পিএমইন্ডিয়া
I প্রস্তাবনা
1. আমরা অর্থাৎ, ব্রাজিল যুক্তরাষ্ট্রীয় সাধারণতন্ত্র, রাশিয়া ফেডারেশন, ভারত সাধারণতন্ত্র, গণপ্রজাতন্ত্রী চিন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সাধারণতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধানরা দশম ব্রিক্স শীর্ষ বৈঠক উপলক্ষে ২৫ থেকে ২৭ জুলাই, ২০১৮ মিলিত হয়েছিলাম জোহানেসবার্গে। ব্রিক্স-এর ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসাবে দশম ব্রিক্স শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে “আফ্রিকায় ব্রিক্স : চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতি এবং মিলিত সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সহযোগিতা” – এই থিম বা বিষয়বস্তুকে অবলম্বন করে।
2. নেলসন ম্যান্ডেলার জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা এই বৈঠকে মিলিত হয়েছি। তাঁর নীতি, মূল্যবোধ এবং মানবতার সেবায় নিষ্ঠাকে স্বীকার করে নেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং সমগ্র বিশ্বে শান্তির সংস্কৃতির প্রসারে তাঁর অবদানের কথাও স্বীকার করি।
3. প্রযুক্তিচালিত শিল্পায়ন ও অগ্রগতির প্রেক্ষিতে উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তি এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধির ওপর জোহানেসবার্গ শীর্ষ বৈঠকে বিশেষ গুরুত্বদানের জন্য আমরা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রশংসা করি।
4. শান্তি, সম্প্রীতিএবং মিলিত প্রচেষ্টায় উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ১০ বছর ধরে ব্রিক্স সহযোগিতার একটি বলিষ্ঠ মঞ্চ হিসাবেই ব্রিক্স-এর সাফল্যে আমরা অর্থাৎ, রাষ্ট্রপ্রধানরা সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি, আমাদের লক্ষ্যগুলিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পন্থাপদ্ধতির ওপর আলোচনা করেছি।
5. পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে সমতা, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং বলিষ্ঠ সহযোগিতার নীতিগুলির প্রতি আমাদের অঙ্গীকারও পুনরুচ্চারিত হয়েছে। পরবর্তী ব্রিক্স শীর্ষ বৈঠকগুলির দিকে লক্ষ্য রেখে শান্তির প্রসার, এক উন্নততর বিশ্ব শৃঙ্খলা, নিরন্তর বিকাশ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতির মাধ্যমে জনসাধারণের কল্যাণে আমাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রসারের জন্যও আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছি। আমরা অঙ্গীকার গ্রহণ করেছি, অর্থনীতি, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং জনসাধারণের মধ্যে বিনিময় কর্মসূচির ক্ষেত্রে ত্রিস্তম্ভ-চালিত সহযোগিতা প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করে তোলার।
6. স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ এক বিশ্ব গড়ে তোলার কাজে আমরা পুনর্অঙ্গীকার গ্রহণ করেছি। রাষ্ট্রসঙ্ঘের কেন্দ্রীয় ভূমিকাকে আমরা সমর্থন জানাই। আমরা সমর্থন জানাই রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদে উল্লেখিত উদ্দেশ্য ও নীতিগুলিকে। একইভাবে আমরা শ্রদ্ধাশীল আন্তর্জাতিক আইন, গণতন্ত্রের বিকাশ প্রচেষ্টা এবং আইনের শাসনের প্রতি। বহু রাষ্ট্রীয়তাবাদের চিন্তাভাবনার প্রসারে আমাদের অঙ্গীকারকে আরও বলিষ্ঠ করে তোলার কথাও আমরা ঘোষণা করেছি। আগামী ২০৩০-এর জন্য নিরন্তর উন্নয়নের লক্ষ্যগুলির বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করে যাওয়ার বিষয়েও আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছি। কারণ, আরও বেশি মাত্রায় প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক সমতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত ন্যায় ও সততা-ভিত্তিক এক আন্তর্জাতিক, রাজনৈতিক তথা অর্থনৈতিক শৃঙ্খলাকে আমরা উৎসাহিত করে যাব।
7. আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বহু রাষ্ট্রীয়তাবাদ ও আইনের শাসনকে আরও জোরদার করে তুলতে এবং ন্যায়, সততা ও সমতার ভিত্তিতে এক গণতান্ত্রিক তথা প্রতিনিধিত্বমূলক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার বিকাশের লক্ষ্যেও আমাদের সঙ্কল্পের কথা আমরা আরও একবার ঘোষণা করেছি।
8. রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদে উল্লেখিত নীতি ও উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক বিষয়গুলিতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের কেন্দ্রীয় ভূমিকা এবং বহু রাষ্ট্রীয়তাবাদের সমর্থনে আমাদের অঙ্গীকারের কথাও পুনরুচ্চারিত হয়েছে। ন্যায়, সততা ও সমতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এক বিশ্ব শৃঙ্খলার বিষয়টিকে তুলে ধরার কাজেও আমরা সঙ্কল্পবদ্ধ। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক আইন, গণতন্ত্রের প্রকাশ ও বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আইনের শাসনের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। বহুদিন ধরে ঘটে চলা সাধারণ এবং অন্য ধরণের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় আমরা সঙ্কল্পবদ্ধ হয়েছি।
9. ব্রিক্স-আফ্রিকা কর্মসূচি এবং উদ্ভূত বিপণন ব্যবস্থা তথা উন্নয়নশীল দেশগুলির সঙ্গে দ্বিতীয় ব্রিক্স প্লাস সহযোগিতা প্রচেষ্টার উদ্যোগকে জোহানেসবার্গ শীর্ষ বৈঠকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি।
10. ইতিমধ্যেই অনুষ্ঠিত মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকগুলির ফলাফলে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করেছি। ২০১৮-তে ব্রিক্স-এর বর্ষব্যাপী অন্যান্য কর্মসূচির আওতায় যে বৈঠকগুলি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, তার ফলাফলের দিকেও আমরা গভীর আগ্রহের সঙ্গে তাকিয়ে রয়েছি।
II বলিষ্ঠ বহু রাষ্ট্রীয়তাবাদ, বিশ্ব প্রশাসন ও পরিচালন ব্যবস্থার সংস্কার এবং সাধারণ চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলার লক্ষ্যে
11. আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা, বিশ্বের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং মানবাধিকারের বিকাশ ও সুরক্ষার লক্ষ্যে এক অভিন্ন বহু রাষ্ট্রীয় সংগঠন হিসাবে গঠিত রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের কথাও দৃঢ়তার সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করেছি।
12. রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদে উল্লেখিত নীতি ও উদ্দেশ্যগুলির প্রতি আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। একটি অভিন্ন আন্তঃরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসাবে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা, নিরন্তর উন্নয়নের বিকাশ ও অগ্রগতি এবং মানবাধিকার তথা মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কাজে রাষ্ট্রসঙ্ঘের ভূমিকা ও দায়িত্বকে আমরা সমর্থন জানাই।
13. আন্তর্জাতিক বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলি যাতে বিশ্বের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারে সেজন্য ঐ ধরণের প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও শক্তিশালী করে তোলার কাজেও আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।
14. এক প্রসারিত বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সমর্থনে আঞ্চলিক পর্যায়ে গৃহীত উদ্যোগগুলির অন্তর্নিহিত শক্তিকে আমরা স্বীকার করে নিয়েছি।
15. রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদে উল্লেখিত সার্বিক ও মিলিত নিরাপত্তা প্রচেষ্টার কেন্দ্রীয় ভূমিকার প্রতিও আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদকে একটি মূল ভিত্তি ধরে আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্বকেও আমরা স্বীকার করে নিয়েছি। এই ধরণের ব্যবস্থা এক বহুপক্ষীয় শৃঙ্খলায় সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতার বাতাবরণকে আরও জোরদার করে তোলে। রাষ্ট্রসঙ্ঘে বিশেষত, শান্তি ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয়গুলিতে আফ্রিকার দেশগুলির উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কাজটি বহুদিন ধরেই বাকি থেকে গেছে। কিন্তু তার বাস্তবায়ন যে একান্ত জরুরি একথাও আমরা স্বীকার করি।
16. আন্তর্জাতিক সমস্যাগুলির মোকাবিলায় প্রয়োজন সহযোগিতা-ভিত্তিক প্রচেষ্টার। মানবজাতির পারস্পরিক স্বার্থে ন্যায়, সততা ও প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে বহুপক্ষীয় এক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা গড়ে তোলার কাজেও আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এই ব্যবস্থায় শক্তির সদম্ভ প্রয়োগ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করার বিষয়টি তুলে ধরার পাশাপাশি রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদ বহির্ভূত একতরফাভাবে কোন কিছু জোর করে চাপিয়ে দেওয়ারও বিরোধিতা করে যাব। কারণ, শান্তি ও নিরাপত্তার অদৃশ্য ভাবমূর্তির ওপর আমরা জোর দিয়েছি এবং কোন দেশই যাতে অন্য কোন দেশের নিরাপত্তার বিনিময়ে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে জোরদার করে তুলতে তৎপর না হয়, তা নিশ্চিত করার ওপরও আমরা জোর দিয়েছি।
17. ২০০৫-এর বিশ্ব শীর্ষ বৈঠকের ফলাফল সম্বলিত দলিলটির কথা স্মরণ করে নিরাপত্তা পরিষদ সহ সমগ্র রাষ্ট্রসঙ্ঘের সুসংবদ্ধ সংস্কারের বিষয়ে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। কারণ, এই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানটিকে আরও দক্ষ, কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বমূলক করে তুলতে আমরা আগ্রহী। সেইসঙ্গে, আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলার উপযোগী করে এই প্রতিষ্ঠানটিকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিকাশশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্বের মাত্রাও বাড়িয়ে তুলতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আন্তর্জাতিক বিষয়গুলিতে ব্রাজিল, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার ভূমিকা ও মর্যাদার ওপর বিশেষ গুরুত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে চিন ও রাশিয়া। রাষ্ট্রসঙ্ঘে এক বৃহত্তর ভূমিকা পালনের উদ্দেশ্যে এই তিনটি দেশের আশা-আকাঙ্ক্ষাকেও চিন ও রাশিয়া সমর্থন জানিয়েছে।
18. নির্দিষ্ট কর্মসূচিগুলির দক্ষ ও সফল বাস্তবায়নে রাষ্ট্রসঙ্ঘকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর আমরা গুরুত্ব আরোপ করেছি। বাজেট ও প্রশাসনের ক্ষেত্রে উন্নততর সহায়সম্পদের মাধ্যমে সংস্কার পরবর্তী রাষ্ট্রসঙ্ঘে ব্রিক্স সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সহযোগিতার মাত্রা প্রসারের উদ্যোগকে আমরা উৎসাহিত করতে আগ্রহী। অন্যদিকে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের সদস্য রাষ্ট্র-কেন্দ্রিক প্রকৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানটিকে আরও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও বলিষ্ঠ করে তোলার লক্ষ্যে আমরা সহযোগিতা প্রচেষ্টার পক্ষপাতী।
