Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

পুণেতে স্মার্ট সিটি মিশন প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

পুণেতে স্মার্ট সিটি মিশন প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

পুণেতে স্মার্ট সিটি মিশন প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


এটা ভাবা ঠিক নয় যে আমাদের দেশে আগে কোনও কাজ হতো না। এমন নয় যে পূর্ববর্তী সরকারগুলি বাজেটে বরাদ্দ টাকা ব্যয় করত না। কিন্তু তারপরেও বিশ্বের অনেক দেশ আমাদের পর স্বাধীন হয়েছে, অত্যন্ত দরিদ্র অবস্থা থেকে দ্রুত উন্নয়ন ঘটিয়ে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক দেশ হয়ে উঠেছে। এত কম সময়ে বিশ্বের অনেক দেশের আমাদের থেকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে পড়ার কারণ কি, সেটা আমরা কখনও ভেবেছি? এসব কথা আমি প্রায়ই ভাবি আর এই বিষয়ে নিরন্তর আলাপ-আলোচনা করি। অগ্রজদের অভিজ্ঞতার নিরিখে বিচার-বিশ্লেষণও করি। ফলস্বরূপ আমি এটা বুঝেছি, আমরা যাঁরা সরকারের দায়িত্বে রয়েছি, লক্ষাধিক আধিকারিকের অধীনে যে বিরাট আমলাতন্ত্র চলছে, পঞ্চায়েত প্রধান থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত যাঁরা কাজ করছেন, গ্রামের পাটোয়ারি থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভার সচিব পর্যন্ত যাঁরা রয়েছি, আমাদের সকলের চেয়ে স্মার্ট হলেন এদেশের নাগরিকবৃন্দ।

একবার যদি এদেশে ১২৫ কোটি নাগরিকের শক্তিকে জাগ্রত করে দেওয়া যায়, তাঁদেরকে ভালো কাজে লাগিয়ে দেওয়া যায়, তা হলে কোনও সরকারের প্রয়োজন পড়বে না। এই দেশ নিজে নিজে আগের থেকে অনেক বেশি গতিতে চলতে শুরু করবে, সেই উদ্দেশ্য মাথায় রেখেই এই স্মার্ট সিটি প্রকল্প। স্মার্টসিটি স্থাপনের জন্য কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে, তার থেকে অনেক বড় কথা এটি ইতিমধ্যেই একটি গণআন্দোলনে পর্যবসিত হয়েছে। এ যেন বিগত দিনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গঠনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছি আমরা। আর আমি অনুভব করছি এই প্রচেষ্টা সফল হচ্ছে। গোড়ার দিকে যখন আমাদের সচিব মশাই এ বিষয়ে কথা বলতে আসতেন, ভেঙ্কাইয়াজীর সঙ্গে তাঁর দপ্তরে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা আলাপ-আলোচনা করতেন, তখন আমরা কেউই স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছিলাম না, এই স্মার্টসিটির রূপরেখা কেমন হবে। আমাদের দেশ এমনই যে একই শহরে পথের একপাশে কাজ হলে আরেক পাশের বাসিন্দারা আন্দোলনে নেমে পড়েন, আগে আমাদেরটা কেন করা হয়নি? সেজন্য যে কোনও শহর নির্বাচন করার সময়ে আপনার মাথায় যতই উন্নয়ন চিন্তা থাকুক না কেন, সেই উদ্যোগ অন্য অনেকের মনে অসন্তোষের জন্ম দেয়।

একটু আগেই জয়পুর এবং উদয়পুরকে বেছে নেওয়ার জন্য বসুন্ধরাজী আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, ভেঙ্কাইয়াজীও আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। কিন্তু আমি বসুন্ধরাজীকে বলতে চাই যে, আমরা বেছে নিইনি। আপনারা এই অভিনন্দন ফিরিয়ে নিন। অভিনন্দন জানান, জয়পুর এবং উদয়পুরের জনসাধারণকে। তাঁরা এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন। স্মার্টসিটি গঠনের শর্তাবলী তাঁরা পূরণ করেছেন, সেজন্য অনেক কষ্ট স্বীকার-ও করেছেন। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তাঁদের করণীয় দায়িত্ব তাঁরা পালন করেছেন।

