Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

নয়াদিল্লিতে সাইবার মহাকাশ সম্পর্কিত বিশ্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রীনরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


শ্রীলঙ্কার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মিঃ রনিল বিক্রমসিংহে, 

ভারত এবং বিদেশের মন্ত্রী মহোদয়গণ, 

আইটিইউ-এর মহাসচিব, 

অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবৃন্দ, 

১২০টিরও বেশি দেশ থেকে আগত প্রতিনিধিরা, 

ছাত্রছাত্রীবৃন্দ, 

ভদ্রমহিলা ও ভদ্র মহোদয়গণ, 

  

সাইবার মহাকাশ সম্পর্কে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত বিশ্ব সম্মেলনে আপনাদের স্বাগতজানাই। আমি একই সঙ্গে স্বাগত জানাই অন্যান্য আর সকলকেই, যাঁরা বিশ্বের দূরদূরান্তথেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমাদের এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন।   

বন্ধুগণ,   

সাইবার মহাকাশ যে বিগত কয়েক দশক ধরে বিশ্ব জগতে এক রূপান্তর সম্ভব করেতুলেছে, সে সম্পর্কে আমরা সকলেই আজ অবগত। আজকের এই সমাবেশে বরিষ্ঠ প্রজন্মের যাঁরাউপস্থিত রয়েছেন, তাঁরা হয়তো স্মরণ করতে পারবেন, ৭০ ও ৮০-র দশকের বড় বড় মেনফ্রেমকম্প্যুটার ব্যবস্থার কথা। কিন্তু তারপর থেকে বদলে গেছে অনেক কিছুই। ই-মেল এবংপার্সোনাল কম্প্যুটার এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করেছিল ৯০-এর দশকে। এর পথ অনুসরণ করেপরবর্তীকালে উদ্ভব ঘটে সোশ্যাল মিডিয়া এবং মোবাইল ফোনের। তথ্য ও পরিসংখ্যানসংরক্ষণ এবং যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবেই এগুলির জন্ম হয়। ইন্টারনেট অফ থিংগস এবং আর্টিফিসিয়ালইন্টেলিজেন্সের মতো কথাগুলি এখন লোকের মুখে মুখে। এর অর্থই হ’ল এই যে, রূপান্তরেরধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে, বরং তা আরও দ্রুততার সঙ্গে।   

ডিজিটাল দুনিয়ার এই দ্রুত অগ্রগতির প্রতিফলন ঘটেছে আমাদের ভারতেও। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভারতের মেধা আজ বিশ্বজনস্বীকৃত। ভারতীয় তথ্য প্রযুক্তিসংস্থাগুলি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যথেষ্ট সুনামের অধিকারী   

বর্তমান বিশ্বে ক্ষমতায়নের একটি উৎস হিসাবে বিকাশ লাভ করেছে ডিজিটালপ্রযুক্তি। দক্ষ পরিষেবার যোগান এবং প্রশাসনিক ও পরিচালনগত ব্যবস্থার পথকে তা আরওপ্রশস্ত করে তুলেছে। শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য সর্বত্রই তার অবাধ গতি। আর এইভাবেইভবিষ্যতের বাণিজ্য ও অর্থনীতিকে এক নতুন রূপে সাজিয়ে তুলতে তা সাহায্য করে চলেছে।এর প্রত্যেকটির মাধ্যমেই সমাজের অপেক্ষাকৃত কম সুবিধাভোগী মানুষের কাছেগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের উপায় আরও সহজ করে তোলা সম্ভব হয়েছে। বৃহত্তর ক্ষেত্রেএক সমান ও সুষম বিশ্ব গড়ে তোলার কাজেও এর অবদান রয়েছে যথেষ্ট। কারণ, বিশ্ব মঞ্চেভারতের মতো একটি বিকাশশীল দেশ উন্নত দেশগুলির সঙ্গে সমানভাবেই প্রতিযোগিতায়অবতীর্ণ হওয়ার সুযোগ লাভ করেছে।   

