Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

নরওয়ে-ভারত ব্যবসা ও গবেষণা শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বঙ্গানুবাদ

নরওয়ে-ভারত ব্যবসা ও গবেষণা শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বঙ্গানুবাদ


নতুন দিল্লি ১৮ এপ্রিল ২০২৬

 

 

রয়্যাল হাইনেস, 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

দুই দেশের ব্যবসায়িক মহলের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ,

 

আজ আমরা নরওয়ে এবং ভারতের ব্যবসায়িক ও গবেষণা জগতের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ পেয়েছি। এমন বৃহৎ মাত্রায় এই সম্মেলনের আয়োজন করার জন্য আমি নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। 

 

আজ এখানে আসতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে। আমি অংশগ্রহণকারীদের কয়েকজনের কথা শোনার সুযোগ পেয়েছি। আমাদের অংশীদারিত্ব যে অত্যন্ত মজবুত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে, তাঁদের বক্তব্য থেকে সেই আস্থা আমি পেয়েছি।

 

এ কেবল সম্ভাবনার অংশীদারিত্ব নয়, এ হল প্রমাণিত অংশীদারিত্ব। আজ যখন খাদ্য, জ্বালানী ও সার নিরাপত্তা সারা বিশ্বের সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে, তখন ভারত ও নরওয়ে এর মোকাবিলায় একযোগে কাজ করছে। ভারতের খাদ্য ক্ষেত্রে ওর্কলার বিনিয়োগ হোক, বা ভারতে ইক্যুইনরের এলপিজি ও এলএনজি সরবরাহ হোক, অথবা ভারতের সার ক্ষেত্রে ইয়ারা ইন্টারন্যাশনালের অবদান- সব সহযোগিতাই আমাদের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। 

 

আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, এখানে উপস্থিত সিইও-দের মধ্যে অনেকেই ভারতে ভাইব্র্যান্ট গুজরাট ও অন্যান্য বিনিয়োগকারী সম্মেলনে উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহন করেছেন। আমাদের এখন এই অংশীদারিত্বের গভীরতা আরও বাড়াতে হবে এবং একে নতুন দিগন্তে নিয়ে যেতে হবে। 

 

সামনের দিকে এক পা করে এগিয়ে যাওয়াই কিন্তু যথেষ্ট নয়। আমাদের গতি আরও বাড়াতে হবে, আমাদের লক্ষ্য আরও উঁচুতে নির্ধারণ করতে হবে। 

 

বন্ধুরা,

 

আপনারা যাঁরা ভারতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং ভারতকে নিয়ে আলোচনা করছেন, আমি বিশ্বাস করি এর চেয়ে ভালো সময় আর হতে পারে না। আজ এক সুবর্ণ সুযোগ এসেছে, এর সঠিক ব্যবহার করলে ব্যাপক পরিবর্তনের সুচনা হবে।

 

২০২৫-এর অক্টোবর মাসে আমরা ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির রূপায়ণ করেছি। এই অনন্য ও বিশেষ চুক্তিটি আমাদের মধ্যে মেধা, প্রযুক্তি ও পারস্পরিক আস্থার এক চুক্তি। 

 

এই চুক্তির আওতায় ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য দেশগুলি আগামী ১৫ বছরে ভারতে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এবং ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। এটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য হলেও অর্জনযোগ্য। আমি আপনাদের নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, ভারতে বিনিয়োগ করলে আপনারা তার সুফল অবশ্যই পাবেন। 

 

বন্ধুরা,

 

আমি এমন দুটি ক্ষেত্রের কথা বলতে চাই, যা আপনাদের জন্য বিশেষ লাভজনক হতে পারে। দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকা ভারতের মধ্যবিত্ত শ্রেনী পুষ্টি এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে ব্যাপক চাহিদার সৃষ্টি করেছে। নরওয়ের খাদ্য, মৎস্য এবং স্বাস্থ্যসেবা সংস্থাগুলি এই চাহিদা মেটাতে পারে। 

 

একইভাবে দূষণমুক্ত শক্তির ক্ষেত্রে ভারতের লক্ষ্য অনন্য। ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা ৫০০ গিগাওয়াট দূষণমুক্ত শক্তি এবং ৫০ লক্ষ টন গ্রীন হাইড্রোজেন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি। দূষণমুক্ত শক্তির ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা নরওয়েজিয়ান ওয়েলথ ফাণ্ডের কাছেও অগ্রাধিকার। আমি নরওয়েকে ভারতের দূষণমুক্ত শক্তি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। 

 

বন্ধুরা,

 

সংস্কার, কার্য সম্পাদন এবং রূপান্তরের মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে আমরা যখন এগিয়ে চলেছি, তখন ফিরে তাকালে দেখা যাবে, গত ১২ বছরে আমরা ভারতের অর্থনৈতিক ডিএনএ সম্পূর্ণ বদলে ফেলেছি। আমরা ক্রমাগত বিধিগত বাধ্যবাধকতার বোঝা কমাচ্ছি। ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে সরকার একের পর সক্রিয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

