Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

জাতীয় যুব উৎসবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

জাতীয় যুব উৎসবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


ভারতের নানা প্রান্ত থেকে আসাআমার নবীন বন্ধুরা,

আজ ১২ জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তী আমরা যুব দিবস রূপে পালন করি। এদেশের যুবক-যুবতীরা বিশেষ করে দু’জন মহাপুরুষকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করেন। ভগৎ সিং এবং স্বামী বিবেকানন্দ। তাঁদের নাম উচ্চারণ করতেই আমাদের সকলের মাথা শ্রদ্ধায় অবনত হয়। এত কম বয়সের মধ্যেই তাঁরা কত কিছু করে গেছেন। মানুষের জীবনে সংকল্পের সামর্থ্য থাকলে, সংকল্পের জন্য উৎসর্গীকৃত মনোভাব থাকলে, আত্মাহুতির অদম্য ইচ্ছে থাকলে বয়স কোনও মানে রাখে না। আমার সামনে দেশের হাজার হাজার যুবক-যুবতী বসে আছেন, তাঁরা ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন, তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে লালিত-পালিত হয়েছেন। এঁদের খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাস আলাদা, ভাষা আলাদা, পোশাক-পরিচ্ছদ আলাদা, এতদ্‌সত্ত্বেও এঁরা একটি মূলমন্ত্রে একসূত্রে বাঁধা। কী সেই মূলমন্ত্র, যা জাতিধর্মবর্ণ নির্বিশেষে এঁদের সকলের মনমন্দিরে প্রতিনিয়ত গুঞ্জরিত হয়, আমাদের সবাইকে প্রেরণা জোগায়, তা হল – বন্দে মাতরম। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় এই বন্দে মাতরম মন্ত্রই কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, আটক থেকে কটক গোটা ভারত’কে প্রেরণা জুগিয়েছে। ভারতমাতাকে পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্ত করতে এই মন্ত্র উচ্চারণ করে অগ্রণী নেতারা সকল ভারতবাসীকে তাঁদের আন্দোলনে সামিল করেছেন। আর আজ স্বাধীন ভারত’কে উন্নয়নের নতুন শিখরে পৌঁছে দিতে, সমস্যাগুলি থেকে মুক্তির উপায়গুলি বাস্তবায়িত করতে, গ্রাম ভারতের গরীব কৃষক, শ্রমিকের জীবনে পরিবর্তন আনতে এই মন্ত্র আমাদের প্রেরণা জোগায়। আগে দেশের জন্য আত্মবলিদান দিতে প্রেরণা জোগাত, আর আজ দেশের স্বার্থে বেঁচে থেকে কাজ করার প্রেরণা জোগায়। আপনারা, নবীন প্রজন্মের যুবক-যুবতীরাও দেশের স্বার্থে কিছু করার জন্য সংকল্পবদ্ধ। আপনারা কিছু করতে চান। ১২৫ কোটি দেশবাসী এমনই দেশের জন্য সংকল্পবদ্ধ হয়ে লক্ষ্য পূরণে সচেষ্ট হলে তবেই দেশ উন্নয়নের পথে তরতর করে এগিয়ে যাব। সকল লক্ষ্য পূরণে সফল হবে।

আজ গোটা বিশ্ব ভারতের দিকে আশার দৃষ্টি তাকিয়ে। কারণ, ভারত একটি সম্ভাবনাপূর্ণ দেশ। ভারত আজ বিশ্বের সর্বাপেক্ষা নবীন দেশ। যে দেশের ৬৫ শতাংশ জনসংখ্যার বয়স ৩৫ বছরের নীচে, প্রায় ৮০ কোটি নবীন প্রজন্মের মানুষ। এঁদের সংকল্প দেশকে কোথায় পৌঁছে দিতে পারে? আমাদের দেশে ‘নবীন’ শব্দটির ভিন্ন ভিন্ন পরিভাষা রয়েছে। প্রাচীন শাস্ত্র থেকে শুরু করে আধুনিক অভিধানসমূহে ভিন্ন ভিন্ন সংজ্ঞা রয়েছে। আমার মতে, নবীনতা বা তরুণ কোনও একটি পরিস্থিতির নাম নয়। তারুণ্য একটি মনোস্থিতির নাম। যখন কেউ বারবার অতীতের কথা ভাবেন, পুনরাবৃত্তি করতে থাকেন, বোঝা যায় যে, তিনি বার্ধক্যের পথে পা বাড়িয়েছেন। কিন্তু, যিনি তাঁর মনে প্রতিনিয়ত ভবিষ্যতের স্বপ্ন সঞ্জীবিত রাখেন, আমার মতে, তিনিই মনের দিক থেকে নবীন। তিনি প্রত্যেক স্বপ্নকে সাকার করতে উঠে পড়ে লাগেন।

