পিএমইন্ডিয়া
আমার প্রিয় দেশবাসীগণ, নমস্কার!
দীপাবলীর পবিত্র উৎসবের সময় আপনারা নিশ্চয়ই খুব ভালোভাবে ছুটি কাটিয়েছেন। কোথাও বেড়াতে যাওয়ারও সুযোগ নিশ্চয়ই পেয়েছেন। নতুন উৎসাহের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও রোজগারপাতিও শুরু হয়ে যাবে। অন্যদিকে ক্রিসমাসের জন্য প্রস্তুতিও নিশ্চয়ই শুরু হয়ে গেছে। সমাজ-জীবনে উৎসবের এক আলাদা মহত্ব আছে। কখনও উৎসব শোক দূর করতে কাজ করে, কখনও বা তা নতুনভাবে উৎসাহ সৃষ্টি করে। কিন্তু কখনও কখনও উৎসবের সময় যখন কোনও সংকট এসে উপস্থিত হয়, তখন তা খুব বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে। বিশ্বের প্রতিটি জায়গা থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবর এসেই চলেছে। এমন সব প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা আগে কখনও শুনি নি বা ভাবি নি। আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাব কি প্রচণ্ড গতিতে বেড়ে চলেছে, তা এখন আমরা অনুভব করতে পারছি। আমাদের দেশে বিগত সময়ে যে অতি বর্ষণ বা অকাল বর্ষণ বা দীর্ঘ সময় ধরে বর্ষণ হয়ে চলেছে, তাতে বিশেষ করে তামিলনাড়ুতে যে ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে, অন্যান্য রাজ্যের ওপরেও তার প্রভাব পড়েছে, অনেক প্রাণহানি হয়েছে। এই বিপদের সময়ে আমি এই সমস্ত পরিবারের প্রতি আমার শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি। রাজ্য সরকার উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে। কেন্দ্রিয় সরকারও সব সময়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে। আপাতত ভারত সরকারের উদ্ধারকারী একটি দল তামিলনাড়ু গেছে। আমার বিশ্বাস, এই বিপদ সত্ত্বেও তামিলনাড়ু আবার নতুন উদ্যমে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলবে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার যে ভূমিকা তা সে পালন করবে। যখন চারদিকে এই বিপদের ঘটনা ঘটছে, তখন তা প্রতিরোধ করার প্রয়োজনীয়তাও বেড়ে যাচ্ছে। আজ থেকে পনের বছর আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুধু কৃষিকাজের ওপরেই প্রভাব ফেলত। কারণ, তখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা আকালের প্রভাব কৃষিকাজের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল। এখন তার রূপ বদলে গেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেদের ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অর্থাৎ উৎকর্ষ বৃদ্ধি একান্ত প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার, বিদ্ব্যৎ সমাজ, জনগণ এমনকি সমস্ত ছোটো ছোটো সংগঠনগুলিকেও যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ক্যাপাসিটি বিল্ডিং-এর কাজ করতে হবে। নেপালে ভূমিকম্পের পর আমি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমান নওয়াজ শরীফের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, আর আমি তাঁকে এক পরামর্শ দিয়েছিলাম। সেটি হল সার্কভুক্ত দেশগুলিকে মিলিতভাবে আপৎকালীন প্রস্তুতির জন্য যৌথ কর্মসূচি নিতে হবে।
আমার ভালো লাগছে যে, দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সার্কভুক্ত দেশগুলির এক টেবল টক্ এক্সারসাইজ ও উত্তম কর্মসূচি সংক্রান্ত আলোচনাচক্র ও কর্মশালার মাধ্যমে এই উদ্যোগের শুভ সূচনা হল।
আজ পাঞ্জাবের জলন্ধর থেকে লখবিন্দর সিং-এর ফোন পেয়েছি –
“আমি পাঞ্জাবের জলন্ধর জেলা থেকে লখবিন্দর সিং বলছি। আমরা এখানে জৈব প্রযুক্তিতে কৃষিকাজ করি এবং বহু মানুষকে এধরনের কৃষিকাজ কীভাবে করতে হবে তা শেখাই। আমার একটা প্রশ্ন আছে – লোকেরা জমিতে, খড় বা গম গাছের গোড়ায় আগুন লাগিয়ে দেয়, তখন ধরিত্রী মায়ের বুকে যে সমস্ত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবাণু আছে, তাদের যথেষ্ট ক্ষতি হয়। এটা মানুষকে কীভাবে বোঝানো যাবে? আর এর ফলে দিল্লি, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবে যে ভাবে দূষণ হচ্ছে, তার থেকে কীভাবে রেহাই পাওয়া যেতে পারে?”
