পিএমইন্ডিয়া
আমার প্রিয় দেশবাসী, নমস্কার! আপনাদের সকলকে ক্রিসমাসের অনেকঅনেক শুভকামনা। নিজের জীবনে সেবা, ত্যাগ এবং করুণাকে উপলব্ধি করার দিন আজ। ত্রাণকর্তা যিশু বলেছেন – “দরিদ্রের জন্য উপকারই নয়, চাই তাঁদের জন্য আমাদেরস্বীকৃতি”। সন্ত লুক লিখিত সুসমাচারে আছে – “প্রভু যিশু কেবল দরিদ্রদের সেবাইকরেননি, দরিদ্র মানুষরা যে সেবা প্রদান করছেন তাকেও মহত্ব দিয়েছেন”। এটাই তোসশক্তিকরণের প্রকৃত রূপ। এই সম্পর্কে বহুল প্রচলিত একটি গল্প আছে। প্রভু যিশুএকবার এক টেম্পল্ ট্রেজারির পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অনেক ধনী ব্যক্তি এলেন এবংপ্রচুর দানধ্যান করলেন। ঠিক তারপরেই এক দরিদ্র বিধবা এলেন এবং দুটি তামার পয়সা দানকরলেন। একদিক দিয়ে দেখলে দুটি তামার পয়সা দান হিসেবে কোনো অর্থই বহন করে না।সেখানে উপস্থিত ভক্তদের মনের স্বাভাবিক কৌতূহল বুঝতে পেরে যিশু বললেন, – “ঐ বিধবাভদ্রমহিলাই সবথেকে বেশি দান করেছেন, কারণ অন্য সকলে বহু কিছু দিয়েছেন কিন্তু এইবিধবা ভদ্রমহিলা নিজের যা ছিল তার সবটুকুই দান করেছেন।”
আজ ২৫-শে ডিসেম্বর। মহামতিমদনমোহন মালব্যজীরও জন্মদিন। ভারতীয় জনমানসে সংকল্প আর আত্মবিশ্বাস জাগানোমালব্যজী আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থাকে এক নতুন দিশা দেখিয়েছিলেন। তাঁর জন্মদিনে জানাইভাব-গম্ভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। মাত্র দু-দিন আগেই মালব্যজীর তপভূমি বেনারসে বেশ কয়েকটিউন্নয়নমূলক কাজের শুভ সূচনা করার সুযোগ হয়েছিল আমার।
‘বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটি’–তে‘মহামতি মদনমোহন মালব্য ক্যানসার সেন্টার’-এরও শিলান্যাস করেছি। এই সম্পূর্ণঅঞ্চলের জন্য তৈরি হচ্ছে একটি ক্যানসার সেন্টার। শুধু উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চলেরনয়, ঝাড়খণ্ড এবং বিহারের মানুষের উপকারেও লাগবে এটি।
আজ ভারতের প্রাক্তণপ্রধানমন্ত্রী ভারতরত্ন অটলবিহারী বাজপেয়ীজীরও জন্মদিন। এই দেশ অটলজীর অবদানের কথাকখনো ভুলবে না। ওঁনারই নেতৃত্বে পরমাণু শক্তির ক্ষেত্রেও আমাদের দেশের মাথা উঁচুহয়েছে। দলনেতা, সাংসদ, মন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রী – প্রত্যেকটি ভূমিকাতেই অটলজীএক আদর্শ স্থাপন করেছেন। অটলজীর জন্মদিনে আমার প্রণাম জানাই এবং সুস্বাস্থ্যেরজন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানাই। একজন কর্মী হিসেবে অটলজীর সঙ্গে কাজ করারসৌভাগ্য হয়েছে আমার। অনেক স্মৃতির ছবি চোখের সামনে ভাসছে। আজ সকালে যখন আমি ট্যুইটকরেছি তখন একটা পুরনো ভিডিও আমি শেয়ার করেছি। এক ক্ষুদ্র কর্মীর প্রতি অটলজীরস্নেহ কীভাবে বর্ষিত হত তা ঐ ভিডিও-টা দেখলেই বোঝা যাবে।
বড়দিনের উপহার হিসেবে সমস্তদেশবাসী আজ দুটি যোজনার সুফল লাভ করতে চলেছেন। এক প্রকার দুটি নতুন যোজনারশুভারম্ভ হচ্ছে। শহর হোক বা গ্রাম, শিক্ষিত হন বা অশিক্ষিত, সারা দেশে এখন একটাইপ্রশ্ন – ‘ক্যাশলেস’ কী? ‘ক্যাশলেস ব্যবসা’ কীভাবে সম্ভব? ক্যাশ ছাড়া বেচা-কেনাকীভাবে করা যায়? প্রত্যেকেই একে অপরের কাছে বুঝতে এবং শিখতে চাইছেন। এইব্যাপারটাকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য, মোবাইল ব্যাঙ্কিং-এর শক্তি বৃদ্ধির জন্য,
‘ই-পেমেন্ট’-কে অভ্যাসে পরিণত করার জন্য ভারত সরকার গ্রাহক এবং ক্ষুদ্রব্যবসায়ীদের উৎসাহ-বর্দ্ধক এক যোজনার সূত্রপাত করছে আজ।
গ্রাহকদের উৎসাহিত করার যোজনাটিহল – ‘লাকি গ্রাহক যোজনা’ এবং ব্যবসায়ীদের যোজনাটির নাম – ‘ডিজি-ধন ব্যাপারযোজনা’।