ইতিমধ্যেই দেশে ২০টি শহরকে স্মার্টসিটি হিসেবে গড়ে তোলার কাজের পরিকাঠামো গড়ে উঠেছে। কিছু কিছু কাজ শুরুও হয়ে গেছে।

অনেক কাজ, একটু আগেই ভেঙ্কাইয়াজী বলছিলেন, কত দ্রুতগতিতে কাজ এগোচ্ছে। এর মূল কারণ হল – ঐ কাজে যাঁরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং তাঁদের অধীনে পৌরসভার যে কর্মচারী ভাই-বোনেরা প্রতি মূহুর্তে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, আর ঐ শহরগুলির সচেতন নাগরিকবৃন্দ, সকলের সমবেত চেষ্টায় প্রত্যেকের মনের ইচ্ছাশক্তি জেগেছে যে এবার আমাদের শহরকে ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ শহর গড়ে তুলে তারপর থামবো।

দেশ হিসেবে আমরা পিছিয়ে আছি, আমরা গরিব। কিভাবে পিছিয়ে পড়ব, তার পথ খোঁজা হতো। কিন্তু বর্তমান সরকার এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু করে দিয়েছে।

আমি আজ এই মঞ্চ থেকে কয়েকটি সংবাদ-মাধ্যমকে অভিনন্দন জানাতে চাই। বেশ কিছু খবরের কাগজ এই কাজকে মিশন হিসেবে গ্রহণ করে তাঁদের খবরের কাগজের মাধ্যমে শহরের নাগরিকদের সচেতন করে তোলার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। মাইশোর পরিচ্ছন্নতার পুরস্কার পেলে ব্যাঙ্গালোরে ঝড় ওঠে, ব্যাঙ্গালোর কেন পেছনে রয়ে গেল? খবরের কাগজে সম্পাদকীয় লেখা হয়, ব্যাঙ্গালোরবাসী উদ্ভূদ্ধ হয়ে তাঁদের শহরকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দেশের সর্বত্র এরকম পরিবেশ গড়ে উঠেছে। আপনারা এই উন্নয়নযাত্রাকে গণঅংশীদারিত্বের মাধ্যমে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যান।

আজ তেমনই পুণে শহরে একটি নতুন কর্মযজ্ঞের সূচনা হল। পুণে কেমন হবে, তা দিল্লির মানুষ ঠিক করবেন না, পুণের জনগণকেই ঠিক করতে হবে। ভুবনেশ্বর কেমন হবে, তার কোন্‌ কোন্‌ গলিকে প্রশস্ত করতে হবে, কোন্‌ কোন্‌ পথে ফুটপাথ গড়ে তুলতে হবে, কোন্‌ পথ দিয়ে সাইকেল যাবে, কোন্‌ পুকুরে সৌন্দর্যায়নে ফোয়ারা লাগানো হবে, হাসপাতাল কোথায় হবে, পার্কিং কোথায় হবে, তা ভুবনেশ্বরবাসীদেরই ঠিক করতে হবে। ওয়েবসাইটে যোধপুরের উন্নয়নের কথা পড়ে ভুবনেশ্বরবাসীদের মাথায় নতুন কোনও ভাবনা জাগতে পারে, যা ভুবনেশ্বরের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। এভাবেই দেশের উন্নয়নে জনগণের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে একটি ‘ট্যালেন্ট পুল’ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালাচ্ছি আমরা। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে কাজে লাগবে।