19. বহুপক্ষীয় মিশনগুলির আওতায় নিয়মিত বিনিময় কর্মসূচি সহ স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ব্রিক্স সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে নিরন্তর সহযোগিতার প্রচেষ্টাকে আমরা সমর্থন করি।
20. আগামী ২০৩০ সালের জন্য নিরন্তর উন্নয়নের কর্মসূচি তথা নিরন্তর উন্নয়নের লক্ষ্যপূরণে আমাদের অঙ্গীকারের কথাও পুনরুচ্চারিত হয়েছে। সমতার ভিত্তিতে এক মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সার্বিকভাবে উদ্ভাবন প্রচেষ্টাচালিত উন্নয়নমূলক কাজকর্মের বাস্তবায়নই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। এই বিশেষ কর্মসূচির তিনটি বিশেষ মাত্রা রয়েছে তা হল, যথাযথ ভারসাম্য বজায় রেখে সুসংবদ্ধভাবে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশ সংক্রান্ত লক্ষ্যমাত্রাগুলির সফল ও সার্থক রূপায়ণ। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্যকে নির্মূল করার কাজে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নিরন্তর উন্নয়নের লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের এক রাজনৈতিক মঞ্চ সহ রাষ্ট্রসঙ্ঘের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে সমর্থন জানাতেও আমরা কৃতসঙ্কল্প। ২০৩০ সালের কার্যসূচি অনুসরণ করে রাষ্ট্রসঙ্ঘের উন্নয়ন পদ্ধতির সংস্কারে আমরা আগ্রহী। কারণ, এর মাধ্যমে ২০৩০ সালের জন্য ধার্য লক্ষ্য পূরণে সদস্য রাষ্ট্রগুলির দক্ষতা ও ক্ষমতা তাতে বৃদ্ধি পাবে। সরকারিভাবে উন্নয়ন সহায়তার লক্ষ্যে গৃহীত সঙ্কল্পগুলির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার জন্য আমরা আর্জি জানাব উন্নত দেশগুলির কাছে। সঠিক সময়ে তাদের প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার যথাযথভাবে পালিত হয় এবং বিকাশশীল দেশগুলিতে উন্নয়নের প্রয়োজনে অতিরিক্ত সহায়সম্পদের যোগানে তারা যাতে আগ্রহী হয়, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই বিশেষ উদ্যোগ।
21. জলবায়ু পরিবর্তনের প্রশ্নে প্যারিস চুক্তির আওতায় কর্মসূচি চূড়ান্ত করার বিষয়ে এ পর্যন্ত যা অগ্রগতি হয়েছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। এ বছরের ডিসেম্বর মাসে পোল্যান্ডের কাটোয়াইস-এ অনুষ্ঠেয় ২৪তম কনফারেন্স অফ দ্য পার্টিজ-এর জন্য রাষ্ট্রসঙ্ঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত সম্মেলনের চুক্তি ও সমঝোতাগুলির কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে গঠনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণে আমরা আগ্রহী। জলবায়ু পরিবর্তনের মতো একটি সমস্যার মোকাবিলায় বিকাশশীল দেশগুলিকে সাহায্য করার লক্ষ্যে আর্থিক, প্রযুক্তিগত এবং দক্ষতা বৃদ্ধি সম্পর্কিত সহায়তা যোগানের জন্য আমরা আর্জি জানাই উন্নত দেশগুলির কাছে।
22. শক্তি ও জ্বালানি ক্ষেত্রে বিশেষত, বিশ্বের নিরন্তর উন্নয়ন কার্যসূচির সমর্থক ও সহায়ক পরিবেশ-বান্ধব এক ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ব্রিক্স সহযোগিতাকে আরও জোরদার করে তুলতে আমরা সঙ্কল্পবদ্ধ। এই প্রচেষ্টায় সুষম অর্থনৈতিক বিকাশ এবং নাগরিক সমাজের আর্থ-সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করা যাবে। বিশ্বের সবক’টি দেশই যাতে সুলভ জ্বালানির নাগাল পেতে পারে সেজন্য জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণের মাত্রা হ্রাসের জন্যও আমরা কাজ করে যাব। জ্বালানির প্রাথমিক উৎসগুলি সকলের জন্য সুলভ করে তুলতে ব্রিক্স সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সহযোগিতা প্রচেষ্টাকে আরও নিবিড় করে তুলতেও আমরা আগ্রহী। এজন্য জ্বালানি যোগানের বিভিন্ন উৎস, শক্তি ও জ্বালানি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ, শক্তিকে সুলভ করে তোলার মতো পরিকাঠামো গঠন এবং বিপণন ব্যবস্থার প্রসারে প্রয়োজনে বৈচিত্র্যকরণের পথও আমরা অনুসরণ করব। পরিবহণ এবং শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহার্য জ্বালানি শক্তির সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও আমরা স্বীকার করি।
23. জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা, কার্বন নির্গমনের মাত্রা হ্রাস, অর্থনৈতিক অগ্রগিত, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে দক্ষ জ্বালানি শক্তির ব্যবহারের গুরুত্বের কথা আমরা স্বীকার করে নিয়েছি। একইসঙ্গে, জীবনশৈলী গড়ে তোলার কাজে সুলভ ও ব্যয়সাশ্রয়ী জ্বালানির যে এক বিশেষ ভূমিকা রয়েছে সে সম্পর্কেও আমরা পূর্ণ মাত্রায় সচেতন।
24. ব্রিক্স সদস্য রাষ্ট্রগুলির শক্তি ও জ্বালানি দপ্তরের মন্ত্রীরা ব্রিক্স-এর আওতায় জ্বালানি গবেষণা ক্ষেত্রে সহযোগিতার মঞ্চ গড়ে তোলার বিষয়ে সহমত জ্ঞাপন করেছেন। এই লক্ষ্যে শর্তাবলীকে আরও উন্নত করতে এবং আলাপ-আলোচনার কাজ আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সপক্ষে তাঁরা বক্তব্য রেখেছেন। তাঁদের এই ভূমিকাকেও আমরা স্বীকৃতি জানিয়েছি।
25. ২০১৬-তে ভারতের উদ্যোগে ব্রিক্স-এর আওতায় যে কৃষি গবেষণা মঞ্চ (এআরপি) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, তাকেও আমরা সমর্থন জানাই। গবেষণা, উন্নয়ন এবং উদ্ভাবন প্রচেষ্টার মৌলিক গুরুত্বকেও আমরা স্বীকার করি। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে প্রতিযোগিতামুখী করে তোলার কাজে এই ধরণের উদ্যোগ এক বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। ব্রিক্স রাষ্ট্রগুলির মধ্যে কৃষি গবেষণা সহযোগিতার নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করে তুলতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে সমষ্টিগতভাবে এক কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কাজেও আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। কৃষি গবেষণা মঞ্চের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে পরবর্তী পদক্ষেপগুলির গুরুত্বকেও আমরা অনুধাবন করি। কৃষি গবেষণা মঞ্চ এবং প্রাথমিক কৃষি তথ্য বিনিময় কর্মসূচি ব্যবস্থার নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে থেকে ব্রিক্স সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সহযোগিতার মাত্রাকে আরও উন্নত করে তুলতেও আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
26. নিরন্তর উদ্ভাবন প্রচেষ্টা ও ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষিতে এবং অর্থনীতির ক্রমবিকাশের লক্ষ্যে ব্রিক্স রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করে তোলার বিষয়টিকে অবলম্বন করে অনুষ্ঠিত চতুর্থ পরিবেশ মন্ত্রীদের বৈঠকের ফলাফলকেও আমরা সাধুবাদ জানিয়েছি। আমরা মনে করি যে এই ধরণের অর্থনীতি বর্জ্যের মাত্রা হ্রাসের পাশাপাশি আমাদের অর্থনীতিকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলতে পারে। পরিবেশ-বান্ধব প্রক্রিয়া ও পদ্ধতির মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রেও তা এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।
27. পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তি মঞ্চ, দূষণমুক্ত নদী বিকাশ কর্মসূচি এবং শহরাঞ্চলের পরিবেশকে উন্নত করে তুলতে ব্রিক্স পরিবেশ মন্ত্রীদের বৈঠকগুলির ফলাফলকেও আমরা স্বাগত জানিয়েছি। একইসঙ্গে, ব্রিক্স-এর আওতায় পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তির লক্ষ্যে সহযোগিতা মঞ্চ গড়ে তোলার উদ্যোগকেও আমরা স্বীকৃতি জানিয়েছি। বিভিন্ন বিজ্ঞান সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজ, বেসরকারি ক্ষেত্র এবং অর্থনৈতিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে সামিল করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এই বিশেষ মঞ্চটিতে।
28. নিরন্তর উন্নয়নের লক্ষ্যে জলের মতো একটি অত্যাবশ্যকীয় ক্ষেত্রে সহযোগিতার মাত্রা বৃদ্ধিতে যে অঙ্গীকার গ্রহণ করা হয়েছে, তাকেও আমরা স্বাগত জানাই। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, খরার মোকাবিলা, জলের যোগান ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, জল ও পরিবেশ, জল দূষণ রোধ ও নিয়ন্ত্রণ, নদী ও হ্রদের স্বাভাবিক পরিবেশ ও প্রকৃতির পুনরুদ্ধার, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলসম্পদের ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলির ক্ষেত্রে আমাদের প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে আরও সুসংবদ্ধভাবে।
29. বিপর্যয় মোকাবিলা সম্পর্কিত ব্রিক্স বৈঠকে গৃহীত কার্যসূচিকেও আমরা সমর্থন জানাই। ২০১৮-২০ সময়কালের জন্য গৃহীত এই কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করবে।
30. জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, সকলের জৈব সহায়সম্পদের নিরন্তর ব্যবহার তথা জীব বৈচিত্র্য সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও মঞ্চগুলিতে ব্রিক্স সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সহযোগিতাকে বাড়িয়ে তুলতে আমাদের সদিচ্ছার বিষয়টিও আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছি।
31. ব্রিক্স সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সামুদ্রিক অর্থনীতির প্রসারের যে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে তা স্বীকার করার পাশাপাশি, এক্ষেত্রে সমন্বয় ও সহযোগিতারও এক বিশাল ক্ষেত্র উন্মুক্ত রয়েছে সে কথাও আমরা জানি। নৌ-পরিবহণ, জাহাজ নির্মাণ, তেল আহরণ ও অনুসন্ধান, মৎস্যচাষ, বন্দর উন্নয়ন, গবেষণা ও প্রযুক্তি, সামুদ্রিক সম্পদের সংরক্ষণ ও নিরন্তর ব্যবহার, সমুদ্র ও উপকূল অঞ্চলে পর্যটনের প্রসার, আর্থিক ও বিমা পরিষেবা এবং উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও ব্রিক্স রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সহযোগিতা প্রসারের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
32. জনসংখ্যা সম্পর্কিত বিষয়ে ২০১৫-২০২০ সময়কালের জন্য ব্রিক্স সহযোগিতা কর্মসূচির রূপায়ণ নিরন্তর করে তোলার প্রতিও আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০১৪ সালে জনসংখ্যা সম্পর্কিত বিষয়গুলির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্রিক্স মন্ত্রীদের সর্বসম্মতিক্রমেই গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই কাজকে আমরা আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। কারণ, ব্রিক্স রাষ্ট্রগুলিতে জনসংখ্যার বয়ঃকাঠামোর ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন দেখা দিয়েছে, বিশেষত লিঙ্গ সমতা, নারীর অধিকার, যুব উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, নগরায়ন প্রচেষ্টা, দেশান্তর ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে সমস্ত চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলির মোকাবিলা এবং সেইসঙ্গে উপস্থিত সুযোগ-সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।
