Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

ঝাড়খণ্ডে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ঝাড়খণ্ডে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ঝাড়খণ্ডে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ঝাড়খণ্ডে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ


 

মঞ্চে উপস্থিত ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল মাননীয় শ্রীমতী দ্রৌপদী মুর্মু, রাজ্যের প্রাণশক্তিতে ভরপুর মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রীযুক্ত রঘুবর দাস, আমার মন্ত্রী পরিষদের সহযোগী মাননীয় শ্রীযুক্ত সুদর্শন ভগৎ, বিহার এবং ঝাড়খণ্ড থেকে আগত আমার সাংসদ বন্ধুগণ, ঝাড়খণ্ড রাজ্য মন্ত্রী গোষ্ঠীর মাননীয় সদস্য এবং বিধায়কগণ, আর বিপুল সংখ্যায় আগত আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা। আমার সামনে যাঁদের দেখতে পাচ্ছি আর যাঁরা ওদিকে দাঁড়িয়ে আছেন, রোদের মধ্যে, এখান থেকে তিনগুণ বেশি, যাঁদের দেখতে পাচ্ছি না, জানিনা আপনারা আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন কিনা! এত বিপুল সংখ্যায় উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে আমাদের সবাইকে আশীর্বাদ জানাতে চলে এসেছেন; আপনাদের সবাইকে অভিনন্দন জানাই, প্রণাম জানাই।

 

ঝাড়খণ্ডের উন্নয়ন যাত্রার সাক্ষী আপনারা সবাই এই উন্নয়নের অংশীদার। আপনাদের সহযোগিতার ফলেই এই উন্নয়ন যাত্রা ত্বরান্বিত হয়েছে। ২০১৯-এর প্রথম সপ্তাহেই আপনাদের মাঝে এসেছি সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।

 

এই মাটি অনেক বীর স্বাধীনতা সংগ্রামীর জন্মভূমি। যাঁরা ইংরেজদের নাকানি-চোবানি খাইয়েছেন। নীলাম্বর, পীতাম্বরের মতো বীরেরা এই মাটির সন্তান ছিলেন। এই মাটির প্রত্যেক বীর সন্তান, প্রত্যেক বীরাঙ্গনাকে আমাদের সবার পক্ষ থেকে প্রণাম জানাই। আমি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার দ্বারা উপকৃত সেই ২৫ হাজার পরিবারকে বিশেষ শুভেচ্ছা জানাই যাঁরা আজ নিজস্ব পাকা বাড়িতে প্রবেশ করবেন। নতুন বছরে নতুন বাড়ির জন্য দ্বিগুণ শুভেচ্ছা। পাকা বাড়িতে সঙ্কল্প যেমন পাকা হয়, স্বপ্নও তেমন মিষ্টি হয়। সেজন্য আজ পাকা বাড়ির মালিক হওয়া প্রত্যেককে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

 

বন্ধুগণ, আজ আমার কৃষকদের ক্ষমতায়নের অনুকূল কৃষি সংক্রান্ত ৩,৫০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগে নির্মিত প্রকল্পের উদ্বোধন কিংবা শিলান্যাস করার সৌভাগ্য হয়েছে। আজ যে সেচ প্রকল্পগুলির কাজ শুরু হল, সেগুলি আমাদের কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেচের জন্য খরচ কম হওয়া মানেই কৃষির জন্য বিনিয়োগ হ্রাস পাওয়া। প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে এখানে যে পাইপলাইন পাতা হবে, সেগুলি এখানকার ১৪,০০০ হেক্টর থেকেও অধিক জমিতে সেচের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করবে। পাশাপাশি, এই অঞ্চলের ৩ লক্ষেরও বেশি নাগরিকের জন্য পানীয় জলের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২৫ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ পাইপ মাটির নিচে পাতা হবে।

 

