Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

তেলেঙ্গানার খরা ও জলসঙ্কট পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী

তেলেঙ্গানার খরা ও জলসঙ্কট পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী


তেলেঙ্গানার কয়েকটি অঞ্চলে উদ্ভূত খরা পরিস্থিতি সম্পর্কে এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী কে চন্দ্রশেখর রাও-এর সঙ্গে মিলিত হলেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্র ও রাজ্যস্তরের পদস্থ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন আজকের বৈঠকে।

বৈঠকে আলোচনার সূত্রপাত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খরা কবলিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে তিনি পৃথক পৃথকবৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। খরা ও জলাভাবজনিত পরিস্থিতির মোকাবিলায় মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে এই বৈঠকগুলিতে মতবিনিময় করা হচ্ছে।

জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল থেকে তেলেঙ্গানা রাজ্যকে দেওয়া হয়েছে ৭১২ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা। রাজ্য বিপর্যয় ত্রাণ তহবিলে ২০১৫-১৬ আর্থিক বছরে কেন্দ্রীয়ভাবে বরাদ্দ ২০৫ কোটি ৫০ লক্ষ টাকাও ইতিমধ্যে ঐ রাজ্যকে দেওয়া হয়েছে। ২০১৬-১৭ আর্থিক বছরেরপ্রথম কিস্তিবাবদ রাজ্য বিপর্যয় ত্রাণ তহবিল থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তেলেঙ্গানাকে দেওয়া হয়েছে ১০৮ কোটি টাকা।

তেলেঙ্গানায় জলাভাবে শুকিয়ে যাওয়া বিভিন্ন জলাশয়ে জলের উৎস সন্ধান এবং জল মজুত ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে ‘মিশন কাকাতিয়া’র আওতায় যে সমস্ত কাজ হয়েছে তার একটি প্রামাণ্য চিত্রও শ্রী কে চন্দ্রশেখর রাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। রাজ্য সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষামূলক ‘মিশন ভগীরথ’ সম্পর্কেও বৈঠকে তথ্য বিনিময় করেন তিনি। গ্রামীণ পরিবারগুলির কাছে নির্মল পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করা হয় এই মিশনের আওতায়। সেচ ও জল সংরক্ষণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যে সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় সে সম্পর্কেও আলোচনা হয় এদিনের বৈঠকে। প্রাচীনকালে জল সংরক্ষণে যে সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হত সে প্রসঙ্গও উঠে আসে পর্যালোচনাকালে। শহরাঞ্চলের বর্জ্য ও নিকাশি জল সন্নিহিত গ্রামীণ এলাকায় সেচ ও কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জলের যে সমস্ত উৎসমুখ বন্ধ হয়ে রয়েছে সেগুলিকে আবার নতুন করে সংস্কার করে তোলা প্রয়োজন। এজন্য মহাকাশ প্রযুক্তি ও দূরসংবেদী পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে। একইসঙ্গে, জলকে কাদামুক্ত করে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা দরকার বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

তেলেঙ্গানার ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে ক্ষুদ্র সেচ সম্প্রসারণের কাজে যে সাফল্য ও অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে সে সম্পর্কে বৈঠকে বক্তব্য রাখেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।

‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’ চালু করার জন্য শ্রী মোদীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এটিকে এক আদর্শ কর্মসূচি বলে বর্ণনা করেন তিনি। ‘ক্যাম্পা’ আইনটির সংশোধনে প্রধানমন্ত্রী যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, তাকেও স্বাগত জানান শ্রী চন্দ্রশেখর রাও। এই আইনের আওতায় বনায়ন তথা বনসৃজন প্রকল্পে নির্দিষ্ট তহবিলের অর্থ সদ্ব্যবহারের লক্ষ্যে একটি কৌশলসূত্র উদ্ভাবনের প্রস্তাব দেন তিনি। এক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের বনায়ন প্রকল্প ‘হরিৎহারম’-এর প্রসঙ্গটিও তিনি উত্থাপন করেন পর্যালোচনা বৈঠকে।

দেশের সবক’টি অঞ্চলকে ‘শস্য কলোনি’তে রূপান্তরের প্রস্তাব দেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই প্রস্তাব ও পরামর্শের বিশেষ প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই একই উদ্দেশ্যে বাস্তবায়িত হচ্ছে ‘সয়েল হেল্‌থ কার্ড’ কর্মসূচিটি। তবে, ‘শস্য কলোনি’ সম্পর্কে একটি আদর্শ পরিকল্পনা রচনার জন্য রাজ্য সরকারকে উৎসাহিত করেন তিনি।

খরা ও জলসঙ্কট মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্য একযোগে কাজ করে যাবে বলে সঙ্কল্প গ্রহণ করা হয় আজকের বৈঠকে।

PG/SKD/DM/S