লখবিন্দর সিংজী, আপনার প্রশ্ন শুনে আমার খুব ভালো লাগছে। এক তো আনন্দের কথা এই যে আপনি জৈব প্রযুক্তিতে চাষের কাজ করছেন। নিজে খালি যে জৈব প্রযুক্তিতে চাষ করছেন তাই নয়, কৃষকদের সমস্যাও আপনি খুব ভালো বুঝতে পারেন। আপনার ভাবনা সঠিক। কিন্তু এটা ঘটনা যে শুধু পাঞ্জাব, হরিয়াণাতেই ঘটছে তা নয়, সারা ভারতেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। এটা আমাদের স্বভাব এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম এভাবেই ফসলের গোড়া জ্বালিয়ে দেওয়ার কাজ করে আসছে। প্রথমত, এর ফলে যে ক্ষতি হতে পারে তার কোনও ধারণাই ছিল না – সবাই করছে তাই আমরা করছি – এই প্রথাই চলে আসছিল। দ্বিতীয়ত, এছাড়া অন্য কী পদ্ধতি হতে পারে, তার কোনও প্রশিক্ষণও ছিল না। এর ফলে এই প্রথা চলে আসছে এবং এই প্রবণতা ক্রমবর্ধমান। আজ আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে যে সংকট ঘনিয়ে আসছে, তার অন্যতম কারণও ছিল এটা। যখন এই বিপদের প্রভাব শহরের ওপরের পড়তে শুরু করল, তখন এর বিরুদ্ধে মানুষ সরব হতে থাকল। আপনি যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, তা যথার্থ। সবথেকে প্রথমে আমাদের কৃষক ভাই-বোনেদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে হবে, তাদের বাস্তবটা বোঝাতে হবে। ফসলের গোড়া জ্বালিয়ে দিলে সময় বেঁচে যাবে, পরিশ্রম বেঁচে যাবে, পরবর্তী ফসলের জন্য ক্ষেত প্রস্তুত হবে – কিন্তু তা সঠিক নয়। ফসলের গোড়া যথেষ্ট মূল্যবান। এটা নিজেই এক জৈব সার। আমরা খেত জ্বালিয়ে তা নষ্ট করে দিচ্ছি। এতেই শেষ নয়, যদি এই গোড়াগুলিকে কুঁচিয়ে দেওয়া যায়, তবে তা পশুখাদ্যও হতে পারে। এই গোড়া জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য কৃষিজমির উপরের স্তর পুড়ে যাচ্ছে। আমার কৃষক ভাই-বোনেরা, একটু ভাবুন! আমাদের হাড়, হৃদ্যন্ত্র, কিডনি ভাল থাকলেও যদি চামড়া পুড়ে যায়, তাহলে কী হতে পারে? আমরা কি বেঁচে থাকব? হৃদ্যন্ত্র ঠিক থাকলেও বাঁচতে পারব না। যেমন আমাদের চামড়া পুড়ে গেলে বেঁচে থাকা দুষ্কর হয়ে ওঠে, তেমনই ফসলের গোড়া জ্বালিয়ে ফেললে শুধু সেইটুকুই পুড়ে যায় না, ধরীত্রি-মায়ের চামড়াও পুড়ে যায়। আমাদের জমির একদম ওপরের স্তর পুড়ে যায়, যা আমাদের উর্বরা ভূমিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। আর এজন্যই আমাদের উপযোগী ভূমিকা পালন করতে হবে। এই ফসলের গোড়াকে জমিতে মিশিয়ে দিয়ে দেখুন, তা সার হয়ে যাবে। অথবা কোন গর্ত খুঁড়ে তার মধ্যে এগুলি রেখে কেঁচো ছেড়ে দিয়ে একটু জল মিশিয়ে দিলেও উত্তম জৈব সার তৈরি হয়ে যাবে। পশুখাদ্য হিসাবে তো এর ব্যবহার আছেই। এতে আমাদের জমিও বাঁচবে। এই সব নয়। ওই জমিতে এই জৈবিক সার যদি প্রয়োগ করা হয়, তবে দ্বিগুণ মুনাফা পাওয়া যায়। আমার একবার কলাচাষীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। তাঁরা খুব ভাল এক অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন। আগে যখন তাঁরা কলা চাষ করতেন, সেই চাষ সম্পূর্ণ হলে কলাগাছের গোড়া পরিষ্কার করার জন্য প্রতি হেক্টরে কখনও পাঁচ হাজার, কখনও দশ বা পনের হাজার টাকা খরচা করতে হত। যদি তা পরিষ্কার করার জন্য ট্র্যাক্টর না পাওয়া যেত, তো গোড়াগুলি সেভাবেই পড়ে থাকত। কিছু কৃষক তখন এই গোড়াগুলিকে