বন্ধুগণ,  

যাবতীয় গণ্ডী অতিক্রম করে প্রযুক্তি এখন সততঃ বিকাশশীল। ‘বসুধৈব কুটুম্বকম্‌’অর্থাৎ সমগ্র বিশ্ব সংসারই এক পরিবারভুক্ত – এই ভারতীয় দর্শনকে তা প্রতিষ্ঠাকরেছে। আমাদের সুপ্রাচীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ঐতিহ্যের পরম্পরার প্রতিফলন ঘটেছে তারমধ্যে। এখন প্রযুক্তির মধ্য দিয়ে আমরা শুধু আমাদের এই আদর্শের বহিঃপ্রকাশই দেখতেপাই না, সেই সঙ্গে আমরা দেখতে পাই শ্রেষ্ঠ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রকাশের সঠিকভাষা ও ভঙ্গীগুলিকেও।  

আমরা ভারতে প্রযুক্তির মানবতামুখী দিকটিকেই বিশেষভাবে প্রাধান্য দিয়ে থাকি।‘জীবনযাপনকে সহজ করে তোলা’র লক্ষ্যে আমরা এর প্রয়োগ ও ব্যবহার করে চলেছি। ডিজিটালপদ্ধতির সাহায্যে ক্ষমতায়ন প্রচেষ্টা ভারত সরকারের এক বিশেষ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।কারণ, এই লক্ষ্যে আমরা স্থির ও অঙ্গীকারবদ্ধ। “ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ হ’ল বিশ্বেরবৃহত্তম প্রযুক্তিচালিত রূপান্তরমুখী এক কর্মসূচি, যা দেশের নাগরিকদের কাছেডিজিটাল পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পথ প্রশস্ত করে তুলেছে। নাগরিকদের ক্ষমতায়নপ্রচেষ্টায় আমরা বর্তমানে ব্যবহার করছি মোবাইল শক্তি অর্থাৎ এম-পাওয়ার।    

আমি নিশ্চিত যে, আপনাদের অধিকাংশই ইতিমধ্যে ‘আধার’ এই নামটির সঙ্গে পরিচিত।এ হ’ল, একজন ব্যক্তির অভিন্ন বায়ো মেট্রিক পরিচিতি। দেশের জনসাধারণকে দীর্ঘক্ষণলাইনে অপেক্ষা করার হাত থেকে রেহাই দিতে এবং জটিল প্রক্রিয়াগত কাজকর্মকে আরও সহজকরে তুলতে এই পরিচিতিকে আমরা বর্তমানে ব্যবহার করেছি। আমরা জন ধন অ্যাকাউন্টগুলিরমাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, আধার এবং মোবাইল ফোন – এই তিনটির সাহায্যে দুর্নীতিহ্রাস করার কাজেও আমরা বিশেষভাবে সফল হয়েছি। এই তিনটি ব্যবস্থার যুক্ত প্রয়োগ ওব্যবহারের আমরা নাম দিয়েছি ‘জ্যাম’ (জেএএম) অথবা জ্যাম ত্রয়ী। ভর্তুকি সহায়তাকেআরও ভালোভাবে সুফল গ্রহীতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘জ্যাম’-এর ব্যবহার অন্যপথে অর্থের অপব্যবহার বন্ধ করে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মতো অর্থের সাশ্রয়ঘটিয়েছে।  

‘জীবনযাপনকে সহজ করে তোলা’র ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তি আমাদের কিভাবেসাহায্য করেছে, তার কিছু কিছু দৃষ্টান্ত আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরতে আগ্রহী।    

বর্তমানে একজন কৃষিজীবী মানুষ ক্ষেতের মাটি পরীক্ষার ফল, বিশেষজ্ঞেরপরামর্শ এবং উৎপাদিত পণ্যের জন্য আরও ভালো দাম শুধুমাত্র একটি বোতাম টিপেই জানতেপারেন। সুতরাং, কৃষি থেকে আয় ও উপার্জন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির অবদানঅনস্বীকার্য। 

একজন ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোগী এখন সরকারি বৈদ্যুতিন বিপণন ব্যবস্থার মঞ্চে নামনথিভুক্তির সুযোগ লাভ করেছেন। সরকারের কাছে পণ্য যোগান দেওয়ার লক্ষ্যেপ্রতিযোগিতার আসরে নামারও সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। এইভাবে তাঁর ব্যবসা-বাণিজ্যেরসম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি সংগ্রহ প্রচেষ্টায় ব্যয়ের মাত্রাও কমিয়ে আনারকাজে সাহায্য করে চলেছেন। এরফলে, একদিকে যেমন দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকেতেমনই সরকারি অর্থের মূল্যমানও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।  

