Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

জাতির উদ্দেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মন কি বাত’ (উনবিংশ পর্ব) অনুষ্ঠানের বাংলা অনুবাদ


আমার প্রিয় দেশবাসী, আপনাদের সবাইকে নমস্কার! ছুটির সময় প্রতিটি মানুষ নানা পরিকল্পনা করে। আর এই ছুটির সময় আমের মরশুম। তো মনে হয় আমের স্বাদ গ্রহণ করি (আম খাওয়ার মজা উপভোগ করি)। আবার কখনও মনে হয় যে দুপুরে যদি কিছু সময় শোওয়ার সুযোগ আসে তো খুব ভাল হয়। কিন্তু এবার ভয়ঙ্কর গরম চতুর্দিকে সব মজাকেই তছনছ করে দিয়েছে। দেশবাসীর চিন্তা হওয়া খুব স্বাভাবিক। আর তার মধ্যে ক্রমাগত খরা হওয়াতে জল সংগ্রহের যে সমস্ত জায়গা আছে তাও কমে আসছে। কখনও কখনও দখলদারি, পলি পড়া-র জন্য জলের যে প্রবাহ তাতে বাধা পড়ে এবং জলাশয়ের নিজস্ব ক্ষমতার তুলনায় কম জল সংগ্রহ হয়। আর বছরের পর বছর এইরকম চলার কারণে জলাশয়ের জল ধারণ ক্ষমতাও কমে আসে। খরার মোকাবিলা করার জন্য, জলসঙ্কট থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সরকার নিজের কাজ তো করবেনই, কিন্তু আমি দেখেছি জনগণও একাজে যথেষ্ট সচেষ্ট। অনেক গ্রামেই এই ব্যাপারে সচেতনতা তৈরি হয়েছে, আর জল কতটা মূল্যবান এটা সেই মানুষই বুঝতে পারেন যিনি জলকষ্ট ভোগ করেছেন। এইজন্য এই সমস্ত জায়গায় জলের প্রতি মানুষ অনেক সংবেদনশীল এবং জল সংরক্ষণের ব্যাপারে কিছু না কিছু করার একটা চেষ্টা থাকে। কিছুদিন আগে আমাকে কেউ বলছিলেন যে, মহারাষ্ট্রের আহ্‌মদনগর জেলার হিবড়ে বাজার গ্রাম পঞ্চায়েত আর তার অধীন গ্রামবাসীরা গ্রামে জলের প্রয়োজনীয়তার ওপরে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। জল সংরক্ষণের ইচ্ছা আছে এমন গ্রাম অনেক পাওয়া যায়, কিন্তু এই গ্রামগুলি কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করে চাষের ধারাই বদলে দিয়েছেন। আখ, কলা ইত্যাদি যে সমস্ত ফসলে জলের প্রয়োজন বেশি হয়, তাঁরা সেই সমস্ত ফসলের চাষ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুনতে যতটা সরল মনে হচ্ছে, আদতে কাজটা ততটা সহজ নয়। সবাই মিলে কত বড় একটা সংকল্প করেছেন! যদি কোনও কারখানা জলের ব্যবহার করে আর আমরা সেই কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলি, কারণ জলের ব্যবহার বেশি হচ্ছে, তাহলে কি পরিণাম হবে তা আপনারা জানেন। কিন্তু এই কৃষকবন্ধুদের দেখুন, যখন তাঁরা দেখলেন যে আখ চাষে জল বেশি লাগছে, কাজেই আখের চাষ ছেড়ে দেওয়া উচিত, তো তাঁরা ছেড়ে দিলেন। আর তাঁরা শুরু করলেন সেইসব ফল ও সবজির চাষ যাতে জল কম লাগে। তাঁরা স্প্রিংক্‌লার, ড্রিপ ইরিগেশন, ওয়াটার হারভেস্টিং, ওয়াটার রিচার্জিং প্রভৃতি পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। তার ফলে গ্রামটি আজ নিজের শক্তিতেই জল সংকটের সঙ্গে লড়াই করার জন্য তৈরি হয়ে গেছে। এটা ঠিক যে আমি একটি ছোট্ট গ্রাম হিবড়ে বাজারের কথাই বললাম, কিন্তু এরকম আরও অনেক গ্রাম আছে। আমি এই সব গ্রামবাসীদের এই ধরণের ভালো কাজের জন্য অনেক অনেক অভিনন্দন জানাচ্ছি।

