পিএমইন্ডিয়া
বিপুল সংখ্যায় আগত কৃষক ভাই ও বোনেরা্ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের সকল বিশিষ্টব্যক্তিবর্গ,
আমি সবার আগে বসন্তদাদা পাটিলের জন্মশতবার্ষিকীর সূচনালগ্নে তাঁকে শ্রদ্ধাজানাই। তিনি সার্বজনিক জীবনে যে মূল্যবোধ স্থাপন করেছিলেন, পাশাপাশি কৃষকদের সমবায়সমিতিগুলিকে আধুনিক করে তুলতে তাঁর দূরদৃষ্টি – যা ভারতের কৃষির ভিত্তিকে মজবুতকরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ভারতের অর্থ ব্যবস্থা মূলত গ্রাম ও কৃষকদেরসঙ্গে যুক্ত। এই সত্যকে তিনি আবিষ্কার করেই নিরন্তর কৃষকদের সমবায়কে শক্তিশালী করেতোলার চেষ্টা করেছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও সংহত ও উপকৃত করেছে।
আমাদের দেশে যে গতিতে কৃষি নিয়ে গবেষণা হওয়া উচিৎ ছিল, আধুনিক বিশ্বেরসঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রযুক্তির ব্যবহার যে হারে বৃদ্ধি পাওয়া উচিৎ ছিল, তা হয়নি।আমরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি। সারা পৃথিবীতে প্রতি একর জমিতে যে হারে আখ চাষ হয়, আমাদেরদেশে সে তুলনায় অনেক কম। কিন্তু বৈচিত্র্যের দিক থেকে আমরা কিন্তু অনেক বেশি এগিয়েরয়েছি। দক্ষিণ ভারতে যে স্বাদের আখ উৎপন্ন হয়, মধ্য ভারতে অন্য রকম আবার উত্তর ভারতে অন্য রকম। সেজন্য একটিনির্দিষ্ট স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বৈজ্ঞানিকরাগবেষণা করলে আমরা অনেক নতুন উদ্ভাবন পেতে পারি। আর যে অঞ্চলের কৃষক যে ভাষা বোঝেন,তাঁদের সঙ্গে সে ভাষায় কথা বলে তাঁদের সমস্যাগুলি বোঝার মতো মানুষ ঐপ্রতিষ্ঠানগুলিতে থাকতে হবে। তাঁদেরকে চাষের ক্ষেতে পৌঁছে যেতে হবে। নতুনউদ্ভাবনকেও প্রয়োগের মাধ্যমে সিদ্ধ করতে হবে। এটা কোনও সামান্য কাজ নয়। আর এর সুফলআমরা বুঝতে পারব। আজ আমি শরদ রাও মহোদয়ের সঙ্গে ফার্মহাউস-এ গিয়ে গোটা বিষয়টিকেবোঝার চেষ্টা করেছি। এগুলি নিয়ে আমার মনে সবসময়ই কিছু জিজ্ঞাসা থাকে। আখের ক্ষেতেসেচের জল পৌঁছনো নিয়ে আমার মনে সর্বদাই একটা উৎকন্ঠা থাকে। কারণ, আখের ক্ষেতে জলটইটুম্বুর ভরে না থাকলে ফলন ভালো হয় না। এই বিষয়টি আখ চাষিদের মনেও গভীর উৎকন্ঠাসৃষ্টি করে।
অনেক বছর আগে, আমি তখন রাজনীতিতে ছিলাম না। ব্যক্তিগত সফরে মরিশাসগিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখি, ‘ফোয়ারা’ সেচের মাধ্যমে সেখানকার ক্ষেতগুলিশস্যশ্যামলা হয়ে উঠেছে। কোথাও ‘ফ্লাড ইরিগেশন’-এর প্রয়োজন পড়েনি। আমি দেশে ফিরেযখন এখানকার কৃষকদের কাছে ঐ অভিজ্ঞতার কথা বলি কেউ আমাকে বিশ্বাস করেননি। আমিআখচাষীদেরও বোঝানোর চেষ্টা করি যে, অতিক্ষুদ্র সেচের মাধ্যমেও আখচাষে ভালো ফলন হতেপারে। কিন্তু আজ আমি অত্যন্ত আনন্দিত; বিশেষ করে, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের মতোরাজ্যগুলিতে জলাভাব থাকা সত্ত্বেও এই দুই রাজ্যের চাষিরা অনেকেই অতিক্ষুদ্র সেচেরদিকে পা বাড়িয়ে লাভবান হয়েছেন। আর যেখানে যেখানে অতিক্ষুদ্র সেচের মাধ্যমে আখচাষকরা হয়েছে, সেখানকার আখের উৎকর্ষ বৃদ্ধি হয়েছে। সেই আখ থেকে তুলনামূলক অনেক বেশিচিনি উৎপাদিত হয়। ফলস্বরূপ, ধীরে ধীরে চিনিকলগুলি এখন কৃষকদের অতিক্ষুদ্র সেচেরপরামর্শ দিচ্ছে।