পরিচ্ছন্নতা ইতিমধ্যেই আমাদের দেশে একটি জনপ্রিয় বিষয় হয়ে উঠেছে। একটা সময় ছিল যখন সরকারের সেই প্রকল্পগুলি জনপ্রিয় হতো যেগুলিতে সরকারের রাজকোষ থেকে বেশি বরাদ্দ থাকতো, কারও কারও পকেট ভারী হতো, হাতে গোনা কয়েকটি গ্রামের উন্নয়নও হতো। তখনই মানুষ বলতেন, এটা অনেক জনপ্রিয় প্রকল্প।

এই প্রথমবার এই ধারনায় পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি। এখানে প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ ছাড়া কিছুই দিচ্ছে না, যা করার সবই জনগণ করছেন। যে কোনও পরিসংখ্যান দেখে নিন, বেশ কিছু সংবাদ-মাধ্যম সমীক্ষা চালিয়েছে। প্রত্যেকের সমীক্ষাতেই এই পরিচ্ছন্নতার আন্দোলন অগ্রাধিকার পেয়েছে। তার মানে যে ধারণা ছিল প্রাপ্তিযোগ হলেই জনগণ কোনও প্রকল্পকে পছন্দ করেন, এই প্রথমবার তা ভুল প্রমাণিত হল। এই পরিচ্ছন্নতার অভিযানের সাফল্য জনগণের সেই মেজাজের প্রতিবিম্ব।
আপনারা যদি আগেকার খবরের কাগজের প্রকাশিত নিবন্ধগুলি পড়েন, নগরায়ন সম্পর্কিত বিচার-বিশ্লেষণগুলি দেখেন, তা হলেই বুঝবেন, নগরায়ণকে এতদিন একটি বড় সঙ্কট মনে করা হতো। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত ছিল না। আমরা নগরায়ণকে সমস্যা বলে মনে করি না। আমরা একে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছি। সঙ্কট ভাবলে তা সমাধানের জন্য দুশ্চিন্তা করতে হবে। জল কিভাবে পৌঁছবে, বিদ্যুৎ কিভাবে পৌঁছবে, ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার জন্য বিদ্যালয় কোথায় গড়ে উঠবে – এসব চিন্তা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আমরা সেপথে না হেঁটে নগরায়নকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছি। ২০১৬ সালে আমাদের পুণে শহর যেরকম রয়েছে, ২০২৫ সালে আমাদের প্রয়োজন অনুসারে আমাদের শহর কেমন হয়ে উঠবে, সেই পরিকল্পনা করে আমরা যদি উন্নয়নের গতিকে নিয়ন্ত্রিত করি, বৈজ্ঞানিক উপায়ে নিকাশী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি, পরিকল্পিতভাবে নগরোন্নয়নের কাজ করি, তা হলে এই কর্মযজ্ঞ কখনই কারও মাথাব্যথার কারণ হবে না।

প্রত্যেক শহরেরই একটা শক্তি থাকে। আমাদের অর্থনীতিবিদরা একে ভিন্নভাবে দেখেন, তাঁরা বলেন ‘গ্রোথ সেক্টর’। আমি একে অন্যভাবে দেখি। আমি বলি, দারিদ্র্য দূরীকরণে সর্বাধিক শক্তি রয়েছে শহরের আস্তিনে। শহর দরিদ্রদের আশ্রয় দিতে পারে বলেই যেসব অঞ্চলে দারিদ্র্য বেশি, সেসব অঞ্চলের নিকটবর্তী শহরগুলিতে তাঁরা কাজের আশায় ভিড় জমান। শহরে গেলেই কোনও না কোনও কাজ পাওয়া যাবে বলে নিশ্চিন্ত থাকেন। দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন সংস্থানের পর ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়া আর বাবা-মা’কে ৫০-১০০ টাকা পাঠাতে পারার ক্ষমতাই তাঁদেরকে শহরের দিকে টেনে আনে। আমাদের দায়িত্ব সেই শহরগুলিকে আরও শক্তিশালী করে তোলা, সামর্থ্যবান করে তোলা, যাতে সেগুলি আরও বেশি গরিব মানুষকে কর্মসংস্থান যোগাতে পারে। এভাবেই আমরা উন্নয়নের কথা ভেবেছি।

