Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

জাতির উদ্দেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মন কিবাত’ (২৮-তমপর্ব) অনুষ্ঠানের বাংলা অনুবাদ


আমার প্রিয় দেশবাসী, আপনাদের সবাইকে নমস্কার!

২৬-শে জানুয়ারি আমাদের গণতন্ত্র দিবস দেশের প্রতিটি কোণে উৎসাহ আর উদ্দীপনারসঙ্গে পালন করেছেন সবাই। ভারতের সংবিধান, নাগরিকদের কর্তব্য, নাগরিকদের অধিকার,লোকতন্ত্রের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা – এ যেন এক অর্থে সংস্কার উৎসব যা আগামী প্রজন্মকেগণতন্ত্রের বিষয়ে, গণতন্ত্রের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে, সংস্কারে আবদ্ধ করে।কিন্তু এখনও আমাদের দেশে নাগরিকদের কর্তব্য আর নাগরিকদের অধিকার  – এর উপর যতটা বিতর্ক হওয়া উচিত, যতটা গভীরে গিয়ে বাদানুবাদহওয়া উচিত, যতটা ব্যাপকভাবে চর্চা হওয়া উচিত, তা হচ্ছে না। আমি আশা করি প্রত্যেকস্তরে, প্রতি মুহূর্তে, যতটা জোর অধিকারের উপর দেওয়া হয়, ততটাই জোর কর্তব্যের উপরদেওয়া হোক। অধিকার আর কর্তব্যের দুই পথের উপরই ভারতের লোকতন্ত্রের গাড়ি অগ্রসর হতেপারে।

কাল ৩০-শে জানুয়ারি, আমাদের পূজনীয় বাপুর পুণ্য তিথি। ৩০-শেজানুয়ারি আমরা সকাল ১১-টায়, ২ মিনিটের মৌনতা পালন করে, দেশের জন্য প্রাণদানকারীশহীদদের উদ্দেশে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করি। ঐক্যবদ্ধ সমাজ হিসেবে, একটা দেশ হিসেবে,৩০-শে জানুয়ারি, ১১-টায় দুই মিনিটের শ্রদ্ধাঞ্জলি পালন  – এ আমাদের সাধারণ অভ্যাস হয়ে ওঠা উচিত। দুই মিনিটই হোক না কেন,কিন্তু তার মধ্যে সামগ্রিকতা আছে, সঙ্কল্প আছে এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাওঅভিব্যক্ত হয়।

আমাদের দেশের সৈন্যদের প্রতি, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি, একসহজ সমাদর ব্যক্ত হয়। এবারের গণতন্ত্র দিবসের প্রাক্‌-সন্ধ্যায়, বিভিন্ন বীরত্বসূচকপুরস্কারে যেসব বীর জওয়ান সম্মানিত হয়েছেন, তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরআমি অভিনন্দন জানাই। এই সব পুরস্কারের মধ্যে  ‘কীর্তিচক্র ’,  ‘শৌর্য চক্র ’ ,  ‘পরম বিশিষ্ট সেবা পদক ’,  ‘বিশিষ্ট সেবা পদক ’  – অনেকবিভাগ আছে। আমি বিশেষ করে নবযুবকদের কাছে আবেদন জানাতে চাই – আপনারা যাঁরা সোশ্যালমিডিয়ায় খুব সক্রিয়, আপনারা কি একটা কাজ করতে পারেন? এইবার যে যে বীর এই সম্মানেভূষিত হয়েছেন  – ইন্টারনেটে খোঁজ করে তাঁদের সম্পর্কেপ্রশস্তি লিখুন আর নিজের বন্ধুদের কাছে সেসব পৌঁছে দিন। যখন তাঁদের সাহস, বীরত্ব ওপরাক্রমের কথা বিস্তারিত ভাবে আমরা জানতে পারি, তখন যেমন আশ্চর্য হয়ে যাই, তেমনিগর্বও হয় এবং প্রেরণাও পাই।

এক দিকে আমরা সবাই ২৬-শে জানুয়ারির উৎসাহ আর উদ্দীপনার খবরেযখন আনন্দে ছিলাম, ঠিক সেই সময় কাশ্মীরে আমাদের সেনা জওয়ানরা, যাঁরা দেশেরসুরক্ষায় স্থিরপ্রতিজ্ঞ, তুষার ধ্বসের ফলে তাঁদের বীর-প্রয়াণ ঘটে। আমি এই সব বীরজওয়ানদের প্রতি সম্মান এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করি, প্রণাম জানাই।