এখানে যে গবেষণা কেন্দ্র চালু রয়েছে, দুটি জিনিস নিয়ে যদি আমরা কাজ করি তাহলে লাভবান হব। আমি এ বিষয়ে আগে সরকারি কৃষি বিভাগের সঙ্গে কথা বলেছি। বিশ্বেরঅন্যত্র আখের দুটি গাঁটের মধ্যে অনেক ব্যবধান থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে এই দুই গাঁটেরমধ্যে তেমন ব্যবধান থাকে না। সেজন্য আমাদের সুগার কন্টেন্টের ক্ষেত্রে লোকসান হয়।বর্জ্য পদার্থ বেশি পরিমাণে থাকে। আমরা যদি জেনেটিক ইন্টারভেশনের মাধ্যমে দুই গাঁটের মধ্যে ব্যবধান বাড়াতে পারি, তা হলেআমাদের আখে সুগার কন্টেন্ট বৃদ্ধি পাবে। তখন আখ চাষে সেচের জল আরও কম লাগবে। এ বিষয়নিয়ে আমাদের গবেষণা করার প্রয়োজন রয়েছে। আরেকটি ক্ষেত্রে গবেষণার সুযোগ রয়েছে – এব্যাপারে শরদ রাও মহোদয় যদি উদ্যোগ নেন আর এখানকার বৈজ্ঞানিকরা কাজ করেন, সেটা হ’লবাঁশচাষ। বিশ্ব বাজারে বাঁশের চাহিদা ক্রমবর্ধমান। কিন্তু আমাদের দেশে বাঁশেরও ঐএকই সমস্যা। দুই গাঁটের মাঝে ব্যবধান অত্যন্ত কম। সেজন্য বাঁশের মূল্য সংযোজনেরমাধ্যমে যেসব সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপন্ন হয়, সেগুলির মানও খুব একটা ভালো হয় না। গাঁটেরব্যবধান বাড়াতে পারলে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে উৎপাদিত সংশ্লিষ্ট পণ্যেরও উৎকর্ষবাড়বে। এক্ষেত্রে বাঁশচাষে জলের প্রয়োজনও কমবে আর ফলনও বাড়বে। আমি বৈজ্ঞানিক নই।যে জেনেটিক ইন্টারভেশনের কথা বলছি, সেটা আমার সাদামাটা অনুমান থেকে বলছি।বৈজ্ঞানিকরা এ ব্যাপারে অনেক বেশি বলতে পারবেন। আপনাদের এই প্রতিষ্ঠানে আখ ও বাঁশনিয়ে সমান্তরাল গবেষণা চলতে পারে কি না, সেটাও আপনারাই ভালো বুঝবেন। কিন্তু যদিআমরা বিশ্বমানের বাঁশের ফলন নিশ্চিত করতে পারি, তা হলে বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতায়এগিয়ে যাব। কৃষি অর্থনীতিতেও নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।
আরেকটি বিষয় হ’ল – যত দিন যাচ্ছে, কৃষকের জমি কমে যাচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধিরকারণে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে প্রত্যেক পরিবারে জমি বন্টনের ফলে জনপ্রতি জমিকমে যাচ্ছে। দেশের কৃষিও এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কাজেই কৃষকদের পরিস্থিতিবদলাতে হলে হেক্টর প্রতি উৎপাদন ক্ষমতা কিভাবে বাড়াব, সেকথা ভাবতে হবে। নানারকমসার প্রয়োগ করলেই যে হেক্টর প্রতি উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে তার কোনও মানে নেই।বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিই একমাত্র ভারসাম্য রক্ষায় সক্ষম। সৌভাগ্যের কথা যে, দেশেরআখচাষিরা এই বাস্তবটাকে বুঝতে পেরেছেন এবং তাঁরা এখন দু’বার চাষের মাঝখানে অন্যকোনও কিছু চাষ করে যে মাটির শক্তির বৃদ্ধি করা যায়, সেটাও অনুভব করেছেন। বিশেষকরে, ঐ সময় অড়হর ডাল ও মুগডালের চাষ করে তাঁরা উপকৃত হচ্ছেন। ‘বিন্দু জলসেচ’ এবং ‘ফোয়ারা’জলসেচও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে শুধু আখ বিক্রি করে যে রোজগার হ’ত এখন মাঝে ডালের চাষকরায় কৃষকদের সেই আয় বৃদ্ধি হয়েছে। কেউ কেউ আবার দু’বার আখ চাষের মাঝখানে সব্জিকিংবা ফুলের চাষও করছেন। তাঁদেরকে আমি বলছি, আপনারাও ডালের চাষ করুন, তা হলে অনেকবেশি লাভবান হবেন। আজ ভারতে যতটা চাহিদা রয়েছে, তার অনেকটাই বিদেশ থেকে আমদানিকরতে হয়। বাজারে ডালের যে দাম রয়েছে, আপনারা তার সুযোগ নিন। কখনও আখের ফলন কম-বেশিহলে কিংবা চিনির দাম ওঠা-নামা করলে ডাল থেকে পাওয়া লাভ সেটা পুষিয়ে দেবে।
এতদিন আখ চাষের সঙ্গে যুক্ত কৃষকদের ভাগ্যনির্ধারক ছিল চিনিকলগুলি। যেখানেবসন্তদাদা পাটিল, শরদ রাওজির বাবার সময়ে বা তৎকালীন সমবায় নেতা বৈকুন্ঠ রায়মেহতাদের উদ্যোগে সমবায় সমিতিগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, সেখানে তাঁদেরশোষণ হ্রাস করা গেছে। অন্যত্র চিনিকলগুলির ওপর কৃষকদের নির্ভরতা আরও বেশি।বসন্তদাদা পাটিল এবং বৈকুন্ঠ রায় মেহতাদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সমবায় সমিতি গুজরাট ওমহারাষ্ট্রের কৃষকদের ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু বিশ্বেরঅন্যান্য দেশে আখচাষ ভালো হলেই আমাদের দেশের আখচাষিরা মার খান। কারণ, দেশ থেকেচিনি রপ্তানি কমে গেলে কৃষকরা আখের উপযুক্ত দাম পান না। আবার কোনও সময়ে বিশ্ববাজারে আখের উৎপাদন কম হওয়া সত্ত্বেও দেশে খরার কারণে আখ উৎপাদন কম হলেও কৃষকদেরজীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। এই অবস্থায় আমাদের আখচাষিদের জীবনে নিশ্চয়তা আনতে পারেইথানল উৎপাদন।
আজ ভারতের সর্বাধিক বিদেশি মুদ্রা খরচ হয় পেট্রোল, ডিজেল ইত্যাদি আমদানিরজন্য। আমরা আখ থেকে ইথানল উৎপাদনের মাধ্যমে এই আমদানি বাবদ বিদেশি মুদ্রা ব্যয়হ্রাস করতে পারি। বিশ্বে ব্রাজিলের মতো অনেক দেশ ইথানল উৎপাদন বাড়িয়ে তেল আমদানিরখরচ কমাতে পেরেছে। আর পরিবেশ-বান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। ভারতেও আমাদেরউদ্যোগে বিগত দু’বছরে ইথানল উৎপাদন ও বিক্রি তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই উৎপাদন ওবিক্রির ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাফল্য এসেছে ২০১৫-১৬ সালে। তবুও আমি বলব, আমাদেরসামর্থ্য অনুযায়ী এই পরিণাম যথেষ্ট নয়। দেশের আখচাষিদের পরিশ্রমের