Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

ডঃ এম এস স্বামীনাথনের লেখা বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


ডঃ এম এস স্বামীনাথনের লেখা বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এস স্বামীনাথন মহোদয়, আমার মন্ত্রিপরিষদের সদস্য শ্রদ্ধেয় রাধামোহন সিংহ মহোদয় এবং উপস্থিত সকল শ্রদ্ধাভাজন,

আমি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, তখনই শ্রদ্ধেয় ডঃ স্বামীনাথনের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়, সেই সময় আমরা রাজ্যে মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড প্রকল্প শুরু করেছিলাম। তখন এই বিষয়ে অনেক আমলাতান্ত্রিক প্রতিরোধের মুখোমুখী হতে হয়েছিল। কী করছেন, কেন করছেন – এসব আরকি! কিন্তু সেই সময় ডঃ স্বামীনাথন চেন্নাইয়ে প্রদত্ত তাঁর একটি ভাষণে দেশবাসীকে বলেছিলেন যে, গুজরাট কত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে, আর ভবিষ্যতে এই প্রকল্প থেকে কী কী লাভ হতে পারে! আমরা নিজেদের সরকারের আমলাদেরই বোঝাতে পারছিলাম না, কেন এই প্রকল্প দ্রুত সম্পাদন করা উচিৎ! কিন্তু ডঃ স্বামীনাথনের ঐ বক্তব্য সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হলে আমাদের আমলাদের মেজাজও বদলে যায়। একথা এজন্য বলছি যে, তপস্যা-সাধনার মূল্য কতটা, তা আমি প্রত্যক্ষ করেছি। এখন তো এই প্রকল্প সারা দেশে চালু করার চেষ্টা চালাচ্ছি। ডঃ স্বামীনাথন’কে কৃষি বিজ্ঞানী বলা হয়, কিন্তু কখনও কখনও মনে হয় তিনি কৃষক বিজ্ঞানী, তাঁর মধ্যে একজন জীবন কৃষক রয়েছে। কেবলই গবেষণাগারের কৃষি, উৎপাদন, উৎকর্ষ নয়; তাঁর গবেষণাপত্রগুলির দিকে যদি তাকান, সেগুলি সবই ভারতীয় প্রেক্ষিতে, ভারতীয় কৃষির প্রেক্ষিতে – কৃষি-কেন্দ্রীক। সেজন্যই তিনি এত প্রাসঙ্গিক, নতুবা কখনও কখনও আমরা অনেক নতুন আবিষ্কার দেখি, কিন্তু বুঝতে পারি না, সেগুলি আমাদের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। মাঝখানের ব্যবধান সম্পূর্ণ করা যায় না। ডঃ স্বামীনাথনের বৈশিষ্ট্য হ’ল, তিনি যখন যাই আবিষ্কার করেছেন, সেগুলি সব মাটির সঙ্গে যুক্ত, প্রাসঙ্গিক, আর সেজন্যই অধিক ব্যবহৃতও হয়েছে।

আজকের যুবসম্প্রদায়কে ডঃ স্বামীনাথন কিভাবে প্রেরণা যোগাতে পারেন! আমাদের দেশের সমস্যা হ’ল – সব মানুষই রাজনৈতিক নেতাদের চেনেন, কিন্তু বিজ্ঞানীদের খুব মানুষই চেনেন। যাঁদের এত বড় অবদান, তাঁদের সঙ্গে মানুষের পরিচয় করানো হয় না। ব্যবস্থার ত্রুটি না স্বভাবের ত্রুটি জানি না, কিন্তু দীর্ঘকাল ধরে এই ত্রুটি অনুভব করছি। নবীন প্রজন্মের মানুষ একজন সফল খেলোয়াড়ের থেকে প্রেরণা পান, একজন অগ্রজ শিল্পীর থেকে প্রেরণা পান, রাজনৈতিক নেতাদের থেকে প্রেরণা পান, কিন্তু বড় শিল্প গোষ্ঠীর হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া কেউ বিজ্ঞানীদের খবরই রাখেন না।

