পিএমইন্ডিয়া
আফ্রিকান ইউনিয়নের মহামান্য সভাপতি, আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারপার্সন মাননীয় রবার্ট মুগাবে, মাদাম লামিনি জুমা এবং অন্যান্য গণ্যমান্য অতিথিবৃন্দ।
আফ্রিকার ১৫টি সার্বভৌম দেশের পতাকা শোভিত আজকের বিশ্ব অনেক উজ্জ্বল বলে মনে হচ্ছে। আজকের এই বর্ণাঢ্য সমাবেশ দিল্লিকে বিশ্বের এক বিশেষ স্থানের মর্যাদা দান করেছে।
৪১টি দেশ ও সরকারের প্রধান এবং অন্যান্য বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ, শত শত প্রবীণ ও পদস্থ সরকারি আধিকারিক, বাণিজ্যিক নেতৃবৃন্দ এবং আফ্রিকার সমবেত সাংবাদিকবৃন্দ – আপনাদের সকলকের উদ্দেশেই আমার নিবেদন – আপনাদের উপস্থিতি আজ আমাদের ভীষণ ভীষণভাবে সম্মানিত করে তুলেছে।
যে মহাদেশ থেকে ইতিহাসের সূচনা, মানবতার উৎপত্তি এবং নতুন আশা-আকাঙ্ক্ষার উন্মেষ তার উদ্দেশ্যেও আমার একই বার্তা।
উত্তরের মরু অঞ্চল যেখানে ভাসমান ধূলিকণার মধ্য দিয়ে মানবসভ্যতার গর্ব সমুজ্জ্বল হয়ে ওঠে তার উদ্দেশ্যেও আমার একই নিবেদন।
আমার একই বার্তা দক্ষিণের প্রতি যেখানে মহাত্মা গান্ধী থেকে অ্যালবার্ট লাথুলি হয়ে নেলসন ম্যান্ডেলা পর্যন্ত বর্তমান যুগের বিবেকের বাণী প্রতিধ্বনিত হয়েছে।
আটলান্টিকের উপকূল, একদা যা ছিল অনেক বিয়োগান্ত ইতিহাসের সাক্ষী এবং বর্তমানে যা অনেক অনেক সাফল্যের দিকপ্রান্ত তার উদ্দেশ্যেও রইল আমার একই বার্তা। পুনরায় জেগে ওঠা পূর্ব উপকূলের আমাদের প্রতিবেশীবৃন্দ, আফ্রিকার হৃদস্থলে অবস্থিত উদার ও সমৃদ্ধ প্রকৃতি এবং দ্বীপ রাষ্ট্রগুলির উজ্জ্বল রত্ন – সবার উদ্দেশ্যেই আমার একই নিবেদন।
আপনাদের সকলকে জানাই ভারতের পক্ষ থেকে মৈত্রীর আন্তরিক অভিনন্দন ও আলিঙ্গন। আজকের এই দিনটি শুধুমাত্র ভারত ও আফ্রিকার মধ্যে একটি বৈঠকমাত্র নয়, আজ মানবজাতির এক-তৃতীয়াংশের স্বপ্নও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে একই ছাদের তলায়। আর এরই ছন্দে অনুরণিত হচ্ছে ১২৫ কোটি ভারতবাসী এবং ১২৫ কোটি আফ্রিকার জনসাধারণের হৃদয়স্পন্দন।
বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতার অংশীদার আমরা উভয়েই। আমাদের উভয়েরই রয়েছে ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল ঐতিহ্য।
যুগ যুগ ধরে আমাদের ইতিহাস আমাদের আগ্রহকে আরও ঋদ্ধ করেছে। এক সময় ভৌগোলিক কারণে আমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম। বর্তমানে আমরা ভারত মহাসাগরের কল্যাণে নিবিড়ভাবে যুক্ত হয়েছি। মহাসাগরের সুতীব্র ঢেউ আমাদের আত্মীয়তাবোধ, আমাদের বাণিজ্য, আমাদের সংস্কৃতিকে বহু শতাব্দী ধরেই আরও সমৃদ্ধ করে তুলেছে।
অদৃষ্টের খোঁজে কিংবা পরিস্থিতির বশে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভারত ও আফ্রিকার জনসাধারণ পরস্পরের দেশে যাত্রা করেছে। আর এভাবেই আমরা পরস্পরকে সমৃদ্ধ করেছি এবং আমাদের সম্পর্ক হয়ে উঠেছে গভীরতর।
ঔপনিবেশিকতাবাদের সুদীর্ঘ ছায়ার মধ্যে আমরা একদা বাস করেছি। সেইসঙ্গে, মুক্তি ও মর্যাদার লক্ষ্যে আমরা সংগ্রামও করেছি। আমাদের সংগ্রাম করতে হয়েছে ন্যায়-বিচার ও সুযোগ-সুবিধা আদায়ের জন্য। আফ্রিকার প্রজ্ঞা অনুসারে এটি হল মানবজাতির প্রাথমিক শর্ত।
বিশ্বে বহুক্ষেত্রেই আমরা একত্রে সরব ও সোচ্চার হয়েছি এবং নিজেদের সমৃদ্ধির জন্য আমরা পরস্পরের অংশীদার হয়ে উঠেছি।
শান্তিরক্ষার লক্ষ্যে আমরা চেষ্টা করেছি, সেইসঙ্গে ক্ষুধা ও রোগ-ব্যাধির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইও করতে হয়েছে।
ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টিপাত করলে আমরা দেখি সেখানে রয়েছে এক মূল্যবান সম্পদ যা আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে। এই সম্পদ হল যুব সমাজ।