33. ব্রিক্স রাষ্ট্রগুলি সহ বিশ্বের অন্যত্র যেভাবে জঙ্গি হামলার ঘটনা এখনও অব্যাহত রয়েছে, তা এক বিশেষ উদ্বেগের বিষয়। সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যে পক্ষই যুক্ত থাকুক না কেন, যে কোন ধরণের সন্ত্রাস এবং তার বহিঃপ্রকাশকে আমরা কঠোর ভাষায় নিন্দা জানাই। রাষ্ট্রসঙ্ঘের কার্যসূচির আওতায় এবং এক আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট সকলের কাছেই আর্জি জানাই। আমরা মনে করি যে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এক সুসংবদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা একান্ত জরুরি। জঙ্গি সংস্থাগুলিকে অর্থ সহায়তার মাধ্যমে মদতদান কিংবা নিজেদের ভূ-খণ্ডকে সন্ত্রাসবাদীদের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আস্তানা হিসাবে ব্যবহার করতে দেওয়ার বিরুদ্ধে সবক’টি রাষ্ট্রকেই তাদের দায়িত্বশীলতার কথা আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।
34. আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সন্ত্রাস বিরোধী মঞ্চ গড়ে তোলার জন্য এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের কেন্দ্রীয় ভূমিকাকে এ বিষয়ে সহায়তা করার জন্য বিশ্বের সবক’টি দেশকে আমরা আহ্বান জানাই। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদের ওপর ভিত্তি করে এবং আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক শরণার্থী ও মানবতাবাদী আইন তথা মানবাধিকার এবং মৌলিক স্বাধীনতা অনুসারে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণার আমরা পক্ষপাতী। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সন্ত্রাস বিরোধী কাঠামোকে আরও কার্যকর করে তুলতেও আমাদের অঙ্গীকারের কথা আমরা পুনরুচ্চারণ করেছি। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস বিষয়ে সুসংবদ্ধ সিদ্ধান্ত দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপরও আমরা জোর দিয়েছি।
35. রাসায়নিক এবং জৈব অস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদীরা যে তৎপরতা দেখিয়ে চলেছে, তার মোকাবিলায় নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলন সহ এক আন্তর্জাতিক মঞ্চে বহুপক্ষীয় আলোচনা ও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আমরা পক্ষপাতী।
36. আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালানো এবং সেই জন্য সংগঠিত প্রচেষ্টা তথা সন্ত্রাসবাদী তৎপরতাকে সমর্থন জানানোর জন্য যারা প্রকৃত দায়ী, তাদের সকলকেই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিৎ। তাই, সন্ত্রাসের মোকাবিলায় একটি সুসংবদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের জন্য সবক’টি রাষ্ট্রের কাছেই আমরা আবেদন জানাই। উগ্রপন্থা রোধ ও দমন, সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা চালানোর জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া, বিদেশী জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাসবাদীদের মদত দেওয়ার সমস্ত রকম উৎস বন্ধ করে দেওয়া ইত্যাদির ক্ষেত্রে আমাদের আরও বেশি মাত্রায় তৎপর হয়ে ওঠার প্রয়োজন রয়েছে। সন্ত্রাসবাদী অন্যান্য কার্যকলাপের মধ্যে রয়েছে – আর্থিক তছরূপ, অস্ত্রের যোগান, মাদক পাচার ইত্যাদি। সন্ত্রাসবাদীদের ঘাঁটিগুলি উপড়ে ফেলে এবং জঙ্গিপনার উদ্দেশ্যে ইন্টারনেটের অপব্যবহার বন্ধ করতেও আমাদের উদ্যোগী হওয়া উচিৎ। সন্ত্রাসবাদীরা যাতে আধুনিকতম তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির আশ্রয় গ্রহণ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করারও প্রয়োজন রয়েছে।
37. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রসঙ্ঘের আওতায় যে সমস্ত আইন এবং রীতিনীতি রয়েছে, তা সবিস্তারে ব্যাখ্যারও বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে বলে আমরা মনে করি।
38. তথ্য ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিশেষত, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে যে সমস্ত নতুন নতুন সুযোগ-সুবিধার প্রসার ঘটেছে, আমরা তাকে সাদরে গ্রহণ করতে আগ্রহী। তবে, এক্ষেত্রে অগ্রগতির পাশাপাশি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ ও হুমকির আমরা সম্মুখীন হয়েছি। অপরাধের কাজে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় তথা অন্যভাবে এই প্রযুক্তির অসদুদ্দেশ্যে ব্যবহারের আশঙ্কা যে অমূলক নয়, তাও প্রমাণিত হয়েছে। এই প্রসঙ্গে সন্ত্রাসবাদী এবং তাদের অপরাধের কাজে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রসারের ওপর আমরা গুরুত্ব আরোপ করেছি। রাষ্ট্রসঙ্ঘের অধীনে এজন্য একটি অভিন্ন নিয়ন্ত্রণ বিধি রচির হওয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্রিক্স-এর কর্মসূচি অনুযায়ী ব্যবহারিক সহযোগিতা প্রসারে আমরা পক্ষপাতী। এজন্য প্রয়োজনে ব্রিক্স সদস্য রাষ্ট্রগুলি আন্তঃসরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে কাজ করে যাবে।
III বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে ব্রিক্স সহযোগিতাকে আরও জোরদার ও সুসংবদ্ধ করে তোলার লক্ষ্যে
39. রাজনৈতিক তথা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে কোনরকমের বিরোধ ও নিষ্পত্তির শান্তিপূর্ণ মীমাংসার লক্ষ্যে সমষ্টিগত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমদের অঙ্গীকারের পুনরুচ্চারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের কেন্দ্রীয় ভূমিকার কথাও আমরা স্বীকার করি।
40. মধ্যপ্রাচ্যে দ্বন্দ্ব, সংঘাত এবং উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। এই ধরণের সংঘাতের পরিবেশে বেআইনিভাবে বাইরের কোন রাষ্ট্রের বল প্রয়োগ বা হস্তক্ষেপেরও আমরা বিরোধী। কারণ, আমরা মনে করি যে সংগঠিতভাবে জাতীয় পর্যায়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এবং সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভূ-খণ্ডের ওপর অধিকারের বিষয়টির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলাপ-আলোচনার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া উচিৎ। কারণ আমরা মনে করি যে এই দেশগুলির প্রত্যেকটিতে সেখানকার নাগরিকদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার রয়েছে রাজনৈতিক, অসামরিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অধিকারের সুযোগ গ্রহণ ও ভোগ করার। মৌলিক স্বাধীনতার বিষয়টিও এর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত। বর্তমানে, ইজরায়েল-প্যালেস্তিনীয় পরিবেশ ও পরিস্থিতির ক্ষেত্রে একথা বিশেষভাবে প্রযোজ্য।
41. আমরা মনে করি যে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন স্থানে দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের পরিস্থিতির জন্য ইজরায়েল-প্যালেস্তিনীয় দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের মতো বহুদিনের একটি সমস্যার সমাধান প্রচেষ্টায় বিলম্ব কোনভাবেই বাঞ্ছনীয় নয়। ইজরালেয়-প্যালেস্তাইন সমস্যার একটি স্থায়ী ও ন্যায়সঙ্গত সমাধানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে আবার নতুন করে উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। কারণ, এর সূত্র ধরে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জন করা সম্ভব। ইজরায়েল এবং প্যালেস্তাইনের মধ্যে আলাপ-আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে জেরুজালেমের স্থান ও মর্যাদা যে একটি বিশেষ ও চূড়ান্ত মর্যাদার প্রশ্ন সে প্রশ্নেও আমাদের বক্তব্যের কথা আমরা পুনরায় দৃঢ়তার সঙ্গেই ব্যক্ত করেছি। গাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবের প্রতি আমাদের সমর্থনের কথা আমরা পুনরুচ্চারণ করেছি। প্যালেস্তিনীয় জনসাধারণের সুরক্ষার স্বার্থে তা বিশেষভাবে জরুরি।
42. অদূর প্রাচ্যভূমিতে প্যালেস্তিনীয় শরণার্থীদের জন্য রাষ্ট্রসঙ্ঘের ত্রাণ ও কর্মপ্রচেষ্টার প্রতি আমরা অকুন্ঠ সমর্থন জানিয়েছি। ৫০ লক্ষ ৩০ হাজার প্যালেস্তিনীয় শরণার্থীদের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অন্যান্য প্রাথমিক পরিষেবা যোগানের লক্ষ্যে রাষ্ট্রসঙ্ঘের কর্মপ্রচেষ্টার আমরা ভূয়সী প্রশংসা করি।
43. ইয়েমেন সাধারণতন্ত্রে বর্তমানে যে দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে সেখানে মানবতার সঙ্কট দেখা দেওয়ায় আমরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। তাই, ইয়েমেনের প্রত্যেকটি প্রান্তে মানবতাবাদী সহায়তা অব্যাহতভাবে পৌঁছে দেওয়ার আমরা পক্ষপাতী। এজন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় সাহায্য ও সহযোগিতা প্রসারের জন্য আমরা আর্জি জানাই আন্তর্জাতিক মানবগোষ্ঠীর কাছে। আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা, শত্রুতার অবসান এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের ছত্রছায়ায় শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সকল পক্ষকেই আমরা আহ্বান জানাই। সংঘাত ও সংঘর্ষের রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে ইয়েমেনের নেতৃত্বে অন্তর্ভুক্তিমূলক আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আমরা পক্ষপাতী।
44. উপসাগরীয় অঞ্চলে বর্তমানের কূটনৈতিক সঙ্কটের সঙ্গে সরাসরিভাবে যুক্ত সকল পক্ষের কাছে আমরা আবেদন জানাই যে মতভেদ দূরে সরিয়ে রেখে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কুয়েতের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানানোর জন্য।
45. আফগানিস্তানের নেতৃত্বে এবং আফগানিস্তানীদের নিজেদের জন্য জাতীয় শান্তি ও সমন্বয় প্রক্রিয়ার প্রচেষ্টাকে আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে সমর্থন জানাই। আফগানিস্তানের পরিস্থিতির ক্ষেত্রে যে অবনতি দেখা দিয়েছে, বিশেষত সেখানকার জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনী এবং অসামরিক পর্যায়ের সরকারি কর্মীদের ওপর সন্ত্রাসবাদী হামলা ও আক্রমণের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে আফগানিস্তানের সরকার ও জনসাধারণের সঙ্গে সর্বোতভাবে সহযোগিতা করার জন্য আন্তর্জাতিক সকল পক্ষের কাছে আমরা আবেদন জানাই। ঐ দেশে ২০১৮-র অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় সংসদীয় নির্বাচন এবং ২০১৯-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের নির্ঘন্টকে আমরা স্বাগত ও সমর্থন জানাই।