আপনারা কল্পনা করুন, এমন একজন বিজ্ঞানী যখন নবীন গবেষক ছিলেন, দেশে খাদ্যাভাব ছিল। এত এত মানুষ অথচ প্রয়োজনের তুলনায় খাবারের সংস্থান ছিল না। তখনই তিনি সংকল্প গ্রহণ করে বলেন, এই পরিস্থিতি বদলাতে পারে, আমরা পরিবর্তন আনবোই! তারপর, নিভৃতে নিবিড় গবেষণার মাধ্যমে এমনসব পদ্ধতি খুঁজে বের করলেন, যেগুলি প্রয়োগ করে দেশে সবুজ বিপ্লব আসে, সেই সংকল্পধারী বিজ্ঞানীর নাম ডঃ স্বামীনাথন। আজকের নবীন প্রজন্মের ‘স্টার্ট আপ’ শিল্পপতিদের সামনে দেশের অপুষ্টি একটি বড় সমস্যা। আমাদের দেশে সাম্বাৎসরিক তিল ও ডাল জাতীয় শস্যের উৎপাদন প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এগুলির উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি আমাদের উৎপাদিত শস্যে প্রোটিন সমৃদ্ধ মূল্য সংযোজনেরও প্রয়োজন রয়েছে। আজকের নবীন প্রজন্মের বিজ্ঞানীরা যদি এই সমস্যা সমাধানের সংকল্প নিয়ে এগিয়ে আসেন, তা হলে দ্বিতীয় কৃষি বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের অপুষ্টি সমস্যা দূর করা সম্ভব। মহাত্মা গান্ধীও বলতেন, ‘ক্ষুধার্তের ঈশ্বর তো খাদ্য’! এই সমস্যার সমাধানে নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন চাই।

কিছু জিনিস আমার ব্যক্তিগত জীবন ছুঁয়ে গেছে। ডঃ স্বামীনাথন সম্ভবত ভারতের সকল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করেছেন। প্রথম প্রধানমন্ত্রী থেকে আমি অব্দি। আপনারা হয়তো দেখেছেন, কারও কাছে কোনও প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে তোলা পুরনো ছবি থাকলেও তাঁর পা মাটিতে পড়ে না। কিন্তু ডঃ স্বামীনাথনের মধ্যে এরকম কোনও প্রতিফলন আমি দেখিনি। বই পড়ে বলছি না, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। আমি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, তিনি সহজভাবে এসে দেখা করতেন, মনেও হতো না যে তিনি এত বড় একজন মানুষ! সাফল্যকে কত সহজে হজম করে ফেলা যায়, তা ওঁর কাছ থেকে শিখতে হয়। আমার মনে হয় না, কেউ কোনও তাঁর চেহারায় অপ্রসন্নতার লেশমাত্র দেখেছেন! বৈজ্ঞানিকরা আমায় ক্ষমা করবেন, সাধারণত, আপনাদের দেখে মনে হয়, গোটা বিশ্বের বোঝা মাথায় নিয়ে চলেছেন, তাঁদের ভুলোমন থেকে এমনকি পরিবারের সদস্যরাও বিব্রত হন। ডঃ স্বামীনাথনের জীবন এর ঠিক উল্টো। তিনি সদা প্রসন্নচিত্ত! এটা তখনই সম্ভব, যখন জীবনের কিছু বিষয় নিয়ে অন্তর্দৃষ্টি থাকে। নিছকই মস্তিষ্কের জ্ঞান দিয়ে তা সম্ভব নয়। বাবা-মায়ের ভালো শিক্ষা ও সংস্কার থাকলে ধমনীতে এসবের প্রবাহ এই অসম্ভবকে সম্ভব করে। তিনি প্রসন্নতাকে স্বভাবে পরিণত করেছেন।