আর ২৫-শে ডিসেম্বর, ক্রিসমাসেরউপহার হিসেবে ‘ড্র’ পদ্ধতির মাধ্যমে ১৫ হাজার মানুষের অ্যাকাউণ্টে এক-এক হাজারটাকা জমা হবে। আজ শুধু একদিনের জন্য নয়, এই যোজনা আগামী ১০০ দিন ধরে চলবে।প্রতিদিন ১৫ হাজার মানুষ পাবেন এই পুরস্কার।
১০০ দিনে লক্ষাধিক পরিবারের কাছে কোটি টাকার উপহার পৌঁছে যাবে – কিন্তু এই উপহারেরযোগ্য হবেন তাঁরাই, যাঁরা ‘মোবাইল ব্যাঙ্কিং’, ‘ই-ব্যাঙ্কিং’, ‘রূপে কার্ড’, ‘ UPI ’, ‘ USSD ’ ইত্যাদি যত রকমডিজিট্যাল লেনদেন পদ্ধতি আছে, তার ব্যবহার করবেন। ড্র নির্ভর করবে এরই ওপর।
এর সঙ্গে সপ্তাহে এক দিন আরও বড়আকারে ড্র হবে, যেখানে পুরস্কার থাকবে লক্ষ টাকা এবং তিন মাস পরে ১৪-ই এপ্রিলডক্টর বাবাসাহেব আম্বেদকরের জন্মদিনে এক বাম্পার ড্র হবে, যেখানে পুরস্কার থাকবেকোটি টাকার।
‘ডিজি-ধন ব্যাপার যোজনা’ হলব্যবসায়ীদের জন্য। ব্যবসায়ী নিজে যেমন এই যোজনায় নিজেকে যুক্ত করবেন, তেমনই নিজেরব্যবসাকে ক্যাশলেস করার ক্ষেত্রে গ্রাহকদেরও যুক্ত করবেন। ব্যবসায়ীদেরকেওআলাদাভাবে পুরস্কার দেওয়া হবে এবং সেই পুরস্কারের সংখ্যা হবে হাজার-হাজার। এতেনিজেদের ব্যবসাও চলবে আবার পুরস্কারও মিলবে। এই যোজনা সমাজের সমস্ত ক্ষেত্রে –বিশেষ করে দরিদ্র এবং নিম্নমধ্যবিত্তদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে এবং এইযোজনার লাভ তাঁরাই, যাঁরা ৫০ টাকার বেশি এবং তিন হাজার টাকার কম অর্থমূল্যেকেনাকাটা করতে সমর্থ।
তিন হাজার টাকার বেশি অর্থমূল্যেযাঁরা কেনাকাটা করতে পারেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই পুরস্কারের সুবিধা থাকবে না।দরিদ্রতর মানুষ USSD -এর সাহায্যে ‘ Feature ’ ফোন এবং সাধারণ ফোনের মাধ্যমে বেচা-কেনা করতে পারেন এবংদামও মিটিয়ে দিতে পারেন। এঁরা সকলেই এই যোজনার পুরস্কার লাভের সুযোগ পাবেন।গ্রামাঞ্চলের মানুষ AEPS -এর মাধ্যমে বেচাকেনা করে এই পুরস্কার জিতে নিতে পারবেন।খুব আশ্চর্যের বিষয়, ভারতবর্ষে আজ প্রায় ৩০ কোটি ‘রূপে কার্ড’ আছে, যার মধ্যে ২০কোটিই আছে জন-ধন যোজনার অ্যাকাউন্টধারী মানুষের কাছে। এই ৩০ কোটি মানুষইতো এইপুরস্কার যোজনার অংশীদার হতে পারেন। আমি বিশ্বাস করি যে দেশবাসী এই পদ্ধতির প্রতিআগ্রহ দেখাবেন এবং আশেপাশের তরুণ প্রজন্মের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা নিশ্চয়ই বলেদেবেন। আপনার পরিবারে দশ বা বারো ক্লাসের বাচ্চাটিও আপনাকে ভালোভাবে এই পদ্ধতিশিখিয়ে দিতে পারবে। এটি খুব সহজ – মোবাইল ফোন থেকে হোয়াটস্ অ্যাপ পাঠানোর মতই সহজকাজ।
আমার প্রিয় দেশবাসী, আমি এটাজেনে খুশী হয়েছি যে দেশের মধ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে করতে হবে, ই-পেমেন্টকীভাবে হবে, অনলাইন পেমেন্ট কীভাবে করতে হবে – এসবের সচেতনতা দ্রুতগতিতে বাড়ছে। গতকিছুদিনের মধ্যে ক্যাশলেস ব্যবসা, বিনা নগদে লেনদেন ২০০ থেকে ৩০০ শতাংশ বেড়েছে। এইপদ্ধতিকে উৎসাহিত করার জন্য ভারত সরকার একটা বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত যেকত বড় সেটা ব্যবসায়ীরা সহজেই অনুমান করতে পারেন। যে সব ব্যবসায়ীরা ডিজিট্যালআদান-প্রদান করবেন, নিজের ব্যবসাতে নগদের পরিবর্তে অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতি প্রসারিতকরবেন, তাঁদের আয়করে ছাড় দেওয়া হবে।
