Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

টোকিওতে “মেক ইন ইন্ডিয়া : আফ্রিকায় ভারত-জাপান অংশীদারিত্ব এবং ডিজিটাল অংশীদারিত্ব” সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

টোকিওতে “মেক ইন ইন্ডিয়া : আফ্রিকায় ভারত-জাপান অংশীদারিত্ব এবং ডিজিটাল অংশীদারিত্ব” সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

টোকিওতে “মেক ইন ইন্ডিয়া : আফ্রিকায় ভারত-জাপান অংশীদারিত্ব এবং ডিজিটাল অংশীদারিত্ব” সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

টোকিওতে “মেক ইন ইন্ডিয়া : আফ্রিকায় ভারত-জাপান অংশীদারিত্ব এবং ডিজিটাল অংশীদারিত্ব” সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ


জাপান এবং ভারত থেকে বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত বাণিজ্যিক নেতৃত্ব, সিইওগণ, কেডাইন্ড্রন, জেট্রো, নিক্কি, সিআইআই এবং ন্যাসকমের বরিষ্ঠ পদাধিকারিগণ।

 

জাপানে এসে এখানকার ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলা আমাকে সবসময়ই আনন্দ দেয়। আজও মনে পড়ে প্রায় ১০ বছর আগে এখানেই প্রথম শিল্পপতিদের বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ পেয়েছিলাম। তখন আপনাদের দূরদৃষ্টিকে বুঝতে পেরেছিলাম, অনেক নতুন নতুন বিষয় শিখেছিলাম। বিগত দশকে ভারতের সঙ্গে আপনাদের আত্মীয়তা সময়ের সঙ্গে অনেক নিবিড় হয়েছে।

 

ভারত সরকার প্রত্যেক স্তরে দেশের ব্যবসার পরিবেশকে পরিবর্তনের জন্য সচেষ্ট। আপনারা যাতে ভারতে সহজে ব্যবসা শুরু করতে পারেন সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা কাজ করে চলেছি।

 

বন্ধুগণ,

 

কয়েক বছর আগে আমি ভারতে মিনি জাপান গড়ে তোলার কথা বলেছিলাম। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে আজ আপনারা তার থেকেও অনেক ব্যাপক স্তরে ভারতে কাজ করছেন।

 

কয়েক দশক ধরে যেখানে ভারতে ১,১৫০টি কোম্পানি ছিল, ২০১৪ থেকে ২০১৭-র মধ্যে শুধু জাপানি বিনিয়োগকারীরাই ভারতে দুশোরও বেশি নতুন কোম্পানি খুলেছে। এই সংখ্যা প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেজন্য আপনারা ধন্যবাদের পাত্র।

 

আজ জাপানি কোম্পানিগুলি ভারতে গাড়ি উৎপাদন থেকে শুরু করে যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং অন্যান্য পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে মিলেমিশে কাজ করছে। ভারত এবং জাপানের মধ্যে এই আনন্দ সফর আরও আনন্দদায়ক এবং পরিণামদায়ী করে তোলার জন্য আমি আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।

 

বন্ধুগণ,

 

বিশ্বাস এবং আমাদের যৌথ ঐতিহ্যের ভিত্তিতেই ভারত এবং জাপানের সহাবস্থানের ভাবনা – আমাদের এই আত্মীয়তা।

 

সেজন্যই ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম জাপান সফরেই উভয় দেশ মিলে ঠিক করেছিলাম যে আমাদের সম্পর্ককে একটি নতুন উচ্চতায় বিশেষ কৌশলগত বিশ্ব অংশীদারিত্বের পর্যায়ে নিয়ে যাব। তারপর থেকে জাপানের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আবে এবং আমি বারবার পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হয়েছি এবং দু’জনে মিলে উভয় দেশের বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে অনেক বাধা-বিপত্তিকে দূরে সরাতে পেরেছি।

 

বন্ধুগণ,

 

বিগত কয়েক বছরে জাপান সরকার আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্পে সাহায্য করেছে। আমাদের ওয়েস্টার্ন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর এখন সম্পূর্ণ হওয়ার পথে। এক বছর পর পুরোপুরি চালু হয়ে যাবে। এর সঙ্গে যুক্ত আমাদের দিল্লি-মুম্বাই শিল্প করিডর প্রকল্পও জাপান সরকার এবং জাপানি কোম্পানিগুলির সঙ্গে যৌথ সমন্বয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

 

