Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

দু ’ দেশের জনগণের উদ্দেশে পেট্রাপোল ইন্টেগ্রেটেড চেকপোস্ট যৌথ উৎসর্গ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণের মূল পাঠ

দু ’ দেশের জনগণের উদ্দেশে পেট্রাপোল ইন্টেগ্রেটেড চেকপোস্ট যৌথ উৎসর্গ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণের মূল পাঠ


বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধেয় শেখ হাসিনা,

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শ্রদ্ধেয় মমতা ব্যানার্জি,

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের ভাই-বোনেদের আমার নমস্কার ।

আজ থেকে আমাদের দুই দেশের মধ্যে আদান-প্রদান আরওসহজ হবে ।

আমরা আরও কাছাকাছি এলাম । এই শুভ উপলক্ষে সকলকেজানাই অভিনন্দন । v

এটা ঈদের মাস । সেজন্য সবার আগে বাংলাদেশের ভাই ও বোনেদের উদ্দেশে সমগ্র ভারতবাসীর পক্ষ থেকে ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানাই ।

এটা আমার এবং সকল ভারতবাসীর জন্য অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে রমজানের এই পবিত্র মাসে ঢাকা আর কিশোরগঞ্জে বীভৎস সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়েছে । আমরা এই সন্ত্রাসবাদী হামলার তীব্র নিন্দা করি ।

এই আক্রমণে হতাহত নির্দোষ মানুষদের প্রতি সকল ভারতবাসীর প্রার্থনা এবং আন্তরিক সহমর্মিতা জানাই ।

মহামান্য প্রধানমন্ত্রী,

এই চরম দুর্দিনে ভারত আপনাদের পাশে আছে । এই কঠিন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃঢ় নেতৃত্বকে আমি অভিনন্দন জানাই । আপনার এই নেতৃত্ব সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় একটি উদাহরণ-স্বরূপ ।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আপনাদের এই লড়াইয়ে আপনারা কখনও নিজেদের একা ভাববেন না । আপনাদের সঙ্গে রয়েছে ভারতের পূর্ণ সমর্থন ।

আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করছি যে,সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে ভারত আপনাদের সব ধরনের সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত ।

মহামান্য,

আজ আমরা এমন এক পরিস্থিতির সম্মুখীন, যেখানে আমাদেরসমস্যা এক, যা উভয়েরই উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে ।

আমি সবসময়ে মনে করি যে, ভারতের উন্নয়ন সর্বদাই প্রতিবেশী দেশগুলির উন্নয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ।

ভারত ও বাংলাদেশ শুধু উন্নয়নের পথে এগিয়েই যাচ্ছেনা, এই যাত্রায় আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলেছি ।

সেজন্য আজ পেট্রাপোল-বেনাপোলে দু ’ দেশের সাধারণ মানুষের উদ্দেশে এই ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট উৎসর্গ অনুষ্ঠান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক । এটি কেবল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নয়, উভয় দেশের আর্থিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর ।

এর গুরুত্ব এতই যে আজ উভয় দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্যের৫০ শতাংশ পণ্য-ই এই পেট্রাপোল-বেনাপোল হয়ে পারাপার করে । ২০১৫-১৬ সালে এইপেট্রাপোল-বেনাপোল দিয়ে ১৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়েছে । প্রত্যেক বছর প্রায়১৫ লক্ষ মানুষ এবং দেড় লক্ষ মালবাহী লরি এখান দিয়ে যাতায়াত করে । গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় এটা সবচেয়ে বড় স্থল বন্দর ।

আগে পেট্রাপোলে কেবল ১৫ একর এলাকা নিয়ে ল্যান্ডকাস্টমস স্টেশন ছিল । এর পরিষেবাও ছিল সীমাবদ্ধ । আমি অত্যন্ত আনন্দিত, এখন প্রায় ১৪২ কোটি টাকা বিনিয়োগকরে ১০০ একর জমি নিয়ে এই ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট গড়ে উঠেছে । এতে যাত্রী, পণ্যএবং যানবাহনের নিরাপত্তা, ইমিগ্রেশন, কাস্টমস্‌ইত্যাদি পরিষেবা সমান্তরালভাবে প্রদানকরা হবে ।

এর আগে আমরা আগরতলায় ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট নির্মাণেরকাজ সম্পূর্ণ করেছি । আর, আগামীদিনে ভারত-বাংলাদেশ সীমানায় এমনই আরও আটটি ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট নির্মাণেরকাজ আমরা করব ।

মহামান্য,

আমি মনে করি, আর্থিক উন্নয়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পরস্পরের পরিপূরক । পেট্রাপোল-বেনাপোল ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্টকে সফলভাবে কাজে লাগাতে পারলে আমাদের অর্থ ব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত হবে, উভয় দেশের জনগণের ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির বন্ধনও সুদৃঢ় হবে ।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই পেট্রাপোল-বেনাপোল ইন্টিগ্রেটেডচেকপোস্ট উভয় দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অন্যতম প্রধান দ্বার হয়ে উঠবে ।

এই ঐতিহাসিক মূহুর্তে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতী মমতা ব্যানার্জি উপস্থিত রয়েছেন, তাঁকে আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই । পাশাপাশি, ভারত-বাংলাদেশমৈত্রী আরও নিবিড় করার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে আমি অভিনন্দন জানাই ।

অবশেষে, আমি আরেকবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারনেতৃত্ব, এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়নেতাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে অভিনন্দন জানাই ।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই পেট্রাপোল-বেনাপোল ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট উভয় দেশের আর্থিক উন্নয়ন এবং উভয় দেশের সম্পর্কের উন্নয়নে, দু ’ দেশের জনসাধারণের আত্মিক বন্ধনকে আরও নিবিড় করবে ।

ধন্যবাদ ।

PG/SB/SB……22_July_2016