Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

দিল্লি-দস্‌না-মীরাট এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং এন এইচ-২৪ দস্‌না-হাপুর সেক্‌শনের উন্নীতকরণ প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

দিল্লি-দস্‌না-মীরাট এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং এন এইচ-২৪ দস্‌না-হাপুর সেক্‌শনের উন্নীতকরণ প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

দিল্লি-দস্‌না-মীরাট এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং এন এইচ-২৪ দস্‌না-হাপুর সেক্‌শনের উন্নীতকরণ প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

দিল্লি-দস্‌না-মীরাট এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং এন এইচ-২৪ দস্‌না-হাপুর সেক্‌শনের উন্নীতকরণ প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

দিল্লি-দস্‌না-মীরাট এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং এন এইচ-২৪ দস্‌না-হাপুর সেক্‌শনের উন্নীতকরণ প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

দিল্লি-দস্‌না-মীরাট এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং এন এইচ-২৪ দস্‌না-হাপুর সেক্‌শনের উন্নীতকরণ প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


প্রিয় ভাই ও বোনেরা,

১৮৫৭’র স্বাধীনতা সংগ্রামে মীরাটের বিশেষ ভূমিকার কথা আমরা সবাই জানি। ১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে মীরাট দেশকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে। আর আজ দিল্লি থেকে মীরাট এই নির্মিয়মান এক্সপ্রেসওয়ে প্রদূষণ থেকে মুক্তির পথ দেখাচ্ছে। পরিবর্তিত সময়ের চাকা থেমে থাকে না, আর সেই চাকার গতিও থেমে থাকার নয়। এই গতি বৃদ্ধির ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত বলেই এই গতির অনুকূল পরিকাঠামো গড়াকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। আজ থেকে ২০-৩০ বছর আগে কোনও গ্রামের কৃষকের সঙ্গে দেখা হলে তাঁরা কী বলতেন? তাঁরা বলতেন, সাহেব এ বছর খরাপ্রবণ এলাকার উপযোগী কোনও প্রকল্প থাকলে সেটা আমাদের অঞ্চলে শুরু করিয়ে দিন, নিদেনপক্ষে মাটি কাটার প্রকল্প, যা যাতায়াতের পথকেও সুগম করবে।

কিন্তু আজ, ২৫-৩০ বছর পর, গ্রামের মানুষ এসে পাকা রাস্তার দাবি জানান। তাঁরা বলেন পিবল্‌রোড চাই, ডবল লেন, ফোর লেন চাই, ঢাকা নর্দমাযুক্ত রাস্তা চাই। গ্রামের মানুষও আজ ভালোভাবে বোঝেন যে উন্নয়নের যাত্রায় শরিক হতে হলে সবার আগে উন্নত সড়ক ব্যবস্থা চাই। ভারতের গ্রামের মানুষের এই চাহিদা পূরণের স্বপ্ন সাকার করতে শ্রদ্ধেয় অটল বিহারী বাজেপেয়ী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ভারত’কে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে শ্রদ্ধেয় বাজেপেয়ীজী যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তাঁর উদ্যোগে ভারত সরকার দু’ধরণের কাজ শুরু করে। ১) ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দেবার পরিকল্পনা এবং ২) দেশের প্রতিটি গ্রামে পাকা সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনা। এই দুই পরিকল্পনার মেরুদন্ড ছিল সোনালী চতুর্ভূজ এক্সপ্রেস হাইওয়ে। পূর্ব থেকে পশ্চিম, উত্তর থেকে দক্ষিণ, ভারত’কে সমান শক্তিসম্পন্ন, সম-উৎকর্ষের দ্রুতগতিতে যান চলার উপযোগী, আন্তর্জাতিক মানের পথের মাধ্যমে যুক্ত করার কাজ। যার সার্থক রূপায়ণ ভারতকে বিশ্বের সমৃদ্ধ দেশগুলির সমকক্ষ হয়ে উঠতে সাহায্য করছে।

পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামে পাকা রাস্তা নির্মাণ করে দেশের সামগ্রিক যাতায়াত ব্যবস্থায় নতুন গতি প্রদান করেন।

