পিএমইন্ডিয়া
আমার প্রিয় দেশবাসীগণ, আপনাদের সবাইকে নমস্কার!
‘মন কা বাত’-এর এটি দ্বাদশ পর্ব। আর এইভাবে দেখতে দেখতে একবছর পার হয়ে গেল। গত বছর ৩-রা অক্টোবর প্রথমবার ‘মন কি বাত’-এ আমার কথা বলার সৌভাগ্য হয়েছিল। ‘মন কি বাত’-এর এক বছর সম্পূর্ণ – অনেক কথা হলো। আমি জানি না, আপনারা কি পেয়েছেন, কিন্তু আমি এটা অবশ্যই বলতে পারি যে আমি অনেক কিছু পেয়েছি। গণতন্ত্রে জনশক্তির অপার মহিমা আছে। আমার জীবনে এক মৌলিক চিন্তা আছে আর সেজন্যই আমার জনশক্তির ওপর অগাধ বিশ্বাস আছে। ‘মন কি বাত’ আমাকে যা শিখিয়েছে, যা বুঝিয়েছে, যা জেনেছি, যা অনুভব করেছি, তা থেকে বলতে পারি যে, আমরা যতটা ভেবেছি, জনগণের শক্তি তার থেকে অনেক বেশি। আমাদের পূর্বসূরীরা জনতা-জনার্দনের কথা বলেছেন, বলেছেন তাঁরা ঈশ্বরের অংশ। আমি ‘মন কি বাত’ থেকে আমার যে অনুভব হয়ছে, তাতে বলতে পারি যে, আমাদের পূর্বসূরীদের চিন্তাতে মস্ত বড় শক্তি আছে, খুব বড় সত্য আছে, কারণ আমি এটা অনুভব করেছি। ‘মন কি বাত’-এর জন্য আমি সবার কাছ থেকে পরামর্শ চেয়েছি, কিন্তু প্রতিবার হয়ত দু-চারটি পরামর্শ দেখা বা বোঝার চেষ্টা করতে পেরেছি। কিন্তু লক্ষ লক্ষ মানুষ সক্রিয়ভাবে আমাকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। এটা নিজেই এক মস্ত বড় শক্তি। নাহলে প্রধানমন্ত্রীকে খবর দিচ্ছেন, mygov.in-এই সাইটে লিখছেন, চিঠি পাঠাচ্ছেন, কিন্তু আমি একটুও সুযোগ পাচ্ছি না সেগুলি দেখার। যে কোনও মানুষ এতে নিরাশ হতে পারতেন, কিন্তু আমার তা মনে হচ্ছে না। হ্যাঁ, এই লক্ষ লক্ষ চিঠি আমাকে এক বড় শিক্ষা দিয়েছে। সরকারের অনেক সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম অসুবিধার বিষয়ে আমি জানতে পারি, আর আমি আকাশবাণীকেও অভিনন্দন জানাই যে এই সমস্ত পরামর্শগুলোকে শুধুমাত্র কাগজের টুকরো মনে না করে, জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে মর্যাদা দিয়েছেন। তাঁরা এইসব বিষয়ে অনুষ্ঠান করেছেন, সরকারের বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিকদের আকাশবাণীতে ডেকে তাঁদের সামনে সাধারণ মানুষের এই সমস্ত চাহিদা বিচার-বিবেচনা করা হয়েছে, আর দেখা হয়েছে যে এর মধ্যে কোনগুলি পলিসি ম্যাটার, কোনটি কোন বিশেষ ব্যক্তির জন্য অসুবিধেজনক হয়ে উঠেছে, কোনটির ওপর থেকে সরকারের নজর সরে গেছে? একদম গ্রাসরুট লেভেল থেকেও বহু খবর সরকারের কাছে এসে পৌঁছচ্ছে। আর সরকারের এটি একটি মৌলিক সিদ্ধান্ত যে খবর নীচ থেকে ওপরতলায় এসে পৌঁছবে, আর পথ দেখানো হবে ওপর থেকে নীচে। একথা কে ভাবতে পেরেছিল যে এই খবরের স্রোতধারা একদিন ‘মন কি বাত’-এ পরিণত হবে। কিন্তু এটা বাস্তবে সম্ভব হয়েছে। আর এভাবেই ‘মন কি বাত’ সমাজের নিজস্ব চিন্তাভাবনা প্রকাশের এক মাধ্যম হয়ে উঠেছে। আমি একবার কথায় কথায় বলেছিলাম selfy with daughter–এর কথা। আর তাই শুনে সারা দুনিয়া আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সমস্ত বিশ্ব থেকে লক্ষাধিক selfy with daughter–এর ছবি এসে পৌঁছেছে এবং কন্যাসন্তানেরা এতে গৌরবান্বিত হয়েছেন। আর যখন তাঁরা selfy with daughter তুলেছেন, তখন শুধুমাত্র নিজেদের কন্যাসন্তানদেরই গৌরবান্বিত করেননি, নিজেদের ভেতরেও এক সংকল্প জাগিয়ে তুলেছেন। আর এইসমস্ত selfy-গুলো যখন অন্যরা দেখছেন, তাঁদের প্রত্যেকেরই মনে হয়েছে তাঁদেরও কন্যাসন্তানের প্রতি উদাসীনতা ত্যাগ করতে হবে। এটা এক নিঃশব্দ বিপ্লব।
