পিএমইন্ডিয়া


টেক্সটাইল ইন্ডিয়া ২০১৭’য় আপনাদের সকলকে স্বাগত জানাই। বস্ত্র উদ্যোগক্ষেত্রে এটি এখন পর্যন্ত দেশের সবচাইতে বড় উৎসব। বিশ্বের শতাধিক দেশেরপ্রতিনিধিরা এখানে অংশগ্রহণ করেছে। আমি টেক্সটাইল মন্ত্রক, এই উৎসবের আয়োজকবৃন্দ,এতে অংশগ্রহণকারী শিল্পপতিবৃন্দ এবং বয়ন শিল্পীদের শুভেচ্ছা জানাই।
আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, এই প্রথমবার কেন্দ্রীয় সরকার ও বিভিন্ন রাজ্যসরকারের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে বস্ত্র শিল্প সংশ্লিষ্টমানুষেরা এই মেগা আন্তর্জাতিক উৎসবে অংশগ্রহণ করে এর মাধ্যমে গোটা বিশ্বকে ভারতেটেক্সটাইল শিল্পের সম্ভাবনা সম্পর্কে অবহিত করছেন।
বস্ত্রশিল্প একটি এমন ক্ষেত্র, যা কৃষির সঙ্গে শিল্পের এক অদ্ভুত মেলবন্ধনঘটায়। কার্পাসের চাষ, রেশমচাষ – এগুলির অন্তিম পরিণতি অনেকটাই বস্ত্র শিল্পক্ষেত্রের ওপর নির্ভর করে। কৃষকদের পরিশ্রমে উৎপাদিত কাঁচামাল বাজারজাত করার কাজবস্ত্র শিল্প ক্ষেত্রের মাধ্যমে হয়। অর্থাৎ একদিক দিয়ে বস্ত্রশিল্প কৃষি এবং শিল্প– উভয় ক্ষেত্রেরই অংশ বিশেষ।
ভারতের ইতিহাসে যে শিল্পের গুরুত্ব সর্বাধিক, তা হল বস্ত্র শিল্প। কয়েকহাজার বছর আগেও ভারতীয় শাস্ত্রে বস্ত্রের মহিমা বর্ণিত হয়েছে। শত শত বর্ষপূর্বে এইশিল্পের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। যে পথদিয়ে এই বস্ত্র এবং সুতো অন্যান্য দেশে নিয়ে যাওয়া হ’ত, সেই পথগুলি দিয়েই কত নাবিদেশি দার্শনিক ভারত’কে বুঝতে এদেশে এসেছে আর ভারতীয় সংস্কৃতির মহানতাকে উপলব্ধিকরে ফিরেছেন। নিজেদের সাহিত্যেও তাঁরা ভারতীয় বস্ত্র আর বস্ত্রশিল্পের শক্তিসম্পর্কে বিশেষ উল্লেখ করেছেন।
ভিন্ন ভিন্ন সময়ে আমাদের দেশের সাহিত্যেও এর ছাপ পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রায়দেড় বছর আগে যখন চেন্নাইয়ে প্রথমবার ‘জাতীয় তাঁত দিবস’ সমারোহ হয়েছিল, সেই সময়বেনারসের এক তাঁতিভাই আমাকে একটি উত্তরীয় উপহার দিয়েছিলেন। সেই উত্তরীয় গায়ে সন্তকবীরদাসের একটি প্রসিদ্ধ দোহা হাতেবুনে ফুলকারি করা হয়েছিল। ঐ দোহার কয়েকটি পঙক্তিহ’ল –
ঝীনী ঝীনী বিনী চদরিয়া
কাহে কে তানা কাহে কে ভরনী,
কৌন তাঁর সে বিনী চদরিয়া।
কবীরজি নিজে তকলি ঘুরিয়ে সুতো কাটতেন, কাপড় বুনতেন, কাপড় রং-ও করতেন। তিনিশুধু নিজের কাজের মধ্যে জীবনের সত্যকে খোঁজেননি, সেখান থেকে শব্দ তুলে নিজের দোহায়ব্যক্তও করেছেন।
বন্ধুগণ, বস্ত্র আমাদের দেশের সাংস্কৃতিকবৈচিত্র্যের সঙ্গে যুক্ত। এক কথায় বলা যায় যে, বস্ত্র আমাদের দেশের সাংস্কৃতিকবৈচিত্র্যের প্রতীকস্বরূপ। দেশের অনেক শহর এবং অঞ্চলের পরিচয় বস্ত্রশিল্পকে ঘিরেগড়ে উঠেছে। কাঞ্চীপুরম, বেনারস অথবা আসামের রেশমী বস্ত্র (সিল্ক), কাশ্মীরেরপশমিনা এবং জামাবরের কাজ, বাংলার মস্লিন, লক্ষ্ণৌয়ের চিকনের কাজ, ওড়িশা আরতেলেঙ্গানার হাতে বোনা ইক্কত, গুজরাটের পটোলা; এগুলি শত শত বর্ষ ধরে নিজের নিজেরএলাকার পরিচয় বহন করছে। এই বৈচিত্র্য আপনারা বিশ্বের আর কোনও দেশে পাবেন না।
ভদ্র মহিলা ও ভদ্র মহোদয়গণ,
বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারত’কে বর্তমানে এক উজ্জ্বল স্থান হিসাবে চিহ্নিত করাহচ্ছে। বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিনিয়োগের লক্ষ ্য হিসাবে ভারত উঠে এসেছে। এটা সম্ভবহয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুষম নীতিগত উদ্যোগের মাধ্যমে।