এই দুই মহাপ্রকল্পের সার্থক রূপায়ণে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বাজেপেয়ীজীর সরকার যে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেয়েছিলেন, পরবর্তী ১০ বছরে সেক্ষেত্রে কি আর কোনও অগ্রগতি হয়েছে? কতটা হয়েছে, কতটা হয়নি, কেন হয়েছে, কেন হয়নি – এইসব নিয়ে আলোচনা করতে আমি আসিনি। আমি শুধু বলতে চাই, বাজপেয়ীজীর সেই পরিকল্পনাকে বর্তমান সরকার আবার আগের গতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। আর সেজন্য আমরা অভিযান শুরু করেছি। দেশের নানা অঞ্চলকে এক্সপ্রেস হাইওয়ের মাধ্যমে যুক্ত করার প্রক্রিয়ায় বড় বড় শহরগুলির ১০০ কিলোমিটার বৃত্তের মধ্যে থাকা ছোট ছোট শহরগুলি এবং পথের দু’পাশের অসংখ্য গ্রামের মানুষের জীবনের গতি বাড়ানোর কাজ, প্রতিটি ছোট শহরকে সমশক্তিতে উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারলে গোটা দেশ লাভবান হবে। দিল্লির ১০০-১৫০ কিলোমিটার পরিধিতে থাকা শহরগুলির সঙ্গে সমান উৎকর্ষের এক্সপ্রেস হাইওয়ের মাধ্যমে যুক্ত হলে এই বৃত্তে অবস্থিত প্রতিটি জনপদ লাভবান হবেই। নানা স্থানে উপনগরী গড়ে উঠবে। মীরাটের সঙ্গে দিল্লির যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে মীরাট দিল্লি থেকেও উন্নত নগর হিসেবে গড়ে ওঠার সামর্থ্য রাখে, দেরাদুণও একই রকম সামর্থ্য রাখে। সেজন্য এগুলি নিছক এক একটি উৎকৃষ্ট পথ নয়, উন্নয়নের রাজপথে পরিণত হবে।

এই রাজপথ পশ্চিম উত্তর প্রদেশের উন্নয়নে বড় শক্তি যোগাবে। একটু আগেই নীতিনজী বলছিলেন, কেদারনাথের ভয়ানক বিপর্যয়ের বীভৎসতার কথা, দেশী-বিদেশী অসংখ্য পর্যটকের অকাল মৃত্যুর কথা। আমরা এই সঙ্কটগুলিকেও সুযোগে রূপান্তরিত করে কাজ করতে চাই। এটাই বর্তমান ভারত সরকারের মূল নীতি। এই সঙ্কট থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা হরিদ্বার, হৃশিকেশ, গঙ্গোত্রী-যমুনোত্রী আর বদ্রীনাথ-কেদারনাথ’কে উৎকৃষ্ট ‘অল ওয়েদার রোড’-এর মাধ্যমে যুক্ত করার কাজ শুরু করে দিয়েছি। ফলে, উত্তরাখন্ডের জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত যে উন্নয়ন হয়নি, বিপর্যয় পরবর্তী কয়েক মাসে সেই খামতি পূরণ করে আমরা দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছি। সারা দেশের পর্যটকদের জন্য উত্তরাখন্ডের চার ধাম অচিরেই সুগম গন্তব্যে পরিণত হবে।

আজ আমাদের দেশের মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তরা সপ্তাহান্তিক ভ্রমণে বের হন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলিতে কাছাকাছি কোথাও বেড়াতে যাওয়া, বন্ধু-বান্ধবের আমন্ত্রণ রক্ষা করার রেওয়াজ জনপ্রিয় হয়েছে। এই এক-দু’দিনের অবকাশ যাপন হৈ-হুল্লোড় গোটা পরিবারকে সারা সপ্তাহ চনমনে রাখে। কিন্তু, এত কম সময়ে খুব দূরে কোথাও যাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু, দিল্লি থেকে মাত্র ১০০-১৫০ কিলোমিটারের মধ্যে কোথাও যাবার পক্ষে দ্রুতগামী যানের উপযোগী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে কোটি কোটি মধ্যবিত্ত মানুষ উপকৃত হবেন। এই অঞ্চলের সপ্তাহান্তিক পর্যটন ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়ে উঠবে। সেজন্যই বাজেটে প্রায় ছ’হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। এমনকি, ৭ হাজার ৫০০ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দও হতে পারে। এখন এই ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পে কত হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে? এই হাজার হাজার কর্মীর সুবিধার্থে জায়গায় জায়গায় চায়ের দোকান, সরাইখানা গড়ে উঠবে, সেগুলিতেও অনেকের কর্মসংস্থান হবে। পর্যটক অনুকূল হোটেল, রেস্তোরাঁ ও দোকানপাট বাড়বে। অনেক ভূমিহীন দরিদ্র পরিবারের মানুষ কর্মসংস্থান পাবেন। মেশিন ও কাঁচামালে এত টাকা খরচ হয় না, যতটা হয় শ্রমিকদের বেতন বাবদ। সেজন্য পরিকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থান বাড়বেই, গ্রামের মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও বাড়বে। গ্রামের দরিদ্র মানুষ তথা দেশের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়লে ভারতের অর্থব্যবস্হা নতুন উচ্চতা অতিক্রম করবে। সেজন্যই আমাদের সরকার এই পরিকল্পনাগুলির সার্থক রূপায়ণে জোর দিচ্ছে।