আমি ভারতের পর্যটনের বিষয়টিকে মাথায় রেখে এভাবেই একবার ইন্ক্রেডিবল্ইণ্ডিয়ার কথা বলেছিলাম। বলেছিলাম যখনই আপনারা কোথাও বেড়াতে যাবেন, সেখানকার ভাল ভাল ছবি তুলে আমাকে পাঠাবেন, আমি দেখব। এইরকম খুব সাধারণ হাল্কা চালে বলা কথার কী আশ্চর্যজনক ফলাফলই না আমাদের সামনে এসেছে। ভারতের প্রতিটি কোণা থেকে মানুষ লক্ষাধিক সংখ্যায় এইরকম ছবি পাঠিয়েছেন। রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রীয় সরকারের পর্যটন বিভাগ ভাবতেও পারেনি যে আমাদের দেশে এত ধরনের অমূল্য সম্পদ আছে। একটা নির্দিষ্ট মঞ্চে সবাইকে আনা সম্ভব হয়েছে সরকারের একটি পয়সাও খরচ না করে। মানুষজন সরকারের কাজ বাড়িয়েছেন। গত বছর অক্টোবরের আগে আমি গান্ধী জয়ন্তীর কথা উল্লেখ করে লোকেদের অনুরোধ করেছিলাম যে, ২-রা অক্টোবর আমরা মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন যখন পালন করব, তখন যেন ‘খাদি ফর নেশন’-এর কথা মাথায় রাখি। আর এটা কি সময়ের দাবি নয় যে আমরা ‘খাদি ফর নেশন’-এর কথা মাথায় রেখে খাদির জিনিস কেনার কথা ভাবব। অল্পসল্প হলেও যেন আমরা খাদির জিনিস কিনি। আজ আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলতে পারি যে গত একবছরে খাদির বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আর এটা কোনো সরকারি বিজ্ঞাপনের জন্য হয়নি। কোটি কোটি টাকাও এজন্য খরচ করতে হয়নি। এ ছিল জনশক্তি-র এক বিশ্বাস, এক অনুভূতি।
একবার ‘মন কি বাত’-এ আমি বলেছিলাম যে গরীবদের ঘরে উনুন জ্বলে, তার ধোঁয়ায় বাচ্চাদের চোখে জল আসে, গরীব মায়ের কি গ্যাস সিলিণ্ডার পাওয়ার কোনও অধিকার নেই? আমি আর্থিকভাবে সম্পন্ন লোকেদের অনুরোধ করেছিলাম যে আপনারা গ্যাস সিলিণ্ডারের জন্য যে ভর্তুকি আছে তা প্রত্যর্পণ করুন। আপনারা ভাবুন। আর আজ আমি আনন্দের সঙ্গে এটা বলতে পারি যে এদেশের প্রায় তিরিশ লক্ষ পরিবার গ্যাস সিলিণ্ডারের ভর্তুকি ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁরা কেউই কিন্তু বড়লোক নন। এক টিভি চ্যানেলে আমি দেখেছিলাম, একজন বিধবা মহিলা, তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা, গ্যাস সিলিণ্ডারের ভর্তুকি প্রত্যর্পণের লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। সমাজের মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার, যাঁদের পক্ষে ভর্তুকি ছেড়ে দেওয়া যথেষ্ট অসুবিধাজনক, তাঁরাও কিন্তু ভর্তুকির সুবিধা ত্যাগ করেছেন। এটা কি কোনও নিঃশব্দ বিপ্লব নয়? এটা জনতার শক্তির প্রদর্শন নয়? সরকারেরও এই শিক্ষা নিতে হবে যে আমাদের সরকারি পরিধির বাইরে এক বৃহৎ জনশক্তি আছে, যাঁদের সামর্থ্য, উৎসাহ আর সংকল্প অনেক বেশি। সরকার যত জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে কাজ করবে, ততই সমাজের উন্নতির ক্ষেত্রে সে এক ভাল অনুঘটক হিসাবে কাজ করতে পারবে।
‘মন কি বাত’-এ আমার যে সমস্ত বিষয়ের প্রতি ভরসা ছিল, আজ তা বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে, তার প্রতি শ্রদ্ধা জেগেছে। আর এজন্যই আমি আজ ‘মন কি বাত’-এর মাধ্যমে আর একবার জনশক্তিকে অভিনন্দন জানাতে চাই, প্রণাম করতে চাই। আমার দেশের জনগণ প্রতিটি ছোট ছোট কথাকে গুরুত্ব দিয়ে দেশের কল্যাণে নিজেদেরকে নিয়োজিত করার চেষ্টা করে চলেছেন। এর থেকে বড় আনন্দ আর কি হতে পারে?
