Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

‘দৈনিক জাগরণ’ সংবাদপত্রের ৭৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত জাগরণ ফোরামে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

‘দৈনিক জাগরণ’ সংবাদপত্রের ৭৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত জাগরণ ফোরামে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

‘দৈনিক জাগরণ’ সংবাদপত্রের ৭৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত জাগরণ ফোরামে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

‘দৈনিক জাগরণ’ সংবাদপত্রের ৭৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত জাগরণ ফোরামে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ


এখানে উপস্থিত সমস্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিবর্গ, ভদ্র মহিলা ও ভদ্র মহোদয়গণ,

সবার আগে আমি ‘দৈনিক জাগরণ’-এর সমস্ত পাঠক, কাগজ প্রকাশনের সঙ্গে যুক্ত সকলে, আর যাঁরা প্রতিদিন মানুষের বাড়িতে বাড়িতে খবরের কাগজ পৌঁছেদেন, বিশেষ করে সেই হকার বন্ধুদের এবং আপনাদের সম্পাদকীয় টিমকে এই হীরক জয়ন্তী উপলক্ষে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।

বিগত ৭৫ বছর ধরে আপনারা প্রতিনিয়ত দেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে তথ্য ও সংস্কৃতির বাহক হিসেবে যুক্ত থেকেছেন। দেশের পুনর্নির্মাণে এবং দেশবাসীকে সচেতন করতে দৈনিক জাগরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। যে কাজ আপনারা ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে শুরু করেছিলেন, তা আজ নতুন ভারতের নতুন আশা, নতুন সংকল্প এবং নতুন সংস্কারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। আমি ‘দৈনিক জাগরণ’ এর নিয়মিত পাঠক। যখন থেকে হিন্দি খবরের কাগজ পড়া শুরু করেছি, হয়তো তখন থেকেই পড়ছি। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলতে পারি যে বিগত দশকগুলিতে দৈনিক জাগরণ দেশ ও সমাজে পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টায় ইন্ধন যুগিয়েছে।

বিগত চার বছর ধরে আপনাদের সবক’টি সংস্করণ এবং সংবাদমাধ্যমের অন্যান্য শাখা অত্যন্ত সুচারুভাবে রাষ্ট্র নির্মাণের মজবুত স্তম্ভরূপে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘বেটি বাঁচাও – বেটি পড়াও’ আন্দোলন থেকে শুরু করে ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’কে গণ-আন্দোলনে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের সংবাদমাধ্যমের একটি ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে। দৈনিক জাগরণও এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। কিছুদিন আগেই আমার আপনাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। তখন আমি জানতে পেরেছিলাম, কিভাবে আপনারা সবাই পরিচ্ছন্নতাকে সংকল্প হিসেবে গ্রহণ করে কাজ করে চলেছেন!

বন্ধুগণ, আগামী দিনে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। আজ ডিজিটাল বিপ্লব সংবাদমাধ্যম তথা খবরের কাগজগুলিকে বিস্তার প্রদান করেছে, এই প্রেক্ষিতে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, নতুন সংবাদমাধ্যম অবশ্যই নতুন ভারতের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

বন্ধুগণ, আমরা যখন নতুন ভারতের কথা বলি, তখন ‘ন্যূনতম সরকার অধিকতম প্রশাসন’ এবং ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’কে মূলমন্ত্র করে কথা বলি। আমরা এমন এক ব্যবস্থার কথা বলি, যেখানে প্রত্যেক প্রকল্প গড়ে উঠবে গণ-অংশীদারিত্বের মাধ্যমে। জনগণই এগুলির অগ্রগতির তদারকি করবে। এই ভাবনা নিয়েই আমরা বিগত চার বছর ধরে দেশকে এগিয়ে নিয়ে চলেছি। কেন্দ্রীয় সরকারের অনেক প্রকল্পই জনগণ নিজেদের দায়িত্ব ভেবে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। সরকার, সংস্কার এবং সমবায়ের ভাবনা দেশে শক্তিশালী হয়েছে।

