পিএমইন্ডিয়া
বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত মায়েরা,বোনেরা, ভাই ও তরুণ বন্ধুগণ|
আজআট মার্চ, গোটা বিশ্ব শতবর্ষেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক মহিলা দিবস হিসেবে এরসঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে| কিন্তু আজ সমগ্র হিন্দুস্থান ঝুনঝুনু-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েগেছে| দেশের প্রতিটি প্রান্তে প্রযুক্তির সহায়তায় এই ঝুনঝুনু ’র অসাধারণ দৃশ্য পৌঁছে যাচ্ছে|
আমিঝুনঝুনু এমনি এমনি আসিনি, অনেক চিন্তা-ভাবনা করে এসেছি; আর সত্যি বলতে আসিনি,আপনারা আমাকে টেনে নিয়েছেন| আপনারা আমাকে আসার জন্য বাধ্য করেছেন| আর বাধ্য হয়েছিএই জন্য যে, আপনারা ‘বেটি বাঁচাওবেটি পড়াও ’ অভিযানকে এই জেলায় যেভাবে অসাধারণ পদ্ধতিতে এগিয়েনিয়ে গেছেন, এখানকার প্রতিটি পরিবার মহান কাজ করেছেন, তাতে স্বাভাবিকভাবেই আমারমনে হলো যে, চলো ঝুনঝুনু ’র মাটি মাথায় লাগিয়ে আসি|
একটুআগেই বসুন্ধরাজি উল্লেখ করছিলেন যে, এটা কেন বীরদের ভূমি, এই ভূমির শক্তি কী ছিলো,আর সেজন্য সমাজসেবার কাজেই হোক, শিক্ষার ক্ষেত্রে হোক, দান-পুণ্যের বিষয় হোক,দেশের জন্য আত্মবলিদানের কথাই হোক; এই জেলা এটা প্রমাণিত করে দিয়েছে যে —যুদ্ধ হোক অথবা দুর্ভিক্ষ হোক, ঝুনঝুনুঝুঁকতে জানেনা, ঝুনঝুনু লড়াই করতে জানে| আর সেজন্য ঝুনঝুনু ’রমাটি থেকে আজ যে কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তাতে ঝুনঝুনু থেকে দেশঅনুপ্রেরণা পাবে, এখান থেকে দেশ এক নতুন শক্তি পাবে|
বেটিবাঁচাও বেটি পড়াও —যদি সাফল্য লাভকরে, তাহলে মনে একটা সন্তুষ্টি আসে| মনে হয় যে, যাক কিছু পরিস্থিতির তো উন্নতিহয়েছে| কিন্তু কখনও কখনও খুব দুঃখ হয়| দুঃখ এইজন্য হয় যে, যে দেশের মহান সংস্কৃতি,যে দেশের মহান পরম্পরা, শাস্ত্রের মধ্যে যেখানে শ্রেষ্ঠ বক্তব্য, বেদ থেকেবিবেকানন্দ পর্যন্ত —সঠিক পথে জ্ঞানদান, কিন্তু কী কারণে, এমনকী কারণে আজ আমাদেরকে নিজেদের ঘরে মেয়েদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য হাত-পা ধরতে হচ্ছে,বোঝাতে হচ্ছে; সেজন্য বাজেটে অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে|
আমিমনে করি যে, কোনো সমাজের জন্যই এর চেয়ে বড়ো দুঃখজনক বিষয় আর কিছু হতে পারেনা| কয়েকদশক থেকে বিকৃত মানসিকতার জন্য, এক ভুল চিন্তাধারার জন্য, সামাজিক অশুভের জন্যআমরা মেয়েদের বলিদানের পথ বেছে নিয়েছি| যখন জানা যায় যে, হাজার ছেলেদের তুলনায়কোথাও ৮০০ মেয়ে, ৮৫০ মেয়ে, কোথাও ৯০০ মেয়ে —তখন এই সমাজের কী দুর্দশা হবে, তা কল্পনা করা যায়| নারী ও পুরুষের সাম্যেরমধ্য দিয়েই এই সমাজের চাকা এগিয়ে যায়, সমাজের গতিবিধি বৃদ্ধি পায়|