ভারত ও আফ্রিকার দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের বয়সই ৩৫ বছরের নীচে। তরুণরা যাতে ভবিষ্যতের দখল নেয় সেই লক্ষ্যে আমারদের গড়ে তুলতে হবে বর্তমান শতাব্দীকে।
মাননীয় অতিথিবৃন্দ, আফ্রিকা ইতিমধ্যেই এই পথ অনুসরণ করেছে।
আফ্রিকার সুপ্রাচীন সাফল্যের ঘটনাবলীর সঙ্গে আমরা সকলেই পরিচিত। বর্তমানে তার আধুনিক কর্মপ্রচেষ্টা ইতিমধ্যেই বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ঐ মহাদেশ বর্তমানে অনেক বেশি স্থিতিশীল। আফ্রিকার বিভিন্ন জাতি আজ তাদের উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণে জোটবদ্ধ হয়েছে।
আফ্রিকার সংগ্রাম ও ত্যাগ স্বীকার গণতন্ত্রের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা এবং নারীর ক্ষমতায়নের মধ্য দিয়ে তা সম্ভব হয়ে উঠেছে। আফ্রিকার সংসদের প্রায় ২০ শতাংশ সদস্যই বর্তমানে মহিলা।
এই সাফল্যের পেছেনে রয়েছে যাঁর বিশেষ অবদান সেই প্রেসিডেন্ট স্যারলিফ-কে আজ তাঁর জন্মদিনে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।
আফ্রিকার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বর্তমানে বহুধা বিস্তৃত। আফ্রিকার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা অতীতের ভুলভ্রান্তি দূর করে আঞ্চলিক তথা অর্থনৈতিক সংহতির নতুন নতুন সেতুবন্ধন করে চলেছে।
অর্থনৈতিক সংস্কার, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সহায়সম্পদের নিরন্তর সদ্ব্যবহারের অনেক সফল নিদর্শন আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। এ সমস্ত কিছুই অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করে তুলেছে।
২০১৩ সালে আফ্রিকায় ৪ লক্ষ নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য নথিভুক্ত হয়েছে। বহু স্থানেই ৯৫ শতাংশ জনসাধারণের হাতে পৌঁছে গেছে মোবাইল টেলিফোনের সুযোগ।
নতুন নতুন উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও আফ্রিকা আজ যুক্ত হয়েছে বিশ্বের মূল স্রোতের সঙ্গে। এম-পেসা-র মোবাইল ব্যাঙ্কিং, মেড আফ্রিকার স্বাস্থ্য পরিচর্যা উদ্ভাবন কিংবা এগ্রিম্যানেজার এবং কিলিমো সালামার কৃষি উদ্ভাবন মোবাইল ও ডিজিটাল প্রযুক্তিকে আশ্রয় করে গড়ে উঠেছে এবং তা আফ্রিকার জীবনযাত্রাকে আমূল বদলে দিয়েছে। অনেক নতুন নতুন শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষির দ্রুত বিকাশের লক্ষ্যে। আফ্রিকার প্রাথমিক স্কুলগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।
আফ্রিকার রয়েছে এক নয়নাভিরাম প্রকৃতি যেখানে গড়ে উঠেছে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশ পর্যটনের মতো নতুন নতুন ব্যবস্থা।
ক্রীড়া, সঙ্গীত এবং শিল্পকলা ক্ষেত্রেও সমগ্র বিশ্ব আজ আফ্রিকায় আমোদিত। একথা সত্যি যে বিশ্বের অন্যান্য বিকাশশীল দেশের মতোই উন্নয়নের ক্ষেত্রে আফ্রিকাও বহুবিধ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আফ্রিকারও রয়েছে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের মতো নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাজনিত উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা।
আফ্রিকার জনসাধারণ ও নেতৃবৃন্দ সাফল্যের সঙ্গে এই সমস্ত চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করবেন বলে আমার স্থির বিশ্বাস।
মাননীয় অতিথিবৃন্দ,
গত ছয় দশক ধরে আমাদের স্বাধীন যাত্রা শুরু হয়েছে একত্রেই।