আমি কেন্দ্র-শাসিত অঞ্চল-সহ দেশেরসমস্ত রাজ্যকেও অভিনন্দন জানাচ্ছি। সবাই নিজস্ব পদ্ধতিতে এই অভিযানকে এগিয়ে নিয়েযাচ্ছে। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমান চন্দ্রবাবু নাইডু-র অধ্যক্ষতায় একটিকমিটি গঠিত হয়েছে, যে কমিটি এই সম্বন্ধীয় অনেক যোজনা-র কথা বিবেচনা করছে, কিন্তুআমি দেখছি অনেক সরকারও নিজস্ব পদ্ধতিতে অনেক যোজনা বাস্তবায়িত করেছে এবং নতুন ভাবেআরম্ভ করছে। আমি জেনেছি, আসাম সরকার প্রপার্টি ট্যাক্স এবং বাণিজ্য লাইসেন্স ফিডিজিট্যালি প্রদান করলে ১০ শতাংশ ছাড়ের ঘোষণা করেছে। গ্রামীণ ব্যাঙ্কের শাখাগুলিসিদ্ধান্ত নিয়েছে, নিজেদের ৭৫ শতাংশ গ্রাহক জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত কম করেদুটি ডিজিট্যাল ট্র্যানজাকশন করলে তাঁদের সরকারের পক্ষ থেকে ৫০,০০০ টাকা পুরস্কৃতকরা হবে। ৩১শে মার্চ ২০১৭ পর্যন্ত যদি কোনও গ্রাম ১০০ শতাংশ ডিজিট্যাল ট্র্যানজাক্শনকরায় তবে সরকারের পক্ষ থেকে ‘উত্তম পঞ্চায়েত ফর ডিজি-ট্র্যানজাক্শন’ যোজনারমাধ্যমে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা অসম সরকারের তরফ থেকে করা হয়েছে।কৃষকদের জন্য অসম সরকার ‘ডিজিট্যাল কৃষক শিরোমণি’ প্রকল্পে প্রথম ১০ জন কৃষককে,যাঁরা বীজ ও সার কেনাকাটার জন্য সম্পূর্ণ ভাবে ডিজিট্যাল পদ্ধতি অনুসরণ করবেন, তাঁদেরকে৫,০০০ টাকা পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি অসম সরকারকে অভিনন্দন জানাচ্ছিএবং যে সব রাজ্য এই রকম উদ্যোগ নিয়েছে তাদেরকেও অভিনন্দন জানাচ্ছি। অনেক সংস্থাওগ্রামাঞ্চলে কৃষকদের মধ্যে ডিজিট্যাল আদান-প্রদানকে প্রসারিত করার জন্য অনেক সফল উদ্যোগনিয়েছে। আমি জানতে পেরেছি, GNFC অর্থাৎ ‘গুজরাট নর্মদা ভ্যালি ফার্টিলাইজার অ্যাণ্ডক্যামিকাল লিমিটেড’, যাঁরা মূলত সারের কাজকর্ম করে, তারা কৃষকদের সুবিধার জন্য, সেখানেসার বিক্রয়কেন্দ্রে এক হাজার POS মেশিন বসিয়েছে এবংসেখানে ‘ডিজিট্যাল পেমেন্ট’-এর ব্যবস্থা করেছে।
৩৫ হাজার কৃষককে ৫ লাখ সারের বস্তা ডিজিট্যাল আদান-প্রদানের মাধ্যমে বিক্রি করাহয়েছে – সেটাও মাত্র দু-সপ্তাহের মধ্যে। মজার কথা হলো, গত বছরের তুলনায় GNFC -এর সার বিক্রিবেড়েছে ২৭ শতাংশ।
ভাই-বোনেরা, আমাদেরঅর্থব্যবস্থায়, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অসংগঠিত ক্ষেত্রের গুরুত্ব আছে। বেশিরভাগক্ষেত্রেই এই সব লোকজনের মজুরীর টাকা, কাজের জন্য টাকা বা বেতন নগদেও দেওয়া হয়, আরআমরা জানি, এর জন্য শ্রমিকদের বঞ্চনাও করা হয়। ১০০ টাকার পরিবর্তে ৮০ টাকা দেওয়াহয়, যখন ৮০ টাকা দেওয়ার কথা, সেখানে ৫০ টাকা দেওয়া হয় এবং ইনসিওরেন্সের মতোস্বাস্থ্য বীমাসহ আরও অনেক সুবিধা থেকে এই সব শ্রমিকদের বঞ্চিত করা হয়। কিন্তু যখনক্যাশলেস পেমেন্ট করা হচ্ছে, টাকা সোজাসুজি ব্যাঙ্কে জমা হয়ে যায়। এই ভাবে অসংগঠিতক্ষেত্র, সংগঠিত ক্ষেত্রে পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। বঞ্চনা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যে টাকাকেটে নেওয়া হত, সেসব এখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আর শ্রমিকদের কারিগরদের, এই রকম দরিদ্রলোকেদের সম্পূর্ণ টাকা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। আর সঙ্গে অন্য সব সুযোগ-সুবিধারওদাবীদার হচ্ছে। আমাদের দেশ সর্বাধিক যুবদের দেশ। প্রযুক্তি আমাদের কাছে সহজলভ্য।ভারতের মতো দেশ তো এসব ক্ষেত্রে সবথেকে এগিয়ে আসা উচিত। আমাদের তরুণরাস্টার্ট-আপ-এর মাধ্যমে অনেক উন্নতি করেছে। এই ডিজিট্যাল-আন্দোলন এক সোনালী সুযোগ,আমাদের তরুণ প্রজন্ম নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে, নতুন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে, নতুননতুন পদ্ধতির সঙ্গে এই ক্ষেত্রে যত উদ্যোগ নিতে পারবে, ততটাই নেওয়া উচিত। দেশকেকালো টাকা এবং আর্থিক দুর্নীতি থেকে মুক্ত করার অভিযানে সম্পূর্ণ শক্তি দিয়েআমাদের সামিল হতে হবে।
