Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

জোহানেসবার্গে সমষ্টির এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

জোহানেসবার্গে সমষ্টির এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ


এখানে উপস্থিত এক বিশাল সংখ্যক জনসমষ্টিবৃন্দ,

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, এবং

মা ও বোনেরা,

আপনাদের সকলকে সানিবোনানি, নমস্কার, বনক্কম, কেমছো,

দক্ষিণ আফ্রিকায় উপস্থিত হতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।

আপনাদের সকলের মধ্যে উপস্থিত থাকতে পারা খুবই আনন্দের বিষয়। আপনারা দূরদূরান্ত থেকে এসেছেন আমাকে আশীর্বাদ দেওয়ার জন্য। আপনাদের সঙ্গে এইভাবে মিলিত হওয়ার সুযোগলাভ এক সৌভাগ্যের বিষয়। আপনাদের অনেকেই এসেছেন জোহানেসবার্গ, ডারবান, ব্লুমফাউন্টেন, কেপটাউন, এমনকি কেউ কেউ এসেছেন বোৎসয়ানা তথা লেসোথো থেকে। আমি জানি, আপনারা সকলেই নিজের নিজের কাজে যথেষ্ট ব্যস্ত থাকেন। তার মধ্যেও আমার সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য আপনারা আজ এখানে এসে উপস্থিত হয়েছেন। এজন্য আপনাদের সকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।

আমাকে এইভাবে যথেষ্ট আন্তরিকতা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে স্বাগত জানানোর জন্য ধন্যবাদ আপনাদের সকলকে। আপনাদের এই ভালোবাসা ও অভ্যর্থনা আমার এই দেশ সফরের ঘটনাকে আরও তাৎপর্যময় করে তুলেছে। বিশাল ভারত মহাসাগরের এক সুদূর প্রান্ত থেকে ১২৫ কোটি ভারতবাসীর সাদর মৈত্রী ও শুভেচ্ছাবার্তা বহন করে এনেছি আমি।

এই দেশ সফরের আগে ব্যক্তিগতভাবে আমিআপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম ই-মেলের মাধ্যমে। আজ আমার এখানে বক্তব্য কি হওয়া উচিৎ, সে সম্পর্কে আপনাদের চিন্তাভাবনা ও মতামত জানানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলাম আমি। নরেন্দ্র মোদী অ্যাপ-এ আমি হাজার হাজার নতুন ও মূল্যবান পরামর্শ লাভ করেছি। আপনারা এই সমস্ত পরামর্শ ও মতামত আমার সঙ্গে আপনাদের এই আলাপচারিতার মুহূর্তকে আরও সুন্দর করে তুলেছে।

বন্ধুগণ,

· আমরা হয়তো বাস করি পরস্পরের থেকে অনেক অনেকদূরের কোনও উপকূলে,

· সময়ের দিক থেকেও আমরা হয়তো পরস্পরের থেকে বেশ দূরে রয়েছি,

· ইতিহাস হয়তো আমাদের পূর্ব পুরুষদের পরস্পরের থেকে বিচ্ছন্ন করে দিয়েছে,

· আমরা হয়তো ভিন্ন ভিন্ন দেশের নাগরিক,

· আমাদের সমর্থনও থাকতে পারে ভিন্ন ভিন্ন ক্রিকেট দলের প্রতি।

কিন্তু, আমাদের সাধারণ সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য নিশ্চিতভাবেই আমাদের পরস্পরকে যুক্ত করেছে অনেক নিবিড়ভাবে। আমাদের সম্পর্ক তাই মন ও হৃদয় দু’দিক থেকেই।

