পিএমইন্ডিয়া
মঞ্চে উপস্থিত সকল বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিরাট সংখ্যায় আগত আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে তুমাকুরু জেলায় এই আমি দ্বিতীয়বার এলাম। এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর সবাই ভাববেন, এখানে একটি কারখানা গড়ে উঠবে। কিন্তু, এটি কোনও সাধার ণ কারখানা নয়। এই কারখানায় তৈরি হেলিকপ্টারগুলি ভারতের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার কাজে লাগবে। আপনাদের চোখের সামনেই দেখবেন, তুমাকুরু জেলার এই ছোট গ্রামটি অচিরেই গোটা বিশ্বে পরিচিত হয়ে উঠবে।
আজ আরেকটি শুভদিন, হিন্দুস্থান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড, যা হ্যাল নামে পরিচিত, আজ ৭৫-তম জন্মদিবস পালন করছে। এইচ এ এল-এর ৭৫ বছরের এই যাত্রাপথ বৈচিত্র্যময়। এই সংস্থার অনেক অবসরপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও আজ এখানে আমন্ত্রিত হয়েছেন। বিগত ৭৫ বছরে এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় যাঁরা যাঁরা কাজ করেছেন, চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মচারী তাঁদের সকলকে সংস্থার ৭৫তম জন্মদিবসে আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি, তাঁদেরকে অভিনন্দন জানাই।
একটা সময় ছিল, আমাদের বিদেশ থেকে শস্য আমদানি করতে হতো। কিন্তু, যখন লালবাহাদুর শাস্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তিনি ‘জয় জওয়ান জয় কিষাণ’ মন্ত্র উচ্চারণ করেন। তাঁর এই মন্ত্র দেশের বৈজ্ঞানিকদের নতুন নতুন আবিষ্কার ও সেগুলির সফল প্রয়োগের মাধ্যমে গত ৫০ বছরে দেশকে শস্য উৎপাদনে স্বয়ম্ভর করে তুলেছে। কিন্তু, দ্বিতীয় কাজ-‘জয় জওয়ান’, যা আমাদের দেশকে নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সাবলম্বী করে তুলবে, দেশের নিরাপত্তার জন্য অন্য দেশের মুখাপেক্ষী হতে হবে না; সেই কাজ সম্পূর্ণ হওয়া এখনও বাকি রয়েছে।
আজও আমাদের দেশের সীমান্ত রক্ষার জন্য, দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা সুরক্ষিত করার জন্য আমাদের সৈনিকদের মরণপণ লড়াই করতে হয়। তাঁরা দেশের জন্য আত্মবলিদান দিতে প্রস্তুত। কিন্তু, শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ময়দানে তাঁদের উন্নতমানের অস্ত্র চাই, অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম চাই। না হলে আমরা অযথাই শত্রুদের সামনে ঠেলে দিচ্ছি আর তাঁরা শহীদ হচ্ছেন। এটা কোনও সমাধান নয়। ভারতের বীর সেনানীদের সাহসিকতা বিশ্বের কোনও সেনার থেকে কম নয়। সেজন্য ভারতীয় সেনার কাছে দুর্বল অস্ত্রশস্ত্র থাকা উচিত না।
এখন উন্নতমানের অস্ত্রশস্ত্র আমাদের বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এর পেছনে কোটি কোটি টাকা বিদেশে চলে যায়। অথচ আমরা যে অস্ত্র পাই, সেগুলি অধুনাতম অস্ত্র থেকে সামান্য দুর্বল মানের পাই। কোটি কোটি টাকা খরচ করেও আমরা যেসব অস্ত্র ক্রয় করি, সেগুলি উন্নত দেশে ৫ বা ১০ বছর আগে চালু ছিল। আমাদের ২০১৫’র অধুনাতম অস্ত্র চাই। কিন্তু, সেই অস্ত্র ২০২০’তে আমাদের হাতে এলে কোনও লাভ নেই। সেজন্যই দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সকল অস্ত্রশস্ত্র ও আনুষঙ্গিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম আমাদের দেশেই তৈরি হওয়া উচিত। ভারতের বৈজ্ঞানিকদের আবিষ্কার সমৃদ্ধ ডিজাইন অনুসরণ করে ভারতীয় ইঞ্জিনিয়াররা আমাদের সেনাদের উপযোগী আধুনিকতম অস্ত্র নির্মাণ করতে পারলে তবেই লালবাহাদুর শাস্ত্রীর ‘জয় জওয়ান’ স্বপ্ন সফল হবে।
কিন্তু, যতদিন এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত না হয়, আমাদের আগের মতোই বিদেশ থেকে অস্ত্র আমদানি করতে হবে। সেজন্য ইদানিং যখন আমরা বিদেশ থেকে অস্ত্র আমদানির চুক্তি করি, তখন বলি, আপনারা যতটা উৎপাদন করেছেন, সেগুলি আমরা কিনে নেব, কিন্তু আমাদের প্রয়োজন অনুসারে বাকি অস্ত্র আপনাদের ভারতেই প্রস্তুত করতে হবে। বাকি অস্ত্র ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ হওয়া চাই, তা হলেই আমরা কিনবো। ভাই ও বোনেরা, আপনাদের এই ছোট গ্রামে এরকমই ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ হেলিকপ্টার নির্মিত হবে, যা মূলত সেনাবাহিনীর কাজে লাগবে। আমাদের সৈনিকরা যে দুর্গম অঞ্চলগুলিতে মোতায়েন রয়েছেন, তাঁদেরকে ওষুধপত্র পৌঁছে দিতে এবং কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে তাঁকে তুলে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কাজ এই হেলিকপ্টারগুলি করবে।