মাননীয় আবেজির বিগত ভারত সফরের সময় আমরা মিলিতভাবে ভারতে হাইস্পিড রেল প্রকল্পের কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতিমধ্যেই ভারতে মুম্বাই-আমেদাবাদের মধ্যে প্রথম প্রকল্পটির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

 

বন্ধুগণ,

 

ভারতে আমার নেতৃত্বাধীন সরকার বিগত চার বছরে ব্যবসার যে ক্ষেত্রটিকে সবচাইতে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছে সেটি হল ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’। এর ফলস্বরূপ, আমরা ২০১৪-য় যেখানে বিশ্ব ব্যাঙ্কের ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ র‍্যাঙ্কিং-এ ১৪২তম স্থানে ছিলাম, সেখানে আজ ৪২ ধাপ এগিয়ে ১০০তম স্থানে পৌঁছে গিয়েছি। এক্ষেত্রে এত ব্যাপক স্তরে কাজ হচ্ছে যে অদূর ভবিষ্যতেই আমরা আরও অনেক ধাপ এগিয়ে যাব। কেন্দ্রীয় সরকারি স্তরে, রাজ্য সরকারি স্তরে এবং স্থানীয় সরকারি স্তরে আমরা একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছি যাতে আগামী বছরগুলিতে আরও ভালো সুফল পাই।

 

এত বড় সংস্কার দ্রুত গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং সময়বাহ্য ও পরস্পর বিরোধী অনেক আইন বাতিল কিংবা পরিবর্তনের মাধ্যমেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।

 

আমি এখানে আপনাদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে চাই। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দেশের মধ্যে ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’কে আরও উৎসাহ প্রদানের জন্য ৩৬টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নের র‍্যাঙ্কিং চালু করেছে। ফলস্বরূপ, রাজ্যগুলিতেও বিনিয়োগ নিয়ে সুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

 

পুঁজি নিবেশ আমাদের দেশের স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেসে’র ক্ষেত্রে আমরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি। পুঁজি নিবেশ যত বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থানের সুযোগও তত বাড়বে। দেশে পরিকাঠামো উন্নয়ন হবে। কৃষি, খনিজ, সমুদ্রসম্পদ এবং অন্যান্য যাবতীয় প্রাকৃতিক সম্পদের মূল্য সংযোজন হবে।

 

দেশের নাগরিকদের জীবনধারণকে সরল করে তোলার প্রক্রিয়াও আমাদের ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেসে’রই বিস্তার। সেজন্য একটি মহা অভিযান শুরু করে আমরা অন্যান্য কিছু সুফলও পেয়েছি। সেগুলি হল:

 

·         ওয়ার্ল্ড ইনটেলেকচ্যুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউআইপিও) গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্সের র‍্যাঙ্কিং-এ আমরা একুশ ধাপ উন্নতি করেছি।

 

·         ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামের গ্লোবাল কম্পিটিটিভ ইনডেক্সে আমরা দু’বছরে একত্রিশ ধাপ উন্নতি করেছি।

 

·         ইউএনসিটিএডি-র তালিকাভুক্ত দশটি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ গন্তব্যের মধ্যে এখন ভারত অন্যতম শক্তিশালী গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

 

·         বিগত কয়েক বছরে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ক্ষেত্রে আমরা অনেক সংস্কার করেছি। আজ আমরা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের দৃষ্টিতে সর্বাধিক উন্মুক্ত অর্থ ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছি। এখন স্বয়ংক্রিয় পথে ৯০ শতাংশেরও বেশি অনুমতি প্রদান করা হয়।

 

·         এর পরিণামস্বরূপ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বিগত তিন বছরে ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পরিণত হয়েছে।

 

·         আজ আমরা বিশ্বের সর্বাধিক দ্রুতগতিসম্পন্ন উন্নয়নশীল বড় অর্থ ব্যবস্থা।

 

·         আজ আমরা ২.৫৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থব্যবস্থা হয়ে ওঠার পাশাপাশি বিশ্বের ৬ষ্ঠ অর্থব্যবস্থায় পরিণত হয়েছি এবং শীঘ্রই আমরা ৫ম অর্থব্যবস্থায় পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছি।

 

অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে আমরা এমন দায়বদ্ধতা নিয়ে সংস্কারের কাজ করেছি যে ফলস্বরূপ ভারতীয় অর্থব্যবস্থা ক্রমে:

 