বন্ধুগণ,

আগামী পরশু ১০ জুলাই। এই দিনটির গুরুত্ব আপনাদের কাছে অজানা নয়। ১৯৯১ সালের এই দিনটিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। আর, এই ঘটনার কয়েক মাস পরেই দক্ষিণ আফ্রিকা টিমের প্রথম খেলা অনুষ্ঠিত হয় ভারতের সঙ্গে। ইতিহাসের আরেকটি খেলাও আপনারা লক্ষ্য করুন, যে ভারত বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে এক সময়ে বয়কট করেছিল, বর্ণবিদ্বেষ দূর হয়ে যাওয়ার পরে, সেই দক্ষিণ আফ্রিকাকেই আবার প্রথম আপন করে নিয়েছিল ভারত।

বন্ধুগণ,

বহু শতাব্দী আগে আমাদের পূর্ব পুরুষরা দক্ষিণ আফ্রিকার অজানা উপকূলের দিকে পাড়ি দিয়েছিলেন। চরম দারিদ্র্য ও দুঃখ-দুর্দশা ভোগ করতে হয়েছিল তাঁদের। তা সত্ত্বেও সমস্ত কিছু সহ্য করে তাঁরা ছিলেন অবিচলিত। বর্ণবিদ্বেষের কারণে বহু দশক ধরেই তাঁরা ছিলেন বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো। তা সত্ত্বেও তাঁরা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন তাঁদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে।

বরং তাঁরা এগুলিকে আরও বিকশিত করে তুলেছিলেন। তাই, দক্ষিণ আফ্রিকার সমাজ আজ আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে হিন্দি, তামিল, গুজরাটি, উর্দু এবং তেলেগু ভাষার সহাবস্থানে। হোলি উৎসবের রং, দেওয়ালির আতস বাজি, পোঙ্গলের স্বাদ এবং ঈদ উৎসব ভারতীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্যের রামধনু মাত্র নয়। একই সঙ্গে, তারা দক্ষিণ আফ্রিকার উজ্জ্বল বৈচিত্র্যেরও প্রতীক। আপনাদের পূর্ব পুরুষদের কাহিনী ছিল দারিদ্র্য, অত্যাচার ও নিপীড়ণের। কিন্তু, তাঁদের উত্তরাধিকারের কাহিনী হল গর্ব ও উৎসর্গের, যা আপনাদের সাফল্য ও সমৃদ্ধির মধ্যেই প্রতিফলিত। এর বাস্তবতা আমরা খুঁজে পাই, এই দেশের আর্থ-সামাজিক কল্যাণে আপনাদের অশেষ অবদানের মধ্যে। ভারতীয় দর্শন ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ অর্থাৎ সমগ্র বিশ্বই যে একটি পরিবার মাত্র, তা আপনারা সত্য বলে প্রমাণিত করেছেন। আর এই কাজে দক্ষিণ আফ্রিকার আবেগ ও অনুভূতি ‘উমুন্তুগুমুন্তু গাবুন্তু’-ই প্রতিধ্বনিত হয়েছে আপনাদের এই প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে। আফ্রিকার এই দর্শনের অর্থ হল – ‘আপনারা আজ যা হয়েছেন, তা কিন্তু অন্যান্য মানুষের সংস্পর্শে এসেই’।

বন্ধুগণ,

আপনাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো জানেন না যে, আপনাদের পূর্ব পুরুষদের এমন একটি অবদান রয়েছে যেজন্য আপনাদের গর্বিত হওয়া উচিৎ। সাংস্কৃতিক মূল বা শিকড়কে অক্ষত রাখার জন্য তাঁদের দৃঢ় সংকল্প ও উৎসর্গ এবং সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার প্রবল ইচ্ছাশক্তি শুধুমাত্র দক্ষিণ আফ্রিকার ভারতীয়দের পরবর্তী প্রজন্মকেও সঠিকভাবে গঠন করার কাজে সফল হওয়া ছাড়াও বিশ্বের সর্বত্র যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিরা বসবাস করেন, তাঁদের মানসিক গঠনেও তা বিশেষভাবে সাহায্য করেছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের বিশ্বে সাফল্যলাভের মূলে রয়েছে সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আপনাদের পূর্ব প্রজন্মগুলির সাফল্য ও অবদান।