দেশের সকল প্রান্ত থেকে আসা নবীন প্রজন্মের যুবক-যুবতীরা দেশের ভবিষ্যৎ স্বপ্নসমূহের সম্পুট। শত বৈচিত্র্য সত্ত্বেও আমরা এখানে সারা দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে রয়েছি কেন? সদ্ভাবনা একটি বড় শক্তি। আমাদের পরস্পরের প্রতি আন্তরিক সমাদর এবং সদ্ভাব না থাকলে আমরা কি এভাবে যুক্ত হতে পারতাম? ভারত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে চায়। এবার আপনাদের এই যুব পরিষদের বিষয় হল ‘দক্ষতা উন্নয়ন, উন্নয়ন ও সদ্ভাব’। এই বিষয়গুলি নিয়ে আপনারা চারদিন ধরে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করবেন। সত্যিই তো, আমাদের দেশে একতা, সদ্ভাব, সমাদর, পরমত সহিষ্ণুতা, অন্যের ঐতিহ্য ও পরম্পরাকে সম্মান করতে না পারলে দেশের উন্নতি পদে পদে বাধাপ্রাপ্ত হবে। সেজন্য এটাই সময়ের দাবি যে, নবীন প্রজন্মের মানুষেরা তাঁদের ব্যবহারে শান্তি, একতা এবং সদ্ভাবনাকে অগ্রাধিকার দিলে এগুলি ভারতের মতো বৈচিত্র্যে ভরা দেশের সকল সম্পত্তি কোনও কাজে লাগবে না, কোনও গৌরব বৃদ্ধি করবে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পথ সুগম করবে না। সেজন্য শান্তি, একতা এবং সদ্ভাবনাও হলো ভারতের প্রাথমিক প্রয়োজন। ভারত বিশ্বের সামনে এটা প্রমাণ করে দিয়েছে যে অনেক ভাষা, অসংখ্য কথ্যভাষা, অসংখ্য সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও এই দেশ বিবিধের মাঝে যেন মিলন মহান। স্বামী বিবেকানন্দের মতো মহাপুরুষদের কাছ থেকে আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে এই বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যভাবনা পেয়েছি। এই মহান আদর্শকে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মনে প্রোথিত করার মাধ্যমেই সঞ্জীবিত রাখতে পারি।

বেদ থেকে বিবেকানন্দ আর উপনিষদ থেকে উপগ্রহ পর্যন্ত আমরা এই পরম্পরা সম্বল করেই বেঁচে আছি। একে এমনি সঞ্জীবিত রাখার প্রয়াস জারি রাখতে হবে। তেমনই প্রতিটি ব্যক্তির জীবনে সচ্ছ্বলতা না এলে দেশ কেমন করে সচ্ছ্বল হবে? একবিংশ শতাব্দীকে এশিয়ার শতাব্দী বলা হচ্ছে। এই শতাব্দী কেমন করে ভারতবাসীর শতাব্দী হয়ে উঠতে পারে? আমাদের দেশের যুবশক্তির সামর্থ্যকে চিনতে হবে। উন্নয়ন যাত্রায় তাঁদের সকলকে সামিল করা গেলে তবেই আমরা দেশের স্বপ্নকে সফল করতে পারবো। বইপড়া, কাগজ-কলমের সামর্থ্য অবশ্যই চাই, কিন্তু দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে বেশি করে চাই দক্ষতা উন্নয়ন। এই আধুনিক প্রযুক্তির যুগে কারিগরি বিদ্যায় দক্ষতা ভারতকে একটি ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ করে গড়ে তুলতে পারে। আমাদের দেশে কাঁচামালের প্রাচুর্য রয়েছে, আমাদের অনেক বড় বাজার রয়েছে, আমাদের প্রয়োজনও রয়েছে, শুধু চাই, আমাদের নবীন প্রজন্মের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা উন্নয়ন। সেজন্য আমাদের সরকার দক্ষতা উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

