পিএমইন্ডিয়া
আমার প্রিয় সহকর্মী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী শ্রী জে.পি. নাড্ডা, ইথিওপিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রী শ্রী কেসেটেবিরহান আদমাসু, অংশগ্রহণকারী দেশগুলির মাননীয় মন্ত্রীগণ, উন্নয়নের অংশীদার (ডেভেলপমেন্ট পার্টনার) প্রতিনিধিবৃন্দ, সুশীল সমাজের বন্ধুগণ, বেসরকারি সংস্থা, সংবাদ মাধ্যম, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বক্তাগণ এবং সম্মানিত প্রতিনিধিবৃন্দ। আমার সরকার এবং এই আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনের সহ আয়োজকদের পক্ষ থেকে আমি আপনাদের সকলকে ‘গ্লোবাল কল টু অ্যাকশন’ শীর্ষ সম্মেলনে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাচ্ছি।
আজ হল এক দিকনির্দেশক মুহূর্ত বা উপলক্ষ এবং এই প্রথম ‘গ্লোবাল কল টু অ্যাকশন’ শীর্ষ সম্মেলন আমেরিকার বাইরের একটি দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই শীর্ষ বৈঠকের আয়োজন করতে পেরে আমাদের সরকার সম্মানিত। যে সমস্ত প্রতিনিধি অনেক পথ অতিক্রম করে দূরদূরান্ত থেকে এখানে এসে পৌঁছেছেন, তাঁদের সকলকে আমি আন্তরিকভাবে ভারত ও নয়াদিল্লিতে স্বাগত জানাচ্ছি। আজ সকালে আপনাদের সকলের সঙ্গে এখানে মিলতে পেরে আমি বিশেষভাবে আনন্দিত।
মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সম্পর্কিত দু’দিনের এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলির সাফল্য তুলে ধরা হবে। মৃত্যু যেখানে অনিবার্য নয়, সেখানে মা ও শিশুর জীবন কিভাবে রক্ষা করা যায় সে সম্পর্কে এক চিন্তাভাবনা থেকেই এই শীর্ষ সম্মেলনের ধারণা ও সূচনা। জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে উন্নয়নমূলক যে সমস্ত অভিনব ব্যবস্থা ও উদ্ভাবনী শক্তি আবিষ্কৃত হয়েছে আজকের এই সম্মেলনে নতুন অংশীদারিত্বের সেই দিকগুলিই তুলে ধরা হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে সাধারণ চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলার উপযুক্ত একটি পথ এই শীর্ষ সম্মেলনে খুঁজে পাওয়া যাবে।
সমৃদ্ধ জাতিগুলির আশা-আকাঙ্খার সঙ্গে অশান্তি ও নিরাপত্তাহীনতার পার্থক্যটা যে কি তা আমরা বুঝতে পারবো তখনই, যখন আজ থেকে ১৫ বছর বাদে বিশ্বকে আমরা এক নতুন চেহারা দিতে পারবো। আমি খুবই আনন্দিত যে, মা ও শিশুর অকালমৃত্যু রোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ২৪টি দেশ আজ এখানে একত্রিত হয়েছে। তাই, ‘কল টু অ্যাকশন’ অর্থাৎ কাজে নেমে পড়ার এই আহ্বান আমাদের সকলের প্রতি যাতে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমরা বড় একটা কিছু করে দেখাতে পারি।
আজ আমরা এখানে এক নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছনোর উপায় ও পন্থা-পদ্ধতি স্থির করার বিষয়গুলি আলোচনা করবো। সহস্রাব্দের উন্নয়নের লক্ষ্য থেকে নিরন্তর উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা পৌঁছতে চলেছি। এই মুহূর্তে একটি বাস্তব বেদনার কথা আমাদের সকলকেই স্বীকার করতে হবে। কারণ, আমরা জানি যে, পৃথিবীতে এখনও প্রতি বছর ২৮৯ হাজার মা এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী ৬৩ লক্ষ শিশুর অকালমৃত্যু ঘটছে। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ২৪টি দেশ ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে মা ও শিশুর মৃত্যু রোধে সমস্ত রকম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতে এই চ্যালেঞ্জ কঠিন হলেও তার মোকাবিলা করতে আমরা দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। আশার কথা, এই অকালমৃত্যু নিশ্চিতভাবেই রোধ করা যায়। এজন্য যা প্রয়োজন, তা হল পরীক্ষা-নিরীক্ষায় উত্তীর্ণ কতকগুলি সফল ব্যবস্থার যথাযথ প্রয়োগ। এই শীর্ষ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্যই হল তাই। এ বছর জানুয়ারি মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের সময় আমাদের যৌথ বিবৃতিতে এই বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। মা ও শিশুর মৃত্যু রোধে আমাদের যৌথ নেতৃত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছতে পেরেছি।