আমার যুবা বন্ধুরা, আপনারা তো ভালো করেই জানেন যে, আমিধারাবাহিকভাবে  ‘মন কী বাত ’শোনাচ্ছি। জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল  – এই সব মাসপ্রত্যেক পরিবারে পরীক্ষার মাস। সংসারের এক-আধ জন বা দু ’জনবাচ্চার পরীক্ষা থাকে – কিন্তু গোটা পরিবারই পরীক্ষার চাপে নুয়ে থাকে। তো আমিভাবলাম যে, এটাই প্রকৃত সময় ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার। তাদের অভিভাবকদেরসঙ্গে কথা বলার। তাদের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলার। কারণ বেশ কিছু বছর ধরে আমিযেখানেই গিয়েছি, যাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি, দেখেছি যে পরীক্ষা এক বড় মাথাব্যথারকারণ। পরিবার দুশ্চিন্তায়, বিদ্যার্থী দুশ্চিন্তায়, শিক্ষক দুশ্চিন্তায় – একটা বেশবিচিত্র মনোবৈজ্ঞানিক বাতাবরণ প্রত্যেক সংসারে দেখা যায়। আর আমার সবসময় মনে হয়েছেযে এর থেকে বেরিয়ে আসা উচিত আর এই জন্যই আজ আমি তরুণ বন্ধুদের সঙ্গে এ সম্পর্কেবিস্তারিত ভাবে কথা বলতে চাই। যখন আমি এই বিষয়টা ঘোষণা করলাম, তখন অনেক শিক্ষক,অভিভাবক, বিদ্যার্থী আমাকে মেসেজ পাঠালেন, প্রশ্ন পাঠালেন, পরামর্শ পাঠালেন,যন্ত্রণার কথাও লিখলেন, দুশ্চিন্তার উল্লেখ করলেন আর সেসব দেখার পর আমার যা মনে হলতা আজ আমি আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই। টেলিফোনে আমি এক বার্তা পেয়েছি সৃষ্টিরকাছ থেকে। আপনারাও শুনুন সৃষ্টি কী বলছেন  –

‘স্যার আমি আপনাকে শুধু এইটুকু বলতে চাই যে পরীক্ষার সময়েপ্রায়শই এমন হয় যে আমাদের বাড়িতে, পাড়া-প্রতিবেশে, আমাদের সোসাইটিতে এক ভয়ের আরআতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এর ফলে ছাত্ররা অনুপ্রেরণা তো পায়ই না বরং খুব ম্রিয়মাণহয়ে পড়ে। তো আমি আপনার কাছে জানতে চাই যে এই পরিবেশ কি খুশির হতে পারে না? ’

যাই হোক, প্রশ্ন তো সৃষ্টি করেছে, কিন্তু এই একই প্রশ্নআপনাদের সবার মনেও নিশ্চয়ই আছে। পরীক্ষা এমনিতেই এক আনন্দের অবকাশ হওয়া উচিত। সারাবছর পরিশ্রম করা হয়েছে, এবার জানানোর সুযোগ এসেছে, এটা আশা এবং উৎসাহের পর্ব হওয়াউচিত। খুব কম লোক আছেন যাঁদের জন্য পরীক্ষা একটা  pleasure। বেশিরভাগের কাছে পরীক্ষা একটা  pressure. সিদ্ধান্তআপনাকেই নিতে হবে যে এটাকে আপনি  pressure ভাববেন, না  pleasure.যে  pleasure মানবে সে কিছু পাবে; যে  pressureমানবে সে ভুগবে। আর তাই আমার মত হল যে পরীক্ষা এক উৎসব। পরীক্ষাকেএমনভাবে গ্রহণ করুন যেন সেটা এক উৎসব। আর যখন উৎসব হয় তখন আমাদের ভেতর সেরা যেটাসেটাই বেরিয়ে আসে। উৎসবের সময়ই সমাজ নিজের শক্তির আন্দাজ পায়। সবথেকে ভালো যেটাসেটাই প্রকাশিত হয়। সাধারণভাবে আমার মনে হয় আমরা কত বিশৃঙ্খল, কিন্তু যখন ৪০-৪৫দিন ধরে চলা কুম্ভ মেলার ব্যবস্থাপনার দিকে তাকাই তখন বুঝি   make-shift arrangement -এর গুরুত্ব আর মানুষের মধ্যে শৃঙ্খলার তাৎপর্য। এই উৎসবই আমাদের শক্তি।পরীক্ষার সময়ও পরিবারে, বন্ধুদের মধ্যে, পাড়া-প্রতিবেশে এক উৎসবের বাতাবরণ তৈরিহওয়া উচিত। আপনারা দেখবেন এই চাপ খুশিতে পরিবর্তিত হবে। উৎসবপূর্ণ বাতাবরণ আপনাকেভারমুক্ত করবে। আর এখানে আমি মা-বাবাদের প্রতি বেশি আবেদন রাখব যে আপনারা তিন-চারমাস এক উৎসবের বাতাবরণ তৈরি করে রাখুন। গোটা পরিবার একটা টিমের মত এই উৎসবকে সফলকরতে নিজের-নিজের ভূমিকা উৎসাহের সঙ্গে পালন করুন। দেখুন, কত তাড়াতাড়ি পরিবর্তনআসে। সত্যি তো এটাই যে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা, কচ্ছ থেকে কামরূপ, অম্রেলীথেকে অরুণাচল এই তিন-চার মাস কেবল পরীক্ষা আর পরীক্ষা। আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্বযে প্রত্যেক বছর এই তিন-চার মাস, নিজের-নিজের পদ্ধতিতে, নিজের-নিজের পরম্পরা মেনে,নিজের-নিজের পরিবারের বাতাবরণ বুঝে, একে এক উৎসবে পরিণত করা। আর তাই তো আমিআপনাদের বলব  ‘ smilemore score more ’. যত বেশি আনন্দে এইসময়টা কাটাবে, তত বেশি নম্বর পাবে। করে দেখো। আর তোমরা দেখেছ যে যখন তুমি আনন্দেথাকো, হাসিখুশি থাকো তখন নিজেকে  relaxed মনে হয় তোমার। খুবসহজভাবে  relax হয়ে যাও তুমি আর যখন এমন  relax থাক তখন এক বছরের পুরনো কথাও সহজে মনে এসে যায় তোমার। এক বছর আগেক্লাসরুমে টিচার কী বলেছিলেন তার গোটা দৃশ্যটা মনে পড়ে যায় তোমার। আর নিশ্চয়ই জানোযে স্মরণ করার যে শক্তি তা   relaxation   হলেই সবথেকে বেশি হয়।যদি তুমি অশান্তির মধ্যে থাকো তাহলে সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়। বাইরের জিনিস ভেতরে আসেনা, ভেতরেরটা বাইরে যায় না।