এই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উৎকর্ষসাধনের পাশাপাশি, আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি ‘প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চাই যোজনা’র সার্থক রূপায়ণে। আমাদের দেশে যতগুলি কৃষি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে, সেগুলিকে আমরা একবার পর্যালোচনা করাচ্ছি। আমরা ১০০ শতাংশ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চাই। পরিকল্পনাগুলিতে যত বর্গকিলোমিটার এলাকায় সেচের জল পৌঁছনোর কথা ছিল, ততদূর পৌঁছেছে কি না, না পৌঁছে থাকলে এখন কিভাবে তা করা যায়, কৃষিক্ষেত্রে যতটা জলের প্রয়োজন, নদীগুলি সংযুক্তিকরণের মাধ্যমে সেই পরিমাণ জল পৌঁছে দেওয়া কিভাবে সম্ভব হবে, তা নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ চলছে, যাতে কৃষকদের কম বর্ষার কারণে আত্মহত্যা করতে না হয়।

ভাই ও বোনেরা, আমাদের পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ আখ চাষের জন্য বিখ্যাত। এই অঞ্চল গোটা দেশের মানুষের মুখমিষ্টি করে। কিন্তু, আমরা দেখেছি, যখন বিশ্ব বাজারে চিনির দাম কমে যায়, তখন আমাদের আখচাষীদেরও কোমর ভেঙে যায়। তখন সরকার কী করে? সামান্য অনুদান দেয়, যাতে তাঁরা আবার চাষের কাজ শুরু করতে পারেন। কিন্তু, এটা কোনও পথ নয়। আমাদের কৃষকরা পরিশ্রম করে ফসল ফলাবেন, আর বিশ্ব বাজারে চিনির দাম পড়ে গেলে তার ফল তাঁদেরকে ভুগতে হবে, এটা চলতে পারে না। আমরা এর প্রতিকার ভেবেছি। আখ থেকে চিনি তৈরি হয়, চিনি বেশি উৎপাদিত হলে দাম পড়ার ভয় থাকে, দাম টিকিয়ে রাখতে হলে প্রয়োজনমাফিক চিনি উৎপাদনের পর বাকি আখ দিয়ে ইথনোল উৎপাদনের কথা ভেবেছি। এখন ইথনোল উৎপাদনের পর যদি তার বাজার না পাওয়া যায়, তা হলে কৃষকরা কী করবেন? আমরা আইন প্রণয়ন করেছি, যাতে আমাদের সড়কে যে বাসগুলি চলে, তাতে জ্বালানির সঙ্গে ৪ শতাংশ ইথনোল মেশাতেই হয়। এর ফলে, প্রদূষণ কমবে। আখচাষীদের মুখেও হাসি ফুটবে, এক্সপ্রেস হাইওয়ে তৈরি হলে গাড়িগুলিও দ্রত ছুটবে, ইথনোল ব্যবহারের ফলে প্রদূষণও কম হবে। এভাবেই সাধারণ মানুষকে উন্নয়নের নতুন মডেলের সঙ্গে যুক্ত করে সকলকে উন্নয়ন যাত্রায় সামিল করে নেওয়ার কথা আমরা ভেবেছি।

আজ ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৫’র শেষ দিন। আগামীকাল ২০১৬ সালের ০১ জানুয়ারি। আমার পক্ষ থেকে নববর্ষের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। এই নতুন বছরে দেশের নবীন প্রজন্মকে আমরা এক অদ্ভূত উপহার দিতে চলেছি। এই উপহার নবীন প্রজন্মকে দুর্নীতি থেকে মুক্তি দেবে।

এই উপহার হল – তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে আগামীকাল থেকে আর কোনও ইন্টারভিউ দিতে হবে না। আমরা জানি, ইন্টারভিউ-র মানেই হল সুপারিশ, কোনও বড় মানুষের মুসাবিদা। এর ফলে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যোগ্যপ্রার্থী বঞ্চিত থেকে যায়। সেজন্য, সরকারের নতুন বছরের উপহার হল, প্রযুক্তির মাধ্যমে, মেধার ভিত্তিতে যোগ্যপ্রার্থী নির্বাচন। কোনও বিধবা মায়ের সন্তান যদি যোগ্যপ্রার্থী হন, তা হলে তার বাড়িতেই চাকরিতে যোগদানের চিঠি চলে আসবে। আমি দেশের সকল মুখ্যমন্ত্রীদের অনুরোধ করছি, সকল রাজ্য সরকারকে অনুরোধ করছি, ভারত সরকারের সকল তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে আগামীকাল থেকে আর কোনও ইন্টারভিউ দিতে হবে না, আপনারাও রাজ্য সরকারের সকল তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে ইন্টারভিউ বন্ধ করে মেধারভিত্তিতে যোগ্যপ্রার্থী নির্বাচন করুন।