·         ‘অপ্রথাগত’ থেকে ‘প্রথাগত অর্থনীতি’ হয়ে উঠছে।

 

·         লেনদেন এখন শুধু কাগজে-কলমে নয়, অনলাইনে হচ্ছে বলে এর স্থায়ীত্ব এব স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

·         সারা দেশে জিএসটি চালু হওয়ার ফলে পরিবহণ সহজ হয়েছে এবং সরবরাহ ক্ষেত্র আরও শক্তিশালী হয়েছে।

 

·         সময়ের সঙ্গে আমরা কর্পোরেট ট্যাক্স হ্রাস করার পথে এগবো। এক্ষেত্রে ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প যেন লাভবান হয় সেদিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখা হবে।

 

নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় যে স্থায়িত্ব ও স্বচ্ছতা প্রত্যাশা করত তা এখন কেন্দ্রীয় সরকারের পরিচয় হয়ে উঠেছে।

 

বন্ধুগণ,

 

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সফরে এসেই আমি ‘জাপান প্লাস’ নামক একটি সংস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব রেখেছিলাম। আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলতে পারি জেট্রো এবং আপনাদের মিলিত উদ্যোগে সেই ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।

 

এই উপলক্ষে আমি আরেকটি তথ্যও আপনাদের জানাতে চাই। ‘জাপান প্লাস’ আমাদের ‘ইনভেস্ট ইন্ডিয়া’র সঙ্গে মিলেমিশে যৌথভাবে কাজ করে। কিছুদিন আগেই এই ‘ইনভেস্ট ইন্ডিয়া’ তাদের অসাধারণ কাজের জন্য রাষ্ট্রসঙ্ঘে আন্তর্জাতিক পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

 

ভারতে ক্রমবর্ধমান অর্থ ব্যবস্থায় দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলা মধ্যবিত্ত শ্রেণী ও নগরবাসী জনগণ এবং আমাদের জনসংখ্যায় নবীন প্রজন্মের মানুষের সংখ্যাধিক্য জাপানি কোম্পানিগুলিকে আমাদের দেশে কাজ করার ক্ষেত্রে অনেক বড় সুযোগ প্রদান করে।

 

আমি কয়েকটি উদাহরণ দিচ্ছি:

 

বিগত চার বছরে আমরা ভারতে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশকে উৎপাদন, নির্মাণ এবং গবেষণার ক্ষেত্রে গ্লোবাল হাব গড়ে তোলার পথে এগিয়ে চলেছি।

 

ভারতে বিশেষ করে, জাপানি ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি কোম্পানিগুলির কাজ করার অনেক বেশি সম্ভাবনা রয়েছে। আমি এখানে দাঁড়িয়ে প্রত্যেক ছোট-বড় কোম্পানিকে ভারতে স্বাগত জানাই। এমনকি ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পেও জাপানি বাণিজ্যিক নেতারা তাঁদের ব্যবসাকে অনেক উঁচুতে নিয়ে যেতে পারবেন। ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার ক্ষেত্রে অনেক কম সময়ে ভালো পরিণাম দেখা যায়।

 

ভারতে ব্যবসা করার একটি লাভ হল আমাদের দেশে কোন কিছুর উৎপাদন মূল্য অনেক কম। এর পিছনে ভারতে প্রতিযোগিতামূলক শ্রমমূল্য একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে।

 

এভাবেই আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প একটি অত্যন্ত বড় শক্তি। আমি আগেও এখানে এসে বলেছি যে আমাদের সফ্‌টওয়্যার ও আপনাদের হার্ডওয়্যারের মিলন হলে আমি মনে করি আমরা বিশ্বে অনেক আশ্চর্য কিছু করে দেখাতে পারব।

 

শুধু তাই নয়, ভারত প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নতুন নতুন আবিষ্কার যেমন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অফ থিংস, থ্রি-ডি প্রিন্টিং, রোবোটিক্স ইত্যাদির মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রি ফোর পয়েন্ট জিরোর দিকে আমরা দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছি।

 

এভাবেই ইলেক্ট্রিক মোবিলিটি একটি এমন ক্ষেত্র যেখানে ভারত এবং জাপানের মধ্যে সহযোগিতা উভয় দেশের পক্ষেই অত্যন্ত লাভজনক হয়ে উঠছে।

 

বন্ধুগণ,

 