কয়েকদশক থেকে মেয়েদের অস্বীকার করা হচ্ছে, প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে, মেরে ফেলা হচ্ছে|এর ফলেই আজ সমাজে এক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে| আমি জানি যে, এক-দু ’টি প্রজন্মের মধ্যে এই পরিবর্তন হয়না|চার-পাঁচটি প্রজন্মের এই অশুভ চেতনা আজ সম্মিলিত হয়েছে| পুরনো যে ক্ষতি, সেই ক্ষতিদূর করার জন্য সময় লাগে, এটা সবাই বুঝেন| কিন্তু এখন তো আমাদের ঠিক করতে হবে যে,যত ছেলে জন্ম নেবে ততসংখ্যক মেয়েরও যেন জন্ম হয়| যত ছেলেকে লালন-পালন করবো,ততসংখ্যক মেয়েকেও লালন-পালন করবো| ছেলে-মেয়ে উভয়ই এক সমান; এই মানসিকতা নিয়ে যদিএগিয়ে যাই, তাহলে চার-পাঁচ-ছয় প্রজন্মে যে খারাপ অবস্হা হয়েছে, তা দুই অথবা তিনপ্রজন্মে ঠিক করতে পারবো| কিন্তু এর জন্য প্রথম শর্ত হচ্ছে —এখনযেসব সন্তানের জন্ম হবে, তাতে যেন কোনো ভারসাম্যের অভাব না হয়|
আরআমার কাছে আনন্দের বিষয় হচ্ছে, আজ যেসব জেলাকে সম্মানিত করার সুযোগ পাওয়া গেছে, এইপ্রথম সারির দশটি জেলা এই কাজটিকে খুব ভালোভাবে করেছে| সদ্যোজাত ছেলেমেয়েদের মধ্যেছেলেদের সমান সমান মেয়েদের নিয়ে আসার ক্ষেত্রে সফল হয়েছে| আজ যাদের সম্মান জানানোরসুযোগ হয়েছে, সেসব জেলাকে, রাজ্যকে, সেই টিমকে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি| তাঁরা এইপবিত্র কাজকে নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছেন|
আমিদেশের সমস্ত আধিকারিকদের, সরকারে আমাদের সমস্ত সহযোগীদের, রাজ্য সরকারগুলোকেঅনুরোধ করব যে, এই বিষয়টিকে যেন জন-আন্দোলনের রূপ দেওয়া হয়| যতক্ষণ প্রত্যেকটিপরিবার এতে যুক্ত হবেনা, আর যতক্ষণ শাশুড়ি এর নেতৃত্ব গ্রহণ করবেন না, ততক্ষণ এইকাজের সময় বেশি লাগবে| কিন্তু যদি শাশুড়ি এই বিষয়ের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন, আর বলেদেন যে ঘরে মেয়েই চাই, তাহলে কারো শক্তি হবেনা যে মেয়েদের সঙ্গে কোনো অন্যায়করবেন| আর সেজন্য আমাদেরকে এক সামাজিক আন্দোলন তৈরি করতে হবে, আমাদেরকে জন-আন্দোলনতৈরি করতে হবে|
ভারতসরকার দুই বছর আগে হরিয়ানায় —যেখানেনারী-পুরুষের অনুপাত খুবই উদ্বেগজনক ছিল, সেই প্রতিকূলতাকে স্বীকার করে হরিয়ানায়এই কর্মসূচি শুরু করেছিল| হরিয়ানার মাটিতে গিয়ে এই বিষয় নিয়ে বলা অনেক কঠিন বিষয়ছিল| আমার আধিকারিকগণ আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, সাহেব সেখানে তো পরিস্থিতিএতটাই খারাপ হয়ে গেছে যে, সেখানে গেলে নতুন কিছু ভুল হয়ে যাবে| আমি বলেছি যেখানেসবচেয়ে বেশি সমস্যা রয়েছে, সেখান থেকেই শুরু করবো| আর আজ আমি হরিয়ানাকে অভিনন্দনজানাই যে, তাঁরা গত দুই বছরে পরিস্থিতিকে এতো দ্রুতগতিতে উন্নত করেছেন|
