Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

জাতীয় নারী ও শিশু বিকাশ বিভাগীয় শীর্ষ সম্মেলনের সমাপ্তি অধিবেশনে পৌরোহিত্য প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় নারী ও শিশু বিকাশ বিভাগীয় শীর্ষ সম্মেলনের সমাপ্তি অধিবেশনে পৌরোহিত্য প্রধানমন্ত্রীর


নতুন দিল্লি, ৯ অক্টোবর ২০২৬

 

 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ সুষমা স্বরাজ ভবনে নারী ও শিশু বিকাশ সংক্রান্ত দু’দিনের জাতীয় বিভাগীয় শীর্ষ সম্মেলনের সমাপ্তি অধিবেশনে পৌরোহিত্য করেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পিত বিভাগীয় শীর্ষ সম্মেলনগুলির ধারাবাহিক আয়োজনের অংশ এই সম্মেলনে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মন্ত্রী এবং পদস্থ আধিকারিকরা যোগ দেন। পুষ্টি ও শৈশবের প্রাথমিক পরিচর্যা, শিশু সুরক্ষা, মহিলাদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন এবং বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে পরিষেবা প্রদানের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার মতো বিষয়গুলি নিয়ে এখানে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

সম্মেলনে নিবিড় আলোচনার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মধ্যে সহযোগিতামূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্বের উপর জোর দেন। তিনি প্রস্তাব দেন, রাজ্যগুলি জেলাস্তরে এবং পুরসভা ও মহানগর পুরসভার স্তরেও একই ধরনের চিন্তন শিবিরের আয়োজন করতে পারে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্যও পৃথক চিন্তন শিবির আয়োজনের প্রস্তাব দেন তিনি। এর ফলে তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং কাজের ক্ষেত্রে অর্জিত বাস্তব অভিজ্ঞতালব্ধ সমাধানগুলি পরস্পরের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারবেন।

 

জনঅংশগ্রহণের উপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিকে বিচ্ছিন্ন কোনও প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করলে চলবে না; সেগুলিকে জনঅংশীদারিত্বের কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের আশপাশে বসবাসকারী পরিবারগুলিকেও বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানে শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবার, খেলনা এবং স্থানীয় প্রয়োজনের উপযোগী সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতায় উৎসাহিত করা যেতে পারে বলে তিনি জানান।

 

অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির আরও নিবিড় সংযোগ গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়গুলি নিকটবর্তী অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিকে দত্তক নিয়ে সামাজিক প্রভাব সমীক্ষা চালাতে পারে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা সমাজকল্যাণমূলক কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন এবং একই সঙ্গে পরিষেবা প্রদানের মানোন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী এবং জাতীয় সেবা প্রকল্প (এনএসএস) ও জাতীয় ক্যাডেট কোরের (এনসিসি) স্বেচ্ছাসেবকদেরও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি, কিশোরীদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সার্বিক বিকাশে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

মহিলাদের নিরাপত্তার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের বয়সোপযোগী শিক্ষণ মডিউল তৈরির প্রস্তাব দেন। এই মডিউলগুলিতে মহিলাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ক্ষমতায়নের বিষয়গুলি তুলে ধরার কথা বলেন তিনি। বিভিন্ন বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যার মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের উপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

 

স্বচ্ছতা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দেশের সমস্ত নারী ও শিশু বিকাশ দপ্তরকে স্বচ্ছতা অভিযানের দায়িত্ব সক্রিয়ভাবে পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টির ভিত্তি হল পরিচ্ছন্নতা। আচরণগত পরিবর্তন আনতে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এবং তার আশপাশের জনবসতিগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে।

 

মহিলাদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ‘ভোকাল ফর লোকাল’ এবং ‘এক জেলা এক পণ্য’ (ওডিওপি)-এর মতো জাতীয় উদ্যোগগুলিকে আরও বেশি করে প্রচার করার উপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় পণ্য, জীবিকা এবং মহিলাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে শক্তিশালী করতে মহিলা সমষ্টি ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু বিকাশ মন্ত্রক এবং রাজ্যগুলির সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির উপর সমাজের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ অংশের কল্যাণের দায়িত্ব ন্যস্ত রয়েছে। বর্তমানে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে যেসব শিশুর পরিচর্যা ও বিকাশ হচ্ছে, তারাই ভবিষ্যতে দেশের যুবসমাজ ও নাগরিক হিসেবে বিকশিত ভারত গড়ে তুলবে। 

 

 

 

SC/PM/AS