স্বাধীনতার এত বছর পর এই প্রথম সরকার দক্ষতা উন্নয়নের জন্য একটি আলাদা মন্ত্রক গড়ে তুলেছে, এর জন্য আলাদা নীতি তৈরি হয়েছে, বাজেটে আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যাতে গোটা দেশে একটি সুষম দক্ষতা উন্নয়ন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে দেশের দরিদ্র থেকে দরিদ্রতম মানুষ, লেখাপড়া না জানা মানুষ যাঁরা জীবনে কিছু করতে চান, তাঁদের প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আমাদের ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী রামন সিং দক্ষতা উন্নয়নকে জনগণের একটি অধিকার রূপে স্থাপিত করেছেন। সেভাবে আইন সংস্কারের চেষ্টা করেছেন। আমি গতবার ছত্তিশগড়ে গিয়ে নিজের চোখে তার দক্ষতা উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ দেখে এসেছি। একটি নকশালবাদ প্রভাবিত অঞ্চলে দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ শুরু করে তিনি সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানকে সুনিশ্চিত করেছেন। তিনি প্রশংসার পাত্র। আপনারা সবাই এখন ছত্তিশগড়ে সমবেত হয়েছেন। এই ক’দিনে দক্ষতা উন্নয়ন ক্ষেত্রে ছত্তিশগড়ের অনেক সাফল্যের কথা শুনবেন।

আমরা গোটা দেশের নবীন প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের দেশে যাঁরা কায়িক পরিশ্রম করে উপার্জন করেন, তাঁদেরকে ছোট ভাবা হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গী বদলাতে হবে। আমাদের বাড়িতে অধিকাংশ মায়েরাই বাড়ির সকল কাজ নিজের হাতে করেন, রান্না করা, জামাকাপড় ধোয়া, ঝাড়ু দেওয়া, ঘর-বাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। খুব কম মায়েরাই শুধুই মস্তিষ্কের কাজ করে সন্তান প্রতিপালন করার সুযোগ পান। কিন্তু, আমার মায়ের মতো সাধারণ ঘরের অধিকাংশ মায়েরাই নিজের কাজ নিজের হাতে করেন। সেই মাকে সবচাইতে বেশি শ্রদ্ধা ও সম্মান করি। তা হলে, সমাজে যাঁরা কায়িক পরিশ্রম করে জীবিকা উপার্জন করেন, আমাদের প্রাত্যহিক সকল প্রয়োজনে যাঁদের ছাড়া আমাদের চলে না, সেই অটোরিক্সা চালক, প্লাম্বার, মেকানিক, টার্নার, ফিটার, অয়্যারম্যান, আর যাঁরা ফুলের তোড়া বানান, পথে ঝাড়ু দেন, পরিষ্কার করেন, সকলকে ছোট দেখার মানসিকতা বদলাতে হবে। আমার সঙ্গে তাঁদের কাজের মর্যাদার কোনও পার্থক্য নেই, সমাজে আমি আমার দায়িত্ব করছি, তাঁরাও নিজের নিজের দায়িত্ব পালন করছেন। তা হলে, তাঁরাও সমাজ জীবনে সমাজ মর্যাদা পাবেন না কেন? এই সমভাব গড়ে উঠলেই সদ্ভাবও নিজে থেকেই দেশের সর্বত্র অঙ্কুরিত হতে শুরু করবে। আমাদের দেশে প্রচলিত ধারণা ‘হোয়াইট কলার জব’ আর ‘ব্লু কালার জব’ – যাঁরা করেন তাঁরাই যেন শুধু স্বনির্ভর! কিন্তু, যাঁরা নিজের হাতের দক্ষতা ও শ্রমের মাধ্যমে স্বনির্ভরতা অর্জন করেন – তাঁদের জন্য গর্ব করার সময় এসেছে। আমরা সমাজে এই মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন আনতে চাই। কোনও কাজ ছোট হয় না। আজ সেজন্যই আমরা একটা আন্দোলন শুরু করেছি ‘শ্রমেব জয়তে’। শ্রমের মর্যাদাকে আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি। শুধু সব বিষয়ে স্নাতক চাই না, পাশাপাশি দশম শ্রেণী উত্তীর্ণ এমনকি সপ্তম শ্রেণী উত্তীর্ণ ছাত্রদেরও আই টি আই’গুলিতে সামর্থ্য ও পছন্দ অনুসারে প্রশিক্ষণের সুযোগ দিচ্ছি। স্নাতক হয়ে কর্মহীন অবস্থায় রোজগারের তাগিদে ঘুরে বেড়ানোর চাইতে সাধারণ ঘরের ছেলেটি যদি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজের কর্মসংস্থান করে নিতে পারে, তা হলে তাঁর পরিবার বেশি খুশি হবে, সচ্ছ্ল থাকবে। আমি উন্নয়ন বলতে বুঝি গরীব মানুষের জীবনে পরিবর্তন, ভারতের গ্রামোন্নয়নে। গ্রামে ভালো শিক্ষার ব্যবস্থা, ভালো হাসপাতাল, ভালো ডাক্তার, সস্তা ওষুধের জোগান, থাকার জন্য ভালো বাড়ি, প্রতিটি গ্রামে বিশুদ্ধ পানীয় জল, পাকা রাস্তা এবং বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে না পারলে আমার দেশের সার্বিক উন্নয়নের স্বপ্ন সফল হবে না। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এতগুলি বছর পেরিয়ে গেলেও এই সামান্য সুবিধাগুলি থেকে বঞ্চিত দেশের হাজার হাজার গ্রাম। এখন আমরা এই দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছি। এটাই তো আসল উন্নয়ন। আমরা কতগুলো বড় বড় বাড়ি তৈরি করলাম আর কত বেশি বাবু গড়ে তুললাম – সেটা উন্নয়ন নয়। সেজন্যই আমাদের উন্নয়নের মডেল হলো সাধারণ মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনা। এই পরিবর্তনসাধনের জন্য আমরা দক্ষতা উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়েছি।