বন্ধুগণ, কৃষকদের ক্ষমতায়নের স্বার্থে যেসব প্রকল্পের কাজ হওয়া উচিৎ ছিল সেগুলি সম্পর্কে পূর্ববর্তী সরকারগুলির দৃষ্টিভঙ্গি কেমন ছিল, এখানকার ‘কোয়েল’ প্রকল্প তার অন্যতম উদাহরণ, এই মণ্ডলবাঁধ প্রকল্প তার সাক্ষী। ৪৭ বছর ধরে এই প্রকল্প একটি ধ্বংসাবশেষের মতো অসম্পূর্ণ ছিল। ১৯৭২-এ এই প্রকল্প মঞ্জুর হওয়ায় ফাইল চালু হয়েছিল। তারপর কাজ শুরু হয়েও ঝুলে ছিল। বিগত ২৫ বছরে এই প্রকল্পের কাজ একদমই হয়নি। আপনারাই বলুন, কোন বাঁধ প্রকল্প সম্পূর্ণ হতে অর্ধ-শতাব্দীকাল লাগবে কেন? এটি একটি খরা প্রবণ অঞ্চলের কৃষকদের প্রতি ক্রিমিনাল নেগজিলেন্স কিনা? বন্ধুগণ, এই প্রকল্প কৃষকদের সঙ্গে, দেশের সৎ করদাতাদের সঙ্গে বেইমানিরও প্রমাণ।

 

যে প্রকল্প সম্পূর্ণ হতে তখন মাত্র ৩০ কোটি টাকা লাগত, সেটিই এখন সম্পূর্ণ করতে লাগবে ২,৪০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এই প্রকল্প শেষ করতে দেশের করদাতাদের প্রায় ৮০ গুণ বেশি দাম দিতে হবে। আপনারা বলুন যে, যারা এরকম করেছেন, তারা সমাজের প্রতি, কৃষকদের প্রতি, আপনাদের প্রতি অপরাধ করেছেন কিনা? তারা বিহারের প্রতি, ঝাড়খণ্ডের প্রতি অপরাধ করেছেন কিনা? এমন অপরাধীদের সাজা হওয়া উচিৎ কিনা? এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে মোদীর লড়াই করা উচিৎ কিনা? এক চৌকিদারের দায়িত্ব পালন করা উচিৎ কিনা?

 

স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দেশ এত বছর ধরে কিভাবে চলেছে, এই প্রকল্প তার নমুনা। বিহার, ঝাড়খণ্ডের কেমন অবিচার হয়েছে, এই প্রকল্প তার সাক্ষী।

 

ভাই ও বোনেরা, একদিকে তারা রয়েছেন, যারা কৃষকদের ভোটব্যাঙ্ক ভাবেন। আর একদিকে আমরা, যারা কৃষকদের অন্নদাতা মনে করি। সততার সঙ্গে আপনাদের প্রতিটি সমস্যা দূর করার চেষ্টা করি। এত বছর ধরে ঝুলে থাকা কাজ আবার চালু করা সহজ নয়। আপনারা ভাবুন, যখন সংযুক্ত বিহার ছিল, ঝাড়খণ্ড গড়ে ওঠেনি, পাটনায় ক্ষমতাসীন রাজ্য সরকার চাইলে তাদের যদি কৃষকদের প্রতি সামান্য সংবেদনশীলতা থাকত, তারা যদি এখানকার মানুষের সমস্যা সম্পর্কে অবহিত থাকত, তাহলে এই কাজ এত বছর ঝুলে থাকত না।

 

দ্বিতীয়ত, আজ ভারতে জল নিয়ে প্রতিবেশি রাজ্যগুলির মধ্যে বিবাদ চলছে। সুপ্রিম কোর্টে মামলা ঝুলছে। এদিকে নদীগুলির জল নিরন্তর প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রে গিয়ে পড়ছে। কারোর কাজে লাগছে না। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে বিবাদ চলছেই।

 

আজকের এই ঘটনা দেশকে বিশেষরূপে লক্ষ্য করতে হবে। আমি আমার বন্ধু, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার এবং ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী আমার সাথী রঘুবর দাসকে অভিনন্দন জানাই। তাঁদের নেতৃত্বে উভয় সরকার মিলে উভয় রাজ্যের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট এই প্রকল্প সম্পন্ন করার জন্য সংবেদনশীল পদক্ষেপ নিয়েছে।

 

