পিএমইন্ডিয়া
নতুন দিল্লি, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী শ্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত জি, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী রাও ইন্দ্রজিৎ সিং জি, সকল পণ্ডিত, ভদ্রমহিলা ও ভদ্রলোকগণ!
আজ বিজ্ঞান ভবন ভারতের সোনালী অতীতের নবজাগরণের সাক্ষী হচ্ছে। মাত্র কয়েকদিন আগে, আমি জ্ঞান ভারতম মিশন ঘোষণা করেছিলাম। আর আজ এত অল্প সময়ের মধ্যে, আমরা জ্ঞান ভারতম আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করছি। এর সঙ্গে যুক্ত পোর্টালটিও এখন চালু করা হয়েছে। এটি কোনও সরকারি বা বিদ্যায়তনিক অনুষ্ঠান নয়, জ্ঞান ভারতম মিশন ভারতের সংস্কৃতি, সাহিত্য এবং চেতনার প্রকাশকেন্দ্র হয়ে উঠতে চলেছে। হাজার হাজার প্রজন্মের চিন্তাভাবনা এবং প্রতিফলন, ভারতের মহান ঋষি-আচার্য এবং পণ্ডিতদের দর্শন এবং গবেষণা, আমাদের জ্ঞান ঐতিহ্য, আমাদের বৈজ্ঞানিক ঐতিহ্য; জ্ঞান ভারতম মিশনের মাধ্যমে আমরা সেগুলিকে ডিজিটালাইজ করতে যাচ্ছি। এই অভিযানের জন্য আমি সকল দেশবাসীকে অভিনন্দন জানাই। জ্ঞান ভারতম এবং সংস্কৃতি মন্ত্রকের পুরো টিমকে আমার শুভেচ্ছা।
বন্ধুগণ,
আমরা যখন একটি পাণ্ডুলিপি দেখি, তখন আমাদের অভিজ্ঞতা হয় টাইম মেশিনে ভ্রমণের মতো। এই চিন্তাও মাথায় আসে যে আজকের এবং পূর্ববর্তী পরিস্থিতির মধ্যে বিশাল পার্থক্য ছিল। আজ আমরা কী-বোর্ডের সাহায্যে এত কিছু লিখতে পারি, মুছে ফেলা এবং সংশোধন করার বিকল্পও রয়েছে, আমরা প্রিন্টারের মাধ্যমে একটি পৃষ্ঠার হাজার হাজার কপি তৈরি করি, কিন্তু কল্পনা করুন যে শত শত বছর আগে পৃথিবীতে এত আধুনিক বস্তুগত সম্পদ ছিল না, আমাদের পূর্বপুরুষদের সেই সময়ে বৌদ্ধিক সম্পদের উপরই নির্ভর করতে হত। প্রতিটি অক্ষর লেখার সময় কতটা মনোযোগ দিতে হত, প্রত্যেক লেখার জন্য এত কঠোর পরিশ্রম করতে হত, এমনকি সেই সময়েও ভারতের মানুষ বিশ্বের বৃহত্তম গ্রন্থাগার তৈরি করেছিল। আজও ভারতে বিশ্বের বৃহত্তম পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ রয়েছে। আমাদের কাছে প্রায় ১ কোটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে। এবং ১ কোটির সংখ্যাও কম নয়।
বন্ধুগণ,
ইতিহাসের নিষ্ঠুর আঘাতে লক্ষ লক্ষ পাণ্ডুলিপি পুড়ে গেছে এবং হারিয়ে গেছে, কিন্তু যেগুলো এখনও আছে সেগুলো সাক্ষ্য দেয় যে জ্ঞান, বিজ্ঞান, পাঠ এবং শিক্ষাদানের প্রতি আমাদের পূর্বপুরুষদের নিষ্ঠা কতটা গভীর এবং প্রশস্ত ছিল। ভুর্জপত্র এবং তালপাতার তৈরি ভঙ্গুর গ্রন্থ, তামার প্লেটে লেখা শব্দগুলি ধাতুর ক্ষয় ঝুঁকিসম্পন্ন ছিল, কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষরা শব্দকে ঈশ্বর হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন এবং ‘অক্ষর ব্রহ্মভাব’ দিয়ে তাদের সেবা করেছিলেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম, পরিবারগুলি সেই বই এবং পাণ্ডুলিপিগুলি সংরক্ষণ করে চলেছে। জ্ঞানের প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগ, সমাজের প্রতি দায়িত্ব, দেশের প্রতি নিষ্ঠার অনুভূতি, এর থেকে বড় উদাহরণ আমরা আর কোথায় পাব।