আমাকে জনৈক ব্যক্তি জানিয়েছেন যে মধ্যপ্রদেশের দেবাস জেলার গোরবা গ্রাম পঞ্চায়েত নিজেদের চেষ্টায় কৃষি জলাশয় তৈরির প্রচেষ্টা নিয়েছিলেন। তাঁরা প্রায় ২৭টি কৃষি-জলাশয় তৈরি করেছিলেন। এর ফলে ভূগর্ভস্থ জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছিল, জল অনেক ওপরে উঠে এসেছিল। যখনই চাষের জন্য জলের প্রয়োজন হয়েছিল, জল পাওয়া গেছিল এবং ফসল উৎপাদন ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। জল সংরক্ষণ তো হলই, আর যখন এভাবে জলস্তর ওপরে উঠে আসে তখন বিশুদ্ধ জল পাওয়ার অনেক সুবিধা হয়। আর এটা বলা হয় যে বিশুদ্ধ পানীয় জল মোট আভ্যন্তরীণ বিকাশ বাড়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করে, স্বাস্থ্যও ভালো হয়। কখনো কখনো মনে হয় যে এখন তো ভারত সরকার রেল পরিষেবার মাধ্যমে লাতুরে জল পৌঁছে দেয়, তা বিশ্বের কাছে এক বড় খবর হয়ে ওঠে। এটা ঠিক যে, যে দ্রুতগতির সঙ্গে রেল এই কাজ করে চলেছে তা অভিনন্দনযোগ্য। কিন্তু সেই গ্রামের মানুষরাও অভিনন্দনযোগ্য। আমি তো বলব, রেলের থেকেও তাঁরা বেশি অভিনন্দনযোগ্য। এমন অনেক পরিকল্পনা জনগণের সাহায্যে চলছে, যা কখনও সামনে আসে না। সরকারের ভালো কাজের কথা কখনও না কখনও সামনে আসে, কিন্তু যদি কখনো আমরা আমাদের আশেপাশে দেখি, তো দেখব, যে খরার মোকাবিলা করার জন্য, মানুষ কতরকম ভাবে, নতুন নতুন পদ্ধতির সাহায্যে সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হয়েছেন।

মানুষের স্বভাবই হল, যত বিপদের মধ্যেই দিন কাটুক না কেন, কোনো সুসংবাদ এলে বিপদ যেন কেটে গেছে মনে হয়। যখন থেকে ১০৬ শতাংশের পরিবর্তে ১১০ শতাংশ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা সর্বজনবিদিত হয়েছে, তখনই মনে হল যেন এক মস্ত বড় শান্তির বার্তা এল! এখনও বর্ষা আসার দেরি আছে, কিন্তু ভাল বর্ষা হওয়ার খবর এক নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

কিন্তু আমার প্রিয় দেশবাসী, ভালো বৃষ্টি হবে – এই খবর আমাদের যতটা আনন্দ দেয়, ততটাই আমাদের কাছে এক ভালো সুযোগ এবং চ্যালেঞ্জ এনে দেয়। – আমরা কি গ্রাম গ্রামে জল সংরক্ষণের জন্য অভিযান চালাতে পারব? কৃষকদের মাটির প্রয়োজন, ক্ষেতে ফসলের জন্য কাজে লাগে। এবার আমরা গ্রামের পুকুর থেকে মাটি তুলে নিয়ে ক্ষেতে ঢালতে পারি না? তাতে ক্ষেতও ভাল থাকবে আর তার জল সঞ্চয়ের ক্ষমতাও বেড়ে যাবে। কখনও সিমেন্টের বস্তায়, কখনও সারের খালি বস্তায় পাথর আর মাটি ভরে জল যাওয়ার রাস্তায় সেগুলো রেখে জল সঞ্চয় করা যেতে পারে কি? পাঁচদিন বা সাতদিন জল তাহলে আটকে থাকবে, এবং ভূগর্ভে জল সঞ্চিত হবে। জলস্তর বাড়বে, আমাদের কুয়োতে জল আসবে। তাই যতটা সম্ভব জল সঞ্চয় করা প্রয়োজন। বর্ষার জল, গ্রামের জল গ্রামেই থাকবে। এই উদ্দেশ্যে যদি আমরা কিছু কাজ করি, সেটা সম্মিলিত প্রয়াসেই সম্ভব। তো আজ জলের সংকট ভালোই রয়েছে, খরা চলছে। কিন্তু আগামী মাস দেড়েক আমাদের হাতে সময় রয়েছে। আমি তো সবসময়ই বলি যে, যদি আমরা মহাত্মা গান্ধীর জন্মস্থান পোরবন্দরে যাই, তো ওখানে যে আলাদা আলাদা জায়গা আমরা দেখি, সেখানে একটি জায়গা আছে, যেখানে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের জন্য ঘরের নীচে ২০০ বছরের পুরনো জলাশয় তৈরি করা আছে। আর সেখানে জল কতটা বিশুদ্ধ থাকে।

