Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

জাতির উদ্দেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মন কি বাত’ (একাদশ পর্ব) অনুষ্ঠানের বাংলা অনুবাদ


আমার প্রিয় দেশবাসীগণ, আপনাদের সবাইকে নমস্কার!

আবার একবার ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে আপনাদের মধ্যে আমার আসার সুযোগ হল। সুদূর দক্ষিণ ভারতের মানুষেরা এখন ওনাম উৎসবে মেতে রয়েছেন আর গতকালই পুরো দেশ পবিত্র রাখীবন্ধন উৎসব পালন করল।

ভারত সরকার সাধারণ মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা-সহ আরও কয়েকটি নতুন নতুন যোজনা শুরু করেছে। খুব অল্প সময়েই অনেক মানুষ যে এইসব যোজনার আওতায় এসেছেন, এতেই আমি আনন্দিত। আমি ছোট্ট একটি অনুরোধ করেছিলাম, রাখীবন্ধন উৎসবে আমাদের বোনেদের যেন এমনই একটি সুরক্ষা যোজনা দেওয়া হয়। আমার কাছে প্রচুর তথ্য এসেছে, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে পরিকল্পনা শুরু হওয়ার পর থেকে এপর্যন্ত এগারো কোটি পরিবার এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আমাকে এটাও জানানো হয়েছে যে, এর প্রায় অর্ধেক সুবিধা মা-বোনেরা পেয়েছেন। আমি এটাকে ভালো লক্ষণ বলে মনে করছি। সব মা-বোনেদের আমি রাখীবন্ধন উৎসবের অনেক অনেক শুভকামনা জানাই। আজ যখন আমি আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি, তার একবছর আগে ‘জনধন যোজনা’ হাতে নেওয়া হয়েছিল। অনেক প্রশ্ন উঠেছিল, যে কাজ ষাট বছরে হয় নি, তা এত কম সময়ে হবে কি? কিন্তু আজ আমি সানন্দে জানাচ্ছি যে, এই যোজনা শুরু করতে সরকার ও ব্যাঙ্কগুলির সমস্ত বিভাগ মনপ্রাণ দিয়ে নেমে পড়ে এবং সাফল্য পায়। এখনও পর্যন্ত আমার কাছে যা তথ্য আছে সেই অনুসারে প্রায় পৌনে আঠারো কোটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে – সতেরো কোটি চুয়াত্তর লাখ! আমি দরিদ্র জনগণের ক্ষমতাও দেখলাম। যেখানে ‘জিরো ব্যালান্স’-এ খাতা খোলার কথা ছিল, সেখানে তাঁরা সঞ্চয়ের মাধ্যমে মোট বাইশ হাজার কোটি টাকা জমা করেছেন। অর্থব্যবস্থার মূল ধারা যে ব্যাঙ্কিং – তাকে দরিদ্র মানুষের ঘর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশে ‘ব্যাঙ্ক মিত্র যোজনার’ ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আজ এক লক্ষ পঁচিশ হাজারেরও বেশি ব্যাঙ্ক মিত্র সারা দেশে কাজ করছে। এর ফলে দেশের তরুণরাও কাজ পেয়েছেন। আপনারা জেনে খুশি হবেন যে, এই এক বছরে ব্যাঙ্কিং সেক্টর, অর্থনীতি এবং নিম্নবিত্ত মানুষদের একত্রিত করার জন্য ১ লক্ষ ৩১ হাজার Financial Literacy Camp খোলা হয়েছে। শুধু অ্যাকাউন্ট খুলে থেমে যাওয়া নয়, এখন তো কয়েক হাজার মানুষ এই ‘জনধন যোজনা’র আওতায় ওভারড্রাফট্‌ নেওয়ারও যোগ্যতা অর্জন করেছেন এবং নিয়েছেনও। দরিদ্র মানুষও যে ব্যাঙ্ক থেকে পয়সা পেতে পারেন এই বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। আমি আবার একবার এর সঙ্গে যুক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং যে সব দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর ভাই ও বোনেরা ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খুলেছেন, তাঁদের অনুরোধ করছি, আপনারা ব্যাঙ্কের সঙ্গে এই সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হতে দেবেন না। এই ব্যাঙ্ক আপনাদেরই, আপনারা আর একে ছাড়বেন না। আমি একে আপনাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি, এবার একে ধরে রাখার দায়িত্ব আপনাদের। ব্যাঙ্কে আমাদের সকলের খাতা চালু রাখতে হবে। আমার পূর্ণ আস্থা আছে, আপনারা তা রাখবেন।