বর্তমানে ভারতের উন্নয়নের ক্ষেত্রের অগ্রাধিকার এবং আফ্রিকার ভবিষ্যতের দৃষ্টিভঙ্গীর মধ্যে এক সমন্বয় সম্ভব হয়ে উঠেছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে আজকের দিনে ভারত ও আফ্রিকা আশা ও সুযোগ-সম্ভাবনার দুটি উজ্জ্বল কেন্দ্রবিন্দু।
আফ্রিকার উন্নয়নে অংশীদার হতে পেরে ভারত সম্মানিত। কৌশলগত সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সুফলের বাইরেও এই অংশীদারিত্ব অটুট। পরস্পরের প্রতি আবেগ ও সংহতির মনোভাব থেকেই তা গড়ে উঠেছে।
এক দশকেরও কম সময়কালে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে ৭০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আফ্রিকায় বর্তমানে বাণিজ্যিক বিনিয়োগের একটি প্রধান উৎসই হল ভারত। আফ্রিকার ৩৪টি দেশ এখন ভারতের বাণিজ্যিক বাজারের শুল্কমুক্ত পরিবেশের সুযোগ গ্রহণ করতে পারে।
আফ্রিকার উদ্যম ও উৎসাহ ভারতীয় অর্থনীতির এক চালিকাশক্তি। তার সহায়সম্পদ আমাদের শিল্পক্ষেত্রকে শক্তিশালী করে তুলেছে। আফ্রিকার সমৃদ্ধি ভারতীয় পণ্যের এক ক্রমবর্ধমান বাজারও সৃষ্টি করেছে।
২০০৮ সালের প্রথম ভারত-আফ্রিকা শীর্ষ বৈঠকের সময় থেকে সুবিধাজনক হারে ৭.৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত। সেইসঙ্গে, অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছে ১.২ বিলিয়ন ডলার। এর ফলে, ১০০টি উৎপাদন বৃদ্ধি ব্যবস্থা, উন্নত পরিকাঠামো, সরকারি পরিবহণ, বিশুদ্ধ জ্বালানি, কৃষি, সেচ এবং নির্মাণ শিল্প গড়ে উঠেছে আফ্রিকার বিভিন্ন স্থানে।
শুধুমাত্র গত তিন বছরেই আফ্রিকার ২৫ হাজার তরুণ ও যুবক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ লাভ করেছে ভারতে। আমি মনে করি ঐ ২৫ হাজার যুবক হল আমাদের উভয়ের যুক্ত সম্পর্কের এক বলিষ্ঠ উদাহরণ।
মাননীয় অতিথিবৃন্দ,
অনেক সময়েই আপনাদের প্রত্যাশা হয়তো আমরা পূরণ করতে পারিনি। এমন অনেক সময় অতিক্রান্ত হয়েছে যখন আপনাদের বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের যতটা মনযোগ দেওয়ার কথা ততটা আমরা দিতে পারিনি। আমাদের দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার যত তাড়াতাড়ি পালন করা উচিত তত তাড়াতাড়ি হয়তো আমরা তা করে উঠতে পারিনি।
কিন্তু আপনারা সবসময়ই আপনাদের উষ্ণতা ও বিচার-বুদ্ধির মধ্য দিয়ে ভারতের সমাদর করেছেন। আমাদের সাফল্যে আপনারা উল্লসিত হয়েছেন, গর্ববোধ করেছেন। বর্তমান বিশ্বে বরাবরই আপনারা রয়েছেন আমাদের সঙ্গে, আমাদের পাশে।
আমাদের মৈত্রী ও অংশীদারিত্বের শক্তি এতটাই।
আগামী দিনে একত্রে পথ অতিক্রমের সময় আমাদের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা এবং আমাদের পথনির্দেশকে সঙ্গী করে আমরা এগিয়ে যাব।
এক সমৃদ্ধ, সংহত এবং ঐক্যবদ্ধ আফ্রিকা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আপনারা যে দৃষ্টিভঙ্গীর আশ্রয় নিয়েছেন তার জন্য রইল আমাদের পূর্ণ সমর্থন।
কায়রো থেকে কেপটাউন, মারাকেশ থেকে মোম্বাসা পর্যন্ত আফ্রিকাকে যুক্ত করতে আমরা সহায়তা করে যাব। আপনাদের পরিকাঠামো, বিদ্যুৎ ও সেচের উন্নয়নে আমাদের সাহায্য অটুট থাকবে। আফ্রিকার সহায়সম্পদের মূল্যমানকে আরও বাড়িয়ে তোলার কাজেও আমাদের সাহায্যের অভাব হবে না। আফ্রিকায় আমরা গড়ে তুলব শিল্প ও তথ্য সংক্রান্ত প্রযুক্তি পার্ক।
মাননীয় অতিথিবৃন্দ,
নাইজিরিয়ার বিশিষ্ট নোবেল বিজয়ী লরেট ওল সোয়িঙ্কার কথা অনুসরণ করে আমি বলি সামগ্রিক উন্নয়নের মূলে রয়েছে মানবজাতি।
আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী গড়ে উঠেছে এই বিশ্বাসকে আশ্রয় করেই। আমরা মনে করি মানবসম্পদ এবং প্রতিষ্ঠানকে যা বিকশিত করে তোলে সেটাই হল অংশীদারিত্বের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন কারণ কোন জাতিকে নিজের পছন্দমতো কাজ করার এবং নিজের সমৃদ্ধির দায়িত্ব নিজেই বহন করার মতো শক্তি যোগায়। সেইসঙ্গে, তরুণ ও যুবকদের সামনে উন্মুক্ত করে সুযোগ সম্ভাবনার নতুন নতুন দ্বার।
তাই, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মানবসম্পদের উন্নয়নই হল আমাদের অংশীদারিত্বের মূল অন্তঃস্থল। এই দ্বার উন্মোচনকে আমরা আরও প্রসারিত করব। আমরা প্রসার ঘটাব দূর শিক্ষার। আফ্রিকায় নানা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলব আমরাই।
ইজিপ্টের নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সাহিত্যিক নাগুইব মাফৌজ বলেছেন, “চিন্তাভাবনার আলোকে বিজ্ঞান মানুষকে যুক্ত করে … আমাদের এগিয়ে নিয়ে যায় উন্নততর ভবিষ্যতের দিকে।”
মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার এবং প্রগতিকে গতিশীল করে তোলাকে প্রকাশ করার মতো এর থেকে ভালো ভাষা খঁজে পাওয়া কঠিন।
সুতরাং, প্রযুক্তি হয়ে উঠবে আমাদের অংশীদারিত্বের এক শক্তিশালী স্তম্ভ।
এর ফলে, উন্নত হবে আফ্রিকার কৃষিক্ষেত্র। বিশ্বের কৃষিযোগ্য জমির ৬০ শতাংশই রয়েছে আফ্রিকায়। বিশ্বের কৃষি উৎপাদনের ১০ শতাংশই দাবি করতে পারে এই মহাদেশ। আফ্রিকার কৃষি ব্যবস্থা এই মহাদেশের সমৃদ্ধিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, নিশ্চিত করে তুলতে পারে বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তাকে।
স্বাস্থ্য পরিচর্যা এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে ভারতের অভিজ্ঞতা ও পারদর্শিতা বহু রোগ-ব্যাধির বিরুদ্ধে সংগ্রামে আফ্রিকায় জাগিয়ে তুলতে পারে নতুন আশা। এক নবজাতককে উন্নততর জীবনের সন্ধান দিতে পারে ভারতের সহায়তা। সুপ্রাচীন জ্ঞান ও চিকিৎসা ব্যবস্থার যে সম্পদ রয়েছে ভারত ও আফ্রিকায় তার উন্নয়নে আমরা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারি।
আমাদের মহাকাশ-সম্পদ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতেও আমরা প্রস্তুত। বিকাশ ও উন্নয়ন, জনপরিষেবা, সুশাসন, বিপর্যয় মোকাবিলা, সম্পদের ব্যবস্থাপনা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সম্ভাব্য সমস্তরকম ডিজিটাল প্রযুক্তিকে আমরা কাজে লাগাব।
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এ পি জে আব্দুল কালামের ধারণাপ্রসূত ‘প্যান আফ্রিকা ই নেটওয়ার্ক’কে আমরা আরও সম্প্রসারিত করে তুলব। এর ফলে, আফ্রিকার ৪৮টি দেশ ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি পরস্পরের সঙ্গেও যুক্ত হতে পারবে। শুধু তাই নয়, এর ফলে প্যান আফ্রিকা ভার্চ্যুয়াল বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার কাজেও তা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মধ্যে এবং পৃথিবীর সঙ্গে আফ্রিকার যে ডিজিটাল ভারসাম্যহীনতা রয়েছে তা কমিয়ে আনতেও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব। নীল অর্থনীতির নিরন্তর উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা আমাদের সহযোগিতা প্রসারিত করব কারণ, তা হয়ে উঠবে আগামী দিনে আমাদের সমৃদ্ধির এক চালিকাশক্তি।
আমার কাছে নীল অর্থনীতি হল এক বৃহত্তর নীল বিপ্লবের অংশ। আমাদের নীল আকাশ এবং নীল জলকে আমরা নতুন করে সাজিয়ে তুলব। আর এভাবেই আমরা এগিয়ে যাব অমলিন উন্নয়নের পথে।
মাননীয় অতিথিবৃন্দ,
সূর্যাস্তকালে ভারত ও আফ্রিকার অগণিত গৃহ প্রাঙ্গণ অন্ধকারে ঢাকা পড়ে। আমরা চাই দেশের মানুষের জীবনকে আলোকোজ্জ্বল করে তুলতে এবং তাদের ভবিষ্যতকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে।
