Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


মহামান্য প্রধানমন্ত্রী শ্রী কে পি শর্মা ওলিজী, উপস্থিত নেপালের মন্ত্রী মহোদয়গণ এবং এদেশের সাংসদবৃন্দ, মাননীয় অতিথিবৃন্দ এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা-

ভারত-নেপাল মৈত্রীর ইতিহাসে আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী ওলিজী তাঁর প্রথম বিদেশ সফরে এসেছেন এইদেশে। তাঁকে ও সঙ্গে আসা সকল মাননীয় অতিথিকে আমি আন্তরিক স্বাগত জানাই। ভারতের প্রতি নেপালের জনসাধারণের অপার ভালবাসা আর সৌহার্দ্যকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। পাশাপাশি, নেপালের জনগণের আশা-আকাঙ্খা তথা তাঁদের সচেতনতা ও বিবেককে সম্মান জানাই। এই উপলক্ষে আমি নেপালের প্রয়াত জননেতা সুশীল কৈরালা’কে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করছি। ভারত-নেপাল মৈত্রীর ক্ষেত্রে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়।

বন্ধুগণ,

ভারত ও নেপাল দুটি স্বাধীন দেশ। এই দুই দেশের বন্ধুত্ব নিবিড় এবং অদ্বিতীয়। হিমালয়ের অখণ্ডতা এবং গঙ্গার পবিত্রতা আমাদের সুদৃঢ় সম্পর্কের সাক্ষী। দু’দেশের মধ্যে উন্মুক্ত সীমান্ত দু’দেশের জনগণের সম্পর্ককে পরিভাষিত করে। আমরা উভয়েই এক ঋদ্ধ সংস্কৃতির যৌথ উত্তরাধিকারী। আমাদের মিলিত উদ্দেশ্য দু’দেশের শান্তি, স্থৈর্য এবং আর্থিক উন্নয়ন। ভারত-নেপাল সম্পর্কের এই সকল বিষয় নিয়ে আজ আমি ও প্রধানমন্ত্রী ওলি বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

মহামান্য ওলি,

গোটা বিশ্ব একথা স্বীকার করে নিয়েছে যে, গত কয়েক বছরে নেপাল গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতার ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় উন্নতি করেছে। কয়েক দশকের সংঘর্ষের পর নেপালের নতুন সংবিধান রচনা এবং তাকে কার্যকর করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। এই সংবিধান প্রণয়নে নেপালের সরকার, রাজনৈতিক নেতৃত্ব তথা সমাজের সকল অংশের মানুষের অংশগ্রহণ অভিনন্দনযোগ্য। কিন্তু, এর সাফল্য সহমত এবং মতবিনিময় নির্ভর। আমার বিশ্বাস, এই সিদ্ধান্তগুলির ভিত্তিতে রাজনৈতিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে নেপালের সকল অংশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আপনি নেপালের সংবিধানের সঙ্গে যুক্ত সকল বিষয়গুলির সন্তোষজনক সমাধান করে নেপালকে প্রগতি এবং স্থৈর্যের পথে নিয়ে যাবেন।

বন্ধুগণ,

দলমত নির্বিশেষে, ভারত সরকার এবং এদেশের সকল মানুষ চায় নেপালের আর্থিক উন্নতি, উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধি। এক্ষেত্রে ভারত সর্বদাই ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে আপনাদের পাশে রয়েছে। সেজন্য, ভারতের আর্থিক উন্নয়ন নেপালের সমৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে। দু’দেশের মধ্যে ট্রান্সপোর্ট করিডর উন্নয়নের রাজপথ হয়ে উঠতে পারে। একথা মাথায় রেখে, দু’দেশের মধ্যে আরও দুটি ট্রানজিট পয়েন্ট খোলার ক্ষেত্রে মতৈক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষেত্রীয় উন্নয়ন এবং যোগাযোগের উন্নতিসাধনে এগুলি অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। ২০১৪ সালে যখন নেপাল সফরে এসেছিলাম তখন আমি বলেছিলাম, নেপালের জলবিদ্যুৎ-এর সম্ভাবনা নেপালকে আলোকিত করে ভারতের প্রয়োজনও মেটাতে সক্ষম। আজ আমি খুশি, আমরা যৌথভাবে কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এগুলির মোট উৎপাদন ক্ষমতা হবে প্রায় ৭০০০ মেগাওয়াট। এগুলির দ্রুত এবং সফল রূপায়ণ নেপালের আর্থিক সমৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে। কিছুক্ষণ আগেই আমি মুজাফফরপুর-ধলকেওয়ার ট্রান্সমিশন লাইন উদ্বোধন করলাম, এর মাধ্যমে নেপাল প্রায় ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাবে। দু’বছরের মধ্যে এই লাইনের মাধ্যমে নেপাল ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাবে।

