Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

প্যারিসে সি ও পি ২১ শীর্ষ বৈঠকে সৌর জ্বালানি সম্পর্কে বিশ্ব সহযোগিতা গড়ে তোলার মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

প্যারিসে সি ও পি ২১ শীর্ষ বৈঠকে সৌর জ্বালানি সম্পর্কে বিশ্ব সহযোগিতা গড়ে তোলার মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

প্যারিসে সি ও পি ২১ শীর্ষ বৈঠকে সৌর জ্বালানি সম্পর্কে বিশ্ব সহযোগিতা গড়ে তোলার মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

প্যারিসে সি ও পি ২১ শীর্ষ বৈঠকে সৌর জ্বালানি সম্পর্কে বিশ্ব সহযোগিতা গড়ে তোলার মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ


মাননীয় প্রেসিডেন্ট হল্যান্ড এবং শিল্প জগতের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ,

ফ্রান্সের জনসাধারণের সঙ্গে আমার একাত্মতাবোধের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে আমি আমার বক্তব্য উপস্থাপিত করতে চাই। এক কঠিন মূহুর্তে বিশ্বকে যেভাবে সাদর আতিথ্যে বরণ করে নিয়েছেন তাঁরা তাতে আমার শ্রদ্ধা ক্রমেই গভীরতর হয়ে উঠছে।

সৌরশক্তি সমৃদ্ধ দেশগুলির মধ্যে এক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলার স্বপ্ন আমার বহুদিনের। প্রেসিডেন্ট হল্যান্ড এ ব্যাপারে নিজেও বিশেষভাবে আগ্রহী। তাই, পূর্ণ সমর্থনের মধ্য দিয়ে দ্রুত তিনি এর উদ্যোগ আয়োজনের পথ প্রশস্ত করে তুলেছেন।

বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে এক বিশ্ব সম্মেলনের সূচনা হল আজই।

প্রতি পদক্ষেপে তাঁর সমর্থনের মাধ্যমে এবং এই সমঝোতার ক্ষেত্রে সহ-সভাপতির পদ অলঙ্কৃত করে তিনি আমাকে গভীর কৃতজ্ঞতায় আপ্লুত করে তুলেছেন।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগৃহীত উদ্ধৃতি সংকলন করে প্রকৃতির ওপর একটি গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগে তিনি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে মিলিতভাবে আমি এই গ্রন্থের প্রস্তাবনা রচনা করেছি।

সুপ্রাচীন কাল থেকেই বিভিন্ন সভ্যতার আমলে সূর্য বরাবরই এক বিশেষ স্থান অধিকার করে এসেছে। ভারতীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, সকল রকম শক্তির উৎসই হল সূর্য। ঋগ্বেদের বয়ান অনুযায়ী, সূর্য দেবতা পৃথিবীর সমস্ত প্রাণী ও জড় পদার্থের আত্মা-স্বরূপ। ভারতের বহু মানুষ সূর্য প্রণামের মধ্য দিয়ে শুরু করেন তাঁদের দৈনন্দিন কাজকর্ম।

বর্তমানে এই শিল্পায়নের যুগে যখন জ্বালানির উৎস ও কলকারখানার বর্জ্য আমাদের এই গ্রহকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে, তখন ভবিষ্যৎ-এর জ্বালানির খোঁজে আমাদের আশ্রয় নিতে হবে সূর্যেরই।

উন্নয়নশীল বিশ্বে কোটি কোটি মানুষ যখন সমৃদ্ধির মুখ দেখছে, তখন এক নিরন্তর ও স্থায়ী বিশ্ব পরিবেশ গড়ে তুলতে দুঃসাহসিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে আমাদের।

এর অর্থ হল, উন্নত দেশগুলিকে এমনভাবে কার্বন নির্গমনের কাজ করে যেতে হবে, যাতে উন্নয়নশীল দেশগুলির বিকাশ কোনওভাবেই না ব্যহত হয়। জলবায়ুর প্রতি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক ন্যায়-বিচার সম্ভব হয়ে উঠবে একমাত্র তখনই।

অন্যভাবে বলতে গেলে পৃথিবীর উন্নতির পথকে সুগম করে তুলতে হবে এমনভাবে, যাতে কার্বন নির্গত হয় খুবই সামান্য মাত্রায়।

মনে রাখতে হবে, অর্থনীতি, পরিবেশ ও জ্বালানি শক্তির মধ্যে সমন্বয়সাধনের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠবে আমাদের ভবিষ্যৎ।