‘মন কি বাত’-এর এই পর্বে আমি এক নতুন প্রয়াস গ্রহণ করার কথা ভেবেছি। আমি জনগণের কাছে প্রার্থনা করেছিলাম যে, আপনারা আপনাদের প্রশ্ন, আপনাদের পরামর্শ দূরভাষের মাধ্যমে জানান। আমি ‘মন কি বাত’-এ সেই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করব। আমার আনন্দ হচ্ছে এই ভেবে যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় পঞ্চান্ন হাজারের বেশি ফোন এসেছে। সিয়াচেন, কচ্ছ বা কামরূপই হোক অথবা কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা – ভারতের এমন কোনও জায়গা নেই, যেখান থেকে জনসাধারণ ফোন করেন নি। এটা আমার নিজের এক সুখানুভূতি। সব বয়সের মানুষ ফোন করেছেন। কিছু ফোন তো আমি নিজে শুনেছি এবং আমার ভালো লেগেছে। বাকি ফোনগুলি নিয়ে আমার সরকারের অন্য আধিকারিকরা কাজ করছেন। আপনাদের হয়ত ফোন করতে এক-দু’মিনিট সময় লেগেছে, কিন্তু আমার কাছে আপনাদের এই অল্প সময়ের ফোন কল, পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমার পুরো সরকার আপনাদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবে। একটা বিষয়ে আমার খুব আশ্চর্য লেগেছে এবং আনন্দও হয়েছে। যখন চারদিকে negativity অর্থাৎ নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে, তখন আমার অনুভূতি অন্য কথা বলে। এই পঞ্চান্ন হাজার মানুষ তাঁদের নিজেদের মত করে নিজেদের কথা বলেছেন। তাঁরা যা খুশি বলতে পারতেন, কারণ এই ব্যাপারে কোন বাধা ছিল না। কিন্তু আমি আশ্চর্য হয়ে দেখলাম, তাঁদের সব কথার মধ্যে ‘মন কি বাত’-এর প্রভাব পড়েছে। পুরোপুরি ইতিবাচক কথা, ইতিবাচক পরামর্শ তাঁরা দিয়েছেন। কাজেই দেখুন, দেশের সাধারণ মানুষও কতটা ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে চলেন। দেশের জন্য এ এক বড় সম্পদ। এক কি দুই শতাংশ ফোনেই হয়ত কোনও গুরুতর অভিযোগ ছিল। নাহলে নব্বই শতাংশ ফোনই উৎসাহব্যঞ্জক এবং আনন্দদায়ক ছিল। আর একটা বিষয় আমাদের নজরে এসেছে, বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি, বিশেষ করে দৃষ্টিহীন ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রচুর ফোন এসেছে। এর একটা কারণ এটা হতে পারে যে যেহেতু তাঁদের টিভি দেখার সৌভাগ্য হয় না, তাই তাঁরা রেডিওটা অবশ্যই শোনেন। এর থেকে আমি এটা বুঝতে পেরেছি যে দৃষ্টিহীন ব্যক্তিদের কাছে রেডিও কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি এক নতুন দিশা পেয়েছি এইসব ফোনের থেকে। সরকারকে আরও সংবেদনশীল করার জন্য এই ফোনগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাজস্থানের আলওয়ার থেকে পবন আচার্য আমাকে এক পরামর্শ দিয়েছেন। আমার মনে হয় সকলের এটা শোনা উচিত এবং গোটা দেশের মানুষেরই তা মানা উচিত। উনি কি বলতে চাইছেন, তা অবশ্যই শুনুন – “আমার নাম পবন আচার্য, আমি রাজস্থানের আলওয়ারে থাকি। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীজীর কাছে আমার বক্তব্য এই যে, এবার মন কি বাত-এ আপনি সারা দেশের মানুষকে অনুরোধ জানান, দীপাবলীতে যেন তাঁরা মাটির প্রদীপ ব্যবহার করেন। এতে যেমন পরিবেশের উপকার হবে, তেমনই হাজার হাজার কুমোর ভাইয়েরা লাভবান হবেন। ধন্যবাদ।”
পবন, আমার বিশ্বাস, হাওয়ার বেগে আপনার এই পরামর্শ ভারতের কোণে কোণে ছড়িয়ে পড়বে। খুব ভাল পরামর্শ দিয়েছেন। মাটি নিজেই অমূল্য আর তাই মাটির প্রদীপও অমূল্য। পরিবেশের দিক থেকেও এর একটা দাম আছে। প্রদীপ তৈরি হয় গরীবদের ঘরে। দরিদ্র মানুষ এই কাজ করে নিজেদের সংসার চালান। আর আমি দেশবাসীকে এটা বলতে চাই, আসন্ন দীপাবলী উৎসবে আমরা যদি পবন আচার্য-র পরামর্শ মেনে চলি, তাহলে প্রদীপ জ্বলবে আমাদের ঘরে, আর তার আলো ছড়িয়ে পড়বে দরিদ্র মানুষের ঘরে।