দেশের যুবসম্প্রদায় আজ নিজেদের উন্নয়নের অংশীদার বলে ভাবছেন। সরকারি প্রকল্পগুলিকে তাঁরা অনেক বেশি নিজের করে নিয়েছেন।তাঁদের কন্ঠস্বর সরকার শুনতে পাচ্ছে – এই বিশ্বাস থেকেই আজ সরকারি ব্যবস্থার প্রতি তাঁদের আস্থা নিবিড় হয়েছে। এই আস্থা সম্বল করেই সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছে, প্রতিটি কাজে পারদর্শিতা ও স্বচ্ছতা বাড়ছে।

বন্ধুগণ, জাগরণ ফোরামে আপনারা অনেক বিষয়ে আলোচনা করছেন। অনেক প্রশ্ন উঠবে, অনেক জবাবও অন্বেষণ করা হবে। আমিও আজ আপনাদের এই মঞ্চ থেকে একটি তুলছি। এটি আমার প্রশ্ন কিন্তু তার সঙ্গে গোটা দেশের ভাবনা জড়িয়ে আছে। আপনারাও হয়তো ভাবেন, অবাক হয়ে পড়তে পড়তে ভাবেন যে, স্বাধীনতার এতদশক পরেও আমাদের দেশ পিছিয়ে আছে কেন? আমাদের কাছে বিশাল ঊর্বর জমি রয়েছে। আমাদের নবীন প্রজন্ম যেমন প্রতিভাবান, তেমনই পরিশ্রমী। আমাদের কখনোই প্রাকৃতিক সম্পদের কোনও অভাব ছিল না! এতকিছু থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশ কেন এগোতে পারেনি? অনেক ছোট ছোট দেশ, যাদের জনসংখ্যা কম, প্রাকৃতিক সম্পদও তেমন নেই; তেমন অনেক দেশও কম সময়ের মধ্যেই আমাদের থেকে এগিয়ে গিয়েছে।

আমাদের দেশের মানুষ নিজেদের ক্ষমতায় চাঁদে চন্দ্রযান পাঠিয়েছে, অনেক কম ব্যয়ে মঙ্গল অভিযানের মতো মহাযজ্ঞ সম্পূর্ণ করেছে। কিন্তু এদেশের অসংখ্য গ্রামে এখনও সড়কপথ পৌঁছোয়নি কেন?

বন্ধুগণ, ভারতীয়দের উদ্ভাবনে এখন বিশ্ব আলোকিত হচ্ছে। কিন্তু কোটি কোটি ভারতীয়ের বাড়িতে এত বছরেও বিদ্যুৎ আসেনি কেন?

আমাদের দেশে ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে মানুষকে কেন বুনিয়াদি পরিষেবার জন্যে হাপিত্যেশ করে মরতে হয়? বড় বড় মানুষ, বিখ্যাত সব মানুষেরা সরকার পরিচালনার কাজ করেছেন, কিন্তু বহুদশক কেটে যাওয়ার পরেও দেশের মানুষের ছোট ছোট সমস্যার সমাধান হয়নি।

বন্ধুগণ, লক্ষ্য নির্ণয়ের অভাব ছিলনা, ইচ্ছাশক্তির অভাব ছিল।টাকার অভাব ছিলনা, সংবেদনার অভাব ছিল। সামর্থ্যের অভাব ছিলনা, কর্মসংস্কৃতির ত্রুটি ছিল। কবীরদাসজি বলেছিলেন, আগামীকালের কাজ আজ করো, আজকের কাজ এখুনি! অনেক সহজেই কেউ কেউ সেই বিখ্যাত উক্তিকে হাস্যকর করে তোলেন।

