পিএমইন্ডিয়া
মাননীয়প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে,
সম্মানিতপ্রতিনিধিবৃন্দ,
সংবাদমাধ্যমেরসদস্যবৃন্দ,
কোন্নিচিভা(শুভ অপরাহ্ন/নমস্কার)
আমার বিশেষবন্ধু প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে-কে ভারতে, বিশেষ করে গুজরাটে স্বাগত জানানোর সুযোগ পেয়েআমি আনন্দিত। আন্তর্জাতিক বৈঠক ও সম্মেলনকালে প্রধানমন্ত্রী আবে-র সঙ্গে আমি বেশকয়েকবারই একান্ত আলোচনায় মিলিত হয়েছিলাম। কিন্তু এইভাবে তাঁকে ভারতে স্বাগতজানানোর সুযোগ পাওয়া নিঃসন্দেহে আমার কাছে এক খুশির কারণ। গতকাল আমি তাঁকে সঙ্গেনিয়ে সাবরমতী আশ্রম পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। আজ আমরা দু’জনেই পরিদর্শন করেছি ডান্ডিকুটীর। আজ সকালেই আমরা একত্রে মুম্বাই-আমেদাবাদ উচ্চগতির রেল প্রকল্পটির শিলান্যাসকরেছি যা জাপানি সহযোগিতায় রূপায়িত হচ্ছে। নিঃসন্দেহে এ হল এক বড় ধরনের পদক্ষেপ।এই ঘটনা উচ্চগতির রেলের একটি সূচনামাত্র নয়, আমাদের ভবিষ্যৎ চাহিদার কথা চিন্তাকরলে নতুন রেলপথটিকে দার্শনিক দিক থেকে ‘নতুন ভারত’-এরজীবনরেখা বলেই আমি মনে করি।ভারতের নিরন্তর অগ্রগতির সঙ্গে এখন যুক্ত হল এক বিশেষ গতি।
বন্ধুগণ,
ভারত-জাপানসম্পর্কের অতুলনীয় বৈশিষ্ট্যটি হল পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস, পরস্পরের উদ্বেগ ওস্বার্থের বিষয়গুলির উপলব্ধি এবং উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা ও মতবিনিময় প্রক্রিয়াকেঅব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা। আমাদের মধ্যে যে কৌশলগত আন্তর্জাতিক এক অংশীদারিত্বেরসম্পর্ক গড়ে উঠেছে তা শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিক বা আঞ্চলিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নেই,আন্তর্জাতিক বিষয়গুলিতেও আমাদের মধ্যে রয়েছে এক নিবিড় সহযোগিতার সম্পর্ক। গত বছরআমার জাপান সফরকালে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এক ঐতিহাসিকচুক্তির মাধ্যমে যুক্ত হয়েছি আমরা। এই বিষয়টিকে সর্বতোভাবে সমর্থন জানানোর জন্যআমি কৃতজ্ঞতা জানাই জাপানের অধিবাসী, সেখানকার সংসদ এবং বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীআবে-কে। বিশুদ্ধ জ্বালানি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলিতে আমাদের পারস্পরিকসহযোগিতার ক্ষেত্রে এই চুক্তিটি এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
বন্ধুগণ,
পূর্ববর্তীবছরের তুলনায় ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ভারতে জাপানি বিনিয়োগের মাত্রা ৮০ শতাংশ বৃদ্ধিপেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। জাপান বর্তমানে ভারতে তৃতীয় বৃহত্তমবিনিয়োগকারী একটি দেশ। ভারতের অর্থনৈতিক বিকাশ এবং সোনালী ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জাপানযে কতটা আশাবাদী এবং আত্মবিশ্বাসী, এই ঘটনাই তার সুস্পষ্ট প্রমাণ। বর্তমানে এইবিনিয়োগের পথ ধরে আগামীদিনগুলিতে ভারত ও জাপানের জনসাধারণের মধ্যে পারস্পরিকসম্পর্ক যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক সম্পর্কের মতোই উত্তরোত্তর প্রসার লাভ করবে, সেবিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। জাপানের নাগরিকদের জন্য ‘ভিসা অন অ্যারাইভ্যাল’ নীতি আমরাঅনুসরণ করেছি। বর্তমানে ভারত ও জাপানের ডাকবিভাগের মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি রূপায়ণেরফলে আমরা চলু করতে চলেছি এক ‘কুল বক্স’ পরিষেবা। এর উদ্দেশ্য হল, ভারতে বসবাসকারীজাপানের অধিবাসীদের কাছে জাপান থেকে পাঠানো তাঁদের প্রিয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া।একইসঙ্গে, জাপানের বাণিজ্য প্রতিনিধিদের কাছে আমি অনুরোধ জানাব ভারতে আরও বেশি করেজাপানি রেস্তোরাঁ খোলার জন্য। ভারত বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এক বিরাট পরিবর্তনেরমধ্য দিয়ে চলেছে। বাণিজ্যিক কাজকর্ম সহজতর করে তোলা, দক্ষ ভারত গঠন করা, করসংস্কার কর্মসূচি কিংবা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগ – সর্বক্ষেত্রেই এক পূর্ণরূপান্তরের পথে এগিয়ে চলেছে ভারত। এই ঘটনা জাপানের বাণিজ্য প্রতিনিধিদের কাছে একবিরাট সুযোগ এনে দিয়েছে। আমি বিশেষভাবে আনন্দিত যে বহু জাপানি শিল্প সংস্থা আমাদেরপ্রধান প্রধান কর্মসূচিগুলির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত রয়েছে। দু’দেশের বাণিজ্যিকনেতৃবৃন্দের সঙ্গে আজ সন্ধ্যায় আমাদের যে কর্মসূচি রয়েছে তাতে আলোচনা ওমতবিনিময়কালেএর প্রত্যক্ষ সুফলগুলিও আমরা লক্ষ্য করতে পারব বলে আশা করি।সরকারিভাবে জাপানের উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচিতে আমরা হলামএক বৃহত্তম অংশীদার।বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রকল্প রূপায়ণ সম্পর্কিত যে চুক্তিগুলি আজ স্বাক্ষরিত হয়েছেসেগুলিকে আমি আন্তরিকভাবেই স্বাগত জানিয়েছি।
বন্ধুগণ,
আমাদেরমধ্যে আজ যে সমস্ত আলাপ-আলোচনা এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে তা সবক’টি ক্ষেত্রেইভারত-জাপান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে তুলবে বলেই আমার দৃঢ় বিশ্বাস। এটুকুবক্তব্য রেখেই আমি আরও একবার আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই প্রধানমন্ত্রী আবে এবং তাঁরউচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি তথা সফরসঙ্গীদের।
জিও দে গোজাইমাস(আজ এই পর্যন্তই)
আরিগাতোগোজাইমাস (ধন্যবাদ)
আপনাদেরসকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
PG/SKD/DM/
Held very productive discussions with PM @AbeShinzo. We have covered vital ground during our talks today. pic.twitter.com/pGVmbveV9u
— Narendra Modi (@narendramodi) September 14, 2017