বন্ধুগণ,

এই শহর এবং শহরবাসী আমাদের অনেক স্মৃতিরই ধারক ও বাহক। এই ভূমিতেই মহত্মা গান্ধী তাঁর রাজনৈতিক ধারণাকে গড়ে তুলতে পেরেছিলেন। সত্যাগ্রহের জন্ম এখানেই। দক্ষিণ আফ্রিকাই মোহনদাসের রূপান্তর ঘটিয়েছিল মহাত্মা-তে। কিন্তু বর্ণবিদ্বেষ দেশের অত্যাচার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে গান্ধী একা ছিলেন না। দক্ষিণ আফ্রিকার মুক্তি সংগ্রামে আপনাদের পূর্ব প্রজন্মের অনেক বীর ও সাহসী সামিল হয়েছিলেন। ষোড়শ বর্ষীয় ভালিয়াম্মা, অকুতোভয় হাম্বি নাইডু এবং নিঃস্বার্থ মহম্মদ কাচালিয়া’কে বিস্মৃত হওয়া খুবই কঠিন। আজ এখানে কিছুক্ষণ আগে আহমেদ কাথারদার সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘটেছিল আমার। নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে তিনিও ছিলেন দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে কারাবন্দী। রব্বেন আইল্যান্ডের কারার অন্তরালের নির্মমতা দমিয়ে রাখতে পারেনি লালুচিবা, ম্যাক মহারাজ কিংবা বিল্লি নায়ার’কে। আজ আমার আনন্দিত হওয়ার আরেকটি কারণ হল যে, তাঁদের সকলের সঙ্গে আজ এখানে সাক্ষাৎ ঘটার সুযোগ আমার হয়েছে। এত কঠিন যন্ত্রণা ভোগ করা সত্ত্বেও তাঁদের চোখমুখের প্রসন্নতা আমায় বিশেষভাবে উদ্দীপ্ত করেছে এবং প্রেরণা জুগিয়েছে। ভারতে প্রত্যাবর্তনের পরও তাঁদের এই প্রেরণা আমাকে উৎসাহ জুগিয়ে যাবে।

আফ্রিকার ভাই-বোনদের সঙ্গে একসঙ্গে বহু প্রজন্ম ধরে ভারতীয়রা সংগ্রাম করেছেন, দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেছেন, এমনকি আত্মোৎসর্গের দিক থেকেও তাঁরা কোনও অংশে পিছিয়ে ছিলেন না। তাঁদের লক্ষ্য ছিল একটি-ই, তা হল – সমগ্র দক্ষিণ আফ্রিকায় মুক্তির বাতাস বয়ে নিয়ে আসা। এই দেশের প্রতি নিষ্ঠ আপনাদের সকলকে, অগণিত জনসমস্টিকে আমি অভিবাদন জানাই। আপনারা হলেন ভারতীয় ঐতিহ্যের সন্তান। একইসঙ্গে, আপনারা আবার দক্ষিণ আফ্রিকার গর্বিত ও একনিষ্ঠ নাগরিক। দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তব্যনিষ্ঠ এবং কঠোর পরিশ্রমী নাগরিক হলেন আপনারাই। শুধু তাই নয়, সমগ্র বিশ্বে ক্রমবর্ধমান ভারতীয় পরিবারগুলির আপনারা এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আমাদের দুটি দেশের মধ্যে এক অতুলনীয় সেতুবন্ধন গড়ে তোলার দায়িত্বও পালন করে এসেছেন আপনারা। এ হল এমনই এক বন্ধন, যা গড়ে উঠেছে আমাদের মিলিত মূল্যবোধ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। আর এই সম্পর্ককে ভিত্তি করেই আমরা এক সমৃদ্ধ ভবিষ্যত গড়ে তোলার প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করেছি।