বিচারবুদ্ধি থমকে যায়, নিজেই এক সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।পরীক্ষার সময় তোমরা দেখে থাকবে, প্রায় অনেক কিছুই মনে থাকে, বই মনে থাকে, অধ্যায়মনে থাকে, পাতার সংখ্যা মনে থাকে, এমনকী সেটা পাতার উপরে না নীচে দেওয়া তাও মনেথাকে। কিন্তু একটা বিশেষ শব্দ কিছুতেই মনে পড়ে না। যেই পরীক্ষা শেষ হয় আর পরীক্ষারহল থেকে তুমি বেরিয়ে আস, তখন আচমকাই মনে পড়ে – আরে, এই শব্দটাই তো ছিল! পরীক্ষারসময় কেন মনে এল না – কারণ তখন তুমি চাপে ছিলে। বাইরে আসার সঙ্গে সঙ্গে কী করে মনেপড়ল? কেউ তো বলেও দেয়নি! জানা জিনিসটা তখন মনে পড়ে গেল কারণ তুমি তখন রিল্যাক্সডহয়ে গেছ। এই জন্যই বলা হয়,  memory recall  করার সবচেয়ে মোক্ষম দাওয়াই হল  relaxation  যা আমি আমারনিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। যখন আমরা  Pressure -এ থাকি, তখন আমরা অনেক জিনিস ভুলে যাই কিন্তু যখন  relax  করি, তখন আমাদের বহু দামী ও কাজের কথা মনে পরে যায়। এর মানে
এই নয় যে তোমার কাছে জ্ঞান নেই বা তথ্য নেই বা তুমি চেষ্টা করছ না। কিন্তু যখনতুমি  tension -এ থাকো তখন তাসবকিছুকে ছাপিয়ে যায়। এই জন্যই বলা হয়, ‘  A happy mind is the secret for a good mark sheet ’, অর্থাৎ পরীক্ষায় ভাল ফল করার মূল মন্ত্র হল ধীর-স্থির,  relaxed  থাকা। কখনও কখনওএরকমও মনে হয় আমরা পরীক্ষাকে সঠিক আঙ্গিকে দেখে উঠতে পারছি না। তখন মনে হয়,পরীক্ষা যেন জীবন-মরণের প্রশ্ন। পরীক্ষার অর্থ হল তুমি সারা বছর ধরে যে পড়াশোনাকরেছ তার মূল্যায়ন। এটা জীবন-মরণ পণ নয়। তোমার জীবন কেমন ছিল, বর্তমানে কেমন আছ,ভবিষ্যতই বা কেমন হবে এটা তার পরীক্ষা নয়। শুধুমাত্র ক্লাসরুমের পাঠ্যবইয়েরপরীক্ষার মধ্যেই তোমরা আবদ্ধ থাকবে না, তোমাদের জীবনে আরও অনেক কঠিন কঠিন পরীক্ষারসম্মুখীন হতে হবে। তাই স্কুলের পরীক্ষার উপর জীবনের সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ভর করে– এই ভাবনা থেকে তোমরা মুক্ত হও। আমাদের সামনেই আছে আমাদের প্রাক্তণ রাষ্ট্রপতিএ.পি.জে. আবদুল কালামের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি বায়ুসেনাতে যোগদান করতে চেয়েছিলেনকিন্তু অকৃতকার্য হন। মনে কর এই ব্যর্থতার পর তিনি যদি হতাশ হয়ে যেতেন, হতোদ্যমহয়ে যেতেন, তাহলে কি ভারত এত বড় একজন বৈজ্ঞানিককে পেত – এমন একজন রাষ্ট্রপতিকেপেত! পেত না।

জনৈক রিচা আনন্দ আমার কাছে জানতে চেয়েছেন – “বর্তমানশিক্ষাব্যবস্থার সবথেকে বড় সমস্যা হল, তা সম্পূর্ণভাবে পরীক্ষাকেন্দ্রিক। পরীক্ষারনম্বরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যার ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে শুধুমাত্রপ্রতিযোগিতাই বাড়েনি, দুশ্চিন্তাও বেড়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান স্থিতি ওভবিষ্যত সম্পর্কে আপনার মতামত জানতে চাই।”