আমি বিহার থেকে আগত আমাদের সাংসদদের এবং ঝাড়খণ্ডের সাংসদদের অভিনন্দন জানাই। উভয় রাজ্যের সাংসদরা মিলে যখনই আমার কাছে এসেছেন, নিজের রাজ্যের সমস্যা নিয়ে নয়, দেশের কৃষকরা যাতে লাভবান হন, তাঁরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা করে গেছেন। এই প্রকল্প শুরুর সমস্ত জটিলতা কাটানোর আগে তাঁরা কেউ নিশ্চিন্তে বসেননি, ঘুমোননি। সেজন্যই আজ এই বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, বিহার ও ঝাড়খণ্ড রাজ্য সরকার মিলেমিশে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে একটি নতুন মাত্রা প্রদান করেছে। এটা আমার জন্য বিশেষ গর্বের, আনন্দের বিষয়। আশা করি অন্যান্য রাজ্যও আপনাদের শিক্ষা নেবে। সেজন্যই আমি বিশেষ করে, উভয় রাজ্যের সাংসদদের, উভয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁদের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

 

বন্ধুগণ, আজ কেউ কেউ দেশের কৃষকদের ঋণ মকুবের নামে বিভ্রান্ত করছে, কৃষকদের মিথ্যা কথা বলছে। আমি জানি যে তারা কখনও ‘উত্তর কোয়েল’ প্রকল্পের নামও শোনেনি। তারা এটাই জানে না যে কোয়েল কোন পাখির নাম, বাঁধের নাম, নাকি নদীর নাম? কেন্দ্রে যখন তাদের সরকার ছিল, দেশের অসমাপ্ত সেচ প্রকল্পগুলি সম্পূর্ণ করার জন্য তাদের কোন মাথাব্যথা ছিল না।

 

আপনারাই বলুন, ৫০ বছর ধরে ঝুলে থাকা এই প্রকল্প ঠিক সময়ে সম্পূর্ণ হলে এই এলাকার কৃষকদের কখনও ঋণের বোঝায় নুয়ে থাকতে হত না। কৃষকদের গলা পর্যন্ত ঋণে ডুবিয়ে দিয়ে তারা এখন রাজনীতি করতে নেমেছেন। ভাই ও বোনেরা, আমরা সরকার গঠন করার পর প্রথম কৃষকের খেতে জল পৌঁছনোকেই অগ্রাধিকার দিয়েছি। পুরনো অসম্পূর্ণ সেচ প্রকল্পগুলির দস্তাবেজ খুঁজে বের করার পর এমন সব কীর্তিকলাপ জানতে পেরেছি যা দেখে আমরা অবাক। আপনারাও শুনলে অবাক হবেন, শুধু ‘উত্তর কোয়েল’ প্রকল্পই নয়, অনেক এরকম সেচ প্রকল্পের কাজ হয়েছে যেখানে বাঁধ তৈরি হয়ে গেছে কিন্তু খাল কাটা হয়নি। আবার কোথাও খাল হয়েছে, বাঁধ হয়নি। যেখানে বাঁধ আর খাল দুটোই হয়েছে, সেখানে জোড়ার কাজ হয়নি। কারোর কোন মাথাব্যথা নেই। করদাতাদের অর্থ নষ্ট হয়েছে, কৃষকদের জমি গেছে, কৃষক মরে গেছে, আর প্রকল্প ধ্বংসাবশেষ হয়ে থেকে গেছে। দেশের কৃষকদের সঙ্গে, সেচ প্রকল্পগুলির সঙ্গে এমনই অসংখ্য অন্যায় হয়েছে।

 

আমি এমনই সব প্রকল্পের তালিকা তৈরি করে বাজেটে অর্থ সংস্থান করে তারপর শুরু করেছি প্রধানমন্ত্রী সিচাঁই প্রকল্প। আজ এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের তেমনই ৯৯তম বড় প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হতে চলেছে যেগুলি ৩০-৪০ বছর ধরে থেমে ছিল, ঝুলে ছিল, ফাইল হারিয়ে গিয়েছিল।

 