বেঁচে থাকার প্রমাণ হিসাবে এখন আর কোনও পেনশনারকে ব্যাঙ্ক আধিকারিকের কাছেব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এখন তাঁরা আধার-এর বায়োমেট্রিকমঞ্চেই অনায়াসে তাঁদের ‘জীবন প্রমাণ’ দাখিল করতে পারেন।   

তথ্য প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত শ্রম শক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ ও অঙ্গই হলেনদেশের মহিলারা। ডিজিটাল প্রযুক্তি শুধুমার মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত বহু নতুন নতুনশিল্প সংস্থার জন্ম দিয়েছে। এইভাবেই লিঙ্গ ক্ষমতায়নের কাজে সাহায্য করেছে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রটি। 

ভারতের নাগরিকরা এখন আরও বেশি মাত্রায় গ্রহণ করছেন নগদহীন লেনদেনেরপন্থা-পদ্ধতিগুলি। এজন্য আমরা তৈরি করেছি ‘ভারত ইন্টারফেস ফর মানি’ অর্থাৎ ‘ভীম’অ্যাপটি। কম নগদের এক দুর্নীতিহীন সমাজ গড়ে তুলতে এই অ্যাপটি এক সহায়ক ভূমিকা পালনকরে চলেছে।  

সরকারি প্রশাসন ও পরিচালনের বিকাশে প্রযুক্তিগত শক্তি কিভাবে সাহায্য করেচলেছে, আমার দেওয়া এই দৃষ্টান্তগুলি থেকেই তা এখন সুপরিস্ফুট।    

বন্ধুগণ,   

জনঅংশীদারিত্ব অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রশাসনও পরিচালন সংক্রান্ত কাজকর্মকে আরও উন্নত করে তোলার লক্ষ্যে আমরা বর্তমানে ডিজিটালপদ্ধতির আশ্রয় গ্রহণ করেছি। ২০১৪’র মে মাসে যখন আমরা দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলাম,তখন অনেকেই বিশেষত, দেশের তরুণ ও যুবসমাজ তাঁদের মত ও চিন্তাভাবনা বিনিময়েরমাধ্যমে দেশের কাজে অংশগ্রহণের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসকরি যে, কোটি কোটি ভারতবাসীর পরিবর্তন ও রূপান্তরমুখী চিন্তাভবনা ভারতকে এক নতুনউচ্চতায় উন্নীত করতে নানাভাবে সাহায্য করে যাবে।   

এই লক্ষ্যেই আমরা সূচনা করেছি নাগরিকদের জন্য ‘মাই গভ’ পোর্টালটির। বিভিন্নগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নাগরিকদের মত ও চিন্তাভাবনা প্রকাশের একটি মঞ্চ হ’ল এইপোর্টাল। বড় বড় নীতি প্রণয়নের কাজেও হাজার হাজার মূল্যবান মতামত, প্রস্তাব ওপরামর্শ এসে পৌঁছেছে আমাদের কাছে। বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির বহু লোগো এবংপ্রতীকচিহ্ন ‘মাই গভ’ মঞ্চটিতে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জনসাধারণের কাছ থেকে পাওয়া।সত্যি কথা বলতে কি, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের জন্য যে সরকারি অ্যাপটি বেছে নেওয়াহয়েছে, তাও কিন্তু ‘মাই গভ’ মঞ্চটিতে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পাওয়া। দেশের তরুণ ওযুবসমাজের মধ্যে এ ব্যাপারে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি আমরা। প্রযুক্তি কিভাবেগণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে, তার একটি বড় উদাহরণই হ’ল ‘মাই গভ’।  