ছয় বা আট ইঞ্চি মাপের টুকরো করে জমিতে পুঁতে দিয়েছিলেন। কারণ ওই কলাগাছের গোড়াতে এত জল থাকে, যে যেখানে সেগুলি পোঁতা হয়, সেখানে যদি কোনও বৃক্ষ, গাছ বা শস্য থাকে, তাতে তিন মাস পর্যন্ত আলাদা করে জল দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। কলাগাছের গোড়ায় যে জল থাকে, তাই ফসলকে বাঁচিয়ে রাখে। আজ কৃষক ভাইদের কাছে এই কলাগাছের গোড়া অত্যন্ত মূল্যবান হয়ে উঠেছে। এই গোড়ার থেকে তাঁরা আয় করতে পারছেন। যে গোড়া পরিষ্কারের জন্য আগে তাঁদের পয়সা খরচ করতে হত, এখন তার থেকেই আয় হচ্ছে। ছোটো ছোটো প্রচেষ্টাও কতটা লাভজনক হতে পারে। আমাদের কৃষক ভাইয়েরাও কোনও বৈজ্ঞানিকের থেকে কম নয়।
প্রিয় দেশবাসী, আগামী ৩-রা ডিসেম্বর সমগ্র বিশ্ব ‘আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস’ পালন করবে। গত ‘মন কি বাত’-এ অঙ্গ দানের কথা আলোচনা করেছিলাম। আমি অঙ্গ দানের ক্ষেত্রে ‘নোটো’র হেল্পলাইনের কথাও বলেছিলাম। আমাকে জানানো হয়েছে যে ওই ‘মন কি বাত’-এর পর ফোনের সংখ্যা সাত গুণ বেড়ে গেছে, ওয়েবসাইটে মতামত প্রদান আড়াই গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৭-শে নভেম্বর ‘জাতীয় অঙ্গ দান দিবস’ হিসাবে পালিত হয়েছে। চিত্রাভিনেত্রী রবিনা ট্যাণ্ডন সহ সমাজের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি এতে সামিল হয়েছেন। অঙ্গ দান অনেক মূল্যবান প্রাণ বাঁচাতে পারে। তা একরকম ভাবে অমরত্ব এনে দিতে পারে। এক শরীর থেকে অন্য শরীরে যখন দেহের কোনও অংশ প্রতিস্থাপিত হয়, তখন তা নতুন জীবন লাভ করে। সেই মানুষটাও নতুন জীবন লাভ করে। এর থেকে মহৎ দান আর কী হতে পারে? অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন যে সমস্ত রোগীরা, যাঁরা অঙ্গ দান করতে পারেন – অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের জন্য এক জাতীয় স্তরের নাম নথিভুক্তিকরণ কর্মসূচি গত ২৭-শে নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। নোটোর লোগো, ডোনার কার্ড এবং এই বিষয়ে শ্লোগান তৈরি করার জন্য mygov.in পোর্টালের মাধ্যমে এক জাতীয় স্তরে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। আমার অবাক লেগেছিল যে, বহু মানুষ এতে অংশ নিয়েছেন। উদ্ভাবনী এবং সংবেদনশীল পদ্ধতিতে মানুষ কথা বলেছেন। আমার বিশ্বাস, এক্ষেত্রেও ব্যাপক জন চেতনা বৃদ্ধি পাবে। আর যথার্থই যাঁর সত্যিই প্রয়োজন, তাঁর যথেষ্ট সাহায্য হবে। কারণ মানুষ অঙ্গদান না করলে এ সাহায্য কোনও ভাবেই পাওয়া সম্ভব নয়। আমি আগে যেমন বলেছি, ৩-রা ডিসেম্বর ‘বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী মানুষদের অসীম সাহস ও ক্ষমতা থাকে। দুঃখ তখনই হয় যখন তাঁদের কেউ উপহাস করে, দয়া করে। কিন্তু আমরা যদি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তন করি, তাঁদের প্রতি আমাদের মনোভাব পরিবর্তন করি, তাহলে এঁরাই আমাদের জীবনের ও কাজের প্রেরণাস্থল হয়ে উঠতে পারেন। ছোটো ছোটো সমস্যায় পড়লেও আমরা কাঁদতে বসি। তখন মনে হয় যে আমার কষ্ট তো এই মানুষগুলোর তুলনায় অত্যন্ত ছোটো – এঁরা কীভাবে বেঁচে আছেন! কীভাবে কাজ করছেন! কীভাবে দিন কাটাচ্ছেন! এই জন্যই তাঁরা আমাদের প্রেরণার উৎস। তাঁদের জীবনের সংকল্প, শক্তি, জীবনের সঙ্গে তাঁদের লড়াই করার পন্থা আর সমস্যাকে শক্তিতে পরিবর্তিত করার অদম্য প্রচেষ্টাকে আমি সাধুবাদ জানাই।