46. সিরিয়ায় সংঘর্ষের রাজনৈতিক সমাধান প্রচেষ্টার প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের কথা আমরা পুনরুচ্চারণ করেছি। সিরিয়ার নেতৃত্বে এবং সিরিয়ার নিজের জন্য এক অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এর মীমাংসা হওয়া প্রয়োজন। এই প্রচেষ্টা সিরিয়ার স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভূ-খণ্ডের অভিন্নতাকে সুরক্ষিত রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস। রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২০১৫ সালে গৃহীত ২,২৫৪ নং প্রস্তাবটি অনুসারে এবং সোচিতে সিরিয়ার জাতীয় আলোচনা বৈঠকের ফলাফলের প্রেক্ষিতে এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া উচিৎ বলে আমরা মনে করি। জেনেভা প্রক্রিয়া এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের পক্ষে মধ্যস্থতার প্রতিও আমাদের সমর্থন রয়েছে। সেইসঙ্গে, আস্তানা প্রক্রিয়ার ওপরও আমাদের আস্থা অটুট। সিরিয়া সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রচেষ্টায় আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এ বিষয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদ এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার আমরা ঘোরতর বিরোধী। সিরিয়ায় জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সংঘবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন ও গুরুত্বের কথাও আমরা তুলে ধরেছি। যে কোন উদ্দেশ্যেই হোক না কেন, রাসায়নিক অস্ত্রের প্রয়োগ ও ব্যবহারের আমরা ঘোরতর বিরোধিতা করেছি। জরুরি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া প্রয়োজনে সিরিয়ার জনসাধারণের প্রতি মানবতাবাদী সাহায্য ও সহায়তা প্রসারের লক্ষ্যে সকলের প্রচেষ্টাকে আরও নিবিড় করে তোলার জন্য আমরা আহ্বান জানাই।
47. ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে যৌথ সুসংবদ্ধ কার্যসূচির কথা স্মরণ করে সকল পক্ষের কাছে আমরা আবেদন জানাই যে তাদের বাধ্যবাধকতা সম্পূর্ণভাবে স্বীকার করে নিয়ে এই কার্যসূচির সফল রূপায়ণ নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক তথা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি ও নিরাপত্তার বাতাবরণকে আরও জোরদার করে তোলার সপক্ষে।
48. উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘটনাকে আমরা স্বাগত জানাই। উদ্ভূত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ এবং কূটনৈতিক তথা রাজনৈতিক সমাধান প্রচেষ্টার প্রতি আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।
49. বহির্মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা ও সম্ভাবনার প্রশ্নে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এইভাবে বহির্মহাকাশকে সামরিক লড়াইয়ের একটি ক্ষেত্র হিসাবে দখল করার চেষ্টায় আমরা বিশেষভাবে শঙ্কিত। বহির্মহাকাশে অস্ত্র নিক্ষেপ সহ যে কোন ধরণের অস্ত্র প্রতিযোগিতা যে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক, তা কারোরই অজানা নয়। তাই, এই ধরণের প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে আমরা সর্বোতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে, শান্তির উদ্দেশ্যে বহির্মহাকাশ ব্যবহারের প্রশ্নে বর্তমানের আইনি ব্যবস্থা ও কাঠামোকে অনুসরণ করার পক্ষে আমরা আমদের বক্তব্য পেশ করেছি। বহির্মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করার লক্ষ্যে সরকারি পর্যায়ে যে বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। এই ধরণের অস্ত্র প্রতিযোগিতা রোধে ব্যবহারিক স্বচ্ছতা এবং আত্মবিশ্বাস গঠনের প্রক্রিয়া যে বিশেষভাবে সহায়ক হয়ে উঠবে তা আমরা মনে করি। নিরস্ত্রীকরণ সম্পর্কিত সম্মেলনকে আমরা একটি বহুপক্ষীয় নিরস্ত্রীকরণ আলোচনার মঞ্চ বলে মনে করি। বহির্মহাকাশে যে কোন ধরণের অস্ত্র প্রতিযোগিতা রোধে এই মঞ্চটির যে প্রাথমিক ভূমিকা রয়েছে সেকথাও আমরা স্বীকার করি।
50. এ বছর ৪ঠা জুন প্রিটোরিয়ায় ব্রিক্স বিদেশ তথা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রীদের বৈঠক আয়োজনের লক্ষ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। রাজনীতি, নিরাপত্তা এবং অর্থনীতি ক্ষেত্রে সাধারণ উদ্বেগের বিষয়গুলি সম্পর্কে ঐ বৈঠকে আলোচনা ও মতবিনিময় করা হয়। এই প্রসঙ্গে ব্রিক্স সহযোগিতাকে কিভাবে আরও জোরদার করে তোলা যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় করেন বিদেশ তথা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রীরা। রাষ্ট্রসঙ্ঘের ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনের পাশাপাশি ব্রিক্স বিদেশ তথা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রীদের আসন্ন বৈঠকের ফলাফলের জন্য আমরা আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছি।
51. ডারবানে এ বছরের ২৮ ও ২৯ জুন ব্রিক্স-এর নিরাপত্তা বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি পর্যায়ের অষ্টম বৈঠকের আয়োজনকে স্বাগত জানিয়ে ব্রিক্স-এর আলাপ-আলোচনাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগের আমরা প্রশংসা করেছি। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাজনিত পরিবেশ ও পরিস্থিতি; সন্ত্রাস রোধ; তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ সুরক্ষা; আঞ্চলিক তথা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; আন্তঃরাষ্ট্র অপরাধমূলক কাজকর্ম ও তার প্রতিরোধ; শান্তি রক্ষা তথা উন্নয়নের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে আলোচনা ও মতবিনিময় স্থান পায় ওই দু’দিনের বৈঠকে।
52. আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তি রক্ষা প্রচেষ্টার ওপর আমরা বিশেষভাবে জোর দিয়েছি। সেইসঙ্গে, এই বিষয়টিতে ব্রিক্স সদস্য রাষ্ট্রগুলির ভূমিকা ও অবদানের কথাও আলোচনা করেছি। রাষ্ট্রসঙ্ঘে শান্তি রক্ষা সম্পর্কিত বিষয়গুলিতে ব্রিক্স রাষ্ট্রগুলির পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতার মাত্রা আরও বাড়ানো উচিৎ বলে আমরা মনে করি। এই বিশেষ ক্ষেত্রটিতে শান্তি রক্ষার কাজে একটি ব্রিক্স কর্মীগোষ্ঠী গড়ে তোলার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তাও ছিল আমাদের আলোচ্যসূচির মধ্যে।
53. আফ্রিকায় সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনাকে প্রশমিত করার লক্ষ্যে আফ্রিকা ইউনিয়নের প্রচেষ্টারও আমরা প্রশংসা করেছি। সেইসঙ্গে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং আফ্রিকা ইউনিয়নের শান্তি ও নিরাপত্তা পরিষদের মধ্যে সহযোগিতাকে আরও নিবিড় করে তোলার বিষয়টিকেও স্বাগত জানিয়েছি। আগামী ২০২০ সালের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ করার জন্য আফ্রিকা ইউনিয়ন যে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে তার সপ্রশংস উল্লেখের পাশাপাশি আফ্রিকার শান্তি ও নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগেরও আমরা প্রশংসা করি।
IVবিশ্ব অর্থনীতির পুনরুজ্জাগরণ প্রচেষ্টা, অর্থ ও অর্থনীতি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রশাসন ও পরিচালন প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রে ব্রিক্স অংশীদারিত্ব
54. বিশ্ব অর্থনীতি যেভাবে উত্তরোত্তর উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে তাকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। কিন্তু সেইসঙ্গে একথাও আমরা চিন্তা করেছি যে এই অগ্রগতির ক্ষেত্রে এখনও সমন্বয়ের যথেষ্ট অভাব রয়েছে এবং পরিস্থিতির আবার পশ্চাদমুখী হওয়ার ঝুঁকিও কম নেই। ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক সংঘাত; ভূ-রাজনৈতিক বিভিন্ন ঝুঁকি; পণ্যমূল্যের ক্ষেত্রে ওঠা-নামা; সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে বেশ ভালোরকম ঋণের মাত্রা; সমতা রক্ষার অভাব এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন প্রচেষ্টায় ঘাটতির মতো বিষয়গুলি প্রতিফলিত হয়েছে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের আকারে। উন্নয়ন সূত্রে প্রাপ্ত যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা যাতে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক উপায়ে বন্টন নিশ্চিত করা যায়, তার বিশেষ গুরুত্বের কথা আমরা স্বীকার করি। বিশ্ব বাণিজ্যের নিরন্তর অগ্রগতির জন্য এক অনুকূল বৈদেশিক পরিবেশ সৃষ্টিও যে একান্ত জরুরি, সেকথাও আমরা যুক্তিসঙ্গতভাবেই মনে করি।
55. বিশ্ব অর্থনীতির ক্রমপ্রসার এবং এ সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গিকে ব্রিক্স অর্থনীতি বরাবরই সমর্থন জানিয়ে এসেছে। এক বলিষ্ঠ, নিরন্তর, সুষম এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের স্বার্থে অর্থ ও অর্থনীতি তথা কাঠামো সংক্রান্ত নীতির নিরন্তর বাস্তবায়নের সপক্ষে আমরা মত প্রকাশ করেছি। কয়েকটি উন্নত অর্থনীতির দেশে বৃহদায়তন অর্থনীতির অপপ্রয়োগের ঘটনায় আমরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। কারণ, অর্থ এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে। জি-২০, এফএসবি এবং অন্যান্য মঞ্চে নীতিগত বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা আহ্বান জানাই উন্নত এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলিকে।
56. চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ওপর জোহানেসবার্গ বৈঠকের ফলাফল এবং ব্রিক্স বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি তথা শিল্প মন্ত্রীদের বৈঠকের প্রতিবেদন স্মরণ করে নতুন শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রে ব্রিক্স অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রচেষ্টাকে আমরা প্রশংসা জানাই। এর বাস্তবায়নে ব্রিক্স শিল্প মন্ত্রীদের নিয়ে একটি উপদেষ্টা গোষ্ঠীও গঠন করা হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলি সম্পর্কে শর্তাবলী এবং কার্যপরিকল্পনা গড়ে তোলার ওপর প্রথমেই নজর দেওয়া হবে। ডিজিটাল পদ্ধতির প্রয়োগ ও ব্যবহার, শিল্পায়ন প্রচেষ্টা, উদ্ভাবন, অন্তর্ভুক্তি ও বিনিয়োগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্রিক্স সহযোগিতাকে আরও বাড়িয়ে তোলাই এর লক্ষ্য। সেইসঙ্গে, অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে উৎসাহদান, ব্রিক্স রাষ্ট্রগুলির অর্থনৈতিক রূপান্তরে সাহায্য করা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করাও হবে এই গোষ্ঠীর অন্যতম কাজ। শিল্পোৎপাদন ক্ষমতাকে আরও নিরন্তর ও জোরদার করে তোলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নতুন নতুন নেটওয়ার্ক গঠনে উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং প্রযুক্তি-নির্ভর ক্ষেত্রগুলিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগগুলিকে সমর্থন জানানোও কর্মীগোষ্ঠীর কার্যসূচির মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং বাণিজ্য ক্ষেত্রে বিশেষ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার এই উদ্যোগকে কাঙ্খিত লক্ষ্যের দিকে এক সম্ভাবনাপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই আমরা মনে করি।
