পিএমইন্ডিয়া
আপনারা সবাই কেমন আছেন, ভালো আছেন তো?
শিবরাত্রির পবিত্র উৎসবে আপনাদের সকলকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
ভোলানাথ আপনাদের সবার ভালো করবেন।
আমার বক্তব্য শুরু করার আগে তিনবার ভারতমাতার জয়ধ্বনি করব আর আপনাদেরকে দিয়েও করাবো।
পরাক্রমী ভারতের জন্য ভারতমাতার জয়
বিজয়ী ভারতের জন্য ভারতমাতার জয়
বীর জওয়ানদের জন্য ভারতমাতার জয়
আমাকে আশীর্বাদ দেওয়ার জন্য বিপুল সংখ্যায় আগত জামনগরের প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আজ শিবরাত্রির পবিত্র উৎসব আর গুজরাট এমন রাজ্য, যেখানে দুটি জ্যোতির্লিঙ্গ রয়েছে। সোমনাথ ও নাগেশ্বরের এই মাটি আমার জন্য অত্যন্ত শুভ। আর আজ আমার এই মাটিতে আসার সৌভাগ্য হয়েছে।
আমি যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, মুখ্যমন্ত্রীদের সম্মেলনে গিয়ে বলতাম যে, গুজরাটে কোনও সমস্যা নেই, সবকিছুই ভালো। আপনাদের কী কী সমস্যা রয়েছে? আমি তাঁদেরকে নিজের কথা যখন বোঝাতাম, তখন সবাই খুব আশ্চর্য হতেন। আমি বলতাম যে, আমাদের রাজ্যে কোনও কয়লা কিংবা অন্য খনিজ পদার্থের প্রাচুর্য্য নেই। জলকষ্ট রয়েছে। আমাদের সরকারের সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয় প্রত্যেক ১০ বছরের মধ্যে ৭ বছর খরাক্রান্ত বিভিন্ন অঞ্চলে জল পৌঁছনো। ঈশ্বর যদি আমাদের জলের প্রাচুর্য্য দিতেন, তা হলে আমরা এতটাই শক্তিশালী হতাম যে, সারা ভারতকে যেখানে ইচ্ছে নিয়ে যেতে পারতাম।
কিন্তু রাজ্য সরকারের বাজেটের সিংহভাগই জলের পেছনে খরচ করতে হয়। ভারতের অনেক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আমার কথা বিশ্বাস করতেন না। কিন্তু তাঁরা আমার সংকল্প দেখে অবাক হতেন! যে রাজ্যে ১২ মাস প্রবাহিত হওয়া নদী নেই, বৃষ্টিপাত কম – সেই রাজ্যকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হলে কান্নাকাটি করে কোনও লাভ হবে না। আগে খরার সময়ে কচ্ছের আপামর জনগণ বাঁচার জন্য অন্যত্র চলে যেতেন। আমরা সেজন্য আগে এই জলের সমস্যা দূর করতে চেয়েছি। সর্দার সরোবর বাঁধ নির্মাণে এত সমস্যা হয়েছিল, আর এই সমস্ত প্রতিকূলতার জন্য তৎকালীন সমস্ত সরকার দায়ী। তারা এড়িয়ে যেতে পারেন না, তাঁদের জবাব দিতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আজ থেকে ৪০ বছর আগে এই বাঁধের কাজ সম্পূর্ণ হলে গুজরাটবাসীদের চার দশক ধরে এত সমস্যার সম্মুখীন হতে হ’ত না। আর আমাদের এত বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে এটি সম্পূর্ণ করতে হ’ত না। আজ গুজরাটের শুষ্ক অঞ্চলগুলি, বিশেষ করে কচ্ছ ও কাথিয়াবাড়ে জল পৌঁছে দিতে কত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে, সেটা আমিই জানি। আমার মনে পড়ে, যখন আমি রাজকোটের মাটিতে দাঁড়িয়ে ‘সৌনি’ প্রকল্প ঘোষণা করেছিলাম, তখন অনেকেই একে নির্বাচনী চমক বলে আমার সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু আমি এসব সমালোচনায় মাথা ঘামাই না। আপনি যে কোনও সময়েই কোনও কাজ করুন না কেন, তখন কোথাও না কোথাও নির্বাচন চলবে। আমার আশংকা ছিল যে, , ৫০০-৭০০ কিলোমিটার দূরত্বে প্রায় ২০তলা বাড়ির মতো উঁচু এলাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে জল পৌঁছে দেওয়ার এই প্রকল্প আদৌ সফল হবে কি না! কাজটি আদৌ করতে পারবো কি না! আমার পূর্ববর্তীরা হ্যান্ড পাম্পের ব্যবস্থা করেছেন, সাংঘাতিক খরার সময় ট্যাঙ্কার দিয়ে জল পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন ; কিন্তু এর থেকে স্থায়ী কোনও ব্যবস্থার কথা তাঁরা ভাবতেও পারেন নি!