আমার নয়ডাবাসী প্রিয় ভাই ও বোনেরা, নয়ডার মানুষের মনে থাকে না যে, তাঁরা উত্তরপ্রদেশের নাগরিক। অনেক সময়েই তাঁরা মনে করেন যে তাঁরা দিল্লির নাগরিক। ভাই ও বোনেরা, আপনারা ভুললেও আমি ভুলি না। আমি উত্তরপ্রদেশ থেকে নির্বাচিত সাংসদ। এই প্রদেশের মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তা আমাকে সবসময়ে কাজের ক্ষেত্রে প্রেরণা যোগায়। উত্তরপ্রদেশের একজন সাংসদ হিসেবে আমি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাই যে, আপনারাও রাজ্য সরকারের সকল তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে ইন্টারভিউ বন্ধ করে মেধারভিত্তিতে যোগ্যপ্রার্থী নির্বাচন করুন।

ভাই ও বোনেরা, আমাদের সরকার দেশের দরিদ্র মানুষের কল্যাণে একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছে। কিছু পুরনো আইন রয়েছে, যা দেশের গরিব মানুষের আর্থিক উন্নয়নের অনুকূল নয়। আমরা এই পুরনো আইনগুলি বদলে নতুন আইন প্রণয়ন করতে চাই। কিন্তু দেশের দুর্ভাগ্য যে, ভারতের সংসদে, যেখানে আইন প্রণয়ন হয়, সেই সংসদকে অচল করে দেওয়া হচ্ছে। যে দলকে সাধারণ মানুষ প্রত্যাখান করেছেন, তারাই এখন সংসদকে অচল করে দিচ্ছেন। আমি বিশেষ করে, সকল রাজনৈতিক দলকে অনুরোধ জানাই, লোকসভায় আমাদের বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলেই আমি জনসভার মাধ্যমে আপনাদের অনুরোধ জানাচ্ছি যে, দেশের মানুষ আমাদের সকলকে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আইন প্রণয়নের জন্য সংসদে পাঠিয়েছেন, আমাদের উচিৎ সেই সংসদের সুস্থ পরিবেশ বজায় রেখে বিতর্কে অংশগ্রহণ করে সাধারণ মানুষের স্বার্থে আইন প্রণয়ন করি। যাঁরা ৫০-৬০ বছর ধরে দেশকে শাস্ন করেছেন, তাঁদের দায়িত্ব বেশি হওয়া উচিৎ। সাধারণ মানুষের স্বার্থকে কিভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিৎ, সরকার কাকে বলে, সংসদ কাকে বলে, সংসদের অধিবেশন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হওয়া কতটা জরুরি, এসব বিষয় আমাদের থেকে তাঁরা বেশি জানেন। গত ৫০-৬০ বছরে এক ডজন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে তাঁরা কাজ করেছেন, সংসদে সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্ব তাঁরা অস্বীকার করতে পারেন না। যেসব সাংসদ কখনও সরকারে অংশগ্রহণ করা দলের সদস্য নন, তাঁদের রাগ আমরা বুঝতে পারি। কিন্তু, যাঁরা ৬০ বছর ধরে শাসনের সুযোগ পেয়েছেন, সংসদের অধিবেশনের মূল্যবান সময় নষ্ট করার কোনও অধিকার তাঁদের নেই।

আজ বছরের শেষ দিনে আমি বিশেষ করে, তাঁদেরকে অনুরোধ জানাই, আগামীকাল নতুন বছরের পয়লা জানুয়ারি’তে একটি সংকল্প গ্রহণ করুন যে, আজ থেকে আমরা আর সংসদে বাধা সৃষ্টি করবো না। অধিবেশনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হতে দিয়ে দেশকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবো, দেশের গরিব মানুষের স্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করবো! আমরা সবাই এই সংকল্প গ্রহণ করলে দেশ অবশ্যই অদূর ভবিষ্যতে উন্নতির নতুন শিখরে পৌঁছে যাবে। আমি আরেকবার আপনাদের সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আশা করি, এই মহাসড়ক পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের উন্নয়নে একটি নতুন গাঁথা রচনা করবে। আমি উত্তরপ্রদেশের নাগরিকদের শুভেচ্ছা জানাই। অনেক অনেক ধন্যবাদ।

HRK/SB/SB