বন্ধুগণ, সম্প্রতি এলিফ্যান্টা পর্যন্ত সমুদ্রের জলের নিচে দিয়ে ‘কেব্‌লস’ বিছিয়ে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। আমি দেখেছি,আপনারাও হয়তো দেখেছেন! কল্পনা করুন, মুম্বাই থেকে সামান্য দূরেই বসবাসকারী এই দ্বীপের মানুষেরা ওই মহানগরীর আলোর রোশনাই রোজ দেখতেন, অথচ সূর্যডুবলেই নিজেরা অন্ধকারে থাকতে বাধ্য হতেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার ৭০ বছর পরেও তাঁদের এই অবস্থা ছিল। কিছুদিন আগে আমাকে একজন চিঠি লিখে মেঘালয়কে রেল মানচিত্রের অন্তর্ভুক্ত করানোর জন্যে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আপনারা কল্পনা করতে পারেন, আমরা শাসন ক্ষমতায় আসার আগে পর্যন্ত মেঘালয়, মিজোরাম এবং ত্রিপুরা ভারতের রেল মানচিত্রে ছিলনা! ভাবুন, কারা কিভাবে ওইরাজ্যগুলির বাসিন্দা জনগণের জীবনে প্রভাব ফেলেছেন!

বন্ধুগণ, আগে দেশ কোন পথে কেমন গতিতে এগোচ্ছিলো আর আজ দেশ কোন দিশায়, কেমন গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এটা আমাদের সংবাদ মাধ্যমের বন্ধুদের জন্যে গবেষণা এবং বিশ্লেষণের বিষয় হতে পারে! কখন করবেন তা আমি জানিনা। ভাবুন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৬৭ বছরে কেন মাত্র ৩৮ শতাংশ গ্রামীণ গৃহে শৌচালয় ছিল, আর মাত্র সাড়ে চার বছরে এই পরিসংখ্যান কিভাবে ৯৫ শতাংশে পৌঁছালো ?

ভাবুন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৬৭ বছরে কেন মাত্র ৫৫ শতাংশ বস্তি, গ্রামও জনপদে সড়কপথ পৌঁছেছে, আর কিভাবে মাত্র চার বছরে ৯০ শতাংশেরও বেশি গ্রামে সড়কপথ নির্মিত হয়েছে ? স্বাধীনতার পর ৬৭ বছরে কেনমাত্র ৫৫ শতাংশ বাড়িতে রান্নার গ্যাস সংযোগ হয়েছে, আর কিভাবে মাত্র চার বছরে ৯০ শতাংশেরও বেশি বাড়িতে রান্নার গ্যাস সংযোগ সম্ভব হয়েছে? সবশেষে ভাবুন, ৬৭ বছরে কেন মাত্র ৭০ শতাংশ গ্রামীণ পরিবারে বিদ্যুৎ সংযোগ হয়েছে, আর কিভাবে মাত্র চার বছরে ৯৫ শতাংশেরও বেশি গ্রামীণ পরিবারে বিদ্যুৎ সংযোগ সম্ভব হয়েছে ? বন্ধুগণ, এভাবে প্রশ্ন করতে থাকলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে যেতে পারে, ব্যবস্থা সমূহের অপূর্ণতা থেকে সম্পূর্ণ তার পথে আমাদের দেশের অগ্রগতি অভূতপূর্ব।

বন্ধুগণ, ভাবুন…কেন স্বাধীনতার পর ৬৭ বছরে মাত্র ৫০ শতাংশ পরিবারেরই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউণ্ট ছিল, আর কিভাবে মাত্র চার বছরে দেশের প্রায় সমস্ত পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউণ্ট হল? দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৬৭ বছর পরও কেন দেশের মাত্র চার কোটি নাগরিক আয়কর রিটার্ন ভরতেন, আর মাত্র চার বছরে কিভাবে আরও তিন কোটি নাগরিক আয়কর রিটার্ন ভরে আয়কর নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন? ভাবুন… জিএসটি চালু হওয়ার আগে আমাদের দেশের অপ্রত্যক্ষ কর ব্যবস্থার সঙ্গে মাত্র ৬৬ লক্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি যুক্ত ছিলেন, আর জিএসটি চালু হওয়ার পর কোথা থেকে এসে ৫৪ লক্ষ নতুন ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি নিজেদের নথিভুক্ত করালেন?