আমি আজ জাভেদ আহ্মদের কথা বলতে চাই। চল্লিশ-বিয়াল্লিশ বছরের এক মানুষ। ১৯৯৬-তে কাশ্মীরে জাভেদ আহমেদকে সন্ত্রাসবাদীরা গুলি করেছিল, কিন্তু তিনি প্রাণে মারা যাননি। সন্ত্রাসবাদীদের গুলিতে কিডনি, ক্ষুদ্রান্ত্র ও পাকস্থলির কিছু অংশ তাঁকে খোয়াতে হয়েছিল। মেরুদণ্ডেও গুরুতর চোট লেগেছিল। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মত ক্ষমতা তাঁর বরাবরের মত শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু জাভেদ আহ্মেদ হার মানেন নি। সন্ত্রাসবাদীদের আঘাত তাঁকে পর্যুদস্ত করতে পারে নি। বিনা কারণে এক নির্দোষ মানুষ এইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেন, জীবন-যৌবন সংকটের সম্মুখীন হল, তবু কোনও রকম রাগ বা ক্ষোভ প্রকাশ না করে জাভেদ আহ্মেদ এই বিপদের মোকাবিলা করলেন সংবেদনশীলতার সঙ্গে। এটাই তাঁর সব থেকে বড় মানসিক দৃঢ়তা। তিনি তাঁর জীবন সমাজের সেবায় নিয়োগ করেছেন। সব সময় ক্ষমতায় কুলোয় না, কিন্তু বিগত কুড়ি বছর ধরে তিনি শিশুদের শিক্ষাদানের কাজে নিযুক্ত আছেন। প্রকাশ্য স্থানে, সরকারি অফিসে প্রতিবন্ধীদের সুবিধার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, সরকারি কাজকর্মে তাঁদের সুবিধার জন্য কি কি সংশোধন করা প্রয়োজন তা নিয়ে তিনি কাজ করে চলেছেন। তিনি তাঁর পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছেন এই বিষয়ে। সমাজবিদ্যায় এম-এ করেছেন এবং একজন সমাজসেবী ও সচেতন নাগরিক হিসাবে প্রতিবন্ধীদের দেবদূত হিসাবে আজ এক নিঃশব্দ বিপ্লব করে চলেছেন। ভারতবর্ষের প্রতিটি প্রান্তের মানুষ কি জাভেদের জীবন কাহিনি থেকে প্রেরণা পেতে পারেন না? আমি ৩-রা ডিসেম্বর জাভেদ আহ্মদ-এর জীবন, তপস্যা ও মানবসেবায় তাঁর আত্মনিয়োগ বিশেষভাবে স্মরণ করব। সময়াভাবে আমি শুধু জাভেদেরই কথা বলছি, কিন্তু আমি জানি ভারতবর্ষের প্রতিটি কোণে কোণে জ্বলছে এমন প্রেরণার দীপ যা জীবনকে নতুনভাবে আলো দেখায়, নতুন পথের সন্ধান দেয়। ৩-রা ডিসেম্বর এমনই সব প্রেরণাদায়ক মানুষদের স্মরণ করার দিন। আমাদের দেশ এক বিশাল বড় দেশ। এমন অনেক বিষয় আছে, যাতে মানুষ সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত, দরিদ্র, দলিত, পীড়িত, শোষিত, বঞ্চিত মানুষদের সঙ্গে সরকার ও সরকারি ব্যবস্থার প্রতিনিয়ত সম্পর্ক রয়েছে। এক নাগরিক হিসেবে জীবনে কখনও না কখনও, কোনও না কোনও সরকারি কর্মচারীদের থেকে বিরূপ অভিজ্ঞতাও ঘটে থাকে। আর এই এক-আধটা খারাপ অভিজ্ঞতাই জীবনভর আমাদের সরকারি ব্যবস্থার প্রতি বিরূপ মনোভাব তৈরি করে তোলে। এতে সত্যি আছে। কিন্তু কখনও কখনও এই সরকারেরই লক্ষ লক্ষ কর্মচারি সমাজসেবার ক্ষেত্রে এত ভালো কাজ করেন, যা আমাদের নজর এড়িয়ে যায়। কখনও কখনও আমরা জানতেও পারি না যে এই সরকারি ব্যবস্থা এবং এই সরকারি কর্মচারীরাই কত ভাল কাজ করছেন। কারণ তা অত্যন্ত সাবলীল ভাবে ঘটে যায়।