57. সমাজ, অর্থনীতি এবং সংস্কৃতির বিকাশ প্রচেষ্টায় ইন্টারনেটের যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে, সেকথা আমরা স্বীকার করি। তথ্য, যোগাযোগ এবং প্রযুক্তির মুক্ত অথচ সুরক্ষিত ও শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের লক্ষ্যে বর্তমান কাঠামোর মধ্যেই কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার গ্রহণের পাশাপাশি ইন্টারনেটের প্রয়োগ ও ব্যবহার যাতে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়িত হয় তা নিশ্চিত করাও আমাদের লক্ষ্য। ইন্টারনেটের উদ্ভাবন ও কাজকর্মের ক্ষেত্রে সবক’টি রাষ্ট্রের সহযোগিতামূলক অংশগ্রহণের আমরা পক্ষপাতী। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষেরই নিজের নিজের দায়িত্ব ও ভূমিকা পালনের প্রয়োজনীয়তার ওপর আমরা গুরুত্ব আরোপ করেছি।
58. নিরন্তর উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতির লক্ষ্যে ব্রিক্স রাষ্ট্রগুলির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত তথা উদ্ভাবন ও শিল্পোদ্যোগ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্বের বিষয়টি আমরা স্বীকার করে নিয়েছি। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন ক্ষেত্রে ব্রিক্স সহযোগিতার প্রসার ও বিকাশ প্রচেষ্টাকেও আমরা স্বাগত জানাই। এই বিশেষ ক্ষেত্রটিতে আমাদের যৌথ প্রচেষ্টার অগ্রগতির ঘটনাকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে আমরা মনে করি। ব্রিক্স সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন সম্ভাবনাকে উৎসাহ দিতে ব্রিক্স-এর আওতায় বিজ্ঞান বিষয়ক প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে আমরা উৎসাহ প্রকাশ করেছি। কারণ, আমরা মনে করি যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় আমাদের এই প্রচেষ্টা যথেষ্ট অবদানের স্বাক্ষর রাখতে পারবে।
59. ব্রিক্স সহযোগিতা ব্রিক্স আইপিআর সহযোগিতা প্রচেষ্টার অগ্রগতির বিষয়টিকে আমরা সাধুবাদ জানিয়েছি। উন্নয়নশীল দেশগুলি সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রযুক্তির বিকাশ ও হস্তান্তরের গুরুত্বও আমরা স্বীকার করি। কারণ আমরা মনে করি যে দীর্ঘমেয়াদি এবং সুষম এক নিরন্তর উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় তার যথেষ্ট অবদান রয়েছে। এই প্রসঙ্গে মেধাসম্পদ অধিকার সম্পর্কিত সহযোগিতার বাতাবরণকে আরও দৃঢ় করে তোলার ওপর আমরা জোর দিয়েছি। সমাজের সার্বিক কল্যাণে এই ধরণের সহযোগিতা উদ্ভাবন প্রচেষ্টার পাশাপাশি নতুন নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগ ও ব্যবহারকেও উৎসাহিত করবে।
60. প্রযুক্তি ও বাণিজ্যকে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসশক্তি বলে আমাদের বিশ্বাস। অর্থনৈতিক সংহতি এবং বিশ্ব মূল্য শৃঙ্খলকে সুসংবদ্ধ করে তোলার প্রচেষ্টার ক্ষেত্রেও তা এক তাৎপর্যময় ভূমিকা পালন করে। পণ্য উৎপাদন, পরিষেবার প্রসার এবং সাধারণ মানুষের আয় ও উপার্জন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির এক বিশেষ প্রভাব রয়েছে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুযোগ-সুবিধাগুলি যাতে বিকাশশীল দেশগুলির কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যে যথোপযুক্ত নীতি গ্রহণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থারও সংস্থান থাকা উচিৎ। প্রযুক্তি উদ্ভাবনের প্রথম অবস্থাতেই বিকাশশীল দেশগুলি যাতে তার সুযোগ গ্রহণ করতে পারে, তা নিশ্চিত করা উচিৎ। ডিজিটাল ব্যবস্থার ক্ষেত্রে যে ফাঁক ও ঘাটতি রয়ে গেছে তা পূরণ করতে কার্যকর নীতি গ্রহণ করা বিশেষভাবে জরুরি। নতুন নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানুষ যাতে তা সহজেই গ্রহণ করতে পারে তার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের পন্থাপদ্ধতি স্থির করার বিষয়টিকেও নিশ্চিত করতে হবে।
61. জ্ঞান ও প্রযুক্তিচালিত বিশ্ব অর্থনীতি এবং বহু কর্মীর চিরাচরিত দক্ষতা ও কর্মক্ষমতার মধ্যে যে পার্থক্য ও তারতম্য রয়েছে তা পূরণ করতে দক্ষতা বিকাশের বিষয়টিকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা মনে করি। যে গতি, মাত্রা এবং বৃত্তের মধ্য দিয়ে বর্তমান যুগে অর্থনৈতিক রূপান্তর প্রচেষ্টা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তাতে সমগ্র বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে এক বিশেষ চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বৃত্তিগত প্রশিক্ষণ, আজীবন শিক্ষা ও জ্ঞান আহরণ তথা প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে জি-২০-র উদ্যোগ ও সুপারিশকে আমরা সমর্থন জানানোর পাশাপাশি প্রস্তাবিত নীতিগত বিষয়গুলির বাস্তব রূপায়ণের ওপর আমরা জোর দিয়েছি।
62. নিয়মনীতি-ভিত্তিক, স্বচ্ছ, উদার এবং বৈষম্যহীন এক অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। বিশ্ব বাণিজ্য সংগঠনের (ডব্ল্যুটিও) খসড়াতেও এর উল্লেখ রয়েছে। এই ব্যবস্থায় সহজেই অনুমেয় এক বাণিজ্যিক পরিবেশ এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংগঠনের মূল ভূমিকা বিশেষভাবে সুপরিস্ফুট। উন্নয়নের পরিধি ও মাত্রার গুরুত্ব বিশেষভাবে স্থান পায় এই প্রচেষ্টায় যা বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করে তুলতে সাহায্য করে।
63. বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা যে বর্তমানে এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, সেকথা আমাদের অজানা নয়। এক মুক্ত বিশ্ব অর্থনীতির গুরুত্বকে তুলে ধরতে আমরা আগ্রহী। কারণ, এই ব্যবস্থায় বিশ্বায়নের সুফলগুলি ভোগ করার সুযোগ পাবে বিশ্বের সবক’টি দেশ ও সেখানকার জনসাধারণ। এই ধরণের উদার বিশ্ব অর্থনীতি নিরন্তর উন্নয়ন প্রক্রিয়া এবং বিশ্বের সবক’টি দেশের সমৃদ্ধি প্রচেষ্টাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার চেষ্টা করবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংগঠনের নিয়মনীতিকে অনুসরণ করার জন্য সংগঠনের সদস্য রাষ্ট্রগুলিকে আমরা আহ্বান জানাই। এক বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় তাদের অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতিগুলি যাতে যথাযথভাবে পালিত হয়, সেদিকে যত্নবান হওয়ার জন্যও আমরা তাদের কাছে আর্জি জানাই।
64. বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বিশ্ব বাণিজ্য সংগঠনের বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা যে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে, সেকথা আমরা স্বীকার করি। আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা সুরক্ষা ও নিরাপত্তার প্রসার ঘটায়। এই বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা যাতে কোনভাবেই অচল বা নিষ্ক্রিয় করে তোলা না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল সদস্য রাষ্ট্রকে আমরা গঠনমূলকভাবে এবং অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে আহ্বান জানাই।
65. বিশ্ব বাণিজ্য সংগঠনের আলাপ-আলোচনার প্রক্রিয়াকে নিরন্তর করে তোলার প্রয়োজনীয়তা আমরা স্বীকার করি। তাই, বিশ্ব বাণিজ্য সংগঠনের আওতায় বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার বর্তমান আইনি কাঠামোটিকে আরও উন্নত করে তোলারও আমরা পক্ষপাতি। বিশ্ব বাণিজ্য সংগঠনের সমস্ত সদস্য রাষ্ট্রের স্বার্থের কথা চিন্তা করে বিশেষত, উন্নয়নশীল দেশগুলির চিন্তাভাবনার শরিক হয়ে এই আইনি কাঠামোর প্রসার ও উন্নয়নকে আমরা সমর্থন জানাই।
66. আফ্রিকায় পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সংযোগ ও যোগাযোগের প্রসারের গুরুত্বকে আমরা স্বীকার করি। আফ্রিকার উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন অংশীদারিত্ব (নেপ্যাড) এবং আফ্রিকায় পরিকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচি (পিডা)-এর মাধ্যমে ঐ মহাদেশের পরিকাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আফ্রিকা ইউনিয়ন, তার গুরুত্বকেও আমরা সমর্থন জানাই। পারস্পরিক কল্যাণের স্বার্থে পরিকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রচেষ্টাকেও উৎসাহিত করতে আমরা আগ্রহী। কারণ, আফ্রিকার শিল্পোন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, দক্ষতা বিকাশ, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং নিরন্তর উন্নয়ন প্রক্রিয়ার কাজকে তা আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
67. আফ্রিকার শিল্পায়ন প্রচেষ্টা এবং আগামী ২০৬৩ সাল পর্যন্ত আফ্রিকা ইউনিয়নের উন্নয়ন কর্মসূচি সম্পর্কে আমরা সম্পূর্ণভাবে সচেতন রয়েছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আফ্রিকা মহাদেশ মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (এএফসিএফটিএ) স্বাক্ষরের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আফ্রিকা ইউনিয়ন এবং মহাদেশের অন্যান্য দেশগুলি, আমরা তার প্রশংসা করি। কারণ, ঐ মহাদেশের অর্থনৈতিক সংহতিসাধন এবং আন্তঃআফ্রিকা বাণিজ্যের প্রভূত সম্ভাবনার সদ্ব্যবহারের পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলা করতেও তা বিশেষভাবে সাহায্য করবে। এই প্রসঙ্গে ২০৬৩ সালের লক্ষ্যে গৃহীত কর্মসূচির প্রতি আমাদের সমর্থনের কথা পুনরুচ্চারণের পাশাপাশি, মহাদেশের উন্নয়ন ও সংহতি প্রচেষ্টার প্রক্রিয়াকেও আমরা সমর্থন জানাই।
68. আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের (আইএমএফ) আওতায় পর্যাপ্ত সহায়সম্পদপূর্ণ একটি বলিষ্ঠ বিশ্ব আর্থিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার বিষয়টিকে সমর্থন জানাই। এই লক্ষ্যে আইএমএফ-এর কোটা সম্পর্কিত পঞ্চদশ সাধারণ পর্যালোচনার কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য আমাদের অঙ্গীকারের কথাও পুনরুচ্চারণ করেছি। একটি নতুন কোটা ফর্মুলা অনুযায়ী, দরিদ্রতম দেশগুলির স্বার্থরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের উচিৎ তার দরিদ্রতম দেশগুলির প্রতিনিধিত্বের মাত্রা বৃদ্ধি করা এবং আফ্রিকা সহ বিভিন্ন দরিদ্রতম রাষ্ট্রগুলির বক্তব্যকে বিশেষভাবে প্রাধান্য দেওয়া।
69. আন্তর্জাতিক অর্থ এবং অর্থ সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি পদে নিযুক্ত হওয়ার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার শীর্ষ ব্যাঙ্কের গভর্নর লেসেটজা কাগানিয়াগো-কে আমরা স্বাগত ও অভিনন্দন জানাই।
70. ব্রিক্স কন্টিনজেন্ট রিজার্ভ অ্যারেঞ্জমেন্ট, অর্থাৎ সিআরএ-কে আরও শক্তিশালী করে তোলার লক্ষ্যে যে সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, সে সম্পর্কে আমরা অবহিত। এই সংস্থাটি যাতে যে কোন মুহূর্তে প্রয়োজনের তাগিদে প্রস্তুত থাকতে পারে সেজন্য যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তাও আমাদের অজানা নয়। সিআরএ ব্যবস্থাপনার পরীক্ষামূলক কাজ ও পরীক্ষানিরীক্ষা সম্পূর্ণ হওয়ার ঘটনাকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। সিআরএ এবং আইএমএফ-এর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রসারের বিষয়টিকেও আমরা উৎসাহ জানিয়ে যাব।