কিন্তু আমরা তা করতে চাই এমনভাবে যাতে কিলিমাঞ্জারো-র তুষারপাত ঢাকা না পড়ে যায়। আমরা তা করতে চাই এমনভাবে যাতে গঙ্গা নদীর সম্পদের উৎস হিমবাহ না ধ্বংস হয়ে যায়। আমরা তা করতে চাই এমনভাবে যাতে দ্বীপপুঞ্জ না অদৃশ্য হয়ে যায়।
বিশ্ব উষ্ণায়নের পিছনে দায়ী শুধু ভারত বা আফ্রিকাই নয়, পৃথিবীর বহু দেশই এজন্য দায়ী। বরং, জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে ভারত ও আফ্রিকা যতটা সচেতন সেরকম সচেতনতা পৃথিবীর অন্যত্র বিরল।
এর কারণ আমরা হলাম প্রকৃতির মহামূল্য দানের উত্তরসূরি। আমরা এমন এক ঐতিহ্য বহন করে চলেছি যা প্রাকৃতিক সম্পদকে সম্মান জানায়। মা বসুন্ধরার সঙ্গে আমাদের জীবন সম্পৃক্ত।
আমাদের সীমিত সহায়সম্পদের মাধ্যমে আমরা সর্বতো প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায়। ভারতে ২০২২ সালের মধ্যে ১৭৫ গিগাওয়াট অতিরিক্ত পুনর্নবীকরণ জ্বালানির উৎপাদন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দূষিত গ্যাস নির্গমনের মাত্রা ৩৩ থেকে ৩৫ শতাংশ হ্রাসের লক্ষ্যে আমরা নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
বিশুদ্ধ জ্বালানি, বাসস্থান, জনপরিবহণ এবং জলবায়ু-বান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও ভারত-আফ্রিকা সহযোগিতাকে আমরা আরও সুদৃঢ় করে তুলব।
একটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে যাতে কোনরকম অত্যুৎসাহ যেন অন্যের বিড়ম্বনার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং, ডিসেম্বরে প্যারিসে বিশ্ব বৈঠকের সময় আমরা এক সুসংবদ্ধ ও সুনির্দিষ্ট ফলাফল লক্ষ্য করব যার ভিত্তিই হল জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সম্মেলনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমরা সকলেই একটি দায়িত্ব হিসেবেই তা পালন করব। সেইসঙ্গে, আমরা এমন এক নির্ভেজাল বিশ্ব অংশীদারিত্বের সাক্ষী হতে চাই যা বিশুদ্ধ জ্বালানিকে সুলভ করে তুলতে পারে, উন্নয়নশীল দেশগুলির কাছে পৌঁছে দিতে পারে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং আবিষ্কার করতে পারে এমন উপায় যা জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় সক্ষম।
সি ও পি ২১ বৈঠকের সময় ৩০ নভেম্বর প্যারিসে আমি সৌরশক্তি সমৃদ্ধ দেশগুলিকে জোটবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। আমি আপনাদের সকলকে তার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানাই। জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে সৌরশক্তি গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য যাতে যে সমস্ত গ্রাম ও সমষ্টি এখনও বিদ্যুতের সুযোগ থেকে বঞ্চিত সেখানে তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।
ভারত ও আফ্রিকা বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এমন এক পরিবেশ গড়ে তুলতে চায় যা আমাদের উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনার উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
যখন আমরা ডিসেম্বরে বিশ্ব বাণিজ্য সংগঠনের নাইরোবি সম্মেলনে একত্রিত হব তখন ২০০১-এর দোহা উন্নয়ন কর্মসূচির ওপর যাতে যবনিকাপাত না হয় তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে কারণ, আমাদের মৌলিক লক্ষ্যগুলিতে পৌঁছনোর কাজ এখনও বাকি।
খাদ্য নিরাপত্তার লক্ষ্যে এক স্থায়ী মজুতভাণ্ডার গড়ে তুলতে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য কৃষির উপযোগী এক শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমাদের কাজ করে যেতে হবে।
