পিএমইন্ডিয়া
১৭৫ গিগাওয়াট বিশুদ্ধ জ্বালানী তথা শক্তি উতপাদনে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই ক্ষেত্রটিতে ব্যাপক বিনিয়োগের সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল। উদাহরণ স্বরূপ, রেলের জন্য শক্তি উতপাদনের বিষয়টির উল্লেখ করা যায় যেখানে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় নিয়ম-নীতির মাধ্যমে এই বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পথে।
গতকাল স্যান জোসে শক্তি সংক্রান্ত শীর্ষ স্হানীয় সিইও এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এক রাউন্ড টেবিল বৈঠকে এই তথ্য পেশ করেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি।
পুর্ননবীকরণযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রে যেসমস্ত উদ্যোগ ইতিমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে, তার একটি চিত্র তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। দৃষ্টান্ত স্বরূপ তিনি কোচি বিমানবন্দরের কথা উল্লেখ করেন যেখানে সৌরশক্তি চালিত একটি বিমানবন্দর গড়ে তোলা হচ্ছে। গুজরাটের একটি ক্যানালে সংস্হাপিত হচ্ছে সৌর প্যানেল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী মাসের গোড়ায় ঝাড়খন্ডের আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলের একটি জেলা আদালতকে পুরপুরিভাবে সৌরশক্তি চালিত করে তোলা হবে। প্রসঙ্গত কয়লা থেকে গ্যাস উদ্ভাবনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক্ষেত্রে গবেষণার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। আগামী এক দশকের মধ্যে পুর্ননবীকরণযোগ্য শক্তিক্ষেত্রে এক বিপ্লব ঘটতে চলেছে বলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর দৃঢ় বিশ্বাসের কথা উপস্হিত সিইও ও বিশেষজ্ঞদের সামনে তুলে ধরেন।
গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের আলোচনা ও মত বিনিময়ের মাধ্যমে যে বিষয়টি সুপরিষ্ফুট হয়ে ওঠে তা হল এই যে, আগামী দিনে বিশ্বে ‘বিশুদ্ধ জ্বালানী উতপাদন ক্ষেত্রের রাজধানী’ হিসেবে ভারত নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চলেছে।
অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা আলোচনাকালে মত প্রকাশ করেন যে পুর্ননবীকরণযোগ্য জ্বালানী অচিরেই ব্যায়সাশ্রয়ী হয়ে উঠবে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও শহরগুলিকে বিশুদ্ধ জ্বালানী উতপাদনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অনুমতি দেওয়া যেতে পারে বলে তাঁদের ধারনা। তাঁরা আরও বলেন, ভারতে বর্তমানে যে গ্রিড ব্যবস্হা চালু রয়েছে তা ১৭৫ গিগাওয়াট বিশুদ্ধ জ্বালানি শক্তি উতপাদনের লক্ষ্যে পৌঁছোনোর উপযোগী নয়। তাই গ্রিড ব্যবস্হাকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে ব্যবস্হা নেওয়া প্রয়োজন। ১৭৫ গিগাওয়াট বিশুদ্ধ জ্বালানী উতপাদনের লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করে তুলতে জোর দিতে হবে বে-সরকারি বিনিয়োগের ওপর। উদাহরণ স্বরূপ, বে-সরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে ইজরায়েল যেভাবে তার জলের অপ্রাচুর্যকে কাটিয়ে উঠতে পেরেছে তার উল্লেখ করা হয়।
গোলটেবিল বৈঠকে উপস্হিত বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করে বলেন যে চারটি প্রধান প্রধান ক্ষেত্রে ভারতকে এখন দৃষ্টি দিতে হবে। এগুলি হল, প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সংহতি, আর্থিক সহায়তা তথা বিনিয়োগ, নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং উপযুক্ত মেধা শক্তি। ভারতে বিদ্যুত বন্টনকারী সংস্হাগুলির (ডিস্কম্স) আর্থিক পরিস্হিতি সম্পর্কে তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সিইও-রা তাঁদের নিজের নিজের সংস্হায় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সংক্রান্ত বিষয়গুলি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। সৌর ও বায়ুশক্তি চালিত জ্বালানী ছাড়াও বায়োমাস-ও বিশুদ্ধ জ্বালানীর একটি উতস হয়ে উঠতে পারে বলে তারা প্রস্তাব দেন।
গোলটেবিল বৈঠকের সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্হিত অংশগ্রহণকারীদের তাঁদের সুচিন্তিত মতামতের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ভারতে বিদ্যুত বন্টককারী সংস্হাগুলির (ডিস্কম্স) আর্থিক হাল ফেরাতে তাঁর সরকার যথাসাধ্য চেষ্টা করছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি দপ্তরের সচিব ডঃ আর্নেস্ট মনিজ এবং ভূতপূর্ব মার্কিন শক্তি সচিব অধ্যাপক স্টিভেন চু-ও গোলটেবিল বৈঠকে উপস্হিত ছিলেন। উপস্হিত অন্যান্য সিইও ও বিনিয়োগ প্রতিনিধিরা হলেন সানএডিসনের সিইও আহমেদ চাটিলা, সফ্টব্যাংকের প্রেসিডেন্ট নিকেশ অরোরা, ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টের জন ডুয়ার এবং ডিবিএল-এর ইরা এহরেনপ্রিস। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অরুন মজুমদার, অধ্যাপক রজার নল, ডঃ অঞ্জনী কোছার এবং অধ্যাপক স্যালি বেনসন-ও গোলটেবিল বৈঠকে উপস্হিত ছিলেন।
PG/SKD/NS/S
Had fruitful discussions with @Energy Secretary, Mr. @ErnestMoniz on renewable energy & other issues. pic.twitter.com/0LpFy7zb48
— Narendra Modi (@narendramodi) September 28, 2015
Attended a roundtable on renewable energy with top CEOs and experts from energy sector. http://t.co/XAqUkApoCu pic.twitter.com/PBnAgloCeo
— Narendra Modi (@narendramodi) September 28, 2015