Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

জাতির উদ্দেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মন কি বাত’ (৪৩-তম পর্ব) অনুষ্ঠানের বাংলা অনুবাদ


আমার প্রিয় দেশবাসী, নমস্কার!

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়াতে গত চৌঠা এপ্রিল থেকে ১৫-ই এপ্রিল অবধি কমনওয়েলথ গেমস্‌-এর আয়োজন হয়েছিল। ভারত সহ পৃথিবীর ৭১টি দেশ এতে অংশগ্রহণ করেছিল। যখন এতবড় আয়োজন হয়, গোটা বিশ্ব থেকে আসা হাজার হাজার খেলোয়াড় এতে অংশগ্রহণ করে, কল্পনা করুন, এতে কত উৎসাহব্যঞ্জক পরিবেশ তৈরি হতে পারে? আবেগ, উদ্দীপনা, উৎসাহ, আশা, আকাঙ্ক্ষা, কিছু করে দেখানোর সঙ্কল্প— যখন এরকম উৎসাহব্যঞ্জক পরিবেশ হয় সেখানে কে এর থেকে নিজেকে আলাদা রাখতে পারে? এটা এমন এক সময় ছিল যখন গোটা দেশ জুড়ে প্রত্যেকে ভাবত আজ কোন কোন খেলোয়াড় perform করবে। ভারতের ক্রীড়ানৈপুণ্য কেমন হবে, আমরা কত পদক জিতব, এরকমই সব স্বাভাবিক ভাবনাচিন্তা ছিল। আমাদের খেলোয়াড়রাও দেশবাসীর আশানুরূপ দুর্দান্ত ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শন করে এবং একের পর এক মেডেল জিততে থাকেন। সেটা শ্যুটিং হোক, কুস্তি হোক, ভারোত্তোলন হোক, টেবিল টেনিস হোক, কি ব্যাডমিণ্টন — সবকিছুতেই ভারত রেকর্ড সাফল্য পেয়েছে। ২৬-টি সোনা, ২০টি রূপো, ২০-টি ব্রোঞ্জ নিয়ে ভারত মোট ৬৬টা পদক জিতেছে। প্রত্যেক ভারতীয়কে এই সাফল্য গর্বিত করেছে। পদক জেতা প্রত্যেক খেলোয়াড়ের কাছে গর্ব আর আনন্দের বিষয়।এটা সমগ্র দেশ আর দেশবাসীর জন্যও অত্যন্ত গৌরবের উৎসব। খেলা শেষ হওয়ার পর যখন পদকের সঙ্গে ভারতের প্রতিনিধিত্বকারী অ্যাথলিট তেরঙ্গা পতাকা জড়িয়ে বিজয় মঞ্চে পদক নিয়ে দাঁড়ান, জাতীয় সঙ্গীত বাজতে থাকে, তখন যে অনুভূতি হয়, খুশির, গৌরবের, সম্মানের— এ এক অনবদ্য অভিজ্ঞতা — বিশেষ অভিজ্ঞতা। মন-প্রাণ একেবারে জুড়িয়ে যায়, আশা আর উৎসাহে ভরপুর হয়। আমরা সবাই একাত্ম বোধ করি। হয়তো এই বিশেষ অনুভবকে প্রকাশ করার জন্য আমার কাছে যথেষ্ট শব্দ নেই। কিন্তু আমি এই খেলোয়াড়দের কাছ থেকে যা শুনছি, আমি আপনাদের তা শোনাতে চাই। আমার তো গর্ব হচ্ছে, আপনাদেরও গর্ব হবে।

আমি মণিকা বাত্রা।

কমনওয়েলথ থেকে চারটি পদক এনেছি। দুটো সোনা, একটি রূপো, একটি ব্রোঞ্জ। আমি ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান যাঁরা শোনেন, তাদের বলতে চাই যে আমি খুবই খুশি। কারণ, ভারত এই প্রথমবার টেবিল টেনিস এত জনপ্রিয় হচ্ছে। হ্যাঁ, আমি সম্ভবতঃ আমার সেরা টেবিল টেনিস খেলেছি। এর আগে আমি যে ম্যাচ প্র্যাক্‌টিস করেছি, সেই বিষয়ে বলতে চাই যে আমি আমার প্রশিক্ষক সন্দীপ স্যার-এর সঙ্গে অনেক প্র্যাক্‌টিস করেছি। কমনওয়েলথ-এর আগে পর্তুগালে আমাদের শিবির হয়েছিল। সরকার আমাদের টুর্ণামেন্টে পাঠিয়েছিল, আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি কারণ তারা আমাদের এত International Exposure অর্থাৎ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। তরুণ প্রজন্মকে শুধু একটাই বার্তা দেব, কখনো হাল ছেড়ো না। নিজেকে উজাড় করে দাও।