আর চারদিনপরই আগামী ১৬ তারিখে শুরু হচ্ছে ‘স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া, স্ট্যান্ড আপ ইন্ডিয়া’ প্রকল্প। আমাদের দেশের নবীন প্রজন্ম কল্পনাশক্তিতে ধনী, অনেক নতুন চিন্তাভাবনা, অনেক সমস্যা সমাধানের পথ তাঁরা খুঁজে নিতে পেরেছেন। আমরা দেখছি, এমনকি আমাদের গ্রামে মাঠে কাজ করা কৃষকও প্রযুক্তি উন্নয়নে সক্ষম। নিজের প্রয়োজন অনুসারে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করতে নতুন নতুন বুদ্ধি বের করেন, একটা মোটর সাইকেল কিনে তা থেকে দশ রকমের কাজ বের করার বুদ্ধি বের করে ফেলেন। কিন্তু, এই ধরণের উদ্ভাবনী ক্ষমতার স্বীকৃতি কেমন করে দেওয়া যায়, কিভাবে তাঁদেরকে পুরস্কৃত করা যায়, উৎসাহিত করা যায়, এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে বের করা যায় তা দেখতে হবে। সরকার এই বিষয়গুলিকে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে ভেবে এই প্রকল্প চালু করছে। ১৬ তারিখের অনুষ্ঠানে আপনাদের মধ্যেও অনেকে হয়তো ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হবেন কিংবা যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করবেন। দক্ষতা উন্নয়নের পরবর্তী পদক্ষেপ এই ‘স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া’ প্রকল্প। একইভাবে সরকার ‘মুদ্রা যোজনা’ ঘোষণা করেছে।