আমার প্রিয় দেশবাসী, আমিপ্রত্যেক ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের আগে লোকেদের কাছে অনুরোধ করছি, আপনারা আপনাদেরপরামর্শ পাঠান, নিজস্ব মতামত জানান এবং এইবার হাজার হাজার মতামত ‘ mygov ’ ও ‘ Narendra Modi App ’-এ পরামর্শএসেছে। আমি বলছি ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষের প্রস্তাব আর্থিক দুর্নীতি এবং কালোটাকারবিরুদ্ধে যে লড়াই সেই সম্বন্ধীয় ও নোটবন্দীর আলোচনা এসেছে। এই সব বিষয়কে আমি যখনপর্যালোচনা করে মোটামুটি ভাবে এই মতামতগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করতে পারি, কিছু মানুষযাঁরা আমাকে লিখেছেন, তাঁদের মধ্যে জনসাধারণের কি কি সমস্যা হচ্ছে, কি কি অসুবিধারসম্মুখীন হচ্ছেন, এই সব জানিয়ে সবিস্তারে লিখেছেন। দ্বিতীয় গোষ্ঠীর লেখক যাঁরা এইসব বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছেন, এতো ভাল কাজ, দেশের ভালোর জন্য কাজ, এ-তো পবিত্রকাজ। কিন্তু এর বিরুদ্ধে কোথায় কোথায় কীরকম জালিয়াতি হচ্ছে, কীভাবে নতুন নতুন অসৎপন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে, তার বিবরণ দিয়েছেন। আর তৃতীয় গোষ্ঠীর লোকেরা, যাঁরা যাহচ্ছে, তাকে সমর্থন করেছেন এবং সঙ্গে সঙ্গে এই লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যেতে, দুর্নীতিদূর করতে এবং কালো টাকা সম্পূর্ণ নষ্ট করতে আরও কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া দরকার – এরকমজোর দিয়েও অনেকে লিখেছেন।
আমি আমার দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ, কারণ তাঁরা চিঠি লিখে আমাকে যথেষ্ট মদতযুগিয়েছেন। শ্রীমান গুরুমণি কেওবল ‘মাই গভ’-এ লিখেছেন – কালো টাকায় রাশ টানার জন্যএই পদক্ষেপ প্রশংসার যোগ্য। নাগরিক হিসেবে আমাদের অসুবিধে হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু আমরাযে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ছি, সেই লড়াইতে সহযোগিতা করছে, এতেই আমরা খুশি। দুর্নীতি,কালো টাকা ইত্যাদির বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমরা সেনাবাহিনীর ভূমিকা পালন করছি। গুরুমণিকেবল যে কথা লিখে জানিয়েছেন, দেশের সমস্ত প্রান্ত থেকে এই একই ভাবনা উঠে আসছে।আমরা সকলে তা অনুভব করতে পারছি। তবে একথা সত্যি যে জনসাধারণকে যখন এত কষ্ট, এতঅসুবিধা ভোগ করতে হচ্ছে, তখন এমন কোন মানুষ আছেন, যাঁর খারাপ না লাগে? আপনাদেরযতটা খারাপ লাগছে, আমারও ততটাই খারাপ লাগছে। কিন্তু একটি উত্তম উদ্দেশ্যের জন্য,একটি উন্নত লক্ষ্যকে অতিক্রম করার জন্য যখন স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে কর্মযজ্ঞ চলতেথাকে, তখন সেই দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রণার মধ্যেও দেশবাসী আত্মশক্তিতে বলীয়ান থাকেন।আসলে এঁরাই হলেন ‘ Agent of Change ’ – পরিবর্তনের পুরোধা। আমি সবাইকে আরও একটি কারণে ধন্যবাদদিতে চাই, তাঁরা শুধু যে অসুবিধে সহ্য করেছেন তা-ই নয়, যারা সাধারণ মানুষকেবিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, তাদের তাঁরা কড়া জবাবও দিয়েছেন। কত গুজব রটেছে। দুর্নীতিআর কালোটাকার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাম্প্রদায়িকতার রঙ লাগাবারও কত চেষ্টা হয়েছে, কেউগুজব ছড়িয়েছে যে নোটে ভুল বানান লেখা হয়েছে, কেউ বলে দিয়েছে লবণের দাম বেড়ে গেছে,আবার এমন গুজবও শোনা গেছে যে, ২০০০, ৫০০ আর ১০০ টাকার নোটও শিগগিরই বাতিল হয়েযাবে। কিন্তু আমি দেখেছি, নানা রকমের গুজব ছড়িয়েও দেশবাসীকে কেউ বিভ্রান্ত করতেপারেনি। শুধু তাই নয়, কিছু মানুষ তাঁদের বুদ্ধি, শক্তি, সৃজনশীলতা দিয়ে এইসবগুজবকে, গুজবের রটনাকারীদের মুখোশ খুলে দিয়েছেন। সত্যকে সামনে এনে দিয়েছেন। আমিজনগণের এই শক্তিকে শত শত প্রণাম জানাই।