বন্ধুগণ, পূর্ববর্তী সরকারগুলি এসব কেন করতে পারেনি, যা আমরা পেরেছি? একই ব্যবস্থা, একই আধিকারিক ও কর্মচারীবৃন্দ, ফাইল চালাচালির একই ব্যবস্থা, একই টেবিল-চেয়ার-কলম, তাহলে এই পরিবর্তন কিভাবে এসেছে? এটাই প্রমাণ যে এ দেশে পরিবর্তন আসাসম্ভব! আর আমি আপনাদের এটাও মনে করাতে চাই, যে পরিবর্তনই আসছে, গতি এসেছে; এসব কিছুই সম্ভব হতো না যদি আমরা তৃণমূলস্তরে গিয়ে সিদ্ধান্ত না নিতাম, সেগুলিকে অগ্রাধিকার না দিতাম!

আপনারা কল্পনা করুন… কয়েক দশক আগেই যদি দেশের জনগণের মৌলিক সমস্যাগুলির সমাধান সম্ভব হতো তাহলে আমরা এত দিনে দেশকে কোথা থেকে কোথায় পৌঁছে দিতে পারতাম! আমার জন্যে দেশের মানুষের স্বার্থে এভাবে কাজ করে যাওয়া সৌভাগ্যের বিষয়। কিন্তু দেশের জনগণের জন্যে দুর্ভাগ্যের বিষয় যে তাঁদের এত বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে!

বন্ধুগণ, যেদিন আমার দেশের দরিদ্র, শোষিত, বঞ্চিতদের সমস্ত মৌলিক পরিষেবা প্রদান সম্ভব হবে…তাঁরা শৌচালয়, বিদ্যুৎ, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, রান্নার গ্যাস সংযোগ, শিক্ষা, আরোগ্যের মতো মৌলিক চিন্তা থেকে মুক্তি পাবেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সেদিন তাঁরা নিজেরাই নিজেদের দারিদ্র্যকে পরাস্ত করতে পারবেন! বিগত চার বছর ধরে আপনারা এই পরিবর্তনগুলি হতে দেখছেন। পরিসংখ্যান এর সাক্ষী। আগে এসব কিছু না হওয়ার কারণ হল, মানুষের দারিদ্র্য দূর হয়ে গেলে তাঁরা ‘গরীবি হটাও’ শ্লোগান কেমন করে দেবেন? মানুষের সমস্ত মৌলিক সমস্যার সমাধান হয়ে গেলে তাঁরা ভোট ব্যাংক রাজনীতি কিভাবে করবেন?

ভাই ও বোনেরা, আজ আমরা দেশের ১০০ শতাংশ মানুষকে মৌলিক পরিষেবাসমূহ প্রদানের কাছাকাছি পৌঁছে দিয়ে দেশকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করে তুলেছি। আমরা কোটি কোটি ভারতবাসীর প্রত্যাশা, তাঁদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য আমরা তৎপর। আজ আমরা নতুন ভারতের সংকল্প থেকে সিদ্ধির যাত্রাপথে এগিয়ে চলেছি। এই যাত্রায় আমরা যেভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করছি তা বিশ্বে উন্নয়নশীল ও পিছিয়ে পড়া দেশগুলির জন্যে একটি মডেল হিসেবে পরিগণিত হবে।

বন্ধুগণ, আজ ভারতে যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বার্তালাপ ও সম্প্রচার ব্যবস্থা, প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে পরিবহণ ব্যবস্থা, জীবনের প্রত্যেক ক্ষেত্রকে প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টা চলছে। প্রযুক্তি এবং মানবিক সংবেদনার শক্তিতে বলীয়ান হয়ে ‘ইজ অফ লিভিং’ সুনিশ্চিত করা হচ্ছে। আমাদের ব্যবস্থাগুলি দ্রুত নতুন বিশ্বের প্রয়োজন অনুসারে সেজে উঠছে। সৌরশক্তি ও জৈব-জ্বালানি নির্ভর আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।