সহজে ব্যবসাকরার সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৭ হাজারেরও বেশি সংস্কারমূলক উদ্যোগ রূপায়ণ করাহয়েছে। অনেক ধরনের পদ্ধতি সরলীকরণ এবং স্বচ্ছ করে তোলা হয়েছে। সরকার ১,২০০-রও বেশিপুরনো আইনকে বাতিল করেছে। এগুলি হচ্ছে কয়েকটি উদাহরণ মাত্র।
এই সব উদ্যোগেরফলে ভারত গত দু’বছরে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্লোবাল কম্পিটিটিভ ইনডেক্সে ৩২ ধাপউঠেছে। যে কোনও দেশের নিরিখে এটি সর্বোচ্চ উত্তোরণ। ২০১৬ সালের বিশ্ব ব্যাঙ্কেরপরিবহণ সংক্রান্ত লজিস্টিক্স পারফরমেন্স ইনডেক্সেও ভারত ১৯ ধাপ ওপরে উঠেছে। ২০১৬সালের বিশ্ব মেধাসম্পদ সংগঠনের গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্সেও আমরা ১৬ ধাপ ওপরে উঠেছি।রাষ্ট্রসঙ্ঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংক্রান্ত সম্মেলনের তালিকাভুক্ত বিনিয়োগ আকর্ষণেরনিরিখে শীর্ষ স্থানীয় ১০টি দেশের মধ্যে ভারত তৃতীয় স্থান দখল করেছে।
‘মেক ইনইন্ডিয়া’ উদ্যোগের ভিত্তিতে সংগঠিত বস্ত্রবয়ন শিল্পে ‘দক্ষতা’, ‘পরিমাপ’ এবং ‘গতি’– এই মন্ত্র সঞ্চারিত করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কর্মসংস্থান, উৎপাদন এবং রপ্তানিবৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘জিরো ডিফেক্ট’ এবং ‘জিরো এফেক্ট’-এর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
বস্ত্রবয়ন এবং পোশাক শিল্পে বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য আমাদের বিনিয়োগসংক্রান্ত নীতি সবচেয়ে উদার। আমরা বস্ত্রবয়ন ও পোশাক শিল্পে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১০০শতাংশ প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের অনুমতি দিয়েছি।
ভদ্র মহিলা ওভদ্র মহোদয়গণ,
ভারতীয় অর্থনীতিতে বস্ত্রবয়ন শিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। সমগ্রমূল্য শৃঙ্খলে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং প্রতিযোগিতামূলক। ভারতে এই শিল্পের জন্যতুলো, উল, রেশম, পাট এবং মনুষ্য নির্মিত তন্তুর মতো পর্যাপ্ত কাঁচামাল পাওয়া যায়।প্রকৃতপক্ষে ভারত হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম তুলো এবং পাট উৎপাদক দেশ। এছাড়া, রেশম এবংমনুষ্য নির্মিত তন্তু উৎপাদনের ক্ষেত্রেও ভারতের স্থান দ্বিতীয় বৃহত্তম। অন্যান্যদেশের তুলনায় এইসব সুবিধাগুলির ফলে আমাদের দেশ অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। এর অতিরিক্তহিসাবে ভারতে অত্যন্ত শক্তিশালী স্পিনিং, উইভিং, নিটিং মতো বুনন সংক্রান্ত দক্ষতাএবং পোশাক উৎপাদনেরও দক্ষতা রয়েছে। ন্যায্য মজুরিতে দক্ষ যুবক শ্রমিক পাওয়া যায়।
আমাদের উচ্চতর অর্থনৈতিক বৃদ্ধি হারের ফলে মানুষের হাতে বিভিন্ন ক্ষেত্রেব্যয় করার জন্য বাড়তি অর্থ রয়েছে। এরফলে, বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্রে বাড়তি চাহিদারজন্য আমাদের দেশের মধ্যেই বস্ত্রবয়নজাত পণ্যদ্রব্যের এক বিরাট বাজার রয়েছে। আমাদেরদেশ হচ্ছে আশাবাদী যুবকদের, যাঁরা বস্ত্রবয়নজাত দ্রব্য, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং হস্তনির্মিত উচ্চমানের জীবনশৈলীর বিভিন্ন ধরনের পণ্যদ্রব্য ব্যবহারের জন্য অর্থ ব্যয়করতে আগ্রহী। পোশাক-পরিচ্ছদ এবং জীবনশৈলীর বিভিন্ন পণ্যদ্রব্যের অভ্যন্তরীণ বাজারবর্তমানে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের সমতুল। ২০২৫ সালের মধ্যে এই বাজার ১৬হাজার কোটী ডলারে পৌঁছবে বলে আশা করা যায়। ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্তের সংখ্যা এইবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।
