Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

দেশের আইনি মধ্যস্থতা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত বিশ্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সমাপ্তি ভাষণ

দেশের আইনি মধ্যস্থতা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত বিশ্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সমাপ্তি ভাষণ


ভারতের প্রধানবিচারপতি মাননীয় টি এস ঠাকুর,

শীর্ষ আদালত এবং উচ্চআদালতগুলির মাননীয় বিচারপতিগণ,

বন্ধু ও বিশিষ্টঅতিথিবৃন্দ এবং

ভদ্র মহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ,

এই বিশ্ব সম্মেলনআয়োজনের জন্য প্রথমেই আমি অভিনন্দন জানাই নীতি আয়োগ’কে।

সালিশি বা মধ্যস্থতারসবচেয়ে সহজ ও সরল সংজ্ঞাটি আমরা লাভ করেছি মহাত্মা গান্ধীর কাছ থেকে। তিনিবলেছিলেন :

“আইন ব্যবসার আসল সত্যটি আমি আবিষ্কার করেছি। মানব প্রকৃতির উন্নততর বৈশিষ্ট্যঅনুধাবন করে কিভাবে মানুষের হৃদয়ে প্রবেশ করা যায়, সে সম্পর্কও শিক্ষা লাভ করেছিআমি । উপলব্ধি করেছি যে, একজন আইনজীবীর আসল কাজ হ’ল – বিবাদমানব্যক্তি বা গোষ্ঠী গুলিরমধ্যে মিলন সম্ভব করে তোলা। এই শিক্ষা আমাকে এতটাই প্রভাবিত করেছিল যে, আমারআইনজীবী হিসাবে ২০ বছরের সময়কালের একটা বড় অংশ কেটেছে শত শত মামলার বিষয়কেব্যক্তিগত সন্ধি স্থাপনের মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলার কাজে। তাতে আমার ক্ষতি হয়নিকোনওভাবেই। আর্থিক বা আত্মিক কোনও রকম ক্ষতিই আমাকে স্বীকার করতে হয়নি”।

বন্ধুগণ,

ভারত হ’ল বর্তমানেদ্রুততম গতিতে বিকাশশীল এক বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের ক্ষেত্রেওসর্বাপেক্ষা আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে ভারত। গণতন্ত্র, চাহিদা এবং জনগোষ্ঠী -ভারতের এই মৌলিক শক্তিগুলির সমন্বয়ের ফসলই হ’ল এই ঘটনা । এই সমস্ত শক্তিকেপূর্ণ মাত্রায় কাজে লাগাতে হবে আমাদের । ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যদিকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিকারী দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ এবং নিরন্তর অর্থনৈতিকঅগ্রগতি সম্ভব করে তোলা যায়, তা হলেই তা বাস্তবায়িত করা যাবে।

আমাদের দেশীয় বাজারব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে নানা বৈচিত্র্য। বিভিন্ন রাজ্যে পৃথক পৃথক কর ব্যবস্থা পণ্যও পরিষেবার বিষয়গুলিকে ব্যয় সাপেক্ষ ও ব্যয় বহুল করে তুলেছে। এর ফলে, ব্যাহত ওক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আন্তঃরাজ্য বাণিজ্য প্রচেষ্টা। পণ্য ও পরিষেবা কর আইন আমরা চালুকরতে চলেছি, যাতে জাতীয় বিপণন ক্ষেত্রে সংহতির বাতাবরণ গড়ে তোলা যায়। এর ফলে,একদিকে যেমন দেশে সার্বিক চাহিদা বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে তেমনই ভারতেরব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনা সৃষ্টির পাশাপাশিকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও বিশেষভাবে উৎসাহিত হবে।

এক ডিজিটাল বিপ্লবেরমধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে ভারত। সাধারণভাবে ভারতীয় সমাজ এবং বিশেষভাবে গ্রামীণ সমাজেরডিজিটাল ও অর্থনৈতিক ঘাটতি পূরণের ক্ষেত্রে তা এক সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। এইবিপ্লবের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলতে পারলে ভারতীয় অর্থনীতিহয়ে উঠবে আরও বলিষ্ঠ ও উজ্জ্বল সম্ভাবনাময়।