বন্ধুগণ, আপনারা জানেন, এখন এই প্রকল্প সম্পূর্ণ করতে আমাদের লাগবে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা। আমরাও যদি কৃষকদের নিয়ে রাজনীতি করতে চাইতাম, তাহলে এত বেশি অর্থ বিনিয়োগে অন্যদের ফেলে রেখে যাওয়া অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য এত পরিশ্রম করতাম না। সরাসরি ১ লক্ষ কোটি টাকা কৃষকদের ঋণ মকুব করে তাঁদের মধ্যে বিতরণ করে দিলেই তো ভোট পেয়ে যেতাম। কিন্তু আমরা কৃষকদের বিভ্রান্ত করার পথ বেছে নিইনি। পাপ করিনি। ঋণ মকুব করলে বড়জোর কৃষকদের এক প্রজন্ম উপকৃত হতেন। কিন্তু এই সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে পাঁচ প্রজন্ম থেকে পঁচিশ প্রজন্ম উপকৃত হবেন। তাঁদেরকে আর ঋণভারে নুয়ে থাকতে হবে না। দেশ সরকার দ্বারা নয়, দেশবাসীদের দ্বারা চলা উচিৎ। দেশ আমাদের দ্বারা নয়, আপনাদের শক্তির ভরসায় চলা উচিৎ। এই ভাবনা নিয়েই আমরা কাজ করে চলেছি।

 

ভাই ও বোনেরা, সরকারের নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলে আজ অনেক প্রকল্প সম্পূর্ণ হয়েছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনেক প্রকল্প সম্পূর্ণ হওয়ার পথে অন্তিম পর্যায়ে রয়েছে। কাজেই যারা কৃষকদের ভোটব্যাঙ্ক বলে ভাবেন, তাদের সঙ্গে আমাদের সরকারের কর্মসংস্কৃতির বিরাট পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্য সংবাদমাধ্যমের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে যাঁরা আলোচনা করেন, তাঁরা অনেকেই বুঝতে পারেন না। এই পার্থক্য খবরের কাগজের শিরোনাম দেখে বোঝা যাবে না। আমরা কৃষকদের ক্ষমতায়নের জন্য একটি নতুন ভাবনা নিয়ে এগিয়ে চলেছি। বীজ থেকে বাজার পর্যন্ত একটি নতুন ব্যবস্থা চালু করে কৃষকদের ক্ষমতায়ন করতে চাইছি।

 

ভাই ও বোনেরা, স্বাধীনতার পর থেকে দেশের সমস্ত সরকার নিজেদের ভাবনা এবং ক্ষমতা অনুসারে কাজ করেছে। কেউ নামকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, আর কেউ কাজকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। আজ এখানে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মাধ্যমে ২৫ হাজার মানুষ নতুন বাড়ি পেয়েছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমি আপনাদের একটি উদাহরণ দিতে চাই।

 

বন্ধুগণ, সাড়ে চার বছর আগে যখন ভারতীয় জনতা পার্টির সরকারকে আপনারা সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন, আমরা দেশের দরিদ্র, গৃহহীনদের একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, ২০২২ সালের মধ্যে দেশের গ্রাম কিংবা শহরে প্রত্যেক নাগরিকের মাথার ওপর পাকা ছাদের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব। সেই প্রচেষ্টা থেকেই আমরা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা শুরু করি। শহরের জন্য আলাদা এবং গ্রামের জন্য আলাদা। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, এরকম প্রকল্প তো আগেও ছিল, আপনারা নতুন কী করেছেন? এটা কি শুধুই নাম বদলের খেলা? এরকম খেলাও আমরা আগে দেখেছি। সেজন্যই এই প্রকল্পে সত্যিকারের পরিবর্তন কী হয়েছে, কিভাবে হয়েছে, এর প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হতে পারে তা আজ আমি ঝাড়খণ্ডের এই পবিত্র মাটিতে আপনাদের মাধ্যমে দেশের প্রত্যেক গরিবকে বলতে চাই।

 

ভাই ও বোনেরা, আমাদের দেশে গৃহহীনদের গৃহ প্রদানের প্রকল্প আগেও ছিল। কিন্তু সেই প্রকল্প একটি নির্দিষ্ট পরিবারের নামে চলত। গৃহহীনদের গৃহ প্রদানের চাইতেও সেখানে ঐ নির্দিষ্ট পরিবারের স্বার্থে ঢাক পেটানোটাই প্রধান ছিল। আমরা এসে এই পরিবর্তন এনেছি … আমরা নরেন্দ্র মোদী আবাস যোজনা কিংবা রঘুবর দাস আবাস যোজনা শুরু করিনি। নামের থেকেও কাজকে আমরা অগ্রাধিকার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা নামে কাজ শুরু করেছি।

 

বন্ধুগণ, দেশে পূর্ববর্তী আবাস প্রকল্পগুলির মাধ্যমে বাড়ি কাদের দেওয়া হবে সেই চয়ন প্রক্রিয়ায় অনেক খেলা চলত। দালালি হত। আমি আপনাদের খোলাখুলি জিজ্ঞাসা করতে চাই, এখানে যে ২৫ হাজার মানুষ বাড়ি পাচ্ছেন, তাঁদের কাউকে কি ঘুষ দিতে হয়েছে? চিৎকার করে বলুন, আপনার শংসাপত্র ওপরে তুলে বলুন যে আমাকে দিতে হয়েছে!