যদিও রিচা নিজের প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিয়েছেন, কিন্তু তাঁরসঙ্গে আমার মতামতও জানতে চেয়েছেন। পরীক্ষার নম্বর ও ফলাফলের গুরুত্ব খুব সীমিত।জীবনে সেটাই সব নয়। জীবনের সারবত্তা হল – আপনি আসলে কতখানি জ্ঞান অর্জন করেছেন এবংকতখানি তা নিজের জীবনে প্রয়োগ করেছেন। সঠিকভাবে বাঁচার মানে হল জীবনের উদ্দেশ্য ওজীবনের লক্ষ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য গড়ে তোলা। আপনি কি তা করতে পেরেছেন? যখনই আপনি এইসামঞ্জস্য গড়তে সক্ষম হবেন, তখন আপনাকে আর পরীক্ষার নম্বরের পেছনে দৌড়াতে হবে না –বরং সে নিজে থেকেই আপনার আয়ত্তে আসবে। জীবনে যা আপনার সত্যিকারের পাথেয় হবে তা হল –আপনার অর্জিত জ্ঞান, আপনার দক্ষতা, আপনার আত্মবিশ্বাস ও সংকল্পশক্তি। আপনারাইবলুন, আপনাদের পরিবারে নিশ্চয়ই কেউ না কেউ ডাক্তার আছেন – যাঁকে আপনারা  family doctor  বলেন। আপনারা কিকখনও তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছেন – তিনি পরীক্ষায় কত নম্বর পেয়েছিলেন? নিশ্চয়ই নয়।আপনাদের মনে হয়েছে তিনি ভালো ডাক্তার, তাই আপনারা দরকারে তাঁর কাছে যান। বড় বড়মামলা মোকদ্দমার সময় আপনারা যখন কোনও নামী উকিলের কাছে যান, তখন কি তাঁরমার্কশিট-এর খোঁজ করেন? আপনি তাঁর অভিজ্ঞতা, তাঁর জ্ঞান এবং সাফল্যকেই দেখেন। এইজন্যই কখনও কখনও এই নম্বরের বোঝা আমাদের সঠিক পথে যাওয়ার অন্তরায় হয়ে ওঠে। কিন্তুএর অর্থ এই নয় যে পড়াশোনার দরকার নেই। এটা নিজেকে যাচাই করার মাপকাঠি। আমি কালকোথায় ছিলাম, আজ কোথায় আছি তার মূল্যায়নের জন্য পড়াশোনা ও পরীক্ষা দুইয়েরই প্রয়োজনরয়েছে। আত্মবিশ্লেষণ করলে দেখবেন যে যখন শুধুমাত্র নম্বরের জন্য দৌড়েছেন তখন সহজতমপথ খুঁজেছেন এবং নির্দিষ্ট কিছু জিনিসের উপরই মনোযোগ দিয়েছেন। কিন্তু এই গণ্ডিরবাইরে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে গেলেই আপনি অপ্রস্তুত হয়ে পড়ছেন। যখন জ্ঞান অর্জনকেলক্ষ্য করেছেন তখন সমস্ত বিষয়কে সহজেই আত্মস্থ করতে পেরেছেন। কিন্তু যে মুহূর্তেনম্বর পাওয়াকে প্রধান উদ্দেশ্য করেছেন তখন আপনার জ্ঞানের পরিধি সংকুচিত হয়ে উঠেছেএবং আপনি নিজেকে একটি গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছেন। আর এই জন্যই কখনও কখনওএরকমও হয় পরীক্ষায় অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে কৃতকার্য হয়েও আমরা জীবনে ব্যর্থতারমুখোমুখি হই।

রিচা আরও একটি বিষয় উত্থাপন করেছেন, তা হল প্রতিযোগিতা। এটাএকটা খুব বড় মানসিক দ্বন্দ্বের ক্ষেত্র। সত্যি বলতে জীবনের অগ্রগতির পথেপ্রতিযোগিতা আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয়। যেটা প্রয়োজন, তা হল নিজেকে নিজে ছাপিয়ে যাওয়ারইচ্ছা। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত অতীতের তুলনায় ভবিষ্যতকে আমরা কীভাবে আরও উন্নতকরে তুলতে পারি? ভবিষ্যতের সমস্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারি। এর যথাযথ উদাহরণআমরা খেলার জগতে পেয়ে থাকি। সহজবোধ্য বলেই আমি খেলার জগতের দৃষ্টান্ত দিচ্ছি। বেশিরভাগ সফল খেলোয়াড়দের বৈশিষ্ট্যই হল তাঁরা নিজের সঙ্গে নিজে প্রতিযোগিতা করেন।এক্ষেত্রে আমরা শচীন তেণ্ডুলকরের উদাহরণ দিতে পারি। দীর্ঘ কুড়ি বছর ধরে উনি খেলারজগতে নিজেই নিজের রেকর্ড ভেঙেছেন, নিজেকে পরাজিত করেছেন ও আরও এগিয়ে গেছেন। ওঁরজীবন অত্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক। উনি বাহ্যিক প্রতিযোগিতার বদলে আত্মিক প্রতিযোগিতারপথ বেছে নিয়েছেন।

