পিএমইন্ডিয়া
শ্রদ্ধেয় শ্রী রতন টাটা মহোদয়,
টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারের ডাইরেক্টর ডঃ আর এ বড়ওয়ে,
টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারের সকল চিকিৎসক, শিক্ষার্থী এবং বন্ধুগণ,
টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারের প্ল্যাটিনাম জুবিলিতে আপনাদের সবাইকে আমারআন্তরিক শুভেচ্ছা।
টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারের ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় ‘প্ল্যাটিনাম জুবিলিমাইলস্টোন’ বইটি প্রকাশ করে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার’কে এইজায়গায় পৌঁছে দিতে টাটা পরিবারের নিরন্তর সেবার মনোভাব আর সামাজিক দায়িত্ব পালনেগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
আজ এই প্রতিষ্ঠানের ৭৫তম জয়ন্তীতে এর সঙ্গে যুক্ত সকলকে মনে করার সময়হয়েছে।
এই বইয়ের পাতা উল্টে আমি ১৯৩১ সালের একটি ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারি, সেইসময় মেহর বাঈ টাটা ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য আমেরিকা যাওয়ার সময় নিজের স্বামীদোরাবজি টাটা’কে বলেছিলেন, ‘আমি সৌভাগ্যবতী যে, এই মারণ রোগের চিকিৎসার জন্যআমেরিকা পাঠানোর সামর্থ্য আমার পরিবারের রয়েছে, কিন্তু এদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষেরচিকিৎসা কী করে হবে, যাঁদের এত অর্থ নেই”।
শ্রদ্ধেয়া মেহর বাঈ-এর মৃত্যুর পর দোরাবজি টাটা একথা মনে রেখেছেন, আর সেইপ্রেরণা থেকেই তিনি এই টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার গড়ে তোলার কথা ভেবেছেন।
আজ ৭৫ বছর পর এই প্রতিষ্ঠান ক্যান্সারের চিকিৎসা, ক্যান্সারের চিকিৎসাসংক্রান্ত পঠন-পাঠনের ব্যবস্থা এবং ক্যান্সার নিয়ে উন্নত গবেষণার একটি প্রধানকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। আমাদের দেশে এরকম অনেক কম প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা এত বছর ধরেদেশের সেবায় নিয়োজিত।
লক্ষ লক্ষ গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য এই প্রতিষ্ঠান যেভাবে এগিয়ে এসে কাজকরেছে, তা দেশের বাকি হাসপাতালগুলির জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। এই প্রতিষ্ঠানসরকারি এবং বেসরকারি সংগঠনগুলি মিলেমিশে কিভাবে দরিদ্র জনসাধারণকে আধুনিকতমস্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান করতে পারে, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ যে কোনওপরিবারের জন্য অগ্নি পরীক্ষার সম্মুখীন হওয়ার মতো পরিস্থিতি গড়ে তোলে। শারীরিককষ্ট, মানসিক কষ্ট আর অর্থ সংকুলান – এই সমস্ত বিষয়ই পরিবারটিকে সংকটের দিকে ঠেলেদেয়।
কোনও দরিদ্র মানুষ যদি অসুস্থ হন, তা হলে তাঁর সামনে ওষুধের থেকেও আগেখাদ্য আর কর্মসংস্থানের সঙ্কট প্রকট হয়ে ওঠে। সেজন্য যখন টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারেরমতো প্রতিষ্ঠান, সেখানে কর্মরত চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীরা যখন দরিদ্র মানুষেরচিকিৎসার জন্য দিন-রাত এক করে তাঁদের চিকিৎসা করেন, তাঁদের শারীরিকজ্বালা-যন্ত্রণা উপশমের চেষ্টা করেন, তা হয়ে ওঠে সত্যিকারের মানবসেবা।
আমি শ্রদ্ধেয় রতন টাটা, টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার এবং তার সঙ্গে যুক্তচিকিৎসক, চিকিৎসাকর্মী এবং প্রশাসনে কর্মরত সকলকে আরেকবার টাটা মেমোরিয়ালসেন্টারের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।
বন্ধুগণ, ক্যান্সার মানবতার বড় সংকটগুলির মধ্যে অন্যতম। শুধু আমাদের দেশেইপ্রতি বছর ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন বলে চিহ্নিত হন। প্রতিবছর ৬ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্যান্সারে মারা যান। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চঅন ক্যান্সার-এর অনুমান অনুসারে আগামী ২০ বছরে এই হার দ্বিগুণ হয়ে যাবে।
এই পরিস্থিতিতে প্রত্যেক আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা পরিষেবা দিতে সকলক্যান্সার হাসপাতালগুলিকে একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার প্রয়োজন রয়েছে। একটি এমনপ্ল্যাটফর্ম, যেখানে ক্যান্সার আক্রান্তদের চিকিৎসা সুলভে করার সাহায্য পাওয়াযাবে। পাশাপাশি, চিকিৎসার সময়ে আধুনিকতম প্রযুক্তিরও সাহায্য পাওয়া যাবে।
২০১৪ সালে যখন আমরা সরকারে এসেছি, তখন ৩৬টি ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্রজাতীয় ক্যান্সার গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত ছিল। আমরা চেষ্টা চালিয়ে ইতিমধ্যেই তারদ্বিগুণেরও বেশি ১০৮টি ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্রকে এই গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করতেপেরেছি।
সম্প্রতি, ডিজিটাল ক্যান্সার নার্ভ সেন্টার-ও কাজ শুরু করে দিয়েছে। এভাবেইভার্চ্যুয়াল টিউমার বোর্ডের সাহায্যে ক্যান্সারের নানা ধরণের ক্যান্সার সম্পর্কেবিশেষজ্ঞদের একসঙ্গে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যুক্ত করে রোগীদের চিকিৎসার রূপরেখা ঠিককরার ক্ষেত্রে সাহায্য করা সম্ভব হচ্ছে।
ক্যান্সারের চিকিৎসায় টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারের অভিজ্ঞতা এখানে কর্মরতবিশেষজ্ঞদের দক্ষতাকে ব্যবহার করে, তাঁদের সাহায্যে দেশে ক্যান্সার উপশমে আরও নতুননতুন দিগন্ত উন্মোচিত হোক।
PG/SB/SB
Sharing my speech at the programme to mark the release of Platinum Jubilee Milestone book on Tata Memorial Centre. https://t.co/naB2BSJzfX pic.twitter.com/qKFc6svxNb
— Narendra Modi (@narendramodi) May 25, 2017