বন্ধুগণ,
ভারতের জ্ঞান ঐতিহ্য আজও এত সমৃদ্ধ, কারণ এর ভিত্তি চারটি প্রধান স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে। প্রথম – সংরক্ষণ, দ্বিতীয় – উদ্ভাবন, তৃতীয় – সংযোজন এবং চতুর্থ – অভিযোজন।
বন্ধুগণ,
আমি যখন সংরক্ষণের কথা বলছি, আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন যে আমাদের প্রাচীনতম গ্রন্থ বেদকে ভারতীয় সংস্কৃতির ভিত্তি হিসাবে বিবেচনা করা হয়, বেদ সর্বোচ্চ। পূর্ববর্তী বেদগুলি ‘শ্রুতি’র ভিত্তিতে পরবর্তী প্রজন্মকে দেওয়া হত। এবং হাজার হাজার বছর ধরে, বেদ কোনও ত্রুটি ছাড়াই সত্যতার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হত। আমাদের এই ঐতিহ্যের দ্বিতীয় স্তম্ভ হল উদ্ভাবন। আমরা আয়ুর্বেদ, বাস্তুশাস্ত্র, জ্যোতিষশাস্ত্র এবং ধাতুবিদ্যায় ক্রমাগত উদ্ভাবন করেছি। প্রতিটি প্রজন্ম পূর্ববর্তীটির চেয়ে এগিয়ে গেছে এবং পুরানো জ্ঞানকে আরও বৈজ্ঞানিক করে তুলেছে। সূর্যসিদ্ধান্ত এবং বরাহমিহির সংহিতার মতো গ্রন্থগুলি ক্রমাগত লেখা হচ্ছিল, এবং সেগুলিতে নতুন জ্ঞান যোগ হতে থাকল। আমাদের সংরক্ষণের তৃতীয় স্তম্ভ হল সংযোজন, অর্থাৎ, প্রত্যেক প্রজন্ম পুরানো জ্ঞান সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন জ্ঞান অর্জনে অবদান রাখত। মূল বাল্মীকি রামায়ণের পরেও অনেক রামায়ণ রচিত হয়েছিল। আমরা রামচরিতমানসের মতো গ্রন্থ পেয়েছি। বেদ এবং উপনিষদের উপর ভাষ্য লেখা হয়েছিল। আমাদের আচার্যরা দ্বৈত, অদ্বৈতের মতো ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন।
বন্ধুগণ,
একইভাবে, চতুর্থ স্তম্ভ হল অভিযোজন। অর্থাৎ, আমরা সময়ের সাথে সাথে আত্ম-আত্মদর্শন করেছি এবং প্রয়োজন অনুসারে নিজেদেরও পরিবর্তন করেছি। আমরা আলোচনার উপর জোর দিয়েছিলাম, বিতর্কের ঐতিহ্য অনুসরণ করেছিলাম। তারপর সমাজ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়া ধারণাগুলি ত্যাগ করে নতুন ধারণা গ্রহণ করে। মধ্যযুগে, যখন সমাজে অনেক মন্দের আগমন ঘটে, তখন এমন মহান ব্যক্তিত্বও এসেছিলেন, যারা সমাজের চেতনাকে জাগ্রত রেখেছিলেন এবং ঐতিহ্যকে রক্ষা এবং সংরক্ষণ করেছিলেন।
বন্ধুগণ,
জাতিগত আধুনিক ধারণা ছাড়াও, ভারতের একটি সাংস্কৃতিক পরিচয়, নিজস্ব চেতনা, নিজস্ব আত্মা রয়েছে। ভারতের ইতিহাস কেবল রাজা -সুলতানদের জয়-পরাজয়ের বিষয় নয়। এখানে দেশীয় রাজ্য এবং রাজ্যগুলির ভূগোল পরিবর্তিত হতে থাকে, তবে হিমালয় থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত ভারত অক্ষত ছিল। কারণ, ভারত নিজেই একটি জীবন্ত প্রবাহ, যা তার চিন্তাভাবনা, আদর্শ এবং মূল্যবোধ দ্বারা সৃষ্ট। ভারতের প্রাচীন পাণ্ডুলিপিগুলিতে, আমরা ভারতের অবিচ্ছিন্ন প্রবাহের রেখা