বন্ধুরা, জীবনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে এবং বিশেষ করে যখনআপনারা পরীক্ষা দিতে যাচ্ছেন, তখন খেয়াল করে দেখুন, আগে যদি পড়াশোনার জন্য দুইঘণ্টা সময় দিতেন, এখন কি সেটা তিন ঘণ্টা করতে পেরেছেন? আগে সকালে যখন ওঠার কথাভাবতেন, তবুও দেরি হত, এখন কি ঠিক সময়ে উঠতে পারছেন? আগে পরীক্ষার চিন্তায় রাত্রেঘুম আসতো না। এখন শান্তিতে ঘুমোতে পারছেন? নিজেই নিজেকে মাপকাঠিতে যাচাই করুন।দেখবেন, প্রতিযোগিতা জন্ম দেয় পরাজয়, হতাশা, নিরাশা এবং ঈর্ষার। কিন্তু নিজের সঙ্গেনিজের প্রতিযোগিতা গড়ে তোলে আত্মচিন্তনের ক্ষমতা, দৃঢ় করে সংকল্প শক্তি। যখন এভাবেনিজেকে ছাপিয়ে যাই, স্বতঃপ্রণোদিতভাবে আরও এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা পাই।কোনো বাহ্যিক প্রেরণার প্রয়োজন পড়ে না। ভিতর থেকে আপনা-আপনি এক শক্তির সৃষ্টি হয়।বিষয়টিকে সহজ ভাবে ব্যাখ্যা করতে হলে আমি বলব যে যখন আপনি কারও সঙ্গে প্রতিদ্বন্দিতাকরেন, তখন মোটামুটিভাবে তিন ধরনের সম্ভাবনা দেখা যায়। প্রথমত আপনি অপরজনের থেকে শ্রেষ্ঠ,দ্বিতীয়ত আপনি অপর জনের থেকে নিকৃষ্ট এবং তৃতীয়ত আপনারা দুজনেই একই ক্ষমতাসম্পন্ন।আপনি যদি শ্রেষ্ঠতর হন, তাহলে আপনি তাকে পরোয়া করবেন না, অধিক আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়বেন।যদি আপনি অপর জনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় খারাপ ফল করেন, তাহলে অসুখী হবেন,ঈর্ষান্বিত হবেন। এই ঈর্ষা আপনাকে বিচলিত করবে। আর যদি আপনারা একই ক্ষমতাসম্পন্নহন, তাহলে আপনি আত্মউন্নতির বিষয়টি চিন্তার মধ্যেই আনবেন না। গাড়ি যেমন নিজের বেগেচলে, সেইরকম চলতেই থাকবেন। সেই কারণে আমি আপনাদের নিজের সঙ্গেই প্রতিযোগিতারঅনুরোধ করবো। আগে কী করেছি, এরপর কী করব এবং এর থেকে ভালো কীভাবে করব সেটা চিন্তাকরতে হবে। তাহলেই আপনি অনেক পরিবর্তন অনুভব করবেন।

অভিভাবকদের ভূমিকা সম্বন্ধে শ্রী এস. সুন্দর নিজের চিন্তাব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে পরীক্ষাতে অভিভাবকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। উনিআরো লিখেছেন – “আমার মা বিশেষ লেখা-পড়া জানতেন না, কিন্তু তা সত্ত্বেও উনি আমারপাশে বসে থাকতেন। আমাকে অঙ্ক করতে বলতেন। অঙ্ক করা হলে উনি উত্তর মিলিয়ে দেখতেন।এই ভাবে উনি আমাকে সাহায্য করতেন। ভুল সুধরে দিতেন। আমার মা দশম শ্রেণির পরীক্ষাপাশ করতে পারেন নি কিন্তু ওঁর সাহায্য না পেলে  CBSE -র পরীক্ষা পাশ করা আমার পক্ষে সম্ভবহত না।

সুন্দর-জী, আপনি সঠিক বলেছেন। আপনি নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন যেআমাকে যাঁরা প্রশ্ন করেন, উপদেশ দেন, তাঁদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যাই বেশি। আসলেবাড়ির সন্তানদের ভবিষ্যত সম্পর্কে মায়েরা খুব সচেতন থাকেন। সক্রিয় থাকেন। তাঁরা অনেকবিষয়কে সহজ-সরল করে দেন। আমি অভিভাবকদের তিনটি বিষয়ের উপর জোর দিতে বলবো। স্বীকারকরা, শেখানো এবং সময় দেওয়া। যা আছে তাকে স্বীকার করুন। আপনার যতটুকু ক্ষমতা সেইঅনুযায়ী মেণ্টরের কাজ করুন আর আপনি যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন, সময় বের করে সময় দিন।আপনি যদি একবার স্বীকার করতে শিখে যান, তাহলে অনেক সমস্যার সেখানেই সমাধান হয়েযাবে। প্রত্যেক অভিভাবক নিশ্চয় এই বিষয়টি মানবেন যে অভিভাবকদের ও শিক্ষকদেরপ্রত্যাশা সব সমস্যার মূল কারণ। এটা স্বীকার করে নিলে এই সমস্যার থেকে সমাধানের পথখুলে যায়। আশা রাস্তাকে কঠিনতর করে তোলে। বর্তমান অবস্থাকে স্বীকার করে নিলেসমাধানের নূতন রাস্তা খোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়। তাই যা আছে তাকে স্বীকার করে নিন।দেখবেন, আপনিও ভারমুক্ত হয়ে যাবেন। আমরা ছোটো ছোটো শিশুদের স্কুল ব্যাগ-এর ওজনেরবিষয়ে আলোচনা করি, কিন্তু কখনো কখনো আমার তো মনে হয় – অভিভাবকদের প্রত্যাশা,আকাঙ্ক্ষা শিশুদের স্কুল ব্যাগ-এর থেকেও বেশি ভারী।

অনেক বছর আগের কথা, হার্ট অ্যাটাক হওয়ার কারণে আমাদের একজনপরিচিত ব্যক্তি হাসপাতালে ছিলেন। ভারতের লোকসভার প্রথম স্পিকার গণেশ দাদামবলঙ্কর-এর পুত্র প্রাক্তণ সাংসদ পুরুষোত্তম মবলঙ্কর অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতেহাসপাতালে যান। আমি সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলাম। দেখলাম যে উনি হাসপাতালে এসেঅসুস্থ ব্যক্তির শারীরিক সমস্যা নিয়ে কোনও প্রশ্ন করলেন না। তিনি ওখানে বসেওখানকার অবস্থাটা দেখে নিলেন, অসুখ সম্পর্কে কোন কথা না বলে নানারকম চুটকি শোনাতেশুরু করলেন আর দু-চার মিনিটের মধ্যেই সেখানকার পরিবেশকে উৎফুল্ল করে তুললেন। আসলেআমরা অসুস্থ ব্যক্তির কাছে গিয়ে অসুখ সম্পর্কে তাঁর মনে এক ভয় সৃষ্টি করি।অভিভাবকদের আমি এই কথাই বলতে চাই যে, কখনো কখনো ছোটদের সঙ্গেও আমরা এইরকমই করেথাকি। আপনি কি কখনও ভেবেছেন যে পরীক্ষার দিনগুলিতে বাচ্চাদের হাসি-খুশির একটাপরিবেশ দিই। আপনি দেখবেন পরিস্থিতিটাই বদলে যাবে।