আমাদের দেশে কৃষিক্ষেত্র নিয়ে সমস্যাগুলি আজও একইরকম রয়ে গেছে। দ্বিতীয় সবুজ বিপ্লবের কথা হয়, কিন্তু ভারতের মতো দেশের লক্ষ্য হ’ল চিরহরিৎ বিপ্লব। ভারতের সম্ভাবনা মাপার আগে একবার ম্যাপিং করার প্রয়োজন। এখন আমার দেশের পূর্বভাগকে আর্থিক রূপে ভারসাম্যহীন বলে মনে হয়। এক প্রান্তের সঙ্গে অন্যপ্রান্তের বিশাল অংশের এরকম আর্থিক ভারসাম্যহীনতা নিয়ে একটা দেশের পক্ষে দীর্ঘপথ দ্রুত এগিয়ে চলা সম্ভব হয় না, কোথাও না কোথাও নড়বড়ে হয়ে পড়বে। ভারতের দুই পা ও দুই হাতকে সমান শক্তিশালী করার জন্য দ্বিতীয় কৃষি বিপ্লবে পূর্ব ভারতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রথম কৃষি বিপ্লবে গম ও ধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। পূর্ব ভারতের শক্তি ধানই হোক, দ্বিতীয় তথা চিরহরিৎ বিপ্লবের অগ্রাধিকার। আমি জানি, পূর্ব ভারতে জল আছে, উর্বর জমি আছে, পরিশ্রমী মানুষেরা আছেন, শুধু প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা। সেই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার কাজ করে চলেছে। আমরা এজন্য বিভিন্ন সময়ে ডঃ স্বামীনাথনের কাছ থেকেও অনেক পরামর্শ নিই। এর আগে যেদিন তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল, সেদিনও পূর্ব ভারতের চিরহরিৎ বিপ্লব সম্পর্কে পরামর্শ নিয়েছিলাম। তিনি অনেকবার এসে সকাল থেকে সন্ধ্যে সারাদিন আমাদের টিমের ক্লাস নিয়েছেন। কোন্‌ পরিস্থিতিতে কী কী করতে হবে, সে বিষয়ে পরামর্শও দিয়েছেন। একথা সত্যি যে, প্রতিদিন জনসংখ্যা বাড়ছে, জমি তো আর বাড়ছে না, যতদিন যাবে মানুষের তুলনায় জমি কমতেই থাকবে। সেজন্য ক্রমে মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে।

‘হলিস্টিক অ্যাপ্রোচ’ কেমন হবে, তার জন্য আমাদের উৎপাদন কিভাবে বাড়াতে হবে, আমাদের দেশে মার্জিনাল কৃষক ৮৫ শতাংশ। এহেন পরিস্থিতিতে কম জমিতেও কৃষকরা কিভাবে উৎপাদনশীলতা বাড়াবেন, উৎপাদিত শস্য ও শাকসব্জির বাজারদর এমন হবে, উৎকর্ষ এমন হবে, যাতে নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে তাঁরা উপার্জন করতে পারেন। একইভাবে আজ বিশ্বব্যাপী জলসঙ্কট নিয়ে হৈচৈ চলছে। আমরা জলের পুনর্ব্যবহার এবং জল সংরক্ষণ করা সত্ত্বেও এই সঙ্কট যে কোনও সময়ে দ্বৈত্যাকার হয়ে উঠতে পারে। এ বিষয়টিকে আজ ছোট করে দেখা ঠিক নয়। ২০-৫০ বছর পরের সমস্যার কথা ভেবে এখন থেকেই একটু একটু করে কাজ এগিয়ে নিয়ে গেলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সাংঘাতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করা যাবে। আমরা চাইলেই সমাজকে যে কোনও বিষয়ে তৎক্ষণাৎ সচেতন করে তুলতে পারি না। বায়ু দূষণ নিয়ে মানুষকে সচেতন করার কাজ কবে থেকে জারি রয়েছে, কিন্তু এখনও আমরা পুরো সাফল্য পাইনি।