 

আমি দেশের সমস্ত নাগরিককে বলতে চাই, আমাদের ব্যবস্থায় দালালদের কোন স্থান নেই। সেজন্য গরিবদের ব্যাঙ্কের খাতায় সরাসরি টাকা জমা করাচ্ছি। কাদেরকে আগে বাড়ি দেওয়া হবে তা নির্ণয় করতে আমরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করছি। ২০১১-র জনগণনার ভিত্তিতে যে বিপিএল তালিকা ছিল সেটি অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ ছিল। আমরা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মাধ্যমে প্রথমে সেই ত্রুটি দূর করেছি।

 

গৃহ বন্টনে স্বচ্ছতা আনার জন্য আমরা যাদেরকে বাড়ি দিচ্ছি তাদের তালিকা আগে গ্রাম পঞ্চায়েতের দেওয়ালে ঝোলানোর ব্যবস্থা করেছি, যাতে সমস্ত গ্রামবাসী জানতে পারেন যে ন্যায্য মানুষরাই আগে বাড়ি পাচ্ছেন। এক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হল নাম নথিভুক্তিকরণের পরই আগে উপকৃতদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বরাদ্দ টাকা জমা করা হয়েছে যাতে তাঁরা সেখান থেকে সরাসরি ট্রান্সফার করতে কোন অসুবিধায় না পড়েন।

 

ভাই ও বোনেরা, পূর্ববর্তী প্রকল্পগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন স্তরে ভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকত। সেখান থেকে উপকৃতদের অর্থ বরাদ্দ করা হত। প্রায়ই কোথাও না কোথাও টাকা আটকে যেত। আমরা সেজন্য সরাসরি রাজ্যস্তরে একটিই অ্যাকাউন্ট চালু করি যেখান থেকে সরাসরি উপকৃতদের অ্যাকাউন্টে টাকা হস্তান্তর করা হয়।

 

পরবর্তী পদক্ষেপ হল নির্মাণ প্রক্রিয়ায় তদারকি। পূর্ববর্তী প্রকল্পের মাধ্যমে যাঁরা বাড়ি পেয়েছেন, তাঁরা দেখেছেন যে নির্মাণ প্রক্রিয়ায় কত ত্রুটি থাকত। অনেকে তো অসম্পূর্ণ বাড়ি পেয়েছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মাধ্যমে গৃহ নির্মাণকালীণ উৎকর্ষের ওপর নজর রাখার জন্য নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলি। তিনটি ভিন্ন স্তরে নির্মাণ প্রক্রিয়ার ফটো নেওয়া হয়। সেগুলির জিও-ট্র্যাকিং করা হয়। আর এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে যে চাইলে এই ফটো যে কেউ দেখতে পারেন।

 

ভাই ও বোনেরা, আগে যে বাড়ি তৈরি হত, সেগুলি শুধুই চার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। আমরা তার সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ, রান্নার গ্যাস সংযোগ, শৌচালয় এবং পানীয় জল – এই সমস্ত কিছুর ব্যবস্থা করে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বাড়ি গৃহহীনদের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া আরেকটি বড় কাজ করা হয়েছে, আগে যত বড় বাড়ি তৈরি করা হত, তার ক্ষেত্রফলও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যথাসম্ভব স্থানীয় সামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে ন্যূনতম অর্থ বিনিয়োগে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই নতুন ডিজাইনের বাড়িগুলি গড়ে তোলা হচ্ছে।

 