শ্রীমান কুমার কৃষ্ণা ‘মাই গভ’-এ প্রশ্ন করেছেন – আমাদের জীবৎকালে গঙ্গা সাফাই অভিযান সম্ভব হবে কি? ওঁর চিন্তা খুবই স্বাভাবিক। কারণ প্রায় ৩০ বছর ধরে এই কাজ চলছে। কত সরকার এসেছে, কত প্রকল্প তৈরি হয়েছে, অনেক খরচও হয়েছে। আর তাই ভাই কুমার কৃষ্ণা-র মত দেশের কোটি কোটি মানুষের মনে এই প্রশ্ন ওঠা খুবই স্বাভাবিক। যাঁরা ধর্ম মানেন, তাঁদের কাছে গঙ্গা মোক্ষদায়িনী। আমার মনে হয় গঙ্গা শুধু মোক্ষদায়িনীই নয়, জীবন-দায়িনীও বটে। গঙ্গা আমাদের রুজি-রুটির সংস্থান করে। গঙ্গা আমাদের নতুন করে বাঁচার শক্তি যোগায়। গঙ্গা যেমন বয়ে চলে, তেমনভাবে দেশের অর্থনীতিকেও এক নতুন প্রবহমানতা দেয়। এক ভগীরথ আমাদের গঙ্গা এনে দিয়েছিলেন, কিন্তু একে বাঁচানোর জন্য কোটি কোটি ভগীরথ দরকার। জনগণের সামগ্রিক সাহায্য ছাড়া এ কাজ কখনই সম্ভব হবে না। এর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বচ্ছতার জন্য আমাদের change agent হতে হবে। বার বার একই কথা আলোচনা করতে হবে। বলতে হবে। সরকারের তরফে অনেকগুলো প্রকল্প চলছে। গঙ্গার তীরে যেসমস্ত রাজ্য আছে, সেইসব রাজ্যের সম্পূর্ণ সহযোগিতা নেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে। সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে একাজের সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়াস চলছে। পরিবেশ দূষণ ও কারখানার মাধ্যমে দূষণ রোধ করার জন্য নানান পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন গঙ্গায় খুব বেশি মাত্রায় নালা-নর্দমার মাধ্যমে জঞ্জাল এসে পড়ে। এই জঞ্জাল পরিষ্কার করার জন্য বারাণসী, এলাহাবাদ, কানপুর, পাটনা ইত্যাদি নানা জায়গায় Trash skimmer জলে ভাসতে ভাসতে জঞ্জাল পরিষ্কার করতে থাকে। সমস্ত স্থানীয় সংগঠনগুলিকে জানানো হয়েছে এবং অনুরোধ করা হয়েছে যে তারা যেন এই কাজ চালু রাখেন এবং জঞ্জাল পরিষ্কারের কাজটি নিয়মিত করেন। আগে আমাকে বলা হয়েছিল, যে যেখানে প্রচেষ্টা হয় ভালোভাবে, সেখানে প্রতিদিন ৩ থেকে ১১ টন পর্যন্ত জঞ্জাল সাফ করা সম্ভব হয়। তাহলে এটা ঠিক যে আমরা এক বড়ো মাত্রায় জঞ্জাল পরিষ্কার করতে সমর্থ হচ্ছি। আগামী দিনে আরও কয়েকটি জায়গায় Trash skimmer লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আর এর উপযোগিতা গঙ্গা ও যমুনার তীরবর্তী মানুষরা খুব শীঘ্রই বুঝতে পারবেন, pulp and paper, distillery এবং sugar industry–র দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য এক কার্যকরী পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই পরিকল্পনা কার্যকর করাও শুরু হয়ে গেছে। আমার মনে হয়, এই কাজের সুফল আসবে।

গত কয়েকদিনে কিছু সরকারি কর্তাব্যক্তি আমাকে জানিয়েছে যে উত্তরাখণ্ড এবং উত্তরপ্রদেশে distillery থেকে যে বর্জ্য পদার্থ নিষ্ক্রমণ হতো, তা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে তাঁরা সফল হয়েছেন। এটা আমার কাছে একটা আনন্দের খবর। Pulp and Paper industry বাblack liquor–এর কারখানা থেকে বর্জ্য পদার্থ নিষ্ক্রমণ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই সব ঘটনা প্রমাণ করছে যে আমরা সঠিক লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছি আর সচেতনতাও বেড়েছে।

আমি দেখেছি যে শুধু গঙ্গার তীরই নয়, সুদূর দাক্ষিণাত্যে যাঁরা বসবাস করেন, তাঁরাও অবশ্যই বলেন যে গঙ্গা সাফাই সম্পূর্ণ হবে তো? তো জনগণের এই আস্থা গঙ্গা সাফাইয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই সফলতা দেবে। গঙ্গার পরিচ্ছন্নতার জন্য লোকে আর্থিক সাহায্যও করছেন যার ফলে খুব ভালোভাবে এই কাজ চলছে।