অনেক কিছুই করা এখনও বাকি থেকে গেলেও মা ও শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বের সর্বত্রই উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। ১৯৯০ সালে ভারতে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যু হার ছিল ১২৬। তুলনায় বিশ্বে এক্ষেত্রে গড় শিশু মৃত্যু হার ছিল ৯০। অন্যদিকে , ২০১৩ সালে আমাদের দেশে শিশুদের মৃত্যু হার হ্রাস পেয়ে দাঁড়ায় ৪৯। বিশ্বে শিশু মৃত্যুর হার তখন পরিলক্ষিত হয় ৪৬। এ থেকে পরিস্কার যে , বিশ্বের গড় হারের নিরিখে পার্থক্য আমাদের দেশে ১৯৯০ সালের ৩৬ থেকে ২০১৩ সালে নেমে আসে ৩ পয়েন্ট-এ। পৃথিবীর অন্যত্র মৃত্যু হার হ্রাসের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, আমাদের দেশে শিশু মৃত্যুর হার কমে আসছে অপেক্ষাকৃত দ্রুতগতিতে। এই তথ্য থেকে আমরা যে চিত্রটি দেখতে পাচ্ছি তা হল, বছরে অকালমৃত্যুর হার যদি এই গতিতে কমিয়ে আনা যায়, তা হলে আমরা সম্ভবত খুব শীঘ্রই আমাদের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে পারবো।
এই উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছাড়াও প্রকৃত অর্থেই আমাদের এক ঐতিহাসিক সাফল্য হল, পোলিও’কে জয় করা। ২০১৪ সালের ২৭ মার্চ ভারতকে একটি পোলিও মুক্ত দেশ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ২০০৯ সালে বিশ্বের মোট পোলিও আক্রান্তের সংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি ছিল ভারতে। কিন্তু আজ পোলিও ভাইরাস মুক্ত এক দেশ হিসেবে ভারত চিহ্নিত হয়েছে। শিশুদের স্বাস্থ্য রক্ষায় ভারত যে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ এই ঘটনা তারই প্রমাণ।
ভারতের আরেকটি সাফল্যের কথা আপনাদের সামনে আজ তুলে ধরতে পারলে আমি খুশি হবো। মা ও শিশুদের মধ্যে ধনুষ্টংকারে আক্রমণের ঘটনা ভারত পুরোপুরি রোধ করতে পেরেছে। এক্ষেত্রে বিশ্বে নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল ডিসেম্বর, ২০১৫। কিন্তু, তার অনেক আগেই ভারত এই লক্ষ্যে উপনীত হতে পেরেছে। অন্যান্য বিষয়েও যে আমরা সময়ের অনেক আগেই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবো সে সম্পর্কে আমাদের আত্মপ্রত্যয় আরও দৃঢ় হয়েছে। দেশকে পোলিও মুক্ত করা এবং মা ও শিশুর মধ্যে ধনুষ্টংকারের আক্রমণ পুরোপুরি প্রতিহত করার যে উদ্যম ও প্রচেষ্টা আমরা দেখিয়েছি তা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। ‘মিশন ইন্দ্রধনুষ’ – এর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর বৃহত্তম টিকাকরণ অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছে আমাদের দেশ। টিকাকরণের ক্ষেত্রে কোনও রকম বিচ্যুতি যাতে না ঘটে সেদিকে আমরা বিশেষভাবে লক্ষ্য রেখেছি। শুধু তাই নয়, টিকাকরণের এই বার্ষিক হার যাতে বর্তমানের ১ শতাংশ থেকে বছরে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যায়, সে ব্যাপারেও আমাদের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। আর এইভাবেই ২০২০ সালের মধ্যে ৯০ শতাংশ টিকাকরণের লক্ষ্যে আমরা পৌঁছতে পারবো। তা না হলে বর্তমান গতিতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে হলে আরও ২৫ বছর লেগে যেত। এই কর্মসূচির প্রথম পর্যায় সাফল্যের সঙ্গে রূপায়িত হয়েছে। মৃত্যু যেখানে প্রতিষেধক টিকার সাহায্যেই রোধ করা যায়, সেখানে কোনও শিশুকেই যাতে অকালমৃত্যুর শিকার না হতে হয় তা আমরা সুনিশ্চিত করবো।
মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়গুলিতে ভারত সবসময়েই বিশ্ব প্রচেষ্টার সঙ্গে সামিল হয়েছে। নবজাতকদের মৃত্যু হার হ্রাস করতে বিশ্ব যে অঙ্গীকার গ্রহণের ডাক দিয়েছিল ভারতই তাতে প্রথম সাড়া দেয়। ২০১৪ সালের জুন মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য অধিবেশনে Every Newborn Action Plan (ENAP) গ্রহণের পরেই এই ঘটনা ঘটে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারত India Newborn Action Plan (INAP) – এর কাজ শুরু করে, যাতে নবজাতকের মৃত্যু হার ২০৩০ সালের মধ্যে একটি মাত্র অঙ্কে নামিয়ে আনা যায়। RMNCH + A – এ ভারতের অঙ্গীকার ও কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে ‘কল টু অ্যাকশন’ অর্থাৎ কাজে নেমে পড়ার আহ্বানে সাড়া দেওয়া হয়।
আমাদের জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের মধ্য দিয়েই মা ও শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রে আমরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছি। এই মিশনটি হল সম্ভবত বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কর্মসূচি, যার মধ্যে গ্রাম ও শহর উভয়কেই নিয়ে আসা হয়েছে। এই মিশন কাজ শুরু করার পর থেকেই মা ও শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রে যথেষ্ট উন্নতি আমরা লক্ষ্য করেছি। ভারতে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর ঘটনার ৫২ শতাংশই ঘটে জন্মের এক বছরের মধ্যেই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা থেকে। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের আওতায় নবজাতকের যত্ন ও পরিচর্যার জন্য সমষ্টি পর্যায়ে যেমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় সেরকমই নজর দেওয়া হয় এ সম্পর্কিত সুযোগ-সুবিধা প্রসারের দিক থেকেও।
দেশের অন্তঃসত্তা মহিলারা যাতে নিরাপদ মাতৃত্ব লাভ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। ‘জননী সুরক্ষা যোজনা’ নামে আমরা এক উচ্চাকাঙ্খামূলক কর্মসূচির কাজ শুরু করেছি, যাতে গর্ভবতী মায়েদের প্রসব প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়। এই কর্মসূচির ফলশ্রুতিতে মায়েদের মৃত্যুর হারও সরাসরি অনেকাংশে হ্রাস করা গেছে। সময়মতো যত্ন ও স্বাস্থ্য পরিষেবা মানুষের কাছে ব্যক্তিগতভাবে একটি ব্যয়সাপেক্ষ বিষয়। এই অসুবিধা দূর করতে আমরা ‘জননী শিশু সুরক্ষা কার্যক্রম’ নামে এক কর্মসূচি চালু করেছি, যাতে সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলিতে মহিলারা নিরাপদ প্রসবের সুযোগ লাভ করতে পারে। একইসঙ্গে, নিশ্চিত করে তোলা যায় বিনা ব্যয়ে নবজাতকের যত্ন ও স্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়টিও। যাতায়াতের পরিবহণ ব্যয় ছাড়াও স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পথ্য এবং ওষুধের যোগান দেওয়া হয় বিনামূল্যে। গর্ভবতী মহিলাদের প্রসবের বিষয়টি যাতে পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক হয়ে উঠতে পারে সেই লক্ষ্যে আমাদের এটি এক বিশেষ পদক্ষেপ।
মায়েদের স্বাস্থ্য রক্ষা ও পরিষেবার মধ্যেই এই কর্মসূচিকে সীমাবদ্ধ রাখা হয় না। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে যাতে ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়টির দেখভাল করা হয়। এই ব্যবস্থায় এ পর্যন্ত ৯ কোটি ২০ লক্ষ মা এবং ৭ কোটি ৮০ লক্ষ শিশুকে সুরক্ষার আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।
আমাদের আরেকটি লক্ষ্যের বিষয় হল, এই ধরণের কাজকর্মে সমতা বজায় রাখা। বিভিন্ন অঞ্চলে রাজ্যে রাজ্যে কোনও রকম বৈষম্য যাতে না থাকে সেজন্য সমস্ত এলাকায় সমান স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য আমরা স্থির করেছি। এজন্য অপেক্ষাকৃত কম সুযোগ পেয়েছে এ ধরণের ১৮৪টি জেলাকে আমরা চিহ্নিত করেছি। এই সমস্ত এলাকায় সমতার ভিত্তিতে এবং উপযুক্ত সহায়সম্পদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে আমরা বিশেষ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