জন্মেরসময় মেয়েদের সংখ্যায় যে বৃদ্ধি হয়েছে, তা এক নতুন বিশ্বাস এক নতুন আশার জন্ম দেয়|গত দুই বছরের অভিজ্ঞতায়, তাতে যে সফলতা এসেছে, সেই সফলতাকে মনে রেখে আজ ৮ মার্চেঅন্তর্জাতিক নারী দিবসে ভারত সরকার এখন এই যোজনা ১৬০-১৬১ জেলাতেই নয়, ভারতের সমস্তজেলাতেই এখন এই যোজনাকে চালু করছে| এর ফলে পরিস্থিতি ভালো হবে| এই অবস্থা আরও ভালোকীভাবে হবে, তার জন্যও কাজ করা হবে|
আমাদেরনিজেদেরকেই জিজ্ঞাসা করতে হবে| পুরনো যেসব ধ্যান-ধারণা রয়েছে, তাতে কখনো কখনোমেয়েদের বোঝা হিসেবে দেখানো হয়েছে| আজ এটা অনুভব করতে হবে, নানা ঘটনাও এটা জানানদিচ্ছে যে, মেয়েরা বোঝা নয়, মেয়েরাও গোটা পরিবারের মহিমা-মর্যাদা-সম্মান|
ভারতেযখন আমরা শুনি স্যাটেলাইট পাঠানো হয়েছে, মঙ্গলযান হয়েছে, তখন আমরা দেখি যে আমাদেরদেশের তিন মহিলা বিজ্ঞানী মহাকাশ বিজ্ঞানে এত বড় সাফল্য অর্জন করেছেন, তখন বুঝতেপারি যে, মেয়েদের শক্তি কী হতে পারে| যখন ঝুনঝুনুরই এক মেয়ে যুদ্ধ বিমান চালান তখনমনে হয় যে, মেয়েদের শক্তি কী হতে পারে| অলিম্পিকে যখন স্বর্ণপদক নিয়ে কেউ আসে,কোনো পদক নিয়ে আসে এবং যখন জানা যায়, যে নিয়ে এসেছে সে মেয়ে, তখন গোটা দেশের বুকগর্বে ভরে ওঠে এইজন্য যে, আমাদের মেয়েরা গোটা দেশের নাম উজ্জ্বল করছে|
আরযাঁরা এটা মনে করেন যে, ছেলে হলে বৃদ্ধ বয়সে কাজে আসবে, এই পরিস্থিতি কিন্তুবাস্তবে কিছুটা অন্য রকমই| আমি এমন পরিবারও দেখেছি, যেখানে বৃদ্ধ মা-বাবা আছেন,চারজন ছেলে রয়েছে, ছেলেদের আলাদা বাংলো রয়েছে, গাড়ির প্রাচুর্য রয়েছে, কিন্তুমা-বাবার বার্ধক্য কাটছে আশ্রমে| এমন পরিবারও আমি দেখেছি| এমন পরিবারও দেখেছি যে,বৃদ্ধ মা-বাবার একমাত্র মেয়ে, বৃদ্ধ মা-বাবার কষ্ট যাতে না হয়, তার জন্য রোজগারেরকাজ করেন, চাকরি করেন, পরিশ্রম করেন, বিয়ে পর্যন্ত করেন না, আর মা-বাবার জন্যনিজের জীবন উত্সর্গ করে দেন|
আরসেজন্য সমাজে যে চিন্তাধারা বজায় রয়েছে, এই যে বিকৃতি রয়েছে, তা থেকে আমাদেরবেরিয়ে আসতে হবে| একে এক সামাজিক আন্দোলনে পরিবর্তিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব|সফলতা বিফলতা নিয়ে কেউ সরকারকে দোষ দিতে পারেন, কিন্তু এই ক্ষেত্রের সফলতার আধারহচ্ছে প্রতিটি পরিবারের সংকল্প, আর সেজন্য ছেলে-মেয়ে এক সমান, মেয়েকে নিয়ে গর্বেরমানসিকতা, এটা যতদিন আমাদের মানসিকতায় আসবে না, ততদিন পর্যন্ত মায়ের কোলেই মেয়েদেরমেরে ফেলা হবে|