আমার কাছে বেশ মজার একটা ফোন এসেছে। ভদ্রলোক নিজের নাম বলতেচাননি। ফোনটার বিবরণ শুনলে আপনারা বুঝতে পারবেন, ওই ব্যক্তি কেন নিজের নাম প্রকাশকরতে চাইছেন না।

“নমস্কার, প্রধানমন্ত্রীজী, আমিআমার শৈশবে এমন কিছু কাজ করেছিলাম যে আমি আমার নাম বলতে পারছি না। আমি ছোটবেলায়একবার নকল করার চেষ্টা করেছিলাম। কীভাবে নকল করবো, সেজন্য কী কী ব্যবস্থা নেব, সেসব বিষয় নিয়ে ভাবনা চিন্তাতে আমি অনেক সময় নষ্ট করেছি। ওই সময়টা আমি পড়াশোনার জন্যব্যয় করলে একই নম্বর পেতে পারতাম। আমি যখন নকল করে পাশ করার চেষ্টা করেছিলাম, তখনধরা পড়ে যাই আর আমার জন্য আমার আশেপাশের অনেক বন্ধুদেরও বেশ অসুবিধা হয়েছিল।”

আপনি ঠিক বলেছেন। কাজকে  short cut  করার এই যে রাস্তা, সেটাই নকল করারকারণ হয়ে যায়। কখনো কখনো নিজের উপর আস্থা না থাকলে মনে হয় পাশের জনের থেকে একটুদেখে নিই।  Confirm  করে নিই, আমি যা লিখেছি, সেটা সঠিক কিনা। কখনো কখনো তোএমনও হয় যে আমি ঠিক লিখেছি, কিন্তু পাশের জন ভুল লিখেছে, নিজেরটার পরিবর্তে সেইভুলটাকে ঠিক ভেবে নিয়ে মারা পড়েছি। তাই নকলে কোনও লাভ নেই। “ To cheat is to be cheap, so please, do not chat ” অর্থাৎ নকল করা মানে খেলো হয়ে যাওয়া। তাই অনুগ্রহ করে নকলকরো না। নকল করবেন না, নকল আপনাকে খারাপ করে। নকল করো না – এই কথাটা নিশ্চয় আপনারাঅনেকবার শুনেছেন। আমি আপনাদের সেই কথাটাই আবার বলছি। যেভাবেই দেখুন না কেন, নকলজীবনকে ব্যর্থতার দিকে টেনে নিয়ে যায় আর পরীক্ষার সময় আপনার উপর নজর রাখছে সে রকমব্যক্তির কাছে ধরা পরলে সব শেষ আর যদি ধরা না পড়েন তাহলেও আপনার জীবনে আপনার মনেরউপর আপনার কৃতকার্যের বোঝা রয়েই যাবে। আপনার বাচ্চাদের বোঝানোর সময় আপনি কিন্তুতাঁদের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারবেন না। আর নকল করা একবার নিয়মিত অভ্যাসে পরিণতহলে জীবনে কিছু শেখার ইচ্ছাও হবে না। তাহলে আপনি কোথায় পৌঁছাবেন? মনে করুন, আপনিনিজেই নিজের রাস্তা গর্ত খুঁড়ছেন, অর্থাৎ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। আমি এমনওদেখেছি যে কিছু মানুষ নকল করার উপায় খুঁজতেই নিজের সমস্ত প্রতিভা কাজে লাগাচ্ছেএবং সৃজনশক্তিকে ব্যবহার করছে। যদি এই প্রতিভা, সময় এবং সৃজনীশক্তিকে আপনিপড়াশোনার জন্য ব্যয় করতেন, তাহলে নকল করার কোনো প্রয়োজন হত না। আপনার পরিশ্রমলব্ধ সাফল্যেযে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে, তা অতুলনীয়।

একটা ফোন পেয়েছিলাম – “নমস্কার, প্রধানমন্ত্রীজী! আমার নামমণিকা এবং আমি একজন দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। আমি বোর্ড পরীক্ষা সম্পর্কে আপনাকেকয়েকটি প্রশ্ন করতে চাই। আমার প্রথম প্রশ্ন পরীক্ষার সময় আমাদের মনের ওপর যে চাপপড়ে তা কীভাবে কমানো যায়? আর আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন হল, পরীক্ষা মানে শুধু পড়া কেন?এতে খেলার কোনো অবকাশ নেই কেন? ধন্যবাদ।”