আমাদের দেশে বস্ত্রবয়ন এবং উৎপাদিত পোশাকেরবিশ্বব্যাপী উচ্চ চাহিদা রয়েছে। ভারত হচ্ছে বস্ত্রবয়ন শিল্পের দ্বিতীয় বৃহত্তমরপ্তানিকারক। বিশ্বব্যাপী এই ধরনের পণ্যদ্রব্যের রপ্তানি ক্ষেত্রে ভারতের অবদানপ্রায় ৫ শতাংশ। ভারতীয় বস্ত্রবয়ন এবং ঐতিহ্যপূর্ণ তাঁতশিল্প ও হস্ত নির্মিতবিভিন্ন ধরনের পণ্যদ্রব্য সারা পৃথিবীর ১০০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি করা হয়ে থাকে।অনেক সময়ে ভারতীয় পর্যটকরা বিদেশে পোশাক-পরিচ্ছদ কিনে পরে বুঝতে পারেন এগুলিভারতেই তৈরি হয়েছে। বস্ত্রবয়ন শিল্পে কর্মসংস্থানের বিরাট সুযোগ রয়েছে। আজকের দিনেএই ক্ষেত্রটিকে কৃষির পরেই দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থানকারী হিসাবে ধরা হয়ে থাকে।সরাসরি সাড়ে চার কোটিরও বেশি মানুষ এই ক্ষেত্রে কর্মরত এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টক্ষেত্রে ৬ কোটিরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়।
এসব কথা মাথায় রেখে বর্তমান সরকার বস্ত্র শিল্প ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বআরোপ করেছে। গত বছর একটি টেক্সটাইল প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে পরিধেয় এবং‘মেড আপ সেক্টর’কে পোক্ত করে তোলা হয়েছে।
সরকার ঠিক করেছে যে, পরিধেয় এবং ‘মেড-আপ সেক্টর’-এ যে কোম্পানি বা ব্যবসায়ীনতুন শ্রমিকদের কর্মসংস্থান যোগাবে – তাদেরকে আর্থিক সাহায্য করা হবে। কিন্তুআর্থিক সাহায্যের পদ্ধতি হবে, তাঁরা যে কর্মচারী নিয়োগ করবেন, তাঁদের প্রভিডেন্ড(ভবিষ্যনিধি) ফান্ডে কোম্পানির পক্ষ থেকে যে ১২ শতাংশ টাকা জমা হয়, তা সরকার বহনকরবে। এরফলে, ফর্মাল সেক্টরে অধিক সম্ভব কর্মচারী নিয়োগ হবে।
এছাড়া, সরকার পরিধেয় ক্ষেত্রে ফার্স্ট টার্ম এমপ্লয়মেন্টের পথও উন্মুক্তকরেছে। অর্থাৎ, এই শ্রমিকরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিযুক্ত হবেন কিন্তু ঐ সময়কালেরমধ্যে তাঁরা সেসব সুবিধা পাবেন – যা স্থায়ী কর্মচারীরা পান। এরফলে, শ্রমিকদেরজীবনমান উন্নত হবে।
আয়কর আইন অনুসারে বস্ত্রশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টকোম্পানিগুলিকে অনেক ছাড় দেওয়া হয়েছে। তেমনি যে উৎপাদকের কারখানায় ন্যূনতম ১০০ জনশ্রমিক কাজ করেন, অথবা ১৫০ জন নতুন শ্রমিক কর্মসংস্থান পান, তা হলে তাঁদের দেয়করের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে।
ভদ্র মহিলা ও ভদ্র মহোদয়গণ,
আমাদের দেশে দক্ষ শ্রমশক্তি অভাবের সমস্যা মোকাবিলায় শিল্পমুখী প্রশিক্ষণকর্মসূচির মাধ্যমে একটি অখন্ড দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি রূপায়ণ করা হচ্ছে।
উৎপাদন এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে আমাদের শক্তির পিছনে রয়েছে বিশ্বমানেরপ্রশিক্ষণ এবং গবেষণা সংস্থা তৈরি করার মধ্যে। ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ ফ্যাশনটেকনোলজি সারা দেশে ১৬টি পেশাদার পরিচালিত ক্যাম্পাসের নেটওয়ার্ক রয়েছে। ফ্যাশনসংক্রান্ত শিক্ষা, গবেষণা, উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং কনসালটেন্সির ক্ষেত্রে এইসংস্থাগুলি গুণমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে।