আমার প্রিয় দেশবাসী, আজ ২৪-শে এপ্রিল। ভারতে এই দিনটি ‘পঞ্চায়েতি রাজ দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। আজকের দিনেই আমাদের দেশে পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। আর আজ সারা দেশে পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থা আমাদের গণতন্ত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ একক হিসাবে সফলতার সঙ্গে কাজ করে চলেছে। চোদ্দই এপ্রিল আমরা বাবা সাহেব আম্বেদকরের ১২৫-তম জন্মজয়ন্তী পালন করেছি, আর আজ ২৪-শে এপ্রিল ‘পঞ্চায়েতি রাজ দিবস’ পালন করছি। এ এক সুন্দর সমাপতন। আমাদের সংবিধানের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ আমাদের গ্রাম। সংবিধানের সঙ্গে গ্রামকে যুক্ত করার এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করার প্রেরণা তিনি। এই লক্ষ্যে তাঁর জন্মদিন
১৪-ই এপ্রিল থেকে ২৪-শে এপ্রিল এই দশ দিন ব্যপী গ্রামোদয় থেকে ভারতোদয় অভিযান চালানো হয়েছে। এ আমার সৌভাগ্য যে ১৪-ই এপ্রিল, বাবা সাহেব আম্বেদকরের জন্মদিনে তাঁর জন্মস্থান মহু যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। সেই পবিত্র স্থানে প্রণাম জানানোর সুযোগ আমার হয়েছিল। আজ ২৪ তারিখ, ঝাড়খণ্ডে, যেখানে সবথেকে বেশি আদিবাসী ভাই-বোন রয়েছেন, সেখানে গিয়ে আজ আমি ‘পঞ্চায়েতি রাজ দিবস’ পালন করব। বেলা তিনটের সময় আরও একবার দেশের সব পঞ্চায়েত-এর সঙ্গে কথা বলব। এই অভিযান এক মস্ত বড়ো সচেতনতার কাজ করেছে। ভারতবর্ষের প্রতিটি গ্রামে গণতান্ত্রিক কাঠামো কীভাবে দৃঢ় করা যায়, গ্রামগুলিকে কীভাবে স্বনির্ভর করা যায়, গ্রাম নিজেই নিজের উন্নতির লক্ষ্যে নানান পরিকল্পনা কীভাবে তৈরি করবে, পরিকাঠামো, সামাজিক পরিকাঠামোর গুরুত্ব, গ্রামে ড্রপ-আউট হওয়ার সম্ভাবনা নির্মূলকরণ, বাচ্চাদের স্কুলছুট হওয়া বন্ধ করা, ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ অভিযান সাফল্যের সঙ্গে চালানো, কন্যার জন্মদিনকে গ্রামের উৎসবের দিন হিসাবে পালন করা ইত্যাদি নানা লক্ষ্যের সঙ্গে কিছু গ্রামে খাদ্য দানের কাজও হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের এতগুলো গ্রামে এতগুলো অনুষ্ঠান দশ দিন ধরে চলেছে, এরকম খুব কমই দেখা যায়। আমি সমস্ত রাজ্য সরকারকে, গ্রাম প্রধানদের এজন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি। আপনারা অত্যন্ত মৌলিক ও নতুন পদ্ধতিতে গ্রামের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য, গণতন্ত্রকে আরও দৃঢ় করার জন্য এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছেন। গ্রামে যে সচেতনতা এসেছে সেটাই তো ভারত উদয়ের মূল চাবিকাঠি। ভারত উদয়ের সাফল্য নির্ভর করে গ্রাম উদয়ের ওপর। আর তাই গ্রাম উদয়ের ওপর আমরা সবাই যত জোর দেব, ততই ঈপ্সিত ফল পাব।

মুম্বই থেকে শর্মিলা ধারকুড়ে ফোন করে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন। –

প্রধানমন্ত্রীজী নমস্কার! আমি মুম্বই থেকে শর্মিলা ধারকুড়ে বলছি। আমার বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষা সম্পর্কে আপনার কাছে প্রশ্ন আছে। যেমন শিক্ষাক্ষেত্রে বিগত বহু বছর ধরে সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা আছে। যথেষ্ট পরিমানে স্কুল-কলেজ না থাকার জন্য, শিক্ষার মান যথেষ্ট না হওয়ার জন্য দেখা যায়, শিশুরা তাদের শিক্ষা সম্পূর্ণ করেছে কিন্তু তাদের অক্ষরশিক্ষা, প্রাথমিক জ্ঞান হয়নি। এজন্য আমাদের শিশুরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। এই ব্যাপারে আপনার ভাবনা-চিন্তা কী? আপনি এই ক্ষেত্রের উন্নতি কীভাবে করতে চাইছেন তা যদি দয়া করে আমাদের জানান। ধন্যবাদ!

এই চিন্তা খুবই স্বাভাবিক। আজ প্রতিটি পরিবারে মা-বাবার যদি একটিই স্বপ্ন থাকে, তবে তা হল সন্তানের শিক্ষা। বাড়ি-গাড়ির কথা পরে আসে। ভারতবর্ষের মত দেশে সন্তানের পড়াশোনার জন্য এই ভাবনা, তাদের যথেষ্ট শিক্ষাদানের ভাবনা, এক মস্ত বড়ো শক্তি। সন্তানকে ভালো শিক্ষাদানের এই ভাবনা আরো বাড়ানো চাই। এই ব্যাপারে আরও সচেতনতা আসা প্রয়োজন।

