পিএমইন্ডিয়া
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার এখানে অনুষ্ঠিত হল জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন মিশনের (এনএসডিএম) পরিচালন কর্তৃপক্ষের প্রথম বৈঠক।
বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দক্ষতার বিভিন্ন ক্ষেত্র সঠিকভাবে চিহ্নিত করা এবং দক্ষতা অর্জন ও প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে ভবিষ্যৎ চাহিদার বিষয়টি ভেবে দেখার ওপর বিশেষ জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। চাকরির বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও প্রবণতা সম্পর্কে ছাত্রছাত্রী এবং পিতামাতা তথা অভিভাবকরা যাতে ওয়াকিবহাল থাকেন, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বিষয়গুলির দিকে দৃষ্টি দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। একইভাবে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষ শ্রম শক্তির চাহিদা ও গতিপ্রকৃতির বিষয়গুলি নিরূপণ করার ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থায় দক্ষ শ্রম শক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে আন্তর্জাতিক চাহিদা পূরণে ভারত উল্লেখযোগ্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারবে।
দক্ষতা উন্নয়নের প্রশ্নে নিরাপত্তা এবং সহনশীল মাত্রায় দক্ষতা অর্জনের দিকে লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই দুটি বিষয় একান্ত জরুরি।
বৃহস্পতিবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মহারাষ্ট্র, অরুণাচল প্রদেশ ও জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী, দক্ষতা উন্নয়ন ও শিল্পোদ্যোগ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) শ্রী রাজীব প্রতাপ রুডি, কেন্দ্রীয় মানব-সম্পদ বিকাশ মন্ত্রী শ্রীমতী স্মৃতি জুবিন ইরানি, ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ মন্ত্রী শ্রী কলরাজ মিশ্র, যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী শ্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ সহ কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা। শিল্প জগতের পক্ষে বৈঠকের আলোচনায় যোগ দেন – টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান শ্রী সাইরাস পি মিস্ত্রী, ফ্লিপকার্টের প্রতিষ্ঠাতা তথা সি ই ও শ্রী শচীন বনসল এবং টিম লিজ সার্ভিসেস-এর প্রতিষ্ঠাতা তথা চেয়ারম্যান শ্রী মণীশ সাভারওয়াল।
এদিনের বৈঠকে গৃহীত প্রধান প্রধান সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে রয়েছে :-
• ২০১৬-১৭ বছরে অন্ততঃপক্ষে দেড় কোটি মানুষকে নিয়ে আসা হবে দক্ষতা প্রশিক্ষণের আওতায়।
• ভারতের দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থার গুণগত মান বাড়াতে এ বছর মাসের মধ্যে গঠন করা হবে দক্ষতা সম্পর্কিত শংসাপত্র দানের জন্য একটি কেন্দ্রীয় পর্ষদ।
• ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলির যে সমস্ত পরিকাঠামো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, সেগুলিকে যুক্ত করা হবে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের কাজে।
• লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিতে শিক্ষানবিশ নিয়োগের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে মোট শ্রম শক্তির অন্তত ১০ শতাংশ পর্যন্ত। আগামী এক বছরের মধ্যে তা সম্ভব করে তুলতে হবে। বেসরকারি নিগম বা কর্পোরেশনগুলিও এই ব্যবস্থা অনুসরণ করবে বলে আশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
• এ বছর দেশে স্থাপন করা হবে ৫০০টি প্রধানমন্ত্রী কৌশল কেন্দ্র। এই কেন্দ্রগুলি থেকে ভারতের তরুণ ও যুবসমাজকে বিনা খরচে দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
• দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ বছর স্থাপন করা হবে বিদেশে কর্মসংস্থান সম্পর্কিত ৫০টি দক্ষতা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
• দক্ষতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পর্কে তরুণ ও যুবসমাজ যাতে আরও বেশি করে উৎসাহ প্রকাশ করে, সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন শিল্প প্রশিক্ষণ সংস্থা (আই টি আই), কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সংস্থা, প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সহ বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা হবে ৫০০টির মতো রোজগার উৎসব।
• ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ‘ইন্ডিয়া স্কিলস্’ নামে একটি জাতীয় দক্ষতা সম্পর্কিত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। ভারতীয় তরুণ ও যুবশক্তির দক্ষতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যেই আয়োজিত হবে এই বার্ষিক অনুষ্ঠানটি।
• যে সমস্ত প্রার্থী শিল্প প্রশিক্ষণ সংস্থাগুলিতে সাফল্যের সঙ্গে প্রশিক্ষণ গ্রহণের কাজ সম্পূর্ণ করবে, তাদের স্বীকৃতি দানের জন্য এ বছর জাতীয় পর্যায়ে এক সম্মেলনের আয়োজন করা হবে।
• পরবর্তী এক বছরের মধ্যে শিল্প প্রশিক্ষণ সংস্থাগুলিতে প্রশিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ লক্ষ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে করা হবে ২৫ লক্ষ। এছাড়াও, স্থাপন করা হবে ৫ হাজারেরও বেশি নতুন শিল্প প্রশিক্ষণ সংস্থা।
• বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় প্রথা বহির্ভূত ক্ষেত্রে শিক্ষানবিশ নিয়োগের মাধ্যমে সাধারণ ও প্রচলিত দক্ষতা অর্জনের বিষয়গুলিকে যথাযথভাবে উৎসাহ ও স্বীকৃতি দেওয়ার কাজও অব্যাহত রাখা হবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ৬৫ শতাংশ ভারতীয় নাগরিকের বয়সই এখন ৩৫ বছরের নীচে। আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বের কর্মক্ষম জনসংখ্যার প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে এক জন হবেন ভারতীয়। তাই, ভারতের অবস্থানগত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা চিন্তা করে এবং দক্ষতা বিকাশের বিষয়টিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিতে কেন্দ্রের নতুন এন ডি এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দক্ষতা উন্নয়ন ও শিল্পোদ্যোগ নামে একটি নতুন মন্ত্রক গঠন করা হয় ২০১৪’র নভেম্বর মাসে। দক্ষতা উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে উৎসাহ দানের লক্ষ্যে এবং এ সম্পর্কিত কর্মসূচিগুলিকে সংহত করে তুলতে কাজ শুরু করে এই নতুন মন্ত্রকটি। ‘স্কিল ইন্ডিয়া’ কর্মসূচিটি বর্তমানে রূপায়িত হচ্ছে এই মন্ত্রকের আওতায়।
এর আগে ২১টির মতো কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তর ও মন্ত্রকের পক্ষ থেকেদক্ষতা প্রশিক্ষণ সূচির আয়োজন করা হত ৫০টিরও বেশি। কিন্তু, এই ধরণের প্রশিক্ষণ সূচিগুলির মধ্যে সমন্বয়ের অভাব, দুর্বল ব্যবস্থাপনা, শংসাপত্র দানের ক্ষেত্রে ত্রুটি – এ সমস্ত কিছু এই উদ্যোগ ও প্রচেষ্টাকে সফল করে তুলতে পারেনি। ঐ সময়ে যদিও জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন সমন্বয় পর্ষদ এবং প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন পরিষদ ২০০৮-এর মাধ্যমে অবস্থার সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তা সত্ত্বেও সমগ্র প্রশিক্ষণ সূচি ও ব্যবস্থাটি সঠিক ও বাস্তবসম্মতভাবে রূপায়িত হতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর অবস্থার পরিবর্তনে এক সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণ করে। গঠিত হওয়ার মাত্র আট মাসের মধ্যেই দক্ষতা উন্নয়ন ও শিল্পোদ্যোগ সম্পর্কিত নতুন মন্ত্রকটি দক্ষতা উন্নয়ন ও শিল্পোদ্যোগের লক্ষ্যে রচনা করে এ সম্পর্কিত জাতীয় নীতির একটি খসড়া। পরে, ভারতে দক্ষতার বিকাশ বা শিল্পোদ্যোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে এক অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে সূচনা করা হয় দেশের প্রথম দক্ষতা উন্নয়ন মিশন। নীতিগতভাবে এই উদ্যোগ গ্রহণ ও রূপায়ণের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী গত বছরের ১৫ জুলাই। মিশনের পরিচালন কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বেও রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং। তাঁর ‘দক্ষ ভারত’ গড়ে তোলার চিন্তাভাবনাকে অনুসরণ করে চলেছে দক্ষতা উন্নয়ন মিশন।
PG/SKD/SB
Chaired the first meeting of the Governing Council of the National Skill Development Mission. pic.twitter.com/Fo7MRrFeUH
— Narendra Modi (@narendramodi) June 2, 2016
We are determined to create a skilled India, which is empowering for youth. Today's meeting focused on important aspects of skill mapping.
— Narendra Modi (@narendramodi) June 2, 2016
There were deliberations on the importance of proper identification of the future requirements for skills, which can help our youth.
— Narendra Modi (@narendramodi) June 2, 2016
Emphasised on the importance of imbibing safety norms and soft skills as integral components of skill development. https://t.co/btzVokExpx
— Narendra Modi (@narendramodi) June 2, 2016