দেখতে পাই। এই পাণ্ডুলিপিগুলি আমাদের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের একটি ঘোষণা। আমাদের দেশে প্রায় ৮০ টি ভাষার প্রাচীন পাণ্ডুলিপি রয়েছে। সংস্কৃত, প্রাকৃত, অসমীয়া, বাংলা, কন্নড়, কাশ্মীরি, কোঙ্কনি, মৈথিলী, মালয়ালাম, মারাঠি প্রভৃতি অনেক ভাষায় আমাদের জ্ঞানের এক বিশাল সমুদ্র রয়েছে। গিলগিটের পাণ্ডুলিপিগুলি আমাদের কাশ্মীরের খাঁটি ইতিহাস বলে। আমি সম্প্রতি আয়োজিত একটি ছোট প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলাম, সেখানে এর বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে এবং এর ছবিগুলিও রয়েছে। কৌটিল্য অর্থরাষ্ট্রের পাণ্ডুলিপিতে, আমরা রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি সম্পর্কে ভারতের দর্শন সম্পর্কে জানতে পারি। আচার্য ভদ্রবাহুর কল্পসূত্রের পাণ্ডুলিপিতে, জৈন ধর্মের প্রাচীন উৎপত্তি ও জ্ঞান নিরাপদভাবে স । সারনাথের পাণ্ডুলিপিতে ভগবান বুদ্ধের জ্ঞান পাওয়া যায়। রাসমঞ্জরী এবং গীতগোবিন্দের মতো পাণ্ডুলিপিতে ভক্তি, সৌন্দর্য এবং সাহিত্যের বিভিন্ন রঙ সংরক্ষণ করা হয়েছে।
বন্ধুগণ,
ভারতের এই পাণ্ডুলিপিগুলিতে সমগ্র মানবজাতির বিকাশ যাত্রার চিহ্ন রয়েছে। এই পাণ্ডুলিপিগুলিতে দর্শনের পাশাপাশি বিজ্ঞানও রয়েছে। তাঁদের চিকিৎসার পাশাপাশি অধিবিদ্যাও রয়েছে। তাঁদের শিল্পের পাশাপাশি জ্যোতির্বিদ্যা এবং স্থাপত্যও রয়েছে। আপনি যত খুশি উদাহরণ নিতে পারেন। গণিত থেকে শুরু করে বাইনারি ভিত্তিক কম্পিউটার বিজ্ঞান পর্যন্ত, সমগ্র আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি শূন্যের উপর দাঁড়িয়ে আছে। আপনারা সকলেই জানেন যে শূন্য ভারতে আবিষ্কৃত হয়েছিল। এবং, শূন্য এবং গাণিতিক সূত্রের সেই প্রাচীন ব্যবহারের প্রমাণ এখনও বক্ষশালী পাণ্ডুলিপিতে সুরক্ষিত। যশোমিত্রের বাওয়ার পাণ্ডুলিপি আমাদের শতাব্দী প্রাচীন চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কে বলে। চরক সংহিতা এবং সুশ্রুত সংহিতার মতো গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি আজও আয়ুর্বেদের জ্ঞান সংরক্ষণ করেছে। শুল্ব সূত্রে আমরা প্রাচীন জ্যামিতিক জ্ঞান পাই। কৃষি পরাশরে, আমরা কৃষির ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান সম্পর্কে তথ্য পাই। নাট্যশাস্ত্রের মতো গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি আমাদের মানুষের মানসিক বিকাশের যাত্রা বুঝতে সাহায্য করে।
বন্ধুগণ,
প্রত্যেক দেশ তার ঐতিহাসিক জিনিসগুলিকে সভ্যতার সম্পদ এবং মহত্ত্ব হিসেবে বিশ্বের কাছে উপস্থাপন করে। বিশ্বের দেশগুলির যদি কোনও পাণ্ডুলিপি, কোনও শিল্পকর্ম থাকে, তবে তাঁরা তা জাতীয় সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ করে। আর ভারতে পাণ্ডুলিপির এত বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে, এটি দেশের গর্ব। কিছুদিন আগে আমি কুয়েতে