বন্ধুগণ,

ব্যবসা ও বিনিয়োগ আমাদের মৈত্রী সম্পর্কের মজবুত স্তম্ভ। এগুলিকে আরও সুদৃঢ় করা যেতে পারে। সেজন্য, দু’দেশের স্বার্থে দ্রুত বেশ কয়েকটি পূর্ণাংগ চেক্‌ পোস্ট গড়ে তুলতে হবে। আজ আমরা নেপালের তরাই অঞ্চলে সড়ক নির্মাণ নিয়ে যে চুক্তি সম্পাদন করলাম, তা আমাদের বাণিজ্য পরিকাঠামোকে আরও সুদৃঢ় করবে। গত বছর নেপালের ভয়ানক ভূমিকম্পের ত্রাসকে আমরা যৌথভাবে মোকাবিলা করেছি। নেপালের বিপদ ভারতীয়দেরও বিপন্ন করেছে। ভূমিকম্প পরবর্তী নেপালের পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তাগুলি সম্পন্ন করতে ভারত এক বিলিয়ন আমেরিকান ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এক্ষেত্রেও আজ দুটো চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, একটি ২৫০ মিলিয়ন ডলার গ্র্যান্ট আর অন্যটি ৭৫০ মিলিয়ন লাইন অফ ক্রেডিটের। এই সহযোগিতা আমাদের সম্পর্ককে আরও নিবিড় করবে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ওলির ভুজ-সফর নেপালের ভূমিকম্প পরবর্তী পুনর্গঠনে কার্যকরী হবে।

মহানুভব ওলি,

ভারতের প্রাচীন সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ অবদান হল আয়ুর্বেদ। এ যুগেও এর বিশেষ প্রভাব রয়েছে। নেপালও নিবিড়ভাবে আয়ুর্বেদের সঙ্গে যুক্ত। এদেশে আয়ুর্বেদের বিকাশ উভয় দেশের সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক হিতের অনুকূল। নেপাল চাইলে ভারত নেপালে আয়ুর্বেদিক কলেজ খুলতে পারে, আর সেটিকে ভারতের আয়ুর্বেদিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে।

বন্ধুগণ,

নেপালের শান্তি ও স্থৈর্য ভারতের নিরাপত্তাকে সুনিশ্চিত করে। প্রধানমন্ত্রী ওলি ও আমি এ ব্যাপারে সহমত যে, আমরা আমাদের উন্মুক্ত সীমান্তকে সন্ত্রাসবাদী, অপরাধী ও চোরাকারবারীদের স্বর্গরাজ্য হতে দেব না। সেজন্য উভয় দেশের নিরাপত্তা বাহিনীগুলির মধ্যে মেলবন্ধনকে আমরা আরও মজবুত করবো।

মহামান্য ওলি,

নেপালের শান্তি ও স্থৈর্য উভয় দেশের নিরাপত্তাকে জোরদার করবে। আমি ও সকল ভারতবাসী নেপালের আর্থিক উন্নয়ন চাই। সেজন্য আমরা সর্বদাই নেপালের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে রেখেছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আপনার দক্ষ নেতৃত্বে ভারত-নেপাল সম্পর্ক মজবুত হবে, নতুন উচ্চতা স্পর্শ করবে। এই কথাগুলি বলে আরেকবার আপনাকে এবং আপনাদের সকলকে ভারতে আমন্ত্রণ জানাই।

ধন্যবাদ।

PG/SB/SB