এটা আমি স্পষ্ট অনুভব করছি, প্রতি মুহূর্তে অনুভব করছি যে, একশো পঁচিশ কোটিদেশবাসী সঙ্গে থাকলে কোনও কিছুই আর অসম্ভব থাকে না। জনতা জনার্দনই তো ঈশ্বরেরপ্রতিভূ, জনতার আশীর্বাদ ঈশ্বরেরই আশীর্বাদ। আমি দেশের জনগণকে ধন্যবাদ দিচ্ছি,প্রণাম জানাচ্ছি দুর্নীতি আর কালো টাকার বিরুদ্ধে এই মহাযজ্ঞে পূর্ণ উৎসাহে অংশনেওয়ার জন্য। আমি চেয়েছিলাম, দুর্নীতি আর কালো টাকার বিরুদ্ধে যেমন লড়াই চলছে, তেমনিসংসদেও রাজনৈতিক দল আর পলিটিক্যাল ফাণ্ডিং-এর বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হোক। সংসদচালু থাকলে নিশ্চয়ই আলোচনা হত। যাঁরা রটাচ্ছেন যে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচুর ছাড় আছে– তাঁদের রটনা ভুল। আইন সকলের জন্যই এক এবং ব্যক্তি সংগঠন বা রাজনৈতিক দল – যা-ইহোক, সকলকেই আইন মেনে চলতে হয় – চলতে হবেই। যাঁরা প্রকাশ্যে ভ্রষ্টাচার আর কালোটাকাকে সমর্থন করতে পারেন না, তাঁরা সরকারের দোষ-ত্রুটি ধরার জন্য সর্বক্ষণ লেগেথাকেন। একটা কথা শোনা যাচ্ছে, বারবার নিয়ম কেন বদলাচ্ছে? এই সরকার জনতা-জনার্দনেরসরকার। জনসাধারণের কাছে ‘ফিডব্যাক’ নেওয়ার কাজটা সরকার ধারাবাহিক ভাবে করে চলেছেন।সাধারণ মানুষের কোথায় অসুবিধা হচ্ছে, কোন নিয়মের জন্য সমস্যা তৈরি হচ্ছে – তার সমাধানেরকী পথ খোঁজা যায়, দেশের সংবেদনশীল সরকার প্রতি মুহূর্তে সেটা খেয়াল রাখে। তার জন্যনিয়ম বদলানোর দরকার হলে নিয়ম বদলাতে হয়, যাতে লোকের হয়রানি কম হয়। অন্যদিকে আমিপ্রথম দিন – ৮ তারিখেই বলেছিলাম, এটি একটি অসাধারণ লড়াই। ’৭০ সাল থেকে অবিশ্বাস আরদুর্নীতির এই কালোবাজারিতে কত শক্তি জড়িত আছে, তাঁদের কত ক্ষমতা? আমি যখন এইসবশক্তির মোকাবিলা করব বলে ঠিক করলাম, তখন তাঁরাও সরকারকে হারাতে রোজ রোজ নতুন নতুনপন্থা উদ্ভাবন করতে লাগলেন। তাঁরা যখন নতুন উপায় খুঁজে বার করছেন তখন আমাকেও তোতাদের হারাবার জন্য নতুনতর পদ্ধতির সন্ধান করতে হয়। তুমি চলো ডালে ডালে, আমি চলিপাতায় পাতায়। কারণ আমি ঠিক করেছি দুর্নীতি, কালোবাজার, কালোটাকা – সবগুলিকেইনির্মূল করতে হবে। অনেকেই চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন এই নিয়ে কত রকমের কারচুপি হচ্ছে, কতনতুন নতুন রাস্তার খোঁজ চলছে।
আমি আমার প্রিয় দেশবাসীদের আরও একটি কারণে অভিনন্দন জানাতে চাই আপনারা টিভিতে,সংবাদপত্রে দেখে থাকবেন, রোজ কত নতুন নতুন লোক ধরা পড়ছে, নোট ধরা পড়ছে, তল্লাসীহচ্ছে, তাবড় তাবড় লোক ধরা পড়ছে – এটা কীভাবে সম্ভব হল? আমি সেই গোপন কথাটাই বলছি।সেটা হল এই, যে খবর আমি সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই পাচ্ছি। সরকারি ব্যবস্থা থেকে যতখবর আসছে, তার অনেকগুণ বেশি খবর আসছে সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে। যে সাফল্য আমরাপাচ্ছি, সেটা মূলত জনসাধারণের সচেতনতার কারণে। কেউ কি কল্পনা করতে পারেন, আমাদেরদেশের সচেতন নাগরিক এঁদের মুখোশ খোলার জন্য কতটা ঝুঁকি নিচ্ছেন? আর এইভাবে পাওয়াতথ্য থেকেই বেশি সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে। এইসব খবর দেওয়ার জন্য সরকারের তরফ থেকে একটিই-মেইল অ্যাড্রেস বানানো হয়েছে, ওই অ্যাড্রেসে জানানো যেতে পারে বা, ‘মাই গভ’অ্যাড্রেসেও পাঠাতে পারেন। সরকার এইসব অশুভের সঙ্গে লড়াই করতে বদ্ধপরিকর। আপনাদেরসহায়তা পেলে এই লড়াই অনেক সহজ হয়ে যাবে।