অষ্টাদশশতাব্দীতে মেয়েদেরকে ‘দুধ-খাওয়ানো ’র একটা পরম্পরা ছিল| বড় পাত্রের মধ্যে দুধ ভরে নিয়ে মেয়েকে তাতে ডুবিয়েদেওয়া হতো| কিন্তু কখনও কখনও আমার মনে হয়, আমরা একবিংশ শতাব্দীর মানুষ হওয়ার পরওঅষ্টাদশ শতাব্দীর মানুষদের চেয়েও খারাপ| কেননা অষ্টাদশ শতাব্দীতে তো মেয়েকে অন্ততজন্ম দেওয়া হতো, সেই মেয়েটি তার মায়ের চেহারা দেখতে পেতো, ওই মা তার মেয়ের চেহারাদেখার সৌভাগ্য পেতেন, মেয়েটি এই পৃথিবীতে কিছু মুহূর্তের জন্য হলেও শ্বাস গ্রহণেরসুযোগ পেত, তারপর মহাপাপ করে সমাজের সবচেয়ে খারাপ কাজ করা হতো|
কিন্তুআজ তো তার চেয়েও খারাপ কাজ করা হয় যে, মায়ের পেটেই —মাও মেয়ের মুখ দেখলো না, মেয়েও মায়ের মুখ দেখলো না —আধুনিকবিজ্ঞানের সাহায্যে মায়ে পেটের মধ্যেই বাচ্চাকে মেরে ফেলা হয়| আমি মনে করি এর চেয়েবড় খারাপ কোনো পাপ হয়না| যতক্ষণ আমরা মেনে নেবোনা যে, মেয়েরা আমাদের মহিমা-মর্যাদা-সম্মান,ততক্ষণ পর্যন্ত এই খারাপ বিষয়টি আমাদের মস্তিষ্ক থেকে বের হবে না|
আজএখানে যাঁদের পরিবারে মেয়ের জন্ম হয়েছে, সেইসব মা ও মেয়েদের সঙ্গে দেখা করারসৌভাগ্য আমার হয়েছে| তাঁদের চেহারাতে ততটুকুই খুশি দেখতে পাচ্ছি| তাঁদের আমি জিজ্ঞাসাকরেছি, আপনারা জানেন কি আপনাদের যেদিন জন্ম হয়েছিল সেদিন কি মিষ্টি বিতরণ করাহয়েছিল? তাঁরা বলেছেন, তা তো জানেন না, কিন্তু যখন তাঁদের ঘরে মেয়ের জন্ম হয়েছে,তখন গোটা পাড়ায় তারা মিষ্টি বিতরণ করেছেন, আর অনুষ্ঠানও হয়েছে|
আমাদেরকেএই পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে হবে এবং এই পরিবর্তনের পথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ যাসরকার করছে, তার অংশ হিসেবে এই যোজনাকে গোটা দেশে আমরা বিস্তৃতি ঘটাচ্ছি|
দ্বিতীয়তআজ একটা কর্মসূচির সূচনা হচ্ছে পুষ্টি মিশনের — জাতীয় পুষ্টি মিশন| এখন কেউ যদি পি.এম.-কে গালি দিতে চান, পি.এম.-কে নিয়েআলোচনা করতে চান, পি.এম. ’র সমালোচনা করতে চান, তাহলে তাঁদেরকাছে আমার অনুরোধ হচ্ছে, যতবার পি.এম.-এর সমালোচনা করবেন, পি.এম.-এর আলোচনা করবেন,ভালো বলুন, খারাপ বলুন, ভালো করুন আর নাই করুন, কিন্তু যখনই পি.এম. বলবেন, মনেপি.এম. আসবে, তখনই যেন নরেন্দ্র মোদি মনে না করে, পি.এম. শুনতেই যেন ‘পুষ্টি মিশন ’ মনে হতে থাকে| দেখবেন কীভাবে তা একবারেঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়বে|
আরআমাদের এখান ছেলে হোক বা মেয়ে —তারশরীরের যে বিকাশ, তা থেমে যায়| কখনও জন্মের সময়েই অনেক কম ওজনের বাচ্চার জন্ম হয়,আর তাতেও অজ্ঞতার অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে| আমাদেরকে এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে|আর আমি তারপরও বলবো, এটা শুধুমাত্র সরকারি বাজেট দিয়ে হওয়ার মতো কাজ নয়| এটা তখনইসম্ভব হয়, যখন তা জন-আন্দোলন হয়ে ওঠে| মানুষকে শিক্ষিত করা হয়, বোঝানো হয়, এরগুরুত্বের দিক দেখানো হয়|