বন্ধুগণ,

দক্ষিণ আফ্রিকা হল এক পবিত্র ভূমি। এ হল মাদিবার জন্মভূমি এবং মহাত্মা গান্ধীর কর্মভূমি। এই দুই মহান নেতা আমাদের যে পথের সন্ধান দিয়ে গেছেন এবং যে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন আমাদের জন্য তা সমগ্র মানবজাতিকেই উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাবে। তাঁদের নিরলস কর্মশক্তি, সাহস ও নৈতিক মূল্যবোধ আগামী বহু প্রজন্ম ধরেই আলোর সন্ধান দিয়ে যাবে। ব্রিটিশের শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য ভারত’কে পথ দেখিয়েছিলেন মহাত্মা গান্ধী। তিনিই হলেন, আধুনিক ভারতের জনক। নেলসন ম্যান্ডেলার সহমর্মিতা ও স্বাধীনতার লক্ষ্যে তাঁর দীর্ঘ অভিযানের ফলশ্রুতিতেই উদ্ভব ও জন্ম এই রামধনু জাতির। গান্ধীজীর কাছে দক্ষিণ আফ্রিকা ছিল খুব প্রিয় একটি দেশ। একথা তিনি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতেন যে, এই দেশেই তিনি যেন পুনর্জন্ম লাভ করেছিলেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ১৯১৪ সালের জুলাই মাসে বিদায় গ্রহণের মূহুর্তে তিনি বলেছিলেন, “এই উপমহাদেশ আমার কাছে এক প্রিয় ও পবিত্র ভূমি। আমার মাতৃভূমির পরেই স্থান এই দেশটির। দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূল থেকে আমি বিদায় গ্রহণ করছি ব্যথিত হৃদয়ে। ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে এই দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকাকে কিন্তু সকল সময়েই আমার নিজের দেশ বলে আমি মনে করব। এই দেশের কল্যাণ ও মঙ্গলের কথা চিন্তা করব আমি সকল সময়ে”। আজ ১০০ বছর পরে অর্থাৎ দীর্ঘ এক শতাব্দী পরেও দক্ষিণ আফ্রিকার কথা চিন্তা করার সময়ে এই কথাগুলিই যেন প্রতিধ্বনিত হয় আমাদের কানে।

আমার প্রিয় ভাই-বোনেরা,

আমরা বাস করি এমনই এক বিশ্বে, যা পরস্পর সংযুক্ত এবং একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। ভারতে বিকাশ ও উন্নয়নের কাজে আপনাদের অনেকেই এখন ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত রয়েছেন। আপনাদের পূর্ব পুরুষদের জন্মস্থানের সঙ্গে যোগাযোগের বাসনা নিঃসন্দেহে আবেগ-অনুপ্রাণিত। কিন্তু, শুধুমাত্র তাকে সম্বল করেই এগিয়ে গেলে চলবে না আপনাদের। কারণ, ভারতে রয়েছে এখন অফুরন্ত সুযোগ। যদি কেউ সংযোগ ও সহযোগিতা, উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং উৎপাদন ও প্রযুক্তির বিষয়ে আগ্রহী থাকেন, তা হলে আপনাদের আমি একথাই বলব যে, বিশ্ব অর্থনীতির একটি উজ্জ্বলতম কেন্দ্রবিন্দু হল এখন ভারত। বিশ্বের অন্যত্র যখন বিকাশের হার ক্রমহ্রাসমান, অর্থনৈতিক কর্মপ্রচেষ্টা মন্দার দিকে, ভারতে তখন এই বছরে বিকাশ ও উন্নয়নের হার ৭.৬ শতাংশ পরিলক্ষিত হয়েছে। এই হারকে আগামী বছরগুলিতে ৮ শতাংশ এবং তারও বেশি নিয়ে যেতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছি আমরা। ভারতের এই গতিশীলতা শুধুমাত্র কথার কথা নয়, নিশ্চিত কাজের মধ্য দিয়েই তা প্রমাণিত হয়েছে। ভারতীয় অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে আমূল পরিবর্তন সম্ভব করে তোলা হল আমাদের এক বলিষ্ঠ অঙ্গীকার। শুধুমাত্র অর্থনৈতিক বিকাশকে দ্রুত ও নিরন্তর করে তোলার মাধ্যমেই নয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন ও রূপান্তর সম্ভব করে তোলার মাধ্যমেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে চাই আমরা।