71. ব্রিক্স লোকাল কারেন্সি বন্ড ফান্ড গঠনের কাজে এ পর্যন্ত যে অগ্রগতি হয়েছে তা আমরা বিশেষ সন্তোষের সঙ্গেই লক্ষ্য করেছি। এখন এটি পুরোপুরিভাবে চালু হওয়ার জন্য আমরা অপেক্ষায় রয়েছি।
72. বন্ড ইস্যু করার ক্ষেত্রে এবং এই বিষয়টিতে সহযোগিতা প্রসারের লক্ষ্যে ব্রিক্স রাষ্ট্রগুলির হিসাব-নিকাশ এবং সেই হিসাব পরীক্ষার গুণগত মানের সমন্বয়ের লক্ষ্যে সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা আগ্রহী।
73. ডিজিটাল অর্থনীতির ক্রমবিকাশের পরিপ্রেক্ষিতে সহযোগিতামূলক গবেষণা এবং লেজার ও ব্লক চেন প্রযুক্তির বন্টন সম্পর্কিত মউ স্বাক্ষরের ঘটনাকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা বিশ্বাস করি যে এই উদ্যোগ এক নতুন ইন্টারনেট অর্থনীতি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও জোরদার করে তুলবে।
74. নিরন্তর অর্থনৈতিক বিকাশ ও অগ্রগতির মূল স্তম্ভ হল পরিকাঠামো, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা। উৎপাদনশীলতার প্রসার এবং সংহতিকে আরও জোরদার করে তোলাও এই লক্ষ্যে বিশেষ জরুরি। এক নিবিড় অর্থনৈতিক সম্পর্কের বাতাবরণ গড়ে তোলার জন্য পরিকাঠামো প্রসারের গুরুত্ব এবং নিবিড় অর্থনৈতিক সম্পর্কের সমন্বয়ের তাৎপর্যকে একান্ত জরুরি বলে মনে করি।
75. বহুক্ষেত্রীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (এমডিবি) বিশেষত, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (এনডিবি)-এর ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা মনে করি। সরকারি পরিকাঠামো ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারি লগ্নির বিষয়ে এক অনুঘটকের ভূমিকা পালন করে চলেছে এই ব্যাঙ্কগুলি।
76. ব্রিক্স সদস্য রাষ্ট্রগুলির আর্থ-সামাজিক তথা পরিবেশগত সম্ভাবনার প্রসারে সহায়সম্পদ যোগানের ক্ষেত্রে এনডিবি যেভাবে কাজ করে চলেছে, তাতে আমরা বিশেষভাবে সন্তুষ্ট। প্রকল্প প্রস্তুতি তহবিল (পিপিএফ) যে অনতিবিলম্বেই চালু হয়ে যাবে এই প্রত্যাশা আমাদের রয়েছে। ব্রাজিলের সাও পাওলোয় আমেরিকার আঞ্চলিক দপ্তর খোলার উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। এই দপ্তরটি আফ্রিকা আঞ্চলিক কেন্দ্রের মতোই ঐ সমস্ত দেশে এনডিবি-র উপস্থিতিকে সুনিশ্চিত করে তুলতে সাহায্য করবে বলে আমাদের বিশ্বাস। চিনের সাংহাই-এ ২৮ ও ২৯ মে অনুষ্ঠিত আইএডিএফ-এর তৃতীয় বার্ষিক বৈঠকে পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে এনডিবি-র ভবিষ্যৎ বিকাশ প্রচেষ্টার ওপর আলোকপাত করা হয়। এই বিষয়টিও আমরা বিশেষ আগ্রহের সঙ্গেই লক্ষ্য করেছি।
77. প্রকৃত ও বাস্তব অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করে তুলতে এবং ব্রিক্স রাষ্ট্রগুলির উন্নয়ন সম্পর্কিত চাহিদা পূরণে ব্রিক্স আর্থিক সহযোগিতা প্রসারের গুরুত্বের ওপর আমরা বিশেষভাবে জোর দিয়েছি। এই বিষয়টিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির নেটওয়ার্ককে আরও জোরদার করে তোলার মাধ্যমে আর্থিক বাজার ও বিপণন ব্যবস্থাকে সংহত করে তোলার প্রতি আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলির বর্তমান নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং ডব্ল্যুটিও-র বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করেই এই কাজে এগিয়ে যাওয়ার আমরা পক্ষপাতী। কারণ, আমরা মনে করি যে আর্থিক ক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির মধ্যে আরও বেশি মাত্রায় যোগাযোগ ও সহযোগিতার বাতাবরণ গড়ে তোলা উচিৎ। সবুজ অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেও আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, কারণ ব্রিক্স রাষ্ট্রগুলির নিরন্তর উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে আমরা উৎসাহদান করতে আগ্রহী।
78. বেআইনি আর্থিক লেনদেনের মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে সমর্থন জানাতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন্স টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ) এবং ওয়ার্ল্ড কাস্টম্স অর্গানাইজেশন (ডব্ল্যুসিও)-র আওতায় এই সহযোগিতা প্রসারের কাজ আরও এগিয়ে যেতে পারে। প্রসঙ্গত, পারস্পরিক বিনিময় কর্মসূচি এবং তথ্য ও পরিসংখ্যান বিনিময়ের কাজকে আরও বাড়িয়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাকেও আমরা স্বীকার করি। তহবিল তছরূপ এবং সন্ত্রাসবাদীদের আর্থিক মদত যোগানোর মোকাবিলার ক্ষেত্রেও আমাদের সহযোগিতাকে আরও জোরদার করে তুলতে আমরা কৃতসঙ্কল্প।
79. বিশ্ব এখনও দুর্নীতিমুক্ত হতে পারেনি। ফলে, দুর্নীতির যা কিছু কুপ্রভাব রয়েছে, তা আজও সকলের সামনে একটি বিশেষ চ্যালেঞ্জ হিসাবে দাঁড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন রাষ্ট্রের আইন বা আইনগত ব্যবস্থাগুলিও এই চ্যালেঞ্জের মুখে একটি প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে এবং বিদেশ থেকে বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়গুলিকে নিরুৎসাহ যোগায় দুর্নীতির রমরমা। এর অবশ্যম্ভাবী ফল হিসেবে ব্যর্থ হয় অর্থনৈতিক বিকাশ তথা অগ্রগতি। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কনভেনশনের চতুর্থ অধ্যায়ে যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রচেষ্টার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, আমরা তার প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ। এই প্রেক্ষাপটে ব্রিক্স-এর দুর্নীতি বিরোধী সহযোগিতা সম্পর্কিত কর্মীগোষ্ঠীর আওতায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করে তোলার জন্য আমরা সঙ্কল্পবদ্ধ। সংশ্লিষ্ট দেশগুলির আইনগত ব্যবস্থার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে দুর্নীতি বিরোধী আইন বলবৎ করার লক্ষ্যে আমরা সহযোগিতা করে যাব। সেইসঙ্গে, যে সমস্ত পলাতক অপরাধী অন্য দেশে গিয়ে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে কিংবা যারা অর্থনৈতিক অপরাধী ও দুর্নীতিগ্রস্ত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে সহযোগিতাবদ্ধ হওয়ারও আমরা পক্ষপাতী। অর্থনৈতিক অপরাধী এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের কোনভাবে আশ্রয় না দেওয়ার জন্য আমরা অনুরোধ জানাব বিশ্বের সবক’টি দেশের কাছে। ব্রিক্স-এর আওতায় দুর্নীতি বিরোধী সহযোগিতার বাতাবরণকে আরও শক্তিশালী করে তোলার লক্ষ্যে পারস্পরিক সমঝোতা ও বোঝাপড়া একান্ত জরুরি। এই কারণে, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আমরা আহ্বান জানাব পারস্পরিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য। পূর্ববর্তী বছরগুলির মতো এই সহযোগিতা প্রচেষ্টার কাজ আমরা ভবিষ্যতেও চালিয়ে যাব। ২০১৮ বছরটিকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে মোকাবিলার বছর হিসেবে বেছে নেওয়ার জন্য আমরা সাধুবাদ জানাই আফ্রিকা ইউনিয়নকে।
80. ব্রিক্স অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে অষ্টম ব্রিক্স বাণিজ্য মন্ত্রীদের ইতিবাচক ফলাফলকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। অর্থনৈতিক তথা বাণিজ্যিক বিষয়গুলিতে ব্রিক্স যোগাযোগ গোষ্ঠীর কর্মপ্রচেষ্টার বিশেষ উল্লেখ রয়েছে বৈঠকের প্রতিবেদনে। অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা প্রসার সম্পর্কিত ব্রিক্স কার্যসূচির বাস্তবায়নে অগ্রগতির ঘটনাকেও আমরা স্বাগত জানিয়েছি। কৃষি ও শিল্প, বিশেষত ক্ষুদ্র, মাঝারি ও অতিক্ষুদ্র শিল্প সংস্থাগুলিতে মূল্য সংযোজনের লক্ষ্যে গৃহীত ব্যবস্থাকে উৎসাহ জানানোর পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণকে আমরা সমর্থন জানাই। ব্রিক্স সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে মূল্য সংযোজিত বাণিজ্য ব্যবস্থার গুরুত্বকে বিশেষ স্বীকৃতিদানের মাধ্যমে বাণিজ্য প্রসার সম্পর্কিত কর্মীগোষ্ঠী এবং ব্রিক্স-এর বৈদ্যুতিন বাণিজ্য বিষয়ক কর্মীগোষ্ঠীর কর্মপ্রচেষ্টাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আন্তঃব্রিক্স মূল্য সংযোজন বাণিজ্য প্রচেষ্টার প্রসারে ব্রিক্স-এর যৌথ বাণিজ্য সমীক্ষার পর্যালোচনার সূচনাকে আমরা স্বাগত জানাই। আইপিআর, বৈদ্যুতিন বাণিজ্য, পরিষেবা ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক প্রসার এবং বৈদ্যুতিন বাণিজ্য ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে অষ্টম ব্রিক্স বাণিজ্য মন্ত্রীদের বৈঠকের ফলাফলকেও আমরা স্বাগত জানাই।
81. আঞ্চলিক বিমান পরিবহণের ক্ষেত্রে ব্রিক্স-এর আওতায় মউ স্বাক্ষরের ঘটনাকেও আমরা স্বাগত জানিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি যে সংযোগ ও যোগাযোগ তথা পরিকাঠামো প্রসারের ক্ষেত্রে ব্রিক্স সহযোগিতাকে আরও জোরদার করে তোলার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকচিহ্ন হয়ে থাকবে।
82. ব্রিক্স-এর কাস্টম্স সহযোগিতার কৌশলগত কাঠামোর বাস্তবায়নে ব্রিক্স কাস্টম্স প্রশাসনের সহযোগিতা ও তার ফলাফলকে আমরা স্বাগত ও সাধুবাদ জানিয়েছি। এই সহযোগিতা প্রচেষ্টার যে দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্যগুলি রয়েছে, তারও আমরা সপ্রশংস উল্লেখ করেছি। ব্রিক্স-এর আওতায় কাস্টম্স সংক্রান্ত কাজকর্মে পারস্পরিক প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রসার চুক্তি সম্পাদন ও বাস্তবায়ন এই দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্যগুলির অন্যতম। আগামী ২০২২ সালের মধ্যে ব্রিক্স অনুমোদিত অর্থনৈতিক কর্মসূচি যাতে পুরোপুরিভাবে চালু করা যায়, সেই লক্ষ্যেই এই চুক্তিটি সম্পাদিত হয়েছে। আবার, ব্রিক্স-এর আওতায় কাস্টম্স সম্পর্কিত কার্যসূচিটিকেও আমরা স্বাগত জানিয়েছি। স্বল্প, মাঝারি এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্রিক্স কাস্টম্স প্রশাসন সমষ্টিগতভাবে যে সমস্ত কাজকর্মের সূচনা করবে, তা চিহ্নিত করে দিয়েছে এই কার্যসূচিটি। ব্রিক্স কাস্টম্স প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টিও এর অন্তর্গত। ব্রিক্স কাস্টম্স সহযোগিতা কমিটির সম্ভাবনার বিষয়টিকে স্বীকার করে নিয়ে আন্তঃব্রিক্স সহযোগিতা প্রসারের আমরা আহ্বান জানিয়েছি। বহুপাক্ষিক মঞ্চগুলিতে এবং বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধার প্রসার, আইন বলবৎকরণ এবং উন্নত তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ ও ব্যবহারের লক্ষ্যে আমরা আহ্বান জানাই সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে। ক্ষমতা তথা দক্ষতা বৃদ্ধিও এই প্রচেষ্টার অন্তর্ভুক্ত।