প্রত্যেক শহরের বাড়ি-ঘর এবং পথের মাপ নেওয়া সম্ভব নয়। প্রত্যেক শহরের একটি নিজস্ব সৌন্দর্য, নিজস্ব আত্মা এবং নিজস্ব পরিচয় থাকে। আমরা যখন স্মার্টসিটির কথা বলি, তখন সেই শহরের নিজস্ব সৌন্দর্য, নিজস্ব আত্মা এবং পরিচয়কেই আরও বেশি শক্তিশালী করে তুলতে সেই শহরের জনগণের পরামর্শ নিই। যেমন – জয়পুর এমন স্মার্টসিটির কল্পনা করেছে, যেখানে জয়পুরবাসী একটি রাত্রিব্যাপী ঐতিহ্যযাত্রার পরম্পরা গড়ে তুলতে চায়। এরমানে পর্যটকরা এলে তাঁরা যাতে রাতে শহরটি ঘুরে দেখতে পারেন। এবার সেই সময় যদি শহরের সবাই ঘুমিয়ে থাকেন আর সমস্ত বাড়ি-ঘরের দরজা বন্ধ থাকে, তা হলে পর্যটকরা এই ঐতিহ্যযাত্রায় কি মজা পাবেন? সেজন্য রাতের জয়পুরের জন্য বিশেষ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং পর্যটক-বান্ধব অনেক কিছু নতুন করে গড়ে তোলার কথা ভাবা হয়েছে। তার মানে পর্যটকরা যে শহরে রাত্রি ভ্রমণ করেও জয়জয়কার করবেন, সেই শহরকে জয়পুর নামে মনে রাখবেন।

বেনারস তীর্থক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। কিন্তু, ভারতের এমন কোনও মহিলা নেই, যিনি বেনারসী শাড়ি সম্পর্কে জানেন না। প্রত্যেক শহরের একটি নিজস্ব পরিচিতি থাকে। সেজন্য একবিংশ শতাব্দীতে আমরা কিভাবে সেই পরিচিতিকে নতুন ঔজ্জ্বল্য সংযোগ করতে পারি, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে কিভাবে সাজাতে পারি, যাতে আত্মা অবিনশ্বর থাকবে, কিন্তু এক নতুন পরিচয় গড়ে উঠবে। ‘স্মার্ট সিটি’ বলতে আমি বড় বড় দালানবাড়ি বুঝি না, পরিবর্তিত জীবনযাত্রার অনুকূল পরিষেবাকে গতিশীল করে তোলা বুঝি। ন্যূনতম অপচয় বুঝি।

আজ প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের দ্বারা, যে কেউ নিজের স্মার্ট মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই কিভাবে সকল পরিষেবা পেতে পারেন, তা নিয়ে ভাবতে হবে। আমরা চন্দ্রবাবু নাইডুজীর কথা শুনছিলাম, কিভাবে তিনি ডিজিটাল দুনিয়াকে জনসাধারণের কাজে লাগিয়েছেন। আজ পুণে শহরের যে পরিকল্পনা উদ্বোধন হল, সেখানে এই ডিজিটাল দুনিয়াকে জনসাধারণের কাজে লাগানোর নানা পদ্ধতি সংযুক্ত হয়েছে।