কিছুদিন আগে গুজরাতের হিংসাত্মক ঘটনাবলী গোটা দেশকে বিচলিত করে তুলেছিল। আর এটা তো স্বাভাবিক যে গান্ধী এবং সর্দার প্যাটেলের রাজ্যে যদি তেমন কিছু ঘটে যায়, তাহলে সারা দেশ দুঃখ পায় – ব্যথিত হয়। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই গুজরাতের বিচক্ষণ নাগরিক – আমার ভাই-বোনেরা পরিস্থিতিকে সামলে নিয়েছেন। পরিস্থিতির বেসামাল হওয়া আটকাতে তাঁরা সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন এবং গুজরাত আবার শান্তির পথ নিয়েছে। শান্তি, একতা ও ভ্রাতৃত্বের এই রাস্তাই ঠিক রাস্তা এবং উন্নতির জন্য আমাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে হবে। সমৃদ্ধিতেই আমাদের সব সমস্যার সমাধান।

সম্প্রতি আমার সুফি ধারার বিদ্বজ্জনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার এবং তাঁদের কথা শোনার সুযোগ হয়েছিল। আমি সত্যি বলছি, তাঁদের সেই মহৎ কথা শোনার এই অভিজ্ঞতা আমার শ্রবণে যেন এক সঙ্গীতের অনুভব নিয়ে এসেছে। সেই পণ্ডিতদের শব্দচয়ন, তাঁদের কথা বলার ধরন, অর্থাৎ সুফি ধারায় যে শান্ত উদারতার ঐতিহ্য রয়েছে – তা যেন এক সঙ্গীতের লয়ের মতো আমার উপলব্ধিতে পৌঁছেছে। আমার খুবই ভালো লেগেছে। সম্ভবত ইসলামের এই সত্য স্বরূপটিকে তামাম দুনিয়ার কাছে ঠিকমতো পৌঁছে দেওয়াই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। আমার বিশ্বাস, সুফি পরম্পরার এই প্রেম এবং উদারতার বাণী দূর-দূরান্তে পৌঁছে যাবে, যাতে সমগ্র মানবজাতি তথা ইসলামের উপকার হবে। আমি অন্যদেরও বলি, আমরা ভিন্ন সম্প্রদায়ভুক্ত হলেও সুফি ভাবধারাটি আমাদের বোঝা দরকার।

আগামী দিনে আমার আর একটি সুযোগ আসতে চলেছে এবং এই নিমন্ত্রণ পাওয়ার জন্য আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। বিশ্বের বহু দেশের বৌদ্ধ ধর্মের পণ্ডিতেরা ভারতের বুদ্ধগয়ায় আসছেন, তাঁরা সারা বিশ্বের মানবজাতির সঙ্গে সম্পর্কিত নানা বিষয়ে আলোচনা করবেন। এই বিদ্বানেরা যে আমাকেও সেখানে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, তাতে আমি আনন্দিত। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত নেহরু বুদ্ধগয়ায় গিয়েছিলেন। বিশ্বের এইসব বিদ্বজ্জনের সঙ্গে দেখা হওয়ার এই ক্ষণটি আমার কাছে এক আনন্দের মুহূর্ত হতে চলেছে।