আমাদের সমগ্র দেশে আশা কর্মীদের একটা নেটওয়ার্ক আছে। আমাদের ভারতে লোকেদের মধ্যে আশা কর্মীদের নিয়ে কখনো আলোচনা না আমি শুনেছি, না আপনারা শুনেছেন। কিন্তু বিশ্ববিখ্যাত উদ্যোগপতি পরিবার বিল গেট্স ফাউণ্ডেশনের মাধ্যমে এঁদের সফলতা সমগ্র পৃথিবীতে এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনিতে বিল গেট্স এবং মিলিণ্ডা গেট্স দুজনকে আমরা যৌথভাবে গতবার পদ্মবিভূষণ সম্মানে সম্মানিত করেছি। এঁরা ভারতে অনেক সামাজিক কাজকর্ম করেন। এঁরা সারা জীবন যা রোজগার করেছেন তা গরীবদের জন্য খরচ করে যাচ্ছেন। এঁরা যখন ভারতে আসেন, যেসব আশা কর্মীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান, তাঁদের অনেক প্রশংসা করেন এবং আশা কর্মীদের পরিশ্রম ও সেবার কথা বলে শেষ করতে পারেন না। নতুন নতুন বিষয় শেখার জন্য কত উৎসাহ তাঁদের। এসব কথা তাঁরা বলেন। কিছু দিন আগে স্বাধীনতা দিবসে ওড়িশা সরকার এক আশা কর্মীকে বিশেষ সম্মান দিয়েছিল। ওড়িশার বালেশ্বর জেলার এক ছোট্ট গ্রাম তেন্দাগাঁও-এর সেই আশা কর্মী এবং ওখানকার সমস্ত বাসিন্দাই তপশীলি উপজাতির অন্তর্ভুক্ত। ওই গ্রামের তপশালী উপজাতি সম্প্রদায়ভুক্ত সকলেই দরিদ্র শ্রেণির। ওখানে ম্যালেরিয়া রোগের খুব প্রকোপ আছে। এই গ্রামের এক আশা কর্মী যমুনা মনিসিং স্থির করেছেন যে তাঁর নিজের গ্রামের কাউকে ম্যালেরিয়া রোগে মরতে দেবেন না। গ্রামের কারও ছোটো-খাটো জ্বর হলেও তৎক্ষণাৎ সেই বাড়িতে পৌঁছে যান। ওঁকে যে প্রাথমিক চিকিৎসা শেখানো হয়েছে, তার ভিত্তিতে চিকিৎসা শুরু করে দেন। প্রত্যেক বাড়িতে কীটনাশক দেওয়া মশারির ব্যবহারের উপর জোর দিয়েছেন। ঠিক যেমন নিজের বাচ্চাকে ঘুম পাড়ানো এবং যত্ন নেওয়ার দরকার ঠিক সেই ভাবেই এই আশা-কর্মী যমুনা মনিসিং সমগ্র গ্রামকে মশার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য নিজেকে পুরোপুরি সমর্পণ করেছেন এবং সমস্ত গ্রামকে ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধ করার জন্য তৈরি করেছেন। এরকম কত যমুনা মনিসিং রয়েছেন– । আমাদের আশেপাশে এরকম লক্ষ লক্ষ মানুষ রয়েছেন। আমরা তাঁদের সম্মানের চোখে দেখার চেষ্টা করব। এঁরাই দেশের অনেক বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারেন। আমাদের সব সময়ের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে থাকেন। আমি সমস্ত আশা-কর্মীদের যমুনা মনিসিং-এর মাধ্যমে সম্মান জানাচ্ছি।
আমার প্রিয় যুবা-বন্ধুরা, যাঁরা বিশেষ করে ইন্টারনেট এবং সোস্যাল মিডিয়া-তে খুব সক্রিয় থাকেন, তাঁদের জন্য mygov পোর্টালে আমি তিনটি ই-বুক রেখেছি। প্রথমটি ‘স্বচ্ছ ভারত’ সম্পর্কিত ঘটনাবলী নিয়ে, দ্বিতীয়টি ‘আদর্শ গ্রাম সংসদ’ সম্পর্কিত এবং তৃতীয়টি স্বাস্থ্য বিষয়ক। আমি অনুরোধ করছি, আপনারা এই ই-বুক-গুলি দেখুন। শুধু নিজেরা নয়, অন্যদেরও দেখান। এগুলো পড়ে আপনাদের এর সঙ্গে কিছু যোগ করার কথা মনে হতে পারে। তাহলে অবশ্যই mygov পোর্টালে পাঠিয়ে দিন। এরকম অনেক ঘটনা যেগুলো আমাদের নজরে আসে না কিন্তু সমাজের জন্য প্রকৃত শক্তি হয়। সঠিক দৃষ্টান্তমূলক ঘটনাই আমাদের সব থেকে বড় শক্তি। আপনারাও এই রকম ঘটনা আমার সঙ্গে ভাগ করে নিন। এই ই-বুকগুলিকে নিজেদের মধ্যে শেয়ার করুন, ই-বুকগুলো নিয়ে আলোচনা করুন আর যদি কোনও উৎসাহী যুবা-বন্ধু আশে পাশের স্কুলে গিয়ে অষ্টম, নবম বা দশম শ্রেণির বাচ্চাদের এই ই-বুক সম্পর্কে বলেন, তাহলে আপনি সঠিক অর্থেই একজন সমাজ শিক্ষক হতে পারেন। আমি আপনাকে আহ্বান জানাচ্ছি, আসুন, রাষ্ট্র-নির্মাণের কাজে আপনিও যোগদান করুন।