ফসল আমাদেরউপসাগরীয় দেশগুলি থেকে তেল আমদানির জন্য ব্যয়িত মুদ্রা সাশ্রয়ে আরও সাহায্য করতেপারে। সেজন্য প্রয়োজন যথাযথ নীতি-নির্ধারণের মাধ্যমে, সহায়ক ব্যবস্থার মাধ্যমেমূল্য সংযোজন করে ইথানল উৎপাদন বৃদ্ধি করে আমদানি হ্রাসের মাধ্যমে প্রতিমাসেবিদেশি মুদ্রা সাশ্রয় করতে পারি। এক্ষেত্রে সরকার কিছু ইতিবাচক নীতি-নির্ধারণকরেছে। এই প্রথম দেশে ইথানল উৎপাদনে এমএসপি টাইপ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাতেবাজার মূল্য নিশ্চিত করা যায়। কিছু চিনিকলে ইথানল উৎপাদনের ব্যবস্থা নেই। আমরাতাদের বলেছি, আপনারা অন্য কোনও জায়গা থেকে করিয়ে নিন। সরকার ভর্তুকি দিয়ে দেবে।তবেই আমরা আখচাষ উৎপাদনকে অধিকতম ইথানল উৎপাদনে কাজে লাগাতে পারব। তবেই আখচাষিদেরসাম্বাৎসরিক আয়ের ভারসাম্য আসবে। চিনির দাম পড়ে গেলে বাকি আখ আমরা ইথানল উৎপাদনেরমাধ্যমে চাষিদের আয় সুনিশ্চিত করতে পারব।
আরেকটি ক্ষেত্র হ’ল স্টার্ট-আপ। একথা নিশ্চিত যে, উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেআমাদের অনেক কিছু করতে হবে আজ বিশ্বে চিকিৎসা বিজ্ঞান যেমন সম্পূর্ণভাবেইপ্রযুক্তিনির্ভর, আগামীদিনে কৃষি বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও তেমনই প্রযুক্তি বড় ভূমিকাপালন করবে। সেজন্য আমাদের নবীন প্রজন্মের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তি বিশারদদের স্টার্টআপ-এর মাধ্যমে তাঁদের উদ্ভাবনের ফলিত প্রয়োগের সুযোগ করে দিতে হবে।
বসন্তদাদা পাটিলের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা চিনি উৎপাদন এবং চিনির কয়েকটিউপজাত উৎপাদনের নতুন নতুন যন্ত্র আবিষ্কার হতে দেখেছি। যেমন দুধ থেকে ফ্যাট বেরকরার যন্ত্র, সুগার কন্টেন্ট-এ ফ্যাট ও সুগারের মাত্রা নির্ধারণের যন্ত্র। এইযন্ত্র এখন জনপ্রিয় হচ্ছে। আমাদের নতুন প্রজন্মে মেধাবী ছেলেমেয়েরা এ ধরনের অনেকছোট ছোট যন্ত্র আবিষ্কারের মাধ্যমে দেশকে কৃষিজ উৎপাদনে আধুনিকীকরণের পথে এগিয়েনিয়ে যেতে পারেন। স্টার্ট-আপ’কে গুরুত্ব দিতে হবে। আর স্টার্ট-আপ কৃষিকে যত বেশিগুরুত্ব দেবে দেশে দ্বিতীয় সবুজ বিপ্লব তত ত্বরান্বিত হবে। চাষের ক্ষেত্রের আকারআর নির্দিষ্ট ফসলের উৎপাদনেই কৃষি সীমাবদ্ধ থাকবে না। কৃষি উৎপাদনের প্রকার,জেনেটিক ইন্টারভেনশন, প্রযুক্তি উন্নয়ন, মূল্য সংযোজন এবং বাজারজাত করা পর্যন্তপ্রতিটি পর্যায়কে সরল করার কথা ভাবতে হবে।
সম্প্রতি সরকার প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার মাধ্যমে কৃষকের জন্যসর্বাধিক সুরক্ষিত বিমা প্রকল্প চালু করেছে। মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড প্রকল্পেরমাধ্যমে কৃষকরা নিজেদের চাষের মাটির স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানতে পারছেন। এখন আগেরমতো প্রতিবেশী কৃষকের দেখাদেখি সার কিংবা কীটনাশক