গিয়েছিলাম, সেখানে আমি ৪-৬ জন প্রভাবশালীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করি, এবং আমার সময় ছিল বলে, তাঁদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাই, তাঁদের চিন্তাভাবনা বোঝার চেষ্টা করি। কুয়েতে আমার একজন ভদ্রলোকের সঙ্গে দেখা হয়েছিল যার কাছে অনেক শতাব্দী আগে ভারত থেকে সমুদ্রপথে কীভাবে বাণিজ্য পরিচালিত হত তার অনেক নথি রয়েছে। তিনি এত কিছু সংগ্রহ করেছেন, এবং তিনি এত গর্বের সঙ্গে আমার কাছে এসেছিলেন। আমাদের এই সমস্ত কিছু সংরক্ষণ করতে হবে। এখন ভারত তার এই গর্বকে বিশ্বের কাছে গর্বের সঙ্গে উপস্থাপন করতে চলেছে। এখানে শুধু বলা হয়েছিল যে আমাদের বিশ্বের সমস্ত পাণ্ডুলিপি অনুসন্ধান করে আনা উচিত এবং তারপর মৃদুস্বরে বলা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর এটা করা উচিত। কিন্তু আপনারা জানেন যে আমাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া মূর্তিগুলি আগে খুব কম পরিমাণে এসেছিল, আজ শত শত পুরাতন মূর্তি ফিরে আসছে। তারা ফিরে আসছে, এমন নয় যে কেউ আমার মুখের দিকে তাকিয়ে সেগুলো দিতে আসছে, এটা এমন নয়। তাঁদের বিশ্বাস আছে যে যদি তাঁরা আমার হাতে সেগুলি তুলে দেন, তাহলে সেগুলির গর্ব বৃদ্ধির জন্য পূর্ণ প্রচেষ্টা করা হবে। আজ ভারত বিশ্বে এই বিশ্বাস তৈরি করেছে, মানুষ মনে করে যে এটিই সঠিক জায়গা। আমি যখন মঙ্গোলিয়ায় গিয়েছিলাম, তখন আমি সেখানে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সাথে আলাপ করছিলাম, আমি দেখেছি যে তাঁদের কাছে প্রচুর পাণ্ডুলিপি রয়েছে, তাই আমি তাদের অনুরোধ করেছিলাম যে আমি এর জন্য কিছু করতে পারি, সেই সমস্ত পাণ্ডুলিপি আনতে পারি, সেগুলিকে ডিজিটালাইজ করতে পারি এবং ফিরিয়ে দিতে পারি, এখন এটি তাঁদের সম্পদ হয়ে উঠেছে।
বন্ধুগণ,
জ্ঞান ভারতম মিশন এই মহান অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান জনসাধারণের অংশগ্রহণের চেতনায় এই প্রচেষ্টায় সরকারের সঙ্গে কাজ করছে। কাশী নগরী প্রচারণী সভা, কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি, উদয়পুরের ‘ধারাহর’, গুজরাটের কোবায় আচার্য শ্রী কৈলাশসুরি জ্ঞান মন্দির, হরিদ্বারের পতঞ্জলি, পুনের ভান্ডারকর ওরিয়েন্টাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট, তাঞ্জাভুরের সরস্বতী মহল লাইব্রেরি, এই ধরণের শত শত প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে এখন পর্যন্ত দশ লক্ষেরও বেশি পাণ্ডুলিপি ডিজিটালাইজ করা হয়েছে। এত দেশবাসী এগিয়ে এসেছেন এবং তাঁদের পারিবারিক ঐতিহ্য দেশের জন্য উপলব্ধ করেছেন। আমি এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে, এই সমস্ত দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানাই। আমি অবশ্যই একটি বিষয়ে আলোকপাত করতে চাই, সম্প্রতি আমি কয়েকজন প্রাণীপ্রেমীর সঙ্গে দেখা করেছি, কেন আপনি হাসলেন? আমাদের