ইতিমধ্যেই গোটা দেশে এল ই ডি বাল্ব অভিযান শুরু হয়েছে। আমাদের দেশে কোনও সরকার যদি বলে যে, আগামীদিনে ১ লক্ষ কোটি টাকা শক্তি উৎপাদনে ব্যয় করব, ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করব, তা হলে তিনদিন ধরে দেশের সকল খবরের কাগজে শিরোনামে এই খবর ছাপা হবে, দেশবাসী অত্যন্ত আনন্দিত হবেন। কিন্তু এটা ভেবে দেখেছেন কি, এই এল ই ডি বাল্ব অভিযান যেদিন সারা দেশে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে, তখন প্রতিদিন সারা দেশে ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। ফলে, আমার দেশের গরিব মানুষের ১ লক্ষ কোটি টাকাসাশ্রয় হবে।

আমরা কোন্‌ পদ্ধতি অবলম্বন করবো? পুণে শহরে ইতিমধ্যেই সৌরশক্তি অভিযান চলছে, কয়েকটি সৌর প্রকল্প ইতিমধ্যেই সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছে, গোটা শহরে বাড়ির ছাদের ওপর সৌরশক্তি প্যানেলগুলি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, এভাবেই পরিবর্তন আসে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা খণ্ডিত দৃষ্টি দিয়ে কোনও জিনিস নিয়ে ভাবি ততক্ষণ পরিবর্তন আসে না। একটি সংহত ব্যবস্থাপনা চাই, পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত এবং নির্দিষ্ট ফলদায়ক।

আমরা পরিচ্ছন্নতার কথা বলি, প্রশ্ন ওঠে জমির দাম কত বেড়ে গেছে। আবর্জনা কোথায় ফেলব? আবর্জনা ফেলতে শহরের বাইরে যেতে হবে, কতদূর যাব? পরিবহণের খরচ কত হবে? আমরা অন্যরকম ভেবেছি। বর্জ্য থেকে সম্পদ গড়ে তোলার কথা ভেবেছি। শহরের আবর্জনা থেকে কম্পোস্ট সার উৎপাদনের কথা ভেবেছি। যে কৃষক সেই সার কিনবেন, তাঁদের জন্য ইউরিয়ায় যেমন ভর্তুকি দেওয়া হয়, তেমনই ভর্তুকি দেওয়া হবে। কারণ, রাসায়নিক সার কৃষকের কৃষিভূমি সর্বনাশ করে দিচ্ছে। আমাদের দেশের মাটির সর্বনাশ হচ্ছে। তাকে বাঁচানোর কথা ভাবতে হবে। শহর পরিস্কার এবং কম্পোস্ট সার উৎপাদন একসাথে হলে যে পরিস্থিতি হবে, তাকে উইন উইন পরিস্থিতি বলা যেতে পারে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেও প্রত্যেক নগরপালিকা ও মহানগরপালিকা অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। সেই অর্থ নগরের উন্নয়নে কাজে লাগানো যেতে পারে।