আমাকে যাঁরা চিঠি পাঠাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে তৃতীয় একটি দল আছে, যাঁরা সংখ্যায়অনেক। তাঁরা বলছেন, মোদীজী থেমে যাবেন না, ক্লান্ত হয়ে পড়বেন না, যতটা কঠোরপদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, সেটাই নিন। একবার যখন পথে নেমেছেন, তখন লক্ষ্যে পৌঁছতেই হবে।এভাবে যাঁরা লিখেছেন, তাঁদের সকলকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কেননা, তাঁদের চিঠিতেবিশ্বাস যেমন আছে, তেমনই আছে আশীর্বাদ। আমি আপনাদের এই বলে আশ্বস্ত করতে চাই যে,বিরাম নয় – এই তো সবে শুরু। এই যুদ্ধে জিততেই হবে, ক্লান্ত হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।আর যে বিষয়ে ১২৫ কোটি দেশবাসীর আশীর্বাদ আছে, তার থেকে পিছিয়ে আসার কোনও কথাই ওঠেনা। আপনাদের হয়ত জানা আছে, আমাদের দেশে বেনামী সম্পত্তি বিষয়ে একটি আইন আছে। যেটি১৯৮৮ সালে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তার কোনও নিয়ম বিধিবদ্ধ হয়নি, সেটিকে নোটিফাই করাওহয়নি। সেই আইন এতদিন ঠাণ্ডাঘরে পড়েছিল। আমরা সেটিকে বার করে এনেছি এবং খুবকঠোরভাবে ‘বেনামী সম্পত্তি আইন’ আমরা বানিয়েছি। আগামী দিনে এই আইন তার ভূমিকা পালনকরবে। দেশহিত এবং জনহিতের জন্য যা করণীয়, সেটাই আমাদের প্রাথমিক কর্তব্য।
আমার প্রিয় দেশবাসী, গত ‘মন কী বাত’ অনুষ্ঠানে আমি বলেছিলাম যে, এই সকলঅসুবিধা সত্ত্বেও আমাদের কৃষকরা কঠিন পরিশ্রম করে ফসল রোপনে গত বছরের রেকর্ড ভেঙেদিয়েছেন। ফসল চাষে এটি একটি শুভ সংকেত। দেশের শ্রমিক, কৃষক ও যুবকদের পরিশ্রম একনতুন দিশা দেখাচ্ছে। বিগত সময়ে বিশ্ব অর্থ ব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রেই ভারত গৌরবেরসঙ্গে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দেশবাসীর লাগাতার প্রচেষ্টায় বিশ্ব অর্থ ব্যবস্থারবিভিন্ন সূচকে ভারতের উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক-এর ‘ডুয়িং বিজনেসরিপোর্ট’-এ ভারতের স্থান উন্নত হয়েছে। ভারতের বাণিজ্য নীতিকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠবাণিজ্য নীতির সমান করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, আর এই বিষয়ে আমরা সাফল্য পাচ্ছি। UNCTAD -এর প্রকাশিত‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট’ অনুযায়ী ২০১৬-১৮ ‘টপ প্রসপেক্টিভ হোস্ট ইকনমিস’-এভারত তৃতীয় স্থানে পৌঁছে গেছে। ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরাম-এর ‘গ্লোবাল কম্পিটিটিভ্নেসরিপোর্ট’-এ ভারত ৩২-টি ধাপ উন্নত হয়েছে। ‘গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স – ২০১৬’ অনুযায়ীভারত ১৬ ধাপ উন্নতি করতে সমর্থ হয়েছে। একই ভাবে ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের ‘লজিস্টিক্সপারফর্মেন্স ইনডেক্স – ২০১৬’য় ভারতের ১৯টি ধাপ অগ্রগতির কথা বলা হয়েছে। একই প্রকারঅন্যান্য কয়েকটি রিপোর্টেও ভারতের দ্রুত উন্নতি ইঙ্গিত করছে।
আমার প্রিয় দেশবাসী, এইবার সংসদের অধিবেশনদেশবাসীর মধ্যে উষ্মার সৃষ্টি করেছে। সংসদের গতিবিধি নিয়ে বিভিন্ন ভাবে তাঁদের রাগপ্রকাশ পেয়েছে। রাষ্ট্রপতি এবং উপরাষ্ট্রপতিও এই বিষয়ে তাঁদের উষ্মা প্রকাশকরেছেন। কিন্তু এসবের মধ্যেও কখনো কখনো কিছু কিছু ভালো কথা হয় তখন মন খুশিতে ভরেওঠে। সংসদের হইহল্লার মধ্যেও এমনই একটি ভালো কাজ হয়েছে, যেটা দেশের সাধারণ মানুষেরনজরে আসেনি।