মাননীয় অতিথিবৃন্দ,
এই বছরটি বিশেষভাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে কারণ ভবিষ্যতের জন্য এক কর্মসূচি আমরা স্থির করতে চলেছি এই বছরেই। সেইসঙ্গে আমরা পালন করছি রাষ্ট্রসঙ্ঘের ৭০তম বার্ষিকী। সমগ্র বিশ্ব এমন এক গতি ও মাত্রায় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত পট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে চলেছে সাম্প্রতিক ইতিহাসে যার দৃষ্টান্ত বিরল। তবুও, যে শতাব্দীকে আমরা পেছনে ফেলে যাব তার পরিস্থিতি প্রতিফলিত হবে বিশ্ব প্রতিষ্ঠানগুলিতে। হয়তো আমরা সেখানে ততটা গুরুত্ব পাবো না।
একথা সত্যি যে এই সমস্ত প্রতিষ্ঠান থেকে আমরা অনেক কিছুই লাভ করেছি। কিন্তু পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে যদি সেগুলি চলতে না পারে তাহলে তার অস্তিত্বই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে। অজানা ভবিষ্যতে সেই প্রতিষ্ঠানগুলির পরিবর্তে কি ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব হবে তা আমরা এখনই বলতে পারি না।
কিন্তু আমরা এমন এক বিশ্বের সন্ধান পেতে পারি যাকে হয়তো আমাদের মতো এত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে না। আর এই কারণেই বিশ্ব প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের পক্ষপাতী ভারত।
বর্তমান বিশ্ব স্বাধীন জাতি ও উজ্জ্বীবিত আশা-আকাঙ্ক্ষার এক নতুন দিগন্ত সৃষ্টি করেছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলি কখনই বিশ্ব প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে না যদি না সেগুলি আফ্রিকার কথা তুলে ধরে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলির এক-চতুর্থাংশেরও বেশি এবং বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশগুলির এক-ষষ্ঠমাংশ মানুষকে আফ্রিকার কথা অবশ্যই তুলে ধরতে হবে।
আর এজন্যই নিরাপত্তা পরিষদ সহ রাষ্ট্রসঙ্ঘের সংস্কারে ভারত ও আফ্রিকাকে একযোগে সরব ও সোচ্চার হতে হবে।
মাননীয় অতিথিবৃন্দ,
আজকের দিনে বিশ্বের নানা প্রান্তে হিংসাদীর্ণ অস্থিরতার মধ্যেও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আলো দেখা দিয়েছে। আফ্রিকার পথেঘাটে, সমুদ্রতটে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা বিপণন কেন্দ্রে সন্ত্রাসবাদ যখন জীবন ছিনিয়ে নেয় তখন আপনাদের ব্যাথা-বেদনা আমরা নিজেদের ব্যাথা-বেদনা ও যন্ত্রণা বলেই অনুভব করি। সন্ত্রাসবাদের এই হুমকির বিরুদ্ধে সংগ্রামে আমাদের মধ্যে এক যোগসূত্র এইভাবেই স্থাপিত হয়েছে।
আমরা যখনই দেখি আমাদের মহাসাগর অঞ্চল বাণিজ্যের পক্ষে আর নিরাপদ নয়, আপনাদের সঙ্গে আমরাও তাতে কষ্ট পাই।
জাতিতে জাতিতে যখন সংঘর্ষ বাধে তখন চারপাশের আমরাও নিরাপদ দূরত্বে বসে থাকতে পারি না।
আমরা জানি, সাইবার নেটওয়ার্ক আমাদের সামনে অনেক সুযোগ ও সম্ভাবনা এনে দিয়েছে। সেইসঙ্গে এনে দিয়েছে অনেক অনেক বেশি ঝুঁকির মাত্রাও।
নিরাপত্তার প্রশ্নে দূরত্ব কখনই আমাদের একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে না।
এই কারণেই নৌ-নিরাপত্তা এবং সমুদ্র যাত্রার ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতাকে আরও গভীরতর করে তুলতে চাই। সহযোগিতার প্রসার ঘটাতে চাই হিংসা ও সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায়। আর এই কারণেই আমাদের প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘের এক সুনির্দিষ্ট সম্মেলনের।