দেশে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁদের বিশেষত্ব হল তাঁরা গরুকে পশু হিসেবে বিবেচনা করে না। তাই তাঁদের সঙ্গে কথা বলার সময় আমি তাঁদেরকে বলেছিলাম যে শাস্ত্রে আমাদের দেশে পশু চিকিৎসা সম্পর্কে অনেক তথ্য রয়েছে, অনেক পাণ্ডুলিপি পাওয়া সম্ভব। আমি যখন গুজরাটে ছিলাম, তখন গুজরাটের এশিয়াটিক সিংহের প্রতি আমার আগ্রহ ছিল, আমি এতে খুব আগ্রহী ছিলাম। তাই আমি এমন জিনিস খুঁজে বের করতাম যে যদি তাঁরা খুব বেশি শিকার করে এবং যদি তাঁরা সমস্যায় পড়ে, তাহলে তাঁরা জানত যে এটি একটি গাছ, এর ফল খাওয়া উচিত যাতে বমি হতে পারে, প্রাণীটি এটি জানত। এর অর্থ হল যেখানে সিংহের বসতি আছে, সেখানে এমন ফলের গাছ থাকা প্রয়োজন। এখন আমাদের ধর্মগ্রন্থে এটি লেখা আছে। আমাদের অনেক পাণ্ডুলিপি আছে, যেখানে এই সমস্ত জিনিস লেখা আছে। আমি যা বলতে চাইছি তা হল আমাদের কাছে এত জ্ঞান আছে এবং লিখিত আছে, আমাদের তা খুঁজে বের করতে হবে, অনুসন্ধান করতে হবে এবং আজকের প্রেক্ষাপটে তা ব্যাখ্যা করতে হবে।
বন্ধুগণ,
ভারত অতীতে কখনও অর্থের শক্তি দিয়ে কারও জ্ঞান পরিমাপ করেনি। আমাদের ঋষিরা আরও বলেছেন – বিদ্যা-দানমতঃ পরম। অর্থাৎ, জ্ঞানই সবচেয়ে বড় দান। সেই কারণেই, প্রাচীনকালে, ভারতের মানুষও অবাধে পাণ্ডুলিপি দান করেছেন। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং যখন ভারতে এসেছিলেন, তখন তিনি তার সাথে ছয় শত পঞ্চাশেরও বেশি পাণ্ডুলিপি নিয়ে গিয়েছিলেন। আর চীনের রাষ্ট্রপতি একবার আমাকে বলেছিলেন যে তিনি তার বেশিরভাগ সময় আমার গ্রামে কাটিয়েছেন, যেখানে আমি ভাদনগরে জন্মগ্রহণ করেছি। কিন্তু যখন তিনি এখান থেকে চীনে ফিরে আসেন, তখন তিনি রাষ্ট্রপতি শি’র জন্মস্থানে থাকতেন। একথা জেনে রাষ্ট্রপতি শি আমার প্রতি খুব মুগ্ধ হয়েছিলেন। তাই তিনি আমাকে তার গ্রামে নিয়ে যান আর আমি তার সঙ্গে হিউয়েন সাং যেখানে থাকতেন সেই জায়গাটি দেখতে যাই। রাষ্ট্রপতি শি আমাকে পাণ্ডুলিপিগুলি বিস্তারিতভাবে দেখান। সেগুলিতে ভারতের বর্ণনার কয়েকটি অনুচ্ছেদ ছিল, যা দোভাষী আমাকে ব্যাখ্যা করেন। এটি খুবই চিত্তাকর্ষক ছিল। প্রতিটি জিনিস দেখে মনে হয়েছিল যেন আমাদের কাছে কতনা সম্পদ রয়েছে! ভারতের অনেক পাণ্ডুলিপি আজ চীন থেকে জাপানে পৌঁছেছে। সপ্তম শতাব্দীতে, জাপানের হোরিউজি মঠে জাতীয় সম্পত্তি হিসেবে সেগুলি সংরক্ষিত ছিল। আজও, বিশ্বের অনেক দেশে ভারতের প্রাচীন পাণ্ডুলিপি রাখা রয়েছে। জ্ঞান ভারতম মিশনের অধীনে, আমরা মানবতার এই শেয়ার করা ঐতিহ্যকে একত্রিত করার চেষ্টা করব।
বন্ধুগণ,