আমার প্রিয় কৃষক ভাই-বোনেরা, আমি আরও একবার আপনাদের বিশেষ করে মনের কথা বলতে চাই। আমি এর আগেও এই বিষয় নিয়ে ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে কথা বলেছি। আপনারা সংসদে, সার্বজনীন সভায় বা ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে সে কথা শুনেছেন। আমি প্রত্যেকবার একটা কথাই বলে আসছি, জমি অধিগ্রহণ আইন নিয়ে যে বিবাদ চলছে, সেই বিষয়ে সরকারের মন খোলাই আছে। কৃষকদের মঙ্গলের জন্য যে কোন পরামর্শ গ্রহণ করতে আমি রাজি আছি – একথা আমি বহুবার বলে আসছি। কিন্তু আজ কিষাণ ভাই-বোনেদের আমি বলতে চাই যে, জমি অধিগ্রহণ আইনে সংশোধনের প্রস্তাব রাজ্যের তরফ থেকে এসেছে। সকলের মনে হয়েছিল যে, গ্রামের দরিদ্র কৃষকের যদি ভালো করতে হয়, ক্ষেত পর্যন্ত সেচের জল পৌঁছবার জন্য খাল বানাতে হয়, গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার জন্য খুঁটি পুঁততে হয়, গ্রামের জন্য সড়ক তৈরি করতে হয়, গ্রামের গরীব মানুষদের জন্য ঘর তৈরি করতে হয়, গ্রামের দরিদ্র যুবকদের জন্য উপার্জনের ব্যবস্থা করতে হয় – তাহলে আমাদের আইনকে আমলাতন্ত্রের লাল ফিতার ফাঁস থেকে বের করে আনতে হবে। এই সব ভেবেই সংশোধনের প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু আমি দেখলাম যে, এই নিয়ে প্রচুর ভুল ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, কৃষকদের ভয় পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার কিষান ভাই-বোনেরা, আমাদের কৃষকেরা কখনই ভুল ধারণা করলে চলবে না আর ভয় তো কখনই পাওয়া চলবে না। আমি কাউকেই কিষাণদের ভুল বোঝাবার বা ভয় দেখানোর সুযোগ দিতে চাই না। আমার কাছে দেশের প্রত্যেকটি দাবিই জরুরি, কিন্তু তার মধ্যেও কৃষকদের দাবি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিলাম, যার মেয়াদ আগামীকাল, ৩১শে অগাস্ট শেষ হচ্ছে। আমি ঠিক করেছি, এই মেয়াদ শেষ হতে দেওয়া হোক। অর্থাৎ, আমার সরকার তৈরি হওয়ার আগে যে অবস্থান ছিল, সেটাই আবার ফিরে এলো। কিন্তু তাতে একটা কাজ অসম্পূর্ণ ছিল। ১৩টি এমন বিষয় ছিল, যার কাজ এক বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল এবং সেইজন্য আমরা অধ্যাদেশেও সেগুলি এনেছিলাম, কিন্তু এই বিবাদের জেরে সে বিষয়টিও অসম্পূর্ণ থেকে গেল। অধ্যাদেশ তো শেষ হতে চলেছে। কিন্তু যাতে কৃষকদের সরাসরি লাভ হতে পারে, তাঁদের সরাসরি আর্থিক লাভ যার সঙ্গে যুক্ত, সেই তেরটা বিষয়কে আমরা নিয়মকানুনের আওতায় এনে আজই চালু করে দিচ্ছি। এতে কৃষকদের লোকসান হবে না, আর্থিক ক্ষতি হবে না, আর এইজন্য যে তেরটা বিষয়কে নিয়মের আওতায় এনে চালু করার কথা ছিল, তা আজই আমরা সম্পন্ন করছি আর আমি আমার কৃষক ভাই ও বোনেদের এই কথা বলতে চাই যে, আমাদের ‘জয় জওয়ান, জয় কিষাণ’ নিছক এক শ্লোগান নয়, এ আমাদের কাজের মন্ত্র। গ্রামে গরীব ও কৃষকদের কল্যাণ আমাদের পথ চলার মন্ত্র। তাই আমি ১৫ই অগাস্ট বলেছিলাম যে, শুধু কৃষি বিভাগ নয়, কৃষি ও কৃষক-কল্যাণ বিভাগও তৈরি করা হবে। এই সিদ্ধান্ত আমরা দ্রুত কাজে পরিনত করার চেষ্টা করছি। আমার কৃষক ভাই ও বোনেরা, এখন আর বিভ্রান্তির কোনও কারণ নেই, সংশয়ের কোন কারণ নেই। কেউ যদি আপনাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে তাহলে ভয় পাবেন না।

আমার আরও একটি কথা বলার আছে। দু’দিন আগে ১৯৬৫-র যুদ্ধের পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হয়েছে। যখনই ১৯৬৫-র যুদ্ধের কথা ওঠে, তখন লালবাহাদুর শাস্ত্রীর কথা মনে পড়া খুব স্বাভাবিক। ‘জয় জওয়ান জয় কিষাণ’ মন্ত্রটি স্মরণে আসাও খুব স্বাভাবিক। ভারতের ত্রিবর্ণরঞ্জিত জাতীয় পতাকার গৌরব ও সম্মান বজায় রাখার জন্য যেসমস্ত মানুষ শহীদ হয়েছেন, তাঁদের আত্মবলিদানের কথা স্মরণে আসাও খুব স্বাভাবিক। ’৬৫-র ভারত বিজয়ের সঙ্গে যুক্ত সকলকে আমি আমার প্রণাম জানাই, বীর শহীদদের নমস্কার জানাই। এরকম ঐতিহাসিক ঘটনা আমাদের প্রতিনিয়ত প্রেরণা যোগায়।

