,  তবে   এমন   কোন – না – কোনো   কাহিনি   আপনার   জীবনকে   অনুপ্রাণিত   করবে ।   একটু   আগেই   আমি   ঝাড়খন্ড   থেকে   একটি   সংবাদ   পেলাম ।  ‘ স্বচ্ছ   ভারত   অভিযান ‘ – এ   অন্তর্গত   ঝাড়খণ্ডের   প্রায়   ১৫   লক্ষ   মহিলা ! —  এই   সংখ্যাটি   ছোট   নয়   —  ১৫   লক্ষ   মহিলা   সংগঠিত   হয়ে   এক   মাস   যাবৎ   স্বচ্ছতা   অভিযান   চালিয়েছেন ।   ২৬শে   জানুয়ারি ,  ২০১৮   থেকে   আরম্ভ   হওয়া   এই   অভিযানটিতে ,  মাত্র   ২০   দিনের   মধ্যে ,  এই   মহিলারা   ১   লক্ষ   ৭০   হাজার   শৌচালয়   নির্মাণ   করে   একটি   নতুন   উদাহরণ   স্থাপন   করেছেন ।   এতে   প্রায়   ১   লক্ষ  ‘ সখী   মণ্ডল ’  যুক্ত   রয়েছে ।   ১৪   লক্ষ   মহিলা ,  ২   হাজার   মহিলা   পঞ্চায়েত   প্রতিনিধি ,  ২৯   হাজার   জল – সহিয়া   অর্থাৎ   জল – মিত্র ,  ১০   হাজার   মহিলা   স্বচ্ছাগ্রহী   এবং   ৫০   হাজার   মহিলা   রাজমিস্ত্রি ।   আপনি   কল্পনা   করতে   পারেন ,  এটি   কত   বড়   ঘটনা !  ঝাড়খন্ডের   এই   মহিলারা   দেখিয়েছেন   যে   নারীশক্তি ,  স্বচ্ছ   ভারত   অভিযানের   এমন   এক   শক্তি ,  যা   দৈনন্দিন   জীবনে   স্বচ্ছতার   অভিযানকে ,  স্বচ্ছতার   সংস্কারকে   জোরের   সঙ্গে   জনসাধারণের   স্বভাবে   পরিবর্তিত   করবে ।  

ভাই   ও   বোনেরা ,  মাত্র   দু   দিন   আগে   আমি   নিউজে   দেখছিলাম   যে   এলিফ্যান্টা   দ্বীপের   তিনটি   গ্রামে   স্বাধীনতার   সত্তর   বছর   পরে   বিদ্যুৎ   পৌঁছেছে   আর   এটা   নিয়ে   সেখানকার   মানুষের   মধ্যে   কতটা   আনন্দ   আর   উৎসাহ   দেখা   দিয়েছে।   আপনারা   ভালোই   জানেন   যে,   এলিফ্যান্টা   দ্বীপ   মুম্বাই   থেকে   দশ   কিলোমিটার   দূরে   সমুদ্রের   মধ্যে।   এটা   পর্যটনের   একটা   খুব   বড়   আর   আকর্ষণীয়   কেন্দ্র।   এলিফ্যান্টার   গুহা   ইউনেস্কোর   ‘ওয়ার্ল্ড   হেরিটেজ   সাইট’-এর   অন্তর্গত।   এখানে   প্রত্যেক   দিন   দেশ – বিদেশ   থেকে   প্রচুর   পর্যটক   আসেন।   এটা   এক   গুরুত্বপূর্ণ   ট্যুরিস্ট   ডেস্টিনেশন।   আমার   এটা   জেনে   অদ্ভূত   লেগেছে   যে   মুম্বাইয়ের   কাছে   অবস্থিত   আর   পর্যটনের   এত   বড়   কেন্দ্র   হওয়া   সত্ত্বেও   স্বাধীনতা   লাভের   এত   বছর   পরেও   এলিফ্যান্টায়   বিদ্যুৎ   পৌঁছয়   নি।   সত্তর   বছর   অবধি   এলিফ্যান্টা   দ্বীপের   তিনটি   গ্রাম —   রাজবন্দর ,  মোরবন্দর   আর   সেন্তবন্দর ,  ওখানকার   মানুষের   জীবনে   যে   অন্ধকার   ছেয়ে   ছিল ,  এই   সবে   সেই   অন্ধকার   দূর   হয়েছে   আর   তাদের   জীবনে   ঔজ্জ্বল্য   এসেছে।   আমি   ওখানকার   প্রশাসন   আর   জনতাকে   অভিনন্দন   জানাচ্ছি।   আমি   আনন্দিত   যে   এখন   এলিফ্যান্টার   গ্রাম   আর   এলিফ্যান্টার   গুহা   বিদ্যুতের   আলোয়   উদ্ভাসিত   হবে।   এটা   শুধু   বিদ্যুৎ   নয়   বরং   উন্নয়নের   অভিমুখে   এক   নতুন   শুভারম্ভ।   দেশবাসীর   জীবনে   ঔজ্জ্বল্য   আসুক, তাঁদের জীবনে আনন্দআসুক !  এর থেকে বেশি তৃপ্তিআর আনন্দর মুহূর্ত কী হতে পারে?  

 আমারপ্রিয় ভাই-বোনেরা, কয়েকদিন আগেই আমরা ‘শিবরাত্রি’ মহোৎসব পালন করেছি। সামনে মার্চমাস। সতেজ ফসলে ভরপুর ক্ষেত, সোনালী গমগাছের হাওয়ায় দোল এবং আমের মঞ্জরীর শোভা —এটাই তো এই মাসের বৈশিষ্ট্য। মার্চ মাসেই আমাদের সকলের অত্যন্ত প্রিয় উৎসব ‘হোলি’।আগামী ২-রা মার্চ, হোলি উৎসব। সারা দেশ এই উৎসব আনন্দের সঙ্গে পালন করবে। হোলিউৎসবে রঙের যতটা গুরুত্ব, ততটাই গুরুত্ব ‘হোলিকা দহন’-এর। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েথাকে, খারাপকে আগুনে জ্বালিয়ে নষ্ট করা হয় এই দিনটিতে। হোলির দিনে সব মনোমালিণ্যভুলে একসঙ্গে বসা, একে অন্যের সুখ, আনন্দ ভাগ করে নেওয়া — একটা সুন্দর মুহূর্ত এবংহোলি উৎসব — প্রেম, একতা ও সম্প্রীতির বার্তাবাহক। সমস্ত দেশবাসীকে রঙের উৎসবহোলির জন্য অনেক অনেক শুভকামনা! রঙে ভরা শুভকামনা রইল! এই উৎসবে সব প্রিয় দেশবাসীরজীবন 
রঙবেরঙের খুশিতে ভরে উঠুক — এই শুভকামনা রইল! আমার প্রিয় দেশবাসী, অনেক অনেক ধন্যবাদ !  নমস্কার ! 

  

PG / SB