আমি পি. গুরুরাজ ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান যাঁরা শোনেন, তাঁদের এটা বলতে চাই যে কমনওয়েলথ গেমস, ২০১৮-য় আমার পদক জেতার স্বপ্ন ছিল। আমি প্রথমবার কমনওয়েলথ গেমসে অংশ গ্রহণ করে ভারতকে পদক দিতে পারায় খুব খুশি। আমি এই পদক আমার গ্রাম কুন্দপুর এবং আমার রাজ্য কর্ণাটক, আর আমার দেশকে উৎসর্গ করেছি।

আমি মীরাবাঈ চানু—

২১-তম কমনওয়েলথ গেমস্‌-এ আমি ভারতের জন্য প্রথম স্বর্ণপদক জিতেছিলাম। এই কারণে আমি খুবই খুশি হয়েছি। অনেক ছায়াছবিতে যেমন দেখি, সেরকম আমার স্বপ্ন ছিল ভারতের জন্য—মণিপুরের জন্য এক সফল খেলোয়াড় হওয়ার। মণিপুরের মেরি দিদির মত আমিও এক সফল খেলোয়াড় হওয়ার চিন্তা করতাম। আমার সাফল্যের ভিত্তি আমার নিয়মানুবর্তিতা, আন্তরিকতা, সমর্পণ ভাবনা এবং কঠোর পরিশ্রম।

কমনওয়েলথ গেমস্‌-এ ভারতের প্রদর্শন খুব ভাল তো ছিলই, একই সাথে এটা ছিল

বৈশিষ্ট্য পূর্ণ। বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এই কারণে যে এবার এমন কিছু বিষয় ছিল যা প্রথমবার হয়েছে। আপনারা কি জানেন, এবার কমনওয়েলথ গেমস্‌-এ ভারতের যত জন কুস্তিগীর অংশগ্রহণ করেছেন প্রত্যেকে পদক এনেছেন। মণিকা বাত্রা যতগুলি ইভেণ্ট-এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, সবগুলিতেই পদক জিতেছেন। মণিকা বাত্রা প্রথম ভারতীয় মহিলা যিনি ব্যক্তিগত Table Tennis-এ ভারতকে স্বর্ণপদক এনে দিয়েছেন। শ্যুটিং-এ ভারত সব থেকে বেশি পদক জিতেছে। ১৫ বছর বয়স্ক ভারতীয় শ্যুটার অনিশ ভানবালা স্বর্ণপদক জেতার ক্ষেত্রে ভারতের সব থেকে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে নাম করেছেন। ভারতের একমাত্র সচিন চৌধুরী কমনওয়েলথ গেমস-এ ‘প্যারা পাওয়ার লিফটিং’-এ পদক জিতেছেন। এবারের গেমস এজন্যও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ মহিলা খেলোয়াড় রাই বেশির ভাগ পদক জিতেছেন। স্কোয়াশ হোক বা বক্সিং, ভারোত্তলন হোক বা শ্যুটিং সব ক্ষেত্রেই মহিলা খেলোয়াড়রা তাদের পরাক্রম দেখিয়েছে। ব্যাডমিণ্টন-এর ফাইনালে তো দুই ভারতীয় খেলোয়াড় সাইনা নেহবাল ও পি. ভি. সিন্ধুর মধ্যে খেলা হয়। সবাই উৎসাহিত ছিল কারণ লড়াই যাই হোক দুটি পদক তো ভারত পাবেই। পুরো দেশবাসী এই খেলা দেখেছে। আমারও এই খেলা দেখে খুব ভালো লেগেছে। গেমস্‌-এ অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়রা দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে ছোট ছোট শহর থেকে এসেছে। অনেক বাধা-বিপত্তি পার করে এই জায়গায় পৌঁছেছে। আজকে তাঁরা যে সাফল্য অর্জন করেছেন, যে লক্ষ্যে পৌঁছেছেন, তাঁদের এই জীবনযাত্রায়, তাঁদের মাতা-পিতা, অভিভাবক, কোচ, অন্যান্য সহায়ক, স্কুল, স্কুলের শিক্ষক বা স্কুলের পরিবেশ প্রত্যেকেরই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা আছে। ওঁদের বন্ধুদেরও ভূমিকা আছে যাঁরা সকল পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের মনোবল বাড়িয়েছেন। খেলোয়াড়দের সঙ্গে সঙ্গে আমি তাঁদের সকলকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি, শুভেচ্ছা জানাচ্ছি!

গতমাসের ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে আমি দেশবাসীদের, বিশেষ করে যুবকদের ‘Fit India’-র জন্য আহ্বান জানিয়েছিলাম। আমি সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম যে, Fit India–র সঙ্গে যুক্ত হন। Fit India-কে lead করুন। আমি খুবই আনন্দিত যে উৎসাহের সঙ্গে মানুষ এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। Fit India-র প্রতি সমর্থন জানিয়ে অনেকে আমাকে চিঠি লিখেছেন Social Media-য় নিজেদের Fitness মন্ত্র Fit India Story–ও share করেছেন।

জনৈক ভদ্রলোক, শ্রী শশিকান্ত ভোঁসলে নিজের Swimming Pool-এর একটি ছবি share করে লিখেছেন, আমার শরীর আমার অস্ত্র, আমার মৌলিক পদার্থ জল, আমার বিশ্ব হচ্ছে সাঁতার।