গত সপ্তাহে সুফি পরম্পরার মানুষজনের সঙ্গ লাভ করার সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত সুখী হয়েছি। দেশের গণ্যমান্য বৈজ্ঞানিকদের সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলাম, তাঁদের কথা শোনার সুযোগ পেয়েছিলাম। আমার খুব ভাল লেগেছে যে বিজ্ঞানের নানান ক্ষেত্রে ভারত খুব ভাল কাজ করছে। আমাদের বিজ্ঞানীরা সত্যিই খুব ভাল কাজ করছেন। বিজ্ঞানীদের কাজের ফলে আমাদের সামনে যে সব সুযোগ আসছে, তা দেশের সাধারণ মানুষের কাছে কীভাবে পৌঁছে দেব, বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তকে পরীক্ষামূলকভাবে কীভাবে কাজে লাগানো যাবে, ল্যাব-কে ল্যাণ্ডের সঙ্গে অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগারের সুফল সাধারণ মানুষের উপকারে কীভাবে লাগাবো এবং উন্নয়নকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাব, তা এখন ভাবতে হবে। অনেক নতুন নতুন তথ্য আমার হাতে এসেছে যা অত্যন্ত উৎসাহজনক এবং শিক্ষামূলক। আমি দেখেছি তরুণ বৈজ্ঞানিকেরা কি উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে কথা বলছেন, তাঁদের চোখে নতুন স্বপ্ন আমি দেখেছি। গতবারের ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে আমি বলেছিলাম যে, আমাদের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের দিকে আরও অগ্রসর হওয়া উচিত। বৈজ্ঞানিকদের সঙ্গে এই আলোচনার পর আমার মনে হয়েছে যে এই ক্ষেত্রে অনেক সুযোগ, অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। আমি একথা আবারও বলতে চাই যে, সমস্ত তরুণ বন্ধুরা, আপনারা বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহশীল হন। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও উচিত শিক্ষার্থীদের এই ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়া।

আমি দেশের মানুষের কাছ থেকে অনেক চিঠি পেয়েছি। থানে থেকে শ্রীমান পরিমল শা mygov.in-এ শিক্ষার সংস্কার সম্পর্কে লিখেছেন, কারিগরী দক্ষতা (skilled development) নিয়ে লিখেছেন। তামিলনাড়ুর চিদাম্বরমের শ্রীমান প্রকাশ ত্রিপাঠী প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে সংস্কারের গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন, ভাল শিক্ষকের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

আমি বিশেষ করে আমার তরুণ বন্ধুদের একটি কথা বলতে চাই, আমি গত ১৫ই অগাস্ট লালকেল্লার প্রাকার থেকে আমার ভাষণে বলেছিলাম যে ছোটো ছোটো চাকরির জন্য ইন্টারভিউ-এর কি প্রয়োজন! আর যখন ইন্টারভিউ-এর ডাক আসে, তখন প্রতিটি গরীব পরিবার, বিধবা মা খুঁজতে থাকেন, কোথা থেকে সুপারিশ করানো যাবে, কার সাহায্যে এই চাকরি পাওয়া যাবে, কোন খুঁটিকে চাকরির জন্য ধরা যাবে? আরও কি-কি শব্দ এই ব্যাপারে প্রয়োগ করা হয় কে জানে? সবাই দৌড়চ্ছেন, আর হয়ত নীচুস্তরের দুর্ণীতির এও এক কারণ। আমি ১৫ই অগাস্ট বলেছিলাম যে আমি চাই ইন্টারভিউ-এর এই চলে আসা ব্যবস্থা থেকে একটি স্তরের অন্তত মুক্তি পাওয়া উচিত। আমার ভাল লাগছে মাত্র পনের দিনের মধ্যে, সরকার খুব দ্রুত এগিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে এই ব্যাপারে কাজ করা শুরু করেছে। নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, আর খুব তাড়াতাড়ি আশা করা যায় ছোটো ছোটো চাকরির ক্ষেত্রে ইন্টারভিউ ব্যবস্থা তুলে দেওয়া সম্ভব হবে। গরীবকে সুপারিশের জন্য দৌড়তে হবে না, exploitation হবে না, দুর্ণীতি থাকবে না।