ভাই-বোনেরা, আজ এই কথা বলতে আমার আনন্দহচ্ছে, গর্ব হচ্ছে যে দিব্যাঙ্গ ব্যক্তিদের জন্য যে লক্ষ সামনে রেখে সরকার চলছেসেই সম্পর্কিত একটি বিল সংসদে গৃহীত হয়েছে। এই জন্য দেশের কয়েক কোটি দিব্যাঙ্গব্যক্তির তরফ থেকে লোকসভা এবং রাজ্যসভার সকল সাংসদকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।দিব্যাঙ্গ ব্যক্তিদের জন্য আমাদের সরকার দায়বদ্ধ। আমার নিজের তরফ থেকেও এইবিষয়টিতে গতি আনার চেষ্টা করেছি। আমার উদ্দেশ্য ছিল দিব্যাঙ্গ ব্যক্তিরা যেন তাঁদেরনিজের অধিকার এবং সম্মান পান, যেটা তাদের প্রাপ্য। আমার এই প্রচেষ্টাকে আমারদিব্যাঙ্গ ভাই-বোনেরা আরও শক্তি জুগিয়েছেন যখন প্যারা অলিম্পিক্সে চারটি মেডেলজিতে নিয়েছেন। এই জিত কেবল দেশের সম্মানই বাড়ায়নি, তাদের শক্তি দেশবাসীকেআশ্চর্যান্বিত করেছে। দেশের অন্যান্য নাগরিকদের মতো আমাদের এই দিব্যাঙ্গভাই-বোনেরা আমাদের এক অমূল্য সম্পদ ও শক্তি। আমি আজ অত্যন্ত খুশি যে এই আইন পাশহওয়ার ফলে দিব্যাঙ্গদের জন্য চাকরির আরও সুবিধা উপলব্ধ হবে। সরকারী চাকরিরক্ষেত্রে সংরক্ষণের সীমা বাড়িয়ে চার শতাংশ করা হয়েছে। এই আইনে দিব্যাঙ্গদেরশিক্ষা, সুবিধা আর অভিযোগের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দিব্যাঙ্গ ব্যক্তিদেরপ্রতি সরকার কতটা সংবেদনশীল, তা আপনারা আন্দাজ করতে পারবেন এই বিষয় থেকে যে বিগতদুই বছরে এদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে ৪৩৫০ টি শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে।৩৫২ কোটি টাকা খরচ করে ৫,৮০,০০০ দিব্যাঙ্গ ভাই-বোনকে বিভিন্ন প্রকার উপকরণ দেওয়াহয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের ভাবনার অনুরূপ সরকার এই নতুন আইন প্রণয়ন করেছেন। আগেদিব্যাঙ্গ ব্যক্তিদের ৭-টি শ্রেণিতে ভাগ করা হতো। নতুন আইনে ১৪-টি শ্রেণি বাড়িয়েসেটা ২১ করা হয়েছে। দিব্যাঙ্গ ব্যক্তিদের জন্য এমন কয়েকটি শ্রেণি তৈরি করা হয়েছেযাতে প্রথমবার তাঁরা উপযুক্ত সুযোগ ও ন্যায় পাবেন। থ্যালাসেমিয়া, পারকিন্সন্সরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং বামনদেরও এই শ্রেণির মধ্যে যুক্ত করা হয়েছে।
আমার যুব-বন্ধুরা, বিগত কয়েকটি সপ্তাহেখেলার মাঠ থেকে এমন খবর আসছে, যাতে আমরা সকলেই গৌরবাণ্বিত বোধ করছি। ভারতীয় হওয়ারকারণে আমাদের গর্ব হওয়া স্বাভাবিক। ভারতীয় ক্রিকেট দল ইংলণ্ডের বিপক্ষে ৪-০-তেসিরিজ জিতেছে। এতে কিছু যুব খেলোয়াড়ের পারফর্ম্যান্স খুবই প্রশংসনীয়। আমাদের যুবখেলোয়াড় করুণ নায়ার ট্রিপল সেঞ্চুরী করেছেন। কে.এল.রাহুল ১৯৯ রানের ইনিংস খেলেছেন।টেস্ট অধিনায়ক বিরাট কোহলি কেবল ভালো ব্যাটিং-ই করেননি, ভালো নেতৃত্বও দিয়েছেন।ভারতীয় ক্রিকেট দলের অফ্স্পিন বোলার রবিচন্দ্রণ অশ্বিন-কে আই.সি.সি. ২০১৬-র‘ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার’ এবং ‘বেস্ট টেস্ট ক্রিকেটার’ নির্বাচিত করেছেন। এঁদের সবাইকেআমার অনেক অনেক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। হকিতেও ১৫ বছর পরে খুব ভালো খবরপাওয়া গেছে। জুনিয়র হকি দল ১৫ বছর পর বিশ্বকাপ জিতেছে। তাঁদের এই সাফল্যের জন্যআমি এই যুব-খেলোয়াড়দের অনেক অনেক অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই সাফল্য ভারতীয় হকি দলেরভবিষ্যতের জন্য এক শুভ সংকেত। গত মাসে আমাদের মহিলা খেলোয়াড়েরাও অসাধারণ সাফল্যপেয়েছেন। ভারতীয় মহিলা হকি দল এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস্ ট্রফি জিতেছেন। আর কয়েকদিন আগেঅনূর্দ্ধ ১৮ এশিয়া কাপে ভারতের মহিলা হকি দল ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছেন। আমিক্রিকেট এবং হকি দলের সকল খেলোয়াড়কে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।
আমার প্রিয় দেশবাসী, ২০১৭ সাল নতুন আশা ওউৎসাহের বছর হোক। আপনাদের সকল সংকল্প সফল হোক। উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা যেন এক নতুনউচ্চতা লাভ করতে পারি। নতুন বছরে গরীব ব্যক্তিরাও যেন সুখ-শান্তির জীবন অতিবাহিতকরতে পারেন, ২০১৭-র জন্য আমার পক্ষ থেকে সমস্ত দেশবাসীকে অনেক অনেক শুভেচ্ছাজানাচ্ছি।
অনেক অনেক ধন্যবাদ!