আরেকজন, রুমা দেবনাথ লিখেছেন প্রাতঃভ্রমণ করে আমি নিজেকে সুখী এবং স্বাস্থ্যবান অনুভব করছি। তিনি আরও বলেছেন যে, Fitness হাসি নিয়ে আসে। আমরা যখন সুখী হই, তখন আমরা তো হাসবোই।

শ্রীমতী দেবনাথ, এতে কোনও সন্দেহ নেই যে সুখ বা আনন্দই হচ্ছে Fitness।

ধবল প্রজাপতি নিজের ট্রেকিং-এর ছবি দিয়ে লিখেছেন। আমার জন্য travelling এবং ট্রেকিংই হচ্ছে Fit India। এটা দেখে ভাল লাগছে যে বেশ কিছু নামকরা ব্যক্তিও বেশ আকর্ষণীয় ভাবে Fit India-র জন্য আমাদের যুবকদের উৎসাহিত করছেন। চিত্রাভিনেতা অক্ষয়কুমার ট্যুইটারে একটি ভিডিও দিয়েছেন। আমি ওই ভিডিও দেখেছি, আপনারাও নিশ্চয় দেখবেন। এই ভিডিওতে ওকে কাঠের খুঁটি নিয়ে ব্যায়াম করতে দেখা যাচ্ছে। উনি বলেছেন যে, এই ব্যায়াম পেট এবং পিঠের মাংসপেশির জন্য খুব উপকারী। ওঁর আর একটি ভিডিও-ও বেশ জনপ্রিয় হয়ে গেছে, যাতে ওঁকে অন্যদের সঙ্গে ভলিবল খেলতে দেখা যাচ্ছে। আরও অনেক যুবক Fit India উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা share করেছেন। আমার মনে হয়, এই ধরনের আন্দোলন আমাদের সকলের জন্য, সমগ্র দেশের জন্য খুবই লাভজনক। একটা কথা তো আমি নিশ্চয় বলবো যে বিনা খরচের Fit India আন্দোলনের নাম যোগ ব্যায়াম। Fit India অভিযানে যোগ ব্যায়ামের বিশেষ গুরুত্ব আছে। আপনারাও নিশ্চয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২১-শে জুন ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস’-এর গুরুত্ব তো এখন গোটা বিশ্ব স্বীকার করেছে। আপনারাও এখন থেকে প্রস্তুত হন।

আপনি একা নন। আপনার শহর, গ্রাম, আপনার এলাকা, আপনার স্কুল, আপনার কলেজ, যে কোনও বয়সের পুরুষ-মহিলা প্রত্যেককে যোগ অভ্যাসের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। সম্পূর্ণ শারীরিক বিকাশে, মানসিক বিকাশে, মানসিক স্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যোগ অভ্যাসের উপযোগিতা এখন ভারতে বা বিশ্বের কাউকে বলার প্রয়োজন নেই। আপনারা হয়তো একটি অ্যানিমেটেড ভিডিও দেখেছেন, যেখানে আমাকে দেখানো হয়েছে। ভিডিও-টি আজকাল খুব বিখ্যাত হয়েছে। যে কাজ একজন শিক্ষক করতে পারেন, সেই কাজ অ্যানিমেশন-এর মাধ্যমে করা হচ্ছে, এই কারণে খুব যত্ন নিয়ে এই কাজ করার জন্য আমি অ্যানিমেশন প্রস্তুতকারকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