আমাদের একটি বড় ধরণের কর্মসূচি হল, ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’, যার অর্থ পরিচ্ছন্ন ভারত গড়ে তোলা। এই বিশেষ অভিযানের অঙ্গ হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রক ‘কায়াকল্প’ নামে এক প্রকল্প চালু করেছে, যাতে উন্নতমানের জনস্বাস্থ্য রক্ষার সুযোগ-সুবিধার সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ এক সুস্থ জাতির জন্ম দিতে পারে। কন্যা সন্তান বাঁচাতে এবং তাকে শিক্ষিত করে তুলতে আমরা সূচনা করেছি আরেকটি উচ্চাকাঙ্খামূলক কর্মসূচির, যা ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ নামে পরিচিত। কন্যা সন্তান যাতে বেঁচে থাকে, উন্নতি করে এবং সমাজে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, তা আমরা নিশ্চিত করতে আগ্রহী।
আমি লক্ষ্য করেছি যে, দুর্ভাগ্যজনক স্বাস্থ্য পরিবেশই মানুষের দারিদ্র্যের জন্য অনেকাংশে দায়ী। তাই, আমরা চাই এমন এক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে যাতে প্রান্তিক মানুষকে সার্বজনীন স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও আর্থিক সুরক্ষার আওতায় নিয়ে আসা যায়। কাজকর্মের এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে আমরা একে অপরের কাছ থেকে অনেক কিছুই শিখতে পারি। মা ও শিশুর অকালমৃত্যু পুরোপুরি বন্ধ করতে এবং যাঁরা বয়ঃসন্ধিক্ষণে উপনীত তাঁদের জন্য এক উন্নততর জীবন সম্ভব করে তুলতে আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পালন করবো এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাবো। এই লক্ষ্যে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আমি আপনাদের সকলকে আহ্বান জানাচ্ছি।
আজ আমাদের এই সমাবেশে আমরা একটি সুস্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিতে চাই শুধুমাত্র অংশগ্রহণকারী দেশগুলির কাছেই নয়, বিশ্বের সমস্ত প্রান্তেই। এই বার্তা হল আমাদের অঙ্গীকারের বার্তা। মৃত্যু যেক্ষেত্রে অনিবার্য নয়, সেখানে প্রতিটি নারী ও প্রতিটি শিশুর জীবন আমরা রক্ষা করবো এই বার্তা আমরা পৌঁছে দেবো দিকে দিকে। এই ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণে আমাদের সঙ্গে সামিল হতে আমরা উদার আহ্বান জানাবো সমগ্র বিশ্বকেই। এই লক্ষ্যে উপনীত হতে শুধুমাত্র নিজেদের দেশেই সহায়সম্পদ সদ্ব্যবহারের অঙ্গীকার আমরা করছি না। একই সঙ্গে আমরা অঙ্গীকার করছি, পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তে প্রয়োজনে আমাদের সাহায্যের হাত প্রসারিত করতে। এ হল আমার এক ব্যক্তিগত দর্শন এবং আমার সরকারের এক দৃঢ় অঙ্গীকার।
আজ এখানে সমবেত প্রত্যেকটি দেশই নিজেদের পক্ষ থেকে কিছু না কিছু বলবে। এক্ষেত্রে ভারতের অভিজ্ঞতাও কম কিছু নয়, যা আমরা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারলে খুশি হবো। গত বছর সার্কভুক্ত দেশগুলিকে পোলিও মুক্ত হতে আমরা সাহায্য করবো বলে অঙ্গীকার করেছিলাম। প্রয়োজনে সার্ক সদস্য রাষ্ট্রগুলিতে Pentavalent প্রতিষেধক পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকারও আমরা করেছিলাম। আমাদের যা কিছু অভিজ্ঞতা সবই আমরা ভাগ করে নিতে চাই সমগ্র বিশ্বের সঙ্গে।
যে কোনও দেশকে প্রযুক্তি, শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কর্মসূচি রূপায়ণের ক্ষেত্রে সাহায্য করতে ভারত প্রস্তুত। আমাদের বিশেষ নবজাতক পরিচর্যা ইউনিটগুলিতে অসুস্থ শিশুদের যত্ন ও দেখভালের জন্য উন্নততর পরিচালন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমরা আগ্রহী। তাই, এ বিষয়ে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত। সার্বজনীন টিকাকরণের ক্ষেত্রে ভারতের বিশেষ অভিজ্ঞতা এবং এ বছর ‘মিশন ইন্দ্রধনুষ’ – এর অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানকে সবকটি দেশের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারলে আমরা খুশি হবো। আগেও সার্কভুক্ত দেশগুলির কাছে আমি এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলাম। আমি আবার তার পুনরাবৃত্তি করছি আজ এখানে সমবেত দেশগুলির প্রতিনিধিদের কাছে। পোলিও নির্মূল করার ক্ষেত্রে সহায়তাদান ছাড়াও এ ধরণের সমস্ত রকম সাহায্য ও সহযোগিতা পৌঁছে দিতে আমরা সর্বদাই প্রস্তুত।