আরেকটি দৃষ্টান্তের কথা এখন এখানে তুলে ধরা যাক। প্রধানমন্ত্রী পদেদায়িত্বভার গ্রহণ করার পরই আমি অনুভব ও উপলব্ধি করেছিলাম যে, গুরুত্বপূর্ণ বহুসরকারি প্রকল্প ও কর্মসূচি সরকারি কাজকর্মে অহেতুক বিলম্ব এবং কাজের প্রতি অনীহারকারণেই সঠিকভাবে রূপায়িত হচ্ছে না। এমনকি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও এই ধরণেরশ্লথ গতি আমি লক্ষ্য করেছিলাম। আর ঠিক এই কারণেই সাইবার মহাকাশ-ভিত্তিক প্রগতিরমঞ্চটি আমরা উদ্ভাবন করি। সক্রিয় প্রশাসন এবং কর্মসূচির সময়োচিত রূপায়ণের একটিবিশেষ মঞ্চই হ’ল ‘প্রগতি’। হিন্দিতে ‘প্রগতি’র অর্থ হ’ল ‘অগ্রগতি’।    

প্রত্যেক মাসের শেষ বুধবার ‘প্রগতি’র আলোচনা বৈঠকে আমি মিলিত হইশীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে। প্রযুক্তি মানুষেরঅনাগ্রহ কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। আমাদের নিজ নিজ দপ্তরে বসেই সাইবার দুনিয়ারকল্যাণে বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও পরিচালনগত বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা ও সমাধানেরচেষ্টা করি। আমি আপনাদের একথা জানাতে পেরে খুবই আনন্দিত যে, ‘প্রগতি’র মঞ্চেআলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে আমরাদ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাজে সাফল্য লাভ করে চলেছি। কোটি কোটি ডলারবিনিয়োগের যে সমস্ত পরিকাঠামো প্রকল্প দীর্ঘ সূত্রিতার কারণে অচলায়তনে পরিণতহয়েছিল, তা আবার সঠিক রূপায়ণের পথে ফিরে আসতে পেরেছে ‘প্রগতি’র কল্যাণেই।   

আমি নিজেও আমার নিজের জন্য নরেন্দ্র মোদী মোবাইল অ্যাপটি গড়ে তোলার কাজেসচেষ্ট হয়েছিলাম। এর মাধ্যমে নাগরিকদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ এখন নিবিড়তর হয়েছে। এইঅ্যাপটির মাধ্যমে যে সমস্ত পরামর্শ ও মতামত আমি লাভ করে থাকি, তা সত্যিই যথেষ্টকাজের।    

আজ আমরা সূচনা করেছি, ‘উমঙ্গ’ মোবাইল অ্যাপটির। এর মাধ্যমে  ১০০টিরও বেশি নাগরিক-কেন্দ্রিক পরিষেবার প্রসারঘটবে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর এই সমস্ত পরিষেবার যোগান দিয়ে যাবে।আমাদের এই সুসংহত দৃষ্টিভঙ্গী সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির কাজকর্মে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই গতিরসঞ্চার করবে। 

বন্ধুগণ,   

বিশ্ব নাগরিকদের সঙ্গে আমাদের এই সমস্ত অভিজ্ঞতা ও সাফল্য বিনিময়েআমরা  ভীষণভাবে আগ্রহী। অন্যদিকে, ডিজিটালপ্রযুক্তির প্রয়োগ ও ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সঠিক আদর্শএবং উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজে পেতে ভারত বিশেষভাবে আগ্রহী। যাঁরা অন্যভাবে সক্ষম বাকর্মঠ, তাঁদের ক্ষমতায়নের জন্য সাইবার মহাকাশের ব্যবহারে আমরা আগ্রহী। সম্প্রতি ৩৬ঘন্টার এক হ্যাকাথন-এ বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রীদের পেশ করা নানা কঠিন সমস্যারসমাধানের পথ বাতলে দিতে পেরেছেন কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। বিশ্বের অন্যান্য দেশেরঅভিজ্ঞতা এবং শ্রেষ্ঠ পন্থা-পদ্ধতিগুলি জানার জন্য আমরা বিশেষভাবে উৎসুক। কারণআমরা বিশ্বাস করি যে, সকলে যদি এক সাথে এবং এক যোগে এগিয়ে যেতে পারি, তা হলেইউন্নয়ন তথা অগ্রগতির বাস্তবায়ন সম্ভব।  