আমি মনে করি যে সমস্ত পরিবারে এই সচেতনতা আছে, তার সুফল স্কুলে শিক্ষকদের ওপর পড়ে, এমনকি বাচ্চাও শিক্ষার ব্যাপারে সচেতন হয়ে ওঠে। এজন্য আমি সমস্ত অভিভাবক ও মা-বাবাকে অনুরোধ করব যে বাচ্চাদের সঙ্গে স্কুলের কার্যক্রম সম্পর্কে যথেষ্ট সময় দিয়ে আলোচনা করুন। আর যদি কোনও বিষয় মনে হয় তো নিজেই স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করুন। এই নজরদারী আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রের অনেক ত্রুটি কমাতে সাহায্য করবে। আর সবার অংশীদারীত্বে এটা অবশ্যই সম্ভব হবে। আমাদের দেশের প্রতিটি সরকার শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এবং তাঁরা নিজের নিজের পদ্ধতিতে চেষ্টাও করেছেন। আর এটাও সত্যি যে দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের মনোযোগ ছিল যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি হোক, শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তার ঘটুক, স্কুল-কলেজ তৈরি হোক, শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ হোক, অনেক শিশু স্কুলে আসুক প্রভৃতি বিষয়ে। তো একপ্রকার শিক্ষাকে চতুর্দিকে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াস ছিল আমাদের প্রধান গুরুত্ব। আর এর প্রয়োজনও ছিল। কিন্তু এখন, শিক্ষাব্যবস্থা প্রসারের থেকেও বেশি গুরুত্ব শিক্ষার উন্নতির। শিক্ষা প্রসারের ক্ষেত্রে এক বড়ো কাজ আমরা করেছি। এখন আমাদের গুণগত শিক্ষার ওপর জোর দিতেই হবে। সাক্ষরতা অভিযানের মাধ্যমে ভালো শিক্ষা – এটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। এতদিন পরিকাঠামোর হিসাব-নিকাশ প্রয়োজন হত। এখন শিক্ষার সাফল্যের হিসাব নিকাশ করা প্রয়োজন। এতদিন পর্যন্ত স্কুলে কতজন শিক্ষার্থী এসেছে তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হত। এখন ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যার তুলনায় শিক্ষার গুণগত মানের ওপর জোর দিতে হবে। ভর্তি, ভর্তি, ভর্তি – এই মন্ত্র সারাক্ষণ জপ করা হত। কিন্তু এখন যে শিশু স্কুলে এসেছে, তাদের ভাল এবং যোগ্য শিক্ষা দেওয়ার ওপর আমাদের মনোনিবেশ করতে হবে। বর্তমান সরকারের বাজেট আপনারা দেখেছেন। সুশিক্ষার ওপরে জোর দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা ঠিক যে, অনেক পথ চলা বাকি। তবে যদি আমরা ১২৫ কোটি দেশবাসী সিদ্ধান্ত নিই, তাহলে এই পথও আমরা অতিক্রম করতে পারব। তবে শর্মিলাজীর কথাটা সত্যি যে আমাদের নিজেদের চিন্তাধারাতেও আপাদমস্তক পরিবর্তন আনা বাঞ্ছনীয়।

আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ করেছেন, এবার বাজেটে পরম্পরাগত ধারণার বাইরে গিয়ে কিছু কাজ করা হয়েছে। বাজেটের মধ্যে দশটি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় এবং দশটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়কে সরকারী বন্ধন থেকে মুক্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে সর্বোত্তম বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার জন্য তাদের সামনে কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে! তাদের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার জন্য এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে, আর এরকম প্রতিযোগিতা করাও দরকার। এরই সঙ্গে শিক্ষা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দক্ষতা। এই কারণে শিক্ষার ক্ষেত্রে টেকনোলজি খুব বড় ভূমিকা পালন করবে। দূর-শিক্ষার টেকনোলজি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সহজ করবে। আর অদূর ভবিষ্যতে এর ফল বুঝতে পারব বলে আমার বিশ্বাস।

বেশ কিছুদিন যাবৎ একটি বিষয় নিয়ে আমাকে কিছু মানুষ প্রশ্ন করছেন, কেউ কেউ mygov webportal–এ লিখছেন, কেউ কেউ Narendra Modi App–এ লিখছেন, আর এরমধ্যে বেশিরভাগই যুব সম্প্রদায়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, নমস্কার! আমি বিজনোর থেকে মীণা কর্ণওয়াল বলছি। আজকের দিনে লেখাপড়ার সঙ্গে সঙ্গে খেলাধুলাতেও যুবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। তাদের মধ্যে দলবদ্ধভাবে কাজ করার মানসিকতা, আর ভালো নেতৃত্বের গুণ থাকা দরকার যাতে তাদের সার্বিক বিকাশ সম্ভব হয়। এটা আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, কেননা আমি নিজে ‘ভারত স্কাউটস্‌ অ্যান্ড গাইডস্‌’-এর সদস্য ছিলাম। আমার জীবনে তার এক বড়ো প্রভাব পড়েছে। আমি চাই আপনি অনেক বেশি সংখ্যক যুবকদের অনুপ্রাণিত করুন। আমি চাই সরকার অধিক থেকে অধিক সংখ্যক NCC, NSS এবং ভারত Scouts and Guide-কে উৎসাহিত করুক।