আমি ভেবেছিলাম বলেই আজ ‘সৌনি’ প্রকল্পের জল একটা বিশাল অঞ্চলের জলকষ্ট দূর করতে পেরেছে। কচ্ছের আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মোতায়েন বি.এস.এফ. জওয়ানরা আজ নর্মদার তাজা জল খেতে পারেন। এই সাফল্য প্রযুক্তির, কারিগরিবিদ্যা ও ইচ্ছাশক্তির। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, আমি গুজরাট ছেড়ে যাওয়ার পরও আমার টিম ততটাই নিষ্ঠার সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ করতে করতে ‘সৌনী’ প্রকল্পের একেকটি পর্যায়ের শেষ করে গেছে। আমি অনেকদিন ধরেই বলে আসছি যে নর্মদার জল গল্পের পরশপাথরের মতো। গল্পের পরশপাথর যেমন যাকে ছোঁয়াবেন সে-ই সোনা হয়ে যায়, নর্মদার জলও তেমনি যে মাটিতে যাবে সেই মাটিকে সুজলা ও উর্বর করে তোলে, মাঠগুলি সবুজে ভরে যায়, সোনার ফসলে সুফলা হয়। আমাদের কৃষকদের পরিশ্রমের সঙ্গে নর্মদার জলের ছোঁয়ায় তাঁদের ঘাম প্রজ্জ্বলিত হয়ে ওঠে। আজ গুজরাট সেটা করে দেখিয়েছে।
আজ এখানে আমার গুরু গোবিন্দ সিংজী মেডিকেল কলেজ সম্প্রসারণের বেশ কয়েকটি উদ্বোধনের সৌভাগ্য হয়েছে। আমাদের সকলেরই জানা উচিৎ যে, গুরু পরম্পরার সঙ্গে গুজরাটের একটা বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। গুরু গোবিন্দ সিংহের প্রথম ‘পাঁচ প্যারে’র একজন ছিলেন গুজরাটের দ্বারকার দর্জি সমাজের প্রতিনিধি। তখন দ্বারকা জামনগর রাজ্যের অংশ ছিল। সেই শিষ্য, গুরুর সম্মান রক্ষার্থে নিজের মস্তক কেটে দিতেও পিছপা হননি। আমরা আজ সেই শিষ্যের কথা মনে রেখে তাঁর গুরু গোবিন্দ সিংহের নামে নির্মিত এই হাসপাতালের পরিষেবা উন্নয়নের মাধ্যমে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
এই হাসপাতাল এই অঞ্চলের আরোগ্য ক্ষেত্রে বিপ্লব আনবে। এখান থেকে আমি আমেদাবাদ যাব, সেখানে আরও চারটি বড় হাসপাতাল প্রকল্পের শিলান্যাস করব। কারণ, আমরা মনে করি, উন্নত হাসপাতাল ও আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়া আজকের ব্যস্ত জীবনে আধুনিক চিকিৎসা সম্ভব নয়।
আগেকার দিনে খাদ্যে ভেজাল ছিল না বলে মানুষের শারীরিক গঠন বেশ মজবুত ছিল। একজন বৈদ্যরাজ গোটা গ্রামের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে পারতেন। এখন সময় বদলেছে, বাম চোখের আলাদা ডাক্তার হন আর ডান চোখের আলাদা! এখন বিশেষজ্ঞদের জমানা। আমাদের সেরকম করেই তৈরি হতে হয় আর সেই বিশেষজ্ঞদের কথা মাথায় রেখেই গুজরাটে আধুনিক হাসপাতাল গড়ে তোলা হচ্ছে। গুজরাটে তো দুটি স্বাস্থ্য প্রকল্প একসঙ্গে কাজ করছে – আয়ুষ্মান ভারত যোজনা এবং মুখ্যমন্ত্রী অমৃতম যোজনা বা সংক্ষেপে ‘মা’ যোজনা। আমি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, তখন এখানে চিরঞ্জীবি যোজনা শুরু করেছিলাম। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গরিব মায়েদের জন্য বেশ কিছু প্রসূতি হাসপাতাল গড়ে তুলে সদ্যজাত ও প্রসূতি মায়েদের মৃত্যুর হার হ্রাস করার ক্ষেত্রে অনেকটা সাফল্য পেয়েছিলাম। আমি কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব পেয়ে সারা দেশে আরও অনেক সংহত প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারত যোজনা চালু করেছি। এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রকল্প।