আফ্রিকা ইউনিয়নের শান্তিরক্ষা প্রচেষ্টায় আমরা সমর্থন যুগিয়ে যাব। আমাদের দেশে এবং আফ্রিকার শান্তিরক্ষা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিতে আমরা প্রস্তুত। রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা মিশন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্যকে আমরা আরও জোরালোভাবে উপস্থাপিত করব।
মাননীয় অতিথিবৃন্দ,
জীবনে জীবন যোগ করা থেকে শুরু করে সমৃদ্ধির বাতাবরণ গড়ে তোলা, জনজীবন সুরক্ষিত রাখা থেকে বিশ্ব স্বার্থকে অটুট রাখা – সর্বত্রই প্রসারিত আমাদের মিলিত কর্মসূচি। এক বিশাল ভূখণ্ড জুড়ে আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষায় ঘটেছে এক অভূতপূর্ব সমন্বয়।
অংশীদারিত্বের এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে তুলতে আগামী পাঁচ বছরে অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক হারে ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা দেবে ভারত যা ঋণদান সম্পর্কিত আমাদের বর্তমান কর্মসূচিগুলির অতিরিক্ত।
এছাড়াও, আমরা দেব ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মতো অনুদান সহায়তা। এর মধ্যে রয়েছে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ভারত-আফ্রিকা উন্নয়ন তহবিল এবং ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ভারত-আফ্রিকা স্বাস্থ্য তহবিল।
এই তহবিল থেকে ৫০ হাজার বৃত্তি দেওয়া হবে ভারতে আগামী পাঁচ বছর ধরে। আর এই তহবিলের সাহায্যেই আফ্রিকায় সম্প্রসারিত হবে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার প্যান আফ্রিকা ই-নেটওয়ার্ক।
মাননীয় অতিথিবৃন্দ,
এই শতাব্দীতে যদি সমস্ত মানুষের বেঁচে থাকার উপযোগী এক সুযোগ ও সম্ভাবনার পরিবেশ গড়ে তুলতে হয়, প্রত্যেক মানুষের সাম্য ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনধারণ সম্ভব করে তুলতে হয়, শান্তির বাতাবরণের মধ্যে একে অপরের সঙ্গে সহাবস্থা্নের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে হয় এবং প্রকৃতির সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে জীবনধারণের উপযোগী পরিস্থিতি গড়ে তুলতে হয়, তাহলে ভারত ও আফ্রিকাকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে।
আমরা সকলেই একসঙ্গে কাজে মিলিত হব।
আমাদের উভয়ের সাধারণ সংগ্রামের স্মৃতি এবং সম্মিলিত আশার স্রোত, আমাদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, আমাদের অঙ্গীকার, আমাদের সঙ্কল্প, ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের বিশ্বাস – এ সমস্ত কিছু থেকেই আমাদের শপথ নিতে হবে একসঙ্গে কাজ করার যাতে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ হয়ে ওঠে একই ছন্দে বাঁধা এবং আমাদের কন্ঠে ধ্বনিত হয় সম্প্রীতির সুর।
আমাদের এই শপথ নিতে হবে ‘ক্ষুদ্র গৃহকোণেই শত শত বন্ধুর স্থান সঙ্কুলান হতে পারে’– আফ্রিকার এই বিখ্যাত উক্তিকে স্মরণ করে এবং ভারতের সেই সুপ্রাচীন বিশ্বাস –‘সন্ত স্বয়ং পরহিতে নিহিতাভিযোগা’– অর্থাৎ, মহান আত্মার কাজই হল অন্যের কল্যাণ করা –এই উক্তিটিকে অবলম্বন করে।
“এমন এক জীবনযাপন করা প্রয়োজন যাতে তা অপরের স্বাধীনতাকে সম্ভ্রম জানাতে পারে এবং তাকে বিকশিত করে তুলতে পারে” – ম্যান্ডেলার এই আহ্বান ও অনুপ্রেরণা থেকেই আমাদের এই শপথ ও সঙ্কল্প নিতে হবে।
আমাদের এই যাত্রা নতুন কিছু নয়। নতুন কিছুর সূচনাও নয়। বরং তা হল এক সুপ্রাচীন সম্পর্কের মহান ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি।
মহামান্য ও মাননীয় অতিথিবৃন্দ, আজ এখানে আপনাদের একত্রিত সমাবেশ আমাদের সঙ্কল্প ও অঙ্গীকারের সবথেকে বড় প্রমাণ।
আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ!