উদ্ভাবনী বাণিজ্যিকআদর্শ এবং অ্যাপ-ভিত্তিক ‘স্টার্ট আপ’ গড়ে তোলার উদ্যোগ ভারতীয়দের মধ্যে শিল্পস্থাপনের ইচ্ছা জাগিয়ে তুলেছে। অতীতের কর্মপ্রার্থীরা হয়ে উঠছেন আজকের কর্মদাতা।ডিজিটাল বিশ্বের প্রতিশ্রুতি পালনে উন্মোচিত হচ্ছে পেশাদারী আইন ব্যবস্থার নতুননতুন ক্ষেত্র। মামলার কারণ ও উৎপত্তি থেকে শুরু করে মামলার আইনি খুঁটিনাটি বিষয়জানতে মোবাইল ফোনে একবার ক্লিক করলেই আইনজীবীর তথ্য ভাণ্ডারে অবাধ প্রবেশ ঘটবেআমাদের।

বন্ধুগণ,

ভারতীয় বাজারেপ্রচলিত আইনের শাসনের মাধ্যমে আশ্বাস ও নিশ্চয়তা খোঁজে বাণিজ্যিক উদ্যোগগুলি । কিন্তু তাঁদের এইমর্মে আশ্বস্ত হতে হবে যে শুধুমাত্র একক প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি রাতারাতি বদলে যেতেপারে না। এক বলিষ্ঠ আইনি কাঠামো এবং এক উজ্জ্বল সালিশি নিষ্পত্তির চর্চা এজন্য গড়েওঠা প্রয়োজন।

এই উদ্দেশ্যেসুদূরপ্রসারী এক আইনি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। এক হাজারেরও বেশি মান্ধাতাআমলের অপ্রচলিত আইনকে বাতিল করা হয়েছে। এক সুসংবদ্ধ দেউলিয়া কোড, ২০১৬ যেমন আমরাচালু করেছি, অন্যদিকে তেমনই রূপায়িত করেছি জাতীয় কোম্পানি আইন ট্রাইব্যুনাল-এর। একবিধিবদ্ধ আর্থিক নীতি কমিটি গঠনের পাশাপাশি পণ্য ও সিকিউরিটির বাজারকে মিলিয়েদিয়েছি আমরা।

এর পরেও দেউলিয়াআইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমরা এ বছর সংশোধন করেছি SARFAESI এবং DRT আইনগুলি,যাতে ঋণদান পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যিক কাজকর্মকেও আরো সহজ করেতোলা যায়।

তবে,আইনি সংস্কার কাঙ্খিত ফল দিতে পারে তখনই, যখন এক দক্ষ ও কার্যকর বিবাদ নিষ্পত্তিব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়। বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা হ’ল ভারতীয় গণতন্ত্রের এক মূলবৈশিষ্ট্য। বিচার প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে দেশের সাধারণ নাগরিক সহব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও। তাই, বিচার ব্যবস্থার পরিকাঠামো ওপ্রশাসনকে আরও উন্নত করে তুলতে বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আমাদের সরকার।

বাণিজ্যিকবিবাদ-বিসংবাদগুলির দ্রুত নিষ্পত্তিতে আমরা চালু করেছি উচ্চ আদালত আইন, ২০১৫’রবণিজ্যিক আদালত, বাণিজ্যিক বিভাগ এবং বাণিজ্যিক অ্যাপিলেট বিভাগ সংক্রান্তসংস্থানগুলি।

দেশের জেলাআদালতগুলিতে বকেয়া মামলা সংক্রান্ত তথ্য ও পরিসংখ্যান সংগ্রহের জন্য আমরা স্থাপনকরেছি বিচার ব্যবস্থার যাবতীয় তথ্য সম্বলিত এক জাতীয় গ্রিড। আদালতের কাজকর্ম ওপ্রক্রিয়াকে পুরোপুরি কম্প্যুটার চালিত করে তোলার লক্ষ্যে ই-কোর্ট মিশনের আওতায়বিভিন্ন পদক্ষেপও গ্রহণ করেছি আমরা।

বর্তমানেরট্রাইব্যুনালগুলির মধ্য সমন্বয় গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক কৌশল স্থির করার কাজে সচেষ্টরয়েছে আমাদের সরকার। এর সুবাদে বর্তমানের জটিল ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থাকে এক সহজ-সরলকাঠামোতে রূপান্তরিত করা সম্ভব হয়ে উঠবে।