দেশে আজ একবিংশ শতাব্দীর প্রয়োজনীয়তা অনুসারে ‘পরবর্তী প্রজন্মের উপযোগী পরিকাঠামো’ গড়ে উঠছে। মহাসড়ক, রেলপথ, আকাশপথ ও জলপথ সংস্কারের চতুর্মুখী কাজ চলছে। সম্প্রতি আপনারা দেখেছেন যে বারাণসী আর কলকাতার মধ্যে জলপথ পরিষেবা চালু হয়েছে। এভাবে দেশে নির্মিত ইঞ্জিনহীন ড্রাইভার চালিত ট্রেন এবং তার মহড়াকে আপনারা ইতিমধ্যেই খবরের কাগজে শিরোনাম করেছেন। দেশে বিমান যাত্রাক্রমে এত জনপ্রিয় হচ্ছে যে রেলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় সফর করার চাইতে বেশি মানুষ এখন বিমান যাত্রা করছে। এটা সম্ভব হচ্ছে সরকার ছোট ছোট টু-টিয়ার, থ্রি-টিয়ার শহরগুলিকে ‘উড়ান যোজনা’র সঙ্গে যুক্ত করছে। নতুন নতুন বিমানবন্দর এবং বিমানপথ বিকশিত হচ্ছে। কিভাবে চারিদিকের ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছে সেটা বোঝার অনেক প্রয়োজন রয়েছে। আগে এলপিজি সিলিন্ডার রিফিল করতে বেশ কিছুদিন লেগে যেত,এখন দু-একদিনের মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। আগে আয়কর ‘রিফান্ড’ পেতে কয়েকমাস লাগতো, এখন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। আগে পাসপোর্ট হাতে পেতে কয়েক মাস লাগতো, এখন দুই সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।পাণীয় জল কিংবা বিদ্যুতের সংযোগ এখন সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। সরকারের অধিকাংশ পরিষেবা এখন অনলাইন অথবা মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই পাওয়া যাচ্ছে। এর পেছনে একটাই ভাবনা কাজ করে, যাতে সাধারণ মানুষকে কোন রকম ব্যবস্থার জটিলতার সম্মুখীন না হতে হয়, লম্বা লাইনে না দাঁড়াতে হয়, দুর্নীতি হ্রাস পায় আর মানুষ দৈনন্দিন সমস্যা থেকে মুক্তি পায়।

বন্ধুগণ, আমাদের সরকার যেমন সমস্ত পরিষেবা মানুষের দরজায় দরজায় পৌঁছে দিতে সংকল্পবদ্ধ, তেমনই যাদের সত্যিকারের প্রয়োজন তাঁরা যেন সরকারি প্রকল্পগুলি দ্বারা উপকৃত হন, সেই প্রচেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে।‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’র মাধ্যমে প্রত্যেক গৃহহীনকে ঘর, ‘উজ্জ্বলা যোজনা’র মাধ্যমে গরিবদের বিনামূল্যে রান্নার গ্যাস সংযোগ, ‘সৌভাগ্য যোজনা’র মাধ্যমে বাড়িতে বাড়িতে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ, প্রত্যেক বাড়িতে শৌচালয় – এমনই সমস্ত প্রকল্প সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদেরকে এসব সুবিধা গ্রহণের জন্য উৎসাহিত করছে। দেশের ৫০ কোটিরও বেশি গরিব মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে ‘প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’বা ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’ চালু করা হয়েছে।

ডিজিটাল প্রযুক্তি স্বনিয়ন্ত্রিত করা এবং মানবিক সংবেদনশীলতাকে কিভাবে জনগণের হিতে লাগানো সম্ভব, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হল এই আয়ুষ্মান ভারত যোজনা। প্রকল্প শুরুর আগেই এর দ্বারা কারা উপকৃত হবেন তাদেরকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে যুক্ত করে তাঁদেরকে ‘গোল্ডেন কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এই ‘গোল্ডেন কার্ড’ আর ‘আয়ুষ্মান মিত্র’, অর্থাৎ প্রযুক্তি ও মানবিক সংবেদনার অদ্ভূত সঙ্গমের মাধ্যমে দেশের দরিদ্র থেকে দরিদ্রতম মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাচ্ছেন।