অপুষ্টিরবিরুদ্ধে আগে কাজ হয়নি, তা নয়| প্রতিটি সরকারই কোনো না কোনো প্রকল্প করেছে| কিন্তুদেখা গেছে যে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের মনে হয়, যতটুকু ক্যালরির প্রয়োজন, ততটুকুযদি পেটে যায় তাহলেই অপুষ্টি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে| কিন্তু অভিজ্ঞতা তো এটা বলেযে, শুধুমাত্র খাবার ঠিকঠাক হলেই এই সমস্যার সমাধান হয়না| এর সম্পূর্ণ বাস্ততন্ত্রকেসঠিক করতে হবে| খাবার যদি ভালো পাওয়া যায়, কিন্তু যদি সেখানে জল খারাপ থাকে, তাহলেযতই খাবার পেটে যাক না কেন —অপুষ্টিরস্থিতিতে ফারাক আসবে না|
খুবকম মানুষই জানেন যে, বাল্য বিবাহও অপুষ্টিজনিত বাচ্চাদের এক বড়ো কারণ| কম বয়সেবিয়ে হয়ে যাওয়া, সন্তান হয়ে যাওয়া —না মায়ের শরীরের বিকাশ হয়েছে, না জন্ম হতে যাওয়া বাচ্চার শরীর নিয়েও কেউভরসা করতে পারে| আর সেজন্য জীবনের সঙ্গে যুক্ত যত রকম দিক —অসুস্থহলে সময় মত ওষুধ খাওয়া, জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই মায়ের দুধ খাওয়ানোর সৌভাগ্য, নইলেআমাদের এখানে তো আগের দিনের মানুষ তো বলতেন —না,না, জন্মেরসঙ্গে সঙ্গে যে দুধ তা বাচ্চাকে খাওয়াবে না; এটা তো ভুল| জন্মের সঙ্গে সঙ্গে যদিমায়ের দুধ বাচ্চা পায়, তাহলে পুষ্টির সময় বড়ো হওয়ার সময় সমস্যা কম আসে| মায়েরদুধের এতোটা শক্তি রয়েছে, কিন্তু আমরা সেটাকেও উপেক্ষা করি|
সেজন্যমাকে তাঁর সম্পূর্ণ রূপে, যখন তাকে স্বীকার করি, তাঁকে পুজা করি, তাঁর মহানতাকেবুঝতে পারি, তাহলে মা-এর যদি আমরা দেখভাল করি, তাহলে তার কোলে আসা বাচ্চাও অপুষ্টিথেকে মুক্ত থাকবে|
পুষ্টিরচিন্তা করা এক বিশেষ কাজ| কখনও কখনও সরকার নানারকমের টিকাকরণের কাজ করে থাকে|কিন্তু আমরা সেইসব হেলথ সেন্টারের যতগুলো পরিষেবা রয়েছে —বাজেট আছে, অফিসার রয়েছেন, কর্মী রয়েছেন —কিন্তু আমরা সেখানে যাই না| আর এর পরিণামেই কোনো না কোনো অসুস্থতার শিকারহয়ে যাই|
আপনারাএখানে যে ফিল্মটি দেখিয়েছেন —তাতেদেখানো হয়েছে যে, এক হিসেবে দেখা গেছে, শুধুমাত্র হাত না ধুয়ে খাওয়ার অভ্যাসেরজন্য, শরীরে যেসব অসুস্থতা হয়ে থাকে, সেজন্য ৩০-৪০ শতাংশ মৃত্যুই এর জন্য হয়েথাকে| এই অভ্যাস কে করবে যে, মা যখন বাচ্চাকে খাবার খাওয়ান তখন তাঁর হাত ধুয়েখাওয়াতে হবে এবং বাচ্চা যখন নিজেই কিছু মুখে দেবে, তখন বাচ্চারও হাত ধুয়ে দিতেহবে| এসব কে শেখাবে?