আমার প্রিয় দেশবাসী, গণেশ চতুর্থীর দিন সেনাবাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে আমার দু-তিন ঘণ্টা সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছিল। জল, স্থল ও বায়ুপথে সুরক্ষা দেন যাঁরা সেই জলসেনা, স্থলসেনা এবং বায়ুসেনা – আর্মি, এয়ারফোর্স ও নেভি-র জওয়ানদের সঙ্গে আমি সময় কাটিয়েছি। ১৯৬৫-তে পাকিস্তানের সঙ্গে যে যুদ্ধ হয়েছিল, তার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দিল্লিতে ইণ্ডিয়ান গেটের কাছে এক ‘শৌর্যাঞ্জলী’ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। আমি খুব উৎসাহ নিয়ে এই প্রদর্শনী দেখছিলাম। গিয়েছিলাম তো আধঘণ্টার জন্য, কিন্তু যখন প্রদর্শনী দেখে বেরোলাম, তখন আড়াই ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে – তাও সম্পূর্ণ প্রদর্শনী দেখা হয়ে ওঠে নি। কি ছিল না সেখানে – পুরো ইতিহাসকে জীবন্ত করে তুলে ধরা হয়েছে। সৌন্দর্যের দিক থেকে দেখলে বলব অনুপম। ইতিহাসের দিক থেকে দেখলে বলব অত্যন্ত শিক্ষামূলক, আর জীবনে উৎসাহ পাওয়ার জন্য দেখলে বলব যে মাতৃভূমির সেবা করার জন্য এর থেকে বড় কোনও অনুপ্রেরণা আর কিছু হতে পারে না। যুদ্ধকালীন যেসব গৌরবজনক মুহূর্ত, আমাদের সেনাবাহিনীর যে সমস্ত অদম্য সাহস ও বলিদানের কথা আমরা শুনেছি, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে তা আমরা উপলব্ধি করতে পারি। কারণ তখনকার কোনো ছবি আমরা পাইনি, ভিডিওগ্রাফিও সম্ভব ছিল না। হাজি পীর-এর লড়াই বা একদম দেশের উত্তরদিকের লড়াই, চামিণ্ডার লড়াই বা হাজি পীর পাস জয়ের দৃশ্য, যাই দেখুন না কেন, এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি হয় এবং আমাদের সেনা জওয়ানদের জন্য গর্ব হয়। আমি এই সমস্ত বীর সেনানীদের পরিবারগুলির সঙ্গে, এমনকি সেই সমস্ত পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেছি, যাঁদের নিকট আত্মীয়রা জীবন বলিদান দিয়েছেন এই যুদ্ধে। যে সমস্ত জীবিত মানুষ এই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁরা আজ তাঁদের জীবনের অন্তিম পর্বে এসে পৌঁছেছেন। এঁরা সবাই এসেছিলেন এই প্রদর্শনীতে, আর যখন তাঁদের সঙ্গে করমর্দণ করবার সুযোগ আমার হয়েছিল, তখন মনে হয়েছিল, কী অসীম প্রাণশক্তি তাঁদের। এটা আমাকে প্রেরণা দিয়েছে। আপনারা যদি ইতিহাস তৈরি করতে চান, তাহলে ইতিহাসের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়গুলি জানা, বোঝা জরুরি। আমাদের নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে যোগসূত্র তৈরি করে ইতিহাস। ইতিহাসের সঙ্গে যদি সম্পর্ক ছেদ হয়ে যায়, তো নতুন ইতিহাস তৈরির সম্ভাবনাও বিনাশপ্রাপ্ত হয়। এই ধরণের বীরত্বব্যঞ্জক প্রদর্শনীর মাধ্যমে আমরা ইতিহাসকে অনুভব করতে পারি, ইতিহাসকে জানতে পারি এবং নূতন ইতিহাস সৃষ্টির প্রেরণার বীজ বপন করতে পারি। এই প্রদর্শনী আরও কিছুদিন চলবে। আমার অনুরোধ, আপনারা যাঁরা দিল্লির আশেপাশে থাকেন, আপনাদের পরিবারের সঙ্গে এই প্রদর্শনী অবশ্যই দেখুন এবং আমার মত তাড়াহুড়ো করে নয়। ধীরে সুস্থে দেখুন। আমি তো দু-আড়াই ঘণ্টায় ফিরে এসেছি, আপনারা নিশ্চয়ই ঘণ্টা তিন-চারেক সময় নিয়ে দেখবেন। অবশ্যই দেখবেন।
গণতন্ত্রের শক্তি দেখুন, একটি ছোট ছেলে প্রধানমন্ত্রীকে আদেশ করছে, কিন্তু ওই ছোট ছেলেটি তাড়াহুড়োয় নিজের নাম বলতে ভুলে গেছে। ওর নামটা তো আমার জানা নেই, কিন্তু তার কথা প্রধানমন্ত্রীর অনুধাবনযোগ্য তো বটেই, আমাদের সমস্ত দেশবাসীরও অনুধাবনযোগ্য। শুনুন এই ছোট ছেলেটি আমাদের কী বলছে –
“প্রধানমন্ত্রী মোদীজী, আমি আপনাকে বলতে চাই যে আপনি যে স্বচ্ছ ভারত অভিযান শুরু করেছেন, তার জন্য সব জায়গায়, সমস্ত গলিতে ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করুন।”
এই বালকটি ঠিকই বলেছে। স্বচ্ছতাকে আমাদের স্বভাবগত করা উচিত এবং তার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই বালকটির কথা শুনে আমার খুব আনন্দ হয়েছে। আনন্দ এই জন্যই যে ২-রা অক্টোবর আমি স্বচ্ছ ভারত অভিযান চালানোর কথা ঘোষণা করি, আর আমি এটা বলতে পারি যে স্বাধীনতার পর সম্ভবত এই প্রথম সংসদে স্বচ্ছতা নিয়ে আজকাল ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা চলে। আমাদের সরকারের কাজকর্ম নিয়েও আলোচনা হয়। আমাকেও অনেক কথা শুনতে হয়, যে মোদীজী তো স্বচ্ছতা নিয়ে অনেক বড় বড় কথা বলেন, কিন্তু কী হচ্ছে শেষ পর্যন্ত? আমার এতে খারাপ লাগে না। এর মধ্যে আমি ভালোটাই দেখি – দেশের সংসদও এখন ভারতের স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা করছে। আর অন্যদিকে দেখুন, একদিকে সংসদ আর একদিকে দেশের শিশু – দুজনেই স্বচ্ছতা নিয়ে কথা বলছেন। এর থেকে বড় সৌভাগ্য দেশের আর কী হতে পারে? স্বচ্ছতা নিয়ে এই যে আন্দোলন তৈরি হয়েছে, আবর্জনার প্রতি ঘৃণার যে বাতাবরণ তৈরি হয়েছে, পরিচ্ছন্নতার প্রতি যে সচেতনতা এসেছে, তা এই সরকারকেও স্বচ্ছ ভারত