বিগত কয়েক বছরে আমাদের দেশে রাজ্যগুলির মধ্যে বিনিয়োগ ও শিল্প আকর্ষণের একস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর ফলে, রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে বেশ কিছুগুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যকর করা হয়েছে। প্রত্যেকটি রাজ্যে বস্ত্রবয়ন সহ নতুননতুন শিল্প স্থাপনের সুযোগ-সুবিধা দিতে নিজস্ব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আমার মনে হয়,আরও বেশি করে বস্ত্রবয়নজাত দ্রব্য রপ্তানির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার সময় এসেছে।
ভারত হচ্ছে এমন এক দেশ যেখানে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং ফ্যাশনের ক্ষেত্রেবৈচিত্র্য রয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের পরিহিত পোশাক-পরিচ্ছদের মধ্যে এইবৈচিত্র্যটি সুস্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এইসব পোশাক-পরিচ্ছদের বৈচিত্র্যের বিষয়টিকেবিভিন্ন অঞ্চল অনুসারে ক্যাটালগের মাধ্যমে ভৌগোলিক মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করাউচিৎ। একেকটি রাজ্য ও অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য এবং সুবিধাগুলিকে সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিতকরতে হবে। প্রত্যেক রাজ্যের নিজস্ব সুপরিচিত পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্তআধিকারিক নিয়োগ করে সমগ্র মূল্য শৃঙ্খলে উৎপাদন এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যেসমন্বয়সাধনের ব্যবস্থা করতে হবে। এই ধরনের পোশাক-পরিচ্ছদ উৎপাদন থেকে রপ্তানি সর্বক্ষেত্রেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
এছাড়া, বিশ্বের বড় বড় বাজারে এই ধরনের পণ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রে মানুষেরচাহিদা বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করত্যে হবে এবং সময়নির্দিষ্টভাবে ফ্যাশন এবং বস্ত্রবয়নজাত পণ্যদ্রব্যের নতুন ধরণ নিয়ে নিয়মিত নজরদারিচালাতে হবে। সরকারি সংস্থা ও শিল্প সংস্থাগুলিকেও সহযোগিতার বাতাবরণে বিষয়টি নিয়েকাজে নামতে হবে। এরফলে, বিশ্ব বাজারের চাহিদা মেটাতে এবং আমাদের রপ্তানি বাড়াতেআমাদের শক্তিকে সংহত করা সম্ভব হবে।
বন্ধুগণ,
বৃদ্ধি এবং সম্পদসৃজনের নতুন মন্ত্র হচ্ছে উদ্ভাবন ও গবেষণা। বস্ত্রবয়নশিল্পকেও বৃদ্ধির জন্য ক্রমাগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা চালিয়ে যেতে হবে, যাতে নতুননতুন বাজার খুঁজে পাওয়া যায়। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় যে, বিশ্বের কোনও কোনও অংশেবৃহদাকারের মানুষজন দেখা যায়। তাই এঁদের উপযুক্ত পোশাক-পরিচ্ছদ হবে আমাদের দেশেরতুলনায় দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে অনেকটা বড় মাপের। এজন্য আমাদের তাঁতের প্রস্থ বৃদ্ধি করাপ্রয়োজন হতে পারে। অন্যত্র চাহিদা পৃথক হতে পারে। রপ্তানি বাজারে প্রধান স্থানটিদখল করার জন্য এইসব বিষয়ে বিস্তারিতভাবে ঞ্জর দেওয়া প্রয়োজন।
আজকের দিনে যেসব পণ্যদ্রব্য উৎপাদনে কার্বন নির্গমনের পরিমাণ শূন্য, সেইধরনের পণ্যদ্রব্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। সহজ-সরল ও পরিবেশ-বান্ধব জীবনশৈলীর কথাএখন সবাই বলেন। জৈবরং, জামা-কাপড় এবং জৈব পদ্ধতি ব্যবহার করে উৎপাদিততন্তুজদ্রব্যের বাজার দিন দিন বাড়ছে। আমাদের এই ধরনের জৈব পণ্যদ্রব্য উদ্ভাবনেরক্ষেত্রে উদ্যোগ নিতে হবে।