সাইবার মহাকাশ হ’ল উদ্ভাবন প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। আমাদেরস্টার্ট আপ সংস্থাগুলি বহু দৈনন্দিন সাধারণ সমস্যার সমাধান খুঁজে নিয়ে জনসাধারণেরজীবনযাত্রার মানকে আরও উন্নত করে তোলার কাজে সচেষ্ট হয়েছে। ভারতের স্টার্ট আপপ্রচেষ্টার যে অফুরন্ত সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে, তা স্বীকার করতে বিশ্বের বিনিয়োগকর্তারা যে কোনওভাবেই দ্বিধা করবেন না – এ বিষয়ে আমি দৃঢ় প্রত্যয়ী। তাই, এইক্ষেত্রটিতে বিনিয়োগের জন্য আমি আপনাদের আমন্ত্রণ জানাই। ভারতীয় স্টার্ট আপপ্রচেষ্টার অকথিত কাহিনীর অংশ হয়ে ওঠার জন্য আমি আহ্বান জানাই আপনাদের। 

বন্ধুগণ,   

প্রকৃতিগতভাবে ইন্টারনেট হ’ল অন্তর্ভুক্তিমূলক। সকলের কাছে সমানসুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে পারে ইন্টারনেট। বর্তমান বিশ্বে আলোচনা ও মতবিনিময়েরক্ষেত্রে এক বিশেষ ভূমিকা রয়েছে ফেসবুক, ট্যুইটার এবং ইনস্ট্রাগ্রামব্যবহারকারীদের। সোশ্যাল মিডিয়ার মঞ্চগুলি সাইবার মহাকাশকে সকলের অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে প্রতিনিধিত্বমূলক করে তুলেছে। স্টুডিও থেকে সংবাদ বিশেষজ্ঞরা যে বার্তা পৌঁছেদেন আমাদের কাছে, তাকে অবলম্বন করে নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয় সোশ্যালমিডিয়ায়। বিশেষজ্ঞের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে এই যে পরিবর্তন বা রূপান্তরপ্রক্রিয়া, তা কিন্তু সাইবার জগতেরই এক বিশেষ অবদান। তরুণ ছেলেমেয়েরা তাদেরদক্ষতা, কর্মক্ষমতা এবং সৃজনশীলতা প্রকাশের একটি আদর্শ মঞ্চ রূপে বেছে নিয়েছেইন্টারনেটকে। একটি অন্তর্দৃষ্টিমূলক ব্লগ কিংবা চমৎকার একটি সাঙ্গীতিক সৃজন অথবাএকটি শিল্পকর্ম বা নাট্য প্রচেষ্টা সবকিছুই তুলে ধরার মঞ্চ হ’ল ইন্টারনেট। মেধা ওপ্রতিভা প্রকাশের কাজে ইন্টারনেট কোনও সীমা বা গন্ডীর মধ্যে আবদ্ধ থাকে না।   

বন্ধুগণ,   

আজকের সম্মেলনের বিষয়বস্তু নির্বাচিত হয়েছে – ‘নিরন্তর উন্নয়নের লক্ষ্যেসুরক্ষিত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সাইবার মহাকাশ’। এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে মানবজাতিরস্বার্থে এই একান্ত প্রয়োজনীয় সম্পদটি সুরক্ষিত করে তোলার গুরুত্ব। বিশ্বেরজনসমষ্টিকে এগিয়ে আসতে হবে দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তাকে নিশ্চিতকরে তোলার কাজে। এই লক্ষ্যে তাঁদের হয়ে উঠতে হবে সংকল্পবদ্ধ। সাইবার মহাকাশপ্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নের একটি বিশেষ মঞ্চ বা মাধ্যম রূপে সুরক্ষিতরাখা একান্ত প্রয়োজন। 

এক মুক্ত ও অবাধ ইন্টারনেট ব্যবস্থা অনেক সময় অনেকের কাছে বিশেষ ক্ষতিরওকারণ হয়ে দাঁড়ায়। হ্যাকিং এবং ওয়েবসাইট বিকৃত করার ঘটনা এখন ঘটে চলেছে অহরহ।গণতান্ত্রিক বিশ্বে সাইবার হানাকে একটি বড় ধরণের ঝুঁকি বা হুমকি হিসাবেই দেখা হয়।তাই, সমাজের দুর্বলতর শ্রেণীর মানুষ যাতে সাইবার অপরাধীদের কুচক্রের শিকার হয়ে নাপড়েন, তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কেসতর্ক থাকার বিষয়টিকে আমাদের জীবনযাত্রার একটি অংশ হিসাবে মনে করতে হবে।   