বন্ধুগণ, আজ আপনাদেরকে যেসব কথা বলছি, সেগুলি আপনারা নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝতে পারছেন। কিন্তু দেশের অনেকেই আছেন যাঁরা এগুলি সম্পর্কে জানেন না। আজ তাঁদেরকে জানানো এবং অনুভব করানোর সময় এসেছে। যারা আমার দিকে কাঁদা ছুড়ছে, তারা যখন সরকারে ছিল পাঁচ বছরে গরিবদের জন্য কি করেছেন? ম্যাডাম রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে সরকার চালাতেন। তখন পাঁচ বছরে দেশের মাত্র ২৫ লক্ষ গৃহহীনরা গৃহ পেয়েছিলেন। আর এই মোদী আপনাদের সেবায় আত্মনিয়োজন করে তার থেকেও কম সময়ে ইতিমধ্যেই ১ কোটি ২৫ লক্ষ উন্নতমানের বাড়ি নির্মাণ করে ফেলতে পেরেছে। তার মানে আমরা পাঁচ বছরেরও কম সময়ে যতটা করেছি, ততটা করতে আপনাদের ২৫ বছর লাগত।

 

শুধু তাই নয়, আমাদের কর্মসংস্কৃতিই এমন যে পূর্ববর্তী সরকার গৃহহীনদের জন্য একটি ঘর নির্মাণে ১৮ মাসের থেকেও বেশি সময় লাগাত। আমরা উন্নত নির্মাণ প্রক্রিয়া ব্যবহার করে ১২ মাসেরও কম সময়ে সেই ঘর বানাতে পারছি। ভাই ও বোনেরা, এতদিন আমাদের দেশে বাড়ি, গাড়ি, জমি, দোকান সব পুরুষদের নামে দেওয়া হত। তাদের মৃত্যু হলে সম্পত্তি ছেলের নামে হস্তান্তরির হত। আমরা ঠিক করেছি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মাধ্যমে প্রত্যেক পরিবারের প্রধান মহিলার নামে বাড়ি নথিভুক্ত করব। এভাবেই আমাদের মা-বোনেদের ক্ষমতায়িত করতে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এই গৃহ নির্মাণের প্রক্রিয়ার ফলে মা-বোনেদের কেউ সহজেই বেঘর করতে পারবে না।

 

এখনও যাঁরা দেশে গৃহহীন রয়েছেন, তাঁদের আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি দ্রুতগতিতে কাজ চলছে, আপনারাও আমাদের প্রতিশ্রুতি মতো ২০২২-এর আগেই নিজের মাথার ওপর পাকা ছাদ পাবেন। আমার সামনে এরকম অনেক ভাই-বোন বসে আছেন। তাঁরা কাউকে এক পয়সাও ঘুষ না দিয়ে উন্নত বাড়ির মালিক হয়েছেন।

 

বন্ধুগণ, আমি নিজে সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃতদের সঙ্গে বার্তালাপ করতে থাকি। সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঝাড়খণ্ডের উপকৃতরা আমাকে বলেছেন কিভাবে এই রাজ্যে পরিবর্তন এসেছে। ঝাড়খণ্ডের খুন্ডি এলাকার বোন নীরু, অঞ্জলি, গায়ত্রীরা আমাকে বলেছেন তাঁরা কিভাবে নিজেদের ঘর বানিয়েছেন। ঝাড়খণ্ডের রাজ্য সরকার তাঁদের রানিমিস্ত্রি প্রশিক্ষণ দিয়ে আগে প্রতিবেশীদের গৃহ ও শৌচালয় গড়ে তারপর নিজেদের গৃহ ও শৌচালয় গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করেছে।  

 

ভাই ও বোনেরা, এমনই সকল উপকৃতদের ব্যাঙ্কের খাতায় কিভাবে চার কিস্তিতে সরাসরি ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা গেছে, শৌচালয়ের জন্য আলাদা টাকা গেছে। আগে সাকুল্যে ৭০ হাজার টাকা পাওয়া যেত। তা থেকে তাঁরা বাস্তবে গৃহ নির্মাণের জন্য কতটা হাতে পেতেন সেটা সেই উপকৃতরাই ভালোভাবে বলতে পারবেন।

 