আর এই জন্যই আমি আপনাদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি যে, অন্তত একবার ভারতে এসে আপনারা লক্ষ্য করুন কি বিরাট পরিবর্তন ঘটতে চলেছে সেখানে।

আর এই পরিবর্তন তথা রূপান্তরের লক্ষ্য হল :

· ভারতের ১২৫ কোটি নাগরিকের বিকাশ ও উন্নয়ন;

· দেশের ৫০০টি শহরের সার্বিক প্রসার ও উন্নয়ন; এবং

· ৬ লক্ষ ভারতীয় গ্রামের বিকাশ ও আধুনিকীকরণ।

আমরা চাই, শিল্পোদ্যোগের প্রসার সম্ভব করে তোলা এবং বাণিজ্যিক কর্মপ্রচেষ্টাকে জোরদার করে তোলার মাধ্যমে দেশের সার্বিক বিকাশ ও উন্নয়ন ঘটানো। এই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই নীতিগত এক কাঠামো নির্ণয় করে ফেলেছি আমরা, যা নির্মাণ ও উৎপাদন শিল্প, উদ্ভাবন এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বের বন্ধন গড়ে তুলতে শক্তি যোগাবে ভারতকে। বাণিজ্যিক কাজকর্মকে সহজতর করে তোলার মাধ্যমে আমরা চাই সরকারি, বেসরকারি এবং ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক উদ্যোগগুলি পূর্ণ সম্ভাবনার সঙ্গে বিকশিত হোক ভারতে। অত্যাধুনিক পরিকাঠামোকে সম্বল করে এই লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে আগ্রহী আমরা। এই পরিকাঠামো শুধুমাত্র আশ্রয়, আবাসন, বিদ্যুৎ, জল ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাই নিশ্চিত করবে না দেশবাসীর জন্য, একই সঙ্গে গড়ে তুলবে নৌ-বন্দর, বিমান বন্দর, রেল ও সড়কের এক আধুনিক নেটওয়ার্ক এবং তা হয়ে উঠবে দেশবাসীর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এক বিশেষ সূচনা। ১০০টি স্মার্টসিটি গড় তোলার লক্ষ্য স্থির করেছি আমরা। এর মাধ্যমে এমন এক নগর ও সমাজ আমরা গড়ে তুলব, যেখানে নিরন্তর বিকাশ ছাড়াও পরিবেশ-বান্ধব ব্যবস্থা সহ আমাদের সহায়-সম্পদগুলিও অটুট ও অক্ষুন্ন থাকবে। বিশ্বের বিশিষ্ট তথ্য ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের শক্তি ও সমর্থনকে আশ্রয় করে এক ডিজিটাল বিপ্লব সম্ভব করে তোলার লক্ষ্যেও এগিয়ে চলেছি আমরা।

এ হল এমনই এক বিপ্লব, যা পরিবর্তন সম্ভব করে তুলবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে :

· সরকারের সঙ্গে নাগরিকদের ঘটবে সংযোগ ও সমন্বয়;

· বাণিজ্য প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে পরস্পরের সঙ্গে থাকবে আলোচনা ও মতবিনিময়ের সুযোগ; এবং

· প্রাচীন ও নতুন আঙ্গিকের মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টি হবে সমাজে।

এ হল এমনই এক বিপ্লব, যা গড়ে উঠবে ডিজিটাল পরিকাঠামোকে আশ্রয় করে। এর ফলে, সম্ভব হবে তথ্য, উদ্ভাবন এবং উচ্চ প্রযুক্তি সম্পর্কে তথ্যের প্রচার, প্রসার ও বিনিময়।