ব্যবহার করে অনেক ক্ষেত্রেইক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস হয়েছে। মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ডের মাধ্যমেনিজের ক্ষেতের বিভিন্ন ভাগের মাটির গুণাগুন জেনে সেই অনুযায়ী বীজ বপন করলে ফলনভালো হতে বাধ্য। ডাক্তাররা যেমন আমাদের রক্ত, মল, মূত্র পরীক্ষা করিয়ে তবেইচিকিৎসা শুরু করেন। সারা দেশে মৃত্তিকার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সর্বত্রস্টার্ট-আপ মৃত্তিকা পরীক্ষাগার গড়ে তুলতে হবে। আমাদের কৃষকরাও নিজেদের সমবায়েরমাধ্যমে মৃত্তিকা স্বাস্থ্য পরীক্ষাগার গড়ে তুলতে পারেন। আমাদের কৃষকদেরও প্রতিবছর জমির নানা অংশের মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরই কী চাষ করবেন, সেই সিদ্ধান্তনিয়ে চাষের অনুকূল বীজ বপন করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সেভাবে সাম্বৎসরিক সময়সূচিবানিয়ে কাজ করলে আপনারা অনেক বেশি লাভবান হবে, পরিশ্রম ও বিনিয়োগ মূল্যের সাশ্রয়হবে।
মহারাষ্ট্র সরকার একটি বড় উদ্যোগ নিয়েছে; সৌরবিদ্যুৎ-চালিত পাম্পের প্রচলনবৃদ্ধির মাধ্যমে চাষের খরচ কমানোর অভিযান শুরু করেছে। এতে বিদ্যুৎ এবং জলসেচ বাবদখরচ হ্রাস পাবে। মহারাষ্ট্র সরকারের এই অভিযানে সমবায় সমিতিগুলি যুক্ত হয়ে অভিযানকেদ্রুত জনপ্রিয় করে তুলেছে। ফলে কৃষকদের চাষের খরচ কমবে এবং তাঁরা লাভের মুখদেখবেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, আপনারা এক্ষেত্রে আমার থেকে হাজার গুণ অভিজ্ঞ। আমিলক্ষ্য করেছি যে, রাজনৈতিক তৎপরতা শরদ রাওজিকে যতই ব্যস্ত রাখুক না কেন, কৃষকদেরকথা উঠলে তিনি দ্রুত সক্রিয় হয়ে এই কাজকে অগ্রাধিকার দেন। তাঁর এই ঐকান্তিকতাকেআমি সম্মান জানাই। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি একজন রাজনীতিবিদ এবং জনপ্রতিনিধিহিসাবে ৫০ বছর পূর্ণ করবেন। বিগত ৫০ বছর ধরে একবারও পরাজিত না হয়ে জনপ্রতিনিধিত্বকরার জন্য তাঁকে আমি শুভেচ্ছা জানাই। কিরকম জীবনযাপন করলে ৫০ বছর ধরে মানুষেরবিশ্বাস অটুট থাকে, শরদ রাওজি তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
এমনিতে আমাদের দেবেন্দ্র ফড়নবীশজির নাগপুর পৌরসভায় নির্বাচিত হয়ে আসারসময়কে ধরলে তিনিও একটানা প্রায় ২৫ বছর ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। কিন্তু শরদরাও বিধায়ক কিংবা সাংসদ হিসাবে একটানানির্বাচনে জিতে আসছেন বিগত ৫০ বছর ধরে। সার্বজনিক জীবনে এই ঘটনা দৃষ্টান্তস্বরূপ,পুঁজিস্বরূপ। আমি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম তাঁর আঙুল ধরে চলতে শিখেছি।সর্বসমক্ষে একথা বলার সুযোগ পেয়ে আমি গর্ব অনুভব করছি। আর আমি মানি যে, সার্বজনিকজীবন, রাজনৈতিক জীবন জনহিতে সমর্পিত হওয়া উচিৎ।