83. সংশ্লিষ্ট সবক’টি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ও কর্মসূচির মাধ্যমে যাতে বিশ্বে একটি স্বচ্ছ কর ব্যবস্থা রূপায়িত হয় তার লক্ষ্যে ব্রিক্স রাজস্ব কর্তৃপক্ষ নানাভাবে সাহায্য ও সমর্থন যুগিয়ে আসছে। এই বিষয়টিকে সমর্থন জানানোর পাশাপাশি, ডিজিটাল অর্থনীতির তাৎপর্যের বিষয়টি আরও ভালোভাবে তুলে ধরার জন্য আমাদের অঙ্গীকার যথাযথভাবে পালন করে যেতে আমরা চেষ্টা করে যাব। বিকাশশীল দেশগুলির প্রয়োজন-ভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধি প্রচেষ্টায় কর সংক্রান্ত তথ্যের বিনিময় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে গলদ বা ত্রুটি রোধ এবং লভ্যাংশের মাত্রা সংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য একটি আন্তর্জাতিক কর ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজটি সুনিশ্চিত করার জন্য আমরা কাজ করে যাব। ব্রিক্স রাজস্ব কর্তৃপক্ষগুলির মধ্যে দক্ষতা ও ক্ষমতা বৃদ্ধির উপযোগী একটি পদ্ধতিগত ব্যবস্থা উদ্ভাবনের বিষয়টিকেও আমরা স্বাগত জানাই।
84. পরিকাঠামো, নির্মাণ ও উৎপাদন, জ্বালানিশক্তি, কৃষিভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্য, আর্থিক পরিষেবা, আঞ্চলিক স্তরে বিমান পরিবহণ, কারিগরি মান নির্ধারণ এবং দক্ষতা বিকাশ প্রচেষ্টার প্রসারে ব্রিক্স বাণিজ্য পরিষদ ও তার পঞ্চম বার্ষিক প্রতিবেদন এবং ব্রিক্স বাণিজ্য মঞ্চের যে বিশেষ অবদান রয়েছে, তা আমরা স্বীকার করি। ব্রিক্স বাণিজ্য পরিষদের মূল কাঠামোর আওতায় ডিজিটাল অর্থনীতি সম্পর্কিত এক কর্মীগোষ্ঠী গড়ে তোলার উদ্যোগেরও আমরা প্রশংসা করি।
85. নিরন্তর অর্থনৈতিক তথা সামাজিক বিকাশের ক্ষেত্রে পর্যটনের গুরুত্ব ও সম্ভাবনা রয়েছে প্রচুর। এই বিষয়টিকে স্বীকার করে নিয়ে ব্রিক্স-এর আওতায় পর্যটন সংক্রান্ত একটি কর্মীগোষ্ঠী গঠনের উদ্যোগকেও আমরা সাধুবাদ জানাই। কারণ আমরা মনে করি যে এই উদ্যোগের পথ ধরে ব্রিক্স সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে আরও বেশি মাত্রায় সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক বিকাশ ও জনসাধারণের পারস্পরিক সম্পর্কের আরও প্রসার ঘটানো সম্ভব। বাণিজ্য পর্যটন, বিমান সংযোগ, পর্যটন পরিকাঠামো, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা পর্যটন, পর্যটন বিপণন, পর্যটন নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিমা, আর্থিক এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত ক্ষেত্রগুলিতে ব্রিক্স-এর পর্যটন কর্মীগোষ্ঠী জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং শ্রেষ্ঠ পন্থাপদ্ধতির হদিশ দিতে পারবে। আমরা বিশেষ সন্তোষের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি যে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা থাকা সত্ত্বেও আন্তঃব্রিক্স পর্যটন আরও প্রসার লাভ করেছে।
V. ব্রিক্স সদস্য রাষ্ট্রগুলির জনসাধারণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক
86. ব্রিক্স এবং তার কর্মসূচির মূল কেন্দ্রবিন্দু যে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলির জনসাধারণ, একথা আমরা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গেই স্বীকার করি। তাই ক্রীড়া, চলচ্চিত্র, সংস্কৃতি, শিক্ষা, পর্যটন এবং যুব সম্পর্কিত বিষয়গুলিতে অগ্রগতি ও বিনিময় কর্মসূচির ধারা নিরন্তর থাকায় আমরা এই প্রচেষ্টার প্রশংসা করি।
87. জন-কেন্দ্রিক বিকাশ প্রচেষ্টার দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন জানানোর জন্য আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কারণ আমরা মনে করি যে এর ফলে জীবনের সর্বস্তরের মানুষের অন্তর্ভুক্তি অবশ্যম্ভাবী।
88. ব্রাসিলিয়ায় অষ্টম আন্তর্জাতিক জল মঞ্চ গড়ে ওঠার ঘটনাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। কারণ, জলকে কেন্দ্র করে এই ধরণের একটি মঞ্চ ও তার বৈঠক এই প্রথম অনুষ্ঠিত হল। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জল যে একটি বিশেষ অগ্রাধিকারের বিষয় তা বিশেষ যুক্তির সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত করেছে এই মঞ্চ ও তার বৈঠকটি।
89. বহির্মহাকাশ ক্ষেত্রে ব্রিক্স রাষ্ট্রগুলির পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার ওপর আমরা গুরুত্ব আরোপ করেছি। এই বিশেষ ক্ষেত্রটিতে বর্তমানে যে উদ্যোগ ও কর্মপ্রচেষ্টা চালু রয়েছে তাকে আমরা নিশ্চিতভাবেই জোরদার করে তুলব।
90. ব্রিক্স সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে প্রতিষেধক টিকার ওপর গবেষণা ও তার উন্নয়ন প্রচেষ্টাগুলির মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলার জন্য আমরা আমাদের প্রচেষ্টাকে অব্যাহত রাখব। ব্রিক্স-এর আওতায় প্রতিষেধক টিকা সম্পর্কিত একটি গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবকেও আমরা স্বাগত জানাই।
91. নিরন্তর উন্নয়নের যুগে যক্ষ্মা নির্মূল করার লক্ষ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র উদ্যোগে মন্ত্রী পর্যায়ের প্রথম বিশ্ব সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত ও সাধুবাদ জানিয়েছি। মস্কোয় ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে যক্ষ্মা নির্মূল করার লক্ষ্যে মস্কো ঘোষণা স্বাক্ষরিত হয়। এই রোগটির নির্মূলকরণে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের আসন্ন প্রথম উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে এই ঘোষণাপত্রটিতে। অন্যদিকে, অসংক্রামক রোগ-ব্যাধি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের উদ্যোগে তৃতীয় উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ২০১৮-র সেপ্টেম্বরে।
92. চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের একটি অন্যতম চালিকাশক্তি হিসাবে সংস্কৃতির ভূমিকা ও গুরুত্বকে আমরা স্বীকার করে নিয়েছি। এর মাধ্যমে যে অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধার প্রসার ঘটেছে, তাও আমরা স্বীকার করি।
93. তৃতীয় ব্রিক্স চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি, এই বিশেষ ক্ষেত্রটিতে সহযোগিতাকে আরও গভীরে নিয়ে যাওয়ার সমর্থনে আমরা বক্তব্য রেখেছি। যৌথ উদ্যোগে চলচ্চিত্র প্রযোজনার লক্ষ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা ব্রিক্স চুক্তির একটি খসড়া তৈরির যে প্রস্তাব পেশ করেছে, তাকেও আমরা সমর্থন জানাই। কারণ আমরা মনে করি যে এই প্রযোজনার মাধ্যমে ব্রিক্স রাষ্ট্রগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে ব্রিক্স সংস্কৃতির বৈচিত্র্যও তুলে ধরা সম্ভব।
94. বিভিন্ন ব্রিক্স রাষ্ট্রের সরকারগুলির মধ্যে সংস্কৃতি ক্ষেত্রে সহযোগিতা চুক্তির (২০১৭-২১) বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট একটি কার্যসূচি পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে বলে আমরা মনে করি। এই সহযোগিতার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হল সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সহযোগিতাকে নিরন্তর করে তোলা। ব্রিক্স-এর সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞদের বর্তমান উদ্যোগ ও কর্মপ্রচেষ্টাগুলির কথাও আমরা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছি।
95. জোহানেসবার্গে ২০১৮ সালে প্রশাসন ও পরিচালন সম্পর্কিত দ্বিতীয় ব্রিক্স সেমিনার এবং আগামী ২০১৯-এ ব্রাজিলের উদ্যোগে যে এ সম্পর্কিত তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, তার গুরুত্বকেও আমরা স্বীকার করি। ব্রিক্স সদস্য রাষ্ট্রগুলির শিক্ষা ও চিন্তাভাবনার সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এই উদ্যোগকে সফল করে তোলার চেষ্টা চালানো হবে।
96. ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক কাউন্সিল’, ‘অ্যাকাডেমিক ফোরাম’, ‘সিভিল ব্রিক্স ফোরাম’, ‘দ্য ইয়ং ডিপ্লোম্যাট্স ফোরাম’, ‘দ্য ইয়ুথ সামিট’ এবং ‘দ্য ইয়ং সায়েন্টিস্টস ফোরাম’-এর মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলির জনসাধারণের মধ্যে সহযোগিতা প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করে তোলার যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, তাও আমরা প্রশংসার দৃষ্টিতে লক্ষ্য করেছি।
97. ব্রিক্স কর্মসূচির আওতায় বিদেশ সংক্রান্ত বিষয়ে মুখপাত্র নিয়োগের যে উদ্যোগ দক্ষিণ আফ্রিকা গ্রহণ করেছে, তার যুক্তি-যৌক্তিকতাকেও আমরা স্বীকার করি।
98. দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্যোগে তৃতীয় ব্রিক্স গেম্স-এর সফল উদ্যোগ-আয়োজনের ঘটনাকে আমরা স্বাগত জানাই। ব্রিক্স ক্রীড়া পরিষদ গঠনের কাজ যেভাবে এগিয়ে গেছে, তাও আমরা লক্ষ্য করেছি।
99. ব্রিক্স সংসদীয় সফর বিনিময় কর্মসূচির ওপর গুরুত্বদানের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্রিক্স-এর সফর বিনিময় কর্মসূচি আরও জোরদার হয়ে উঠবে বলে আমরা আশা করি। মহিলা সাংসদদের সফর বিনিময় কর্মসূচিও এর অন্তর্গত।
100. অন্তর্ভুক্তি বিকাশ প্রচেষ্টায় মহিলাদের ভূমিকা পালনের বিষয়টিকে আমরা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গেই তুলে ধরেছি। ব্রিক্স মহিলা মঞ্চ এবং ব্রিক্স-এর আওতায় মহিলাদের মধ্যে বাণিজ্যিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলি বিবেচনা করার কাজ যেভাবে শুরু হয়েছে তাও আমরা বিশেষ আগ্রহের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি।
101. দক্ষিণ আফ্রিকার ২০১৮ সালে ব্রিক্স-এর নেতৃত্বদানের ভূমিকার বিশেষ প্রশংসা করেছে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চিন। একইসঙ্গে এই দেশগুলি জোহানেসবার্গে দশম ব্রিক্স শীর্ষ বৈঠকের উদ্যোগ-আয়োজনের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার ও জনসাধারণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছে।
102. আগামী ২০১৯ সালে ব্রিক্স-কে নেতৃত্বদান করবে ব্রাজিল। এই কাজে ব্রাজিলকে সর্বতোভাবে সমর্থন ও সহযোগিতা করে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছে ভারত, রাশিয়া, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকা। একাদশ ব্রিক্স শীর্ষ বৈঠকের উদ্যোগ-আয়োজনেও এই দেশগুলি ব্রাজিলকে সহযোগিতা করে যাবে।
সংযোজন ১ : জোহানেসবার্গ কার্যপরিকল্পনা
দশম ব্রিক্স শীর্ষ বৈঠক – ২৫ থেকে ২৭ জুলাই (জোহানেসবার্গ)
জোহানেসবার্গ শীর্ষ বৈঠক পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ব্রিক্স-এর বৈঠকগুলির একটি তালিকা এখানে তুলে দেওয়া হল :
মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠক :
· ব্রিক্স উপ-অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক – ১৭ থেকে ২০ মার্চ (বুয়েনস আইরেস)
· ব্রিক্স অর্থমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নরদের বৈঠক – ১৮ থেকে ২০ এপ্রিল (ওয়াশিংটন ডিসি)
· ব্রিক্স উপ-অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক – ১৮-২০ এপ্রিল (ওয়াশিংটন ডিসি)
· ব্রিক্স পরিবেশ মন্ত্রীদের বৈঠক – ১৮ মে (ডারবান)
· ব্রিক্স বিদেশ / আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রীদের বৈঠক – ৪ জুন (প্রিটোরিয়া)
· ব্রিক্স রাষ্ট্রগুলির রাজস্ব কর্তৃপক্ষসমূহের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক – ১৮ থেকে ২১ জুন, ২০১৮ (জোহানেসবার্গ)
· ব্রিক্স কৃষি এবং কৃষি বিকাশ মন্ত্রীদের অষ্টম বৈঠক – ১৯ থেকে ২২ জুন (পুমালাঙ্গা)
· জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের অষ্টম বৈঠক – ২৮ ও ২৯ জুন, ২০১৮ (ডারবান)
· ব্রিক্স জ্বালানি মন্ত্রীদের বৈঠক – ২৮ ও ২৯ জুন (গাউটেং)
· ব্রিক্স বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের মন্ত্রীদের বৈঠক – ২৯ জুন থেকে ১লা জুলাই (ইস্ট লন্ডন)
· ব্রিক্স বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন মন্ত্রীদের ষষ্ঠ বৈঠক – ৩ জুলাই (ডারবান)
· ব্রিক্স শিল্পমন্ত্রীদের তৃতীয় বৈঠক – ৪ঠা জুলাই (গাউটেং)
· ব্রিক্স বাণিজ্য মন্ত্রীদের অষ্টম বৈঠক – ৫ জুলাই (মাগালিয়েসবার্গ)
· ব্রিক্স শিক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক – ১০ জুলাই (কেপটাউন)
· ব্রিক্স অর্থমন্ত্রী ও শীর্ষ ব্যাঙ্কের গভর্নদের বৈঠক – ১৯ থেকে ২২ জুলাই (আর্জেন্টিনা)
· ব্রিক্স স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের অষ্টম বৈঠক – ২০ জুলাই (ডারবান)
শীর্ষ পর্যায়ের আধিকারিক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক :
· ব্রিক্স শেরপা এবং সাউস-শেরপাদের বৈঠক – ৪ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি (কেপটাউন)
· ব্রিক্স-এর দুর্নীতি বিরোধী কর্মীগোষ্ঠীর প্রথম বৈঠক – ২৬ ফেব্রুয়ারি (বুয়েনস আইরেস, আর্জেন্টিনা)
· অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক বিষয়গুলির ক্ষেত্রে যোগাযোগ গোষ্ঠীর (সিজিইটিআই) সপ্তদশ বৈঠক – ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ (জোহানেসবার্গ)
· ব্রিক্স কার্যালয়গুলির আওতায় কারিগরি বিষয় সংক্রান্ত পরিসংখ্যান দপ্তরগুলির নবম বৈঠক – ১৩ থেকে ১৫ মার্চ (প্রিটোরিয়া)
· ব্রিক্স বন্ড ফান্ড (বিবিএফ) কর্মীগোষ্ঠীর বৈঠক – ১৭ থেকে ২০ মার্চ (বুয়েনস আইরেস)
· কাস্টম্স বিশেষজ্ঞদের বৈঠক – ১৬ থেকে ১৭ এপ্রিল (ডারবান)
· কাস্টম্স সহযোগিতা কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক – ১৮ থেকে ১৯ এপ্রিল (ডারবান)
· বিবিএফ কর্মীগোষ্ঠী এবং ব্রিক্স সিআরএ স্থায়ী কমিটির বৈঠক – ১৮ থেকে ২০ এপ্রিল (ওয়াশিংটন ডিসি)
· সন্ত্রাস বিরোধী কর্মীগোষ্ঠীর বৈঠক – ১৯ থেকে ২০ এপ্রিল (হোয়াইট রিভার, নেলসপ্রুইট)
· ব্রিক্স শেরপা / সাউস-শেরপাদের দ্বিতীয় বৈঠক – ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল (বেলাবেলা, লিমপোপো)
· শ্রম ও কর্মসংস্থান সম্পর্কিত কর্মীগোষ্ঠী (ইডব্ল্যুজি)-র প্রথম বৈঠক – ৭ থেকে ১০ মে (পুমালাঙ্গা)
· ব্রিক্স-এর মেধাসম্পদ অধিকার বিষয়ক সহযোগিতা কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক – ১০ মে (ইস্ট লন্ডন)
· ব্রিক্স ই-কমার্স কর্মীগোষ্ঠীর প্রথম বৈঠক – ১০ মে (ইস্ট লন্ডন)
· কারিগরি নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট মান ও তা অনুসরণ, মাপ ও পরিমাপ এবং অ্যাক্রিডিটেশন বিশেষজ্ঞদের বৈঠক – ১০ মে (ইস্ট লন্ডন)
· পরিসংখ্যান ক্ষেত্রে বাণিজ্যের ওপর কর্মশালা – ১০ মে (ইস্ট লন্ডন)
· সিজিইটিআই-এর অষ্টাদশ বৈঠক – ১১ থেকে ১২ মে (ইস্ট লন্ডন)
· ব্রিক্স-এর পরিবেশ সংক্রান্ত কর্মীগোষ্ঠীর বৈঠক – ১৪ থেকে ১৬ মে (প্রিটোরিয়া)
· আইসিটি কর্মীগোষ্ঠীর কাজকর্মের নিরাপত্তা সম্পর্কিত বৈঠক – ১৬ থেকে ১৭ মে (কেপটাউন)
· ব্রিক্স শীর্ষ আধিকারিকদের পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়গুলির ওপর বৈটক – ১৭ মে (ডারবান)
· ব্রিক্স-এর জ্বালানি সাশ্রয় এবং জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি সম্পর্কিত কর্মীগোষ্ঠীর বৈঠক – ১৭ থেকে ১৮ মে (কেপটাউন)
· ব্রিক্স থিঙ্ক ট্যাঙ্ক পরিষদের (বিটিটিসি) বৈঠক – ২৮ মে (পার্কটাউন)
· ব্রিক্স অ্যাকাডেমিক ফোরামের বৈঠক – ২৮ থেকে ৩১ মে (জোহানেসবার্গ)
· গুণগত মানের পরিকাঠামো সম্পর্কিত বিষয়গুলির ওপর বৈঠক – ১৬ মে (গাউটেং)
· বিশ্ব স্বাস্থ্য অধিবেশনের পরবর্তী সময়ে ব্রিক্স-এর স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বৈঠক – মে (জেনেভা, স্যুইজারল্যান্ড)
· ব্রিক্স শেরপা / সাউস-শেরপাদের তৃতীয় বৈঠক – ২ থেকে ৩ জুন (প্রিটোরিয়া)
· কর বিশেষজ্ঞদের বৈঠক – ১৮ থেকে ১৯ জুন (কেপটাউন)
· মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার শীর্ষ আধিকারিক / বিশেষজ্ঞদের চতুর্থ বৈঠক – ১৯ জুন (প্রিটোরিয়া)
· কৃষি সহযোগিতা সম্পর্কিত কর্মীগোষ্ঠীর অষ্টম বৈঠক – ২০ জুন (নেলসপ্রুইট)
· কৃষিক্ষেত্রে সফর – ২২ জুন
· সুশীল সমাজ সংগঠনের (সিএসও) বৈঠক – ২৫ থেকে ২৬ জুন (জোহানেসবার্গ)
· সিভিল ব্রিক্স – ২৫ থেকে ২৭ জুন (পার্কটাউন, জোহানেসবার্গ)
· কাস্টম্স সহযোগিতা সম্পর্কিত কমিটির তৃতীয় বৈঠক – ২৬ জুন (ব্রাসেল্স, বেলজিয়াম)
· ব্রিক্স দুর্নীতি বিরোধী কর্মীগোষ্ঠীর দ্বিতীয় বৈঠক – ২৬ জুন (প্যারিস, ফ্রান্স)
· চতুর্থ তরুণ কূটনীতিক ফোরামের বৈঠক – ২৫ থেকে ২৯ জুন (প্রিটোরিয়া)
· ব্রিক্স তরুণ বিজ্ঞানী মঞ্চের তৃতীয় বৈঠক – ২৫ থেকে ২৯ জুন (ডারবান, আইসিসি)
· ব্রিক্স-এর মৈত্রী নগরী এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে সরকারি সহযোগিতা ফোরামের বৈঠক – ২৮ থেকে ২৯ জুন (ইস্ট লন্ডন)
· চতুর্থ ব্রিক্স এসটিআই কর্মীগোষ্ঠীর (ফান্ডিং পার্টিজ) বৈঠক – ৩০ জুন (ডারবান)
· অষ্টম ব্রিক্স বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন (এসটিআই) সম্পর্কিত বৈঠক – ২ জুলাই (ডারবান)
· শিল্প বিশেষজ্ঞদের তৃতীয় বৈঠক – ৩ জুলাই (মাগালিয়েসবার্গ)
· প্রশাসন ও পরিচালন সম্পর্কিত দ্বিতীয় ব্রিক্স সেমিনার – ত থেকে ৪ জুলাই (জোহানেসবার্গ)
· অর্থনীতি ও বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে যোগাযোগ গোষ্ঠীর (সিজিইটিআই) ১৯তম বৈঠক – ২ থেকে ৪ জুলাই (গাউটেং)
· ব্রিক্স নেটওয়ার্ক ইউনিভার্সিটির সম্মেলন – ৫ থেকে ৭ জুলাই (স্টেলেনবস্ক)
· ব্রিক্স-এর শিক্ষা বিষয়ক শীর্ষ আধিকারিকদের বৈঠক – ৯ জুলাই (কেপটাউন)
· আইসিটিআই – পরিবহণ পরিকাঠামো সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন – ৯ থেকে ১০ জুলাই (প্রিটোরিয়া)
· চতুর্থ ব্রিক্স যুব বৈঠক – ১৬ থেকে ২১ জুলাই (ব্লুমফনটেন, ফ্রি স্টেট)
· তৃতীয় ব্রিক্স ক্রীড়া বৈঠক – ১৭ থেকে ২২ জুলাই (জোহানেসবার্গ)
· ব্রিক্স-এর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে শীর্ষ আধিকারিকদের বৈঠক – ১৮ থেকে ১৯ জুলাই (ডারবান)
· বিবিএফ কর্মীগোষ্ঠী এবং ব্রিক্স সিআরএ স্থায়ী কমিটির বৈঠক – ১৯ থেকে ২২ জুলাই (আর্জেন্টিনা)
· ব্রিক্স বাণিজ্য পরিষদের বার্ষিক বৈঠক – ২২ থেকে ২৩ জুলাই (ডারবান)
· তৃতীয় ব্রিক্স চলচ্চিত্র উৎসব, ২০১৮ – ২২ থেকে ২৮ জুলাই (ডারবান)
· চতুর্থ ব্রিক্স শেরপা / সাউস-শেরপা বৈঠক – ২০ থেকে ২৪ জুলাই (জোহানেসবার্গ)
· ব্রিক্স বাণিজ্য পরিষদের শক্তি ও জ্বালানি মঞ্চের বৈঠক – ২৪ জুলাই (জোহানেসবার্গ)
· ব্রিক্স বাণিজ্য মঞ্চের বৈঠক – ২৫ জুলাই (স্ট্যান্ডটন)
· ব্রিক্স আইসিএম চেয়ারম্যানদের বার্ষিক বৈঠক – ২৫ থেকে ২৬ জুলাই (কেপটাউন)
· ব্রিক্স আর্থিক মঞ্চের বৈঠক – ২৫ থেকে ২৬ জুলাই (কেপটাউন)
দক্ষিণ আফ্রিকার নেতৃত্বে ২০১৮ সালে যে বৈঠক এখনও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা
ব্রিক্স নেতৃবৃন্দের ইনফরম্যাল বৈঠক (বুয়েনস আইরেস, আর্জেন্টিনা)
মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক :
· ব্রিক্স মন্ত্রীদের নিয়ে গঠিত ক্রীড়া পরিষদের বৈঠক
· ব্রিক্স-এর শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রীদের (এলইএমএম) বৈঠক (ডারবান)
· ব্রিক্স-এর যোগাযোগ মন্ত্রীদের চতুর্থ বৈঠক (ডারবান)
· ব্রিক্স-এর বিদেশ / আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রীদের বৈঠক (নিউ ইয়র্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
· ব্রিক্স-এর অর্থমন্ত্রী এবং শীর্ষ ব্যাঙ্কের গভর্নরদের বৈঠক
· ব্রিক্স-এর পর্যটন ক্ষেত্রের শীর্ষ আধিকারিকদের বৈঠক (গাউটেং)
বিভিন্ন ক্ষেত্র এবং ক্ষেত্রগুলির সঙ্গে যুক্ত শীর্ষ আধিকারিকদের বৈঠক:
· শ্রম ও কর্মসংস্থান কর্মীগোষ্ঠীর (ইডব্ল্যুজি) দ্বিতীয় বৈঠক (ডারবান)
· ব্রিক্স টিবি রিসার্চ নেটওয়ার্ক (ডারবান)
· তৃতীয় ব্রিক্স প্রচারমাধ্যম মঞ্চ
· ব্রিক্স-এর তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্পর্কিত কর্মীগোষ্ঠীর তৃতীয় বৈঠক
· ব্রিক্স-এর বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন ক্ষেত্রের নারী মঞ্চ (প্রিটোরিয়া)
· কৃষিভিত্তিক বাণিজ্যের রোড শো
· আফ্রিকার উন্নয়নে অর্থ লগ্নি বিষয়ক ব্রিক্স সম্মেলন (নেলসন ম্যান্ডেলা বিশ্ববিদ্যালয়, পোর্ট এলিজাবেথ)
· ব্রিক্স লিগ্যাল ফোরাম (কেপটাউন)
· ব্রিক্স-এর সংস্কৃতি বিষয়ক শীর্ষ আধিকারিকদের বৈঠক
· ব্রিক্স সংস্কৃতি উৎসব (বিভিন্ন শহরে)
· ব্রিক্স কর্মীগোষ্ঠীগুলির বৈঠক (প্রতিযোগিতা)
· প্রতিযোগিতা কর্তৃপক্ষের প্রধানদের বৈঠক (প্রিটোরিয়া)
· ব্রিক্স-এর প্রশাসন ও সংস্কার সম্পর্কিত এসওই ফোরামের তৃতীয় বৈঠক (ডারবান)
· চতুর্থ বাণিজ্য থেকে বাণিজ্য (শিল্প সম্পর্কিত আলোচনা) বৈঠক (ডারবান)
· তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত কর্মীগোষ্ঠীর তৃতীয় বৈঠক (ডারবান)
· শেরপা / সাউস-শেরপাদের পঞ্চম বৈঠক (নিউ ইয়র্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
· দ্বিতীয় ব্রিক্স দক্ষতা প্রতিযোগিতা (জোহানেসবার্গ)
· ব্রিক্স সিআরএ পরিচালন পরিষদের বৈঠক এবং ব্রিক্স বিএফ কর্মীগোষ্ঠীর বৈঠক (বালি, ইন্দোনেশিয়া)
· জৈব চিকিৎসা এবং জীবপ্রযুক্তি সম্পর্কিত এসটিআই কর্মীগোষ্ঠীর দ্বিতীয় বৈঠক (কেপটাউন)
· ব্রিক্স সংস্কৃতি মন্ত্রীদের তৃতীয় বৈঠক, ২০১৮ (ডারবান)
· ব্রিক্স নীতি পরিকল্পনা ও পরামর্শ সম্পর্কিত চতুর্থ রাউন্ডের বৈঠক
· ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কিত বিজ্ঞান ও তার প্রয়োগ সম্পর্কিত বিষয়ে গঠিত ব্রিক্স কর্মীগোষ্ঠীর তৃতীয় বৈঠক (প্রিটোরিয়া)
· প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ ও তার ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি সম্পর্কিত ব্রিক্স কর্মীগোষ্ঠীর তৃতীয় বৈঠক (প্রিটোরিয়া)
· ব্রিক্স জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের বৈঠক
· ব্রিক্স মহাকাশ সংস্থাগুলিকে নিয়ে গঠিত মঞ্চের বৈঠক (প্রিটোরিয়া)
· ব্রিক্স জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্মেলন (সুদারল্যান্ড : এসএএলটি – সাদার্ন আফ্রিকান লার্জ টেলিস্কোপ)
· ব্রিক্স শেরপা / সাউস-শেরপাদের ষষ্ঠ বৈঠক (বুয়েনস আইরেস, আর্জেন্টিনা)
· ব্রিক্স এসটিআই ব্রোকারেজ ইভেন্ট
· ব্রিক্স-এর বিজ্ঞান-শিক্ষা সম্পর্কিত আলোচনা বৈঠক (জোহানেসবার্গ)
· ব্রিক্স ওয়াটার ফোরামের তৃতীয় বৈঠক (প্রিটোরিয়া)
· ব্রিক্স এসটিআই উপদেষ্টা পরিষদের রাউন্ড টেবিল বৈঠক (প্রিটোরিয়া)
· ব্রিক্স-এর এসটিআই প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং এসএমএমই ফোরামের বৈঠক (প্রিটোরিয়া)
· ব্রিক্স শেরপা / সাউস-শেরপাদের সপ্তম বৈঠক
· ব্রিক্স-এর জনসংখ্যা সম্পর্কিত আধিকারিক ও বিশেষজ্ঞদের বৈঠক (পিলানেসবার্গ, রুস্তেনবার্গ)
CG/SKD/DM/