এইকাজটি আমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য, আমাদের ছেলেমেয়েদের জীবনের উন্নতির জন্য এটাআমাদের সবার দায়িত্ব| আর সেজন্য এই যোজনাকে এক মিশন হিসেবে নিয়ে, ছড়িয়ে ছিটিয়েথাকা সমস্ত যোজনাকে একসঙ্গে সংযুক্ত করে —তা সেটা জলের সমস্যা হোক, ওষুধের সমস্যা হোক, প্রথার অসুবিধা হোক —সবগুলো ক্ষেত্রকে নিয়ে আসতে হবে| বাচ্চাদের মধ্যে দেখা যায়, স্কুলে যখনযায়, তখন একটা বয়সের পর বাচ্চাদের মনে এক মানসিক দুর্বলতার সমস্যা এসে যায়, সেটাকিসের হয়? যদি স্কুলে পাঁচটি বাচ্চার উচ্চতা বেশি হয়, আর বাকিদের উচ্চতা কম হয়,তাহলে তাদেরও মনে হতে থাকে যে, এই রকম উচ্চতা তারও হওয়া উচিত| তখন সে গাছের ডালেবা এখানে সেখানে ঝুলে ঝুলে মনে করে যে তার উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে —আপনাদের মধ্যে অনেকেই এটা করেছেন নিশ্চয়| সবারই মনে হয় যে, আমারও উচ্চতারবৃদ্ধি হওয়া উচিত| কিন্তু আমরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এইসব বিষয়ের ওপর কাজ করি না|
আজআমাদের দেশে বয়সের হিসেবে যতটুকু উচ্চতা হওয়া উচিত, তার চেয়ে অনেক কম হতে দেখাযাচ্ছে| আমাদের ছেলেমেয়েরা সুস্থ থাকুক, উচ্চতা ঠিক থাকুক, এইসব বিষয়ে মনোযোগ দিয়েএক সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে ২০২২ সালে যখন আমরা স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষ উদযাপনকরবো, তখন দেশে পুষ্টির বিষয়ে আমরা যাতে দুনিয়ার সামনে গর্বের সঙ্গে বলতে পারি যে,আমরা অর্জন করতে পেরেছি| আর আমাদের ছেলেমেয়েদের দেখুন, তাদের দেখতেই আমাদেরসম্পূর্ণ দিন এতো ভালো হয়ে যায়, এরকম হাসি-খুশি ছেলেমেয়ে যাতে সব সময় দেখা যায়,যেখানে আমরা যাবো সেখানেই দেখতে পাবো; এইরকম পরিস্থিতি আমাদেরকে তৈরি করতে হবে|
প্রায়নয় হাজার কোটি টাকা দিয়ে এই যোজনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে| আর সুনির্দিষ্টগুণমানের সঙ্গে আশা কর্মীরা, গ্রামীণ পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবীরা, তাঁদের কাছেপ্রযুক্তির সহায়তা থাকবে, নিয়মিতভাবে তারা তাদের তথ্য সংগ্রহ করবেন| তাতে কোনোসমস্যা এলে দ্রুত উপর থেকে হস্তক্ষেপ করা হবে| সমস্যার সমাধান কীভাবে হবে —সেইসমস্ত বিষয় দেখা হবে| কখনও আট মাসপর্যন্ত বাচ্চার বৃদ্ধি সঠিকভাবে হয়ে থাকলেও, ওজন ঠিকঠাক হতে থাকলেও বৃষ্টিরদিনগুলো এসে গেলে হটাত করে অসুস্থতা শুরু হতে লাগলো| একসঙ্গে অনেক বাচ্চার শারীরিকঅসুস্থতা হতে থাকলো| আপনাদের আট মাসের পরিশ্রম নিচে নেমে আসতে থাকলো| তাই এটা একচ্যালেঞ্জিং কাজ| কিন্তু এই চ্যালেঞ্জিং কাজকেও আমাদের সম্পূর্ণ করতে হবে| আর আমারবিশ্বাস যে, আমরা যেসব সংকল্প করেছি, এই সংকল্পগুলো সম্পূর্ণ হবে|
মিশনইন্দ্রধুনুষ-এর মাধ্যমে টিকাকরণের কাজে আরও দ্রুতগতি এসেছে এবং আমাদের প্রচেষ্টাহচ্ছে, বছরের শেষে ৯০ শতাংশ টিকাকরণের কাজ আমাদের অর্জন করতে হবে|
প্রধানমন্ত্রীমাতৃ বন্দনা যোজনার অধীনে ৬০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা সেসব মায়েদের দিয়ে, তাঁদেরগর্ভাবস্থায় তাঁদের কথা ভাবা হচ্ছে|