আপনারা সবাই জানেন, আমি ছোট কিছু পছন্দ করি না, যা করি তা বড় করেই করি। যখন গুজরাটে পাইপ লাইন চালু করেছি, তখন ৫০০ – ৭০০ -৯০০ কিলোমিটার লম্বা পাইপ লাইন চালু করেছি। আর সেই পাইপ এতই প্রশস্ত ছিল যে, তার ভেতর দিয়ে মারুতি গাড়ি চলে যেতে পারে। তেমনই এখন যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করেছি, তার মাধ্যমে আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো – এই তিন দেশের মোট জনসংখ্যারও বেশি মানুষ ভারতে উপকৃত হবেন।
যে কোনও গরিব পরিবারের একজন সদস্য বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার জন্য বিমার সহায়তা পাবেন। যে কোনও বড় হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পারবেন। দেশের ১৫ হাজার বড় হাসপাতাল এখন এই প্রকল্পাধীন।
শুধু তাই নয়, মনে করুন – জামনগর থেকে এক ভাই ভোপাল, কলকাতা কিংবা কোচিন বেড়াতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লেন, তাঁকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবার জন্য জামনগর ফিয়ে আসার দরকার নেই। ভোপালের হাসপাতালে পিএমজেওয়াই কার্ড দেখালেই সেখানে চিকিৎসা শুরু হবে।
এই প্রকল্প শুরু হওয়ার পর, দেশের ছোট ছোট শহরগুলিতে ২ – ৩ হাজার বড় বড় হাসপাতাল গড়ে ওঠার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর একেকটি হাসপাতালে কয়েকশো মানুষের কর্মসংস্থান হয়। ডাক্তার, নার্স ছাড়াও অনেক ছোট ছোট টেকনিশিয়ান পদে নিয়োগ হয়। সেজন্য আমি বলেছি, দেশে চিকিৎসা ক্ষেত্রে একটি বড় বিপ্লব আসতে চলেছে। আর এই হাসপাতালগুলি হবে এই বিপ্লবের সহায়ক ক্ষেত্র।
জল নিয়ে যত কথাই বলি, কিছু কিন্তু থেকে যায়। জল এমন একটা জিনিস, যখন মানুষ এর অপব্যবহার করেন, তখনই সঙ্কট শুরু হয়। এত বড় সৌনি প্রকল্প সফল হওয়ার পরও গুজরাটে জলের প্রয়োজন বৃষ্টি কিংবা নদীর জল দিয়ে পুরো হবে না। সেজন্য সমুদ্রের জল শোধনের মাধ্যমে মিষ্টি জলে রূপান্তরিত করার জন্য বড় প্রকল্প গড়ে তোলার প্রয়োজন হয়েছে। তেমনই একটি প্রকল্পের আজ শিলান্যাস হয়েছে।
এর মানে এই দাঁড়ায় যে, জলকে ঈশ্বরের আশীর্বাদ ভেবে ব্যবহার করতে হবে। জল নষ্ট করার কোনও অধিকার গুজরাটবাসীর নেই। এই রাজ্যের সরকারকে গরিব মানুষের প্রত্যেক টাকা থেকে ২০ পয়সা জলের পেছনে খরচ করতে হয়। কারণ? জলই তো জীবন! সেজন্য কোনও প্রকল্পে স্কুলের ১ লক্ষ শ্রেণীকক্ষের জন্য যে টাকা বরাদ্দ হয়েছে, তা থেকে ১০ হাজার শ্রেণীকক্ষের টাকা জলের জন্য ব্যয় করতে হয়। তেমনই হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ টাকা থেকেও শেষ মুহূর্তে টাকা সরিয়ে জলের জন্য ব্যয় করতে হয়। অর্থাৎ, এই রাজ্যে সরকারের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান হ’ল জল। এই প্রেক্ষিতে প্রত্যেক গুজরাটবাসীকে জল সাশ্রয়ের দায়িত্ব বহন করতে হবে। কৃষকদের ড্রিপ ইরিগেশন প্রথায় চাষকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। গোটা রাজ্যে প্রতি বিন্দু জলের সঠিক ব্যবহার সুনিশ্চিত করতে হবে। এবার যাঁরা কুম্ভমেলায় গিয়েছিলেন, তাঁরা ফিরে এসে সেখানকার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের প্রশংসা করেছেন। সারা দেশে আন্দোলন গড়ে ওঠায় স্বচ্ছ ভারত অভিযান যেমন সফল হয়েছে, তেমনই গুজরাটে জল বাঁচাও আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