আমার যুবা বন্ধুরা, আপনারা সবাই তো পরীক্ষা-পরীক্ষা-পরীক্ষার খপ্পর থেকে বেড়িয়ে এসে এখন ছুটির চিন্তা করছেন। ছুটি কীভাবে কাটাবেন, কোথায় যাবেন ভাবছেন। আমি আজ আপনাদের একটি নতুন কাজের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে চাই। আমি দেখেছি যে অনেক যুবক এখন নতুন কিছু একটা শেখার জন্য সময় ব্যয় করছেন। Summer Internship-এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে আর যুবকরাও খোঁজ খবর করছেন। Summer Internship অবশ্যই একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা। চার দেওয়ালের বাইরে, কাগজ-কলম, কম্প্যুটার থেকে দূরে থেকে নতুন ভাবে জীবন কাটানোর অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ হয়। আমার যুব বন্ধুরা, এক বিশেষ internship–এর জন্য আমি আজকে আপনাদের অনুরোধ করবো, ভারত সরকারের তিন-চারটি মন্ত্রক যেমন ক্রীড়া, মানবসম্পদ উন্নয়ন, পানীয় জল বিভাগ — সবাই মিলে ‘স্বচ্ছ ভারত Summer Internship, ২০১৮’ শুরু করেছে। কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, NCC, NSS, নেহরু যুবকেন্দ্রের তরুণরা যাঁরা দেশের জন্য, সমাজের জন্য কিছু করতে চান, কিছু শিখতে চান, সমাজের পরিবর্তনে যাঁরা নিজেদের যুক্ত করতে চান, পরিবর্তনের দিশারী হতে চান তাঁরা এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। এক ইতিবাচক শক্তি নিয়ে যাঁরা সমাজে কিছু করে দেখানোর ইচ্ছা রাখেন, তাঁদের জন্য এটা একটা সুযোগ আর এতে স্বচ্ছতা অভিযানও গতি পাবে। আগামী ২-রা অক্টোবর আমরা যখন মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশত জন্মজয়ন্তী পালন করবো তার আগে ভালো কিছু করার জন্য আনন্দ পাবো। আমি এটাও বলতে চাই যে যাঁরা খুব ভালো Intern হবেন। যাঁরা কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব ভালো কাজ করেছেন, তাঁদের সকলকে জাতীয় স্তরে পুরস্কৃত করা হবে। যাঁরা সাফল্যের সঙ্গে Internship সম্পন্ন করবেন তাঁদের প্রত্যেককে ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’-এর পক্ষ থেকে শংসাপত্র দেওয়া হবে। এছাড়াও যে Intern ভালো ভাবে Internship সম্পন্ন করবেন, UGC তাঁকে দুটি Credit Point দেবে। আমি ছাত্র-ছাত্রী, যুববন্ধুদের আবার একবার Internship–এ যুক্ত হয়ে লাভবান হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আপনারা ‘mygov’ অ্যাপ-এ গিয়ে ‘স্বচ্ছ Summer Internship’-এর জন্য নাম নথিভুক্ত করতে পারেন। আমি আশা করি, আমাদের তরুণ সমাজ স্বচ্ছতা আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাবে। আপনাদের সমস্ত প্রয়াস সম্পর্কে আমি জানতে চাই। আপনারা আপনাদের অভিজ্ঞতা অবশ্যই পাঠাবেন, story পাঠাবেন, ছবি পাঠাবেন, ভিডিও পাঠাবেন। আসুন, এই ছুটির সময়টা নতুন সচেতনতার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করি।

আমার প্রিয় দেশবাসী, আমার যখনই ফুরসৎ মেলে দূরদর্শনের ‘Good News India’ অনুষ্ঠানটি দেখি এবং আপনাদেরও অনুরোধ করছি ‘Good News India’ অনুষ্ঠানটি নিয়মিত দেখুন। এই অনুষ্ঠানেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কত মানুষ কতরকম ভালো কাজ করছেন এবং কত ভালো কথা আলোচনা করছেন তা জানতে পারবেন।

কিছুদিন আগে আমি দেখছিলাম দিল্লির কিছু তরুণ গরীব শিশুদের নিঃস্বার্থ ভাবে
বিনা পয়সায় পড়াচ্ছেন এই তরুণেরা দিল্লির পথশিশু এবং বস্তির বাচ্চাদের শিক্ষার জন্য এক মস্ত কর্মকাণ্ড শুরু করেছেন। শুরুতে ওঁরা রাস্তার ভিখারি ও ছোটখাটো কাজ করা ছেলেমেয়েদের এমন বোঝালেন তারাও এই উন্নয়নমূলক কাজে সামিল হয়ে গেল। দিল্লির গীতা কলোনীর পাশের বস্তির ১৫ জন বাচ্চাদের নিয়ে শুরু করা কর্মসূচি আজ রাজধানীর ১২-টা জায়গায় দু-হাজার শিশুকে পড়াশোনা করানোর কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। এই অভিযানে তরুণ শিক্ষকরা তাঁদের সারাদিনের ব্যস্ততার থেকে দু’ঘণ্টা Free time বের করে সমাজ বদলানোর ভগীরথ প্রয়াসে যোগ দিচ্ছেন।

ভাই ও বোনেরা, ঠিক একই ভাবে উত্তরাখণ্ডের কিছু কৃষক সারা দেশের কৃষকদের কাছে অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দলবদ্ধ প্রচেষ্টায় ওঁরা শুধু নিজেদের নয়, নিজেদের এলাকার ভাগ্য বদলে দিয়েছেন। উত্তরাখণ্ডের বাগেশ্বরে মূলতঃ ছোলা, ভুট্টা, যব চাষ হয়। পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় কৃষকেরা নিজেদের ফসলের উচিৎ মূল্য পাচ্ছিলেন না, কিন্তু কপকোট তহশিলের কৃষকেরা তাঁদের ফসল সরাসরি বাজারে বিক্রির লোকসান এড়িয়ে তাঁদের ফসলের মূল্যবৃদ্ধির পথ করে নিলেন, value addition-এর পথ বার করলেন। ওঁরা কি করেছেন? ওঁরা ক্ষেতের ফসল থেকে বিস্কুট বানিয়েছেন এবং সেই বিস্কুট বিক্রি করছেন। এই এলাকার ফসল Iron reach, সব্বাই জানেন এবং এই Iron reached বিস্কুট গর্ভবতী মায়েদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এই কৃষকেরা মুনার-এ একটা সরকারী সংস্থা বানিয়েছেন এবং বিস্কুটের বেকারি খুলেছেন। কৃষকদের এই প্রয়াস দেখে প্রশাসন একে রাষ্ট্রীয় জীবিকা মিশনের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এই বিস্কুট শুধু বাগেশ্বর জেলার প্রায় ৫০-টি অঙ্গণওয়াড়ি কেন্দ্র এমনকি কোসানি আলমোড়া পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে। কৃষকদের এই প্রয়াসের ফলে সংস্থার Turn Overশুধু যে ১০ থেকে ১৫ লক্ষে পৌঁছে গেল শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে প্রায় ৯০০-রও বেশি পরিবারের অন্ন সংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। এর ফলে জেলা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার প্রবণতাও কমে আসছে।

