Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

জ্যোতির্বিদ্যা ও জ্যোতির্পদার্থবিদ্যা সংক্রান্ত অষ্টাদশ আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা

জ্যোতির্বিদ্যা ও জ্যোতির্পদার্থবিদ্যা সংক্রান্ত অষ্টাদশ আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা


নতুন দিল্লি, ১২ অগাস্ট, ২০২৫

মাননীয় অতিথিরা, বিশিষ্ট প্রতিনিধিরা, শিক্ষকরা, মেন্টাররা এবং আমার প্রিয় উজ্জ্বল তরুণ বন্ধুরা, নমস্কার!

৬৪টি দেশের ৩০০-রও বেশি উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কের দেখা পেয়ে ভারি ভালো লাগছে। অষ্টাদশ আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদ্যা ও জ্যোতির্পদার্থবিদ্যা অলিম্পিয়াড উপলক্ষে আপনাদের ভারতে আন্তরিক স্বাগত জানাই। এখানে ঐতিহ্যের সঙ্গে উদ্ভাবনের, আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে বিজ্ঞানের এবং অনুসন্ধিৎসার সঙ্গে সৃজনশীলতার মেলবন্ধন ঘটে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আকাশ দেখতে দেখতে ভারতের মানুষের মনে গভীর সব প্রশ্ন জেগেছে। যেমন ধরুন পঞ্চম শতাব্দীতে আর্যভট্ট শূন্যের আবিষ্কার করেছিলেন। তিনিই প্রথম বলেছিলেন, যে পৃথিবী নিজের কক্ষপথে ঘোরে। আক্ষরিকভাবেই শূন্য থেকে শুরু থেকে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। 

আজ বিশ্বের বৃহত্তম জ্যোতির্বিদ্যা দর্শনাগার রয়েছে লাদাখে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার ৫০০ মিটার উচ্চতায় তা যেন তারাদের সঙ্গে করমর্দন করার সামিল! পুনেতে আমাদের জায়েন্ট মিটারওয়েভ রেডিও টেলিস্কোপ হল বিশ্বের সব থেকে সংবেদনশীল রেডিও টেলিস্কোপগুলির একটি। এটি আমাদের হাজার হাজার আলোকবর্ষ দূরের নক্ষত্র, জ্যোতিষ্ক ও ছায়াপথের রহস্য উন্মোচনে সাহায্য করে। 

স্কোয়ার কিলোমিটার অ্যারে, এলআইজিও-ইন্ডিয়ার মতো বড় মাপের আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান প্রকল্পগুলিতে ভারত গর্বের সঙ্গে নিজের অবদান রাখছে। ২ বছর আগে আমাদের চন্দ্রযান-৩ ইতিহাস সৃষ্টি করছে। আমরাই প্রথম চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সাফল্যের সঙ্গে অবতরণ করতে পেরেছি। আদিত্য এল-১ সোলার অবজার্ভেটরির মাধ্যমে আমরা সূর্যের উপরেও নজর রাখছি। সৌরস্তর, সৌর ঝড় এবং সূর্যের গতি প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গত মাসে গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে তাঁর ঐতিহাসিক মিশন সম্পন্ন করে ফিরে এসেছেন। প্রতিটি ভারতীয় তাঁকে নিয়ে গর্বিত। আপনাদের মতো তরুণ অভিযাত্রীদের সামনে তিনি এক প্রেরণার উৎস।

বন্ধুরা,

বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসার পরিচর্যা এবং তরুণ মনের ক্ষমতায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। অটল টিংকারিং ল্যাবগুলিতে ১ কোটিরও বেশি ছাত্রছাত্রী হাতে-কলমে STEM-এর ধারণার পরীক্ষা করছে। এর মধ্য দিয়ে শেখার ও উদ্ভাবনের একটি সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে। জ্ঞানের আরও গণতান্ত্রিকীকরণের লক্ষ্যে আমরা ওয়ান নেশন ওয়ান সাবস্ক্রিপশন প্রকল্প চালু করেছি। এর আওতায় লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী ও গবেষক বিনামূল্যে বিজ্ঞাত আন্তর্জাতিক জার্নালগুলি পড়তে পারছেন। আপনাদের জেনে ভালো লাগবে যে, STEM-এর ক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণের নিরিখে ভারত বিশ্বের অগ্রগণ্য এক দেশ। বিভিন্ন প্রয়াসের মাধ্যমে গবেষণার জন্য কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হচ্ছে। ভারতে এসে পড়াশুনো ও গবেষণা করার জন্য সারা বিশ্ব থেকে আপনাদের মতো তরুণদের আমরা আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। কে বলতে পারে, হয়তো এই অংশীদারিত্ব থেকেই আগামী দিনের বৃহৎ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের আত্মপ্রকাশ ঘটবে।

বন্ধুরা,

আপনাদের সমস্ত কাজের মধ্যে মাথায় রাখবেন যে মানবতার কল্যাণে তা কীভাবে অবদান রাখতে পারে। আমরা যখন মহাবিশ্বের অনুসন্ধান করবো তখনও আমাদের ভাবতে হবে যে, কীভাবে মহাকাশ বিজ্ঞান পৃথিবীর মানুষের জীবনকে আরও উন্নত করে তুলতে পারে। কীভাবে কৃষকদের আবহাওয়ার আরও নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া যায়। কীভাবে আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস দিতে পারি। কীভাবে দাবানল এবং হিমবাহের গলনের উপর নজর রাখতে পারি। প্রত্যন্ত এলাকাগুলির সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ কীভাবে আরও উন্নত হতে পারে। বিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ আপনাদের হাতে। কল্পনা ও সহানুভূতি দিয়ে আপনাদের বাস্তব সমস্যাগুলির সমাধান করতে হবে। আমি আপনাদের বলবো, “ওখানে কী আছে” এই প্রশ্ন করতে এবং একইসঙ্গে তা কীভাবে আমাদের উপকারে লাগতে পারে, তা ভাবতে।

বন্ধুরা,

ভারত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার শক্তিতে বিশ্বাসী। এই অলিম্পিয়াডের মধ্য দিয়েও সেই চেতনার প্রতিফলন ঘটছে। আমাকে বলা হয়েছে যে এপর্যন্ত যত অলিম্পিয়াড হয়েছে তার মধ্যে এবারেরটাই বৃহত্তম। এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আমি হোমি ভাবা সেন্টার ফর সায়েন্স এডুকেশন এবং টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চকে ধন্যবাদ জানাই। লক্ষ্য উঁচু রাখুন, বড় মাপের স্বপ্ন দেখুন, আর মনে রাখবেন, ভারতে আমরা বিশ্বাস করি যে, আকাশ সীমা নয়, এ সূচনা মাত্র!

ধন্যবাদ।

 

SC/SD/SKD