জলের সংকট সম্পর্কেও সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তোলা অত্যন্ত কঠিন কাজ। জল সংরক্ষণের পাশাপাশি আমরা কিভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে ‘প্রতি বিন্দুতে অধিক শস্য’ – এই দর্শন নিয়ে কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। দেশের নদীগুলিকে যুক্ত করার অভিযানে যদি সাফল্য পাই, তা হলে কৃষিতে সাশ্রয় বৃদ্ধি পাবে। এটাকেও আমি মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনার অঙ্গ হিসাবে ভাবি। যে যেমন বললেন, তাঁর কথা শুনে মাটিতে যে কোনও রাসায়নিক মেশানোর আগে দু’বার ভাবতে হবে। অন্যের দেখাদেখি সার প্রয়োগ করলে চলবে না। অন্ধ অনুকরণ জমির সর্বনাশ করে দিতে পারে। নদী তীরবর্তী শস্যক্ষেত্রগুলিতে যে প্রদূষণ হয়, অনেকের ধারণা তা অধিকাংশই শিল্পজাত প্রদূষণ। শিল্পজাত প্রদূষণের প্রভাব ২-৪ কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। তেমনই যেসব জমিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা হয়, বৃষ্টির পর সেই জমি ধুয়ে যে জল নদীতে যায়, তা কত ভয়ঙ্কর রাসায়নিক পদার্থ মেশায়, তা কল্পনা করুন। প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চাই যোজনার মাধ্যমে আমরা নদীর জলকে যথাসম্ভব বেশি করে ব্যবহারের মাধ্যমে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে রাসায়নিক সারের ব্যবহার হ্রাস করে নদীগুলিকে রক্ষা করার কাজ সরকার মিশন মোডে শুরু করেছে। তেমনই অনেক সময় মানুষের অনেক কথা আমরা উপেক্ষা করি, কিন্তু দশকের পর দশক ধরে, শতাব্দীর পর শতাব্দীকাল ধরে সাধারণ মানুষ যা বলেন, সেসব কথার অনেক শক্তি থাকে। আমাদের উচিৎ, সাধারণ মানুষের সেইসব অপরীক্ষিত উপদেশকে গবেষণাগারে নিয়ে যাচাই করে দেখা। আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, গুজরাটের একটি অঞ্চলকে বলা হয় ‘ভাল’। সমুদ্র তীরবর্তী ঐ অঞ্চলে, খম্বাৎ উপসাগরের তটবর্তী গ্রামাঞ্চলে আমরা ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি, ভালিয়া গমের কথা। গুজরাটের উচ্চ বর্ণের মানুষেরা বেশি দাম দিয়ে এই ভালিয়া গ্রামগুলি থেকে গম কিনে নিয়ে গিয়ে সংরক্ষণ করতেন। এর কী বিশেষত্ব তখন বুঝতে পারতাম না। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর আমি কৃষি বিজ্ঞানীদের মাধ্যমে ঐ ভালিয়া গম পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে যে ফল পেলাম, তা অবাক করে দেওয়ার মতো। সাধারণ গমে কার্বনের পরিমাণ বেশি কিন্তু ভালিয়া গমে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি। সেই সময় আমি সুইজারল্যান্ড গিয়েছিলাম, নেসলে ও আরও কয়েকটি কোম্পানির বিজ্ঞানীদের সঙ্গে আমাদের দেশের অপুষ্টি দূরীকরণে এই ভালিয়া গম কি করে অধিক উৎপাদন করানো যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করেছিলাম। আমি একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে এই ভালিয়া গমের জিন নিয়ে গবেষণার দায়িত্ব দিয়েছি, তারা এক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়েছে। আমরা জানি, বাসমতী শব্দটার কত শক্তি। আমার মনে পড়ে, গুজরাটের ধনী ব্যক্তিরা আম্রেলী জেলার সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল থেকে বেশি দাম দিয়ে বাজরা কেনেন। আম্রেলির বিধায়ক আমাকে এক ব্যাগ আম্রেলি বাজরা উপহার দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর, ঐ আম্রেলি বাজরা নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রেও আমি উৎসাহ দেখিয়েছি।