তৈরির জন্য কাজ করতে বাধ্য করবে – করবে – করবে। স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থা – সেটা পঞ্চায়েত, নগর পঞ্চায়েত, পুর নিগম, মহানগর পৌর নিগম বা রাজ্য অথবা কেন্দ্র – প্রতিটি সংস্থাকে এই বিষয়ে কাজ করতে হবে। এই আন্দোলনকে অসুবিধার মধ্যেও আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আর ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে আমরা যখন মহাত্মা গান্ধীর ১৫০-তম জন্মজয়ন্তী পালন করবো, তখন মহাত্মা গান্ধীর স্বপ্নকে সফল করার উদ্দেশ্যে আমরা সঠিক পথে এগোবো। আপনারা কি জানেন, মহাত্মা গান্ধী কি বলতেন? মহাত্মা গান্ধী একবার বলেছিলেন, স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা – এই দুটোর মধ্যে যদি আমাকে একটা পছন্দ করতে হয়, তাহলে আমি প্রথমে স্বচ্ছতাকে পছন্দ করবো, স্বাধীনতাকে পরে। গান্ধীজীর কাছে স্বাধীনতার থেকে স্বচ্ছতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আসুন, সবাই মহাত্মা গান্ধীর কথা অনুসরণ করি এবং তাঁর ইচ্ছা পূরণ করতে কিছু পদক্ষেপ আমরাও নিই। দিল্লির গুলশন অরোরা mygov.in পোর্টালে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। উনি দীনদয়ালজী-র জন্মশতাব্দী সম্বন্ধে জানতে চেয়েছেন। আমার প্রিয় দেশবাসীগণ, মহাপুরুষদের জীবন দর্শন আমাদের প্রেরণার উৎস। আর আমাদের কাজ হল মহাপুরুষদের বিচারধারা অনুসরণ করা, তার মূল্যায়ন করার দায়িত্ব আমাদের নয়। দেশের জন্য যাঁরা জীবনপাত করেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। আর আজকাল অনেক মহাপুরুষদের স্মরণ করার সুযোগ আসছে – ২৫শে সেপ্টেম্বর পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়, ২-রা অক্টোবর মহাত্মা গান্ধী ও লাল বাহাদুর শাস্ত্রী, ১১-ই অক্টোবর জয়প্রকাশ নারায়ণ এবং ৩১-শে অক্টোবর সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল-এর জন্মজয়ন্তী – এরকম অনেক নাম আমরা স্মরণ করতে পারি, কারণ আমাদের দেশ হলো বহু রত্নে ভূষিত। যে কোনও দিনই ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে কোনো না কোনো মহাপুরুষের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। আগামী দিনগুলিতে আমরা এই সব মহাপুরুষদের স্মরণ করবো, তাঁদের জীবন দর্শন আমরা প্রত্যেক ঘরে পৌঁছে দেবো, আর এর থেকে কিছু না কিছু শেখার চেষ্টা করবো।
আমি বিশেষ করে ২-রা অক্টোবর-এর উল্লেখ করতে চাইবো, ওইদিন পূজনীয় মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন, আমি গত বছরও বলেছিলাম, আপনাদের বিভিন্ন ফ্যাশনের কাপড় আছে, বিভিন্ন প্রকার ফ্যাব্রিক আছে, আরও অনেক প্রকার বস্তু রয়েছে, কিন্তু খাদির সামগ্রীর একটা বিশেষ স্থান হওয়া উচিত।
আমি আরেকবার অনুরোধ করছি যে, ২-রা অক্টোবর থেকে এক মাস খাদি বস্ত্রের উপর বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়। এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করুন। খাদির সঙ্গে সঙ্গে তাঁত শিল্পকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া দরকার। আমাদের তন্তুবায়রা এত পরিশ্রম করেন, যদি আমরা ১২৫ কোটি দেশবাসী ৫ টাকা, ১০ টাকা অথবা ৫০ টাকা মূল্যের কোন বয়নশিল্পজাত অথবা খাদির কোন সামগ্রী কিনে নিই, তাহলে শেষ পর্যন্ত সেই টাকা গরীব তন্তুবায়দের ঘরেই পৌঁছবে – খাদি প্রস্তুতকারী কোন দরিদ্র বিধবার ঘরে পৌঁছবে। আর এই জন্যই এই দীপাবলিতে আমরা নিশ্চয়ই খাদিকে আমাদের ঘরে জায়গা দেব, খাদিবস্ত্র পরিধান করব। আমি এটা বলতে চাইছি না যে, আপনারা সম্পূর্ণরূপে খাদিবস্ত্র পরিধান করুন, আমার বলার উদ্দেশ্য হল যে, কিছু খাদি সামগ্রী ব্যবহার করুন। আর দেখুন, গতবার খাদিবস্ত্রের বিক্রি দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। কত দরিদ্র মানুষের উপকার হয়েছে। যে কাজ সরকার লক্ষ-কোটি টাকা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে খরচ করেও করতে পারে না, সেই কাজ আপনাদের ক্ষুদ্র সাহায্যে সম্ভব হয়েছে। এটাই তো ‘জনশক্তি’। আর এইজন্যই আমি আরেকবার এই কাজের জন্য আপনাদের অনুরোধ করছি।