আমার প্রিয় দেশবাসী, সমগ্র বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে চিন্তিত। বিশ্ব উষ্ণায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন সবচেয়ে আলোচ্য এবং চিন্তারও বিষয়। প্রত্যেক কাজ করার আগে এটা একটা সূচক হিসাবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। পৃথিবীর তাপমাত্রা আর যেন না বাড়ে – এটা সকলের চিন্তা ও দায়বদ্ধ হওয়া উচিত। তাপমাত্রার বৃদ্ধি থেকে বাঁচার জন্য সর্বপ্রথম উপায় হল শক্তির সংরক্ষণ। ১৪-ই ডিসেম্বর ‘ন্যাশনাল এনার্জি কনজারভেশন ডে’ অর্থাৎ ‘জাতীয় শক্তি সংরক্ষণ দিবস’। সরকারের তরফ থেকে এই বিষয়ে অনেক প্রকল্প চালু হয়েছে। এল-ই-ডি বাল্ব-এর প্রকল্প চলছে। আমি একবার বলেছিলাম যে, পূর্ণিমার রাতে রাস্তার আলো বন্ধ করে বিদ্যুৎ বাঁচিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পূর্ণ চাঁদের আলোয় জ্যোৎস্নাস্নাত হওয়া উচিত। ওই চাঁদের কিরণকে অনুভব করা উচিত। কোনও এক বন্ধু আমাকে এইরকম এক দৃশ্যের লিঙ্ক পাঠিয়েছিলেন দেখার জন্য ও আমার দেখার সুযোগও হয়েছিল। তাই মনে হল আপনাদেরও এটা বলি। তবে এর কৃতিত্ব হল জি নিউজ-এর। কারণ এই লিঙ্ক-টা ছিল জি নিউজ-এর। কানপুরের নুরজাঁহা নামের এক মহিলা যাকে টিভিতে দেখে বোঝা যায় না যে তিনি অনেক পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন, এমন একটি কাজ করেছেন যা বোধহয় কেউই চিন্তাও করেননি। তিনি সূর্যের আলো থেকে সৌরশক্তি ব্যবহার করে গরীবদের বিদ্যুৎ দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি অন্ধকারের সঙ্গে লড়াই করছেন এবং নিজের নাম উজ্জ্বল করছেন। তিনি মহিলাদের এক সমিতি বানিয়েছেন, সৌরশক্তি চালিত লণ্ঠন বানানোর জন্য এক কারখানা তৈরি করেছেন এবং মাসিক একশ টাকায় লণ্ঠনগুলি ভাড়া দেন। লোকেরা সন্ধ্যাবেলায় লণ্ঠনগুলি নিয়ে যায়, সকালে চার্জ করার জন্য আবার দিয়ে যায়। আর অনেক সংখ্যায় – আমি শুনেছি প্রায় পাঁচশটি পরিবারের লোকেরা লণ্ঠন নিয়ে যায়। রোজ প্রায় তিন থেকে চার টাকা খরচ হয়, কিন্তু ঘরের মধ্যে পর্যাপ্ত আলো থাকে। এই নুরজাঁহা সারাদিন ঐ কারখানাতে এই সৌরশক্তির মাধ্যমে এই লণ্ঠনগুলিকে রিচার্জ করেন। দেখুন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য পৃথিবীর বড় বড় লোকেরা অনেক কিছু করছেন, কিন্তু এক নূরজাহান মনে হয় এঁদের সকলকে অনুপ্রাণিত করতে পারেন, এমনই কাজ করছেন। এমনিতেই নূরজাহান নামের মানেই হল বিশ্বকে আলোকিত করা। এইভাবে তিনিও আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন। আমি নূরজাহানকে আর তার সঙ্গে জি টিভি-কে অভিনন্দন জানাচ্ছি। কারণ জি টিভি-ই কানপুরের এক ছোট্ট জায়গায় চলতে থাকা এই ঘটনা দেশ তথা সমগ্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে। অনেক অনেক অভিনন্দন।
আমাকে উত্তরপ্রদেশের শ্রী অভিষেক কুমার পাণ্ডে ফোন করে বললেন,
“নমস্কার, আমি গোরখপুর থেকে অভিষেক কুমার পাণ্ডে বলছি। আমি উদ্যোগপতি হিসাবে কাজ করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীজিকে অনেক অভিনন্দন জানাতে চাই যে, উনি মুদ্রা ব্যাংক নিয়ে একটি প্রকল্প শুরু করেছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীজীর কাছ থেকে জানতে চাই, এই যে মুদ্রা ব্যাংক প্রকল্প চলছে, সেখানে আমাদের মত উদ্যমী উদ্যোগপতিরা কীভাবে সাহায্য পাব? কীভাবে সহযোগিতা পাব?”