আপনারা আমাকে এত প্রস্তাব পাঠিয়েছেন যে আমিও আপনাদের সঙ্গে কথা বলার আগে NCC, NSS, ভারত Scouts and Guides প্রভৃতি সংস্থার সঙ্গে কথা বলার জন্য মনস্থির করি। আপনাদের বারংবার অনুরোধে ও প্রস্তাবে আমি একটি বৈঠকের আয়োজন করেছিলাম, যাতে NCC, NSS, Scouts and Guide, Red Cross, Nehru যুবকেন্দ্রের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। আমি যখন তাদের জিজ্ঞেস করলাম তারা এর আগে কবে একত্রে মিলিত হয়েছেন, তো তারা আমাকে জানান, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তারা প্রথমবার এই ধরনের বৈঠকে উপস্থিত হয়েছেন। এই কারণে আমি সর্বপ্রথম সেই সব যুবা বন্ধুদের অভিনন্দন জানাতে চাই, যাঁরা এই কাজ করার জন্য আমাকে অনুরোধ করেছেন। এর ফলে আমি এই বৈঠকের আয়োজন করেছিলাম, যা আমার খুব ভালো লেগেছে। তবে আমার মনে হয়, এই সংস্থাগুলির মধ্যে বোঝাপড়ার আবশ্যকতা আছে। প্রত্যেকে নিজের নিজের মতো অনেক কিছু করছে, কিন্তু যদি বিভিন্ন সংগঠন মিলিত ভাবে, সংগঠিত রূপে কাজ করে তো কত ভালোভাবে কাজ সম্পন্ন করতে পারে। কত বড়ো এদের বিস্তৃতি, কত পরিবার পর্যন্ত এরা পৌঁছবে। এদের ব্যপ্তি দেখে আমি খুব আশ্চর্যান্বিত হয়েছি। তাদের মধ্যে কিছু না কিছু করার উৎসাহ আমি লক্ষ করেছি। আর এটাতো ঠিক, যে আমি নিজে NCC ক্যাডেট ছিলাম। তাই আমি জানি যে এই সংগঠন থেকে কীভাবে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গী জন্ম নেয়, প্রেরণা পায় এবং এক রাষ্ট্রিয় একতার চিন্তাভাবনা সংগঠিত হয়। আমি তো অল্প বয়সেই লাভবান হয়েছি। তবে আমার মনে হয়, এই সব সংগঠনগুলিতে এক নতুন প্রাণ সঞ্চয় করা দরকার। এক নতুন শক্তি সৃষ্টি করা দরকার। এবার আমি তাদের সামনে এই ধরণের কিছু বিষয় তুলে ধরেছি। আমি তাদেরকে বলেছি, এই গরমের সময় আমাদের যুবাবন্ধুরা কেন জল সঞ্চয়ের কাজে অংশ গ্রহণ করবে না? আমরা চেষ্টা করে কত ব্লক, কত জেলাতে খোলা জায়গায় শৌচকাজ বন্ধ করতে পারি, খোলা জায়গায় শৌচকর্ম কীভাবে বন্ধ করা যায়? দেশকে সংগঠিত করতে কীরকম পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার, আমাদের সকল সংগঠনের যুবকদের একটি সাধারণ জপমন্ত্র কী হতে পারে? ওদের সঙ্গে এরকমই কিছু কথাবার্তা হয়েছে।

আমি আপনাদের অনুরোধ করব, আপনারা আমাকে বলুন, কিছু সঠিক পরামর্শ দিন যে এই যুব সংগঠনগুলির কার্যপদ্ধতির মধ্যে নতুন কী সংযোজন করা যেতে পারে। আমার নরেন্দ্র মোদী অ্যাপ-এ আপনারা লিখলে আমি সেটা উপযুক্ত জায়গায় পৌছে দেব আর আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই বৈঠক-এর পর সংগঠনগুলির কাজে গতি আসবে। আপনারাও এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করবেন এরকম পরিস্থিতি তৈরি হবে।

আমার প্রিয় দেশবাসী, আমাদের সবাইকে চিন্তা করতে বাধ্য করছে এরকম কিছু কথা এখন আমি বলব। আমি এটাকে আমাদের মধ্যে আলোড়ণ সৃষ্টিকারী বিষয়রূপে দেখি। আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ করেছেন যে আমাদের দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিগত কয়েকটি নির্বাচনে এই বিষয়ে অনেক কথাবার্তা হয়েছে – কোন পার্টি কতগুলি গ্যাস সিলিণ্ডার দেবে? ১২-টা না ৯-টা? নির্বাচনে এটা ছিল একটা মুখ্য বিষয়। সব রাজনৈতিক দল মনে করেছিলেন যে মধ্যবিত্ত সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য গ্যাস সিলিণ্ডার একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদ্‌রা গ্যাস সাবসিডি কম করার কথা বলেছিলেন। কয়েকটি কমিটিও গ্যাস সাবসিডি কম করার বিষয়ে তাদের প্রস্তাব রেখেছেন। এই কমিটিগুলির জন্য কয়েক কোটি টাকা খরচ হচ্ছিল, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এটা সবারই অভিজ্ঞতা। কিন্তু তা সত্ত্বেও এর বাইরে কিছু ভাবা হয়নি। আমার দেশবাসী, আজকে আপনাদের বলতে আমাদের আনন্দ হচ্ছে যে, আমরা একটি তৃতীয় রাস্তা বার করেছি। আর এই রাস্তা হচ্ছে জনতা-জনার্দ্দনের উপরই বিশ্বাস রাখা। কখনো কখনো আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের নিজের থেকে নিজের লোকেদের ওপর বিশ্বাস করা উচিত। জনতা জনার্দনের ওপর বিশ্বাস রেখে আমি কথার কথা বলেছিলাম, আপনারা যদি বছরে ১৫০০ বা ২০০০ টাকার বোঝা সহ্য করতে পারেন, তাহলে গ্যাস সাবসিডি কেন ছেড়ে দিচ্ছেন না, যেটা কোনো গরীবের কাজে আসবে! আমি এই ধরনের কথা বলেছিলাম, কিন্তু আজকে আমি বলতে চাই, আমার দেশবাসীর ওপর আমার গর্ব হচ্ছে। এক কোটি পরিবার স্বেচ্ছায় গ্যাস সাবসিডি ছেড়ে দিয়েছেন। আর এই এক কোটি পরিবার ধনী নয়। আমি দেখছি, যারা সাবসিডি ছেড়েছেন, তাদের মধ্যে কেউ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত clerk, কৃষক, ছোটো দোকানদার – এই ধরনের মধ্যবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির পরিবার। আর একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় লক্ষ করুন, গ্যাস সাবসিডি ছাড়ার জন্য মোবাইল ফোন অ্যাপ-এর সাহায্য নেওয়া যেতে পারত, অনলাইন-এ করতে পারতেন, টেলিফোনে মিস্‌ড কল করেও করতে পারতেন – এরকম অনেক উপায় ছিল। কিন্তু হিসেব করে দেখা গেছে যে এই এক কোটি পরিবার যাঁরা গ্যাস সাবসিডি ছেড়েছেন, তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশেরও বেশি মানুষ ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে লিখিত আবেদন করে গ্যাস সাবসিডি ছেড়েছেন।