প্রিয় দেশবাসী, একটি বিষয় আমার মন আনন্দে ভরিয়ে দিয়েছে। আমার মনের ইচ্ছা, আপনারাও এই আনন্দের শরিক হন। আমি মে মাসে কলকাতায় গিয়েছিলাম। সুভাষ চন্দ্র বসু-র পরিবারের কয়েকজন আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। ওঁর ভ্রাতুষ্পুত্র চন্দ্র বসু সব ব্যবস্থা করেছিলেন। সুভাষবাবুর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে খোশ মেজাজে বেশ কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছিল। ওই দিনই ঠিক করা হয়েছিল যে সুভাষবাবুর বৃহৎ পরিবারের লোকজন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আসবেন। চন্দ্র বসু ও তাঁর পরিবারের লোকেরা এই ব্যাপারটা দেখাশোনা করছেন। আর গত সপ্তাহে আমি জানতে পারি যে, সুভাষবাবুর পরিবারের পঞ্চাশেরও বেশি সদস্য প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আসবেন। আপনারা কল্পনা করতে পারেন এই বিষয়টি আমার জন্য কতটা আনন্দদায়ক। হয়তো তাঁরা সবাই মিলে এই প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আসছেন। কিন্তু আমার জন্য সবথেকে বেশি খুশির বিষয় এটাই যে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে এরকম আতিথেয়তা করার সুযোগ কখনই আসেনি, যে সুযোগ অক্টোবর মাসে আমি পাব। সুভাষবাবুর পরিবারের ৫০ জনেরও অধিক সদস্য, যাঁর বিভিন্ন দেশে থাকেন, তাঁরা সবাই আসছেন। আমার কাছে এটা বড়ই আনন্দঘন মুহূর্ত। আমি ওঁদের স্বাগত জানানোর জন্য আগ্রহী, খুব আনন্দ অনুভব করছি।
ভার্গবী কান্ড়ে আমাকে এক বার্তা পাঠিয়েছেন। তাঁর বলার ধরণ, তার কণ্ঠস্বর শুনে আমার মনে হয়েছে উনি একজন নেত্রী, বা নেত্রী হতে চলেছেন। উনি বলেছেন, “আমার নাম ভার্গবী কান্ড়ে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই অনুরোধ করতে চাই যে, আপনি যুবসমাজকে ভোটার রেজিস্ট্রেশন করার জন্য সচেতন করুন। যার ফলে আগামী দিনে যুবসমাজের যোগদান বাড়বে আর ভবিষ্যতে সরকার গঠনে ও পরিচালনায় যুবসমাজ মহত্বপূর্ণ যোগদান করতে পারে। ধন্যবাদ।”
ভোটার তালিকায় নাম নথিভূক্ত করা এবং ভোটদান প্রসঙ্গে ভার্গবী বলেছেন। আপনি ঠিকই বলেছেন। গণতন্ত্রে প্রত্যেক ভোটার দেশের ভাগ্যবিধাতা। আর এই সচেতনতা ধীরে ধীরে বাড়ছে। ভোটদানের শতকরা হারও বাড়ছে। আর আমি এজন্য ভারতের নির্বাচন কমিশনকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই। কয়েক বছর আগেও আমরা দেখেছি যে নির্বাচন কমিশন কেবলমাত্র নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা করতেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে এর এক বড়ো পরিবর্তন এসেছে। আজ আমাদের নির্বাচন কমিশন কেবলমাত্র নির্বাচন পরিচালক নয়, এক সহায়কের কাজ করছেন, ভোটার-ফ্রেণ্ডলি হয়ে গেছেন, আর তাদের সমস্ত চিন্তাধারা, সমস্ত পরিযোজনার কেন্দ্রবিন্দু হ’ল ভোটদাতা। এটা খুবই ভালো পরিবর্তন। কিন্তু কেবলমাত্র নির্বাচন কমিশন কাজ করবেন, এটা চলবে না। আমাদেরও স্কুল, কলেজ, পাড়ায়-পাড়ায় সচেতনতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। কেবলমাত্র নির্বাচনের সময়ই সচেতন হলে চলবে না। সময়ে সময়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের দিকে আমাদের নজর দিতে হবে। আমি যে মূল্যবান অধিকার পেয়েছি, সেই অধিকার সুরক্ষিত আছে কি নেই, বা আমি তার সঠিক প্রয়োগ করছি কিনা – সেদিকে আমাদের সজাগ নজর রাখতে হবে। আমি আশা করছি দেশের নব্যযুবকরা ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম নথিভুক্ত না করে থাকলে অবশ্যই তাঁরা তা নথিভুক্ত করবেন এবং অবশ্যই ভোটদান করবেন। আমি তো নির্বাচনের দিন খোলাখুলি বলি ‘প্রথমে ভোটদান, তারপর জলপান’। এটা একটা পবিত্র কর্তব্য, সবারই করা উচিৎ।
গত পরশু আমি কাশী ঘুরে এসেছি। অনেক লোকের সঙ্গে মিলিত হয়েছি, অনেক অনুষ্ঠান হয়েছে, অনেকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে, কিন্তু দু’জন বালক-এর কথা আমি আপনাদের বলতে চাই। একজন বালক – ক্ষিতিজ পাণ্ডে, যে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্ত কেন্দ্রিয় বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র, প্রাণচঞ্চল, প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু এত কম বয়সে পদার্থবিদ্যা গবেষণায় তার আগ্রহ আমাকে অবাক করেছে। আমার মনে হয়, ও অনেক পড়াশোনা করে, ইন্টারনেট সার্ফিং করে, বিজ্ঞানের নতুন নতুন ব্যবহার সম্পর্কে অবহিত। রেল দুর্ঘটনা থেকে কীভাবে রেহাই পাওয়া যায়, কী ধরনের প্রযুক্তি দরকার, শক্তির খরচ কীভাবে কম করা যায়, রোবটের অনুভূতি