আমরা ভারতে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব কাজ করছি। এখন আমরা পরবর্তী প্রজন্মের উপযোগী পরিকাঠামো নির্মাণে জোর দিয়েছি। আমরা চাই এমন একটি প্রতিযোগিতামূলক অর্থ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে যার ভিত্তি দক্ষতা, গতি এবং মাত্রা। এই ভাবনাকে বাস্তবায়িত করতে আমরা নিয়মিত বিনিয়োগ পরিবেশকে সংস্কার করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।

 

আজ এই মঞ্চ থেকে আমি আপনাদের সবাইকে ভারতে নির্মীয়মান বিশাল ব্যবসায়িক সুযোগ গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। এই অপার সম্ভাবনার আরও কিছু উদাহরণ আমি আপনাদের সামনে প্রস্তুত করতে চাই:

 

·         আমাদের ‘সাগরমালা’ কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা দেশের বিশাল সমুদ্রতটকে বিভিন্ন প্রাদেশিক অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করতে চাই। এক্ষেত্রে আপনাদের কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে।

 

·         স্মার্ট সিটি কর্মসূচি অনুযায়ী অনেক নতুন কাজের পরিসর গড়ে উঠছে। আমরা দেশের ৫০টি শহরে মেট্রো রেল প্রকল্প চালু করতে চাই।

 

·         আমাদের রেল ও সড়ক পথ বিস্তার ও আধুনিকীকরণের কর্মসূচিও অনেক বড়। এখন আমাদের অনেক ক’টি দ্রুতগতিসম্পন্ন করিডর গড়ে তুলতে হবে।

 

·         চালু বন্দর এবং বিমানবন্দরগুলির আধুনিকীকরণের পাশাপাশি নতুন বন্দর এবং বিমানবন্দর স্থাপনের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।

 

·         অন্তর্দেশীয় জলপথ পরিবহণ এবং সবুজ শক্তি উৎপাদন আমাদের নতুন দায়বদ্ধতা এবং এগুলিও আপনাদের জন্য অনেক বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

 

·         দেশে এখন ইস্পাতের ব্যবহার কমেছে। পাশাপাশি, যথেষ্ট পরিমাণে লৌহ আকরিক রয়েছে। আমি চাই যে ভারতে উন্নতমানের ইস্পাত উৎপাদিত হোক।

 

বন্ধুগণ,

 

ভারত এবং জাপান উভয়ে দেশই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং স্বাধীনতার প্রবল সমর্থক। পাশাপাশি, উন্নয়নের জন্য সহযোগিতার ক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং নীতিগুলির ক্ষেত্রে অনেক মিল রয়েছে। পরিকাঠামো এবং সামর্থ্য বৃদ্ধি ছাড়াও স্বাস্থ্য এবং কৃষির মতো ক্ষেত্রগুলিতে ভারত এবং জাপানের মধ্যে তৃতীয় দেশগুলিতে সহযোগিতার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

 

সেজন্য ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় হোক কিংবা দক্ষিণ এশিয়া বা আফ্রিকা, ভারত এবং জাপান আমাদের অংশীদার দেশগুলির অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তৃতীয় দেশগুলিতে উন্নয়ন কার্যে নিজেদের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

 

আন্তর্জাতিক সৌর সঙ্ঘে জাপানের যোগদানের ফলে সৌরশক্তি এবং আবহাওয়া পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলিতে আমাদের উভয় দেশের মধ্যে তৃতীয় দেশগুলিতে যৌথভাবে কাজ করার নতুন দরজা খুলেছে।

 

আমি আনন্দিত যে আজ ভারত-জাপান বাণিজ্য নেতৃত্ব ফোরামের সম্মেলনে অনেক সদস্য আফ্রিকায় ভারত এবং জাপানের ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য অনেক ভালো প্রস্তাব রেখেছে।

 

বন্ধুগণ,

 

আমি সর্বদাই ‘শক্তিশালী ভারত – শক্তিশালী জাপানে’র কথা বলি।

 

আমি আজ এই উপলক্ষে জাপানের শিল্প মহলের এবং ভারতের প্রতি বিশেষ আস্থা প্রদর্শনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। আমি আপনাদের সবাইকে ভারতে বিনিয়োগের গতি বৃদ্ধির জন্য আমন্ত্রণ জানাই। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে জাপান এবং ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে আপনাদের সমস্তরকম সম্ভাব্য সাহায্য করা হবে।

 

আরেকবার এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য আপনাদের সকলকে আমি হৃদয় থেকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।

 

CG/SB/DM