Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

দেশের স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও সম্মেলনের মাধ্যমে আলাপচারিতা প্রধানমন্ত্রীর


দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির সদস্য এবং দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনার সুফলভোগীদের সঙ্গে আজ এক ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে আলাপচারিতায় মিলিত হলেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী। বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ১ কোটিরও বেশি মহিলার সঙ্গে আলাপচারিতায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির সুফল গ্রহীতাদের সঙ্গে ভিডিও সম্মেলনের মঞ্চে এটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর নবম মতবিনিময় অনুষ্ঠান।

স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির মহিলা সদস্যদের সঙ্গে আলাপচারিতার সুযোগ পেয়ে স্পষ্টতই আনন্দ প্রকাশ করেন শ্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, গোষ্ঠীর প্রত্যেক সদস্যই সঙ্কল্প, শিল্পোদ্যোগ এবং সমবেত প্রচেষ্টার দৃষ্টান্ত যাঁরা আমাদের অনুপ্রাণিত করেন। তাঁরা সকলেই কঠোর পরিশ্রমী এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে তাঁদের রয়েছে অন্তর্নিহিত শক্তির প্রাচুর্য। শুধু তাঁদের প্রয়োজন কাজ করে যাওয়ার মতো সুযোগ-সুবিধা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন কোন ক্ষেত্র খুঁজে পাওয়া কঠিন যেখানে মহিলাদের কোন অবদান নেই। বিশেষতঃ কৃষি ও দুগ্ধোৎপাদন ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান রয়েছে যথেষ্ট মাত্রায়। দেশের সর্বত্র নারী ক্ষমতায়নের প্রকৃত শক্তি অন্তর্নিহিত রয়েছে তার মধ্যেই।

শ্রী মোদী বলেন, দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা – জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশন-এর কাজ শুরু হয়েছে দেশের সবক’টি রাজ্যেই। এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য হল দেশের ২.৫ লক্ষ গ্রাম পঞ্চায়েতের দরিদ্র পরিবারগুলির জন্য নিরন্তর রুজি-রোজগারের ব্যবস্থা করা। কর্মসূচিটির রূপায়ণে সাফল্যের জন্য সবক’টি রাজ্যের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের অভিনন্দিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দরিদ্র সাধারণ মানুষের, বিশেষতঃ গ্রামীণ মহিলাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি। ২০১১-১৪ – এই সময়কালের তুলনায় গত চার বছরে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে চারগুণেরও বেশি। এর মাধ্যমে দেশের পল্লী অঞ্চলে কর্মসংস্থানের প্রসারের পাশাপাশি, শিল্পোদ্যোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১১ থেকে ২০১৪ – এই তিন বছরে মাত্র ৫ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী দেশে গঠিত হয়েছিল যাদের মাধ্যমে পরিষেবার সুযোগ সম্প্রসারিত হয়েছিল ৫২ লক্ষ পরিবারের কাছে। কিন্তু ২০১৪ সালের পর থেকে অতিরিক্ত ২০ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী দেশে গড়ে ওঠে। এদের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে ২ কোটি ২৫ লক্ষ পরিবারকে।

দেশের সর্বত্র স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির প্রসার ও বিকাশে সরকার প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মহিলা কিষাণ স্বশক্তিকরণ পরিযোজনা’র মাধ্যমে ৩৩ লক্ষেরও বেশি মহিলা কৃষিজীবীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। গ্রাম ভারতের প্রায় ৫ কোটি মহিলার সক্রিয় অংশগ্রহণে দেশে বর্তমানে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫ লক্ষ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনার মাধ্যমে গ্রামীণ যুবকদের দক্ষতা বিকাশের ওপর বিশেষভাবে দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে। তরুণ ও যুব সমাজের এক উন্নততর জীবন গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি, স্বনির্ভর কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করা হয়। ৬০০টি গ্রামীণ স্বনির্ভর কর্মসংস্থান সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ সংস্থার মাধ্যমে দেশের ২৮ লক্ষ যুবক-যুবতীকে দক্ষতা বিকাশের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৯ লক্ষ যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আলাপচারিতাকালে মূল্য সংযোজন ও মূল্য শৃঙ্খলের গুরুত্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি বৈদ্যুতিন মঞ্চ ‘জেইএম’ ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্য বিপণনের জন্য স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির কাছে আর্জি জানান তিনি।

স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে তাদের সাফল্য ও অভিজ্ঞতার কথা এদিন সদস্যরা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। মনোবল ও আত্মবিশ্বাসের সাহায্যে দরিদ্র মহিলারা যেভাবে সমস্ত রকম প্রতিকূলতার সঙ্গে সংগ্রাম করে এসেছেন, তা জেনে তাঁদের ভূয়সী প্রশংসা করেন শ্রী নরেন্দ্র মোদী। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি কিভাবে তাঁদের জীবনে এক ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব করে তুলেছে, তাও এদিন প্রধানমন্ত্রীকে জানান বিভিন্ন কর্মসূচির সুফলভোগী মহিলারা। নরেন্দ্র মোদী অ্যাপ-এর মাধ্যমে আলোকচিত্র সহ তাঁদের সাফল্যের কাহিনী তুলে ধরার জন্য মহিলা সদস্যদের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

CG/SKD/DM/