এভাবেঘরে লাকড়ির চুলা জ্বালিয়ে মা একদিনে ৪০০ সিগারেটের ধুঁয়া নিজের ফুসফুসে নিয়ে যান|আমরা এ থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার অধীনে বিনামূল্যেগ্যাসের সংযোগ দেওয়ার কাজ আরম্ভ করেছি| বিনামূল্যে গ্যাসের সংযোগ দেওয়ার মাধ্যমেআজ প্রায় সাড়ে তিন কোটি পরিবারকে তা থেকে মুক্ত করার কাজ করা হয়েছে| আসন্ন দিনেওউন্নয়নের এই গতিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে আজ যেসব যোজনার সূচনা হয়েছে, তাকে আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে আমাদের দেশকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হিসেবে তৈরি করতে হবে|আমাদের ছেলেমেয়েরা যদি শক্তিশালী হয়, তাহলে আমাদের দেশের ভবিষ্যতও শক্তিশালী হবে|
এইসংকল্পের সঙ্গে আপনারা সবাই এই জন-আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হোন| আমি দেশবাসীরউদ্দেশে আহ্বান করছি| এটা মানবতার কাজ, এটা পরবর্তী প্রজন্মের কাজ, এটা ভারতেরভবিষ্যতের কাজ, আপনারা সবাই আমাদের সঙ্গে যুক্ত হোন|
সম্পূর্ণশক্তি দিয়ে আমার সঙ্গে বলুন —
ভারতমাতা কি —জয়
ভারতমাতা কি —জয়
ভারতমাতা কি —জয়
অনেক অনেক ধন্যবাদ|
A.D.
With the power of technology the entire nation is connected with Jhunjhunu.
— PMO India (@PMOIndia) March 8, 2018
I am here in Jhunjhunu to commend this district for furthering the #BetiBachaoBetiPadhao movement: PM @narendramodi https://t.co/GV4fRhII6B #NariShakti4NewIndia
There is no question of discrimination based on gender. Everyone is equal: PM @narendramodi in Rajasthan #NariShakti4NewIndia
— PMO India (@PMOIndia) March 8, 2018
Important that girls get access to quality education, just like boys do: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 8, 2018
'बेटा-बेटी एक' भाव के लिए हमें एक सामाजिक और जन आंदोलन खड़ा करने की जरूरत : PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 8, 2018
A daughter is not a burden.
— PMO India (@PMOIndia) March 8, 2018
Please look around us- see how girls are bringing pride and glory for our nation. They are excelling in several fields: PM @narendramodi #NariShakti4NewIndia
बेटी बोझ नहीं, बेटी पूरे परिवार की आन-बान और शान होती हैं : PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 8, 2018
Important to provide proper nutrition to children: PM @narendramodi #NariShakti4NewIndia
— PMO India (@PMOIndia) March 8, 2018
Mission Indradhanush has brought an extremely positive change in the lives of women and children: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 8, 2018
We began the POSHAN Abhiyaan with an unwavering commitment to ensure proper nutrition facilities for our women and children. India will progress when our youth and Nari Shakti are healthy. Here is my speech at Jhunjhunu, Rajasthan today. https://t.co/CPfFzj9E6H pic.twitter.com/kYoF625uL3
— Narendra Modi (@narendramodi) March 8, 2018