ইদানিং ভারতে বিশ্বের অনেক দেশ থেকে অতিথিরা এসেছেন। স্বাস্থ্য, বিশেষ করে মা ও শিশুর মৃত্যুহার কমানোর জন্য বিশ্বের ২৪টি দেশ একজোট হয়ে ভারতের Call to Action পরিকল্পনায় মতামত দিয়েছেন। আমেরিকার বাইরে অন্য কোনও দেশে এই পরিকল্পনা এই প্রথমবার হ’ল। এটা ঠিক যে আজও আমাদের প্রত্যেক বছর প্রায় পঞ্চাশ হাজার মা আর প্রায় তের লক্ষ শিশু প্রসবকালে কিংবা তার পরবর্তী সময়ে মারা যায়। এটা অত্যন্ত চিন্তাজনক এবং ভয়েরও। যদিও এই ব্যাপারে অনেক উন্নতি হয়েছে, আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের প্রশংসাও শুরু হয়েছে, তবুও এই সংখ্যা নেহাত কম নয়। যেমন আমরা পোলিও থেকে মুক্তি পেয়েছি, তেমনই মা ও শিশুর টিটেনাসের কারণে মৃত্যু থেকেও মুক্তি পেয়েছি। গোটা বিশ্ব একে স্বীকৃতি জানিয়েছে। কিন্তু এখনও আমাদের মা ও সদ্যোজাত শিশুদের সকলকে বাঁচাতে হবে। ভাই ও বোনেরা, আজকাল ডেঙ্গুর খবর খুব পাওয়া যাচ্ছে। এটা ঠিক যে ডেঙ্গু অত্যন্ত বিপজ্জনক। কিন্তু ডেঙ্গু থেকে পরিত্রাণ পাওয়া খুব সহজ। আমি যে স্বচ্ছ ভারতের কথা বলি, তার সঙ্গে এর সরাসরি যোগ আছে। ডেঙ্গু নিয়ে টিভিতে আমরা বিজ্ঞাপন দেখি, খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন ছাপা হয়, কিন্তু আমরা সেদিকে মন দিই না। ঘরের ছোট ছোট জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখা, জল বিশুদ্ধ রাখার নিয়মকানুন আছে। এই ব্যাপারে ব্যাপক হারে লোকশিক্ষা শুরু হয়েছে কিন্তু সেদিকে আমরা মনোযোগ দিচ্ছি না। কখনও কখনও মনে হয় যে আমরা খুব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ঘরে থাকি, খুব ভাল ব্যবস্থা, কিন্তু মাথায় থাকেন না যে আমারই ঘরে যে জল জমে আছে, তাতে আমি ডেঙ্গুকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমি সবাইকে অনুরোধ করব যে মৃত্যুকে এত সহজে আসতে দেবেন না। জীবন অনেক মূল্যবান। চারপাশের নোংরা জমা জলের প্রতি উদাসীন ভাব মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াবে, এটা ঠিক নয়। সারা দেশে প্রায় ৫১৪টি কেন্দ্রে বিনা পয়সায় ডেঙ্গুর পরীক্ষা করার ব্যবস্থা রয়েছে। সময় থাকতে থাকতে পরীক্ষা করানো মৃত্যুকে ঠেকিয়ে রাখার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এই ব্যাপারে আপনাদের সকলের সহযোগিতা একান্ত কাম্য। পরিচ্ছন্নতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতে হবে।