সাইবার হুমকি প্রতিরোধে যোগ্য পেশাদারদের সবদিক দিয়ে প্রস্তুত করে তোলারজন্য প্রশিক্ষণদানের বিষয়টিকে আমাদের বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সাইবারহানা প্রতিরোধে সর্বদাই প্রস্তুত ও সতর্ক থাকবেন আমাদের সাইবার যোদ্ধারা। ‘হ্যাকিং’শব্দটির মধ্যেই সন্দেহের বীজ লুকিয়ে রয়েছে। তাই, সাইবার সুরক্ষার বিষয়টি যাতেদেশের যুবসমাজের কাছে এক আকর্ষণীয় পেশা বা জীবিকার সুযোগ হিসাবে উপস্থাপিত করাযায়, তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।  

ডিজিটাল ক্ষেত্রটি যাতে সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থার ক্রীড়া ক্ষেত্র না হয়ে ওঠে,তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে বিশ্বের সবকটি দেশকেই। সাইবার অপরাধেরপ্রকৃতি ও ধরণ-ধারণ যেভাবে প্রতিনিয়তই বদলে যাচ্ছে, তার মোকাবিলায় নিরাপত্তাসংস্থাগুলির মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয়ের বাতাবরণ গড়ে তোলা একান্ত জরুরি।    

গোপনীয়তা অথচ মুক্ত মানসিকতা এবং অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলিরমধ্যে এক সূক্ষ্ম ভারসাম্য আমাদের রক্ষা করে চলতে হবে। সেইসঙ্গে, একদিকে যেমনআন্তর্জাতিক এবং মুক্ত বা উদার ব্যবস্থার ভেদ ও বৈষম্যকে আমাদের কাটিয়ে উঠতে হবে,অন্যদিকে তেমনই সুনির্দিষ্ট রাষ্ট্র–কেন্দ্রিক আইনি ব্যবস্থাপনার পথও আমাদের খুঁজেদেখতে হবে। 

বন্ধুগণ,  

যে ডিজিটাল প্রযুক্তির আগামীদিনে উদ্ভাবন ঘটতে চলেছে, তা আমাদের ভবিষ্যতেরওপর এমন কিছু প্রভাব ফেলতে পারে, যার কথা বা সম্ভাবনা আমরা এখন কল্পনাই করতে পারিনা। তাই স্বচ্ছতা, গোপনীয়তা, আস্থা এবং নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলিসম্পর্কে আমাদের এখন চিন্তাভাবনা করা প্রয়োজন। মানবজাতির ক্ষমতায়নই ডিজিটালপ্রযুক্তির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তা যাতে অবিকৃত থাকে, তা নিশ্চিত করা আমাদেরদায়িত্ব। 

আজকের এই অনুষ্ঠানে বহু পক্ষের মিলিত অংশগ্রহণ একথাই প্রমাণ করে যে, এইবিশেষ মঞ্চটি ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিশেষ সাড়া জাগিয়েছে। সহযোগিতারভিত্তিতে এক ব্যবহারিক কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন রাষ্ট্র, শিল্প সংস্থা,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সুশীল সমাজের একযোগে এগিয়ে আসা উচিৎ। তা হলেই জীবনযাত্রারমান উন্নত করে তোলার উপযোগী এক সুরক্ষিত সাইবার ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।   

বন্ধুগণ,   

সংখ্যার দিক থেকে এই সম্মেলনটি সম্ভবতঃ এ যাবৎকালের মধ্যে বৃহত্তম একপ্রচেষ্টা। এর উদ্যোগ আয়োজনে যাবতীয় কাজকর্ম সার্বিকভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ডিজিটালপদ্ধতিতে এমন তথ্যও রয়েছে আমার কাছে।   বিশ্বেরবিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে বাধাবিঘ্নহীনভাবে এক বিশেষঅভিজ্ঞতার অংশীদার হবেন বলে আমি মনে করি। 

সম্মেলনের আলোচনা সফল ও ফলপ্রসূ হোক, এই শুভ কামনা জানিয়েই আমি আমারবক্তব্য শেষ করলাম। আমি আরও একবার আপনাদের স্বাগত জানাই এবং এই সম্মেলনেরসর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি। 

  

ধন্যবাদ। 

  

PG /SKD/ SB