আমরা জি-২০-এর সাংস্কৃতিক সংলাপের সময়ও এই উদ্যোগ নিয়েছিলাম। আমরা এই অভিযানে ভারতের সঙ্গে শতাব্দী প্রাচীন সাংস্কৃতিক সম্পর্কযুক্ত দেশগুলিকে জড়িত করছি। আমরা মঙ্গোলিয়ান কাঞ্জুরের পুনর্মুদ্রিত খণ্ডগুলি মঙ্গোলিয়ার রাষ্ট্রদূতকে উপহার দিয়েছিলাম। ২০২২ সালে, এই ১০৮টি খণ্ড মঙ্গোলিয়া এবং রাশিয়ার মঠগুলিতেও বিতরণ করা হয়েছিল। আমরা থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মউ বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি। আমরা সেখানকার পণ্ডিতদের পুরাতন পাণ্ডুলিপি ডিজিটাইজ করার প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এই প্রচেষ্টার ফলে, পালি, লান্না এবং চাম ভাষার অনেক পাণ্ডুলিপি ডিজিটাইজ করা হয়েছে। আমরা জ্ঞান ভারতম মিশনের মাধ্যমে এই প্রচেষ্টাগুলিকে আরও প্রসারিত করব।
বন্ধুগণ,
জ্ঞান ভারতম মিশনের মাধ্যমে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা হবে। ভারতের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত অনেক তথ্য, যা গুরুত্বপূর্ণ এবং যা আমরা শতাব্দী ধরে ব্যবহার করে আসছি, অন্যরা অনুলিপি করে পেটেন্ট করে। এই জলদস্যুতা বন্ধ করাও প্রয়োজন। ডিজিটাল পাণ্ডুলিপির মাধ্যমে এই প্রচেষ্টাগুলি আরও গতি পাবে এবং বৌদ্ধিক জলদস্যুতা রোধ করা হবে। বিশ্ব সকল বিষয়ের সত্যতা সহ মূল উৎসগুলিও জানতে পারবে।
বন্ধুগণ,
জ্ঞান ভারতম মিশনের আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। এর জন্য, আমরা গবেষণা এবং উদ্ভাবনের অনেক নতুন ক্ষেত্র খুলছি। আজ, বিশ্বে প্রায় আড়াই ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি সাংস্কৃতিক এবং সৃজনশীল শিল্প রয়েছে। ডিজিটালাইজড পাণ্ডুলিপি এই শিল্পের মূল্য শৃঙ্খলকে ফিড করবে বা তথ্য জোগাবে। এই কোটি কোটি পাণ্ডুলিপি, এর মধ্যে লুকানো প্রাচীন তথ্যও একটি খুব বড় ডেটা ব্যাংক হিসেবে কাজ করবে। এগুলি ‘ডেটা চালিত উদ্ভাবন’-এ নতুন ধাক্কা দেবে। প্রযুক্তি ক্ষেত্রে তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। পাণ্ডুলিপিগুলি ডিজিটালাইজড হওয়ার সাথে সাথে একাডেমিক গবেষণার জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বন্ধুগণ,
এই ডিজিটালাইজড পাণ্ডুলিপিগুলি অধ্যয়নের জন্য আমাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়াতে হবে। আমি এই সত্যের সাথে একমত যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিভা বা মানবসম্পদ প্রতিস্থাপন করতে পারে না এবং আমরাও চাই যে এটি প্রতিস্থাপন করা উচিত নয়, অন্যথায় আমরা নতুন দাসত্বের শিকার হব। এটি একটি সহায়ক ব্যবস্থা, এটি আমাদের শক্তিশালী করে, আমাদের শক্তি বৃদ্ধি করে, আমাদের গতি বৃদ্ধি করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে, এই প্রাচীন পাণ্ডুলিপিগুলি গভীরভাবে বোঝা যায় এবং বিশ্লেষণও করা যায়। এখন দেখুন, সমস্ত বৈদিক গণিতের গ্রন্থ পাওয়া যায় না, যদি আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে চেষ্টা করি, তাহলে অনেক নতুন সূত্র আবিষ্কার করা সম্ভব। আমরা সেগুলি আবিষ্কার করতে পারি। এই পাণ্ডুলিপিগুলিতে উপস্থিত জ্ঞানকে বিশ্বের সামনে কীভাবে আনা যায়, এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেও ব্যবহার করা