উদার সূর্যালোকে সারা বছরই আশীর্বাদ ধন্য পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ। আবার এর মধ্যেই বাস করেন এমন অনেক মানুষ যাঁরা জ্বালানির উৎস থেকে আজও পুরোপুরি বঞ্চিত।

আর ঠিক এই কারণেই প্রয়োজন আমাদের এই সহযোগিতা তথা সমঝোতার বাতাবরণ গড়ে তোলা।

সৌর জ্বালানিকে আমরা সুলভ করে তুলতে চাই আমাদের ঘরবাড়ি ও গৃহকোণের প্রয়োজন। এই জ্বালানি শক্তিকে আরও সস্তা ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে হবে, সেইসঙ্গে, সংবহন গ্রিডের সঙ্গে তা যুক্ত করার ব্যবস্থাও করে তুলতে হবে সহজতর।

গবেষণা ও উদ্ভাবনের কাজে সহযোগিতার দিকে আমাদের নজর দিতে হবে। জ্ঞান ও ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের কাজও চালিয়ে যেতে হবে সমানভাবে।

প্রশিক্ষণ এবং এ সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজেও সহযোগিতার প্রসার প্রয়োজন। বিধিনিয়ম সংক্রান্ত বিষয়গুলি সম্পর্কে আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি সাধারণ গুণমান স্থির করতে হবে আমাদেরই।

সৌরশক্তি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ আমাদের সম্ভব করে তুলতে হবে। যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলার কাজে উৎসাহদান এবং উদ্ভাবন প্রচেষ্টায় লগ্নি আমাদের সম্ভব করে তুলতে হবে।

পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি সম্পর্কে বিশ্বের বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় সামিল হওয়ার দায়িত্ব রয়েছে আমাদের।

সৌর জ্বালানি ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই এক বিপ্লব সূচিত হয়েছে। এ সম্পর্কিত নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন হচ্ছে, ব্যয়ের মাত্রাও কমে আসছে এবং গ্রিডের সঙ্গে এই জ্বালানি শক্তি যুক্ত করার কাজেও উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে।

এই সমস্ত কিছুর মধ্য দিয়েই সকলের জন্য বিশুদ্ধ জ্বালানির স্বপ্ন ক্রমশ বাস্তবায়িত হয়ে উঠছে।

ভারতে বর্তমানে সৌরশক্তি উৎপাদন ক্ষমতা ৪ গিগাওয়াট। আগামী ২০২২ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ১০০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা আমরা স্থির করেছি। আগামী বছরের শেষে আরও ১২ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যোগ করতে পারবো বলে আমরা আশাবাদী।

এই কাজে শিল্প মহলের কাছ থেকে আমরা সাড়া পেয়েছি আশাতীতভাবে। বিশুদ্ধ জ্বালানি সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হলে অফুরন্ত অর্থনৈতিক সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত হবে। আর তার মধ্য দিয়েই সূচনা ঘটবে এই শতকের এক নতুন অর্থনীতির।

আমাদের এই সমঝোতা এক ছাতার তলায় নিয়ে এসেছে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলিকে। একটি সাধারণ উদ্দেশ্যকে অবলম্বন করে মিলিত হয়েছে বিভিন্ন দেশের সরকার ও শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং গবেষণাগার ও অন্যান্য সংস্থা।

আমাদের জাতীয় সৌর জ্বালানি সংস্থা্র পরিসরে এই উদ্যোগ তথা প্রচেষ্টাকে আমরা সানন্দে স্বাগত জানাবো। সচিবালয় সংক্রান্ত পরিকাঠামো গড়ে তুলতে জমির ব্যবস্থা করবো আমরা। সেইসঙ্গে, ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মতো আর্থিক লগ্নির ব্যবস্থাও করা হবে আমাদের পক্ষ থেকে।

এই সংক্রান্ত কাজকর্মকে আগামী পাঁচ বছর ধরে আমরা সমর্থন যুগিয়ে যাব। কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে দীর্ঘ মেয়াদে আমরা গড়ে তুলবো অর্থ তহবিল।

শুধুমাত্র বিশুদ্ধ জ্বালানির লক্ষ্যেই নয়, অন্ধকারময় গ্রাম ও গৃহকোণকে আলোকিত করার লক্ষ্যে আজকের দিনটি হল এক নতুন আশার সূর্যোদয়ের মূহুর্ত। আমাদের সকাল ও সন্ধ্যার মুহূর্তগুলি সৌরশক্তির আলোকে দিনের মতোই উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

ধন্যবাদ।

PG/SKD/SB