বন্ধুগণ,

ভারত হল দক্ষিণ আফ্রিকার মতোই এক নতুন জাতি। দেশের ৮০ কোটি তরুণ ও যুবশক্তির উৎসাহ, উদ্দীপনা ও কর্মশক্তি সমগ্র দেশের আশা-আকাঙ্খাকে আরও জাগিয়ে তুলেছে। এই যুবশক্তিকে আমরা গড়ে তুলতে চাই ভারতীয় সমাজ ও অর্থনীতির এক চালিকাশক্তি হিসাবে। এই লক্ষ্যে দেশের তরুণ সমাজকে সুদক্ষ কর্মী হিসাবে গড়ে তুলতে এক বিশেষ অভিযান চালিয়েছি আমরা। আমাদের লক্ষ্য হল – আগামী ২০২২ সালের মধ্যে দেশে ৫০ কোটি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি। ভারতের চাহিদা ও প্রয়োজন মেটানোর জন্যই শুধুমাত্র আমরা তাদের দক্ষ করে তুলব না, একই সঙ্গে বিশ্বের দক্ষ শ্রমশক্তির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেও আমরা তাদের দক্ষতা অর্জনের প্রশিক্ষণ দেব। সমাজ ও অর্থনীতি শুধুমাত্র পরিবর্তিত হচ্ছে না, একইসঙ্গে পরিবর্তন ঘটে চলেছে মানুষের মনোজগতেরও। যে পরিবর্তনের কথা আমি উল্লেখ করছি, তা শুধু পরিকল্পনার কাগজ-কলমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা প্রত্যক্ষ করা যাবে বাস্তবের জমিতে। ভারতের গ্রামগুলিতে এখন উৎসাহ ও উদ্দীপনার এক নতুন জোয়ার এসেছে। শহরগুলিতে এখন পূর্ণ মাত্রায় শুরু হয়ে গেছে এক বিশেষ কর্মকাণ্ড। আমাদের যুবশক্তির মধ্যে রয়েছে আত্মবিশ্বাস। ভারতের সকল নাগরিকই আশাবাদে বিশ্বাসী।

ভারতের উত্থান হল এমন এক কাহিনী, যার মধ্যে রয়েছে :

· এক বিরল মানসিক শক্তি ও মনোবল;

· পরিবর্তন ও পুনরুত্থানের লক্ষ্যে এক অদম্য স্পৃহা;

· দূরন্ত গতি ও গতিশীলতা; এবং

· এক বিরাট ও বিশাল ক্ষেত্র।

ভারতের এই কাহিনী আজ চারটি অক্ষরের সংযুক্তির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়, এই অক্ষরগুলি হল HOPE, যেখানে :

· H – এর অর্থ হল Harmony অর্থাৎ সম্প্রীতি

· O – এর অর্থ হল Optimism অর্থাৎ আশাবাদ

· P – এর অর্থ হল Potential অর্থাৎ সম্ভাবনা এবং

· E –এর অর্থ হল Energy অর্থাৎ শক্তি ও উৎসাহ।

এই কৃতিত্ব কিন্তু মোদীর একার নয়, এই কৃতিত্ব ১২৫ কোটির ভারতবাসীর। এই কৃতিত্বের পেছনে রয়েছে আমার সরকারের প্রতি তাঁদের আস্থার মনোভাব। দেশ শাসন করার অধিকার তাঁরা সমর্পণ করেছেন আমাদের হাতে।

এই কাজ করতে গিয়ে তাঁরা বেছে নিয়েছেন :

· কথা নয় কাজ;

· নেতিবাচক মানসিকতা নয়, ইতিবাচক পদক্ষেপ;

· লক্ষ্য পূরণের ইচ্ছা ও আগ্রহ;

· আন্তর্জাতিক কর্মপ্রচেষ্টার প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা নয় বরং তার মধ্যে নতুন আঙ্গিকের সূচনা; এবং

· উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিবর্তনই শুধু নয়, বিকাশের লক্ষ্যে এক বড় ধরণের রূপান্তর।