ভাই ও বোনেরা, এই বিষয় থেকে সরে গিয়ে আমি একটি কথা বলতে চাই। গত ৮ তারিখসন্ধ্যা আটটায় আমি জানতাম যে, আমাদের শত্রু দেশ আমাদের অর্থ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করারজন্য নিজেদের দেশের নোট যত ছাপে তার থেকে বেশি আমাদের নকল নোট ছাপে। আর তারা নকশালবাদীও অন্যান্য বিচ্ছিন্নবাদী সন্ত্রাসবাদীদের হাতে গোপনে জালনোটগুলি পৌঁছে দিচ্ছে।এভাবে বড় নোট বাজারে অসীমিত হয়ে পড়েছে। এই জালনোটের প্রবাহকে ছিন্ন করা জরুরি হয়েপড়েছিল। সেজন্য সরকার ১,০০০ এবং ৫০০ টাকার নোট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্যহয়েছে। দেশের মানুষ এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন। সেজন্য আমি জনগণের কাছেকৃতজ্ঞ। কিন্তু সারা দেশে সুপরিকল্পিতভাবে একটি গুজব রটানো হচ্ছে। এখানে বিপুলসংখ্যায় উপস্থিত কৃষকদের সামনে এটি পরিষ্কার করতে চাইছি। বলা হচ্ছে যে, ৫০০ ও১,০০০ টাকার নোট বাতিল হওয়ায় আপনাদের যে রক্তজল করা অর্থ আপনারা ব্যাঙ্কে জমা করতেবাধ্য হয়েছেন, তার ওপর মোদী এখন কর চাপাবে!
আমার কৃষক ভাই ও বোনেরা, আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন! এই দেশ আপনাদের, এই টাকা আপনাদেরপরিশ্রমের রোজগার, এই ব্যাঙ্কগুলি আপনাদের আর মোদীও আপনাদের – নিশ্চিন্তে থাকুন!গত ৮ তারিখ আমি দেশের মানুষের কাছে ৫০ দিন সময় চেয়েছি। এত বড় পরিবর্তনেরপ্রক্রিয়ায় সময় লাগে। ১৯৭৮ সালে যখন জনতা পার্টির সরকার ছিল, তখন মোরারজি ভাইদেশাই ১,০০০ টাকার নোট বাতিল করেছিলেন। আমি প্রথম এই কাজ করিনি। তারপর ইউপিএ সরকার২৫ পয়সার মুদ্রা বাতিল করেছিল। সেটা আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে। কিন্তু মোরারজি ভাই১,০০০ টাকার নোট বাতিল করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক মোট ১৪৫ কোটিটাকা মূল্যের ১,০০০ টাকার নতুন নোট ছেপেছিল। আর তার মধ্যে ৮০ কোটি টাকা মূল্যের১,০০০ টাকার নোট জনগণের হাতে ছিল। বাকি ৬৫ কোটি টাকা মূল্যের ১,০০০ টাকার নোটব্যাঙ্কেই ছিল। কিন্তু এখন জনগণের হাতে প্রায় ১৪ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের ৫০০ ও১,০০০ টাকার নোট আছে। কোথায় ১৪৫ কোটি টাকা আর কোথায় ১৪ লক্ষ কোটি টাকা। সমাজবিরোধী আর দুর্নীতিবাজরা এর এই প্রাচুর্যের সুযোগ নিয়েছে। তাই, একে শিকড় পর্যন্তউপড়ে না ফেললে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করা যাবে না। আর সেজন্যইআমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমি কখনোই দাবি করব না যে এত বড় পরিবর্তনে কোনও অসুবিধাহবে না। কষ্ট হবে, কিন্তু ৭০ বছর ধরে যে রোগ আপনাদের কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে, তানিরাময়ের পথ খুলে যাবে। গরিব, মধ্যবিত্ত মানুষ গর্বের সঙ্গে মাথা উঁচু করে বাঁচতেপারবেন। আমি এই সংস্কার অভিযানের ফলে দেশবাসীর শত অসুবিধা সত্ত্বেও সহযোগিতাপ্রার্থনা করি। কারও কারও অসুবিধা অনেক বেশি হবে। তারা না জানি কী কী করবে! কিন্তুতাদের জন্য আমার এত চিন্তা নেই। আমার চিন্তা সাধারণ নাগরিকদের জন্য।