এরই পাশাপাশি সালিশি,মধ্যস্থতা এবং মিলনের মধ্য দিয়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির এক বলিষ্ঠ পরিবেশ ওপরিস্থিতি সম্ভব করে তুলতে হবে আমাদের। এর ফলে, আরও বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে কাজকরতে পারবেন বিনিয়োগকারী এবং বাণিজ্যিক প্রচেষ্টায় যুক্ত ব্যক্তিরা। এক্ষেত্রেসর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হ’ল – ভারতের আদালতগুলিতে জমে থাকা মামলার বোঝাএর ফলে অনেকটাই কমিয়ে আনা যাবে।

সালিশি ও মধ্যস্থতারমাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ধারণাটি আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়। প্রাচীন ভারতবর্ষেবিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বেশ কয়েকটি ব্যবস্থা চালু ছিল। যেমন –কুলানি অর্থাৎ গ্রাম পরিষদ; শ্রেণী অর্থাৎ কর্পোরেশন এবং পুগা অর্থাৎ অধিবেশন।একইভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিষয়গুলি নিষ্পত্তি হতো মহাজন এবং চেম্বারের মাধ্যমে।

কর্পোরেট এবং আর্থিকপ্রতিষ্ঠানগুলিতে বর্তমানে রয়েছে আইন বিশেষজ্ঞের চাহিদা। যাঁরা কোনও রকম বিরোধ বাআইনি ঝঞ্ঝাট ছাড়াই বাণিজ্য ও লেনদেনের ব্যবস্থাটিকে সহজ করে তুলতে সাহায্য করেন।কোনও রকম বিরোধ বা বিতর্ক দেখা দিলে কর্পোরেট জগৎ আদালতের দ্বারস্থ না হয়ে সালিশিমধ্যস্থতার মাধ্যমে তার দ্রুত সমাধানে বিশেষভাবে আগ্রহী। এজন্য তাঁদের প্রয়োজনমধ্যস্থতার কাজে বিশেষজ্ঞ আইনজীবীর। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার আরেকটিউল্লেখযোগ্য দিক হ’ল এই যে ব্যক্তিগত এবং বণিজ্য সম্পর্ক সুরক্ষিত রাখতে তাবিশেষভাবে সাহায্য করে। অন্যথায় এই সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পাশাপাশি বিরূপপ্রতিক্রিয়া দেখা দিত।

বর্তমানকালেরপ্রবণতায় এটা আমরা লক্ষ্য করেছি যে, হংকং ও সিঙ্গাপুরের মতো এশিয়ার দেশগুলি এখনসালিশি-মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে এক পছন্দের জায়গা হয়ে উঠেছে। জনপ্রিয় বাণিজ্যিককেন্দ্র হিসাবে ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজকর্মকে সহজতর করে তোলার ক্ষেত্রে তারা রয়েছেএখন শীর্ষস্থানে। আর এইভাবেই উন্নতমানের সালিশি-মধ্যস্থতা ব্যবস্থা হয়ে উঠেছেবাণিজ্যিক কাজকর্ম সহজতর করে তোলার এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আর এই লক্ষ্যেইপ্রতিশ্রুতিবদ্ধ আমাদের সরকার।

বন্ধুগণ,

প্রাতিষ্ঠানিকসালিশি-মধ্যস্থতার উপযোগী এক শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তোলা হ’ল আমাদের সরকারের একবিশেষ অগ্রাধিকারের বিষয়। সম্প্রতি মধ্যস্থতা ও সমন্বয় আইনের ক্ষেত্রে এক বড় ধরণেরসংস্কার করা হয়েছে। এর ফলে, সালিশি-মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া হয়ে উঠেছে আরও সহজ,সময়োচিত এবং ঝঞ্ঝাটমুক্ত। UNCITRAL মডেল আইনের ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে আমাদের সংশ্লিষ্টআইনটি।

আমাদের উদ্দেশ্য হ’ল – স্বাভাবিক পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে সালিশি-মধ্যস্থতারমাধ্যমে বারো মাসের মধ্যেই বিরোধের নিষ্পত্তি ঘটানো । ফাস্ট ট্র্যাক আদালতগুলির ক্ষেত্রে সময়সীমা ধার্য করা যেতে পারে ছ’মাসেরজন্য। এমনকি, বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীর নিয়োগ সম্পর্কে ৬০ দিনেরমধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আদালতকে। ইতিপূর্বে এই প্রক্রিয়ায় যে অযথা বাধা ও বিলম্বদেখা দিত, তা এখন সম্পূর্ণ দূর করা হয়েছে।