আমার প্রিয় ভাই-বোনেরা,

আমাদের দুটি দেশেরই রয়েছে সমান আশা-আকাঙ্খা এবং একই ধরণের চ্যালেঞ্জ। দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাধীনতার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক আন্দোলনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভারতও এক বিশেষ নেতৃত্বের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তাতেও নেতৃত্ব দিয়েছে ভারত। আমি আগেও যা বলেছি তারই আবার পুনরাবৃত্তি করছি এখানে – আমাদের মৈত্রী তথা বন্ধুত্বের হাত দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে বাড়িয়ে দিয়েছি আমরাই প্রথম।

এর পরের ইতিহাস তো সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরণের।

আর এইভাবেই আমাদের দু’দেশের সম্পর্কে সূচনা হয়েছে এক নতুন ও গৌরবময় অধ্যায়ের। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেশের যুবসমাজ তথা সমগ্র দেশবাসীর জন্য অনেক কিছুই করতে পারি আমরা। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে ভারত ও আফ্রিকার রয়েছে অফুরন্ত সুযোগ ও সম্ভাবনা। দুটি দেশেরই রয়েছে তরুণ যুবশক্তি। ভারতে মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের বয়সই ৩৫ বছরের নীচে। দক্ষিণ আফ্রিকা তথা সমগ্র আফ্রিকা মহাদেশের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। উন্নয়নের লক্ষ্যে অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও অংশীদারিত্বকে পরস্পরের সঙ্গে ভাগ করে নিতে হবে আমাদের। দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তাঁদের এই প্রচেষ্টায় এক বিশ্বস্ত ও নির্ভরশীল সহযোগী হয়ে উঠতে পারে ভারত। আপনাদের এই অভিযানে সামিল হতে ভারত এখন সর্বতোভাবে প্রস্তুত। আমাদের দু’দেশের বাণিজ্যিক ও উন্নয়ন প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের কাজ এখন ভালোভাবেই এগিয়ে চলেছে। কিন্তু এই কাজকে আরও আরও গতিশীল করে তুলতে হবে আমাদের। দু’দেশের মিলিত শক্তি গড়ে তুলতে পারে নতুন নতুন শিল্প প্রচেষ্টা, দক্ষতা ও সামাজিক মূল্যবোধ। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা – দুটি দেশই হল কৌশলগত দিক থেকে পরস্পরের অংশীদার। আমাদের গড়ে তুলতে হবে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের এমন এক সম্পর্ক, যা মানব প্রচেষ্টার সবকটি ক্ষেত্রেই প্রসার লাভ করবে।

আমাদের এই অংশীদারিত্বের সম্পর্ক এক নতুন শীর্ষে উন্নীত হবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে :

· কৃষি থেকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা,

· সাংস্কৃতিক কর্মপ্রচেষ্টা থেকে বাণিজ্যিক উদ্যোগ,

· পরম্পরা ও ঐতিহ্য থেকে শিল্প-বাণিজ্যের প্রসার,

· শিল্প থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিকতার সূচনা,

· বিনিয়োগ থেকে তথ্য প্রযুক্তি,

· খনিজ আহরণ থেকে নির্মাণ ও উৎপাদন,

· ক্রীড়া কর্মসূচি থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অনুসন্ধান এবং

