Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

তানজানিয়া সফরকালে ভোজসভায় প্রদত্ত প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ (১০ জুলাই, ২০১৬)

তানজানিয়া সফরকালে ভোজসভায় প্রদত্ত প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ (১০ জুলাই, ২০১৬)


মাননীয় প্রেসিডেন্ট ম্যাগাফুলি এবং

সম্মানিত অতিথিবৃন্দ।

মাননীয় প্রেসিডেন্ট, আপনি যেভাবে আমার এবং আমার প্রতিনিধিদলের জন্য উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং উদার আতিথেয়তার ব্যবস্থা করেছেন সেজন্য ধন্যবাদ জানাই আপনাকে। একইসঙ্গে ধন্যবাদ জানাই আপনার বক্তব্যের জন্য।

আজ রবিবার হওয়া সত্ত্বেও আমাদের সকলের জন্য সময় বের করে নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন আপনারা। এজন্য আমি কৃতজ্ঞ আপনাদের কাছে।

বন্ধুগণ,

দার এস সালাম হল শান্তির পীঠস্থান। কর্মচঞ্চল এই নগরে এসে আমি খুবই আনন্দিত।

স্বাহেলিতে একটি প্রবাদ রয়েছে – “হেরি ইয়াকো হেরি ইয়াংগু” – যার অর্থ হল “তোমার সুখই আমার সুখ”।

এই মানসিক শক্তিতে উদ্বুদ্ধ হয়েই আমি উপস্থিত হয়েছি তানজানিয়ায়। আমাদের দু’দেশের সম্পর্কের মধ্যে রয়েছে এক ঐতিহাসিক শিকড়। বহু শতাব্দী ধরেই আমাদের এই দুটি দেশের নাগরিক পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত। আমাদের মিলন ও সংযোগ ঘটিয়েছে ভারত মহাসাগরের জলরাশি। আমাদের দুটি দেশেরই রয়েছে এক সমৃদ্ধ নৌ-ঐতিহ্য।

বহু শতাব্দী ধরেই ভারত মহাসাগরের বুকে আমরা পাড়ি জমিয়েছি বাণিজ্যের উদ্দেশে। পরস্পর নির্ভরশীল বিশ্ব জগতের কথা এখন আমরা প্রায়ই বলে থাকি। আজ থেকে বহুকাল আগে অষ্টাদশ শতকে গুজরাটের মান্ডবী বন্দর এবং জঞ্জিবারের মধ্যে সম্পর্ক ছিল পরস্পর নির্ভরশীল তারা। প্রাচীন সাহিত্যের বর্ণনায় জানা যায় গুজরাটের মান্ডবী বন্দর কিভাবে আগ্রহের সঙ্গে প্রতীক্ষা করত স্বাহেলির বাণিজ্য পোত এসে পৌঁছনোর অপেক্ষায়।

প্রাচীনকাল থেকেই আমার রাজ্য গুজরাট থেকে মানুষ আসতে শুরু করে আপনাদের এই মহান দেশে। আর আজ তানজানিয়ার ভারতীয় বংশোদ্ভূত সম্প্রদায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমাদের দু’দেশের নাগরিকদের মধ্যে এক ঘনিষ্ঠ সেতুবন্ধনের কাজ করে চলেছে।

সাম্প্রতিক দশকগুলিতে, প্রেসিডেন্ট নেরের সময় থেকেই আমাদের মিলিত মূল্যবোধ, সাধারণ সংগ্রাম এবং জনসাধারণের সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির লক্ষ্যে আমাদের বলিষ্ঠ বাসনার মধ্যেইলুকিয়ে রয়েছে আমাদের দু’দেশের সম্পর্কের গূঢ় রহস্যটি।

বন্ধুগণ,

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে শিল্প, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা এই দুটি দেশের মধ্যে বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারত যদি আজ বিশ্বের দ্রুততম গতিতে বেড়ে ওঠা এক বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটিয়ে থাকে, তানজানিয়া তাহলে নিজেকে গড়ে তুলেছেএই মহাদেশের এক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতি হিসেবে। আমাদের দু’দেশের অংশীদারিত্বের সম্পর্কের সবক’টি ক্ষেত্র নিয়েই আজ আমি বিস্তারিত আলোচনা করেছি প্রেসিডেন্ট ম্যাগাফুলির সঙ্গে।

উন্নয়নের মূল ক্ষেত্র এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সাধারণ চাহিদাগুলি স্থির করার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে আমাদের মিলিত সহযোগিতা কর্মসূচি। এই আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই রূপরেখা তৈরি হয়েছে আমাদের একুশ শতকের সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বের।

বন্ধুগণ,

উন্নয়নের পথে তানজানিয়ার অভিযানে সকল সময়েই এক বিশ্বস্ত সঙ্গী হয়ে থেকেছে ভারত। আগামীদিনেও এই যাত্রাপথে আমরা হয়ে উঠব একে অপরের সঙ্গী।

আপনারা যখন :

· কৃষি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ঘটান;

· শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রসার সম্ভব করে তোলেন;

· অর্থনীতিকে করে তোলেন শিল্পকেন্দ্রিক;

· তরুণ যুবসমাজকে গড়ে তোলেন দক্ষ কর্মী হিসেবে;

· প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির দিকে দৃষ্টি দেন;

· দেশের সমাজ ও মানুষকে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করেন;

তখন মনে রাখবেন, আপনাদের এই প্রচেষ্টায় ভারত সকল সময়েই থাকবে আপনাদের এক বিশ্বস্ত বন্ধু হয়ে।

সহযোগী বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে তানজানিয়ার সঙ্গে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, ক্ষমতা, দক্ষতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ে ভারত সর্বদাই প্রস্তুত। আপনাদের প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের দিকে লক্ষ্য রেখেই এই কাজে এগিয়ে যাব আমরা।

বন্ধুগণ,

আমি আপনাদের সকলের কাছেই অনুরোধ জানাচ্ছি – আসুন, আমরা একযোগে প্রার্থনা করি :

· প্রেসিডেন্ট জন ম্যাগাফুলির স্বাস্থ্য ও সাফল্য;

· তানজানিয়া সাধারণতন্ত্রের মৈত্রীপ্রিয়, বন্ধুবৎসল নাগরিকদের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি; এবং

· ভারত ও তানজানিয়ার মৈত্রী ও সহযোগিতার সম্পর্ককে অটুট ও অক্ষুণ্ণ রাখার কামনায়।

PG/SKD/DM/S….11thJuly, 2016