 

সম্প্রতি আমরা কর ব্যবস্থা, শ্রমবিধি এবং শাসনের ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কার সাধন করেছি। উৎপাদন শিল্পকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য এখন নানাবিধ সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। প্রধান প্রধান ক্ষেত্রগুলিতে আমরা বিভিন্ন উৎসাহ প্রকল্পের সূচনা করেছি। 

 

এর এক জ্বলন্ত উদাহরণ হল জাহাজ নির্মাণ ক্ষেত্র। আমরা জাহাজ নির্মাণ ক্লাস্টার গড়ে তুলে এর বিকাশের জন্য সামগ্রিক পরিমণ্ডল গড়ে তুলেছি। 

 

জাহাজ নির্মার্ণের পাশাপাশি ভারত রক্ষাণাবেক্ষণ ও জাহাজ মেরামতি, পরিবেশবান্ধব জাহাজ চলাচল এবং সামু্দ্রিক পরিষেবা ক্ষেত্রেও এক বিশ্বজনীন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। 

 

বর্তমানে নরওয়ের প্রায় ১০ শতাংশ জাহাজ ভারতে নির্মিত হয়। আমরা কি আগামী ৫ বছরের মধ্যে এককে ২৫ শতাংশে নিয়ে যেতে পারি? আমার মনে হয় এটি খুব একটি কঠিন কাজ নয়। কাজ শুরু হয়ে গেছে, এখন শুধু প্রয়োজন বৃহত্তর লক্ষ্য স্থির করা এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ।  

 

আমি আপনাদের সকলকে এই ক্ষেত্রের প্রধান অংশীদার হওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। ভারতের সুস্থিত নীতি এবং উৎসাহদান প্রকল্পের সুবিধা আপনারা গ্রহণ করুন। 

 

বন্ধুরা,

 

আজ প্রধানমন্ত্রী এবং আমি ভারত-নরওয়ে সম্পর্ককে পরিবাশবান্ধব কৌশলগত অংশীদারিত্বের স্তরে উন্নীত করেছি। এরফলে, নরওয়ের সংস্থাগুলি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, কৃত্রিম মেধা, সাইবার প্রযুক্তি, মহাকাশ এবং প্রতিরক্ষার মতো ক্ষেত্রে পূর্ণ সমর্থন পাবে। এইসব ক্ষেত্রে ভারতকে উদ্ভাবন ও উৎপাদনের ভিত্তি করে তোলার জন্য আমি আপনাদের আমন্ত্রণ জানাই।

 

বন্ধুরা,

 

আজ আমরা ভারত-নরওয়ে সম্পর্ককে গবেষণাগার থেকে গবেষণাগার, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, বিজ্ঞানী থেকে বিজ্ঞানীর অংশীদারিত্বে রূপান্তরিত করছি। ভারতের কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ- সিএসআইআর, স্টার্ট আপ ফাণ্ডগুলি এবং নরওয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তি হয়েছে। এতে দুই দেশের গবেষণা ও স্টার্ট আপ পরিমণ্ডলের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপিত হবে। 

 

বন্ধুরা,

 

আমরা ইনভেস্ট ইন্ডিয়ার আওতায় নরওয়ের জন্য একটি বিশেষ বাণিজ্য সহায়তা ডেস্ক খুলেছি, যাতে আপনাদের প্রয়োজন সুনির্দিষ্টভাবে পূরণ করা যায়। এই ডেস্ক ভারতে আপনাদের বিনিয়োগ যাত্রাকে আরও মসৃন, দ্রুততর ও কার্যকর করে তুলবে। 

 

এরফলে, রাজ্যসকারগুলির সঙ্গে আপনাদের সমন্বয় আরও সহজ হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো সমন্বয় বা সহায়তার প্রয়োজন হলে সেগুলিও দ্রুততার সঙ্গে করা যাবে। সেইজন্যই আমরা এই বিশেষ ব্যবস্থা করেছি।

 

আমার মূল কথা হল- আসুন ভারতে আপনার উচ্চাকাঙ্খা এবং পরিধির প্রসার ঘটান। আমি আপনাদের সবাইকে আন্তরিকভাবে ভারতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

 

আমি যা কিছু বললাম, আপনারা তা নিজেদের চোখে দেখার সুযোগ পাবেন। আমার দিক থেকে আপনাদের প্রতি সম্পূর্ণ নিশ্চয়তা এবং আস্থা রয়েছে। বল এখন আপনাদের কোটে।

 

ধন্যবাদ!

 

প্রধানমন্ত্রী মূল ভাষণটি হিন্দীতে দিয়েছিলেন।

 

 

SC/SD/CS