আমি আবার আপনাদের সকলকে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক শীর্ষ বৈঠকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। মা ও শিশুর মৃত্যু রোধ করতে বিশ্বের সবকটি দেশই যাতে এক নতুন লক্ষ্যে উপনীত হতে পারে সেজন্য দু’দিনের এই বৈঠক যে বিশেষ ফলপ্রসূ হয়ে উঠবে সে ব্যাপারে আমি খুবই আশাবাদী।
নয়াদিল্লিতে আপনাদের এই অবস্থান সুখের হোক এই প্রার্থনা জানাই।
আপনাদের সকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। জয় হিন্দ।
PG/SKD/SB/27_AUGUST_2015..
I warmly welcome you to the Global Call to Action Summit 2015: PM @narendramodi https://t.co/T9KKEq8CDZ @Call2Action2015
— PMO India (@PMOIndia) August 27, 2015
For the first time the Global Call to Action Summit is being held outside USA: PM @narendramodi https://t.co/T9KKEq8CDZ @Call2Action2015
— PMO India (@PMOIndia) August 27, 2015
This Summit will provide a highly effective platform to address common challenges that will help us achieve desired goals: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 27, 2015
I am glad to see 24 nations present here to join together in their commitment to end preventable maternal and child death: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 27, 2015
A truly historic accomplishment has been the victory over Polio: PM @narendramodi https://t.co/T9KKEq8CDZ @Call2Action2015
— PMO India (@PMOIndia) August 27, 2015
I am also happy to share with you today another major milestone achieved by India. India has eliminated maternal and neonatal tetanus: PM
— PMO India (@PMOIndia) August 27, 2015
Government has added to the world’s largest immunization drive another mission known as “Mission Indradhanush” : PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 27, 2015
India has always partnered with the global efforts on issues of child and maternal health: PM @narendramodi https://t.co/T9KKEq8CDZ
— PMO India (@PMOIndia) August 27, 2015
India also responded by acting on the first Call To Action through its commitment and launch of RMNCH+A: PM https://t.co/T9KKEq8CDZ
— PMO India (@PMOIndia) August 27, 2015
We launched Janani Suraksha Yojana where incentives were given for delivering in public institutions to beneficiaries directly: PM
— PMO India (@PMOIndia) August 27, 2015
One of the flagship programmes of my Government is the ‘Swacch Bharat Abhiyaan’ : PM @narendramodi #MyCleanIndia @Call2Action2015
— PMO India (@PMOIndia) August 27, 2015
I firmly believe that clean and hygienic environ is the stepping stone to a healthy nation: PM @narendramodi #MyCleanIndia @Call2Action2015
— PMO India (@PMOIndia) August 27, 2015
As we assemble here, we need to send a very strong message not only to ourselves, not only to 24 countries present here but to the world: PM
— PMO India (@PMOIndia) August 27, 2015
The message is of our commitment, that we will ensure that every woman, every child who can be saved will be saved: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 27, 2015
I hope the next two days would provide a new direction to the global community in its journey towards ending maternal and child deaths: PM
— PMO India (@PMOIndia) August 27, 2015