প্রিয় দেশবাসী, আমি প্রায়ই শুনি, আগামী দিনে জলের জন্য যুদ্ধ শুরু হবে। একথা সবাই বলে, কিন্তু আমাদের কি কোনও দায়িত্ব নেই? আমাদের কি ভাবা উচিৎ নয় যে জলসংরক্ষণ একটা সামাজিক দায়বদ্ধতা হয়ে ওঠা উচিৎ! বৃষ্টির এক-এক ফোঁটা জল কীভাবে বাঁচান যায়, আমাদের প্রত্যেকের তা জানা আছে। ভারতীয়দের কাছে জল সংরক্ষণ কোনও নতুন বিষয় নয়। বইয়ের পড়ার বিষয় নয়, এজন্য কোনও বিশেষ ভাষা জানারও প্রয়োজন নেই।
অতীতে আমাদের পূর্বপুরুষেরা তা করে দেখিয়ে গেছেন। প্রত্যেক ফোঁটা জলের মাহাত্ম্যকে ওঁরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁরা প্রত্যেক ফোঁটা জল বাঁচানোর নতুন নতুন উপায় বার করেছেন।

আপনারা কেউ তামিলনাড়ুতে গেলে দেখবেন, সেখানকার অনেক মন্দিরে জলসেচ ব্যবস্থা, জলসংরক্ষণ প্রক্রিয়া, জল সঞ্চয়, দিঘি বানানো ইত্যাদি নিয়ে শিলালিপি পাওয়া যায়।

মনারকোবিল, চিরান মহাদেবী কোবিলপট্টি এবং পুদুকোট্টাইয়ের মন্দিরে বড় বড় শিলালিপি দেখতে পাওয়া যায়। আজও অনেক বাউরি অর্থাৎ step wells পর্যটন ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত, কিন্তু আসলে সেগুলো আমাদের পূর্বপুরুষদের জল সংরক্ষণ প্রচেষ্টার জাজ্বল্য প্রমাণ। গুজরাটের অডালজ এবং পাটনের রানীর বাউরি-কে UNESCO ‘World Heritage Site’ হিসেবে ঘোষণা করেছে তার কারণ এই জায়গাগুলোর তাৎপর্য ও অভাবনীয় সৌন্দর্য। আপনারা রাজস্থান গেলে অবশ্যই যোধপুরের চাঁদ বাউরি দেখতে যাবেন। এটা ভারতবর্ষের বৃহত্তম এবং সবথেকে সুন্দর বাউরি। একটা কথা আমাদের মনে রাখতে হবে, এমন এক এলাকায় এই বৃহত্তম বাউরি যেখানে জলের তীব্র সংকট রয়েছে। এপ্রিল, মে, জুন-জুলাই জল সংরক্ষণের প্রকৃষ্ট সময় এবং আগাম ব্যবস্থা যত উত্তমভাবে করে রাখা যাবে, ততই কার্যকরী হবে জল সংরক্ষণের কাজ। ‘মন্‌রেগা’ বাজেট থেকে জলসংরক্ষণ ব্যবস্থায় ব্যয় করা যেতে পারে। গত তিনবছরে জল সংরক্ষণ ও জলবাঁধ নির্মাণে অনেকেই নানারকম প্রয়াস চালাচ্ছেন। প্রতি বছর ‘মনরেগা’ বাজেটে জলসংরক্ষণ ও জল বাঁধ নির্মাণে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। ২০১৭-’১৮-র কথা বললে আমি বলতে পারি, ৬৪ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৫৫% অর্থাৎ ৩৫ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি জলসংরক্ষণের মত কর্মসূচিতে ব্যয় হয়েছে। গত তিন বছরে এই জলসংরক্ষণ ও জলবাঁধ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ১৫০ লাখ হেক্টর কৃষিজমিতে অনেক বেশি লাভ এসেছে। জলসংরক্ষণ ও জলবাঁধ নির্মাণে ভারতসরকারে ‘মন্‌রেগা’ প্রকল্পে যে অর্থ বরাদ্দ হয়, তা অনেকেই বেশ ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছেন। কেরলের কুট্টেমপেরুর নদীতে ‘মনরেগা’ প্রকল্পের আওতায় ৭ হাজার মানুষ ৭০ দিনের কঠোর শ্রমে নদীকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। গঙ্গা ও যমুনা নদী জলে ভরে থাকে কিন্তু উত্তরপ্রদেশের কিছু এলাকায় জলাভাব আছে, যেমন ফতেহ্‌পুর জেলায় সসুর ও খদেবী দুটো ছোট নদী শুকিয়ে গেছিল, জেলা প্রশাসন ‘মনরেগা’ প্রকল্পের আওতায় প্রচুর মাটি ও জলসংরক্ষণের মাধ্যমে নদী দুটিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। প্রায় ৪০-৪৫টি গ্রামের লোকের পরিশ্রমে এই কাজ সম্ভব হয়েছে। পশু হোক, পাখি হোক, কৃষক হোক, কৃষিখেত হোক— সব্বার কাছে এটা কত বড় আশীর্বাদে পরিণত হয়েছে।