পরীক্ষার সময় আমি যদি খেলার কথাই বলি, তখন সবাই বলবে – একেমন প্রধানমন্ত্রী! পরীক্ষার সময় বাচ্চাদের খেলতে বলছেন! কারণ সাধারণ মানুষেরধারণা যে পড়ুয়ারা খেলাধূলায় মন দিলে তারা পড়াশোনাতে অমনোযোগী হয়ে পড়বে। এই ধারণারমূলেই ভুল রয়েছে। যতো সমস্যার শিকড় ওখানেই। সর্বাঙ্গীণ বিকাশের জন্য পড়াশোনারবাইরেও যে এক মস্ত জীবন রয়েছে, তার ভূমিকাও অনেক বড়। সেই জীবনের সাফল্যের জন্যঅভিজ্ঞতা অর্জনের বয়সও এটাই। অনেকেই এমন বলেন – সব পরীক্ষা পাশ করে নিই, তারপরখেলা যাবে, পরে বাকী সব করা যাবে – এটা অবাস্তব ভাবনা। জীবনকে গড়ে তোলার এটাই সময়।আসলে পরীক্ষায় সাফল্যের জন্য তিনটি অত্যন্ত জরুরী কথা মনে রাখতে হবে। পর্যাপ্তবিশ্রাম, শরীরের প্রয়োজন মতো ঘুম এবং একই সঙ্গে মস্তিষ্কের সঠিক কার্যকলাপের জন্যশরীরের এক জরুরি ভূমিকা রয়েছে – এটাও মনে রাখতে হবে। মস্তিষ্ক ছাড়াও বাকি শরীরেরসঠিক সক্রিয়তা থাকা উচিত। কখনও কি একবারও ভেবে দেখেছেন ঘর থেকে বেরিয়ে একটু আকাশেরদিকে তাকাই, খানিক গাছপালা প্রকৃতির দিকে চোখ মেলে দেখি, তাতে মাথা অনেক হাল্কাহয়ে যাবে, আপনারা দেখবেন পড়ার ঘরে ফিরে অনেক তাজা মনে আবার পড়তে বসতে পারবেন। আপনিযাই বলুন না কেন, পড়ার ফাঁকে মাঝে মাঝে উঠে পরে পড়ার ঘর থেকে বেরিয়ে আসুন। একটুরান্নাঘরে গেলেন, পছন্দের খাবার কিছু থাকলে এদিক ওদিক খুঁজুন, যে বিস্কুটভালোবাসেন যদি পেয়ে যান খেয়ে নিন, একটু মজা করুন, হাসি-ঠাট্টা করুন। যদি পাঁচমিনিটের জন্যেও হয় একটা ব্রেক নিন, আপনি অনুভব করবেন আপনার পড়ায় অনেক বেশি মনবসছে। সব্বার এই মত পছন্দ হবে কিনা জানি না, কিন্তু আমি আমার বিশ্বাসের কথাজানালাম। এই সময় ডিপ ব্রেদিং করলে খুব উপকার হয়। গভীর শ্বাস নিয়ে দেখুন কেমন  Relaxed  লাগে। কোনও ঘরেবসে এই বুকভরা শ্বাস নিলে চলবে না। ঘরের বাইরে আকাশের নীচে ছাদে চলে যান, ৫ মিনিটবুক ভর্তি শ্বাস নিয়ে আবার ঘরে ফিরে পড়তে বসে দেখুন – মাথা যেমন  relaxed  মনে হবে, বাকীশরীরও কেমন সতেজ লাগে! অনেকেই মনে করেন, রাত জাগলে বেশি বেশি পড়া হয়। এই ধারণাএকেবারেই ভুল। শরীরের যতটা বিশ্রাম প্রয়োজন, আপনাকে তা নিতেই হবে, এতে পড়ার সময় তোকমবেই না, উলটে আপনার পড়াশোনা করার শক্তি বেড়ে যাবে, আপনার একাগ্রতা বেড়ে যাবে,নিজেকে অনেক তরতাজা লাগবে,  fresh  লাগবে। আপনার সামগ্রিক কর্মকুশলতা বেড়ে যাবে। আমি যখননির্বাচনী সভা করি, মাঝে মাঝে আমার গলা বসে যায়। একবার একজন লোকসংগীত গায়ক আমারসঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তিনি আমায় জিজ্ঞেস করেছিলেন কতক্ষণ ঘুমোন আপনি? আমিজানতে চাইলাম, ভাই আপনি কি ডাক্তার? তিনি বললেন, আরে না-না, আপনি বলুনই না, এই যেবক্তৃতা দিতে দিতে আপনার গলা বসে যায় তার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। আপনি ঠিকঠাকঘুমোলে আপনার ভোকাল কর্ডও বিশ্রাম পাবে। এর আগে আমি আমার ঘুম ও গলার স্বর নিয়েকক্ষনো ভাবিনি। তিনিই আমাকে একটা সহজ টোটকা দিয়ে দিলেন। আপনারাও দেখুন, আপনাদেরকতোটা কাজে আসে এই পরামর্শ। তার মানে এটা ভাববেন না যে, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জেগেথাকার দরকার নেই – ঘুমিয়ে থাকলেই কাজ হয়ে যাবে! ভুলেও এমনটা করবেন না। তাতে আপনারঅভিভাবকেরা আমার ওপর অসন্তুষ্ট হবেন। তা নাহলে যেদিন মার্কশিট আসবে তাতে অভিভাবকরাআপনাদের বদলে আমার প্রতিচ্ছবিই দেখতে পাবেন। তাহলে শুয়ে থাকলেই কাজ হয়ে যাবে –এমনটা একবারও ভাববেন না। সেই জন্যই আমি বলি,  Pfor Prepared  এবং  P for Play । যে খেলে সেই ঝলমল করে।  The person who plays, shines । মন, বুদ্ধি, দেহ সচল রাখতে খেলাধূলারও মস্ত ভূমিকা রয়েছে।