অভিষেকজী, গোরক্ষপুর থেকে আপনি যে বার্তা পাঠিয়েছেন, তার জন্য ধন্যবাদ। ‘প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা’ হল ‘Fund the Unfunded’। যাঁদের মূলধন নেই, তাঁরা মূলধন পাবেন। আর উদ্দেশ্য হল যদি আমি সহজ ভাষায় বোঝাই তো তিনটি ‘E’ – Enterprise, Earning, Empowerment। এই প্রকল্প Enterprise-কে উৎসাহ দেয়, টাকা রোজগারের সুযোগ করে দেয় আর মুদ্রা সঠিক অর্থে ক্ষমতা প্রদান করে। ক্ষুদ্র উদ্যোগীদের সাহায্য করার জন্য এই মুদ্রা প্রকল্প চলছে। এমনিতে যে গতিতে এগোতে চাই, সেই গতি আসা এখনও বাকি। কিন্তু শুরুটা ভালোই হয়েছে। এত কম সময়ের মধ্যেও ছেষট্টি লক্ষ মানুষকে বিয়াল্লিশ হাজার কোটি টাকা ‘প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা’-র মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। এই ছেষট্টি লাখ লোকেদের মধ্যে সংবাদপত্র বিক্রেতা, দুধ বিক্রেতা বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও রয়েছেন। আনন্দের ব্যাপার হল, এঁদের মধ্যে চব্বিশ লক্ষই মহিলা। এই সাহায্য প্রাপকদের মধ্যে বেশিরভাগই তপশীলি জাতি, তপশীলি উপজাতি ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণিভুক্ত মানুষরা যাঁরা নিজেরাই পরিশ্রম করে নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে সম্মানের সঙ্গে পরিবার চালানোর চেষ্টা করছেন। অভিষেক নিজেই নিজের উৎসাহের কথা বলেছেন। আমার কাছেও অনেক এইরকম খবর আসতে থাকে। আমাকে এখনই একজন বললেন, মুম্বইতে শৈলেশ ভোঁসলে নামে কেউ আছেন। উনি মুদ্রা প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে সাড়ে আট লক্ষ টাকার ঋণ পেয়েছেন। আর উনি পয়ঃপ্রণালী সাফাইয়ের কারবার শুরু করেছেন। আমি আমার স্বচ্ছতা অভিযানের সময় বলেছিলাম এই অভিযান নতুন উদ্যোগপতি তৈরি করবে। আর শৈলেশ ভোঁসলে মহাশয় এটা করে দেখিয়েছেন। তিনি একটি ট্যাঙ্কার কিনেছেন আর আমি জেনেছি এই কাজ করে ইতিমধ্যেই তিনি দুই লাখ টাকা ব্যাঙ্ককে ফেরতও দিয়েছেন। আসলে আমাদের মুদ্রা প্রকল্পের এটাই উদ্দেশ্য। আমায় কেউ ভূপালের মমতা শর্মার বিষয়ে কেউ জানিয়েছেন যে, ‘প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা’র মাধ্যমে তিনি চল্লিশ হাজার টাকা ব্যাঙ্ক থেকে পেয়েছেন। উনি বটুয়া তৈরির কাজ করছেন। আগে তিনি চড়া সুদে টাকা ধার নিয়ে খুব কষ্ট করে এই ব্যবসা চালাতেন। এখন সঠিকভাবে অনেক অর্থ হাতে আসার জন্য নিজের কাজ আরও ভালো ভাবে করতে পারছেন। আগে চড়া সুদ এবং অন্যান্য কারণের জন্য বেশি খরচ হত এখন এই টাকা হাতে আসার জন্য প্রত্যেক মাসে এক হাজার টাকা করে বেশি সঞ্চয় হচ্ছে। আর ওঁর পরিবারের জন্য একটি ভালো ব্যবসা গড়ে উঠল। কিন্তু আমি চাই এই যোজনার আরও প্রচার হোক। আমাদের সব ব্যাঙ্কগুলি আরও সংবেদনশীল হোক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সাহায্য করুক। বাস্তবে দেশের অর্থনীতি এঁদের দ্বারাই পরিচালিত। ছোটোখাটো কাজে নিযুক্ত লোকেরা দেশের অর্থ-ব্যবস্থার আসল শক্তি হয়। আমরা এটার উপরেই গুরুত্ব দিতে চাই। ভালো হয়েছে, কিন্তু আমাদের আরও ভালো করতে হবে।
আমার প্রিয় দেশবাসী, ৩১-শে অক্টোবর, সর্দার প্যাটেলের জন্মজয়ন্তীতে আমি ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর কথা বলেছিলাম। এমন বহু বিষয় আছে, যা আমাদের সমাজ জীবনে সর্বদা সচেতনতার বোধ তৈরি করে। ‘রাষ্ট্রয়ম, জাগ্রয়ম, ব্যয়ম’ – ইন্টারনাল ভিজিলেন্স ইজ দ্য প্রাইজ অব্ লিবার্টি – অর্থাৎ স্বাধীনতার পুরষ্কারই হবে অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা। দেশের ঐক্য বজায় রাখার জন্য এই অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার নদীটিকে বহমান রাখতে হবে। ‘এক ভারত – শ্রেষ্ঠ ভারত’ – এটিকে আমি একটি পরিকল্পনার রূপ দিতে চাই। পোর্টালে আমি এই নিয়ে মতামতও চেয়েছিলাম। পরিকল্পনার কাঠামো কেমন হবে, প্রতীক চিহ্ন কী হবে, এই পরিকল্পনায় জনগণের অংশগ্রহণ কীভাবে বাড়ানো যায় – ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে আমি মতামত চেয়েছি। আমাকে বলা হয়েছে যে বেশ কিছু পরামর্শ এসেছে। তবে আমি আরও কিছু মতামতের জন্য অপেক্ষা করছি। কিছু নির্দিষ্ট পরিকল্পনার জন্য অপেক্ষা করছি। আমাকে জানানো হয়েছে যে এতে যাঁরা অংশ নেবেন, তাঁদের শংসাপত্র দেওয়া হবে। বড়ো বড়ো পুরষ্কারের ঘোষণাও করা হয়েছে। আপনিও আপনার সৃজনশীলতাকে কাজে লাগান। একতা ও অখণ্ডতার এই শপথ, এক ভারত – শ্রেষ্ঠ ভারত-এর এই শপথের মাধ্যমে প্রতিটি ভারতবাসীকে কীভাবে একজোট করা যায়, কী পরিকল্পনা নেওয়া যায়, কী কর্মসূচি নেওয়া যায় – যা ভাল হবে, সুন্দর হবে, প্রাণবন্ত হবে এবং প্রতিটি মানুষের মেলবন্ধনের ক্ষেত্রে সহজ সরল হবে। সরকার কী করবে, সমাজ কী করবে, বিদ্ব্যৎসমাজ কী করবে – এমন বহু ব্যাপার রয়েছে। আমার বিশ্বাস আপনাদের পরামর্শ খুব কাজে আসবে।