· প্রতিরক্ষা থেকে উন্নয়ন।

আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রসারের ক্ষেত্রেও আমরা হলাম সক্রিয় সৈনিক। একই সঙ্গে, আফ্রিকায় আমাদের বন্ধুস্থানীয় সকলের জন্য গড়ে তুলতে পারি নতুন মূল্যবোধও। আমাদের বিভিন্ন শিল্প সংস্থা মিলিতভাবে অর্থনৈতিক সুযোগ ও সুফল এনে দিয়েছে দেশবাসীর কাছে। একই সঙ্গে, তারা পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে এই মহাদেশটিতেও। যুবশক্তির ক্ষমতায়ন এবং ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অপুষ্টি ও রোগব্যধির বিরুদ্ধে সংগ্রামে মিলিতভাবে কাজ করে যেতে পারি আমরা। শুধুমাত্র আমাদের নিজেদের দেশেই নয়, আফ্রিকা সহ অন্যান্য বিকাশশীল অঞ্চলগুলিতেও মিলিতভাবে কাজ করার শক্তি রয়েছে আমাদের। আমরা বাস করি এমনই এক বিশ্বে, যা বর্তমানে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে উপস্থিত আমাদের সামনে। জলপথে আক্রমণ তথা সন্ত্রাস এবং এড্‌স তথা ইবোলার বিরুদ্ধে সংগ্রামই হয়ে উঠতে পারে আমাদের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের অগ্রাধিকারের এক ক্ষেত্র। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে একত্রে কাজ করে যাওয়ার সময় জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কেও সংবেদনশীল হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে আমাদের। প্যারিসে আমরা সকলে মিলিতভাবে যুগান্তকারী এক ঘটনার সাক্ষী থেকেছি। জলবায়ুর দিক থেকে সুস্থ ও অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে নতুন জ্বালানি শক্তি এবং প্রযুক্তিগত সমাধানের ক্ষেত্রে জোরদার করে তুলতে পারি আমাদের এই অংশীদারিত্বের সম্পর্ককে। বিশ্ব কর্মপ্রচেষ্টার মধ্যে সমন্বয়ের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সৌর সমঝোতার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ভারত। বিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশ এগিয়ে এসেছে এই কাজে আমাদের সমর্থনে। আই বি এস-এ (অর্থাৎ ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকা) এবং ব্রিক্‌স-এর মাধ্যমে বিশ্বের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করেছে আমাদের মিলিত অংশীদারিত্বের সম্পর্ক।

আমার প্রিয় ভাই-বোনেরা,

নতুন এক ভারত অপেক্ষা করে রয়েছে আপনাদের জন্য। এদেশে আসার ক্ষেত্রে অনেকগুলি বাধাবিপত্তি দূর করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি আমরা। ও সি আই এবং পি আই ও কর্মসূচি দুটিকে সংযুক্ত করে এক অভিন্ন কর্মসূচিতে পরিণত করা হয়েছে। এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য আমরা সূচনা করেছি ই-ভিসা কর্মসূচির। এখন আপনারা বাড়িতে বসেই আপনাদের ই-মেল মারফৎ সম্পূর্ণ বিনা খরচে পেয়ে যেতে পারেন ভারতে আসার ভিসা। আমার ভাই ও বোনেরা, ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সম্পর্ক থেকে অনেক অনেকভাবে লাভবান হতে পারে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা এই দুটি দেশ। ভারতের ঐতিহ্য, আবেগ, অনুভূতি ও মূল্যবোধের অনেক কিছুরই প্রতিফলন দেখা যায় আপনাদের মধ্যে। আপনাদের পূর্ব পুরুষরা সংগ্রাম করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে। আজ আপনারা বিশেষ অবদানের স্বাক্ষর রাখতে পারেন দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে অভিযানে। এই দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ জীবনরেখা হলেন আপনারাই।

পরিশেষে, আমি একথাই বলতে চাই যে, আপনাদের সাফল্য, অবদান ও অগ্রগতি আমাদের সকলেরই এক বিশেষ গর্বের বিষয়। আপনাদের সঙ্গে এইভাবেযোগাযোগের সুযোগ হয়েছে আমার। এটি নিঃসন্দেহে এক বিরাট সুযোগ। যদি আপনারা কোনও সময়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে চান, তা হলে সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব সহজেই তা করতে পারেন। নরেন্দ্র মোদী অ্যাপ ডাউনলোড করে আপনারা আমার সঙ্গে এইভাবে যোগাযোগ রাখতে পারেন। আপনাদের সকলের মধ্যে এইভাবে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি ভীষণ ভীষণ খুশি। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাদের। নমস্কার।

PG/SKD/SB/S