আমাদের দেশে অনেক মানুষ আছেন, যাঁদের কিছু করার ইচ্ছে রয়েছে। কিন্তু, অর্থের অভাবে করতে পারেন না। ব্যাঙ্কগুলির দরজা তাঁদের জন্য উন্মুক্ত ছিল না। আমরা সরকারে এসে পরিবর্তন এনেছি – ব্যাঙ্কের দরজা সাধারণ দরিদ্র মানুষের জন্য খুলে দিয়েছি।

এই প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই প্রায় ২ কোটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়িকে কোনও রকম গ্যারান্টি ছাড়াই প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। দেশের যুবশক্তি, দেশের নবীন প্রজন্মকে আমরা বিশ্বাস করি, তাঁদের উপর আমাদের ভরসা রয়েছে। দেশের জন্য স্বপ্ন তাঁরাই দেখেন। আর সেজন্যই আমরা তাঁদেরকে স্বাবলম্বী করে তোলাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। আমরা চাই, যাঁরা কিছু করে দেখাতে চান, তাঁরা চাকরির খোঁজে সময় নষ্ট না করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠুন। অন্যদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন। আপনাদের স্বপ্ন হওয়া উচিত, আমরা এমন জীবন বাঁচবো, যাতে আরও দু-পাঁচজন মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারি! আরেকবার এই সংকল্প নিয়ে এগিয়ে গেলে আপনারা সাফল্যও পাবেন। দৃঢ়-সংকল্পই যে কোনও সাফল্যের চাবিকাঠি। আপনারা এমন দৃঢ়-সংকল্প নিয়ে এগিয়ে গেলে আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আমি আপনাদের পাশে থাকবে। এখানেই দক্ষতা উন্নয়নের গুরুত্ব, ‘স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া, স্ট্যান্ড আপ ইন্ডিয়া’র গুরুত্ব এখানেই প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার গুরুত্ব।

আমরা সরকারে আসার পরই ১৫ আগস্টে লালকেল্লার প্রাকার থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় আমি কথায় কথায় ‘স্বচ্ছ ভারত’ প্রকল্পের প্রস্তাব রেখেছিলাম। তারপরই, আমরা দেশব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতার অভিযান শুরু করেছি। এই অভিযান প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অভিযান নয়, নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত অভিযান নয়, দেশের সকল অংশের মানুষ এটাকে নিজেদের অভিযান করে নিয়েছে। তারপর বলেছিলাম, ২৬ জানুয়ারি’তে দেশের সর্বত্র মহাপুরুষদের যত মূর্তি রয়েছে, ধুলোবালি, পাখির বিষ্ঠায় নোংরা হয়ে আছে, একজন দেশভক্ত নাগরিক হিসেবে আমরা কি সেগুলিকে নিজেদের উদ্যোগে পরিষ্কার করতে পারি? আমি খবর পেয়েছি, দেশের নবীন প্রজন্ম আমার এই প্রস্তাব লুফে নিয়েছেন, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরাও স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এগিয়ে এসেছে। এন সি সি, এন এস এস ছাড়াও অনেক সংগঠন এগিয়ে এসেছে। তাঁরা এমনকি ২৬ জানুয়ারির অপেক্ষায় থাকেননি। আগেই লেগে পড়েছেন, আর একবার নোংরা পরিষ্কার করার পর তারাই ঐ মূর্তিগুলিকে এবং সেগুলির চারপাশের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রত্যেক শহর, প্রতিটি গ্রামে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে, কোনও রকম সরকারি তদারকি ছাড়াই কাজ হচ্ছে। এন এস এস এবং নেহরু যুব কেন্দ্রও এই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

আপনারা ২০ বছর ধরে এই বার্ষিক উৎসবে সামিল হয়েছেন। আমার অনুরোধ এবার আপনারা ২০১৯ সালের মধ্যে কতটা কাজ করবেন তার একটি রূপরেখা তৈরি করে সেগুলি রূপায়ণের ক্ষেত্রে সবাই মিলে শপথ গ্রহণ করুন। একটা সংকল্প নিয়ে ফিরে যান। আমরা নিজেরা কতটা কী করতে পারবো, আমাদের পরিবার কিংবা আমাদের সংস্থা কতটা কী করতে পারবে চিন্তাভাবনা করে একটা লক্ষ্য স্থির করুন। তা হলে দেখবেন, কাজ করতে সুবিধা হবে। সেজন্য এবার রায়পুর থেকে ফেরার আগে প্রত্যেকে ২০১৯ কিংবা ২০২২ সাল পর্যন্ত কী করবেন তার একটা রোডম্যাপ ঠিক করে নিন। সেজন্য কে কতটা সময় দিতে পারবেন দৈনিক কত ঘন্টা করে সময় দিতে পারবেন সেসব ঠিক করুন।