বন্ধুগণ, এই প্রকল্প শুরু হওয়ার পর এখনও ১০০ দিন পুরো হয়নি, কিন্তু ইতিমধ্যেই দেশের সাড়ে চার লক্ষ গরিব মানুষ এর দ্বারা উপকৃত হয়েছেন, কিংবা এখনও তাঁদের ভাল হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।গর্ভবতী মহিলাদের শল্য চিকিৎসা থেকে শুরু করে ক্যান্সারের মতো কঠিন রোগের বিনামূল্যে চিকিৎসা আয়ুষ্মান ভারত যোজনার মাধ্যমে সম্ভব হচ্ছে।

বন্ধুগণ, দরিদ্রদের ক্ষমতায়নের এই সকল প্রচেষ্টা আগামীদিনে আরও বিস্তৃত করা হবে। আমরা প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবস্থা থেকে দালালদের উৎখাত করতে চাই। উৎপাদক এবং উপভোক্তাদের যথা সম্ভব কাছাকাছি আনতে চাই। আমাদের স্পষ্টনীতি ও কড়াভাবে যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতি দূর করতে চাই। আমাদের এই প্রচেষ্টাগুলি বিশ্ববাসীর প্রশংসা কুড়োচ্ছে। সেজন্য এখন ভারতকে ‘সম্ভাবনার দেশ’ বলা হচ্ছে।

বন্ধুগণ, সম্প্রতি আর্জেন্টিনায় আয়োজিত জি-২০সম্মেলনে আমি বিশ্ব নেতাদের সামনে দেশ থেকে পালিয়ে অন্য দেশে আশ্রয়গ্রহণকারী আর্থিকত ছরূপকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণের প্রস্তাব রেখেছি। তাদেরকে যেন নিরাপদ আশ্রয় না দেওয়া হয় সেই আর্জি জানিয়েছি। আমার দৃঢ়বিশ্বাস, আগামীদিনে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমাদের এই উদ্যোগ সুফলদায়ক হবে।

বন্ধুগণ, এই দৃঢ় বিশ্বাসের পেছনে আমার এই অনুভব কাজ করছে যে, এখন বিশ্ববাসী ভারতের কথা শুনছে ও বোঝার চেষ্টা করছে। বিশ্বের সমস্ত দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক মধুরতর হয়েছে। তিন-চার দিন আগেই আমরা এর একটা প্রমাণ পেয়েছি। আমাদের দেশবাসীর ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাসের কারণেই এসবকিছু সম্ভব হচ্ছে।

বন্ধুগণ, আপনারা দেশে সংখ্যাধিক্যের সরকার গঠন করেছেন বলেই, শক্তিশালী সরকার গড়েছেন বলেই এই সরকার সাহস করে বড় বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারছে। নতুন ভারতের জন্য সরকারের মূল অগ্রাধিকার – সামর্থ্য, সম্পদ, সংস্কার, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। এই উন্নয়নের পঞ্চধারা ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা, যুবসম্প্রদায়ের কর্মসংস্থান, বয়স্কদের চিকিৎসা, কৃষকদের সেচের সুবিধা আর প্রত্যেকের সমস্যার কথা শোনার ব্যবস্থাকে কেন্দ্রে রেখে উন্নয়নের ধ্বজা এগিয়ে নিয়ে চলেছে।

নতুন ভারতের নতুন স্বপ্নগুলিকে বাস্তবায়িত করতে ‘দৈনিক জাগরণ’-এর ভূমিকা সমগ্র সংবাদমাধ্যমের জগতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।ব্যবস্থাকে প্রশ্ন করাই আপনাদের দায়িত্ব, এটা আপনাদের অধিকার। সংবাদমাধ্যমের পরামর্শ আর আপনাদের সমালোচনাকে আমি সবসময়ই স্বাগত জানাই। নিজেদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রেখে নিরপেক্ষতার সঙ্গে ‘দৈনিক জাগরণসমূহ’ রাষ্ট্র নির্মাণের অতন্দ্রপ্রহরীরূপে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাবেন – এইআশা, এই বিশ্বাস নিয়ে আমি আমার বক্তব্য সম্পূর্ণ করছি। আপনাদের সবাইকে সংবাদপত্রের ৭৫তমবর্ষ পূরণের জন্য এবং আপনাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করে শুভেচ্ছা জানাই।

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

SSS/SB/DM/….10th Dec, 2018