আমার প্রিয় দেশবাসী, এটা খুব একটা ছোটো বিষয় নয়। সরকার যদি ট্যাক্স-এ অল্প কিছু ছাড় দেয়, তাহলে সপ্তাহব্যপী টিভি এবং সংবাদপত্রে সরকারের প্রশংসা শোনা যায়। আমাদের দেশে সাবসিডিকে একধরনের অধিকার বলে মানা হয়। কিন্তু এক কোটি পরিবার সাবসিডি ছেড়ে দিয়েছেন। আমি সবার আগে ঐ এক কোটি পরিবারকে শত শত প্রণাম জানাচ্ছি, অভিনন্দন জানাচ্ছি, কেননা তাঁরা রাজনৈতিক নেতাদের নতুনভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করেছেন। বিশ্বের অর্থনীতিবিদ্‌রা, যাঁরা এটা করলে ওটা হবে, এই ধরনের আর্থিক সমীকরণ উপস্থাপনা করেন, এই ঘটনা তাঁদেরও চিন্তার বাইরে। এক কোটি পরিবারের সাবসিডি ছাড়া এবং তার বদলে এককোটি গরীব পরিবারের গ্যাস সিলিণ্ডার পাওয়ার বিষয়টি সত্যিই মনে রাখার মতো। এক কোটি পরিবারের সাবসিডি ছাড়ার ফলে যে পরিমান টাকা বাঁচানো যাচ্ছে, সেটা হয়তো বাইরে থেকে দেখলে খুবই সামান্য। যেটা অসামান্য বিষয়, সেটা হল জনগণের ওপর বিশ্বাস রেখে কাজ করলে কত সন্তুষ্টি পাওয়া যায়। আমি, বিশেষ করে সমস্ত রাজনীতিবিদ্‌দের অনুরোধ করব, তাঁদের বলব আমরা যেন সর্বক্ষেত্রে জনগণের ওপর বিশ্বাস রাখি। আপনারা নিশ্চয়ই কখনো চিন্তাও করেননি যে আমরা এই ধরনের সাফল্য পাব আর আমাদের এই অভিমুখে যাওয়া উচিৎ। আমার বারবার মনে হয় যে তৃতীয় এবং চতুর্থ বর্গের জন্য কেন ইন্টারভিউ করব। পরীক্ষা দিয়ে যে নম্বর পাঠিয়েছে, তার উপর আস্থা রাখুন। কখনও কখনও তো আমার মনে হয় কি, আমরা ঘোষণা করি, আজ রেলের এই রাস্তায় কোনও টিকিট পরীক্ষক থাকবেন না। দেশের জনগণের ওপর আস্থা রেখে দেখুন কী হয়! এই ধরনের অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা আমরা করতে পারি। দেশের জনগণের ওপর আস্থা রাখলে আশাতীত ফল পাওয়া যেতে পারে। যাই হোক, এটাতো নিজস্ব মতামত। এটা কোনো সরকারী নিয়ম হতে পারে না। কিন্তু এই ধরনের একটা পরিবেশ তো আমরা তৈরি করতে পারি। আর এই পরিবেশ কোনো রাজনৈতিক নেতা তৈরি করছেন না, দেশের এককোটি পরিবার এই পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন।