আমার প্রিয় ভাই-বোনেরা, শীতের মরশুমের শুরু হচ্ছে। এই সময়টা খাওয়া-দাওয়া এবং নানান পোষাক-পরিচ্ছদ পরার খুব ভালো সময়। তবে আমি বলব, ব্যায়াম করুন। শরীরকে
সুস্থ-সবল রাখার জন্য এই সুন্দর মরশুমে কিছু সময় ব্যায়াম, যোগা-র জন্য রাখুন। পরিবারেও তা চালু করুন। অন্তত এক ঘণ্টা পরিবারের সবাই মিলে শরীরচর্চা করুন, দেখবেন এই বিষয়ে কীরকম সচেতনতা বাড়বে, আর সারাদিন কত তরতাজা লাগবে। ভাল মরশুমে ভালো অভ্যাস তৈরি হোক। আমার প্রিয় দেশবাসীকে আরও একবার অনেক অনেক শুভেচ্ছা!
জয় হিন্দ!
#MannKiBaat begins shortly. Join. https://t.co/9c68ffNeUl You can also hear it on your mobiles. https://t.co/TYuxNO0R6P
— Narendra Modi (@narendramodi) November 29, 2015
At times there are crisis during the festive season and this is saddening: PM @narendramodi https://t.co/Iy8hu3vQmx #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) November 29, 2015
Prime Minister @narendramodi talks about the flood situation in Tamil Nadu during #MannKiBaat. https://t.co/Iy8hu3vQmx
— PMO India (@PMOIndia) November 29, 2015
I have faith in the strength of Tamil Nadu: PM @narendramodi #MannKiBaat https://t.co/Iy8hu3vQmx
— PMO India (@PMOIndia) November 29, 2015
Had given the idea of SAARC nations coming together and working on disaster preparedness: PM @narendramodi #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) November 29, 2015
पिछली बार ‘मन की बात’ में मैंने ‘ऑर्गन डोनेशन’ पर चर्चा की थी : PM @narendramodi #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) November 29, 2015
I am told that after the last #MannKiBaat, the helpline is getting an increased response: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 29, 2015
On 3rd December we will mark 'International Day of Persons with Disabilities.' Their courage is remarkable: PM @narendramodi #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) November 29, 2015
Whenever @BillGates & @melindagates meet me, they appreciate the ASHA workers: PM @narendramodi during #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) November 29, 2015
Three e-books have been placed on MyGov on Swachh Bharat, Sansaad Adarsh Gram & health sector. Do read them: PM @narendramodi #MyCleanIndia
— PMO India (@PMOIndia) November 29, 2015
तापमान से बचने का एक सबसे पहला रास्ता है, ऊर्जा की बचत “एनर्जी कन्जर्वेशन”: PM @narendramodi #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) November 29, 2015
I got a link from a friend. The credit for this goes to @ZeeNews. It was about Noor Jehan from Kanpur: PM @narendramodi #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) November 29, 2015
One Noor Jehan is inspiring the whole world. And her name also implies giving light to the whole world: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 29, 2015
MUDRA Yojana is about funding the unfunded. For me this is about 3Es- enterprise, earning and empowerment: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 29, 2015
The speed that I desire for MUDRA Yojana has not happened but yes the start has been good: PM @narendramodi #MannKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) November 29, 2015
Climate change, energy, ASHA workers, MUDRA Bank & more…sharing today's #MannKiBaat. https://t.co/yjpbdxnO2r
— NarendraModi(@narendramodi) November 29, 2015