বন্ধুগণ, মাথার ওপর ছাদ পেলে গরিব মানুষের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে পৌঁছে যায়। শীত, গরম, বর্ষা নিয়ে চিন্তা না করে রোজগারের দিকে নজর দিলে তার জীবনযাত্রার মান এমনিই ওপরে উঠতে শুরু করে। পাশাপাশি, মহিলাদের নামে নথিভুক্তি হওয়ায় গরিবদের ক্ষমতায়নের সঙ্গেই মহিলাদের ক্ষমতায়নও হচ্ছে। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি, আত্মসম্মান এবং আত্মবিশ্বাসে ভরপুর হয়ে এই প্রক্রিয়া দেশ থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণে শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠছে।

 

স্বাধীনতার পর থেকে এতদিন যে প্রক্রিয়া চলে আসছিল, তা থেকে আরেকটি পরিবর্তন মধ্যবিত্তরা অনুভব করছেন। আমরা মধ্যবিত্তদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সুদের হারও কম করেছি। দেশের প্রত্যেক নাগরিকের মাথার ওপর যাতে ছাদ থাকে আমরা সততার সঙ্গে সেই প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলিকে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত গৃহ নির্মাণ ঋণের ক্ষেত্রে সুদে ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। ২০ বছর ধরে যদি তাঁরা সেই ঋণ শোধ করেন, তাহলে আগের তুলনায় তাঁদের ৬ লক্ষ টাকা কম দিতে হবে।

 

ভাই ও বোনেরা, এই অঞ্চলের জনজাতি ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লড়াইয়ের ফসল হল এই ঝাড়খণ্ড রাজ্য। এই রাজ্য আপনাদের সকলের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। শ্রদ্ধেয় অটলজির সরকার আপনাদের এই সম্মান দিয়েছে। এই রাজ্যের ভারসাম্যযুক্ত উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ও ঝাড়খণ্ড রাজ্য সরকার সততার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের পথ এবং লক্ষ্য হল ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’।

 

এই ভাবনারই পরিণাম হল এখান থেকে আমি প্রধানমন্ত্রী জয় যোজনা (পিএমজে) বা আয়ুষ্মান ভারতের উদ্বোধন করেছিলাম। গোড়ার দিকে একে লোকে ‘মোদী কেয়ার’ বলত। তিন মাস আগে চালু হওয়া এই প্রকল্প আজ দেশের লক্ষ লক্ষ গরিবের চিকিৎসায় উৎসর্গীকৃত। মাত্র ১০০ দিনের মধ্যে ৭ লক্ষেরও বেশি মানুষ সারা দেশের হাজার হাজার হাসপাতালে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়েছেন অথবা তাঁদের চিকিৎসা চলছে। এর মধ্যে ঝাড়খণ্ডেরও প্রায় ২৮ হাজার মানুষ রয়েছেন।

 

বন্ধুগণ, আজ আয়ুষ্মান যোজনা এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মানুষ এর দ্বারা উপকৃত হচ্ছেন। অর্থাৎ, এই প্রকল্প প্রতিদিন দেশের ১০ হাজার মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

 

ভাই ও বোনেরা, আমাদের উন্নয়নের পঞ্চধারা, অর্থাৎ ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া, যুবসম্প্রদায়ের কর্মসংস্থান, কৃষকদের সেচ, বয়স্কদের ওষুধ এবং সকলের সমস্যা শোনাকে নতুন ভারতের কর্মসংস্কৃতি করে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর।

 

সমস্ত ঝাড়খণ্ডবাসীদের আশীর্বাদ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। নতুন ভারত, নতুন ঝাড়খণ্ড গড়ে তোলার পথে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি আরেকবার বন্ধু নীতিশ কুমার এবং সাথী রঘুবর দাসকে অভিনন্দন জানাই। আমাদের সমস্ত সাংসদদের  অভিনন্দন জানাই।

 

এই প্রকল্পের জন্য আপনাদের সকলকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। আপনারা সকলে বিপুল সংখ্যায় এসে এত ধৈর্য নিয়ে বক্তব্য শুনছেন তাঁদের কাছ থেকে আশীর্বাদ নেওয়ার জন্য আরেকবার মাথা ঝুঁকিয়ে প্রণাম জানাই। আমার সঙ্গে সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে বলেন… দু’হাত বন্ধ করে বলুন…

 

ভারত মাতার জয়…. এভাবে নয়,

ভারত মাতার জয়…. সাবাস

 

ভারত মাতার জয়….

ভারত মাতার জয়….

 

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

 

SSS/SB/DM