কীভাবে আসে ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সে কথা বলছিল। সত্যিই আশ্চর্যজনক ছেলে। ওর কথাবার্তা সূক্ষ্মভাবে বিচার করতে পারিনি। কিন্তু তার আত্মবিশ্বাস, তার আগ্রহ দেখার মতো এবং আমিও চাই, আমাদের দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের বিজ্ঞানের প্রতি আকর্ষণ বাড়া দরকার। এদের মনে প্রশ্ন ওঠা দরকার – কি, কেন, কখন ইত্যাদির। এটা সরল মনে জিজ্ঞাসা করা দরকার। এরকমই একজন সোনম্প্যাটেল নামে এক ছোটো বালিকার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। সোনমের বয়স ন’বছর। বেনারসের সুন্দরপুর নিবাসী সদাবৃত প্যাটেলের কন্যা, খুবই দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম, পুরো গীতা মেয়েটির কণ্ঠস্থ। কিন্তু সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল, আমি যখন তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, সে শ্লোক বলে ইংরেজিতে তর্জমা করছিল, শ্লোকের ব্যাখ্যাও করছিল, হিন্দিতেও বিশ্লেষণ করে শুনিয়েছিল। আমি তার বাবাকে জিজ্ঞেস করাতে উনি বললেন, পাঁচ বছর বয়স থেকেই মেয়েটি এই কাজ করছে। এটা সে কোথা থেকে শিখেছে জিজ্ঞেস করাতে তার বাবা বললেন, তিনিও জানেন না। আমি তার পড়াশোনার কথা জিজ্ঞেস করলাম, সে কি কেবল গীতা-ই পড়ে না আরও কিছু করে? ভদ্রলোক বললেন, না সোনম্যদি একবার অঙ্ক শুরু করে সন্ধের মধ্যে সব পাঠ শেষ, আর যদি ইতিহাস পড়ে, তো সন্ধের মধ্যে মুখস্থ। মেয়েকে নিয়ে তারাও বিস্মিত, পরিবারের মধ্যে সেই কেবল মাত্র এত সব পারে। আমি সত্যিই অভিভূত। কখনো কখনো বাচ্চাদের মধ্যে সেলিব্রিটি হওয়ার শখ জাগে। সোনমের মধ্যে এসব কিছুই ছিল না। আমার মনে হয়, ভগবান একে বিশেষ কোনো শক্তি প্রদান করেছেন। আমার কাশী যাত্রায় এই দুই বাচ্চার সঙ্গে সাক্ষাৎ গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তাই মনে হল আপনাদেরও এদের কথা বলি। আপনারা টিভিতে যা সব দেখেন, খবরের কাগজে যা পড়েন, তার অতিরিক্ত অনেক কাজ আমরা করি, কখনো কখনো এরকম কাজে আনন্দও পাই, এই দুই বালক-বালিকার সঙ্গে আমার কথাবার্তা আমার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আমি দেখেছি, ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে কিছু লোক আমার জন্য কিছু কাজ নিয়ে আসছেন, দেখুন, হরিয়ানার সন্দীপ কি বলছেন –
“হরিয়ানা থেকে সন্দীপ বলছি, স্যার আমি চাই আপনি মন কি বাত অনুষ্ঠান যেটা মাসে একবার করছেন, অনুষ্ঠানটি সপ্তাহে একবার হওয়ার দরকার। কেননা আপনার কথা থেকে আমরা অনেক অনুপ্রেরণা লাভ করি।”
সন্দীপজী, আপনারা আমাকে দিয়ে আর কি কি করাবেন? মাসে একবার এই অনুষ্ঠান করার জন্য আমাকে অনেক চেষ্টা করে সময় বের করতে হয়। কখনও কখনও আমাদের আকাশবাণীর বন্ধুদের আধঘণ্টা, পৌনে এক ঘণ্টা আমার জন্য অপেক্ষা করে বসে থাকতে হয়। কিন্তু আমি আপনার এই ভাবনাকে সম্মান জানাই। আপনার প্রস্তাবের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই, আপাতত মাসে একবারই ঠিক আছে। ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের এক বছর পূর্ণ হলো। আপনারা জানেন, সুভাষবাবু রেডিওর কতটা সদ্ব্যবহার করতেন? জার্মানি থেকে উনি নিজের রেডিও সম্প্রচার শুরু করেছিলেন, আর রেডিওর মাধ্যমে ভারতবর্ষের জনগণকে স্বাধীনতার আন্দোলন সম্বন্ধে বারবার বলতেন। সাপ্তাহিক সংবাদ বুলেটিন দিয়ে উনি আজাদ হিন্দ রেডিও-র সূচনা করেছিলেন। ইংরেজি, হিন্দি, বাংলা, মারাঠি, পাঞ্জাবী, পুস্তু, উর্দু প্রভৃতি ভাষায় এই রেডিও সম্প্রচার হত।
আকাশবাণীতে ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান করতে করতে এক বছর পার হয়ে গেলো, আমার মনের কথা আপনাদের জন্য সত্যি সত্যিই আপনাদের মনের কথা হয়ে গেছে। আপনাদের কথা শুনি, আপনাদের জন্য ভাবি, আপনাদের প্রস্তাব বিবেচনা করি, আর তার থেকেই আমার চিন্তাধারার দিগন্ত খুলে যায়, যা আকাশবাণীর মাধ্যমে আপনাদের কাছে পৌঁছায়। আমি বলি, কিন্তু এটা আসলে আপনাদেরই কথা, আর এতেই আমার সন্তুষ্টি।
আগামী মাসে ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে আবার কথা হবে, আপনাদের প্রস্তাব পাঠাতে থাকবেন, প্রস্তাবগুলো থেকে সরকারও উপকৃত হয়। সংশোধনের শুরু হয়।
আপনাদের অংশগ্রহণ আমার জন্য মূল্যবান, আপনাদের সবাইকে আর একবার অনেক অনেক শুভেচ্ছা, ধন্যবাদ!