যেতে পারে। আরেকটি সমস্যা হলো আমাদের পাণ্ডুলিপিগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা হলো এগুলো সব সংগ্রহ করা যাবে এবং আমরা সেগুলো থেকে অমৃত আহরণের জন্য একটি খুব ভালো হাতিয়ার পেতে পারি, অর্থাৎ যদি জিনিসগুলো ১০টি জায়গায় পড়ে থাকে, তাহলে আমরা সেগুলো একত্রিত করতে পারি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে দেখতে পারি। আমরা পারি… শুরুতে উপস্থাপনায় যেমন বলা হয়েছিল, একই ধরণের শব্দের অনেক ব্যবহার থাকতে পারে, হতে পারে একবার সমাধান করি এবং ১০০টি প্রশ্ন তৈরি হবে, আজ আমরা লক্ষ লক্ষ প্রশ্নের মধ্যে আটকে আছি, আমরা সেগুলো ১০০টিতে নিয়ে আসব। আমরা যদি মানবসম্পদ জোগাই তাহলে হয়তো ফলাফল আসবে, কিন্তু এরকম অনেক সমস্যা আছে, কিন্তু উপায়ও আছে।
বন্ধুগণ,
আমি দেশের সকল তরুণদের কাছে আবেদন করছি, এগিয়ে আসুন এবং এই অভিযানে যোগ দিন। আর মন্ত্রী আমাকে শুধু বলছিলেন যে গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত, যারা এতে অংশগ্রহণ করছেন তাদের ৭০% তরুণ। আমি বিশ্বাস করি যে এটি এর সাফল্যের সবচেয়ে বড় লক্ষণ। যদি তরুণরা এতে আগ্রহী হতে শুরু করে, তাহলে আমার বিশ্বাস আমরা খুব দ্রুত সফল হব। প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা কীভাবে অতীতকে অন্বেষণ করতে পারি, প্রমাণ-ভিত্তিক পরামিতি অনুসারে কীভাবে এই জ্ঞান মানবতার কাছে পৌঁছে দিতে পারি, আমাদের এই দিকে প্রচেষ্টা করা উচিত। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলিকেও এর জন্য নতুন নতুন উদ্যোগ নিতে হবে। আজ সমগ্র দেশ স্বদেশীর চেতনা এবং আত্মনির্ভর ভারতের সংকল্প নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এই অভিযানও তারই একটি সম্প্রসারণ। আমাদের ঐতিহ্যকে আমাদের শক্তি, অর্থাৎ শক্তির সমার্থক করে তুলতে হবে। আমি নিশ্চিত যে জ্ঞান ভারত মিশনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। আমি জানি যে এগুলি এমন বিষয় যেখানে কোনও গ্ল্যামার নেই, কোনও চাকচিক্য নেই। কিন্তু এর শক্তি এতটাই যে শতাব্দী ধরে কাউকে নাড়া দেওয়া যায় না, এই শক্তির সাথে যুক্ত হতে হবে। এই বিশ্বাস নিয়ে, আবারও আপনাদের সকলকে শুভেচ্ছা।
অনেক ধন্যবাদ।
(প্রধানমন্ত্রীর মূল ভাষণটি হিন্দিতে)
SC/SC/AS
Addressing the International Conference on #GyanBharatam in Delhi. The initiative focuses on preserving, digitising and popularising India's manuscript heritage. https://t.co/NOoPBkEZRg
— Narendra Modi (@narendramodi) September 12, 2025
#GyanBharatam Mission is set to become the voice of India's culture, literature and consciousness. pic.twitter.com/zanqx4stxs
— PMO India (@PMOIndia) September 12, 2025
Today, India has the world's largest collection of about one crore manuscripts. pic.twitter.com/vnSXJAa2Kc
