পিএমইন্ডিয়া
নতুন দিল্লি, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজ, বিক্রম সংবৎ ২০৮২… ফাল্গুন কৃষ্ণপক্ষ… বিজয়া একাদশী… মাঘ ২৪, ১৯৪৭ সালের শকা সংবৎ-এর শুভ মুহুর্ত উপলক্ষে…
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে নতুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় উৎসর্গ করেন। এটি এখন ‘সেবা তীর্থ’ নামে পরিচিত হবে।
ভারতকে ঔপনিবেশিক শাসনের শৃঙ্খলে আবদ্ধ রাখার জন্য ব্রিটিশরা নর্থ ও সাউথ ব্লক তৈরি করেছিল। যদিও ভারত ১৯৪৭ সালে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে,কিন্তু তৎকালীন সরকার এই ভবনগুলি তাদের কার্য সম্পাদনের জন্য রেখে দিয়েছিল। স্বাধীনতার পর থেকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সাউথ ব্লকের এই ভবন থেকে কাজ করে আসছে।
আজ, আমরা আনন্দিত যে সাউথ ব্লকের এই কক্ষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি কেবল স্থান পরিবর্তনের মুহূর্ত নয়; এটি ইতিহাস এবং ভবিষ্যতের সঙ্গমেরও একটি মুহূর্ত। এই কমপ্লেক্স দাসত্ব থেকে স্বাধীনতা এবং তারপর স্বাধীন ভারতের অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী এবং রূপদান করেছে। এই কমপ্লেক্স দেশের ১৬ জন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সাক্ষী হয়েছে। নেহেরু জি থেকে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী জি পর্যন্ত সকলের পদচিহ্ন এই ভবনের সিঁড়িতে রয়েছে। এই ভবনের সিঁড়িতে ওঠা সিঁড়ি দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
বিগত দশকগুলিতে, সংবিধানের আদর্শ, জনগণের কাছ থেকে পাওয়া ম্যান্ডেট এবং দেশের আকাঙ্ক্ষা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে এখানে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখানে, ভারতের সাফল্য উদযাপন করা হয়েছে, ব্যর্থতা মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শক্তিশালী এবং বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এখানে বসে, কয়েক প্রজন্মের কর্মকর্তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যা স্বাধীনতার পরপরই ভারতকে অনিশ্চয়তা থেকে বের করে এনে স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। সকলের প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং সংকট থেকে বেরিয়ে এসে, আজ ভারত একটি আত্মবিশ্বাসী দেশ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
বর্তমান ভারত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতির দেশ। ভারত একটি নিরাপদ এবং সক্ষম দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী প্ল্যাটফর্মে তার স্পষ্ট এবং কার্যকর কণ্ঠস্বর তুলে ধরেছে।
গত দশকে, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী জির নেতৃত্বে, সাউথ ব্লক দেশের অনেক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই স্থানটি ন্যূনতম সরকার, সর্বোচ্চ শাসনের অনুপ্রেরণার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। এখান থেকে যাত্রা শুরু করা সংস্কার এক্সপ্রেস সারা দেশের উৎসাহ অর্জন করে। এখান থেকে, ডিবিটি, স্বচ্ছ ভারত অভিযান, দরিদ্রদের কল্যাণ সম্পর্কিত প্রচার, ডিজিটাল ইন্ডিয়া, জিএসটি-এর মতো বিস্তৃত সংস্কার বাস্তব রূপ নিয়েছে। এখান থেকে, ৩৭০ ধারার প্রাচীর ভেঙে ফেলা এবং তিন তালাকের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়নের মতো সামাজিক ন্যায়বিচারের সাহসী এবং সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এখান থেকে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, বিমান হামলা এবং অপারেশন সিঁদুরের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে ভারত বিশ্বকে নিজের দৃঢ় এবং আত্মবিশ্বাসী সুরক্ষা নীতির স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল।
আজ, দেশ একটি উন্নত ভবিষ্যতের সংকল্প নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এর জন্য, একটি আধুনিক, প্রযুক্তিগত এবং পরিবেশবান্ধব অফিসের প্রয়োজন ছিল। এমন একটি কর্মক্ষেত্র যা এখানে কর্মরত প্র্ত্যেক কর্মযোগীর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে এবং সেবার প্রতি তার সংকল্পকে উৎসাহিত করে।
এই চিন্তাভাবনা নিয়ে, সাউথ ব্লকের উদ্বোধনের প্রায় ৯৫ বছর পর, আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে, ভারত সরকার এই ভবনগুলি খালি করে ‘সেবা তীর্থ’ এবং ‘কর্তব্য ভবন’-এ স্থানান্তরিত করছে। প্রতীকীভাবে, এটি দাসত্বের অতীত থেকে ‘উন্নত ভারত’-এর ভবিষ্যতের দিকে দেশের আরেকটি পদক্ষেপ। বিগত বছরগুলিতে, ‘ক্ষমতার’ সংস্কৃতির পরিবর্তে, দেশে ‘সেবার’ সংস্কৃতি শক্তিশালী হয়েছে। আজকের এই পরিবর্তন এই মূল্যবোধগুলিকে আরও শক্তিশালী করবে।
আজ, মন্ত্রিসভা নর্থ এবং সাউথ ব্লকগুলিকে “যুগে যুগে ভারত” জাতীয় জাদুঘরের অংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই জাদুঘর আমাদের কালজয়ী এবং চিরন্তন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপন করবে এবং আমাদের গৌরবময় অতীতকে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের সঙ্গে সংযুক্ত করবে।
শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রস্থলকে ঔপনিবেশিক অতীত থেকে মুক্ত করে নতুন ভারতের ‘সেবা তীর্থ’-এ রূপান্তরিত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
SC/PM/AS
On Vijaya Ekadashi, 13 February 2026, the Union Cabinet adopted a resolution marking the dedication of a new chapter in India’s governance by Prime Minister @narendramodi
— PIB India (@PIB_India) February 14, 2026
Built during British rule, the North and South Blocks served as the centre of governance after Independence… pic.twitter.com/JcTn7TsGiP