PG/SB
I wish you all a merry Christmas. This is a day of service and compassion: PM @narendramodi #MannKiBaat https://t.co/Iy8hu3Nre5
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
आज 25 दिसम्बर, महामना मदन मोहन मालवीय जी की भी जयन्ती है : PM @narendramodi #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
भारतीय जनमानस में संकल्प और आत्मविश्वास जगाने वाले मालवीय जी ने आधुनिक शिक्षा को एक नई दिशा दी : PM @narendramodi #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
आज, भारत रत्न एवं पूर्व प्रधानमंत्री आदरणीय अटल बिहारी वाजपेयी जी का भी जन्मदिन है : PM @narendramodi #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
ये देश अटल जी के योगदान को कभी नहीं भुला सकता | उनके नेतृत्व में हमने परमाणु शक्ति में भी, देश का सिर ऊपर किया : PM #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
अटल जी के जन्मदिन पर मैं उनको प्रणाम करता हूँ और उनके उत्तम स्वास्थ्य के लिये ईश्वर से प्रार्थना करता हूँ : PM #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
आज क्रिसमस के दिन, सौगात के रूप में, देशवासियों को दो योजनाओं का लाभ मिलने जा रहा है : PM @narendramodi #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
भारत सरकार ने, ग्राहकों के लिये और छोटे व्यापारियों के लिये ‘प्रोत्साहक योजना’ का आज से प्रारंभ हो रहा है : PM @narendramodi #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
ग्राहकों को प्रोत्साहन करने के लिये योजना- ‘lucky ग्राहक योजना’, व्यापारियों को प्रोत्साहन करने के लिये योजना - ‘Digi धन व्यापार योजना’ : PM
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
ये ईनाम के हक़दार आप तब बनेंगे जब आप mobile banking, e-banking, RuPay Card, UPI, USSD (1/2)
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
ये जितने digital भुगतान के तरीक़े हैं उनका उपयोग करोगे, उसी के आधार पर draw निकलेगा (2/2) : PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
‘Digi धन व्यापार योजना’ प्रमुख रूप से व्यापारियों के लिये है : PM @narendramodi #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
ये योजना, समाज के सभी वर्गों, खास करके ग़रीब एवं निम्न मध्यम-वर्ग, उनको केंद्र में रख करके बनायी गई है : PM @narendramodi #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
Awareness towards online payments and using technology for economic transactions is increasing: PM @narendramodi #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
पिछले कुछ ही दिनों में cashless कारोबार, बिना नगद का कारोबार, 200 से 300 प्रतिशत बढ़ा है : PM @narendramodi #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
Prime Minister appreciates Assam Government for their efforts to turn towards digital payments & transactions. @sarbanandsonwal #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
We should be at the forefront of using digital means to make payments and transactions: PM @narendramodi #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
Like last month, many suggestions, inputs and comments were based on the decision on our fight against corruption and black money: PM
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
कुछ ने जो मुझे लिखा है, उसमें नागरिकों को कैसी-कैसी कठिनाइयाँ हो रही है, कैसी असुविधायें हो रही हैं | इसके संबंध में विस्तार से लिखा: PM
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
Many are writing that the fight against corruption has to continue: PM @narendramodi #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
I जितनी पीड़ा आपको होती है, उतनी ही पीड़ा मुझे भी होती है : PM @narendramodi #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
भाँति-भाँति अफवाहों के बावज़ूद भी देशवासियों के मन को कोई डुला नहीं सका है : PM @narendramodi #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
जो लोग अफवाहें फैला रहे हैं कि राजनैतिक दलों को सब छूट-छाट है, ये गलत है : PM @narendramodi #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
कानून सब के लिये समान होता है : PM @narendramodi #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
लोगों के पत्र इस बात को लेकर के आए हैं जिसमें किस प्रकार की धाँधलियां हो रही हैं, किस प्रकार से नये रास्ते खोजे जा रहे हैं इसकी चर्चा है: PM
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
Many are writing to me- मोदी जी थक मत जाना, रुक मत जाना और जितना कठोर कदम उठा सकते हो, उठाओ: PM #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
मैं आपको विश्वास दिलाता हूँ कि ये पूर्ण विराम नहीं है, ये तो अभी शुरुआत है, ये जंग जीतना है : PM @narendramodi #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
दिव्यांग-जनों पर जिस Mission को ले करके मेरी सरकार चली थी, उससे जुड़ा एक बिल संसद में पारित हो गया : PM @narendramodi #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016
Our sportsmen and sportswomen have made us proud: PM @narendramodi #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2016