তুলো এবং পাট ছাড়াও আমাদের কলা এবং বাঁশজাত তন্তুর মতো জিনিসপত্র রয়েছে। এইধরনের জিনিসপত্র থেকে উৎপাদিত পণ্যদ্রব্যের সুনির্দিষ্ট বাজার রয়েছে। তাই, আমাদেরন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ ফ্যাশন টেকনোলজি এবং বৈজ্ঞানিক ও শিল্প সংস্থাগুলিঅন্যান্য উৎস থেকে তন্তু উদ্ভাবনের লক্ষ্যে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছেন।
ভদ্র মহিলা ও ভদ্র মহোদয়গণ,
আমাদের দেশের অখন্ড বস্ত্রবয়ন ক্লাস্টারগুলি পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশ্বমান মেনে চলে। বস্ত্র উৎপাদক রাজ্যগুলিতেওশিল্প-বান্ধব নীতি রয়েছে। এরফলে, বস্ত্রবয়ন শিল্পে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয়পরিকাঠামোর সুবিধাও রয়েছে।
আমি শুনেছি, আগামী দু’দিন ধরে বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সঙ্গে আপনাদেরআলাপ-আলোচনার সুযোগ হবে। আমার মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যও আপনাদের সঙ্গে কথাবার্তাবলবেন। আমি নিশ্চিত যে, এইসব আলাপ-আলোচনা আপনাদের জন্য আকর্ষণীয় ও অর্থবহ হয়েউঠবে।
আমি আশা করি, এই অনুষ্ঠান বস্ত্রবয়ন শিল্প ক্ষেত্রে ভারতের অনুকূল নীতি,পরিবেশ এবং শক্তি ও বিরাট সুযোগ বিষয়ে ভারত ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মধ্যে পরিচিতি গড়েতোলার পক্ষে সহায়ক ভূমিকা নেবে। এরফলে, যেসব দেশ ভারতে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে,তাদের কাছে ভারত এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠার পক্ষে সহায়কহবে। আমি আশা করি, বিশ্বের মধ্যে পোশাক-পরিচ্ছদ ও বস্ত্রবয়নের ক্ষেত্রে ভারতসবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লগ্নি এবং কাজের স্থান হিসাবে দেশের বিরাট সম্ভাবনাকে সফল করেতুলতে এই অনুষ্ঠান বিশেষ ভূমিকা নেবে।
ভদ্র মহিলা ও ভদ্র মহোদয়গণ,
গান্ধীনগরে আপনাদের আগামী তিনদিনের আলাপ-আলোচনা সফল এবং উৎপাদনমুখী হয়েউঠুক, আমি কামনা করছি।
আমি আপনাদের কাছে ভারতে আসতে, বিনিয়োগ করতে এবং এদেশে বস্ত্রবয়ন শিল্পেউৎপাদন শুরু করতে আহ্বান জানাচ্ছি।
ধন্যবাদ।
PG/SB/PB/SB
वस्त्र हमारे देश की सांस्कृतिक विविधता का प्रतीक रहे हैं। कितने ही शहरों और क्षेत्रों की पहचान वहां की टेक्सटाइल इंडस्ट्री से ही है: PM
— PMO India (@PMOIndia) June 30, 2017
India is described as a bright spot in the global economy. It has emerged as one of the most attractive global investment destinations: PM
— PMO India (@PMOIndia) June 30, 2017
Based on #MakeInIndia, the textile industry is being infused with the mantras of 'skill,scale,speed' & 'zero-defect,zero-effect': PM
— PMO India (@PMOIndia) June 30, 2017
The textile sector offers significant employment opportunities. It is today our second largest employer after agriculture: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) June 30, 2017
We should catalogue & map our clothing diversity & clearly earmark strengths & specialities of each state or region: PM
— PMO India (@PMOIndia) June 30, 2017
#TextilesIndia2017
I hope this event will help familiarize global & Indian leaders with India’s enabling policy environment, strengths & vast opportunities: PM
— PMO India (@PMOIndia) June 30, 2017