নতুন আইন অনুসারে, এ সম্পর্কিত কোনও আবেদন সম্পর্কে আদালতে এই সিদ্ধান্তনেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে এক বছর। শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক প্রথা অনুসারে,এই ধরণের বিষয়গুলিতে অসম্মতি প্রকাশ করতে পারে সংশ্লিষ্ট আদালত। আমরাসালিশি-মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে যে সমস্ত সংশোধন সম্ভব করে তুলেছি তা বিশ্বের শ্রেষ্ঠব্যবস্থাগুলির অন্যতম। এর ফলে, সালিশি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একটি অগ্রণী গন্তব্যহিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ ঘটেছে ভারতের । তবে, সুযোগ-সুবিধার প্রসার ও সম্প্রসারণের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন ধরণেরচ্যালেঞ্জও, যার মধ্যে রয়েছে – বিশ্ব স্বীকৃত উন্নত মানের মধ্যস্থতা ব্যবস্থা;পেশাগত আচরণের শর্ত পূরণ; নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি বজায় রাখা; সঠিক সময়ে সালিশিনিষ্পত্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা এবং এই ব্যবস্থাকে ব্যয়সাশ্রয়ী করে তোলা।

বন্ধুগণ,

মেধাবী আইনজীবী ও বিচারপতির কোনও অভাব নেই আমাদের দেশে। ভারতে রয়েছেন বহুঅবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, ইঞ্জিনিয়ার এবং বিজ্ঞানী, যাঁরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষমধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারেন। মধ্যস্থতার কাজে আইনজীবী এবং বিশেষজ্ঞদেরসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থ তাতে সুরক্ষিত থাকে। আর এজন্যপ্রয়োজন ভারতে আইনি শিক্ষার পরিধিকে আরও প্রশস্থ করে তোলা। মধ্যস্থতাকারীব্যক্তিদের সংস্থা গড়ে তোলারও প্রয়োজন রয়েছে। পেশাগতভাবে পরিচালিত মধ্যস্থতাসংস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাও আমরা অনুভব করেছি। কারণ, তারফলে ভারতেরব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ন্যায্য ব্যয়ে বিশ্ব মানের পরিষেবা লাভ সম্ভব। আমাদেরএই প্রচেষ্টায় আন্তর্জতিক ক্ষেত্রে স্বীকৃত সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলিকেও আমরাস্বাগত জানাই।

বিচার বিভাগ এবং সালিশি মধ্যস্থতা ব্যবস্থার প্রসারে উপায় অনুসন্ধানের কাজেসচেষ্ট থাকতে হবে আমাদের। মধ্যস্থতা হ’ল এমন একটি প্রক্রিয়া, যার সুযোগ ওসম্ভাবনার বিষয়টি আমাদের দেশে এর আগে ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হয়নি।

বন্ধুগণ,

বিরোধ নিষ্পত্তির এক বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা ভারতের জাতীয় অগ্রাধিকারেরএক অন্যতম বিষয় । ভারত’কে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে আমরা আগ্রহী। রোসকো পাউন্ডের বিখ্যাত উক্তিটি আমি এখানেউদ্ধৃত করছি – “আইনকে অবশ্যই স্থিতিশীল হতে হবে, কিন্তু তা অনমনীয় হলে চলবে না” । তাই, দেশের উপকূল সীমানার বাইরেও অন্যান্য দেশ থেকেঅনুপ্রেরণা লাভ করতে হবে আমাদের। গুরুত্বপূর্ণ নিয়মনীতি এবং মানসিকতার পরিবর্তনতথা সংস্কার ও সংশোধন প্রচেষ্টা সম্পর্কে আলোচনা ও মতবিনিময়ের একটি আদর্শ মঞ্চ হয়েউঠেছে এই সম্মেলনটি।

আজকের আলোচনা ভারতে সালিশি-মধ্যস্থতার বিষয়টিতে যে আরও শক্তিশালী করে তুলবেএবং এই কাজের সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক পেশাদারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, কর্পোরেটসংস্থা তথা আইনজীবীদের মধ্যে ভারতের অবস্থান আরও উন্নত করে তুলবে সে বিষয়ে আমিনিশ্চিত। আপনাদের প্রস্তাব ও সুপারিশগুলির সফল রূপায়ণের জন্য আগ্রহের সঙ্গেইঅপেক্ষা করব আমরা।

ধন্যবাদ।

PG/SKD/SB