কত বড় সাফল্য! আমি বলব, এপ্রিল, মে, জুন, জুলাই এসে গেছে এবং আসছে। আমরা আগামীদিনে জলসংরক্ষণ ও জলসঞ্চয় নিয়ে বেশ কিছু দায়িত্ব নিতে পারি, কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারি এবং কিছু করে দেখাতে পারি।

আমার প্রিয় দেশবাসী, ‘মন কি বাত’ যখন হয়, দেশের চারদিক থেকে নানান খবর আসে, চিঠি আসে, ফোন আসে। পশ্চিমবাংলার উত্তর ২৪ পরগণা জেলার দেবীতলা গ্রাম থেকে অয়ন কুমার ব্যানার্জী mygov-অ্যাপে কমেণ্ট করেছেন, প্রতিবছর আমরা রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করি। কিন্তু নোবেল

পুরস্কার বিজেতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের peacefully, beautifully এবং integrity–র সঙ্গে বাঁচার যে philosophy সেই বিষয়ে জনসাধারণ কিছুই জানে না। দয়া করে ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে আপনি এই নিয়ে বলবেন, যাতে সাধারণ মানুষ তা জানতে পারে।

আমি অয়ণজীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তাঁদের কাছে ‘মন কি বাত’ এতটা মনোযোগ আকর্ষণ করেছে সেই জন্য। গুরুদেব জ্ঞান ও বিবেকপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর লেখায় সব বিষয়ের উপর তাঁর অনন্য ছাপ রেখেছেন, রবীন্দ্রনাথ প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব ছিলেন, বিচিত্র ভাবনার ব্যক্তিত্ব ছিলেন কিন্তু তাঁর ভেতরে একজন শিক্ষক ছিল তা সবসময় অনুভব করা যায়। তিনি গীতাঞ্জলিতে লিখেছেন—

“He who has the knowledge has the responsibility to impart it to the students”— অর্থাৎ, জ্ঞান যাঁর আছে, সেই সঙ্গে তাঁর দায়িত্বও আছে সেই জ্ঞানকে জিজ্ঞাসু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার।

বাংলা ভাষা তো আমি জানি না, তবে যখন ছোট ছিলাম, তখন থেকে আমার খুব ভোরে ওঠার অভ্যাস ছিল। একেবারে শৈশব থেকেই। পূর্ব ভারতে রেডিওর অধিবেশন তাড়াতাড়ি শুরু হয়। পশ্চিম ভারতে শুরু হয় দেরিতে। কখন ভোর হয়, সেটা আমার মোটামুটি একটা আন্দাজ ছিল। সম্ভবত সাড়ে পাঁচটা নাগাদ রেডিওতে রবীন্দ্রসঙ্গীত শুরু হত আর সেটা শোনা আমার একরকম অভ্যেসই হয়ে গিয়েছিল। ভাষা তো জানতাম না, কিন্তু তা সত্ত্বেও ভোরবেলা তাড়াতাড়ি উঠে রেডিওতে রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনাটা আমার অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল আর যখন ‘আনন্দ লোকে’ বা ‘আগুনের পরশমণি’ – এই রবীন্দ্রসঙ্গীতগুলি শোনার সুযোগ হত, মনে বড় একটি চেতনার উন্মেষ হত। রবীন্দ্রসঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথের কবিতা নিশ্চয়ই আপনাদেরও প্রভাবিত করেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আমি আমার সশ্রদ্ধ শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই।

আমার প্রিয় দেশবাসী, আর কিছুদিনের মধ্যেই রমজানের পবিত্র মাস শুরু হতে চলেছে,
সারা বিশ্বে এই রমজান মাস শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে পালন করা হয়। রোজা রাখার সামগ্রিক অর্থটি হল, মানুষ যখন নিজে অভুক্ত থাকে, তখন সে অন্যের ক্ষুধা অনুভব করতে পারে।