মহাত্মা গান্ধী ১০০ বছর আগে হরিদ্বারে কুম্ভমেলায় গিয়ে কুম্ভমেলাকে পরিচ্ছন্নতার মেলায় পরিচ্ছন্নতা মেলায় পরিণত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তারপর থেকে ১০০ বছর ধরে তাঁর ইচ্ছাকে বাস্তবায়নের সদিচ্ছা কেউ দেখাননি। কিন্তু আমরা সেটা করে দেখিয়েছি। আর যেভাবে সারা দেশে স্বচ্ছ ভারত আন্দোলন সফল হয়েছে, সেভাবেই গুজরাটে জল বাঁচাও আন্দোলনকে আমরা ফল করে তুলতে পারি। আজ শিবরাত্রির পবিত্র উৎসবের দিন। নর্মদার পবিত্র জলে প্রভু শিবকে যেভাবে আপনারা অভিষেক করছেন, তেমনই পবিত্র মনে গুজরাটবাসী জল বাঁচানোর সংকল্প নিন। দেখবেন যে, অনেক বড় বিপ্লব চলে আসবে।
আজ এখানে রেলের বেশ কিছু প্রকল্প উদ্বোধন করার সৌভাগ্য হয়েছে। যে গতিতে রেল উন্নয়নের কাজ চলছে, বৈদ্যুতিকীকরণ, মিটারগেজ থেকে ব্রডগেজের রূপান্তরণ এবং ডবল লাইনের কাজ দ্বিগুণ গতিতে এগিয়ে চলেছে। আপনারা আমাকে চেনেন, আমার কাজের ধরণ সম্পর্কে পরিচিত বলে আপনাদের অবাক হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু দেশের বাকি অংশের মানুষ এভাবে কাজ করতে দেখে অবাক হন, আমি তাঁদেরকে বলি যে, যান, গুজরাটে গিয়ে দেখে আসুন, করতে চাইলে সব কিছু করা যায়। সদিচ্ছা থাকতে হয়। এখন সারা দেশে দ্বিগুণ গতিতে সব কাজ হচ্ছে। রেলের কাজেও গতি বেড়েছে। দ্বিগুণ গতিতে উন্নত মানের রেলের কামরা নির্মিত হচ্ছে, অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণ হচ্ছে।
আমরা প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্প চালু করেছি। এর মাধ্যমে ৫ একর কিংবা তার কম পরিমাণ কৃষি জমির মালিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তিন কিস্তিতে সরাসরি বছরে মোট ৬ হাজার টাকা কৃষি বাবদ ব্যয়ের জন্য জমা পড়বে। প্রত্যেক কৃষি ঋতুতে ২ হাজার টাকা করে সার, বীজ, পশুখাদ্য ও কীটনাশক কেনার জন্য এই অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। আমার পূর্ববর্তীরা কৃষকদের ঋণ মকুবের নামে এমন মিথ্যার বেসাতি চালু করেছিলেন যে, কৃষক সমাজ আজও সেই ভ্রমের মোহজাল থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। ২০০৮ – ০৯ সালে সাধারণ নির্বাচনের আগে দেশের কৃষকদের মোট কৃষি ঋণ ছিল ৬ লক্ষ কোটি টাকা। ঋণ মকুবের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে আমাদের পূর্ববর্তী সরকার সাকুল্যে ৫২ হাজার কোটি টাকা ঋণ মকুব করেছিল। আর এর অধিকাংশই পেয়েছিলেন ধনী কৃষকরা।
আমরা এমন প্রকল্প এনেছি যে, প্রতি বছর দেশের কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৭৫ হাজার কোটি টাকা জমা হবে। অর্থাৎ ১০ বছরে সাড়ে সাত লক্ষ কোটি টাকা। আর আমরা ভালোভাবেই জানি যে, দেশের গ্রামগুলিতে এই সাড়ে সাত লক্ষ কোটি টাকা পৌঁছলে দেশের গ্রামগুলির অর্থনীতি কেমনভাবে বদলে যাবে। আগে ২০ – ২৫ শতাংশ কৃষকদের ঋণ মকুব হ’ত আর এই নতুন সুদূরপ্রসারী প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৯০ শতাংশ কৃষক উপকৃত হবেন।