রবি কর্কে নামে এক ভদ্রলোক আমাকে চিঠি লিখেছেন – “Good News everyday!” উনি লিখেছেন – দয়া করে আপনার আধিকারিকদের বলুন, প্রতিদিন কোনো একটি ভালো ঘটনার বিষয়ে প্রত্যেক খবরের কাগজ ও নিউজ চ্যানেল-এ পোস্ট করতে। সব ব্রেকিং নিউজই খারাপ খবর হয়। ১২৫ কোটি জনসংখ্যার এই দেশে আমাদের আশেপাশে কি ভালো কিছুই হচ্ছে না? দয়া করে এই অবস্থার পরিবর্তন করুন। শ্রীমান রবি খুব রাগ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু আমার বিশ্বাস ও আমার উপর রাগ করছে না, বর্তমান অবস্থার উপর রাগ ব্যক্ত করছেন। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে ভারতের প্রাক্তণ রাষ্ট্রপতি ড: এ পি জে আবদুল কালাম সবসময় বলতেন, সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় সব সময় আশাব্যঞ্জক খবর ছাপুন। তিনি বারবার এই কথা বলতেন। কিছুদিন আগে একটি খবরের কাগজের তরফ থেকে আমাকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন যে সোমবার দিন ওরা কোনো নিরাশাব্যঞ্জক খবর ছাপবেন না। অর্থাৎ কেবলমাত্র আশাব্যঞ্জক খবরই ছাপবে। আজকাল আমি দেখছি কিছু টিভি চ্যানেল আশাব্যঞ্জক খবর প্রচারের জন্য কিছু সময় নির্দিষ্ট করেছেন। তাহলে এটা তো ঠিকই যে আজকাল আশাব্যঞ্জক খবর প্রকাশের একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আর সবাই চাইছেন সাধারণ মানুষ যেন সঠিক আর ভালো খবর পান। এটা ঠিক যে কোনো বিখ্যাত ব্যক্তিও যদি ভালো ভালো কথা বলেন, ভালো ভালো শব্দ চয়ন করেন, ভালোভাবে তা উপস্থাপনা করেন তার যে প্রভাব, তার থেকে বেশি প্রভাব লক্ষ্য করা যায় কোনো ভালো খবরের। ভালো খবর ভালো কাজ করার প্রেরণা যোগায়। এটা তো ঠিক, ভালোর ওপর গুরুত্ব দিলে খারাপের স্থান আপনা থেকেই কমে যাবে। যদি প্রদীপ জ্বালাই, তাহলে অন্ধকার দূর হবেই, হবেই, হবেই! হয়তো আপনারা জানেন, এই কারণে সরকারী তরফে একটি ওয়েবসাইট খোলা হয়েছে – ট্রান্সফর্মিং ইণ্ডিয়া – এই ওয়েবসাইট-এ আশাব্যঞ্জক খবর প্রকাশ করা হয়। এটা শুধু সরকারের নয়, সাধারণ মানুষ এমনকী আপনিও কোনো ভালো খবর এই পোর্টালে পাঠাতে পারেন। আপনিও এতে যোগদান করতে পারেন। রবিজী, আপনি ভালো পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু দয়া করে আমার ওপর রাগ করবেন না। আমরা সবাই মিলে গঠনমূলক কাজ করার চেষ্টা করব, গঠনমূলক কথা বলার চেষ্টা করব, গঠনগত লক্ষ্যে পৌঁছনোর চেষ্টা করব।

আমাদের দেশের বৈশিষ্ট্য কুম্ভমেলা। কুম্ভমেলা পর্যটক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে। বিশ্বের খুব কম লোকেরই জানা আছে যে এত দীর্ঘ সময় ধরে নদীর তীরবর্তী স্থানে কোটি কোটি মানুষ আসেন। শান্ত মনে, শান্ত পরিবেশে এই মেলা সম্পন্ন হয়। এই ঘটনা প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিভঙ্গীতে, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দৃষ্টিভঙ্গিতে, সাধারণ মানুষের অংশীদারীত্বের দৃষ্টিভঙ্গীতে নিজেই এক খুব বড়ো নজির সৃষ্টি করে। বিগত কয়েকদিন ধরে আমি দেখছি যে, কিছু মানুষ সিংহস্ত কুম্ভের ছবি আপলোড করছে। আমি চাই যে ভারত সরকার ও রাজ্য সরকারের পর্যটন দপ্তর এই ছবিগুলির এক প্রতিযোগিতা আয়োজন করুন। আর লোকজনকে বলুন ভালো ভালো ফোটো তুলে আপলোড করতে। সাধারণ মানুষ জানতে পারবেন যে কুম্ভমেলার প্রতিটি কোণে কত বিভিন্ন রকমের ঘটনা ঘটে চলেছে – এক সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়ে যাবে। এই কাজ অবশ্যই করা সম্ভব। দেখুন, এই কথা ঠিক। মাঝে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আমার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তিনি বলছিলেন যে, আমরা স্বচ্ছতার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছি, আর স্বচ্ছতা শুধু এই পরিসরে আটকে থাকুক, তা নয়, কুম্ভমেলা থেকে মানুষ স্বচ্ছতার বার্তা নিয়ে যাবেন এটাই তাঁরা চান। আমি মানি যে এই কুম্ভমেলা এক ধার্মিক এবং আধ্যাত্মিক মেলা। কিন্তু আমরা এটিকে এক সামাজিক মিলনক্ষেত্র হিসেবেও তৈরি করতে পারি। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্র হিসেবেও গড়ে তুলতে পারি। সৎ সংকল্প, সৎ অভ্যাস গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার এ এক সুযোগ হতে পারে। জলের প্রতি ভালোবাসা, জলের প্রতি ভরসা কীভাবে বাড়ানো যায়, জল সঞ্চয়ের বার্তা দেওয়ার জন্য কুম্ভমেলার ব্যবহার যতরকম ভাবে করা যায়, তা আমাদের করা উচিত।

আমার প্রিয় দেশবাসী, পঞ্চায়েত রাজের এই মহতী দিনে আমি আরও একবার আপনাদের সঙ্গে অবশ্যই মিলব, আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আর প্রতিবারের মতো আপনাদের মনের কথার সঙ্গে আমার মনের কথার এই যে অটুট সংযোগ – এই জন্য আমার আনন্দ। আরও একবার অনেক অনেক ধন্যবাদ!

PG/DM/S….