যখন সে নিজে তৃষ্ণার্ত হয়, তখন অন্যের তৃষ্ণা অনুভব করতে পারে। এটি হল পয়গম্বর মহম্মদের শিক্ষা এবং বার্তাকে স্মরণ করার সময়। তাঁর জীবনের শিক্ষা আমাদের মধ্যে সাম্য এবং ভ্রাতৃত্বের পথে চলার দায়বদ্ধতা তৈরি করে দেয়। একবার একজন পয়গম্বর সাহেবকে প্রশ্ন করেছিল— “ইসলামে কোন্‌ কাজটা সবচেয়ে ভালো?” পয়গম্বর বলেছিলেন, “কোনও গরীব আর অভাবী মানুষকে খাওয়ানো আর চেনা-অচেনা নির্বিশেষে সকলের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখা।” পয়গম্বর মহম্মদ জ্ঞান এবং করুণায় বিশ্বাসী ছিলেন। কোনও বিষয়ে তাঁর অহঙ্কার ছিল না। তিনি বলতেন, অহঙ্কারই জ্ঞানকে পরাভূত করে। পয়গম্বর মহম্মদের অভিমত ছিল, যদি কারুর কাছে কোন জিনিস প্রয়োজনের অতিরিক্ত থাকে, তাহলে আপনি তা এমন কাউকে দিয়ে দিন, যার সেটার প্রয়োজন আছে— এইজন্য রমজানে দানেরও বিশেষ গুরুত্ব আছে। এই পবিত্র মাসে সকলে অভাবী মানুষদের হাতে দান তুলে দেন। পয়গম্বর মহম্মদ বিশ্বাস করতেন যে, ব্যক্তির নিজের পবিত্র আত্মাই তাঁকে ধনী করে —

ধন-দৌলত নয়। আমি সব দেশবাসীকে রমজানের পবিত্র মাসের শুভকামনা জানাই। আমি আশা করি, এই পবিত্র সময় মানুষকে শান্তি এবং শুভবুদ্ধির পথে চলতে প্রেরণা যোগাবে।

আমার প্রিয় দেশবাসী, প্রত্যেক ভারতীয়র জন্য বুদ্ধপূর্ণিমা এক বিশেষ দিন। আমাদের গর্ব হওয়া উচিৎ যে ভারত করুণা, সেবা এবং ত্যাগের প্রতিমূর্তি মহামানব ভগবান বুদ্ধের দেশ, যিনি আপামর বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষকে পথ দেখিয়েছেন। এই বুদ্ধপূর্ণিমা ভগবান বুদ্ধকে স্মরণ করে তাঁর দেখানো পথে চলার প্রচেষ্টা, সংকল্প এবং চলার মহান দায়িত্বের কথা আমাদের আবার মনে করিয়ে দেয়। ভগবান বুদ্ধ সাম্য, শান্তি, সদ্‌ভাব এবং ভ্রাতৃত্বের প্রেরণাশক্তি। এটা হল সেই ধরনের মানবিক মূল্যবোধ, সারা দুনিয়ায় আজ যার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। বাবাসাহেব ডা. আম্বেদকর খুব জোর দিয়ে বলতেন যে, তাঁর social philosophy-তে ভগবান বুদ্ধের বিরাট এক প্রেরণা ছিল। তিনি বলেছিলেন, “My social philosophy may be said to be enshrined in three words; liberty, equality and fraternity. My philosophy has roots in religion and not in political science. I have derived them from the teaching of my master, the Buddha.”

দেশের মানুষ দলিত হোক, পীড়িত হোক, শোষিত বা বঞ্চিত হোক, বাবা সাহেব সংবিধানের মাধ্যমে এই প্রান্তিক স্তরের মানুষদের শক্তিমান করে তুলেছেন। করুণার এর চেয়ে বড় উদাহরণ আর কিছু হতে পারে না। মানুষের কষ্টের জন্য ভগবান বুদ্ধের এই করুণা ছিল তাঁর মহত্তম গুণগুলির মধ্যে একটি। শোনা যায় যে, বৌদ্ধ ভিক্ষুকরা বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করতেন। তাঁরা সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন বুদ্ধের সমৃদ্ধ চিন্তাধারা। দীর্ঘকাল ধরে এটাই চলে আসছে। আমরা সমগ্র এশিয়াবাসীরা ভগবান বুদ্ধের শিক্ষা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। চিন, জাপান, কোরিয়া, থাইল্যাণ্ড, কম্বোডিয়া, মায়ানমার ইত্যাদি এশিয়ার অনেক দেশে বুদ্ধের এই পরম্পরা, বুদ্ধের শিক্ষা সেখানকার শিকড়ের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে আছে, আর সেই কারণেই আমরা বৌদ্ধ পর্যটনের পরিকাঠামো গড়ে তুলছি, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মহত্ত্বপূর্ণ স্থানগুলিকে ভারতের বিশিষ্ট বৌদ্ধ অঞ্চলগুলির সঙ্গে যুক্ত করছে। ভারত সরকার যে বেশ কিছু বৌদ্ধ মন্দিরের পুনরুদ্ধারের কাজে অংশ নিয়েছে। সেই জন্য আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এর মধ্যে মায়ানমারের বাগানে বহুযুগের প্রাচীন বৈভবশালী আনন্দ মন্দিরও আছে। বিশ্বের সর্বত্র আজ প্রতিযোগিতা আর মানবিক যন্ত্রণাই চোখে পড়ে। ভগবান বুদ্ধের শিক্ষা ঘৃণাকে দয়ায়
রূপান্তরিত করার পথ দেখায়। ভগবান বুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাঁর করুণাময় সিদ্ধান্তে আস্থাবান যত মানুষ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছেন, সকলকে আমি বুদ্ধপূর্ণিমার মঙ্গলকামনা জানাই। গোটা দুনিয়ার জন্য সেই মহাপুরুষের কাছে আশীর্বাদ প্রার্থনা করি, যেন আমরা তাঁর আদর্শে এক