আর আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, ৫০০ টাকার নোট থেকে কাউকে ৪৯৯ টাকা দেওয়ারপ্রয়োজন নেই। আপনার ৫০০ টাকায়, ১০০ টাকায় সম্পূর্ণ মূল্য পাওয়ার অধিকার আপনাররয়েছে। ব্যস, আমি ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫০ দিন সময় চেয়েছি। সরকারি ব্যবস্থা দ্রুতগতিতেনিজেদের কাজ করছে। হ্যাঁ, এই ঘোষণা আমি ৮ তারিখের আগেই করতে পারতাম না। তা হলেবিষয়টা গোপন থাকত না। আর গোপন না থাকলে যারা টাকার বাদশাহ্, যাদের ঘরে বস্তাবস্তা ৫০০ আর ১,০০০ টাকার নোট রয়েছে, তারা কেল্লা ফতে করে দিত। আমি তো গরিবেরজনপ্রতিনিধি, সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়ছি। এই কষ্ট হবে জানতাম।তবু আমার দৃঢ় বিশ্বাস, দুর্নীতি দমনের এই লড়াইয়ে দেশবাসী আগামী ৩০ ডিসেম্বরপর্যন্ত একটু কষ্ট সহ্য করে আমাকে সাহায্য করুন। দেশের শুচিতা ও শুদ্ধিকরণের এইপর্বে আপানাদের সহযোগিতা চাই।
এই প্রত্যাশা নিয়ে আরেকবার বসন্ত রাও দাদাকে অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই।প্রণাম জানাই। শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করি। এই শতবার্ষিকীতে কৃষকদের জীবনে পরিবর্তনআনতে, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাকে বেছে নেওয়ার জন্য আপনাদের শুভেচ্ছা জানাই। এইউপলক্ষে এখানে আসার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমাকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য,আমি শ্রদ্ধেয় শরদ রাও মহোদয়কে হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
PG /SB/ SB…
We are talking about sugar but I also add- let us think about bamboo and how research will help our farmers: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2016
Let us think of globally competitive bamboo products: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2016
Important to think about higher land productivity: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2016
We have a requirement of pulses. Can we think about pulses in addition to sugar? There is an assured market for pulses: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2016
We cannot ignore the global economy when we are looking at the sugar industry: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2016
Farmers are misled that Modi will tax you. I assure my farmer sisters and brothers, no one will tax you. This nation belongs to you: PM
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2016