আজ অধিকাংশ শহরে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পানীয় জলের সংকট রয়েছে। কখনও তো আমাদের সংবাদ-মাধ্যমে এই বিষয়গুলিকে এতদূর নিয়ে যায় যে, ক্রিকেট মাঠে জল দিলে শহরে জলসংকট বাড়বে। কোনও ক্রিকেট ম্যাচ বন্ধ করে দিলে কেমন করে জল সাশ্রয় হবে? যে শহরে ক্রিকেট স্টেডিয়াম রয়েছে, সেখানে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট খেলতে হলে ৩৬৫ দিন মাঠে জল দিতেই হবে। তবেই মাঠ সবুজ থাকবে, না হলে সেই স্টেডিয়ামে আগামী দু’বছরেও আন্তর্জাতিক মানের খেলা সম্ভব হবে না। এখন সংবাদ-মাধ্যমে কেউ কেউ না জানি কোথা থেকে বড় বড় দার্শনিক কথাবার্তা লিখে দেন। এবার সংবাদ-মাধ্যমের এই তৎপরতায় মহারাষ্ট্রের অনেক ক্ষতি হয়েছে। কঠিন বর্জ্যের পাশাপাশি তরল বর্জ্যকে বিশুদ্ধিকরণের মাধ্যমে কিভাবে আমাদের বাগান ও চাষের ক্ষেতে সেচের কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে। দেশের সর্বত্র পানীয় জলের মান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত মানের কেন হবে না? আমরা চেষ্টা তো শুরু করি, ১-২-৫-৭ লিটার করে আন্তর্জাতিক মানের বিশুদ্ধ জল সরবরাহের ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার চেষ্টা করি।
আমরা প্রত্যেক পরিবারকে নিজস্ব বাড়ি দিতে চাই। যাঁরা পুণে শহরের বস্তিগুলিতে বসবাস করেন, তাঁদের জন্য আবাসন প্রকল্প রয়েছে। তাঁরা যাতে সেই আবাসনে শহরের সকল সুযোগ-সুবিধা পান, সেই পরিষেবা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। বাড়ি বলতে আমরা শুধু চার দেওয়াল আর মাথার ওপর ছাদ বুঝি না, নিজের বাড়ি জীবনকে একটি নতুন মাত্রা এনে দেয়। জীবনে একটি নতুন অভিব্যক্তি গড়ে ওঠে। যে পরিকল্পনায় ১২৫ কোটি দেশবাসীর অভিব্যক্তি প্রকাশ পাবে না, তাকে আমি পরিকল্পনা বলেই মনে করি না। যে কোনও পরিকল্পনায় দেশের মানুষের বৈচিত্র্যময় অভিব্যক্তি প্রকাশ পেলে তবে তা নিজে থেকেই দেশের বিশালতা এবং ভদ্রতার দামামা বাজাতে সক্ষম হয়।

এখন প্রতিযোগিতার যুগ, আমি দেশের সবকটি শহরকে এই প্রতিযোগিতায় সামিল হওয়ার আমন্ত্রণ জানাই। প্রত্যেক নগরের বাসিন্দারা এই প্রতিস্পর্ধায় অংশগ্রহণ করুন। গণসংকল্পের মাধ্যমেই গণঅংশীদারিত্ব গড়ে উঠবে। আমি যখন ‘mygov.in.’ –এ জনগণের থেকে পরামর্শ আহ্বান করেছিলাম, আপনারা শুনলে অবাক হবেন, দেশের ২৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ গুরুত্বপূর্ণ সব উপদেশ পাঠিয়েছেন। সরকার সেই ২৫ লক্ষ মানুষের উপদেশ নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে বাধ্য হয়েছে। এভাবে যত বেশি গণঅংশীদারিত্ব বাড়বে ….. আমি কিছুদিন আগে ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে বলেছিলাম, আমাদের রেল স্টেশনগুলিতে পার্শ্ববর্তী গ্রামের পরিচিতি কেন থাকবে না, ইংরেজরা যখন আমাদের রেল স্টেশনগুলি বানিয়েছিল, তখন তারা পিজা হাউসের মতো করে বানিয়েছিল। আমেরিকায় আপনারা যে কোনও প্রান্তে যান, সর্বত্র এক ধরনের পিজা হাউস দেখতে পাবেন, আমাদের রেল স্টেশনগুলিও তেমনই এক ধরনের দেখতে পাবেন, একই ধাঁচে তৈরি। অথচ, ভারত একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। সেদেশের প্রত্যেক রেল স্টেশনে সেই অঞ্চলের বৈচিত্র্যের ছাপ থাকা উচিৎ। আমি পুরনো দেওয়াগুলি ভেঙে ফেলার কথা বলছি না। সেগুলির রং-রূপ বদলে শহরের পরিচিতি গড়ে তুলতে বলছি। আমার এই আহ্বান শুনে কয়েক মাসের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা, বিভিন্ন নগরের শিল্পীরা, অঙ্কন প্রশিক্ষকরা স্থানীয় রেল স্টেশনগুলির দেওয়ালগুলিতে অসাধারণ শিল্প-সুষমায় ভরিয়ে দেন। এজন্য তাঁরা সরকারের কাছ থেকে এক টাকাও নেননি। অথচ, সেই রেল স্টেশনগুলিতে গেলে আপনারা দেওয়ালগুলিতে সেই অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য প্রত্যক্ষ করবেন।