ভাই ও বোনেরা, কোনও রকম স্বজন-পোষণ ছাড়াই যে কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে আমরা ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ মন্ত্রকে আদর্শ করে এগিয়ে চলেছি। সম্প্রতি আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা যেসব সুবিধা পেতেন, এখন থেকে পশুপালক ও মৎস্যজীবীরাও কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে এই সুবিধাগুলি পাবেন। শ্রদ্ধেয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর শাসনকালে স্বাধীনতার পর প্রথমবার দেশের জনজাতিদের কল্যাণে একটি আলাদা বিভাগ গড়ে তোলা হয়েছিল। আমরা শাসন ক্ষমতায় এসে প্রথম মৎস্যজীবীদের জন্য একটি আলাদা বিভাগ খুলেছিলাম। আর এখন মৎস্য পালনকে আরও আধুনিক করে তুলতে বিশ্বের সমস্ত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারকে সুনিশ্চিত করতে মৎস্য পালকদের জন্য একটি স্বতন্ত্র মন্ত্রক গড়ে তুলেছি।
গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া আমাদের মৎস্যজীবী ভাইদের কম সুদে ১৫ লক্ষ টাকা ঋণদানের ব্যবস্থা করা হ য়েছে, যাতে তাঁরা উন্নতমানের নৌকা ও মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে গভীর সমুদ্রে যেতে পারেন ও সুরক্ষিতভাবে ফিরে আসতে পারেন। আমাদের সরকারের লক্ষ্য হ’ল – ২০২২ সালের মধ্যে দেশের সমস্ত গৃহহীনদের গৃহ প্রদান করা। আমরা এই লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে কাজ করে চলেছি। বিগত সরকারের পাঁচ বছরে গৃহহীনদের জন্য সারা দেশে ২৫ লক্ষ গৃহ নির্মিত হয়েছিল। আর আমরা বিগত ৫৫ মাসে ১ কোটি ৩০ লক্ষ গৃহ নির্মাণ করেছি। আর শুধু চার দেওয়াল সম্বলিত বাড়ি নয়, তাঁদেরকে বিদ্যুৎ, পানীয় জলের ব্যবস্থা, রান্নার গ্যাস সংযোগ এবং শৌচালয়েরও ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এই ধরণের প্রত্যেক আবাসনের কাছাকাছি বিদ্যালয় না থাকলে এই মানুষেরা তাঁদের ছেলেমেয়েদের কিভাবে লেখাপড়া শেখাবেন, এই চিন্তা মাথায় রেখে আমরা অনেক নতুন নতুন বিদ্যালয় গড়ে তুলেছি।
আমাদের এই জামনগর শহর ক্ষুদ্র শিল্পের উন্নয়নের জন্য বিখ্যাত। সেজন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অনেক শিল্পোদ্যোগ উন্নয়ন প্রকল্প যাতে সহজে ব্যাঙ্ক ঋণ পায়, তা সুনিশ্চিত করার জন্য অনলাইনে ৫৯ মিনিটের মধ্যে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করেছি। ফলে, ঋণের জন্য মহাজন কিংবা ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের পেছনে ছুটতে হবে না, কাউকে চা-ও খাওয়াতে হবে না। এই দ্রুততার জন্যই আমরা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ – এ ১৪২তম স্থান থেকে এই অল্প সময়ের মধ্যেই ৭৭তম স্থানে উঠে এসেছে। ফলে, জামনগর – মোরবি – রাজকোট ইত্যাদি শহরে ছোট ছোট কারখানাগুলি উপকৃত হয়েছে।
আমরা সারা দেশে অভিন্ন পরিষেবা কর চালু করেছি। আর দেশের বিভিন্ন শ্রেণীর নাগরিকের প্রয়োজন অনুসারে এর আইনেও অনেক সংশোধনও করেছি। এছাড়া, সাধারণ ব্যবসায়ী বা উৎপাদকরা যাতে তাঁদের নির্মিত জিনিসগুলি কেন্দ্রীয় সরকার বা রাজ্য সরকারের দপ্তরগুলিকে যাতে বিক্রি করতে পারে, সেজন্য আমরা জিইএম পোর্টাল চালু করেছি। ঐ পোর্টালে নিজেকে নথিভুক্ত করালে কোনও রকম দরপত্র বা দালালের সাহায্য ছাড়াই সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার বা রাজ্য সরকারের দপ্তরগুলিতে আপনাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।