— PMO India (@PMOIndia) September 12, 2025
Throughout history, crores of manuscripts were destroyed, but the ones that remain show how devoted our ancestors were to knowledge, science and learning. pic.twitter.com/pQQ0JnlRv5
— PMO India (@PMOIndia) September 12, 2025
India's knowledge tradition is built on four pillars... pic.twitter.com/10gpfDBOrA
— PMO India (@PMOIndia) September 12, 2025
India's history is not just about the rise and fall of dynasties. pic.twitter.com/792omip0Tq
— PMO India (@PMOIndia) September 12, 2025
India is itself a living stream, shaped by its ideas, ideals and values. pic.twitter.com/WKUev33svO
— PMO India (@PMOIndia) September 12, 2025
India's manuscripts contain footprints of the development journey of the entire humanity. pic.twitter.com/zAat3MzdQn
— PMO India (@PMOIndia) September 12, 2025
भारत की प्राचीन पांडुलिपियां हमारी गौरवशाली विरासत का जीवंत प्रतीक हैं। इन्हें डिजिटल रूप में संरक्षित करने की ऐतिहासिक पहल से हमारी समृद्ध संस्कृति को वैश्विक मंच पर एक नई पहचान मिलने वाली है। pic.twitter.com/iAgIewhq3t
— Narendra Modi (@narendramodi) September 12, 2025
'ज्ञान भारतम्' देश की भावी पीढ़ियों के साथ ही विश्व को भारत का एक अनमोल उपहार है। नई दिल्ली में इससे जुड़े अंतर्राष्ट्रीय सम्मेलन का हिस्सा बनकर बहुत प्रसन्नता हुई है। pic.twitter.com/w33D6JOzJS
— Narendra Modi (@narendramodi) September 12, 2025
हमारे पूर्वजों ने शब्दों को ईश्वर मानकर जिस प्रकार प्राचीन पांडुलिपियों को सहेजा, उससे पता चलता है कि हमारी संस्कृति के संरक्षण को लेकर उनकी चिंता कितनी गहरी थी। pic.twitter.com/KuAnPSkV2w
— Narendra Modi (@narendramodi) September 12, 2025
भारत की ज्ञान परंपरा आज भी इतनी समृद्ध इसलिए है, क्योंकि इसकी नींव मुख्य रूप से इन 4 पिलर्स पर आधारित है… pic.twitter.com/lfEv8Lc56a
— Narendra Modi (@narendramodi) September 12, 2025
हमारे लिए यह अत्यंत गर्व की बात है कि भारत के पास Manuscripts का बहुत बड़ा खजाना है। ज्ञान भारतम् मिशन इसे विश्व के सामने लाने का एक बड़ा जरिया है। pic.twitter.com/uGFiIpQggb
— Narendra Modi (@narendramodi) September 12, 2025
Manuscripts को Digitise करने के हमारे प्रयासों से भारत की Traditional Knowledge की Piracy पर भी लगाम लगेगी। pic.twitter.com/L0F1oRY5Wd
— Narendra Modi (@narendramodi) September 12, 2025
Digitised Manuscripts का अध्ययन करने के लिए हमें AI जैसी नई टेक्नोलॉजी का उपयोग भी बढ़ाना होगा। इस दिशा में अपने युवा साथियों से मेरा यह विशेष आग्रह… pic.twitter.com/St1A911siK
— Narendra Modi (@narendramodi) September 12, 2025