Tomorrow at 11 AM. Do join. #MannKiBaat pic.twitter.com/koJgUwE7La
— Narendra Modi (@narendramodi) September 19, 2015
Be a part of today's #MannKiBaat programme. Join http://t.co/9c68fg4PLT http://t.co/t1AsacBXBq
— Narendra Modi (@narendramodi) September 20, 2015
You can also hear #MannKiBaat programme on your mobile phones, through the 'Narendra Modi Mobile App.' http://t.co/kdx6cEEtDh
— Narendra Modi (@narendramodi) September 20, 2015
My fellow citizens, this is 12th episode of #MannKiBaat, a year has passed. I had addressed you in October last year: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
One year, a lot of conversation. I learnt a lot from you. Jan Shakti is very important in a democracy: PM https://t.co/wDE9FK4bI6
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
हम सोचते हैं, उससे भी ज्यादा जन-शक्ति अपरम्पार होती है: PM @narendramodi during his #MannKiBaat https://t.co/wDE9FK4bI6
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
I sought inputs from you, I would take up a few of them but so many people contributed: PM @narendramodi http://t.co/ORSt201yKG
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
The lakhs of letters taught me invaluable lessons. I got to know about the issues in the Government: PM http://t.co/ORSt201yKG
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
#MannKiBaat showcased Samajh Ki Shakti (strength of the people in a society) : PM @narendramodi http://t.co/ORSt201yKG
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
PM recalls the response to #SelfieWithDaughter and #IncredibleIndia generated across India and the world: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
I had urged you all to buy some Khadi and I am happy the sales have increased so much. This is realisation of Jan Shakti: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
Lakhs of families have given up their gas subsidies. These are not rich people. This is also a silent revolution: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
I have tried something new this time- asked people to share their questions through telephone. I got over 55,000 calls: PM #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
One would feel there is negativity all around but the phone calls, they had so many suggestions and so much positivity: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
Pawan from Alwar has a message - on Diwali use Mitti Diyas. This will help the environment and will help the poor as well.
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
Pawan's message is right. Diyas do help the environment. I urge you all to follow what Pawan said: PM @narendramodi https://t.co/wDE9FK4bI6
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
Spent a lot of time with Armed personnel at Shauryanjali. I was supposed to be there for 30 mins but spent much more than that: PM
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
History was recreated at Shauryanjali. We have always heard about the valour of our forces: PM @narendramodi https://t.co/wDE9FK4bI6
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
See the strength of democracy. A small child has given me his orders: PM @narendramodi https://t.co/wDE9FK4bI6
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
Get dustbins put everywhere: Small child to PM @narendramodi #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
Parliament talks about cleanliness now, I am also criticised for it but I do not consider this to be a bad thing: PM #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
I am again making an appeal for 2nd October, please buy some Khadi & handloom: PM @narendramodi #MannKiBaat https://t.co/wDE9FK4bI6
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
Even buy Khadi and handloom during festivals. I am not saying use only Khadi but give it some place in your lives: PM #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
There is something I am very happy to share. In May I went to Kolkata where I met family of Subhas Babu: PM @narendramodi #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
I have wanted to invite the entire family of Subhas Bose to my residence and in October over 50 family members will come to 7RCR: PM
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
It is a matter of joy for me that I can host this family (Bose family) at my residence. They are coming from various nations: PM #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
Bhargavi has a message for PM- please encourage youth to vote. #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
Bhargavi is right. Every voter is a Bhagya Vidhata of the nation: PM #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
I want to congratulate the election commission. Earlier it was a regulator now it is facilitator & has become very voter friendly: PM
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
I urge youth to register as voters and go out and vote when the time comes: PM @narendramodi https://t.co/wDE9FK4bI6
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
See what Sandeep is telling me- "you should do #MannKiBaat weekly. I get very inspired."
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
Sandeep ji, what all will you want me to do. I appreciate your enthusiasm: PM @narendramodi to Sandeep
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
This is your #MannKiBaat. This makes very happy: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
Hear #MannKiBaat in your language at 8 PM on all regional stations of AIR.
— PMO India (@PMOIndia) September 20, 2015
Today's #MannKiBaat was the 12th episode, thus completing a year of a programme that has been extremely enriching. https://t.co/JZfnxTOV0s
— Narendra Modi (@narendramodi) September 20, 2015
This #MannKiBaat programme included messages from people on voting, cleanliness & earthen diyas during Diwali. http://t.co/7DqcJ90MON
— Narendra Modi (@narendramodi) September 20, 2015