এভাবেই আমাদের প্রচলিত ধারণায় যেসব শস্য ও শাকসব্জিতে অতিরিক্ত কোনও উপাদান থাকায় মানুষের উপকার হয় বলে বিশ্বাস রয়েছে, সেগুলিকে গবেষণার মাধ্যমে যাচাই করে আমরা সেগুলির অতিরিক্ত চাষের মাধ্যমে জাতীয় পুষ্টি বৃদ্ধির অভিযানে সামিল করতে পারি। দেশের প্রত্যেকটি জেলায় এরকম কৃষি বৈচিত্র্য রয়েছে বলে আমার বিশ্বাস। সেজন্য আমি আমাদের কৃষি বিভাগের আধিকারিকদের বলেছি, আপনারা প্রতিটি জেলায় সমীক্ষা চালান। জেলাগুলিকে ধানের জেলা, গমের জেলা, ঈশবগুলের জেলা, জিরে কিংবা অন্য কোনও মশলার জেলা হিসাবে সনাক্ত করুন। কোনও জেলায় একাধিক শস্য কিংবা শাকসব্জি উৎপাদনের সামর্থ্য থাকতে পারে, সেগুলিকেও চিহ্নিত করুন। এই চিহ্নিতকরণ প্রচারের আলোয় এলে জনসচেতনতা বাড়বে। এক্ষেত্রে হিমাচল প্রদেশে ধুমলজির নেতৃত্বে রাজ্য সরকার খুব ভাল কাজ করছে। আমি যখন সংগঠনের কাজে হিমাচলে থাকতাম, তখন বলতাম, এই সোলান জেলায় এত উৎকৃষ্ট মানের মাশরুম হয়, রাজ্য সরকার এর ‘ব্রান্ডিং’ করে না কেন? আজ আপনারা সোলান গেলে লক্ষ্য করবেন যে, বোর্ড লাগানো হয়েছে ‘মাশরুম সিটিতে আপনাদের স্বাগত’ এভাবেই তারা আপেলের বোর্ড লাগিয়েছে, কিউই সংক্রান্ত বোর্ড লাগানো হয়েছে – এভাবেই দেশের সাধারণ মানুষকে এসবের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে, এ থেকে একটি পরিচয় তৈরি হয়, নাম হয়, কৃষকরাও চিহ্নিত হন, উৎপাদিত পণ্যের কদর বাড়ে, চাহিদাও বাড়ে। বাজারের ক্ষেত্রে এই প্রচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরাও ভাবেন যে, দেশের এই ১৬টি জেলা উৎকৃষ্ট চাল উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। এই ২০টি জেলা তিল উৎপাদনে নাম করেছে, এভাবে দেশের সর্বত্র ‘কৃষিসমূহ’-এর ধারণা আমরা গড়ে তুলতে পারি। যেমন – শিল্পসমূহের ধারণা রয়েছে ঠিক তেমনই। ফলনের ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজনের পর প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রেও মূল্য সংযোজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এরকম একটি সুষম শৃঙ্খলা গড়ে তুলতে রোজগারের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। ফলের ক্ষেত্রে গুদামজাত করার প্রক্রিয়া একরকম আর শস্যের ক্ষেত্রে আরেক রকম। এভাবে আলাদা প্রক্রিয়াকরণ, ভিন্ন মোড়কায়ন, স্বতন্ত্র পরিবহণ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এত বড় দেশ, এই সকল ক্ষেত্রে আমরা যদি উন্নতি করতে পারি, তবেই আগামী ২০২২ সালে স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সরকার যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার স্বপ্ন দেখছে, তা সফল করতে পারবে। কিছুদিন আগে আমি যখন ডঃ স্বামীনাথনের সঙ্গে দেখা করেছিলাম, তখন এক্ষেত্রে কৃষি অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে নিয়ে আমরা কিভাবে এগিয়ে যেতে পারি, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডঃ স্বামীনাথন কাগজে লিখে আমাকে যে পরামর্শ দিয়েছেন, কিভাবে কৃষি উৎপাদনে খরচ কমিয়ে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে আমরা সাশ্রয় করতে পারি, যেমন – নিম কোটিং ইউরিয়ার ক্ষেত্রে সম্ভব হয়েছে, এ কোনও আকাশছোঁয়া প্রকল্প নয়, কিন্তু আমরা এগুলির প্রয়োগকে গুরুত্ব দিয়েছি। ফলস্বরূপ আজ দেশে ইউরিয়া চুরি বন্ধ হয়েছে, ইউরিয়া বিতরণে দুর্নীতি বন্ধ হয়েছে। প্রতি বছর ইউরিয়া নিয়ে যে সংকট তৈরি হ’ত, তা আমরা নির্মূল করতে পেরেছি। পাশাপাশি, সাধারণ ইউরিয়ার তুলনায় অনেক কম নিম কোটিং ইউরিয়া প্রয়োগ করেও চাল আর গমের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবেই ব্যবস্থাকে সরল করে দুর্নীতি দূরীকরণের মাধ্যমে ডঃ স্বামীনাথনের মতো বিজ্ঞানীর প্রজ্ঞাকে কাজে লাগিয়ে ভারত সরকারের এই প্রচেষ্টা সাফল্যের মুখ দেখছে। ভারতকে চিরহরিৎ বিপ্লব এবং একটি সুদূরপ্রসারী কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে বৈজ্ঞানিক প্রয়োগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সমস্যা হ’ল, গবেষণাগার থেকে কৃষিক্ষেত্রের মাঝে যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে, তা হ্রাস করার ক্ষেত্রে আমাদের সকলকে উদ্যোগী হতে হবে। যে বিজ্ঞানীরা প্রাণপন পরিশ্রম করে নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে আসছেন, সেগুলি যদি দেশের মানুষের কাজে না লাগে, প্রতিটি শস্যক্ষেত্রে তাঁদের আবিষ্কারের সুফল না পৌঁছয়, তা হলে কি লাভ! শিল্পপতিরা যত দ্রুত লাভের সম্ভাবনা দেখলেই কোনও নতুন জিনিস উৎপাদনে আগ্রহী হন, কৃষকরা