ভাই ও বোনেরা, জনগণের শক্তি ও সামর্থের সাহায্য ছাড়া কোনও দেশ বা রাজ্য উন্নতি করতে পারে না। আমাদের গুজরাটে আগে প্রায়ই জাতিদাঙ্গা হ’ত। আমাদের এই জামনগরেও অনেক জাতিদাঙ্গা হয়েছে। কিন্তু আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে জনগণের সামর্থ্যকে রাজ্যের উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করতে শুরু করায় সামগ্রিক সৌহার্দ্যের আবহ গড়ে উঠেছে। এখন সবাই সুখে শান্তিতে বসবাস করতে চান। ফলে সকলের উন্নতি সুনিশ্চিত হয়েছে। এখন আপনারা বলুন, এই দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ উৎখাত করে দেওয়া উচিৎ কিনা? জামনগরবাসী উচ্চস্বরে বলুন, এই দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ উৎখাত করে দেওয়া উচিৎ কিনা? সন্ত্রাসবাদকে সমূলে উৎখাত করে ফেলে দিতে হবে।
এখন কেউ জিজ্ঞেস করতে পারেন যে, এখানে চেঁচিয়ে কী হবে? যেখানে রোগ সেখানে তো চিকিৎসা করতে হবে। সন্ত্রাসবাদের শিকড় হ’ল আমাদের প্রতিবেশী দেশে। সেজন্য আমরা সেখান থেকেই সন্ত্রাসবাদকে উৎখাতের প্রচেষ্টা শুরু করেছি। ভাই ও বোনেরা, আমাদের সেনাবাহিনীর শৌর্য ও পরাক্রমের জন্য আমাদের গর্ব করা উচিৎ। আমি সম্প্রতি দিল্লিতে একটি ভাষণে বলেছি, সেনা বাহিনীর জওয়ানদের অভূতপূর্ব পরাক্রমে সমগ্র দেশবাসী গর্বিত। আমাদের কেউ আক্রমণ করলে মৃত্যু শোকে কান্নাকাটি না করে প্রতি আক্রমণ করা উচিৎ। আমাদের সেনাবাহিনী সেটা করে দেখিয়েছে। আমাদের বিমানবাহিনী তাঁদের পরাক্রম দেখিয়েছে। এখন যদি তাঁদের হাতে রাফাল বিমান থাকতো, তা হলে পরিণাম আরও অন্য কিছু হ’ত। এখন যাঁরা আমার কথা বুঝতে পারছেন না, তার জন্য আমি তো দায়ী নই। তাঁরা সেনাবাহিনীর দিকেই প্রশ্ন তুলছেন। আরে মেহেরবান, ‘সাবু’ ব্যবহার করুন, ‘সাবু’ মানে ‘সামান্য বুদ্ধি’।
এয়ার স্ট্রাইকের সময় আমাদের পরাক্রমী বায়ুসেনাদের কাছে যদি রাফাল বিমান থাকতো, তা হলে আমাদের কোনও পাইলটকে শত্রুর এলাকায় প্যারাজাম্প করতে হ’ত না। আর শত্রুরও কোনও কিছু রক্ষা পেত না। কিন্তু আমাদের দেশের বীরদের প্রণাম জানাই। তাঁরা সামান্য উপকরণ নিয়েই প্রবল দেশাত্মবোধ ও সংকল্প নিয়ে আক্রমণকারীদের রাতের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছেন। সন্ত্রাসবাদীদের নাটের গুরু যতদিন সীমান্তপারে থাকবে, ততদিন আমাদের পরাক্রমী সৈনিকরাও চুপ করে বসে থাকবেন না। আমাদের সম্মানিত বিরোধী নেতানেত্রীরা এতদিন চিৎকার করছিলেন যে, মোদী কী করছে, মোদী কী করছে? এখন দেখে নিন মোদী কী করতে পারে! আপনারা প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, সবাই মিলে মোদীকে শেষ করবেন। কিন্তু দেশবাসীর মন্ত্র হ’ল মোদীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসবাদকে সমূলে ধ্বংস করবেন।
অনেক অনেক সেলাম ভাই, আমার সঙ্গে বলুন –
ভারতমাতার জয়
ভারতমাতার জয়
ধন্যবাদ।
CG/CB/SB
For many years, there was an issue of water shortage in Gujarat. This state has been drought prone.
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2019
While there was a problem, there was also a determination to solve this problem. We worked to improve water scarcity, particularly in the areas where water shortage was more: PM
The Sardar Sarovar Dam has brought much relief to the people of Gujarat. This project was completed despite neglect from earlier state governments and adversities from various quarters.
