Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লায় সুভাষ চন্দ্র বসু সংগ্রহালয় উদ্বোধন করলেন


বীর স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ (২৩শে জানুয়ারি) দিল্লির লালকেল্লায় নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর ১২২তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে তাঁকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়ে সুভাষ চন্দ্র বসু সংগ্রহালয়ের উদ্বোধন করেন।

 

তিনি নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু ও ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি সম্পর্কিত সংগ্রহালয়টি ঘুরে দেখেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুকে তাঁর জয়ন্তীতে শ্রদ্ধা জানাই। তিনি ছিলেন এক অদম্য ও দৃঢ়চেতা ব্যক্তি, যিনি ভারতের মুক্তির লক্ষ্যে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন এবং মর্যাদার সঙ্গে জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। আমরা তাঁর মতাদর্শগুলি পূরণে এবং এক মজবুত ভারত গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ।” এই ভবনেই ঔপনিবেশিক শাসকরা কর্ণেল প্রেম সহগাল, কর্ণেল গুরবক্স সিং ধিল্লোঁ ও মেজর জেনারেল শাহনওয়াজ খানের মতো ভারতের বীর সন্তানদের বিচারাধীন বন্দী করে রেখেছিল। নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু ও ন্যাশনাল আর্মির ইতিহাসের বিবরণ সম্বলিত একাধিক আলোকচিত্রও তিনি ঘুরে দেখেন। এছাড়াও তিনি নেতাজী ও ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সামগ্রী যেমন, নেতাজীর ব্যবহৃত কাঠের চেয়ার, তরবারী, পদক, ব্যাজ এবং ন্যাশনাল আর্মির ব্যবহৃত সেনা উর্দি পরিদর্শন করেন।

 

ইয়াদ-এ-জালিয়ান সংগ্রহালয়ে রাখা হয়েছে জালিয়ানওয়ালা বাগ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত আলোকচিত্র, রঙিন চিত্র ও সংবাদপত্রে প্রকাশিত টুকরো খবরের কোলাজ (ক্লিপিংস) প্রভৃতি। সেগুলিও প্রধানমন্ত্রী ঘুরে দেখেন। এই সংগ্রহালয়ে ১৯১৯-এ জালিয়ানওয়ালা বাগ হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারতীয় সেনানীদের আত্মবলিদান সম্পর্কে দর্শকরা জানতে পারবেন।

 

১৮৫৭-তে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত সংগ্রহালয়টিও তিনি ঘুরে দেখেন। এই সংগ্রহালয়ে ১৮৫৭-র স্বাধীনতা যুদ্ধের ঐতিহাসিক ঘটনা সম্বলিত ছবি তিনি ঘুরে দেখেন। সেই সময় ভারতীয়দের বীরত্ব ও আত্মবলিদান এই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। এছাড়াও, আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মবলিদানের কাহিনীও এখানে মর্যাদার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

 

লালকেল্লায় গড়ে ওঠা দৃশ্যকলা সংগ্রহালয়ে ভারতীয় শিল্পকর্মের প্রদর্শনীও তিনি ঘুরে দেখেন। শ্রী মোদী বলেন, “এই সংগ্রহালয়ে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিল্পকর্ম দেখার সুযোগ মিলবে শিল্পকলা অনুরাগীদের। আমরা সকলেই জানি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একজন সৃজনশীল লেখক হিসেবে পরিচিত হলেও, বিশ্ব শিল্পকলার সঙ্গে তাঁর গভীর যোগসূত্র ছিল। বিভিন্ন বিষয়কে নিয়ে তিনি যেমন সাহিত্য রচনা করেছেন, তেমনই ছবি এঁকেছেন। আন্তর্জাতিক স্তরেও গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়েছে।” এক ট্যুইটে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “আমি শিল্প অনুরাগীদের দৃশ্যকলা সংগ্রহালয় ঘুরে দেখার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানাই। এখানে শিল্প অনুরাগীরা ভারতীয় শিল্প ও সংস্কৃতির সৃজনশীল শিল্পকলা সম্বন্ধে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। সংগ্রহালয়ের প্রদর্শনীতে রাজা রবি বর্মা, গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অমৃতা শের-গিল, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নন্দলাল বসু, গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, শৈলজ মুখোপাধ্যায় ও যামিনী রায়ের আঁকা বিভিন্ন ছবি প্রদর্শিত হয়েছে।”

 

এই সংগ্রহালয়ের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিজড়িত চারটি সংগ্রহালয়ের একসঙ্গে উদ্বোধন অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। এই চারটি সংগ্রহালয়ের নাম রাখা হয়েছে ক্রান্তি মন্দির। এই ভবনের মধ্যে রয়েছে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু ও ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি সম্পর্কিত সংগ্রহালয়, জালিয়ানওয়ালা বাগ ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত ইয়াদ-এ-জালিয়ান সংগ্রহালয়, ১৮৫৭-তে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত সংগ্রহালয় এবং তিন শতাব্দীব্যাপী ভারতীয় শিল্পকর্ম নিয়ে গড়ে ওঠা দৃশ্যকলা সংগ্রহালয়। দৃশ্যকলা সংগ্রহালয়ে ৪৫০টিরও বেশি আলোকচিত্র, রঙিন চিত্র প্রভৃতি স্থান পেয়েছে।

 

ক্রান্তি মন্দিরের মাধ্যমে আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বৈপ্লবিক সঙ্কল্প ও সাহসিকতার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের পূর্বে এই সংগ্রহালয়গুলি আমাদের গৌরবময় ইতিহাস ও যুবসম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও নিবিড় করবে। সেইসঙ্গে, নাগরিকদের মধ্যে দেশাত্মবোধের মানসিকতাকেও প্রসারিত করবে।

 

CG/BD/DM/