Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

দেশের নবীন উদ্ভাবক ও স্টার্টআপ উদ্যোগপতিদের সঙ্গে ভিডিও মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর আলাপচারিতা


প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের নবীন উদ্ভাবক ও স্টার্টআপ শিল্পোদ্যোগীদের সঙ্গে বুধবার (৬ জুন) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলাপচারিতায় মতবিনিময় করেছেন। বিভিন্ন সরকারী প্রকল্পের উপভোক্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলাপ-আলোচনার এটি চতুর্থ পর্ব।

ভারতের নবীন নাগরিকরা যে বহু মানুষের রোজগারের সংস্হান করছে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সরকার দেশের জনসংখ্যাগত সুবিধাকে লাভে পরিণত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। স্টার্ট-আপের ক্ষেত্রে সাফল্য পেতে যথেষ্ট পরিমানে মূলধন, সাহস ও মানুষের সঙ্গে সংযোগস্হাপনের ক্ষমতা থাকার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন স্টার্টআপ কেবল ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। স্টার্ট আপের উদ্যোগীরা বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছেন বলেও শ্রী মোদী জানান। ২৮টি রাজ্য, ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ও ৪১৯ জেলায় স্টার্ট-আপের নথি জমা পড়েছে। তারমধ্যে ৪৪ শতাংশ স্টার্ট-আপ সংস্হা দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীভুক্ত শহরগুলিতে নথিভুক্ত হয়েছে। এই সংস্হাগুলি সেসব অঞ্চলের স্হানীয় উদ্ভাবনকে তুলে ধরছে। তাছাড়া, ৪৫ শতাংশ স্টার্ট-আপ সংস্হা মহিলারা চালু করেছেন।

সরকারের প্রচেষ্টায় কিভাবে ব্যবসার স্বত্ত্ব ও ট্রেডমার্কের নথিভুক্তির পদ্ধতি সহজ হয়েছে, তা প্রধানমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন। ট্রেডমার্ক দাখিলের জন্য প্রয়োজনীয় ফর্মের সংখ্যাও ৭৪ থেকে কমিয়ে তিন করেছে সরকার, যার ফলে ট্রেডমার্ক নথিভুক্তির সংখ্যা তিনগুণ বেড়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমানে স্বত্ব নথিভুক্তও তিনগুণ বেড়েছে।

নবীন উদ্যোগপতিদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ১০ হাজার কোটি টাকার একটি বড়মাপের তহবিল চালু করেছে যাতে নবীন উদ্যোগপতিরা শিল্প স্হাপনের ক্ষেত্রে অর্থের সমস্যায় না পড়েন এবং নতুন নতুন উদ্ভাবনের সুযোগ-সুবিধা পান।

ভারতের স্টার্ট-আপ ব্যবস্হাকে মজবুত করে তুলতে সরকারী পদক্ষেপগুলি ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ই-মার্কেট প্লেস বা জিইএমকে স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়া পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে, নতুন সংস্হা তাদের সামগ্রী সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবে। স্টার্ট-আপ সংস্হাগুলিকে প্রথম তিন বছরের জন্য কর-ছাড়ের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। নবীন শিল্পপতিদের স্বশংসায়নের সুবিধা দিতে দুটি শ্রমিক আইন ও তিনটি পরিবেশ আইনের ধারা সংশোধন করা হয়েছে। এছাড়া, স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়া হাব নামক একটি ওয়েবসাইট চালু হয়েছে যাতে উদ্যোগপতিরা স্টার্ট-আপ সংক্রান্ত সবরকম তথ্য পাবেন।

অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় শ্রী মোদী জানান, অটল নতুন ভারত চ্যালেঞ্জ, স্মার্ট ইন্ডিয়া হ্যাকাথন ও অ্যাগ্রিকালচার গ্র্যান্ড চ্যালেঞ্জ সহ নানা প্রতিযোগিতা সরকার চালু করেছে যাতে নবীন প্রজন্মকে উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতার প্রতি উৎসাহিত করে তোলা যায়।

সিঙ্গাপুর ও ভারতের উদ্ভাবকদের মধ্যে স্মার্ট ইন্ডিয়া হ্যাকাথনের মত প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিষয়ে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আলোচনার কথাও প্রধানমন্ত্রী জানান।

প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে সরকার দেশে উদ্ভাবনী কাজকর্মে উৎসাহপ্রদানে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কম বয়সীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজে উৎসাহ যোগাতে দেশজুড়ে ৪টি গবেষণা উদ্যান ও ২৫০০ অটল টিঙকারিং ল্যাব-ও চালু করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নবীন উদ্ভাবকদের দেশের কৃষি ক্ষেত্রকে রূপান্তরের বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করতে বিশেষভাবে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মেক ইন ইন্ডিয়ার পাশাপাশিডিজাইন ইন ইন্ডিয়াও খুবই জরুরি। উদ্ভাবন কর বা নিশ্চল হয়ে যাও মন্ত্র উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী নবীন প্রজন্মকে উদ্ভাবনের কাজ চালিয়ে যেতে উৎসাহ যোগালেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপচারিতার সময় নবীন উদ্ভাবকরা ব্যাখ্যা করে জানান, স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়া উদ্যোগের আওতায় বিভিন্ন সরকারী প্রকল্প থেকে তাঁরা কিভাবে উপকৃত হয়েছেন। উদ্যোগপতি ও উদ্ভাবকরা কৃষিক্ষেত্র থেকে ব্লকচেন প্রযুক্তি সংক্রান্ত নানা উদ্ভাবনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জানান। বহু অটল টিংকারিং ল্যাবে কাজ করা স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের উদ্ভাবনের কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানায়। শ্রী মোদী স্কুল পড়ুয়াদের বৈজ্ঞানিক দক্ষতার প্রশংসা করেন ও এরকম আরো নতুন নতুন উদ্ভাবন প্রস্তুত করতে তাদের উৎসাহ যোগান।

উদ্ভাবন কর ভারতকে জন আন্দোলনে রূপান্তরের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী। সাধারণ নাগরিকদের নিজেদের ভাবনচিন্তা ও উদ্ভাবনের কথা #InnovateIndia সহ লিখে জানাতেও তিনি উৎসাহ জুগিয়েছেন।

 

 

CG/SC/NS/