কিন্তু এত দ্রুত ঝুঁকি নিতে চান না। একথা মাথায় রেখেই প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা আনা হয়েছে। এই প্রকল্পের অবদান হ’ল, আগের তুলনায় সাত গুণ কৃষক নিজেদের বিমা প্রকল্পের আওতায় এনেছেন। এখন তো সবে শুরু, তেমন প্রচারও হয়নি। কৃষকরাও দ্বিধায় রয়েছেন। তবুও এক বছরে সাত গুণ কৃষককে বীমা প্রকল্পের সুরক্ষার আওতায় আনায় দেশের কৃষি ক্ষেত্রে ঝুঁকি গ্রহণের সামর্থ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজ্ঞানীদের নতুন নতুন উদ্ভাবনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় অনেক বেশি কৃষকেরা এগিয়ে আসছেন। এভাবে গবেষণাগার থেকে কৃষি ক্ষেত্রের মাঝের ব্যবধানকে হ্রাস করতে প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে । আগামীদিনে এর সাফল্য সুদূরপ্রসারী হবে। আমি আরেকবার ডঃ স্বামীনাথনকে অন্তর থেকে অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই। তিনি দেশকে অনেক সেবা করেছেন, দেশের কৃষকদের সেবা করেছেন, দেশের দরিদ্র মানুষের ক্ষুধা দূর করতে একজন তপস্বীর মতো সাধনা করে গেছেন। অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

ধন্যবাদ।

PG/ SB/SB