আজ দেশের মানুষ পরিবর্তন চান। দেশবাসী পরিবর্তন যজ্ঞে সামিল হতে চান, এই আকাঙ্খা থেকেই গড়ে উঠেছে স্মার্টসিটি প্রকল্প। কেউ কেউ স্মার্ট শব্দটি শুনলেই বিরক্ত হন। কিন্তু আমার স্মার্টের কল্পনা অত্যন্ত সরল। সাধারণ মানুষ যথেষ্ট পরিমাণে বিশুদ্ধ পানীয় জল পাবেন, কোনও আবাসনের গোড়ার দিকের বাড়িগুলিতে যে মানের জল সরবরাহ হবে প্রান্তিক বাড়িগুলিতেও একই মানের বিশুদ্ধ জল সরবরাহ হোক। সবাই সমান মাত্রায় বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ পাক। উন্নয়ন হোক পরিবেশ-বান্ধব, সবুজময়। প্রত্যেক শহরে গরিব মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষমতা বাড়লে তবেই উন্নয়ন সার্থক। তবেই অর্থনৈতিক অগ্রগতি হবে। যিনি দু’বেলা সুখে দু’মুঠো খেতে পান, তিনিই অতিথিদের খাওয়াতে পারেন। শহরের আর্থিক সমৃদ্ধি হলে তবেই শহর সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের গরিবদের আশ্রয় দিতে সক্ষম হবে। এভাবেই গণঅংশীদারিত্বের মাধ্যমে নতুন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

কয়েকদিন আগে কী কী কাজ হয়েছে আমি তার পর্যালোচনা করছিলাম। আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, সাধারণ মানুষের ওপর ভরসা করে যে কর্মযজ্ঞ শুরু হয়, তার শক্তি দেখে আমি অবাক হয়ে গেছি। উদাহরণস্বরূপ – এই স্মার্টসিটির কথাই যদি বলি, এখানে এত মানুষ কাজ করছেন, এত বিশেষজ্ঞ যুক্ত রয়েছেন, কেউ আর আগের মতো দরপত্রের অপেক্ষায় থাকেন না, সকলেই কাজ করার জন্য ব্যগ্র, সকলেই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে চান। গোটা পরিবেশটাই বদলে গেছে। সেজন্য আমি আরেকবার শ্রদ্ধেয় শ্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডু এবং তাঁর পুরো টিমকে অনেক ধন্যবাদ জানাই, কৃতজ্ঞতা জানাই, পুণে শহরের নাগরিকদের অভিনন্দন জানাই। আপনারা মনে রাখবেন, কেবল দেড় নম্বরের জন্য আপনারা দ্বিতীয় স্থানে রয়ে গেছেন। না হলে আপনারা ভুবনেশ্বরের জায়গায় থাকতেন। দেখুন, কত ভালো প্রতিযোগিতা চলছে। আগামীবার আমি যখন পুণেতে আসব, আমি দেখতে চাই, আগামী যে কোনও প্রতিযোগিতায় আমাদের পুনে প্রথম স্থান অধিকার করবে। ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের ঐতিহ্যধারী, লোকমান্য তিলক সাহেবের কর্মক্ষেত্র এই পুণ্যভূমির মানুষ এই মেজাজেই নগরের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যান, যাতে আমি দেশবাসীর সামনে আপনাদেরকে উদাহরণ হিসেবে স্থাপন করতে পারি। আপনারা সিদ্ধান্ত নিন যে পুণে আর পিছিয়ে থাকবে না, দেখুন কত আনন্দ পাবেন। অনেক অনেক ধন্যবাদ।

PG/SB/SB/S