এভাবেই নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দেশকে স্বয়ম্ভর করে তুলতে ২০১৬’র জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে একটি শুভ সূচনা হল। কর্ণাটকের তুমাকুরু জেলাকে বছরের শুরুতে ভারত সরকারের এই উপহার তুলে দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমি চাই, এই কারখানা নির্মাণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হোক, যাতে ২০১৮’তে এখানে নির্মিত হেলিকপ্টার আকাশে উড়তে পারে। সম্পূর্ণ রূপে ভারতীয় পদ্ধতি অনুসরণ করে নির্মিত এই হেলিকপ্টার যেন ২০১৮’তে আকাশে পাখা মেলে।
আগামী ১৫ বছরে এই কারখানা থেকে ৬০০টি হেলিকপ্টার নির্মাণ করে সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার স্বপ্ন আমরা দেখেছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এইচ এ এল-এর ৭৫ বছরের সফরে আপনাদের কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ সক্ষম মানবসম্পদ রয়েছে যাঁরা দেশের স্বপ্নকে সাকার করে দেখাবে আর ১৫ বছরের মধ্যে আপনাদের কাছ থেকে দেশের প্রতিরক্ষা বিভাগ ৬০০টি হেলিকপ্টার উপহার পাবে। এই প্রকল্পে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। তুমাকুরু জেলায় এটিই এ পর্যন্ত সর্বাধিক বিনিয়োগকারী কারখানা হয়ে গড়ে উঠবে। এই প্রকল্পের ফলে, এখানে প্রত্যক্ষ এবং অপ্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৪০০টি পরিবারের কর্মসংস্থান হবে।
কোনও কৃষকের বাড়িতে তিন জন সন্তান থাকলে তাঁকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, আপনি ওদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ভাবছেন? তাঁরা কি সবাই বড় হয়ে কৃষক হবে? সেই কৃষক যত জমির মালিকই হোন না কেন, তাঁর জমিতে যত ভালো সেচ ব্যবস্থাই থাকুক না কেন, তাঁর ক্ষেত থেকে যত বেশি ফসল উৎপাদিত হোক না কেন, তিনি কিন্তু তিন জনকেই কৃষিকাজে লাগাতে চান না। তিনি চান, তিন জনের মধ্যে একজন কৃষিকাজ দেখুক, আর বাকি দু’জন লেখাপড়া শিখে শহরে গিয়ে রোজগার করুক, শিল্পক্ষেত্রে যাক। সেজন্য কৃষকদের উপকার করতে হলে তাঁদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কিছু সন্তানকে শিল্পে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করে দিতে হবে।
আমাদের সংবিধানের রচয়িতা বাবাসাহেব আম্বেদকর ভারতে দ্রুত শিল্পায়নের পক্ষে ছিলেন। তিনি বলতেন, যে দলিত ব্যক্তির জমিই নেই তিনি কী করবেন? শিল্প গড়ে উঠলে দলিত ঘরের সন্তানও কাজ পাবেন। এই হেলিকপ্টার নির্মাণের উদ্যোগও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই এই অঞ্চলের কৃষক পরিবারের সন্তানদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভারতের নিরাপত্তা বৃদ্ধির পাশাপাশি এই প্রকল্প বাবাসাহেব আম্বেদকরের স্বপ্নকেও সফল করবে। আমি কর্ণাটক সরকারকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, ভবিষ্যতেও আপনারা একইভাবে ভারত সরকারের সহযোগিতা পাবেন। আর এইচ এ এল-এর বন্ধুরা এই কারখানা থেকে আগামী ২০১৮ সালে হেলিকপ্টার উড়ানোর যে সংকল্প নিয়েছেন, তাঁদেরকে আমি অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।
যখন আমি কর্ণাটক প্রবাসে ছিলাম, কিছুদিন এই তুমাকুরু জেলায় থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল। এবার আমার ব্যবস্থাপক বলেছিলেন, এখানে এসে ১৫ মিনিট সময়ের মধ্যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর ২-৫ মিনিট কিছু বলে ফিরে যাবো। কিন্তু আমি কখনও ভাবিনি, এখানে এই কড়া রোদের মধ্যে লক্ষাধিক মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখবো, যেদিকেই তাকাচ্ছি শুধু মানুষের মাথা দেখতে পাচ্ছি। আপনাদের এই ভালোবাসার জন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ, আপনাদের সবাইকে আরেকবার নমস্কার জানাই।
PG/SB/SB
What is being set up here is no ordinary factory & very soon this district is going to come on the world map: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) January 3, 2016
PM @narendramodi congratulates HAL on completing 75 years.
— PMO India (@PMOIndia) January 3, 2016
I congratulate all those who have served in HAL: PM @narendramodi https://t.co/TAsStb5hm0
— PMO India (@PMOIndia) January 3, 2016
We had to import grains to feed stomachs. A clarion call by Shastri ji changed that. Farmers got inspired to make India self-sufficient: PM
— PMO India (@PMOIndia) January 3, 2016
PM @narendramodi emphasises on indigenous defence production.
— PMO India (@PMOIndia) January 3, 2016
Defence manufacturing, driven by our scientists and engineers is being encouraged: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) January 3, 2016
The project is going to bring tremendous investment to this district: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) January 3, 2016