আমি দেশের নবীন প্রজন্মের কাজে কৃতজ্ঞ। এমনিই একটি অনুষ্ঠানে আমি নবীন প্রজন্মকে আহ্বান জানিয়েছিলাম তাঁদের মোবাইল ফোনে নরেন্দ্র মোদী অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারেন, সেখানে আপনাদের পরামর্শ পাঠাতে পারেন। আমি গর্বিত যে, ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার তরুণ-তরুণী ঐ অ্যাপ ডাউনলোড করে আমাকে সহস্রাধিক পরামর্শ পাঠিয়েছেন। এভাবে আমাকে আপনাদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার একটি সুযোগ দিয়েছেন। সেজন্য আপনাদের অভিনন্দন জানাই, যাঁরা নিজেদের মূল্যবান সময় ব্যয় করে চিন্তাভাবনা করে আমাকে পরামর্শ পাঠিয়েছেন, সেজন্য আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

গত ২৬ জানুয়ারি আমি দেশের নবীন প্রজন্মের সামনে একটি বিষয় রেখেছিলাম, আমাদের অধিকার ও কর্তব্য নিয়ে দেশব্যাপী সর্বস্তরে আলাপ-আলোচনার প্রস্তাব রেখেছিলাম। এই দুটি দায়িত্বই আমাদের প্রদান করেছে ভারতের সংবিধান। কিন্তু, স্বাধীনতার পর থেকে অধিকাংশ নাগরিকই অধিকারকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছেন। কর্তব্যবোধ শুধু ব্যক্তিগত স্তরেই থেকে গেছে, সামাজিক স্তরে কর্তব্যবোধের নিদর্শন গত ৬০ বছরে বিরল। আমরা এই কর্তব্যবোধকেও সামাজিক স্বভাবে পরিণত করতে চাই। ১২৫ কোটি মানুষের মনে কর্তব্যবোধকে সঞ্চারিত করতে চাই। সকলের মনে ইতিমধ্যেই অনেকে আমার আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এসেছেন, আমি চাই আপনারাও এগিয়ে আসুন। আশা করি, ছত্তিশগড়ের এই ভালোবাসা, আতিথেয়তা, আপনাদের মনে স্থায়ী প্রভাব ফেলবে। দীর্ঘকাল ছত্তিশগড় থেকে কাজ করার সুযোগ আমি পেয়েছি, সেজন্য ছত্তিশগড়বাসীর আন্তরিক উষ্ণতা সম্পর্কে আমি অবহিত। এবার আমি সেই আনন্দ থেকে বঞ্চিত। এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য ছিল।

ছত্তিশগড় বিগত অনেক বছর ধরে নকশালবাদ আক্রান্ত। মাওবাদীদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে আমরা ছত্তিশগড়ের নবীন প্রজন্মের ১০০ শতাংশ দক্ষতা উন্নয়ন সুনিশ্চিত করতে চাই। হত্যার রাজনীতি কোনও সামাজিক সমস্যার সমাধান হতে পারে না। দক্ষতা আর স্বপ্ন দেখা ছত্তিশগড়ের নবীন প্রজন্মকে মাওবাদের করালগ্রাস থেকে নিজেদের মুক্ত করতে সহায়ক প্রমাণিত হবে। সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমেই আমরা সকল সমস্যার সমাধান করতে চাই। রায়পুর থেকে আপনারা সেই প্রেরণা নিয়ে যান। আমাদের ক্রীড়ামন্ত্রী শ্রীমান সোনেওয়াল আপনাদের মধ্যে রয়েছেন। এই উৎসাহে টগবগে মানুষ্টির সাহচর্য আপনাদের প্রেরণা জোগাবে। আপনাদের সকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

PG/SB/SB