তরুণ বন্ধুরা, আপনারা ভাবছেনআমরা পরীক্ষার পড়ায় ব্যস্ত আর আমি ‘মন কি বাত’ ভাষণেও আপনাদের নিয়ে পড়লাম! এমন তোহতে পারে, আমার আজকের কথা আপনাদের  relaxation -এর কাজ করে দিল। কিন্তু এটাও আমি এর সঙ্গে বলবো, আমি যা সববলছি, সেটা নিয়ে ভেবে মন ভারাক্রান্ত করবেন না। যদি পারেন তো মেনে চলবেন, না পারলেকরবেন না। আমি যেন আপনাদের কোনও চিন্তার কারণ না হয়ে পড়ি। যেমন আমি আপনাদেরমা-বাবা-অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিতে চাই একই ভাবে আমিওদুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে চাই। আপনাদের সংকল্প আমি জানি, আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরীক্ষাদিতে যান, আপনাদের জন্য আমার হার্দিক শুভেচ্ছা রইল। যে কোনও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিহতে একটা চ্যালেঞ্জের উৎসব পালন করুন, দেখবেন কোনও চ্যালেঞ্জ আর চ্যালেঞ্জ থাকবেনা। এই মন্ত্র নিয়ে এগিয়ে চলুন।

প্রিয় দেশবাসী, এবছরের ১-লাফেব্রুয়ারি ভারতীয় কোস্ট গার্ড বাহিনীর চল্লিশ বছর পূর্তি হচ্ছে। এই উপলক্ষে কোস্টগার্ড বাহিনীর প্রত্যেক কর্মী ও সেনাদের তাঁদের দেশের প্রতি কর্তব্য পালনের জন্যঅভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমাদের কোস্ট গার্ড বাহিনী আমাদের স্বদেশে নির্মিত১২৬টি যুদ্ধজাহাজ ও ৬২ টি বিমান সহযোগে বিশ্বের প্রথম চার শ্রেষ্ঠ কোস্ট গার্ডবাহিনীর মধ্যে নিজেদের গর্বিত স্থান অর্জন করেছে।

কোস্ট গার্ড বাহিনীর মন্ত্র ‘অয়ম্‌রক্‌শাম্‌’ – এই অঙ্গীকারকে মনে রেখে দেশের সমুদ্র সীমা ও সামুদ্রিক অঞ্চলকেসুরক্ষিত রাখতে আমাদের কোস্ট গার্ড বাহিনী সবরকম প্রতিকূলতার মধ্যেই সারাক্ষণ তৎপররয়েছে। গত বছর এই দিনে কোস্ট গার্ড বাহিনী তাদের মূল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমাদেরদেশের সমুদ্রতট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার কর্মসূচি নিয়েছিল এবং সেই কাজে হাজারহাজার সাধারণ দেশবাসীও সামিল হয়েছিলেন। সমুদ্রসীমা সুরক্ষার পাশাপাশি সমুদ্রতীরপরিচ্ছন্নতার ভাবনাও কার্যকরী করেছে, এর জন্য তাদের অভিনন্দন! অনেকেই আপনারা জানেননা, কোস্ট গার্ড বাহিনীতে শুধু পুরুষরা নয়, মহিলারাও রয়েছেন। তাঁরা পুরুষেদেরসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ে চলেছেন এবং অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গেই তাঁদের দায়িত্বপালন করছেন। কোস্ট গার্ড-এ আমাদের মহিলা পাইলট অফিসার রয়েছেন, এমনকি হোভারক্র্যাফ্‌ট-এরকামান সামলাতেও তাঁরা পারদর্শী। ভারতের সমুদ্রতট সুরক্ষায় ও সামুদ্রিক নজরদারিতেগুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে চলেছে আমাদের কোস্ট গার্ড বাহিনী। তাদের চল্লিশ বছরপূর্তিতে আমি তাদের অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই।

১ ফেব্রুয়ারি বসন্ত পঞ্চমী পালনহবে। সর্বশ্রেষ্ঠ ঋতু বসন্তের স্বীকৃতি হিসেবেই এই উৎসব। বসন্ত ঋতুরাজ।বসন্ত-পঞ্চমীতেই সরস্বতী পূজা হয়। বিদ্যার অর্চনার জন্য, আরাধনার জন্য পালন করাহয়। শুধুই বিদ্যার্চনা নয়, বীরত্বের অনুপ্রেরণার উৎসবও বটে। ‘মেরে রঙ দে বাসন্তীচোলা’ – এটাই তো সেই অনুপ্রেরণা। এই বসন্ত-পঞ্চমী উদ্‌যাপনের পরিসরে দেশবাসীকেআমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।

আমার প্রিয় দেশবাসী, ‘মন কি বাত’কার্যক্রমকে আকাশবাণী আরও অনেক বর্ণময় ভাবনাচিন্তায় ভরিয়ে তুলেছে। গত মাসে আমার‘মন কি বাত’ ভাষণের অব্যবহিত পরে আঞ্চলিক ভাষায় ‘মন কি বাত’ শোনানো শুরু করেছে। এইপ্রচেষ্টায় বৃহৎ সাফল্য এসেছে। এই নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে দেশবাসীরা চিঠি লিখেছেন।আকাশবাণীর এই স্বতঃপ্রণোদিত প্রচেষ্টার জন্য আমি তাদের অনেক অনেক অভিনন্দনজানাচ্ছি। দেশবাসী, আবার আপনাদেরকে আমার অনেক অনেক অভিনন্দন জানাচ্ছি। ‘মন কিবাত’-এর সাহায্যে আপনাদের সঙ্গে আমার যোগাযোগের সেতু তৈরি হয়েছে। অনেক অনেক শুভেচ্ছাও ধন্যবাদ!