অনেক অনেক ধন্যবাদ !!
PG/SKD/DM/S
Fabric of this world is richer because of the 54 sovereign flags of Africa: PM @narendramodi begins his speech https://t.co/Iy8hu3Nre5 #IAFS
— PMO India (@PMOIndia) October 29, 2015
We are deeply, deeply honoured by your presence today: PM @narendramodi to African leaders @indiafrica2015 #IAFS https://t.co/Iy8hu3Nre5
— PMO India (@PMOIndia) October 29, 2015
It is not just a meeting of India & Africa. Today, the dreams of one-third of humanity have come together under one roof: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) October 29, 2015
The heart beat of 1.25 billion Indians & 1.25 billion Africans are in rhythm: PM @narendramodi https://t.co/Iy8hu3Nre5
— PMO India (@PMOIndia) October 29, 2015
2/3rd of India & Africa is under the age of 35. And, if the future belongs to the youth, then this century is ours to shape & build: PM
— PMO India (@PMOIndia) October 29, 2015
Africa’s economic growth has gathered momentum and has a more diversified base: PM @narendramodi https://t.co/Iy8hu3Nre5
— PMO India (@PMOIndia) October 29, 2015
African initiatives are replacing old fault lines with new bridges of regional economic integration: PM https://t.co/Iy8hu3Nre5
— PMO India (@PMOIndia) October 29, 2015
Africa’s sports, art and music delight the entire world: PM @narendramodi https://t.co/Iy8hu3Nre5 #IAFS @indiafrica2015
— PMO India (@PMOIndia) October 29, 2015
Africa and India are two bright spots of hope and opportunities in the global economy: PM @narendramodi https://t.co/Iy8hu3Nre5 #IAFS
— PMO India (@PMOIndia) October 29, 2015
Technology will be a strong foundation of our partnership: PM @narendramodi https://t.co/Iy8hu3Nre5 #IAFS @indiafrica2015
— PMO India (@PMOIndia) October 29, 2015
We will also collaborate to develop Indian and African treasures of traditional knowledge and medicines: PM @narendramodi @indiafrica2015
— PMO India (@PMOIndia) October 29, 2015
We will work to reduce digital divide within Africa and between Africa and rest of the world: PM @narendramodi https://t.co/Iy8hu3Nre5
— PMO India (@PMOIndia) October 29, 2015
We will also deepen India-Africa partnership on clean energy, sustainable habitats, public transport & climate resilient agriculture: PM
— PMO India (@PMOIndia) October 29, 2015
We wish to deepen our cooperation in maritime security and hydrography, and countering terrorism and extremism: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) October 29, 2015
We pledge to walk together, with our steps in rhythm and our voices in harmony: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) October 29, 2015
Today's proceedings at @indiafrica2015 got off to a great start. Dreams of 1/3rd of humanity gathered under 1 roof pic.twitter.com/Ojd6w0iTnl
— Narendra Modi (@narendramodi) October 29, 2015
We will walk together, our steps in rhythm & voices in harmony. We see a great future for this ancient relationship. https://t.co/2CDOWMQ6kz
— NarendraModi(@narendramodi) October 29, 2015