এখন রাখীবন্ধন থেকে দীপাবলী পর্যন্ত দেশজুড়ে নানান উৎসব চলবে। সব উৎসবের সঙ্গেই আমরা পরিচ্ছন্নতাকে কেন যুক্ত করব না! আপনারা দেখবেন, পরিচ্ছন্নতার এই বিধি পালন আপনার স্বভাব হয়ে যাবে।
আমার প্রিয় দেশবাসী, আজ আমি একটি খুশির খবর শোনাতে চাই। আমি প্রায়ই বলি যে, এখন আমাদের দেশের জন্য জীবন দান করার সৌভাগ্য হয় না, কিন্তু দেশের জন্য বাঁচার সৌভাগ্য তো হয়েছে। আমার দেশের দুটি তরুণ, মহারাষ্ট্রের নাসিকের দুই ভাই –
ড. হিতেন্দ্র মহাজন এবং ড. মহেন্দ্র মহাজন –এর মধ্যে দেশের আদিবাসীদের সেবা করার প্রবল ইচ্ছা রয়েছে। এই দুই ভাই ভারতের গৌরব বাড়িয়েছেন। আমেরিকায় একটি সাইকেল রেস হয়, ‘রেস অ্যাক্রস আমেরিকা’, যা খুব কঠিন। এই রেস প্রায় ৪,৮০০ কিলোমিটার লম্বা। এই বছর এই দুই ভাই এই রেসে বিজয়ী হয়ে ভারতের সম্মান বাড়িয়েছেন। আমি এই দুই ভাইকে অনেক অনেক শুভকামনা, ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমার এটা অত্যন্ত ভাল লাগছে যে এই দুই ভাই ‘টিম ইণ্ডিয়া ভিশন ফর ট্রাইবালস্‌’-এর যে উদ্দেশ্য অর্থাৎ, আদিবাসীদের উন্নতির জন্য কাজ করা – এই অভিযানের মাধ্যমে তাঁরা তা সফল করেছেন। দেখুন, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রত্যেকেই ব্যক্তিগত স্তরে কীভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যখন এইসব ঘটনা শুনি তখন গর্বে বুক ফুলে ওঠে। কখনও কখনও পুরনো ধ্যান-ধারণার বশবর্তী হয়ে আমরা নতুন প্রজন্মের প্রতি অন্যায় করে ফেলি। পুরনো প্রজন্মের মানুষের ধারণা আছে যে নতুন প্রজন্ম কিছু জানে না। এই ধ্যান-ধারণা বহু শতাব্দী ধরে চলে আসছে। কিন্তু আমি নতুন প্রজন্মের প্রতি অন্য ধারণা পোষণ করি। কখনও কখনও যুবকদের সঙ্গে কথা বললে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি। আমি এমন অনেক যুবকের সঙ্গে মিলিত হয়েছি, যাঁরা Sunday on Cycle–কে তাঁদের জীবনের ব্রত করেছেন। কিছু মানুষ বলেন, আমি তো সপ্তাহে একদিন ‘সাইকেল ডে’ পালন করি। আমার শরীর-স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের সুরক্ষার জন্যও এটি অত্যন্ত উপযোগী। আর আমি যে যুবক, সেটা ভাবতেও ভাল লাগে। এখন তো আমাদের দেশের অনেক শহরে সাইকেল চালানো হচ্ছে এবং সাইকেল চালাতে উৎসাহ দেওয়ার লোকও অনেক আছেন। এটি পরিবেশ সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য এক ভাল প্রচেষ্টা। আজ যখন আমার দেশের দুই তরুণ আমেরিকায় দেশের জাতীয় পতাকা তুলে ধরেছেন, তখন ভারতের যুবকদের ভাবনা-চিন্তা যে পথে চলেছে তা উল্লেখ করতে আমার ভাল লাগছে।

আমি আজ মহারাষ্ট্র সরকারকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাতে চাই। মুম্বই-এ ইন্দু মিল-এর জমিতে বাবাসাহেব আম্বেদকরের স্মারক তৈরির কাজ বহুদিন ধরে আটকে ছিল। মহারাষ্ট্রের নতুন সরকার এই কাজ সম্পন্ন করেছেন। এখন ওই জমিতে বাবাসাহেব আম্বেদকরের এক পবিত্র সুন্দর এবং প্রেরণাদায়ক স্মারক তৈরি হবে, যা আমাদের দলিত, নিপীড়িত, শোষিত এবং বঞ্চিত মানুষদের জন্য কাজ করার প্রেরণা জোগাবে। এই সঙ্গে লণ্ডনের 10, King Henry Road–এর যে বাড়িতে ড. বাবাসাহেব আম্বেদকর থাকতেন, সেটি আমরা কিনে নিয়েছি। মহারাষ্ট্র সরকার বাবাসাহেব আম্বেদকরের এক স্মারক সেখানে তৈরি করবেন। ভারতীয়রা, যাঁরা বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেড়ান, তাঁদের জন্য লণ্ডনের এই জায়গা এক প্রেরণাস্থল হবে। বাবাসাহেব আম্বেদকরের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য মহারাষ্ট্র সরকারের এই দুটি প্রচেষ্টাকেই আমি সাধুবাদ জানাচ্ছি, আমি গর্ব বোধ করছি, আমি তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি।

আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা, পরবর্তী ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের আগে আপনারা আপনাদের মতামত অবশ্যই আমাকে জানান, কারণ আমার বিশ্বাস, গণতন্ত্র প্রতিটি মানুষের অংশগ্রহণে, প্রতিটি ব্যক্তির ভোটপ্রয়োগে সফলতার দিকে এগিয়ে চলে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ এগিয়ে যেতে পারে।

আপনাদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।