শান্তিপূর্ণ ও করুণাময় বিশ্ব গঠনে নিজেদের দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করতে পারি। আজ আমরা ভগবান বুদ্ধকে স্মরণ করছি। আপনারা ‘লাফিং বুদ্ধ’ মূর্তির কথাও শুনে থাকবেন, যার সম্বন্ধে বলা হয় যে ‘লাফিং বুদ্ধ’ সৌভাগ্য নিয়ে আসে, কিন্তু খুব কম লোকই জানেন যে, এই সহাস্য বুদ্ধ ভারতের সুরক্ষার ইতিহাসেও এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছেন। আপনারা হয়ত ভাবছেন যে ‘লাফিং বুদ্ধ’ আর ভারতের সৈন্যশক্তির মধ্যে কী সম্বন্ধ থাকতে পারে! আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, আজ থেকে ২০ বছর আগে ১৯৯৮ সালের ১১-ই মে সন্ধ্যায় তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী
শ্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীজী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি বক্তব্য রেখেছিলেন, যা গোটা

দেশকে গৌরব, পরাক্রম এবং খুশির বার্তায় আপ্লুত করেছিল। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা তাবৎ ভারতবাসীর মধ্যে এক নতুন আত্মবিশ্বাস জেগে উঠেছিল। সেই দিনটি ছিল বুদ্ধপূর্ণিমা। ১১-ই মে, ১৯৯৮, ভারতের পশ্চিম প্রান্তে রাজস্থানের পোখরানে পরমাণু পরীক্ষা করা হয়েছিল। তার বিশ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এই পরীক্ষাটি ভগবান বুদ্ধের আশীর্বাদ নিয়ে বুদ্ধ পূর্ণিমার দিনই করা হয়েছিল।

ভারতের পরীক্ষা সফল হয়েছিল, একদিক থেকে বলতে গেলে বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারত তার শক্তির প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছিল। আমরা বলতে পারি, সেই দিনটি ভারতের ইতিহাসে তার সামরিক শক্তির প্রদর্শনের দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ভগবান বুদ্ধ পৃথিবীকে দেখিয়েছেন শান্তির জন্য inner strength অর্থাৎ অন্তরের শক্তি আবশ্যক। এইভাবে যখন আপনি একটি দেশ হিসেবে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারবেন, তখন সকলের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে থাকতেও পারবেন। ১৯৯৮ সালের মে মাস শুধু এইজন্য গুরুত্বপূর্ণ নয় যে ওই মাসে পরমাণু পরীক্ষা হয়েছিল, বরং যেভাবে তা সম্ভব করা গিয়েছিল, বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটাই। এই ঘটনা পুরো দুনিয়াকে দেখিয়ে দিয়েছিল যে ভারত মহান বৈজ্ঞানিকদের নিজস্ব ভূমি, এবং এক দৃঢ় নেতৃত্বকে সামনে রেখে সে নিত্যই নতুন নতুন লক্ষ্য এবং উচ্চতায় পৌঁছে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে। অটলবিহারী বাজপেয়ীজী মন্ত্র দিয়েছিলেন, “জয় জওয়ান—জয় কিসান—জয় বিজ্ঞান”। আজ যখন আমরা ১১-ই মে ১৯৯৮-এ বিংশতি বর্ষ উদ্‌যাপন করতে চলেছি, তখন ভারতের শক্তিবৃদ্ধির জন্য অটলজী ‘জয় বিজ্ঞান’-এর যে মন্ত্র আমাদের দিয়েছেন, তাকে আত্মস্থ করেই আধুনিক ভারত গড়ার লক্ষ্যে এগোতে হবে। এই আধুনিক দেশ গড়ার উদ্দেশ্যে শক্তিশালী ভারত, সমর্থ ভারত বানানোর কর্মকাণ্ডে দেশের প্রতিটি যুবককে অংশগ্রহণ করার সঙ্কল্প করতে হবে। নিজেদের শক্তিকে ভারতের শক্তির অংশ করে তুলতে হবে। আর তাহলেই দেখতে দেখতে অটলজী যে যাত্রা শুরু করেছিলেন, তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এক নতুন আনন্দ, নতুন তৃপ্তি আমরাও অর্জন করতে পারবো।

আমার প্রিয় দেশবাসী, ‘মন কি বাত’-এ আবার যোগাযোগ হবে, তখন আরও কথা বলবো।

অনেক অনেক ধন্যবাদ!

CG/BD/SB