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2019
I was certain that I can’t allow ‘Tanker Raj’ to carry on in Gujarat: PM @narendramodi
Gujarat has witnessed a revolution in the health sector in the last many years. Hospitals with modern facilities are coming up across the state. This benefits the poor: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2019
In Ayushman Bharat, India is home to one of the biggest healthcare programmes in the world. The coming of this initiative ensures top quality and affordable healthcare for the poor: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2019
Having seen the hardships we face due to water shortage, it becomes our responsibility to conserve every drop of water. This benefits our present and future generations: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2019
The PM Kisan Samman Nidhi will bring substantive benefits for India’s farmers. It is a long term and comprehensive effort for farmer welfare: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2019
India needs structural and long term measures to overcome the challenges we face. The time for poorly thought out short term measures is over: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2019
When Atal Ji was the Prime Minister, a separate ministry for tribal communities was created.
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2019
The present NDA Government has created a new ministry for the fisheries sector: PM @narendramodi
The Central Government’s efforts for the MSME sector will help many youngsters. Dreams of youngsters will not remain unfulfilled due to shortage of credit. We also made GST simple and people-friendly.
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2019
These and other steps have ensured improved ‘Ease of Business’ rankings: PM
The entire nation agrees that the menace of terror has to be eliminated: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2019
It is natural that we all should believe the armed forces and be proud of the forces.
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2019
Yet, I don’t understand why some people still want to question the forces: PM @narendramodi
People from all walks of life joined the public meeting at Jamnagar.
— Narendra Modi (@narendramodi) March 4, 2019
Spoke about Gujarat's outstanding growth trajectory. Also highlighted the importance of water conservation and discussed the important steps taken by the NDA Government for farmer welfare. pic.twitter.com/Jlt4OkfmcY
The Guru Gobind Singh Hospital is a state-of-the-art centre that will improve healthcare infrastructure in Jamnagar and surrounding areas. Glad to have inaugurated it today. pic.twitter.com/k2MpKdqPoD
— Narendra Modi (@narendramodi) March 4, 2019